Tag: UAPA

UAPA

  • Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজেপি (Cockroach Janata Party)-কে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এবার কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) সরাসরি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন। সমাজমাধ্যমে সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছেন, তাঁরা আসলে কারা?’’

    সৌরভের পুরনো পোস্টও তুলে ধরলেন

    শুধু ছবিই নয়, সৌরভ দাসের একটি পুরনো এক্স (X) পোস্টও শেয়ার করেন রাজীব (Rajeev Chandrasekhar)। সেই পোস্টে উমর খালিদের কারাবাসকে ‘‘ভারতের বিচারব্যবস্থার এক কলঙ্ক’’ বলে মন্তব্য করেছিলেন সৌরভ। এই পোস্ট সামনে এনে বিজেপি নেতার দাবি, সিজেপি-র নেতৃত্ব ও তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে দেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    ‘কার সঙ্গে আছেন জানুন’

    নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) বলেন, ‘‘অনেকেই হয়তো ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে এবং কোন শক্তি সেই আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।’’

    দেশের ঐক্য ভাঙতে চাইলে বিরোধিতা করুন

    নিজের পোস্টে রাজীব (Rajeev Chandrasekhar) লেখেন, ‘‘যারা ভারতকে ভাঙতে ও ধ্বংস করতে চায়, তারাই আবার তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছে। কিছু মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠী দেশের যুবসমাজকে ব্যবহার করে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যে নামেই তারা সামনে আসুক না কেন, তাদের বিরোধিতা করা প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।’’

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেরও উল্লেখ

    সিজেপি (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত হলে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নয়, পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সত্য সামনে আসতেই হবে।’’ একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দিলেও হিংসার অভিযোগে চলা তদন্তে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে অপরাধের প্রমাণ মিলবে, সেখানে দায় ঠিক করতেই হবে।

    উমর খালিদকে ঘিরে কী বলছে তদন্ত?

    দিল্লি পুলিশের দাবি, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, ঘটনাটি শুধু একটি বিক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা নয়; তদন্তকারী সংস্থার নথিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    সম্প্রতি দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এস. এন. শ্রীবাস্তব-সহ কয়েকজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মতে, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, তথ্যযুদ্ধ এবং সরকার অস্থির করার চেষ্টার দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই রাজীব চন্দ্রশেখরের (Rajeev Chandrasekhar) বার্তা, ‘‘ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা যেন আন্দোলনের মুখ নয়, আন্দোলনের নেতৃত্বকেও চিনে নেন।’’

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

  • MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি,  বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেনস’ নীতির কথা তুলে ধরে ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সমাজমাধ্যম এক্সে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে ওই ২৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইউএপিএ অ্যাক্টের ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে এদের জঙ্গি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাসে উসকানি, অস্ত্র পাচার, সীমান্ত অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক এবং ৬ জন ভারতীয়। তবে বর্তমানে সকলেই পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

    বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ওই ২৩ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জঙ্গি নিয়োগ, ভারতে অনুপ্রবেশ করানো, ট্রেনিং দেওয়া, ড্রোনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার ছক কষার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, ২৩ জনের মধ্যে তিন জন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া তিনজন ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম মূলচক্রী এবং দু’জন ২০২২ সালের সুনজওয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার সঙ্গে জড়িত।

    হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ

    কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল রউফ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ এবং রানা ইফতিখারের নাম হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, রানা ইফতিখারের কাজ ছিল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রাখা। সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইও করতেন তিনি। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কট্টরপন্থী পাক গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইফতেখার। রউফও জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। ওয়ালিদ বর্তমানে হাফিজের নিরাপত্তা্র দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনিও কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

    তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম—

    মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (জইশ-ই-মহম্মদ): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি জানাচ্ছে, এই পাকিস্তানি নাগরিক ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত ছিলেন। এনআইএ-র চার্জশিটে ‘চক্রান্তকারী’ হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। গত ৭ মে ‘সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের আটটি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতরে হামলার জেরে জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভাই ইউসুফ-সহ পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইলিয়াসই বর্তমানে সংগঠনে ‘নম্বর টু’।

