Tag: wb

wb

  • RSS: মহালয়ার দিন পশ্চিমবঙ্গে তিনশোরও বেশি সমাবেশের আয়োজন করবে আরএসএস

    RSS: মহালয়ার দিন পশ্চিমবঙ্গে তিনশোরও বেশি সমাবেশের আয়োজন করবে আরএসএস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে ২১ সেপ্টেম্বর, রবিরার মহালয়ার দিন পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-রও বেশি সমাবেশের (Rallies) আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছে আরএসএস (RSS)। মহালয়া থেকেই সূচনা হয়ে যায় শারদোৎসবের। হিন্দুদের বিশ্বাস, মহালয়ার দিনই দেবী দুর্গা স্বর্গ ছেড়ে মর্তে আসেন। সেই কারণেই এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে সমাবেশ করার দিন হিসেবে। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আরএসএসের তরফে আয়োজন করা হবে শোভাযাত্রা ও পথসভার। সংঘের পশ্চিমবঙ্গের ইউনিট তিনটি প্রাদেশিক কমিটিতে বিভক্ত। এগুলি হল উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ বাংলা।

    সংঘের পরিকল্পনা (RSS)

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই তিনটি প্রান্তেই সংঘের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আরএসএসের অন্তত ৫২টি সর্বভারতীয় সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেরও বেশ কিছু আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠন। এই সব সংগঠনগুলিকে এক সঙ্গে শতবর্ষ উদযাপনে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। অর্থাৎ এবার ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস), সংস্কার ভারতী, শিক্ষণ মণ্ডল, সহকার ভারতী, শিক্ষক মহাসংঘ এবং সীমান্ত চেতনা-সহ অন্যান্য সংগঠন এ বছর আলাদা করে কোনও অনুষ্ঠান, সমাবেশ কিংবা শোভাযাত্রা করবে না।

    সংঘ পরিবারের শক্তিকে প্রদর্শন

    সূত্রের খবর, সংঘের পরিকল্পনা হল সমগ্র সংঘ পরিবারের শক্তিকে প্রদর্শন করা। বিজেপি নেতা ও কর্মীরা, যারা একই সঙ্গে স্বয়ংসেবকও, আশা করা হচ্ছে তাঁরা মহালয়ার দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত এই সব কর্মসূচিতে যোগ দেবেন (RSS)। ফি বছর আরএসএস বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মসূচির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানায়। এ বার পরিকল্পনা করা হয়েছে, প্রতিটি জেলায়ই একাধিক সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।

    দক্ষিণবঙ্গ প্রভার প্রধান বিপ্লব রায় বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হতে যাচ্ছে। আমরা মা-কে স্বাগত জানাব। একই সঙ্গে আমাদের ১০০ বছরও উদযাপন করব। সর্বত্র একত্রীকরণ, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।” আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সংঘ রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই কারণেই এই মহালয়া অনুষ্ঠানকে (Rallies) ব্যাপক রাজনৈতিক গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। গত দুবছরে বাংলায় শাখার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে (RSS)।

  • Suvendu Adhikari: “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে পদ্ম না ফুটলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না”, বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে পদ্ম না ফুটলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না”, বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে পদ্ম না ফুটলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির (BJP) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন শুভেন্দু। তার পরের দিনই আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পদ্ম ফোটার কথা বললেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার শুভেন্দুকে বলতে শোনা গিয়েছে, ২০২৬ সালে রাজ্য থেকে বিদায় হবে তৃণমূল কংগ্রেসের, মুখ্যমন্ত্রিত্ব খোয়াবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না (Suvendu Adhikari)

    এদিন শুভেন্দু বলেন, “দেশের যতগুলি রাজ্যেই বিজেপি সরকার গঠন করুক না কেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে যদি বিজেপি না আসে, তাহলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না।” তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতারা প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। এক সময়ের ৩টি আসন যদি পরে ৭৭ হতে পারে, বা ১০ শতাংশ ভোট যখন ৪০ শতাংশে আসতে পারে, তাহলে আসন সংখ্যা ১৭৭, আর ভোট ৪৫ শতাংশ না হওয়ার কোনও কারণ নেই।” নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় চান। কোনও দলের ঝান্ডা ছেড়ে, সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রশ্ন করলে বহু মানুষ একই উত্তর দেবেন। তাঁরা বলবেন, বিজেপির হাত ধরেই বাংলায় পরিবর্তন চাই। কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প।”

    বিজেপিই একমাত্র বিকল্প

    রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এটা এমন একটা রাজ্য যেখানে ৯ বছর পরে চাকরির পরীক্ষা হয়, তাও আবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। এখানে এমনও অনেক যুবক রয়েছেন যাঁরা একটা প্যান্ট তিনবার সেলাই করে পরেন। তাঁরা জানেন বেকারত্বের জ্বালা।” কেন অন্য কোনও দল নয়, বিজেপিই একমাত্র বিকল্প, এদিন তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক (Suvendu Adhikari)। বলেন, “যে রাজ্যেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেটা যাঁদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হোক না কেন, নজরদারি থাকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তাঁর দেশপ্রেম, মমত্ববোধ, জনগণের প্রতি একাত্মতা সর্বজনবিদিত। প্রধানমন্ত্রীর সততা নিয়ে বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলতে পারেননি, ভবিষ্যতেও পারবেন না।”

    একদম সাফ করে দেব

    এদিকে, সোমবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, “যাদবপুরে যারা সংবিধান মানে না, যারা হেরোইন আর চরসের আখড়া করে রেখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের লালন-পালন করেন। কারণ ভোটের সময় এরা ‘নো ভোট টু মোদি’ স্লোগান দেয়।” পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বিজেপি (BJP) এলে যে যাদবপুরের হাল বদলে যাবে, এদিন সেই আশ্বাসও দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু। বলেন, “বিজেপিকে আনুন, একদম সাফ করে দেব আমরা। যাদবপুরে যত জঞ্জাল আছে, সব পরিষ্কার করে দেব।” তিনি বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং ফের তাকে মূল স্রোতে শামিল করতে হলে বিজেপিকে আনতেই হবে। বিজেপি এলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”

    বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থার খবর মিথ্যে প্রচার

    ভিন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা মিথ্যে বলেও জানিয়ে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “এগুলো বেশিরভাগই ভুয়ো প্রচার। হরিয়ানা সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সেখানে আটক হওয়া এক হাজার বাংলাভাষীর মধ্যে ৯১৫ জনই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।” তিনি বলেন, “যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ায়, তারা আর যাই হোক না কেন, বাংলা ও বাঙালির রক্ষক হতে পারে না।”

    শাহ সন্দর্শনে শুভেন্দু

    এদিকে, সোমবার হঠাৎই দিল্লি উড়ে যান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। নয়াদিল্লিতে শাহের বাসভবনে দু’জনের বৈঠক হয় মিনিট পঁয়তাল্লিশেক ধরে (BJP)। শাহের সঙ্গে বৈঠকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুভেন্দু অবশ্য নিজেই লিখেছেন, ‘তাঁদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তবে ঠিক কী কী বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। মাস ছয়েক পরেই এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। শুভেন্দু-সহ (Suvendu Adhikari) বিজেপি নেতাদের দাবি, এবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। চলতি বছরের শেষের দিকে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা বিহারে। তার পরেই বাংলায় ঘাঁটি গাড়বেন অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে খবর, পুজোর পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যাতায়াত বাড়বে এ রাজ্যে। এই আবহে শাহ-শুভেন্দুর এই বৈঠক (যাকে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলছেন ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’) তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (BJP)।

  • Utkarsh Entrepreneurship: “উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্যেই রয়েছে ভারতের গ্লোবাল লিডার হওয়ার যাত্রার চাবিকাঠি”, বললেন সঞ্জীব সান্যাল

    Utkarsh Entrepreneurship: “উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্যেই রয়েছে ভারতের গ্লোবাল লিডার হওয়ার যাত্রার চাবিকাঠি”, বললেন সঞ্জীব সান্যাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্যেই রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান এবং গ্লোবাল লিডার হওয়ার যাত্রার চাবিকাঠি।” কথাগুলি বললেন সঞ্জীব সান্যাল, ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। ১৩ সেপ্টেম্বর উৎকর্ষ এন্টারপ্রেনারশিপ কনক্লেভ ২০২৫-এর উদ্বোধনী সেশনে ভাষণ দেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা (Swadeshi Path) হয়েছিল ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টারে। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ, লঘু উদ্যোগ ভারতী এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় হয়েছে অনুষ্ঠান (Utkarsh Entrepreneurship)। স্বাবলম্বী ভারত অভিযানের অধীনে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের।

    বেকার সমস্যার সমাধান (Utkarsh Entrepreneurship)

    পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ৪০০-এরও বেশি উদ্যোক্তাদের এই সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় সান্যাল ভারতীয় যুব সমাজের মধ্যে বেকার সমস্যার সমাধান এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন চালানোর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি এমন কোনও হাতিয়ার থাকে যা দেশের অর্থনীতির উন্নতি করতে পারে এবং ভারতকে একটি বৈশ্বিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তবে তা হল উদ্যোক্তাবৃত্তি।” তিনি বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংস্থাগুলিকেও এই ইকোসিস্টেমকে আরও মজবুত করতে কাজ করে যেতে হবে।” স্বাবলম্বী ভারত অভিযান (দক্ষিণ বঙ্গ প্রদেশ)-এর সমন্বয়ক বটেশ্বর জানা উদ্যোগটির বিস্তারিত দিকটি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগপ্রণোদনা বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্মেলনে ১৮০-এরও বেশি উদ্যোক্তাকে তাঁদের অবদান ও সাফল্যের জন্য সম্মানিত করা হয়।

    উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নির্দেশ

    উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ডঃ ধনপত রাম আগরওয়াল (সারা ভারত সহ-সমন্বয়ক, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ), প্রফেসর সুমন চক্রবর্তী (পরিচালক, আইআইটি খড়গপুর), ডঃ অরবিন্দ চৌবে (পরিচালক, এনআইটি দুর্গাপুর)। উপস্থিত ছিলেন এমএসএমই এবং এনএসআইসির প্রতিনিধিরা। তাঁরা উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যত বৃদ্ধির সুযোগ নির্ধারণ বিষয়ে নির্দেশ দেন। প্রযুক্তিগত অধিবেশনে এমএসএমই, এনএসআইসি, সিডবিআই, এসবিআই, পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাংক, ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র, সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং কানাড়া ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যেগুলি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শের মাধ্যমে সাহায্য করতে প্রস্তুত (Utkarsh Entrepreneurship)।

    মূল অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সতীশ কুমার (সমগ্র ভারত সংগঠক, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ) বলেন, “বিশ্ব এখন ভারতকে ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে দেখছে, যা শান্তি ও টেকসইয়ের ভিত্তিতে নির্মিত। স্বদেশি জিনিসপত্র ব্যবহার ভারতের উত্থানের পথ প্রশস্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যদি ভারতীয়রা দেশীয় পণ্য ব্যবহার শুরু করেন এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনেন, তাহলে ভারত (Swadeshi Path) একটি গ্লোবাল অর্থনৈতিক মহাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, এটা দূর ভবিষ্যতের কথা নয়।” তিনি বলেন, “বিশ্বায়ন যখন শক্তি হারাচ্ছে, তখন আত্মনির্ভরতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা নতুন বিশ্বব্যবস্থার সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে (Utkarsh Entrepreneurship)।”

  • Yusuf Pathan: শেখ শাহজাহান হোক বা ইউসূফ পাঠান, তৃণমূল আর জবরদখল যেন সমার্থক!

