Ramakrishna 673: “সন্ন্যাসীর বেশে বুদ্ধগয়া দর্শন করিতে গিয়াছিলেন, বড় বড় সাধু দেখতে!”

ramakrishna kathamrita by mahendranath gupta 670th   copy

৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

১৮৮৬, ২৩শে – ২৪শে এপ্রিল

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন্দ্রাদি ভক্তের মজলিশ

সুরেন্দ্র, শরৎ, শশী, লাটু, নিত্যগোপাল, কেদার, গিরিশ, রাম, মাস্টার 

 

সুরেন্দ্র একটু অভিমানী। ভক্তেরা কেহ কেহ বাগানের খরচের জন্য বাহিরের ভক্তদের কাছে অর্থ সংগ্রহ করিতে গিয়াছিলেন। তাই বড় অভিমান হইয়াছে। সুরেন্দ্র বাগানের অধিকাংশ খরচ দেন।

সুরেন্দ্র (কেদারের প্রতি) — অত সাধুদের কাছে কি আমি বসতে পারি! আবার কেউ কেউ (নরেন্দ্র) কয়দিন হইল, সন্ন্যাসীর (Ramakrishna) বেশে বুদ্ধগয়া দর্শন করিতে গিয়াছিলেন। বড় বড় সাধু দেখতে!

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সুরেন্দ্রকে ঠাণ্ডা করিতেছেন। বলছেন, হাঁ, ওরা ছেলেমানুষ, ভাল বুঝতে পারে না।

সুরেন্দ্র (কেদারের প্রতি) — গুরুদেব কি জানেন না, কার কি ভাব। উনি টাকাতে তুষ্ট নন; উনি ভাব নিয়ে তুষ্ট!

ঠাকুর মাথা নাড়িয়া সুরেন্দ্রের কথায় সায় দিতেছেন। “ভাব নিয়ে তুষ্ট”, এই কথা শুনিয়া কেদারও আনন্দ প্রকাশ করিতেছেন।

ভক্তেরা খাবার আনিয়াছেন ও ঠাকুরের সামনে রাখিয়াছিলেন। ঠাকুর জিহ্বাতে কণিকামাত্র ঠেকাইলেন। সুরেন্দ্রের হাতে প্রসাদ দিতে বলিলেন ও অন্য সকলকে দিতে বলিলেন।

সুরেন্দ্র নিচে গেলেন। নিচে প্রসাদ বিতরণ হইবে।

শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — তুমি বুঝিয়ে দিও। যাও একবার — বকাবকি করতে মানা করো।

মণি হাওয়া করিতেছেন। ঠাকুর বলিলেন, “তুমি খাবে না?” মণিকেও নিচে প্রসাদ পাইতে পাঠাইলেন।

সন্ধ্যা হয় হয়! গিরিশ ও শ্রীম — পুকুরধারে বেড়াইতেছেন।

গিরিশ — ওহে তুমি ঠাকুরের বিষয় — কি নাকি লিখেছো?

শ্রীম — কে বললে?

গিরিশ — আমি শুনেছি। আমায় দেবে?

শ্রীম — না; আমি নিজে না বুঝে কারুকে দেব না — ও আমি নিজের জন্য লিখেছি।

অন্যের জন্য নয় (Kathamrita)!

গিরিশ — বল কি!

শ্রীম — আমার দেহ যাবার সময় পাবে।

ঠাকুর অহেতুক-কৃপাসিন্ধু — ব্রাহ্মভক্ত শ্রীযুক্ত অমৃত 

সন্ধ্যার পর ঠাকুরের ঘরে আলো জ্বালা হইয়াছে। ব্রাহ্মভক্ত শ্রীযুক্ত অমৃত (বসু) দেখিতে আসিয়াছেন। ঠাকুর তাঁহাকে দেখিবার জন্য ব্যস্ত হইয়াছিলেন। মাস্টার ও দুই-চারিজন ভক্ত বসিয়া আছেন। ঠাকুরের সম্মুখে কলাপাতায় বেল ও জুঁই ফুলের মালা রহিয়াছে। ঘর নিস্তব্ধ। যেন একটি মহাযোগী নিঃশব্দে যোগে বসিয়া আছেন। ঠাকুর মালা লইয়া এক-একবার তুলিতেছেন। যেন গলায় পরিবেন।

অমৃত (স্নেহপূর্ণস্বরে) — মালা পরিয়ে দেব?

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share