Tag: wb

wb

  • West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। শেষমেশ সেই জল্পনাই সত্যি হল বুধ-সন্ধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হলেন ‘অভয়া’র মা। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’কে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ২০২৪ সালে। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও, সুবিচার মেলেনি। সেই কারণেই এবার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন অভয়ার মা।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা (West Bengal Assembly Election)

    ফেরা যাক খবরে। এদিন তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। তাঁর মধ্যে অভয়ার মা-ও একজন। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের কলতান দাসগুপ্ত। অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন কলতানও। সেই কলতানের সঙ্গেই দ্বৈরথে নামছেন বিজেপির তরফে অভয়ার মা। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে অভয়ার মা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তৃতীয় দফায় বিজেপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর নামও রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পানিহাটির মানুষের জন্য জয়। পানিহাটির মানুষের জন্যই জয়ও হবে। এখানকার মানুষ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছেন (West Bengal Assembly Election)। এখানে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার – সরকার এসবই কেড়ে নিয়েছে। মহিলা হলেও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মেয়েরা রাতে বাইরে বেরবে কেন? এসব (BJP) নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে চাই।”

    পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা

    পানিহাটিতে অভয়ার মা এবং কলতান ছাড়াও, লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের ছেলে। অভয়ার মা জানান, তিনি মনে করেন বিজেপিই তাঁর মেয়ের বিচার দিতে পারবে। তাই বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অভয়ার মা ছাড়াও এদিন আরও ১৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন পদ্ম-নেতৃত্ব। এঁরা হলেন, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (উত্তরপাড়া), অম্লান ভাদুড়ি (ইংরেজবাজার), রবীন্দ্রনাথ বসু (কোচবিহার দক্ষিণ), দীনেশ সরকার (রায়গঞ্জ), চিত্রজিৎ রায় (ইসলামপুর), হরিপদ বর্মণ (হেমতাবাদ), স্বপন দাস (শান্তিপুর), বিপ্লব মণ্ডল (হাওড়া), অরূপ কুমার দাস (সিঙ্গুর), দীপাঞ্জন কুমার গুহ (চন্দননগর), সুবীর নাগ (চুঁচুড়া), মধুমিতা ঘোষ (হরিপাল), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শঙ্কর গুছাইত (মেদিনীপুর), প্রাণকৃষ্ণ তপাদার (পূর্বস্থলী দক্ষিণ), কৃষ্ণ ঘোষ (কাটোয়া), কৃষ্ণকান্ত সাহা (সাঁইথিয়া) এবং অনিল সিং (নলহাটি) (West Bengal Assembly Election)।

  • West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে, তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাঁকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে (Calcutta High Court)।’

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি (West Bengal Assembly Election)

    রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্য প্রশাসনের একধিক আইএএস-আইপিএসকে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবকে। ভিন রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে একাধিক আধিকারিককে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

    ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ’

    এদিন শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ। কেউ অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চালাচ্ছে।’ জনস্বর্থের ওই মামলায় আইনজীবী তথা তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইনসভা যে আইন তৈরি করে তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)।” তাঁর প্রশ্ন, “যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, মর্জিমাফিক বদলি করা হয়, তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কীভাবে?” কল্যাণ বলেন, “নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সেই রাজ্য থেকেই নিতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে নিতে হলে রাজ্যের সম্মতি লাগে। ২০২৬-এ আমাদের রাজ্যে কোনও নিয়মই মানছে না কমিশন।” তাঁর প্রশ্ন, “রাজ্য থেকে সব আমলা নিয়ে চলে গেলে, রাজ্যটা চলবে কীভাবে?” লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বদলি করা হয় কিনা, এদিন তাও জানতে চান তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতা। তিনি বলেন, “৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিশ্বস্ত আধিকারিকদের ছাড়া কীভাবে কাজ করবেন তিনি? এটা ব্যাঘাত (Calcutta High Court) ঘটানোর চেষ্টা।” উল্লেখ্য যে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা শুক্রবার (West Bengal Assembly Election)।

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

  • West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দফায় বঙ্গে হবে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। এই নির্বাচন যাতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হয়, তাই চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। শুক্রবার রাজ্যের সদ্য নিয়োজিত ডিএম, এসপি, ডিজি এবং সিপির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এই বৈঠকে তাঁদের দ্রুত দায়িত্বভার গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলায় গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, ডিএম-এসপিদের বাংলো এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক ব্যবস্থাও যথা শীঘ্র সম্ভব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলোর দখল নিন (West Bengal Assembly Election)

    জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিদায়ী আধিকারিকরা বাংলো ছাড়তে দেরি করে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ঠিকঠাক হস্তান্তর করেন না। কখনও কখনও এই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছে করে দেরি করার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেই জন্যই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। বৈঠকে কমিশনের তরফে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিল্ড পর্যায়ের কাজ, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, সদ্য বদলি হওয়া ডিএম এবং এসপিরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বাংলোগুলি তাড়াতাড়ি খালি করে দিতে হবে। প্রশাসনিক বৈঠক, সমন্বয় এবং অন্যান্য সরকারি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামোও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য ২২ মার্চের মধ্যেই আবিশ্যকভাবে বাংলোগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বদলি হওয়ার পরেও বাংলো আটকে রেখেছেন জেলাশাসকরা। তাঁদের দ্রুত বাংলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনওভাবেই দখল করে রাখা যাবে না বাংলো।

    ৬টি মূল লক্ষ্য স্থির করে দিল কমিশন

    আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ৬টি মূল লক্ষ্যও স্থির করেছে কমিশন (West Bengal Assembly Election)। এগুলি হল বুথ দখল রোধ করা, ভুয়ো ভোট প্রতিরোধ করা, অশান্তিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, কোনও প্রভাব ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং রাস্তা আটকানো, ভোটারদের বেরতে বাধা বা ভয় দেখিয়ে বুথে যাওয়া থেকে আটকানো রোধ করা। এদিকে, এদিনই জানা গিয়েছে, দিন কয়েকের মধ্যেই দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্বাচন (ECI) সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (West Bengal Assembly Election) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • West Bengal Election 2026: রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনে ফের বড় রদবদল করল কমিশন, সরানো হল ৫ ডিআইজি, ১১ ডিএমকেও

    West Bengal Election 2026: রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনে ফের বড় রদবদল করল কমিশন, সরানো হল ৫ ডিআইজি, ১১ ডিএমকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ঢাকে কাঠি পড়ার পরেই শুরু হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনে রদবদল। আগেই সরানো হয়েছিল মুখ্যসচিব, ডিজি এবং সিপিকে। এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সরিয়ে দিল ১১ জেলাশাসক, এক পুক-কমিশনার, পাঁচ জায়গার ডিআইজিকে। সরানো হয়েছে কলকাতার দুই ডিইওকে-ও। নয়া নির্দেশিকায় সরানো হয়েছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির ডিআইজিকে। বুধবার কমিশনের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে এই রদবদলের কথা। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়, সেই জন্যই এই পদক্ষেপ জরুরি।

    প্রশাসনে রদবদল (West Bengal Election 2026)

    রায়গঞ্জের ডিআইজি পদে বসানো হয়েছে রথোদ অমিতকুমার ভারতকে। মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজিত সিং যাদবকে। বর্ধমানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীহরি পাণ্ডেকে। প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে বসানো হয়েছে কঙ্কর প্রসাদ বারুইকে। জলপাইগুড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অঞ্জলি সিংকে। কমিশনের নির্দেশ, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের রিপোর্টও জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁদের এই বদলির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের কোনওভাবেই ভোট সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না।

    সরানো হল একঝাঁক জেলাশাসককেও

    এদিকে, এদিনই একঝাঁক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণ করল নির্বাচন কমিশন। সরানো হয়েছে কলকাতার দুই ডিইওকে-ও। এই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। এই নির্দেশিকা জারির ঘণ্টাখানেক আগেই একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের পাঁচ ডিআইজিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের ১১ জেলায় নয়া জেলাশাসক নিয়োগ করার বিষয়। এই তালিকায় রয়েছেন কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। এঁরা সবাই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে কোচবিহারের নয়া জেলাশাসক হয়েছেন জিতেন যাদব। জলপাইগুড়িতে এই পদে বসানো হয়েছে সন্দীপ ঘোষকে।

    প্রশাসনে বদল উত্তরেও

    উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক হয়েছেন বিবেক কুমার (West Bengal Election 2026)। মালদায় ওই পদে বসানো হয়েছে রাজনবীর সিং কপূরকে। মুর্শিদাবাদের নয়া জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে আর অর্জুনকে। নদিয়ার নয়া জেলাশাসক হয়েছেন শ্রীকান্ত পাল্লি, পূর্ব বর্ধমানে ওই পদে বসানো হয়েছে শ্বেতা আগরওয়ালকে, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক হয়েছেন শিল্পা গৌরিসারিয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে অভিষেক কুমার তিওয়ারিকে, দার্জিলিংয়ের নয়া জেলাশাসক হয়েছেন হরিচন্দ্র পানিকর, আলিপুরদুয়ারে ওই পদে বসানো হয়েছে টি বালাসুব্রহ্মণ্যমকে (Election Commission)।