    মহম্মদ মুসাদ্দিক (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত। এনআইএ তদন্তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের ভারতের যে হ্যান্ডলারেরা নিয়ন্ত্রণরেখা টপকাতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুসাদ্দিক।মুফতি মুহাম্মদ আসগর খান (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা সেনা শিবিরে হামলার মূল অভিযুক্ত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। সিঁদুর অভিযানের পরে জইশের নাম বদলে অল-মুরাবিতুন (যার অর্থ, ‘ইসলামের রক্ষাকারী’) রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আসগর নতুন পরিচয়ে সক্রিয়।

    হাফিজ় আবদুল শুকুর (জইশ-ই-মহম্মদ): এনআইএ রিপোর্টে ‘ক্বারি জ়ারার’ নামেও চিহ্নিত এই পাক নাগরিক একাধিক বার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আগে স্থানীয় সহায়তাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    আবদুল্লাহ জেহাদি (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আর এক চক্রী। বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানে জইশের সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির দায়িত্বে।ফিরদৌস আহমদ ভাট (লশকর-এ-ত্যায়বা): হাফিজ় সইদের ঘনিষ্ঠ এই নেতা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। কাশ্মীর উপত্যকার লশকরের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ ও লজিস্টিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির বন্দোবস্তও তাঁর দায়িত্বে।

    বিলাল আহমদ মির (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট): লশকরের এই প্রাক্তন কমান্ডার বর্তমানে তাদেরই ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর মূল নেতা। বিলাল মূলত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা এবং ভারতে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত। পহেলগাঁও সন্ত্রাসেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।

    তালিকায় আরও রয়েছেন ফিরদৌস আহমেদ ভাট, গুলাম ফরিদ, হারুন রশিদ গনাই, মহম্মদ শহিদ ফয়সাল, বিলাল আহমেদ মির, আবিদ কাইয়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, আশফাক আহমেদ, মৌলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি, মৌলানা সইফুল্লাহ খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মৌলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাট, ওয়াইস ফারুজ এবং কারি ইয়াকুব শেখের নামও।

    কেন এই পদক্ষেপ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইনে জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী কেবল কোনও সংগঠনকে ‘নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা যেত। কিন্তু ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে মোদী সরকার ইউএপিএ (UAPA) আইনে এক ঐতিহাসিক সংশোধন আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা পায় কেন্দ্র। এই তকমা পাওয়ার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো ওই অপরাধীদের অস্ত্র ও অর্থ জোগানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে এবং ভারতের মাটিতে থাকা তাদের সমস্ত সম্পত্তি বা অ্যাসেট বাজেয়াপ্ত করতে পারে। শনিবারের এই নতুন ২৩টি নাম যুক্ত হওয়ার পর, ভারতের এই বিশেষ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা মোট ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ জনে। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই হাফিজ সঈদ, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার, ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকি-উর-রহমান লাখভি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং আমেরিকাতে থাকা খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের মতো নামগুলো রয়েছে।

  • Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ বছর বয়সি মহম্মদ রশিদ খানের (Rashid Khan) আগাম মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছে। গত ৫ জুন রশিদ খানের দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি কারাবাস, জেলে তাঁর আচরণ এবং সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    বউবাজার বিস্ফোরণ মামলা (Rashid Khan)

    মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন, যে বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ জখম এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল, সেই মামলায় কীভাবে শুধুমাত্র সংশোধনমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায়? তিনি জানান, রাজ্যের স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড (SSRB) রশিদ খানের মুক্তির বিরুদ্ধেই মত দিয়েছিল। রশিদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং সহ-অভিযুক্ত পন্নালাল জয়সওয়ারা ২০১৪ সালেই রেমিশন পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আদালতের নজরে আনেন রশিদের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও (Rashid Khan)।

