Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা অমিত শাহর

    বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু রাজ্যে আমাদের সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

    সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে। অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই নীতিতেই কাজ করছে।”

    ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমিও হস্তান্তর

    সভা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ‘চিকেন’স নেক’ করিডর এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের দাবি, এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশ চলত এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট।
    অমিত শাহ বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    দ্রুত শুরু হবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে কেন্দ্রের দাবি। কেন্দ্র মনে করছে, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চৌকি নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

    জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশও জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

    দেশজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা

    সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “যাঁরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।” অমিত শাহের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অমিত শাহের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে (Mayapur Iskcon Temple) এলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মূলত গো-সেবা এবং বিশেষ পুজোর উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর এই সফর। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ইদের দিনে রেড ময়দানের নামাজে তোষণের রাজনীতি করতে যাননি, ইস্কন মন্দিরে গো-মাতার পুজো করে হিন্দুত্বের বার্তাই আরও একবার দিয়েছেন।

    রাজকীয় অভ্যর্থনা ও গো-সেবা (Suvendu Adhikari)

    বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক এগারোটা নাগাদ মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে মন্দিরের সন্ন্যাসীরা তাঁকে পুষ্পস্তবক ও মাল্যদানে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সরাসরি চলে যান মন্দিরের গোশালায় (Mayapur Iskcon Temple)। সেখানে গো-মাতার উদ্দেশে আয়োজিত একটি বিশেষ যজ্ঞ ও পুজোপাঠে অংশ নেন। যজ্ঞের পূর্ণাহুতির পর বিগ্রহকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নিজ হাতে গো-মাতাকে আম ও মিষ্টি খাইয়ে সেবা করেন এবং মাল্যদান করেন।

    মূল মন্দির দর্শন ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

    গোশালায় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসকনের মূল মন্দির অর্থাৎ চন্দ্রোদয় মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি পরম শ্রদ্ধায় শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহ দর্শন ও আরতিতে অংশ নেন। মন্দির চত্বরে মহাপ্রসাদ গ্রহণের পর তিনি ইসকনের (Mayapur Iskcon Temple) বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে মিলিত হন। এই সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংক্ষেপে জানান, “এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কর্মসূচি নিয়ে আমি আসিনি। সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবাবেগে শুধুমাত্র পুজোদানের উদ্দেশ্যে এই আগমন, তাই আজ কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও ব্যস্ত সূচি

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই মায়াপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর গত মঙ্গলবারই নদিয়ার কল্যাণীতে তিনি প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন। তার ঠিক একদিন পরেই ফের নদিয়া জেলায় এলেন তিনি। মায়াপুরের (Mayapur Iskcon Temple) কর্মসূচি শেষে বিকেলে তাঁর হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, পরিবর্তনের ধারা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)  এই সফরের দিনক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র বকরি ইদ। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশেষ দিনে ইদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শামিল হতেন এবং তাঁকে নামাজেও অংশ নিতে দেখা যেত। তবে এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর, ইদের দিনটিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরে (Mayapur Iskcon Temple) এসে গোমাতার পুজোও সনাতনী আচারকে বেছে নিলেন। মুখে রাজনৈতিক বার্তা না দিলেও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাজ্যে এক নতুন ধারার সূচনা করলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

  • Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar Yojana) নিয়ে অবসান যাবতীয় জল্পনার। ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফর্মপূরণের (Form) কাজ। চলবে তিন মাস। এই প্রকল্পে আর্থিক অনুদান পেতে হলে ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাদের। বুধবার নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ করে রাজ্যে এই প্রকল্প সূচনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। তৃণমূলের আমলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের সকলকেই এই ফর্মপূরণ করতে হবে। যতদিন না অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সুবিধা পাবেন। কেউ যে বঞ্চিত হবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ফর্মের খুঁটিনাটি (Annapurna Bhandar Yojana)

    জানা গিয়েছে, বিডিও অফিস এবং পুরসভায় ফর্ম মিলবে। আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব তথ্য যাচাই করা হবে। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন। যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। সাহায্য করবেন বিধায়করাও। এই প্রকল্পে সুবিধা পাবেন কেবলমাত্র উপযুক্ত প্রাপকরাই। যে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, সেখানে উপভোক্তার পরিবার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ওই পরিবারকে আরও একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দিতেই এই তথ্য চাওয়া হবে (Annapurna Bhandar Yojana)। ১৫, ১৬, ১৭ জুন ‘জনকল্যাণ শিবির’ হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে। বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পান ২ কোটি ২০ লাখ মহিলা। এসআইআরের পরে মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত এমন কমবেশি ৩০ লাখ উপভোক্তার নাম বাদ যাবে। আবার, নতুন আবেদনও জমা পড়বে।