    সরানো হল কলকাতার দুই ডিইওকে

    বদলে দেওয়া হয়েছে কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিককেও। দিন কয়েক আগেই উত্তর কলকাতার ডিইও পদে বসানো হয়েছিল পুরসভার কমিশনারকে। নয়া নির্দেশিকায় ডিইও পদে বসানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে (West Bengal Election 2026)। প্রসঙ্গত, কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়মটা অবশ্য আলাদা। কলকাতায় জেলাশাসক না থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে উত্তর কলকাতার ডিইও হবেন তিনিই, যিনি পুরসভার কমিশনার থাকবেন। বুধবার পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পাণ্ডেকে। আর দক্ষিণ কলকাতার নয়া ডিইও হয়েছেন রণধীর কুমার।

    কমিশনের বক্তব্য

    কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যে এই আধিকারিকদের কাজে যোগদানের সম্মতিসূচক রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিয়োগ করা যাবে না ভোট সংক্রান্ত কোনও পদে (West Bengal Election 2026)। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে রাজ্যের নয়া মুখ্যসচিব পদে বসানো হয়েছে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বসানো হয়েছে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। তিনি ছিলেন হোম ও হিল অ্যাফেয়ার্সের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস তিনি। আগে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন জগদীশ প্রসাদ মিনা। তাঁকে সরিয়েই বসানো হয়েছে সঙ্ঘমিত্রাকে।

    জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

    উল্লেখ্য যে, সোমবার রাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, এক তরফা রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক অফিসার ও পুলিশ কর্তাদের না বদলাতে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন যে জ্ঞানেশ কানে তোলেননি, তার প্রমাণ মিলল ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেয় (Election Commission) পুলিশ-প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে (West Bengal Election 2026)।

  • WB Assembly Election 2026: বঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল, দাঁড়াল ৪০ লাখের কাছাকাছি

    WB Assembly Election 2026: বঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল, দাঁড়াল ৪০ লাখের কাছাকাছি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল (WB Assembly Election 2026)। এই সংখ্যাটা ছিল ৬০ লাখের কাছাকাছি। সোমবার পর্যন্ত কতজনের তথ্য নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে (CEO), তা জানিয়ে দিল রাজ্যের সিইও-র দফতর। জানা গিয়েছে, এই সংখ্যাটা কমবেশি ২০ লাখ। অর্থাৎ, বাকি প্রায় ৪০ লক্ষের মতো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিষ্পত্তির কাজ করছেন ৭০৫ জন বিচারপতি। কমিশন জানিয়েছে, তারাও চায়, বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা বাকি ভোটারদের তথ্যের নিষ্পত্তি হোক দ্রুত। এক সপ্তাহের মধ্যেই বিবেচনাধীন প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এসআইআর ছাঁকনিতে আটকে যাঁরা (WB Assembly Election 2026)

    এ রাজ্যে এসআইআর নামক ছাঁকনিতে আটকে গিয়েছিল ৬৩ লাখ ভোটারের নাম। এঁদের অনেকে মৃত, কেউ অন্যত্র চলে গিয়েছেন, কেউ আবার গরহাজির, কারও আবার অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। এছাড়াও বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন ওই বিচারকরা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, এখনও পর্যন্ত ২০ লাখ ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে।

    বিবেচনাধীন ভোটার

    এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, রাজ্যে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং মালদায়। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, মালদায় ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ২০৩। বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০ জন। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক তালিকা নিয়ে ভোটারদের কোনও অভাব-অভিযোগ থাকলে বিচার করবে ট্রাইব্যুনাল (WB Assembly Election 2026)। এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও কয়েকজন বিচারক। তালিকা নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাইকোর্ট যেসব বিচারককে দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে বারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

    রবিবারই বঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার পরেই প্রশ্ন ওঠে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লাখের কিছু বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তি করতে আর কতদিন সময় পাবেন বিচারকরা। কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা (CEO) দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম উঠবে, তাঁরাই পারবেন ভোট দিতে (WB Assembly Election 2026)।

