মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, কর্ণাটকের বাগলকোটে শিবাজি জয়ন্তীর (Shivaji Jayanti) শোভাযাত্রায় পাথর ছোঁড়ার পর ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় ভক্তরা পুরাতন শহরের পাঙ্কা মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী থাকা শর্তেও আকস্মিক আক্রমণ করে মুসলিম ধর্মের স্থানীয় দুষ্কৃতীরা (Communal Incidents)। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে লাঠিচার্জ করলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। হিন্দুদের উপর দেশ জুড়ে লাগাতার কট্টরপন্থীদের আগ্রাসন চলছে। আসুন এক নজরে দেখে নিই চিত্রটা।
মসজিদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে পাথর বর্ষণ (Shivaji Jayanti)
পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ গোয়েল বলেন,”আমরা সকলেই ঘটনাস্থলে (Shivaji Jayanti) উপস্থিত ছিলাম। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ৩ টা ৩০ নাগাদ মিছিলটি শুরু হয়েছিল। মসজিদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দূর থেকে পাথর বর্ষণ হয়েছিল। একটি পাথরের আঘাতে একজন কনস্টেবলকে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। অন্যটি তাঁর কাঁধে পড়েছে। তবে কারও কোনও বড় আঘাত লাগেনি। এরপর, মিছিলটি সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে এবং পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে।” গোলমালমালের (Communal Incidents) পর পুরো শহরে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছিল।
প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, “মিছিলটি অবশেষে তার নির্ধারিত পথে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মিছিলের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেই এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
একই ভাবে পুলিশ সুপার বলেছেন, “আমরা মিছিলটিও রেকর্ড করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছি। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য শহরের অস্থির এলাকায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এখনও কোনও রকম গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
জারি ১৬৩ নম্বর ধারা
১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাগলকোটের কিছু এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এই বিধিনিষেধের ফলে জনসাধারণকে কোন স্থানে চারজনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন, জন নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এমন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ এবং পূর্ব অনুমতি ছাড়া সমাবেশ, অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচির পরিকল্পনা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো উত্তেজনা (Communal Incidents) মোকাবেলা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হিন্দু সংগঠনের নেতারাও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে হায়দ্রাবাদের আম্বারপেটে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। শিবাজি জয়ন্তী মিছিল (Shivaji Jayanti) একটি মসজিদের পাশের রাস্তা যাওয়ার মিছিলের সঙ্গীত এবং স্লোগান নিয়ে এলাকার মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দু পক্ষের ব্যাপক তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সেই সঙ্গে দুই পক্ষের সঙ্গে বাধে সংঘর্ষ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কোনও হতাহত বা হিংসার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনসাধারণকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
জব্বলপুরের দুর্গা মন্দিরে হামলা
অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলার সিহোরায় একটি দুর্গা মন্দিরকে লক্ষ্য করে মুসলিম জনতা হামলা চালায়। সিহোরার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ চকে মন্দির এবং মসজিদটি একে অপরের বিপরীতে অবস্থিত। আরতির সময়, একদল মুসলিম নামাজের জন্য মসজিদে যান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ হয় এবং হিংসার রূপ নেয়। উত্তেজিত মুসলিম জনতা মন্দিরের সামনের গ্রিলের উপর আক্রমণ শুরু করে এবং স্লোগান দিতে থাকে। পাথরও ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি ভীষণ ভাবে উত্তাল (Communal Incidents) হয়ে ওঠে। পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে পাথর ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতিশীলতা মোকাবেলায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছিল। আশেপাশের স্থান থেকে আরও পুলিশকে তলব করা হয়েছিল। তবে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং ১৫ জনেরও বেশি অপরাধীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
হিন্দু এবং তাদের ধর্মের ওপর আক্রমণ
হিন্দু শোভাযাত্রা (Shivaji Jayanti), মন্দির এবং উপাসনালয়গুলি মুসলিম সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থী সদস্যদের দ্বারা ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত মাসে, ভারত এবং বাংলাদেশে সরস্বতী বিসর্জনের সময় ২৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। হিন্দু নির্যাতনের দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এই ঘটনাগুলি কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল, রাজ্য বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার পর পরিকল্পিত এই ধরনের আক্রমণ করা হয়। কট্টর মুসুলমানরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনও সুযোগ হাতছাড়া করেনি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অধিকাংশ হিংসার ঘটনাই প্রকাশ্যেই আসে না। অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত বা অজ্ঞাত রয়ে গেছে। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে হিন্দুরা নীরবে নির্যাতন ভোগ করে। দুর্গাপূজা থেকে রাম নবমী এবং হনুমান জয়ন্তী পর্যন্ত ভক্ত এবং ধর্মীয় শোভাযাত্রার উপর পাথর ছোঁড়া (Communal Incidents) এবং হামলার বিবরণ ব্যাপক ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৌশল বদলে বদলে আক্রমণ হয়েছে হিন্দুদের উপর
কৌশল পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু হিন্দুদের এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য বছরের পর বছর ধরে একই রকম থেকে গিয়েছে। কট্টর মৌলবাদীরা হিন্দু মন্দিরগুলিকে অস্তিত্বহীন বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আক্রমণ লুণ্ঠন করা হয়েছে। আগ্রাসন এবং রক্তপিপাসুতার কারণেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুরা বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশও তাদেরকেই অনুসরণ করছে। মুসলিম উগ্রপন্থীরা (Communal Incidents) ভারতকে লক্ষ করে একাধিক ষড়যন্ত্র করে করছে। মুসলিম মৌলবাদীদের মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ না করা এই সমস্যা আরও বাড়বে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিগুলিকে সরিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকে বড় করে ভাবলেই হিন্দু সমাজ সুরক্ষিত থাকবে।

Leave a Reply