    রশিদ খানই মাস্টারমাইন্ড

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রশিদ খান ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। আদালত আরও জানিয়েছে, তাঁকে যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী শুনানি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ খান-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন এবং টাডা আইনের অধীনে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় (Bowbazar Blast)। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই বহাল রাখে সেই সাজা (Rashid Khan)।

     

  • Jammu Kashmir: নিষিদ্ধ জামাত-ই-ইসলামির ৫৮টি স্কুলের রাশ নিল জম্মু-কাশ্মীর সরকার

    Jammu Kashmir: নিষিদ্ধ জামাত-ই-ইসলামির ৫৮টি স্কুলের রাশ নিল জম্মু-কাশ্মীর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাত-ই-ইসলামি (JeI) এবং এর শিক্ষা-সংক্রান্ত সহযোগী সংস্থা ফালাহ-এ-আম ট্রাস্ট (FAT)-এর সঙ্গে যুক্ত ৫৮টি বেসরকারি স্কুলের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নিল জম্মু-কাশ্মীর সরকার। স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব কর্তৃক জারি করা এক নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারদের এই প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই স্কুলগুলির সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক থাকার কথা চিহ্নিত হওয়ায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এসব স্কুলের পরিচালন সমিতির মেয়াদ হয় শেষ হয়ে গিয়েছিল, নয়তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছ থেকে (Jammu Kashmir) তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছিল।

    অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য (Jammu Kashmir)

    এই পদক্ষেপটি জম্মু-কাশ্মীর স্কুল শিক্ষা বিধি, ২০১০ এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৬৭ অনুযায়ী ঘোষণাগুলির উল্লেখ রয়েছে, যার মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখের নির্দেশে জম্মু-কাশ্মীরে জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই অধিগ্রহণের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক স্বার্থ রক্ষা করা। ডেপুটি কমিশনারদের স্কুল শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে কোনও প্রভাব না পড়ে। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর নয়া  পরিচালন সমিতি গঠনের প্রস্তাব দিতে এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP)-এর মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষার মান বজায় রাখতে বলা হয়েছে। প্রক্রিয়াটি সহজতর করতে এবং মসৃণভাবে রূপান্তর নিশ্চিত করতে এসইডির সরকারি দল মোতায়েন করা হয়েছে (Jammu Kashmir)।

    শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকেও অগ্রাধিকার

    বস্তুত, এই পদক্ষেপটি পূর্ববর্তী একটি নির্দেশিকার ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে, জম্মু ও কাশ্মীর সরকার সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জেইএল (JeI) এবং এফএটি (FAT)-সংযুক্ত ২১৫টি স্কুলের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছিল। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে রূপান্তরের সময় শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের কল্যাণই প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখায় ক্লাস বা পরীক্ষায় কোনও তাৎক্ষণিক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপটি কেন্দ্র কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টারই অংশ, একই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে (Jammu Kashmir)।

     

  • Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    Delhi Riots Case: দিল্লি হিংসা মামলায় খারিজ উমর খালিদ, শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত (Delhi Riots Case) মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই একই মামলায় গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সলিম খান এবং শাদাব আহমেদ – এই পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হয়।পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের ভূমিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন স্তরের। অর্থাৎ, প্রসিকিউশনের অভিযোগ ও উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের নিরিখে এই দুই অভিযুক্তের অবস্থান আলাদা।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় (Delhi Riots Case)

    আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার পথে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। যেসব অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেই অপরাধগুলিতে অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়, এমনই পর্যবেক্ষণ করে ইউএপিএ। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, দীর্ঘদিন ধরে কারাবাস চললেও তা সংবিধানের কোনও নির্দেশ লঙ্ঘন করে না এবং প্রযোজ্য আইনের অধীনে থাকা আইনগত নিষেধাজ্ঞাকেও অতিক্রম করে না। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ গালফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদের দাখিল করা জামিনের আবেদনের ওপর এই রায় দেয় (Supreme Court)।