     

  • Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। এবার নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026) এক ধাক্কায় বদল করে দিল রাজ্যের ১২ জন পুলিশ সুপারকে (Election Commission)। সরানো হয়েছে কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। সরানো হয়েছে চার পুলিশ কমশনারেটের কমিশনার, এডিজি পদমর্যাদার দু’জনকেও। ইন্দিরার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওকে। বদলে দেওয়া হল রাজ্যের ১২ পুলিশ জেলার সুপারকেও।

    এসপি বদল (Assembly Election 2026)

    বীরভূমের পুলিশ সুপার করা হয়েছে সূর্যপ্রতাপ যাদবকে। তিনি ২০১১ ব্যাচের আইপিএস। এই জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন আমনদীপ। কোচবিহারের এসপি সন্দীপ কাররাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস জসপ্রীত সিংকে। বারাসত পুলিশ জেলার নয়া এসপি হলেন ২০১২ ব্যাচের আইপিএস মিস পুষ্পা। এখানে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়। এক সময় কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন প্রিয়ব্রত। সরানো হয়েছে ডয়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকেও। বিশপ সরকারকে সরিয়ে এই পদে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) ঈশানী পালকে। ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার জোবি থমাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১৪ ব্যাচের আইপিএস রাকেশ সিংকে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি ধৃতিমান সরকারকে সরিয়ে বসানো হয়েছে ২০১৩ ব্যাচের আইপিএস সচিনকে।

    কাকে, কোথায় সরানো হল

    বেলডাঙায় অশান্তির পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সানি রাজকে। পাঠানো হয়েছিল এসবিতে। মঙ্গলবার কমিশন তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন হুগলি (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার করে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার আরিশ বিলালকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস অলকানন্দা ভাওয়ালকে। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম সিংকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১২ ব্যাচের আইপিএস অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ ঢালিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস পাপিয়া সুলতানাকে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমানকে সরিয়ে বসানো হল ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস সুরিন্দর সিংকে। পুলিশ সুপার ছাড়াও বদল করা হয়েছে দু’জায়গার এডিজিকেও। দক্ষিণবঙ্গের নয়া এডিজি হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস রাজেশকুমার সিং (Election Commission)। আগে এই পদে ছিলেন রাজীব মিশ্র। উত্তরবঙ্গের এডিজি করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস কে জয়রামনকে (Assembly Election 2026)। ওই পদে ছিলেন সুকেশ জৈন।

    পুলিশ কমিশনারও বদল

    চার কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারও বদল করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন প্রণব কুমার। সুনীল কুমার চৌধুরীকে সরিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন অখিলেশ চতুর্বেদী। এই পদে ছিলেন আকাশ মাঘারিয়া। ব্যারাকপুরের নয়া সিপি হয়েছেন অমিতকুমার সিং। আগে ছিলেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। সুশীলকুমার যাদবকে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি পদে। আগে এই পদে ছিলেন কোটেশ্বর রাও।প্রসঙ্গত, সোমবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

    মমতার চিঠির পাল্টা বদলির নির্দেশ

    এদিকে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই বা রাজ্যের মতামত না নিয়েই পুলিশ-প্রশাসনে রদবদলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য তিনি সোমবার রাতে চিঠি দেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। চিঠিতে তিনি লেখেন, আগে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে তিনজনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠানো হত। সেই তালিকা থেকেই কমিশন একজনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার সেই প্রচলিত রীতি মেনে চলা হয়নি। কমিশনের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হোক এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি অনুসরণ করা হোক (Assembly Election 2026)। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি লেখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে চলে এল কমিশনের তরফে নতুন বদলির নির্দেশ (Election Commission)।

     

  • WB Assembly Election 2026: বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা, কে, কোন কেন্দ্রে?

    WB Assembly Election 2026: বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা, কে, কোন কেন্দ্রে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই বাংলায় নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবারই প্রথম দফায় ১৪৪ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল বিজেপি (BJP)। মাধ্যম আগেই জানিয়েছিল যে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবার ভবানীপুরের পাশাপাশি আরও একটি কেন্দ্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এদিন প্রার্থী তালিকায়ই দেখা গেল সেই ছবি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক পদ্ম সৈনিকদের কে, কোন আসনে লড়ছেন।

    উত্তরবঙ্গে কে, কোন আসনে (WB Assembly Election 2026)