    Yusuf Pathan: শেখ শাহজাহান হোক বা ইউসূফ পাঠান, তৃণমূল আর জবরদখল যেন সমার্থক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনি গেরোয় তৃণমূলের (TMC) সাংসদ ইউসূফ পাঠান (Yusuf Pathan)। প্রাক্তন এই ক্রিকেট তারকাকে ‘দখলদার’ তকমা দিল গুজরাট হাইকোর্ট। আদালতের সাফ কথা, বরোদা পুরসভার জমি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন ইউসূফ। তাই ওই জমি তাঁকে খালি করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পুরসভা বুলডোজার চালিয়ে ওই জমি খালি করাতে পারবে। তৃণমূলের আরও এক নেতা সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধেও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মাথায় শাসক দলের আশীর্বাদী হাত থাকায় তিনিও গিলে ফেলেছেন বিঘের পর বিঘে জমি।

    তৃণমূলের সাংসদ ইউসূফ (Yusuf Pathan)

    গুজরাটের বাসিন্দা ইউসূফ। মুসলিম তাস খেলতে গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করে তৃণমূল। তার জেরে গোহারা হেরে যান ওই কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সাংসদ কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরী। তৃণমূলের এহেন নেতার গায়েই লাগল দখলদারের তকমা। গুজরাট আদালতের পর্যবেক্ষণ, “ইউসূফ একজন জনপ্রতিনিধি। তিনি সেলিব্রিটিও। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের প্রভাব পড়ে সমাজের ওপর। তাই তাঁর আইন মেনে চলা উচিত। উল্টে তিনিই বেআইনি কাজ করছেন।” গুজরাট হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল সাংসদকে আর নোটিশ পাঠাবে না পুরসভা। এর পর জমি খালি না করলে পুরসভা প্রয়োজনে বুলডোজার চালাতে পারবে।

    জমি দখলের অভিযোগ

    বরোদা পুরসভার অধিকৃত ৯৭৮ স্কোয়ার মিটার জমি নিয়েছিলেন পাঠান। পুরসভার অভিযোগ, ওই জমিতে দেওয়াল তুলে জায়গাটি নিজের সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছিলেন তৃণমূলের এই সাংসদ। কাজটি বেআইনি। উল্লেখ্য যে, ২০১২ সালে পাঠানকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন বরোদা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। তাঁরা তাঁকে জমিটি কিনে নিতে বলেছিলেন। সেজন্য নিলাম করা হবে না। প্রতি বর্গমিটারে ৫৭ হাজার ২৭০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে পুরসভার ওই অনুমোদন বাতিল করে দেয় গুজরাট সরকার। পাঠান বেআইনিভাবে জমিটি দখল করে রেখেছেন, এই মর্মে তৎকালীন বিজেপি কাউন্সিলর বিজয় পাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরেও এত বছর ধরে জমিটি ব্যবহার করে চলেছেন তৃণমূলের এই সাংসদ।

    জমি দখলের অভিযোগ প্রমাণিত

    আদালতে পাঠান (Yusuf Pathan) জানান, বর্তমান বাজারদরে তিনি জমিটি কিনে নিতে ইচ্ছুক (TMC)। এবার আপত্তি জানায় পুরসভা। তাদের দাবি, বিখ্যাত ক্রিকেটার সাংসদ হলেও, জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর জ্ঞান নেই। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে পাঠানের দখল করা জমি পুররুদ্ধারের জন্য পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি মউনা ভট্ট। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, “প্রাক্তন ক্রিকেটার যে ওই জমি দখল করে রেখেছেন, তা প্রমাণিত। তাই আইনত পুরসভা তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে।”

    আদালতের নির্দেশ

    পুরসভার তরফেও জমি জবরদখলের জন্য পাঠানকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল একাধিকবার। প্রতিবারই তাঁকে খালি করতে বলা হয় জমিটি। তার পরেও তিনি ছাড়েননি জমির দখলদারি। উল্টে পুরসভার নোটিশের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পাঠান। আদালতের নির্দেশ, পাঠানকে আর কোনও নোটিশ পাঠানো হবে না। তিনি যদি নিজেই জমিটি খালি না করেন, তবে পুরসভা নিজে থেকেই ব্যবস্থা নেবে। অথচ জমিটি (Yusuf Pathan) পেতে কীই না করেছেন তৃণমূলের (TMC) এই সাংসদ। আস্তাবল করতে ওই প্লটটি কিনে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। দাবির স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও তাঁর ভাই ইরফান পাঠান দু’জনেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তবে তার পরেও যে চিঁড়ে ভেজেনি, এদিন গুজরাট হাইকোর্টের রায়েই তা স্পষ্ট।

    পশ্চিমবঙ্গের ছবি

    গুজরাট থেকে এবার চোখ ফেরানো যাক খোদ তৃণমূল-শাসিত পশ্চিমবঙ্গে। এখানেও জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের আরও এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, তিনিও মুসলিম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় তিনি ও তাঁর ভাই সিরাজউদ্দিন গায়ের জোরে ফসলের খেত দখল করে বদলে দিয়েছেন জমির চরিত্র। যে জমি এক সময় সবুজ সবজিতে ভরে উঠত, সেই জমির চরিত্র বদলেই বানানো হয়েছে মাছের ভেড়ি। শোনা যায়, ঘনিষ্ঠ (Yusuf Pathan) মহলে শাহজাহান প্রায়ই বলতেন ‘নোনা জলে সোনা ফলে’। সেই ‘সোনা’ ফলাতে গিয়েই তৃণমূলের (TMC) এই নেতা গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছেন স্থানীয়দের জমি-জিরেত। রেশন কেলেঙ্কারিকাণ্ডের জেরে শাহজাহান গারদে যেতেই মুখ খুলতে শুরু করেন স্থানীয়দের অনেকেই। বেড়মজুর গ্রামের বাসিন্দা মৌসুমি হালদার সেই সময় বলেছিলেন, “আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। শ্বশুরমশাইকে মেরেছে। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এক বিঘে কৃষিজমি লিখিয়ে নিয়েছে। বাচ্চা দুটোর প্রাণের আশায় আমি কিছু বলিনি।”

    পাঠানকাণ্ডের গুজরাট (Yusuf Pathan) হাইকোর্টের রায়ের পর অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তৃণমূল (TMC) আর জবরদখল যেন সমার্থক!