    বিস্তারিত সওয়াল-জবাব

    গত ১০ ডিসেম্বর সব পক্ষের বিস্তারিত সওয়াল-জবাব শোনার পর শীর্ষ আদালত রায়দান স্থগিত রেখেছিল। জামিনের আবেদনের শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীরা মূলত বিচারপ্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং অদূর ভবিষ্যতে মামলার বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম, এই যুক্তিগুলি তুলে ধরেন। আদালতে এও জানানো হয়, অভিযুক্তরা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দি রয়েছে। ওই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএর অধীনে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে (Delhi Riots Case)। দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যা দেখায় যে তারা দাঙ্গায় হিংসা উসকে দিয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (Supreme Court)।

    রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা

    তবে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের ফল নয়, বরং এটি ছিল রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা (Delhi Riots Case)। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই ঘটনাগুলি কোনও সাধারণ বিক্ষোভ ছিল না, বরং একটি সুসংগঠিত, সুপরিকল্পিত ‘প্যান-ইন্ডিয়া ষড়যন্ত্র’, যার লক্ষ্য ছিল ‘রেজিম চেঞ্জ’ অর্থাৎ সরকার পরিবর্তন এবং দেশের অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়া। পুলিশের মতে, এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়েছিল। পুলিশ আরও জানায়, এই ষড়যন্ত্রের নকশা এমনভাবে করা হয়েছিল যাতে তা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সঙ্গে এক সঙ্গে সংঘটিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-কে বিশ্ব দরবারে একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা (Supreme Court)।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে সচেতনভাবে একটি ‘র‍্যাডিকালাইজিং ক্যাটালিস্ট’ বা উগ্রপন্থায় ইন্ধন জোগানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে’র মোড়কে আড়াল করা হয় (Delhi Riots Case)। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তদের দ্বারা রচিত এই ‘গভীরভাবে প্রোথিত, পূর্বপরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে’র ফলেই দিল্লি দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, ব্যাপকভাবে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধুমাত্র দিল্লিতেই দায়ের হয় ৭৫৩টি এফআইআর। দিল্লি পুলিশ আদালতে জানায়, নথিভুক্ত প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে এই ষড়যন্ত্র শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গোটা দেশজুড়ে একই ধরনের অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শরজিল ইমাম-সহ মোট ন’জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরই অভিযুক্তরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় (Delhi Riots Case)।

    জামিন খারিজ

    জামিন খারিজ করার সময় দিল্লি হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিল, প্রাথমিকভাবে গোটা ষড়যন্ত্রে উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের ভূমিকা ছিল গুরুতর (Supreme Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তারা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভিত্তিতে উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের বৃহৎ আকারে সংঘবদ্ধ করে আন্দোলনে নামানো। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে উমর খালিদ, শরজিল ইমাম ও অন্যদের ইউএপিএ-র আওতায় গ্রেফতার করা হয়। এই গ্রেফতারির সূত্রপাত হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দিল্লি হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে (Delhi Riots Case)। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC)-র বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হিংসায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-এরও বেশি মানুষ জখম হন (Supreme Court)।

  • Parliament Security Breach: সংসদের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের, গ্রেফতার পঞ্চম অভিযুক্ত