    • কোচবিহার উত্তরে  সুকুমার রায়
    • শীতলকুচিতে সাবিত্রী বর্মন
    • দিনহাটায় অজয় রায়
    • তুফানগঞ্জে  মালতি রাভা রায়
    • কুমারগ্রামে মনোজ কুমার ওরাওঁ
    • কালচিনিতে বিশাল লামা
    • আলিপুরদুয়ারে পরিতোষ দাস
    • ফালাকাটায় দীপক বর্মন
    • ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখা চট্টোপাধ্যায়
    • নাগরাকাটায় পুনা ভেংরা
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে আনন্দময় বর্মন
    • শিলিগুড়িতে শঙ্কর ঘোষ
    • ফাঁসিদেওয়ায় দুর্গা মুর্মু
    • গোয়ালপোখরে সরজিৎ বিশ্বাস
    • চাকুলিয়ায় মনোজ জৈন (WB Assembly Election 2026)
    • করণদিঘিতে বিরাজ বিশ্বাস
    • কালিয়াগঞ্জে উৎপল মহারাজ
    • রায়গঞ্জে কৌশিক চৌধুরী
    • কুশমন্ডিতে তাপস চন্দ্র রায়
    • কুমারগঞ্জে শুভেন্দু সরকার
    • বালুরঘাটে বিদ্যুৎ রায়
    • তপনে বুধরাই টুডু (BJP)
    • গঙ্গারামপুরে সত্যেন্দ্রনাথ রায়
    • হরিরামপুরে দেবব্রত মজুমদার
    • হাবিবপুরে জোয়েল মুর্মু
    • গাজোলে তন্ময় দেব বর্মন
    • চাঁচলে রতন দাস
    • মালতিপুরে আশিস দাস
    • রতুয়ায় অভিষেক সিংহানিয়া
    • মানিকচকে গৌর চন্দ্র মন্ডল
    • মালদায় গোপাল চন্দ্র সাহা
    • মোথাবাড়িতে নিবারণ ঘোষ

    দক্ষিণে গেরুয়া সৈনিকরা

    • সুজাপুরে অভিরাজ চৌধুরী
    • সুতিতে মহাবীর ঘোষ
    • রঘুনাথগঞ্জে সুরজিৎ পোদ্দার
    • লালগোলায় অমর কুমার দাস
    • ভগবানগোলায় ভাস্কর সরকার
    • মুর্শিদাবাদে গৌরী শঙ্কর ঘোষ
    • রেজিনগরে বাপন ঘোষ
    • বেলডাঙ্গায় ভরত কুমার ঝাওয়ার
    • বহরমপুরে সুব্রত মৈত্র
    • হরিহরপাড়ায় তন্ময় বিশ্বাস
    • নওদায় রানা মন্ডল
    • ডোমকলে নন্দ দুলাল পাল
    • জলঙ্গিতে নবকুমার সরকার
    • করিমপুরে অমরেন্দ্রনাথ ঘোষ
    • পলাশিপাড়ায় অনিমা দত্ত
    • কালীগঞ্জে বাপন ঘোষ
    • রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়
    • রানাঘাট উত্তর পূর্বে অসীম বিশ্বাস
    • চাকদহে বঙ্কিম চন্দ্র ঘোষ
    • হরিণঘাটায় অসীম কুমার সরকার
    • বাদুড়িয়ায় সুকৃতি সরকার
    • আমডাঙায় অরিন্দম দে
    • নৈহাটিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
    • ভাটপাড়ায় পবন কুমার সিং
    • বরানগরে সজল ঘোষ

    দক্ষিণবঙ্গের আরও তালিকা

    • দেগঙ্গায় তরুণকান্তি ঘোষ
    • বসিরহাটে উত্তরে নারায়ণচন্দ্র মন্ডল (BJP)
    • বাসন্তীতে বিকাশ সর্দার
    • কুলতলিতে মাধবী মহলদার
    • পাথরপ্রতিমায় অসিত কুমার হালদার
    • কাকদ্বীপে দীপঙ্কর জানা
    • রায়দিঘিতে পলাশ রানা
    • ক্যানিং পূর্বে অসীম সাঁপুই
    • ডায়মন্ড হারবারে দীপক কুমার হালদার
    • বিষ্ণুপুরে অগ্নিশ্বর নস্কর
    • বজবজে তরুণ কুমার আদক
    • মেটিয়াবুরুজে বীর বাহাদুর সিং
    • ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী
    • রাসবিহারীতে স্বপন দাশগুপ্ত
    • হাওড়া উত্তরে উমেশ রায়
    • শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ
    • উলুবেড়িয়া দক্ষিণে স্বামী মঙ্গলানন্দ পুরী মহারাজ
    • আমতায় অমিত সামন্ত
    • ডোমজুড়ে গোবিন্দ হাজরা