    উপযুক্তদেরই টাকা দেওয়া হবে

    ধীরে ধীরে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’র উপভোক্তাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নথিভুক্ত করা হবে। তাই কাউকে তাড়াহুড়ো করে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যতদিন না কোনও উপভোক্তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন (Form)।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তালিকা ভেরিফায়েড। কিন্তু অনেক অভিযোগ এসেছে। ভুয়ো প্রাপক, অ-ভারতীয়দের বাদ দেওয়া হবেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপযুক্তদের টাকা দেওয়া হবে। এই স্কিম তাঁদেরই (Annapurna Bhandar Yojana)।”

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলারা পাবেন ৩ হাজার করে টাকা। আয়কর দিলে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। সিএএ (CAA)-তে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারি, আধা সরকারি চাকরি করলেও এই সুবিধা পাবেন না। ভারতীয় ছাড়া কাউকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা নয়।” তিনি বলেন, “এসআইআরে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আধারযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে টাকা ঢুকবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় পরিচ্ছন্ন তালিকা হবে। ফর্ম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ডিটেলসও নেওয়া হবে, যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে। যাঁরা প্রকৃতই পাওয়ার যোগ্য তাঁরা যেন পান, সেটা দেখতে হবে (Annapurna Bhandar Yojana)।”

     

  • Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের (Municipal elections) প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রশাসনকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং আসন সংরক্ষণের (রিজার্ভেশন) কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতায় পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের শূন্যতা ও বড় চ্যালেঞ্জ (Municipal elections)

    আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। নতুন রাজ্য সরকারের পক্ষে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রধান কারণ হল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে কার্যত নেতৃত্বহীন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদত্যাগ করার পর থেকে এই পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।

    তাছাড়া, সম্প্রতি এক নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, নির্দেশ মোতাবেক তিনি পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও কর্মরত নেই। এই প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে কীভাবে দ্রুত সীমানা পুনর্গঠন ও ভোটপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে চিন্তাভাবনা চলছে।

    দীর্ঘদিনের বকেয়া ভোট ও হাওড়া প্রসঙ্গ

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় (Municipal elections) কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমেই নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এলাকাটি হলো হাওড়া, যেখানে বিগত ১৩ বছর ধরে কোনও পুর নির্বাচন হয়নি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “হাওড়ার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের সব ক’টি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।”

    বহু পুরসভায় বকেয়া ভোট…

    উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রায় এক দশক ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে। হাওড়া ছাড়াও ২০১৭ সালের পর থেকে রাজ্যের যে সমস্ত পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন (Municipal elections) বকেয়া রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে— দুর্গাপুর পুরনিগম, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি পুরসভা।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও নবান্নের কড়া বার্তা

    অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা পুরবোর্ডগুলিতে (Municipal elections) ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তৃণমূলের ৮ জন কাউন্সিলর। এই ধরনের রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে যে সমস্ত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে বা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

  • Suvendu Adhikari: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকান নিষিদ্ধ, সাফ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকান নিষিদ্ধ, সাফ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় উপাসনালয়, যথা মঠ-মন্দির এবং স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার পরিধির মধ্যে কোনও মদের দোকান রাখা যাবে না। মঙ্গলবার কল্যাণীতে একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে নতুন কোনও মদের দোকানের লাইসেন্সও (Liquor Policy) দেওয়া হবে না। ফলে নতুন করে মদের লাইসেন্স দিতে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলছে।

    রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই কাজ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা; কোনও শাসকের খেয়ালখুশির আইন এখানে চলবে না।” তিনি আরও জানান, “প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে জেলাভিত্তিক এই প্রশাসনিক বৈঠকগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হচ্ছে। আগামী দিনে কোলাঘাট, বারাসত, মালদাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের বৈঠক করা হবে।”

    কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না

    সূত্রের খবর, এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) পুলিশ প্রশাসনকে অনলাইন লটারি এবং অবৈধ চোলাই মদের কারবারের বিরুদ্ধে  কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জনকল্যাণের কাজে প্রশাসনের কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। উল্লেখ্য তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে আয়ের প্রধান উৎস ছিল আবগারি দফতর (Liquor Policy) এবং মদ বিক্রি । টাকার বিনিময়ে প্রচুর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে রাজ্যে। ব্যাপক পরিমাণে মদ বিক্রির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজকে মদে মজিয়ে রখেছে বলে অভিযোগও তুলেছে বিজেপির একাংশ। দুর্গাপুজো, কালীপুজোতে মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে রেকর্ড পরিমাণে মদ বিক্রির পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছিল। তাই তৃণমূলের দেখানো পথে বিজেপি আর হাটবে না। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিতে এটাই স্পষ্ট যে  গত সরকারের চেয়ে আলাদা নীতি নিয়ে চলবে নতুন সরকার।

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ (Ghatal Master Plan) রূপায়ণের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক ও নয়া দিশা দেখাতে চলেছে বিজেপি সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের একরোখা নীতি থেকে সরে এসে, এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশীদারিত্বে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবান্ন। সোমবার সচিব পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান ও নতুন আর্থিক ফর্মুলার কথা ঘোষণা করেছেন।

    অর্থ বরাদ্দে ৫০:৫০ ফর্মুলা (Ghatal Master Plan)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুফলকে কাজে লাগিয়েই এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খুঁজছে বর্তমান প্রশাসন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) সেচ দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের এই বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে অবিলম্বে বিশদ আলোচনা শুরু করার জন্য সেচ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    পূর্বতন নীতিতে আমূল বদল

    উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে এককভাবেই এই মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা মিলছে না। ফলত, মূল প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১২৭০ কোটি টাকা হলেও, রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে প্রথম দফার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরুর ঘোষণা করেছিল। তবে তাতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার কোনও রূপরেখা ছিল না। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর সেই পুরনো পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বদলে ফেলা হচ্ছে।

    প্রেক্ষাপট ২০২৬

    ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘাটালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে। বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসংগত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পূর্বতন সরকারের ১২৭০ কোটি টাকার প্রস্তাবটির তুলনায় বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে, যা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য প্রতিবার ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট চাইতে এসে বারবার ঘাটাল মাস্টার প্লানের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও বার সদর্থক ভূমিকা করতে দেখা যায়নি। তিন তিন বারের সাংসদ দেব রাজ্য জুড়ে ভোটের প্রচারেও নিজের কেন্দ্র কীভাবে বর্ষার সময় জনজীবন বিপন্নের মুখোমুখি হয়ে পড়েন তা দেখেও না দেখার ভান করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মন্তব্য করলেও কার্যকর নিয়ে কোনও রকম সদর্থক ভূমিকা নেননি। এই অবস্থায় ভরা ডুবির পর সাংসদ দেব বলছেন রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরে যাবেন।

    বিগত সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল: শীতল কপাট

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই নয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের (Ghatal Master Plan) মতো একটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করা অসম্ভব। তিনি দাবি করেন—

    • ● এই বিশাল প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা কোনওভাবেই পর্যাপ্ত নয়; এর জন্য ন্যূনতম ৪,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন।
    • ● বিগত সরকারের এই প্রকল্প রূপায়ণে প্রকৃত সদিচ্ছার অভাব ছিল। মাস্টারপ্ল্যানের অজুহাতে নদীগর্ভ থেকে বালি ও মাটি উত্তোলনের অনিয়মই ছিল মুখ্য।
    • ● বালি ও মাটি মাফিয়ার দাপটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এবার কেন্দ্রে ও রাজ্যে সমমনোভাপন্ন সরকার থাকায়, ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর গতিতে এই মাস্টারপ্ল্যান একশো শতাংশ সফল হবে।

    দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশা

    বছরের পর বছর ধরে বর্ষার মরশুমে ঘাটাল (Ghatal Master Plan), দাসপুরসহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিধায়ক উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে শুভেন্দু অধিকারী সর্বদা ঘাটালবাসীর পাশে থেকেছেন এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিগত পাঁচ বছর তাঁদের কাজ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই জনস্বার্থবাহী প্রকল্পে বিশেষ নজর দিয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় থাকলে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এখন দেখার, পূর্ববর্তী রূপরেখাকেই পরিমার্জন করা হয় নাকি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এই রূপায়ণের কাজ শুরু হয়।

  • Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের বিভিন্ন চেকপোস্টে (Bangladeshi)। ফের একবার সেই ছবিটাই দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেক পোস্টে (Hakimpur Checkpost)। বাংলাদেশে ফিরতে এই চেকপোস্টে জড়ো হয়েছেন ভারতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিরা। রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই এই ভিড় সীমান্তের চেকপোস্টে।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (Bangladeshi)