  • SIR: বাংলায় এসআইআর শুরুর প্রস্তুতি, ভোটার ম্যাপিংয়ের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

    SIR: বাংলায় এসআইআর শুরুর প্রস্তুতি, ভোটার ম্যাপিংয়ের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় এসআইআর-এর (SIR) লক্ষ্যে আরও একধাপ এগলো নির্বাচন কমিশন। এবার রাজ্যের ভোটার তালিকার মূল্যায়ন শুরু করতে চলেছে তারা। এ রাজ্যে শেষবার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের ওয়েবসাইটে সেই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই ভোটার তালিকার সঙ্গে এবার মিলিয়ে দেখা হবে রাজ্যের বর্তমান ভোটার তালিকা -কমিশনের ভাষায় ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ (Voter Mapping)।

    ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ (SIR)

    ১০ অগাস্ট দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সিইওদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। ওই বৈঠকেই ‘ম্যাপিং অফ ইলেক্টর’ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই মতো এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সিইও অফিস। মূলত, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কাজ করবেন বুথ লেভেল আধিকারিকরা। এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বরই রাজ্যে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পরিদর্শন করতে পারেন তিনি। অন্য একটি সূত্রের খবর, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে রাজ্যের এসআইআর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ২০ তারিখে দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর। সেখানে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন তিনি।

    সারা দেশেই এসআইআর চালু

    বিহারের পর এবার সারা দেশেই এসআইআর চালু করার পথে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব রাজ্যকে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। অক্টোবরে জারি করা হতে পারে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। তার পরেই শুরু হতে পারে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। যদিও ঠিক কবে থেকে এই কাজ শুরু হবে, তা জানা যায়নি। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের (SIR) তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাব দেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলে রেশন কার্ড এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকেও নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি হিসেবে গ্রহণ করা হোক। রাজ্যের দাবি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের সাফ কথা, আধার কার্ডের পরে আর কোনও নথি গ্রহণ করা হবে না। সারা দেশেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর হবে আগে

    সামনেই রয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ পার্বণ দুর্গাপুজো। তাই এ রাজ্যে এসআইআরের কাজ শুরু হবে পুজোর পরে। যদিও নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতেও সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। অক্টোবরের প্রথম দিকেই শেষ দুর্গাপুজো। কালীপুজো-ভাইফোঁটার পর্ব চুকতে আরও দিন পনেরো। তার পরেই জোরকদমে (Voter Mapping) শুরু হয়ে যাবে এসআইআর প্রক্রিয়া। কারণ বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে এই রাজ্যগুলিতে (SIR)।

  • Missionary Networks: বাড়ছে খ্রিস্টান মিশনারিদের দৌরাত্ম্য, বদলে যাচ্ছে ভারতের সোশ্যাল ফ্যাব্রিক!

    Missionary Networks: বাড়ছে খ্রিস্টান মিশনারিদের দৌরাত্ম্য, বদলে যাচ্ছে ভারতের সোশ্যাল ফ্যাব্রিক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর চল্লিশের মার্কিন খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারক ড্যানিয়েল স্টিফেন কর্টনি এখন বিশ্বব্যাপী বিতর্কের কেন্দ্রে। তিনি নিজেকে এক নির্ভীক ধর্ম প্রচারক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে খ্রিস্টান ধর্ম (Missionary Networks) প্রচার করেছেন ভারত, নেপাল, ইজরায়েল, ব্রিটেন এবং আমেরিকায়। এই ধর্ম প্রচারের আড়ালেই (Indias Social Fabric) তিনি অস্ত্র পাচার করছেন বলে অভিযোগ। গত ডিসেম্বরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’। সেখানে এক ভিডিওতে দেখা যায়, মণিপুরে গোষ্ঠীসংঘর্ষ চলাকালীন কর্টনি গোপনে কুকি জঙ্গিদের ড্রোন, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছেন। ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সেখানে তাঁকে দেখা যাচ্ছে সক্রিয়ভাবে তিনি হিন্দু মেইতেইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং সাহায্য করছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি শুধু ধর্ম প্রচারের কাজই নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে হস্তক্ষেপ, যা সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সমর্থনের কাছাকাছি।

    বহিষ্কার করা হয়েছিল কোর্টনিকে (Missionary Networks)

    ঘটনাটি কোর্টনির আগের কুখ্যাতির পরপরই সামনে আসে। ২০১৭ সালে ভারতে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং নিষিদ্ধ ধর্মীয় কার্যকলাপে জড়িত থাকার কারণে দেশ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তিনি আবার নেপাল ও ভারতে আসেন, আড়ালে থেকে চালাতে থাকেন কার্যকলাপ। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি নেপালের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় ধর্মান্তরকরণে সহায়তা করেছেন এবং সামাজিক সেবার আড়ালে মিশনারি অ্যাজেন্ডা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যকলাপেও প্রায়ই হিন্দু-বিরোধী ও বিজেপি-বিরোধী বক্তব্য থাকত, যা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। অবশেষে গত ডিসেম্বরে নেপালের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করে।

    বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

    কোর্টনি মামলাটি কোনও এক উগ্র মিশনারির (Missionary Networks) বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আরও গভীর একটি সমস্যাকে উন্মোচিত করে, কীভাবে বিদেশি এজেন্টরা, যারা প্রায়ই সাহায্যকর্মী বা মানবাধিকার কর্মীর ছদ্মবেশে ভারতের সংবেদনশীল অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয়। এমন উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি এমন এক নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে যেখানে এই ধরনের কার্যকলাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে (Indias Social Fabric)। কোর্টনি গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলার এক চমকপ্রদ ছবি সামনে আসে। একটি ছবি থেকে জানা যায়, তিনি কলকাতা-ভিত্তিক একটি এনজিও, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটি প্রমাণ করে, কীভাবে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা নিঃশব্দে এনজিও নেটওয়ার্কে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারছে। এই এনজিওগুলির সিংহভাগই বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত হয় বলে খবর।