    হুগলিতে কারা 

    • সপ্তগ্রামে স্বরাজ ঘোষ
    • তারকেশ্বরে সন্তু পান
    • পুরশুড়ায় বিমান ঘোষ
    • আরামবাগে হেমন্ত বাগ
    • গোঘাটে প্রশান্ত দিঘর
    • খানাকুলে সুশান্ত ঘোষ
    • পাশকুঁড়া পূর্বে সুব্রত মাইতি
    • পাশকুঁড়া পশ্চিমে সিন্টু সেনাপতি
    • ময়নায় অশোক দিন্দা
    • মহিষাদলে সুভাষ পাঞ্জা
    • হলদিয়ায় প্রদীপ কুমার বিজলি
    • নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী
    • পটাশপুরে তপন মাইতি
    • কাঁথি উত্তরে সুমিতা সিনহা
    • কাঁথি দক্ষিণে অরূপ কুমার দাস
    • রামনগরে চন্দ্রশেখর মন্ডল
    • দাঁতনে অজিত কুমার জানা

    পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির বাজি

    • নয়াগ্রামে অমিয় কিস্কু
    • গোপীবল্লভপুরে রাজেশ মাহাতো
    • ঝাড়গ্রামে লক্ষ্মীকান্ত সাহু
    • কেশিয়াড়িতে ভদ্র হেমব্রম
    • খড়গপুর সদরে দিলীপ ঘোষ
    • নারায়ণগড়ে রামপ্রসাদ গিরি
    • সবংয়ে  অমল পান্ডা
    • খড়গপুরে তপন ভূঁইয়া
    • ডেবরায় শুভাশিস ওম
    • দাসপুরে তপন দত্ত
    • ঘাটালে শীতল কপাট
    • চন্দ্রকোণায় সুকান্ত দলুই
    • শালবনীতে বিমান মাহাতো
    • কেশপুরে শুভেন্দু সামন্ত
    • বিনপুরে প্রণত টুডু

    বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় কারা

    • বান্দোয়ানে লবসেন বাস্কে
    • বলরামপুরে জলধর মাহাতো
    • মানবাজারে ময়না মুর্মু
    • কাশীপুরে কমলকান্ত হাঁসদা
    • পাড়া নদিয়ার চাঁদ বাউরি
    • রঘুনাথপুরে মামণি বাউরি
    • শালতোড়ায় চন্দনা বাউরি
    • ছাতনায় সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়
    • রানিবাঁধে ক্ষুদিরাম টুডু
    • রায়পুরে ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা
    • তালডাংরায় সৌভিক পাত্র
    • বড়জোড়ায় বিলেশ্বর সিংহ
    • ওন্দায় অমরনাথ শাখা
    • কোতুলপুরে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার
    • ইন্দাসে নির্মল কুমার ধাড়া
    • সোনামুখীতে দিবাকর ঘরামি
    • রায়নায় সুভাষ পাত্র
    • জামালপুরে অরুণ হালদার
    • মন্তেশ্বরে সৈকত পাঁজা
    • বর্ধমান উত্তরে সঞ্জয় দাস
    • ভাতাড়ে সৌমেন করফা
    • কেতুগ্রামে অনাদি ঘোষ (মথুরা)
    • আউশগ্রামে কলিতা মাজি
    • পাণ্ডবেশ্বরে জিতেন্দ্র কুমার তিওয়ারি
    • দুর্গাপুর পূর্বে চন্দ্র শেখর ব্যানার্জি
    • দুর্গাপুর পশ্চিমে লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুই
    • জামুড়িয়ায় বিজন মুখার্জি
    • আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল
    • আসানসোল উত্তরে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়
    • কুলটিতে অজয় কুমার পোদ্দার
    • দুবরাজপুরে অনুপ কুমার সাহা
    • সিউড়িতে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
    • বোলপুরে দিলীপ কুমার ঘোষ
    • নানুরে খোকন দাস
    • ময়ূরেশ্বরে দুধ কুমার মন্ডল
    • হাঁসনে নিখিল ব্যানার্জি

    প্রসঙ্গত, তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে মরিয়া রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই কারণেই নন্দীগ্রামের পাশাপাশি তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা লড়বেন (WB Assembly Election 2026)।

     

LinkedIn
Share