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে তথ্য যাচাই, নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, বা পুরানো তালিকা আপডেট করার জন্য নির্বাচন কমিশন এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে পরিবারের সকল সদস্যের নাম, বয়স, এবং ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই ফর্ম পূরণের শেষ দিন পেরিয়ে গিয়েছে বহু আগেই। তার পরেও অনেকেই থেকে গিয়েছিলেন পশ্চিমবাংলার আনাচে-কানাচে। দালালদের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে ঢুকেছে বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। বাম এবং তৃণমূলের শাসনে তারা জাল কাগজপত্র জোগাড় করে দিব্যিই বসবাস করছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এসআইআই-পর্ব শুরু হতেই ভারতের পাট চুকিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে এক দফা সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন তাঁরা। এবার ফের সীমান্তে ভিড় করছেন তাঁরা। সৌজন্যে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ দাওয়াই।

    শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশি হাকিমপুর চেকপোস্টে…

    এদিন হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা যায়, কাগজপত্র পরীক্ষা করে বাংলাদেশিদের দ্রুত ওপার বাংলায় ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিএসএফের কর্তব্যরত আধিকারিকরা। বিএসএফের ডাকের অপেক্ষায় লটবহর নিয়ে রাস্তার ধারে বসে রয়েছেন অনেক অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi)। এঁদের বেশিরভাগই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এপার বাংলায়। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে (Hakimpur Checkpost)।

    কী বললেন অনুপ্রবেশকারীরা?

    তাঁরা যে বৈধভাবে বাংলায় ঢোকেননি, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে সেকথা কবুলও করেছেন বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। লাইনে দাঁড়ানো এমনই এক বাংলাদেশি বলেন, “সরকার আর রাখবে না, কী করব বলুন! সরকার চাইছে আমরা দেশে ফিরে যাই।” লাইনে দাঁড়ানো অনুপ্রবেশকারীদের কেউ ভারতে ঢুকে দোকানে কাজ করতেন, কেউ আবার করতেন পরিচারিকার কাজ (Bangladeshi)। সীমান্ত পেরিয়ে যেসব বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা ভারতে ঢোকে তাদের প্রায় সবাই দালাল ধরে আসে। এজন্য দালালদের দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। সেই দালালরাই বাংলাদেশিদের ভিড়িয়ে দেয় এপার বাংলার বাসিন্দাদের ভিড়ে।

    ম্যাপিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি!

    জানা গিয়েছে, চেকপোস্টে অপেক্ষমান অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড থাকলেও, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই এসআইআর-পর্বে ম্যাপিংয়ে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুভেন্দু সরকারের হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াইয়ের পরেই চাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ‘কাঁকর’। তাঁদের এই দুর্দশার জন্য কোনও অনুপ্রবেশকারী দুষছেন স্থানীয় নেতৃত্বকে। কেউ আবার আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকে। তবে হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই বাঙালির ভিড় থেকে পিলপিল করে বের হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তাঁরাই ভিড় করছেন হাকিমপুর চেকপোস্টে। নথিপত্র যাচাই করে তাঁদের তুলে দেওয়া হচ্ছে ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে (Bangladeshi)।

    শাহি বচন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গিয়েছিলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করা হবে। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার (Hakimpur Checkpost)। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই তাঁকে সরাসরি ডিপোর্ট করার বা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করার নির্দেশও জেলাশাসকদের দিয়েছিলেন তিনি। সেই মোতাবেক রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চালু হয়ে গিয়েছে ওই সেন্টার। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই চালু করা হয়েছে সেগুলি (Bangladeshi)।

    জিরো টলারেন্স নীতি

    অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোবে, তাও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স এই নীতি নিয়েই এগোবে আমাদের সরকার। আমরা ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং নিজের দেশে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেই মতো জেলাশাসকদের নির্দেশ দেয় শুভেন্দুর সরকার। তার পরেই রাজ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে যায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ (Bangladeshi)।

    সেই সেন্টারগুলিতে ইতিমধ্যেই ১৪ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে মালদার ইংরেজবাজার হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। আর বাকি পাঁচ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে (Hakimpur Checkpost)। লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত লাগোয়া পদ্মা ভবনের ৩ তলায় তৈরি হয়েছে এই সেন্টার (Bangladeshi)।

     

LinkedIn
Share