    চিকিৎসা শিবিরগুলি আসলে ধর্মান্তরের আড়াল মাত্র

    ২০২৫ সালের অগাস্টে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে যে, তথাকথিত চিকিৎসা শিবির বা বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসা শিবিরগুলি আসলে ধর্মান্তরের আড়াল মাত্র (Missionary Networks)। হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা অঞ্চলে গ্রামবাসীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা কিংবা বিশ্বাসভিত্তিক আরোগ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আকৃষ্ট করা হচ্ছিল। একবার তারা এর প্রতি আকৃষ্ট হলে সন্ধ্যার প্রার্থনা সভার সময় আধ্যাত্মিক পরামর্শ ও সামাজিক চাপের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের খ্রিস্টধর্মের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল। একই ধরনের আর একটি ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের জুন মাসে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে কিছু মিশনারি অলৌকিক আরোগ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামবাসীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন (Indias Social Fabric)। তবে স্থানীয় হিন্দুরা প্রতিবাদ করলে পালিয়ে যান মিশনারিরা। প্রতিবারই এদের কৌশল একই থাকে- প্রথমে দান-দক্ষিণা, পরে ধর্মান্তর।

    মোদীর আমলে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    দশকের পর দশক ধরে ভারতে এনজিওগুলি এক ধরনের দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো কাজ করে। অনেকে সত্যিই সমাজকল্যাণ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য কাজ করে। আবার অনেকে, যারা বিশেষ করে যারা বিপুল বিদেশি সহায়তা পায়, তারা কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে ধর্মান্তরকরণের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করছে (Missionary Networks)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করা হয়। বাতিল করা হয় শ’য়ে শ’য়ে এনজিওর লাইসেন্স। তার পরেও পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ এক ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে আসছে ওপরের সারিতে। এখানে বিশ্বাসভিত্তিক চিকিৎসাশিবির, গোপন প্রার্থনাসভা এবং প্রলোভনভিত্তিক ধর্মান্তরের খবর ক্রমেই বাড়ছে।

    বদলে যাচ্ছে ভারতের সোশ্যাল ফ্যাব্রিক

    ধর্মান্তরের সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা ভারতে, বিশেষ করে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার মতো রাজ্যে মিশনারি কার্যকলাপের বাড়বাড়ন্ত। শুধু ছত্তিশগড়েই বিধানসভায় বিদেশি-অর্থায়িত এনজিওগুলি কীভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরের কাজে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার তার বিরোধী-ধর্মান্তর আইনের অধীনে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে। আদালত প্রতারণা বা প্রলোভনের মাধ্যমে করা ধর্মান্তরের জন্য কারাদণ্ডও দিয়েছে। তার পরেও রমরমিয়ে চলছে ধর্মান্তরের এই ‘ব্যবসা’ (Indias Social Fabric)। যার জেরে বদলে যাচ্ছে ভারতের সোশ্যাল ফ্যাব্রিক (Missionary Networks)।

  • PM Modi: “যারা নকল কাগজপত্র নিয়ে এখানে আছে, তাদের দেশ থেকে যেতেই হবে,” সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “যারা নকল কাগজপত্র নিয়ে এখানে আছে, তাদের দেশ থেকে যেতেই হবে,” সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের যেতেই হবে। যারা নকল কাগজপত্র নিয়ে এখানে আছে, তাদের এখান থেকে যেতেই হবে।” শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেল মাঠে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ সভায় বলতে উঠে সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে হবে কি (TMC) না? কে তাড়াবে? বিজেপি তাড়াবে। তাই বিজেপিকে জেতান। বিজেপিকে ভোট দিন। অনুপ্রবেশকারীরা বাংলা ছেড়ে পালাবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের কাছে সম্পদ কম। যুব সমাজকে উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, নাগরিকদের সুবিধা দিতে হবে। অনুপ্রবেশকারীরা রোজগার কেড়ে নিচ্ছে। নাগরিকদের অধিকারে ভাগ বসাচ্ছে। মা-বোনেদের সম্মানে হাত দিচ্ছে।” এর পরেই তাঁর তোপ, “তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। ভোটব্যাংকের জন্য প্রশ্রয় দিচ্ছে। জমি কেলেঙ্কারি হচ্ছে। কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আদিবাসীদের জমি দখল করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “আমি লালকেল্লার প্রাচীর থেকেও বলেছি, অনুপ্রবেশকারীদের যেতেই হবে। যারা নকল কাগজপত্র নিয়ে এখানে আছে, তাদের এখান থেকে যেতেই হবে। এই ভাবে তৃণমূল সরকারকেও এখান থেকে বিদায় নিতে হবে।”

    বিজেপি যা ভাবে, তা করে দেখায় (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি যা ভাবে, তা করে দেখায়। তার তাজা প্রমাণ অপারেশন সিঁদুর। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতির উন্নয়নে বিজেপি নিয়োজিত।” তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার সগর্বে বাংলা ভাষা আর বাংলা সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরাই বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছি।” তিনি বলেন, “বাংলাকে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে দিতে চাই, যেখানে বাংলার একজন যুবককেও কাজের জন্য বাইরে যেতে না হয়। দেশের সব চেয়ে বড় চিন্তা অনুপ্রবেশকারীদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে।” তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ সময়ের আগে চিন্তা করেন। অথচ তার পরেও অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের যুবকদের চাকরি ছিনিয়ে নিচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়নেও বাধা দিচ্ছে। এই জন্যই ভারত সরকার এত বড় অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু ইন্ডি জোট তুষ্টিকরণের রাজনীতি করছে। অনুপ্রবেশকে সমর্থন করছে।” তিনি বলেন, “বাংলায় অনুপ্রবেশ ঘোর সামাজিক সংকট তৈরি করছে। এটা থামাতেই হবে। এজন্য আমি লালকেল্লা থেকে ডেমোগ্রাফিক মিশনের কথা ঘোষণা করেছি (TMC)।”

