মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি যখন রাজ্য প্রশাসনের অব্যবস্থা এবং তাঁকে ‘বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, তার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। মোদির (PM Modi) সাফ কথা, “রাষ্ট্রপতি (President Murmu) জি, যিনি নিজেও একটি উপজাতি সম্প্রদায়ের, যে বেদনা ও যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন, তা ভারতের জনগণের মনে প্রচণ্ড দুঃখের সঞ্চার করেছে।”
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ (PM Modi)
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এই ঘটনাকে ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে “লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতির অবমাননা করেছে, তা কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। একজন রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যখন প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানের স্থান সংকুচিত করা হচ্ছে, তখন বোঝা যায় রাজ্যে গণতন্ত্রের কী করুণ দশা! গণতন্ত্র এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী সকলেই হতাশ।”
প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) অভিযোগ করেন যে, সাংবিধানিক প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের শীর্ষ মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর সরকারের কোনও প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না। মোদি বলেন, “মমতা দিদি সবসময় সংবিধান রক্ষার কথা বলেন, কিন্তু আজ তিনি নিজেই সংবিধানকে পদদলিত করেছেন।”
আদিবাসী আবেগ ও রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ভয় পেয়েছে। তারা চায় না সাঁওতাল এবং অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি কথা বলুক। এই কারণেই শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিবর্তন করে সেটিকে একটি ছোট মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিজেই সেই আসল ভেন্যুতে গিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে রাজ্য সরকার মিথ্যে বলেছিল।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতি (President Murmu) যে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন— “মমতা কি আমার ওপর রেগে আছেন?”— সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “একজন রাষ্ট্রপতির মুখে এই ধরনের কথা শোনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য সরকার আদিবাসী উন্নয়ন নয়, বরং বিভাজনের রাজনীতি করছে।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়ে আরও বলেন, “এই ইস্যুটিকে বিজেপি জাতীয় স্তরে নিয়ে যাবে। বাংলা আজ দেখল কীভাবে একজন মহান নেত্রীকে এবং আমাদের রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা করা হল। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।”
তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, নির্বাচনী বিধির কারণে বা প্রশাসনিক কোনও ত্রুটির কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন উপস্থিত ছিলেন না, তা দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁর কিছু পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।
শিলিগুড়ির সাঁওতাল সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন এবং একে রাষ্ট্রপতির পদের অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যা নিয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল।

Leave a Reply