মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী কী করেছিলেন? সুপ্রিমকোর্টে বিশেষ অভিযোগ করে একাধিক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে জোর করে ঢুকে পরা এবং নথি, তথ্য-প্রমাণকে ছিনতাই করার অভিযোগ তুলেছে। একই ভাবে মামলার তদন্ত রিপোর্ট তৈরিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।
৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ (Enforcement Directorate)
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate) নিজেদের পিটিশনে বলেছেন, “কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী-পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জোর করে ঢুকে তদন্তের আওতায় থাকা নথি এবং ডিজিটাল ইনফরমেশন ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছে।” এই সব কিছুর সঙ্গে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও এবং ছবি পিটিশনের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে তদন্তকারী আধকারিকদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল। ফলে পঞ্চনামা করাও সম্ভব হয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও আনা হয়। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে চলে যাওয়ার মানেই হল চুরি করা। রাজ্যের ডিজি এবং সিপির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।
খরচ দেবেন রাজীব-মমতা দাবি ইডির
মামলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইডি (Enforcement Directorate) দাবি করেছে, তদন্তে বাধা এবং অভিযান নিয়ে শেক্সপিয়ার সরণী এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে তা যেন সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসের সমস্ত ফুটেজ যা পুলিশের কাছে রয়েছে তার সবটাই যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার ইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমারের ঘাড়ে যেন চাপানো দাবিও তোলা হয়। এই সমস্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় তাই এখন দেখার।
জোড়া মামলায় প্রথমেই মমতার নাম
মমতার সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং নথি ছিনতাইকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ২টি মামলাও দায়ের করেছে। একটি মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate) এবং অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেছে ইডির তিন অফিসার নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলাওয়াত এবং প্রশান্ত চাণ্ডিলা। সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলার প্রথমটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামে। মামলায় দুই নম্বর পক্ষের নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপরেই নাম রয়েছে রাজীব কুমারের।
রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান
ইডির (Enforcement Directorate) তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “কলকাতা পুলিশ নিজেই ফেঁসে বসে আছে। একটু আগেই আমি পেয়েছি, ইডি সুপ্রিম কোর্টে কেস ফাইল করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্বরাষ্ট্র দফতর, পুলিশ দফতরের বিরুদ্ধে। মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান।”

Leave a Reply