    প্রধানমন্ত্রীর মুখে দুর্নীতি বিরোধী বিলের প্রসঙ্গও

    এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) মুখে শোনা গেল দুর্নীতি বিরোধী বিলের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “এবার লোকসভায় বিজেপি এক বড় দুর্নীতি-বিরোধী বিল নিয়ে এসেছে। বাংলাকেও সেই বিলের কথা বলব। আমাদের দেশে একজন সরকারি কর্মী, সে তিনি সাফাইকর্মীই হোন বা গাড়ির চালক, তাঁকে জেলে ঢোকানো হলে ৫০ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না পেলে নিয়ম অনুযায়ী সাসপেন্ড হয়ে যান। কিন্তু মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যদি জেলে যান, তাহলে তাঁদের জন্য কোনও আইন নেই!” পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে, নিয়োগ দুর্নীতিতে এমন একজন জেলে গিয়েছেন, যাঁর বাড়ি থেকে নোটের পাহাড় মিলেছে। তাও তিনি চেয়ার ছাড়তে রাজি ছিলেন না। তৃণমূলের আরও এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিল (PM Modi)। তিনিও চেয়ার ছাড়তে রাজি ছিলেন না। এমন লোক যাঁরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তাঁদের সরকারি পদে থাকার অধিকার আছে কি (TMC)?”

  • PM Modi: “যতদিন বাংলায় তৃণমূলের সরকার থাকবে, ততদিন উন্নয়ন থমকে থাকবে,” দমদমে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “যতদিন বাংলায় তৃণমূলের সরকার থাকবে, ততদিন উন্নয়ন থমকে থাকবে,” দমদমে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যতদিন বাংলায় তৃণমূলের সরকার থাকবে, ততদিন বাংলায় উন্নয়ন থমকে থাকবে। তৃণমূল গেলে তবেই আসল পরিবর্তন আসবে। টিএমসি যাবে, তবেই আসল পরিবর্তন আসবে।” শুক্রবার দমদম সেন্ট্রাল জেল মাঠে (Kolkata) ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ সভায় বলতে উঠে এই ভাষায়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আক্রমণ শানালেন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে। এদিন বাংলায়ই ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “সবাই আমার প্রণাম নেবেন। ছোটরা ভালবাসা।” এরপরই তিনি দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দির ও কালীঘাট মন্দির-সহ একাধিক মন্দিরের কথা উল্লেখ করে ‘প্রণাম’ জানান। তিনি বলেন, “আমি এমন একটা সময়ে কলকাতায় এলাম, যখন দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কুমোরটুলিতে প্রতিমা গড়া চলছে। এর সঙ্গে যখন উন্নয়ন জুড়ে যায়, তখন খুশি দ্বিগুণ হয়ে যায়।”

    প্রধানমন্ত্রীর বাণ (PM Modi)

    এর পরেই প্রধানমন্ত্রী একের পর এক বাণ নিক্ষেপ করতে থাকেন রাজ্য সরকারকে। তিনি বলেন, “প্রথমে কংগ্রেস, তারপর বামেদের শাসন দেখেছে বাংলা। ১৫ বছর আগে আপনারা মা-মাটি-মানুষে বিশ্বাস করে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে আগের চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। ‘ক্রাইম’ এবং ‘কোরাপশন’ টিএমসি সরকারের পরিচিতি।” তিনি বলেন, “বাংলার জন্য যে টাকা আমরা সরাসরি রাজ্য সরকারকে পাঠাই, তার বেশিরভাগই লুট হয়ে যায়। আপনাদের জন্য খরচ হয় না। টিএমসি ক্যাডারের জন্য খরচ হয়। এই জন্য জনকল্যাণে পিছিয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আগে ত্রিপুরা, অসমের এই হাল ছিল। যবে থেকে বিজেপি সরকার এসেছে, তবে থেকে ওই দুই রাজ্যেই পাচ্ছে গরিব কল্যাণ যোজনার লাভ।”

    “বাঁচতে চাই, তাই বিজেপি চাই”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার গৌরবোজ্জ্বল অতীত আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই এক সঙ্গে বলতে হবে তৃণমূলকে সরাও। বাংলাকে বাঁচাও।” তিনি বলেন, “পরিবর্তন চাই। এমন পরিবর্তন, যা মেয়েদের সুরক্ষা দেবে, যা দোকান আর ঘর জ্বালানো বন্ধ করবে, গরিবের অধিকার গরিবকে পাইয়ে দেবে, কৃষকের উন্নতি হবে।” এদিনের সভায় ছাব্বিশের ভোটের স্লোগানও বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “বাঁচতে চাই, তাই বিজেপি চাই!”

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার বানান। আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের বাংলা বানিয়ে দেব। বিকশিত বাংলা, মোদির গ্যারান্টি।” তিনি বলেন, “বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজেপির কাছে রোডম্যাপ আছে। কিন্তু তৃণমূলের নেই। তৃণমূল উন্নয়নের শত্রু। তার সাক্ষী এই দমদমের মানুষও।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্মার্ট সিটি মিশনে এখানকার অনেক উন্নতি হতে পারত। কিন্তু তৃণমূলের সরকার সেই প্রকল্প যুক্ত হল না। তৃণমূলের কাজ হল, যে কোনও উপায়ে পশ্চিমবঙ্গে (Kolkata) কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ণ আটকানো।” প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) আবেদন, “আপনারা এখানেও একবার বিজেপিকে সুযোগ দিয়ে দেখুন।”

  • Demographic Reconstruction Research: পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন ১.০৪ কোটিরও বেশি অতিরিক্ত ভোটার, বলছে সমীক্ষা