    Parliament Security Breach: সংসদের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের, গ্রেফতার পঞ্চম অভিযুক্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সংসদ ভবনে (Parliament Security Breach) যে ঘটনা ঘটে, তার তদন্তের নির্দেশ দিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ওই তদন্তের দায়িত্বে থাকবেন সিআরপিএফের ডিরেক্টর অনীশ দয়াল সিং। অন্যদিকে সংসদ হামলার ঘটনায় গত কালই চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার পঞ্চম জনকেও গ্রেফতার করতে সমর্থ হল দিল্লি পুলিশ। বুধবার রাতেই হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে পঞ্চম অভিযুক্ত বিশাল শর্মাকে। বিশাল শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে সংসদে যারা স্মোক গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালিয়েছে এবং বাইরে যারা স্লোগান দিয়েছে, তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল সে (Parliament Security Breach)। গোটা ঘটনায় ৬ জনের যুক্ত থাকার কথা জানতে পেরেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত ললিত ঝা নামের সেই ষষ্ঠ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ বা রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিবৃতি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “লোকসভার সচিবালয়ের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংসদের (Parliament Security Breach) নিরাপত্তায় গলদের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ জারি করেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যার দায়িত্বে থাকবেন সিআরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল অনীশ দয়াল সিং। অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।” বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “এই কমিটি সংসদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণগুলি খতিয়ে দেখবে। এ ছাড়া কোথায় খামতি রয়ে গিয়েছে সেই সব দিক খতিয়ে দেখে তাদের সুপারিশ জানাবে। এই সংক্রান্ত রিপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব জমা দেবে কমিটি।”

    বুধবারের ঘটনা

    প্রসঙ্গত, বুধবার শীতকালীন অধিবেশন (Parliament Security Breach) চলাকালীন দুপুর একটা নাগাদ হঠাৎই লোকসভার গ্যালারি থেকে ভবনে ঝাঁপ দেয় ২ যুবক। তাদের হাতে ছিল স্মোক গ্রেনেড। জানা যায়, এক সাংসদের অতিথি কার্ড ব্যবহার করে তারা সেখানে ঢুকেছিল। অপরদিকে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল এক মহিলা ও এক যুবক। পুলিশের দাবি তারা ঠিক করে যে দু জন সংসদের ভিতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। আর দুজন থাকবে সংসদের বাইরে। চারজনের মধ্যে কেউই দিল্লির বাসিন্দা নয়। এই পুরো পরিকল্পনাটি তারা করে গুরুগ্রামে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • NIA: বেলডাঙায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ এবার যুক্ত করল ইউএপিএ ধারা

    NIA: বেলডাঙায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ এবার যুক্ত করল ইউএপিএ ধারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দেড়় বছর আগে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে ‘আন ল ফুল অ্যাক্টিভিটিস প্রিভেশন অ্যাক্ট’ অর্থাৎ ইউএপিএ যুক্ত করল এনআইএ (NIA)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে এমন কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে, যা সাধারণত মিলিটারি গ্রেনেডের মতো। সাধারণ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যা মূলত উদ্ধার হয় না।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল? (NIA)

    এনআইএ ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি  বেলডাঙা থানার রামেশ্বরপুর গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি বাগানে ছোট পাম্পের ঘরে এই বিস্ফোরণ হয়েছিল। বিস্ফোরণে উড়ে যায় গোটা ঘরটি। ইয়াসউদ্দিন শেখ ওরফে ছাদি শেখ নামে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয় ঘটনাস্থল থেকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে অভিযোগ করা হয়, ওই পাম্পের ঘরে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। প্রথমে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক আধিকারিকরা। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে এনআইএ (NIA)। আবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এনআইএ আধিকারিকরা। তবে ততদিনে ৯ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭৪ টি গ্রেনেড উদ্ধার করেছিল। সেই রিপোর্ট পুলিশ এনআইএ-এর হাতে তুলে দেয়। মামলার গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির রিপোর্টের ভিত্তিতে ইউএপিএ-র আবেদন করা হয়। কারণ, সাধারণ বোমা তৈরির ক্ষেত্রে এই ধরনের জিনিস ব্যবহার করা হয় না। কী কারণে সেখানে এই ধরনের শক্তিশালী বোমা তৈরি করা হচ্ছিল তার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে এনআইএ।

    আদালতে কী জানিয়েছে এনআইএ?

    আদালতে এনআইএ (NIA) জানায়, পাইপ বোমা বা বোমাতে লোহার টুকরো যা ব্যাবহার করা হয়েছে, তা সাধারণত মিলিটারি গ্রেনেডের মতো। ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছে এবং যারা জামিনে রয়েছে, তাদের জামিন বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Jammu and Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ফের পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, জানেন কেন নিষিদ্ধ জেকেএনএফ?

