৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—শ্রীরামকৃষ্ণ কি সিদ্ধপুরুষ না অবতার?
রাত্রি আটটা হইয়াছে। ঠাকুর (Ramakrishna) মহিমাচরণের সহিত কথা কহিতেছেন। ঘরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরনের দু-একটি সঙ্গী,—আছেন।
মহিমাচরণ আজ রাত্রে থাকিবেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, কেদারকে কেমন দেখছো? — দুধ দেখেছে না খেয়েছে?
মহিমা — হাঁ, আনন্দ ভোগ করছেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— নিত্যগোপাল?
মহিমা — খুব! — বেশ অবস্থা।
শ্রীরামকৃষ্ণ — হাঁ। আচ্ছা, গিরিশ ঘোষ কেমন হয়েছে?
মহিমা (Kathamrita)— বেশ হয়েছে। কিন্তু ওদের থাক আলাদা।
শ্রীরামকৃষ্ণ — নরেন্দ্র?
মহিমা — আমি পনর বৎসর আগে যা ছিলুম এ তাই।
শ্রীরামকৃষ্ণ — ছোট নরেন? কেমন সরল?
মহিমা — হাঁ, খুব সরল।
শ্রীরামকৃষ্ণ — ঠিক বলেছ। (চিন্তা করতে করতে) আর কে আছে?
“যে সব ছোকরা এখানে আসছে, তাদের—দুটি জিনিস জানলেই হল। তাহলে আর বেশি সাধন-ভজন করতে হবে না। প্রথম, আমি কে—তারপর, ওরা কে। ছোকরারা অনেকেই অন্তরঙ্গ।
“যারা অন্তরঙ্গ, তাদের মুক্তি হবে না। বায়ুকোণে আর-একবার (আমার) দেহ হবে।
“ছোকরাদের দেখে আমার প্রাণ শীতল হয়। আর যারা ছেলে করেছে, মামলা মোকদ্দমা করে বেড়াচ্ছে—কামিনী-কাঞ্চন নিয়ে রয়েছে—তাদের দেখলে কেমন করে আনন্দ হবে? শুদ্ধ-আত্মা না দেখলে কেমন করে থাকি!”
মহিমাচরণ শাস্ত্র হইতে শ্লোক আবৃত্তি করিয়া শুনাইতেছেন — আর তন্ত্রোক্ত ভূচরী খেচরী শাম্ভবী প্রভৃতি নানা মুদ্রার কথা বলিতেছেন।
ঠাকুরের পাঁচপ্রকার সমাধি-ষট্চক্রভেদ—যোগতত্ত্ব—কুণ্ডলিনী
শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আচ্ছা, আমার আত্মা সমাধির পর মহাকাশে পাখির মতো উড়ে বেড়ায়, এইরকম কেউ কেউ বলে।
“হৃষীকেশ সাধু এসেছিল। সে বললে যে, সমাধি পাঁচপ্রকার—তা তোমার সবই হয় দেখছি। পিপীলিকাবৎ, মীনবৎ, কপিবৎ, পক্ষীবৎ, তির্যগ্বৎ।
“কখনও বায়ু উঠে পিঁপড়ের মতো শিড়শিড় করে কখনও সমাধি অবস্থায় ভাব-সমুদ্রের ভিতর আত্মা-মীন আনন্দে খেলা করে!
“কখনও পাশ ফিরে রয়েছি, মহাবায়ু, বানরের ন্যায় আমায় ঠেলে—আমোদ করে। আমি চুপ করে থাকি। সেই বায়ু হঠাৎ বানরের ন্যায় লাখ দিয়ে সহস্রারে উঠে যায়! তাই তো তিড়িং করে লাফিয়ে উঠি (Kathamrita)।

Leave a Reply