    Demographic Reconstruction Research: পশ্চিমবঙ্গে রয়েছেন ১.০৪ কোটিরও বেশি অতিরিক্ত ভোটার, বলছে সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে যত ভোটার ছিলেন, এবার ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে তার চেয়েও ১.৪ কোটিরও বেশি ভোটারের। সাম্প্রতিক এক ডেমোগ্রাফিক রিকনস্ট্রাকশন রিসার্চেই উঠে এসেছে এই তথ্য। এটি মোট ভোটারের সংখ্যার তুলনায় ১৩.৬৯ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। এই অতিরিক্ত নামগুলিকে জন্ম, মৃত্যু বা অভিবাসন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না ঠিকই, তবুও সেগুলি তালিকায় রয়েই গিয়েছে (Demographic Reconstruction Research)।

    ভোটার তালিকার যথার্থতা (Demographic Reconstruction Research)

    একটি গণতন্ত্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচনের বৈধতা সর্বাগ্রে নির্ভর করে ভোটার তালিকার যথার্থতার ওপর। যদি ভোটাধিকারপ্রাপ্তদের তালিকা (West Bengal) এমন সব নাম দিয়ে ফুলে ওঠে যেগুলি আর প্রকৃত যোগ্য বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করে না, তবে নির্বাচনী সততার মৌলিক ভিত্তিটাই পড়ে বিপদের মুখে। দুর্ভাগ্যবশত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার বাস্তবতা এই মানদণ্ডে খাপ খায় না। সমীক্ষকদের গবেষণা- “পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ফুলে ওঠা: বৈধ ভোটার গণনার জনমিতি পুনর্গঠন (২০২৪)” – যা সম্পূর্ণ সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এবং কঠোর জনমিতিক হিসাবপদ্ধতিতে পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটার সংখ্যা পুনর্গঠন করে দেখায় যে পশ্চিমবঙ্গে অতিরিক্ত ভোটার রয়েছেন ১.০৪ কোটি।

    বিস্তর ফারাক

    এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ওপর নির্ভরশীল এক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থেকে। এর মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা, জনগণনা থেকে প্রাপ্ত বয়স্কভিত্তিক প্রোফাইল, বেঁচে থাকার হার, জন্ম এবং নিট অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য। সমীক্ষকরা একটি যাচাইকৃত প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে, জন্ম, মৃত্যু ও অভিবাসনের হার অনুযায়ী কীভাবে তা দু’দশকে বদলানো উচিত, তার হিসেব করেন এবং সেটি নির্বাচন কমিশনের বর্তমান তালিকার সঙ্গে তুলনা করেন।তাতেই চোখে পড়ে এই বিস্তর ফারাক। দেখা যায়, গড়ে প্রায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৫ হাজারেরও বেশি যাচাইহীন নাম যুক্ত হচ্ছে। বহু নির্বাচনে এই ব্যবধানই নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। এই প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার আগে গবেষণায় ব্যবহৃত জনমিতি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিটি বোঝা জরুরি। সমীক্ষদের সূচনাবিন্দু হল ২০০৪ সালের নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৪.৭৪ কোটি নিবন্ধিত ভোটার। এঁরা ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। এই ভোটার তালিকাটি বেছে নেওয়ার কারণ এটি ২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের পর উপলব্ধ সরকারি ভোটার সংখ্যা। তাই এটি একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

    প্রথম ধাপ

    প্রথম ধাপে সমীক্ষকরা ২০০৪ সালের ভোটারদের বয়সভিত্তিক দলে ভাগ করেছিল। ২০০১ সালের জনগণনার বয়সবণ্টন ব্যবহার করে প্রতিটি বয়সগোষ্ঠীকে তিন বছর এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ২০০৪ সালের সঙ্গে সামঞ্জস্য করেছিলেন। পরে প্রতিটি গোষ্ঠীতে মৃত্যুহার বিবেচনা করতে স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম জীবন-সারণী থেকে প্রাপ্ত সরকারি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রয়োগ করা হয়েছিল। ২০০৪ সালের নির্বাচনী তালিকার বয়সভিত্তিক বিভাজনের তথ্য পাওয়ার পর সেগুলিকে আরও ২০ বছর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন সমীক্ষকরা। এভাবে জানতে চেয়েছিলেন ২০০৪ সালের ভোটারদের মধ্যে কতজন ২০২৪ সালেও জীবিত থাকবেন (Demographic Reconstruction Research)।

    প্রথম ধাপ

    দ্বিতীয় ধাপে ২০০৪ সালের পর যাঁরা ১৮ বছরে পা দিয়ে ভোটদানের যোগ্য হয়েছেন, তাঁদের হিসেব নেওয়া। এর মধ্যে রয়েছেন ১৯৮৬ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া নাগরিকরা, যাঁরা ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে ২০২৪ সালে ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়েছেন। এই সময়সীমার প্রতিটি জন্মবর্ষের জন্য বার্ষিক জন্মসংক্রান্ত অনুমান নেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ হেলথ ইন্টেলিজেন্স থেকে। এরপর এই জন্ম-গোষ্ঠীগুলির ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে নমুনা নিবন্ধন পদ্ধতির জীবন-সারণি অনুযায়ী বয়সভিত্তিক টিকে থাকার সম্ভাবনা, যাতে ২০২৪ সালে প্রতিটি গোষ্ঠীর কতজনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তা অনুমান করা যায়।

    চূড়ান্ত ধাপ

    চূড়ান্ত ধাপটি করা হয়েছে স্থায়ী অভিবাসনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে। পশ্চিমবঙ্গ বহু দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে একটি নিট বহিঃঅভিবাসন রাজ্য, যেখানে প্রাপ্তবয়স্করা চাকরি ও শিক্ষার জন্য অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। সমীক্ষকরা ২০০১ ও ২০১১ সালের জনগণনা অভিবাসন তথ্য ব্যবহার করেছেন (West Bengal), যেখানে নথিভুক্ত আছে সেই ব্যক্তিদের তথ্য, যাঁদের শেষ স্থায়ী বাসস্থান ছিল বর্তমানে তাঁরা রাজ্যের বাইরে রয়েছেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। এটি একটি স্থায়ী অভিবাসনের জন্য প্রচলিত মানদণ্ড। তাঁরা বহিঃঅভিবাসন ও অন্তঃঅভিবাসন প্রবাহ উভয়ের যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) গণনা করেছেন। তারপরেই তা ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে (Demographic Reconstruction Research)।

    পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা গত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে বাড়ি- বাড়ি গিয়ে যাচাই করা হয়নি। এর ফলে এমন একটি তালিকা তৈরি হয়েছে যা প্রকৃত জনসংখ্যাগত বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। যার ফলে ভোটদানের হার, প্রতিনিধিত্ব ও বৈধতার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মোট সংখ্যাটি কৃত্রিমভাবে (West Bengal) ফুলে উঠেছে। যার জেরে রমরমা শাসক দলের (Demographic Reconstruction Research)।

  • Phantom Voters: ভুতুড়ে ভোটার ধরতে জেলাশাসকদের নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

    Phantom Voters: ভুতুড়ে ভোটার ধরতে জেলাশাসকদের নির্দেশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুতুড়ে ভোটারদের (Phantom Voters) চিহ্নিত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Bengal CEO) মনোজ আগরওয়াল। সোমবার তিনি ওই নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসকদের। গত এক বছরে রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁদের। জেলাশাসকরা একই সঙ্গে জেলার নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) হিসেবেও কাজ করেন। তাই ১৪ অগাস্টের মধ্যে তাঁদের এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ (Phantom Voters)

    জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রবীণ আধিকারিকদের নিয়ে দল গঠন করে ফর্ম-৬ (যা ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়) নিষ্পত্তির একটি নমুনা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন। এই আধিকারিকরাই খতিয়ে দেখবেন এবং রিপোর্ট করবেন যে নির্বাচনী নথিভুক্তি আধিকারিকেরা (ERO) কীভাবে ফর্ম-৬-এর আবেদনের নিষ্পত্তি করছেন। জেলার নির্বাচনী আধিকারিকদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেছেন, “অনেক নির্বাচনী কর্মী ১৯৬০ সালের ভোটার নথিভুক্তি আইনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন না।” সিইও-র চিঠিটি এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এল, যখন নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ১০৯টি বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে ১১টি জেলার ভোটারদের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    সিইওর নজরে ২

    সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিইওর নজরে রয়েছেন ময়না ও বারুইপুরের দু’জন ইআরও। কারণ ভোটার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারেননি (Phantom Voters)। সিইওর (Bengal CEO) চিঠিতে বলা হয়েছে, “ক্রমাগত আপডেটের সময় ইআরওরা যে ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন, তার এক শতাংশেরও কম নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে দু’জন ইআরও ভুতুড়ে ভোটারদের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফর্ম ৬ নিয়েছেন।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “এই সব ক্ষেত্রে কোনও জরুরি প্রয়োজন বা বাস্তব প্রয়োজন ছাড়াই বিএলওদের যাচাই করা তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের নথি বহু সংখ্যক আবেদনপত্র ও তাদের ভেরিফিকেশন রিপোর্টের জন্য নেওয়া হয়েছে।”

    অনিয়মের কথা কবুল!

    ওই চিঠি থেকেই জানা গিয়েছে, দুই ইআরও স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা অন্যান্য আধিকারিক মায় ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদেরও ইউজার অ্যাক্সেস দিয়েছিলেন। তাঁরা পরে ফর্ম ৬-এর আবেদনগুলি নিষ্পত্তি করে দেন। সূত্রের খবর, সিইও ওই দুই ইআরও-সহ আরও যে সব আধিকারিক এই ধরনের অনিয়মে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। নির্বাচন কমিশনের (Bengal CEO) এক আধিকারিক বলেন, “যদি কোনও (Phantom Voters) ইআরও, সহকারী ইআরও বা অন্য কেউ ভোটার তালিকা প্রস্তুতি, সংশোধন বা কোনও অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্তব্যে গাফিলতি বা দুর্নীতি করেন, তাহলে তাঁদের ন্যূনতম তিন মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দু’বছরের জেল ও জরিমানা হতে পারে।”

    নতুন ভোটার নয়, উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বয়স্ক ভোটারদের নাম

    নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, কোচবিহার, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত অঞ্চলে ২৫-৪০ বছর বয়সিদের ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অথচ এই হার বেশি থাকার কথা ১৮-২১ বছর বয়সি নতুন ভোটারদেরই। ওই চিঠিতেই বলা হয়েছে, মাত্র এক শতাংশ ফর্ম পরীক্ষা করেই বিস্তর অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ইআরওকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁরা ভুয়ো আবেদনপত্র জমা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিএলওরা কোনও রকম যাচাই না করেই তার অনুমোদনও দিয়েছেন বলে চিঠিতে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Phantom Voters)।

    কী বলেছিল কমিশন?

    প্রসঙ্গত, ভোটার (Bengal CEO) তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটারদের বাদ দিতে আগেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার ডেটাবেস এবার যুক্ত করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। ফলে যখনই কারও জন্ম বা মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন করা হবে, তখন কমিশনের সিস্টেমেও সেই তথ্য নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ভোটার তালিকায় কখনও কখনও মৃত ব্যক্তির নামও থাকে, বাদ যান যিনি জীবিত, তাঁর নাম। কমিশন সূত্রে খবর, এহেন বিভ্রান্তি এড়াতেই চালু হচ্ছে এই নয়া ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যের ভিত্তিতেই ভোটার তালিকায় মৃত ভোটারের নাম দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে বাদ দেওয়া যাবে। এজন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার বা সিস্টেমের সঙ্গে ইতিমধ্যেই ইআরও এবং বিএলওদের যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে জন্ম বা মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশন হলেই সেই তথ্য একেবারেই পৌঁছে যাবে ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যুক্ত কর্মীদের কাছে। কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, ডুপ্লিকেট এপিক (EPIC) নম্বর বরাদ্দের সময় কিছু ভুলের কারণে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক ব্যক্তিকে একই নম্বর দেওয়া হয়েছে। এবার প্রযুক্তিগত (Bengal CEO) দল ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি ভোটারকে একক এপিক নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে (Phantom Voters)।

LinkedIn
Share