    Jammu and Kashmir: জম্মু-কাশ্মীরে ফের পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, জানেন কেন নিষিদ্ধ জেকেএনএফ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu Kashmir) শান্তি ফেরাতে তৎপর কেন্দ্র। উপত্যকাকে বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে মোদি সরকার। এর জন্যই লোকসভা ভোটের আগে জম্মু ও কাশ্মীরে নতুন করে ‘তৎপরতা’ শুরু করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) মন্ত্রকের তরফে ‘বেআইনি কার্যকলাপে’ জড়়িত থাকার অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল ফ্রন্ট (Jammu Kashmir National Front) নামে একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    কেন নিষিদ্ধ জেকেএনএফ

    নঈম আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জেকেএনএফ-কে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, ভারত-বিরোধী জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার কারণেই ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন’ (ইউএপিএ) অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উপত্যকায় (Jammu Kashmir) আপাতত, জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল ফ্রণ্ট (JKNF)-কে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই সংগঠন বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। যা দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অনুকূল নয়। 

    এ প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানান, ‘মোদি সরকার আজ জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল ফ্রন্টকে (Jammu Kashmir National Front) বেআইনি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই দল জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, জাতির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আমরা ভারতের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাস বাহিনীকে নির্মূল করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     

  • SIMI Banned: আরও ৫ বছরের জন্য জঙ্গি সংগঠন সিমিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন অমিত শাহ

    SIMI Banned: আরও ৫ বছরের জন্য জঙ্গি সংগঠন সিমিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গী সংগঠন সিমিকে (SIMI Banned) আরও ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তার জন্য এই সংগঠন অত্যন্ত বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত করার কাজে জড়িত ছিল এই সংগঠন।” দেশের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার কথাকে মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

    কী বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী(SIMI Banned)?

    ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে চলেছে। আজ সোমবার দেশের কেন্দ্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, “স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ সিমি (SIMI Banned) হল একটি বেআইনি, অবৈধ সংগঠন। কঠোর সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের আওতায় নিষেধাজ্ঞার সময় সীমা আরও ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হল। এই সংগঠন দেশের মধ্যে নাশকতা মূলক কাজকে উৎসাহ দিয়ে থাকে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আঘাত করার কাজ করে সিমি। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে ভারতের সার্বভৌম এবং অখণ্ডতাকে হুমকি দেওয়া সংক্রান্ত নানান অভিযোগও রয়েছে।”

    এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট

    নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অমিত শাহ বলেন, “দেশে মোদিজির শাসনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনভাব নিয়ে দমনের কাজ করা হচ্ছে। ইউপিএ আইনের ধারায় সিমিকে (SIMI Banned) নিষিদ্ধ সংগঠন হিসাবে নির্বাচিত করে আগামী আরও ৫ বছরের জন্য বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।”

    নাশকতা মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত সিমি

    জঙ্গি সংগঠন সিমির (SIMI Banned) সদস্যদের বিরুদ্ধে নানান নাশকতা মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে গয়া বিস্ফোরণ, ২০১৪ সালে বেঙ্গালুরুতে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম বিস্ফোরণ এবং ২০১৪ সালে ভোপালে জেল ভাঙার মতো সন্ত্রাবাদী কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখা গিয়েছে সিমি সদস্যদের। ২৫ এপ্রিল, ১৯৭৭ সালে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সিমি এবং সংগঠনটি একটি ধর্মরাষ্ট্র হিসাবে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে উগ্রপন্থী কার্যকলাপের কাজ করে থাকে। তাদের মূল উদ্দেশ্যে হল, ভারতকে কীভাবে ইসলাম ধর্মপ্রধান রাষ্ট্র এবং শরিয়াবিধি শাসনের অধীনে নেওয়া যায় সেই কাজ করা। আর এই কাজকে জাহাদি কার্যকলাপের দ্বারাই সম্পাদন করে থাকে তারা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share