মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য বিধানসভায় (Assembly) তৃণমূল বিধায়ক এবং বিজেপি বিধায়কের মধ্যে নজিরবিহীন তরজা। বিতণ্ডায় জড়ালেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) ও তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুপ্রবেশকারী ও ক্রিমিনাল ইস্যুতে শাসকদলকে নিশানা করেন অগ্নিমিত্রা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে।” এরপর বিধানসভায় হট্টগোল শুরু হয়। অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে তীব্র নিন্দা করেন ফিরাদ হাকিম।
মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেটে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি (Agnimitra Paul)!
শুক্রবার বাজেট অধিবেশনে (Assembly) বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল (Agnimitra Paul) বলেন, “এই সরকার মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়েছে। মাদ্রাসায় পড়ে কেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না কেউ? কেউ কেউ কেন ক্রিমিনাল হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন? সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় বাজেটে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই বাজেট কি শিক্ষার জন্য নাকি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য করা হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সংখ্যালঘু অবদান নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্রিমিনাল তৈরি করতে পরিকাঠামো নির্মাণের উপর জোর দিচ্ছে। এই সরকার সংখ্যালঘুদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে। রাজ্যে যত ছোট-বড় হিংসার ঘটনা ঘটছে তার বেশিরভাগ কেন শুক্রবারই করা হচ্ছে। ফলে লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা এক।”
মাদ্রাসা থেকে কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএফএস হয়েছে?
একই ইস্যুতে অগ্নিমিত্রা বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul) বলেন, “আমি অন্যায় কিছু তো বলিনি। তৃণমূল সরকার তোষণের রাজনীতি করে, এটা তো সারা পৃথিবী জানে। ধর্মের রাজনীতি আর চলবে না। ২০২৬ সালে বিজেপির সরকার আসবে। এখন শুধু উন্নয়নের সরকার চলবে।” রাজ্যের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিমকে তোপ দেগে বলেন, “আপনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্ত্রী, মেয়র হয়ে আপনার সম্প্রদায়ের জন্য কী করেছেন? আপনি ১৫ বছরের রেকর্ড দেখান, যে মাদ্রাসা থেকে কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইএফএস কিংবা ইসরোর মতো বিজ্ঞানী বেরিয়েছেন। আপনাদের ভোটব্যাঙ্কের জন্য শুধু সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেন।”
স্পিকারের অতি সক্রিয়তা
অগ্নিমিত্রার (Agnimitra Paul) মন্তব্যে প্রতিবাদ করে তৃণমূলের বিধায়করা চিৎকার করে হৈহট্টগোল বাঁধিয়ে দেন। তৃণমূল বিধায়কদের (Assembly) দেখা যায় ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করাও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সঙ্গেও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল বিধায়করা। দুই পক্ষের হট্টগোলে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এমন কোনও মন্তব্য করবেন না যা নির্দিষ্ট করে কোনও একটি সম্প্রদায়কে আঘাত করে।” এরপর সংখ্যালঘু এবং ক্রিমিনাল শব্দ রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন স্পিকার।

Leave a Reply