মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে বড় সাফল্য এল। বৃহস্পতিবার প্রথমবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হল সম্পূর্ণ স্বদেশে তৈরি কুশা (Kusha) দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (LRSAM) সিস্টেমের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ওডিশার উপকূলে এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড়ান পরীক্ষা করা হয়েছে।পরীক্ষার সময় একটি উচ্চগতির ও উচ্চ-উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ইলেকট্রনিক লক্ষ্যবস্তুকে (Electronic Target) শত্রু বিমানের অনুকরণে ব্যবহার করা হয়। কুশা ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে সেই লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে ধ্বংস করে।
৩৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুও ধ্বংস করতে সক্ষম
প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, কুশা মিসাইল সিস্টেম ১৫০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন (UAV) থেকে শুরু করে বড় আকারের শত্রু বিমান—সবকিছুকেই নির্দিষ্ট উচ্চতায় শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারবে এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, কুশা প্রকল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ— ক্ষেপণাস্ত্র, রেডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ সম্পূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র বিভিন্ন গবেষণাগার এবং দেশীয় শিল্প সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।
কী বললেন রাজনাথ সিং?
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, কুশা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এই ধরনের দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল প্রযুক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এই সাফল্যের ফলে বিদেশি নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের শক্তিবৃদ্ধি হবে।’’ প্রতিরক্ষা সচিব তথা অতিরিক্ত ডিআরডিও প্রধান রাজেশ কুমার সিংও পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান।
এস-৪০০-এর পাশাপাশি নতুন শক্তি
বর্তমানে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভরসা রাশিয়া থেকে কেনা এস-৪০০ (S-400) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ২০১৮ সালে প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তিনটি ইউনিট রয়েছে, চতুর্থটি চলতি বছরের জুন মাসে পৌঁছেছে এবং পঞ্চম ইউনিটও বছরের শেষের মধ্যে হাতে আসতে পারে। এদিকে চলতি বছরের মার্চে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক আধুনিকীকরণ প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট কেনার প্রস্তাবও রয়েছে।
ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার শক্তি আরও বাড়বে
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে এস-৪০০ ছাড়াও আকাশ, সমর (Samar), ইজরায়েলের স্পাইডার (SpyDer), রাশিয়ার পেচোরা, ওএসএ-একেকে, টুঙ্গুস্কা, স্ট্রেলা, শিলকা, জেডইউ-২৩-২বি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান, আধুনিকীকৃত এল-৭০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান এবং ইগলা ম্যানপ্যাডসের মতো একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই তালিকায় ভবিষ্যতে কুশা যুক্ত হলে ভারতের বহুস্তরীয় (Multi-layered) আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ-পাল্লার এই স্বদেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলবে।

Leave a Reply