Author: ishika-banerjee

  • Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরের (New Year) আনন্দ মুহূর্তেই শোকের ছায়া পড়েছে সুইৎজারল্যান্ডের (Switzerland Fire) বিলাসবহুল স্কি রিসর্ট শহর ক্রঁ-মন্তানায়। বর্ষবরণের রাতে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। আহত হয়েছেন শতাধিক। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। জানা গিয়েছে, সুইস পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ষবরণের সময় ওই পানশালায় পার্টি চলছিল। ঠিক সেসময় আচমকাই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ষবরণের রাতে অগ্নিকাণ্ড

    সুইস পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ ক্রঁ-মন্তানার (Crans-Montana) ‘ল্য কঁস্তেলাশিওঁ’ (Le Constellation) নামে একটি বারে আগুন লাগে। সেই সময় নববর্ষ (Happy New Year) উপলক্ষে বারটির ভিতরে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের মুখপাত্র গায়েতাঁ লাথিয়ঁ জানান, “ভবনের ভিতরে বহু মানুষ ছিলেন। অনেকেই আহত, বহু মৃত্যুর খবর মিলছে। আগুন (Fire Incident) লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একটি রিসেপশন সেন্টার এবং হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

    ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র

    সুইস আল্পসের কোলে অবস্থিত ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি পর্যটনকেন্দ্র। স্কি, স্নোবোর্ডিং ও গলফের জন্য সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। রাজধানী বার্ন থেকে এই শহরের দূরত্ব প্রায় দু’ঘণ্টার পথ। ম্যাটারহর্নের উত্তর দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই শহর। প্রায় ৮৭ মাইল দীর্ঘ স্কি ও হাইকিং ট্রেল, নয়টি হ্রদ, আলপাইন অরণ্য ও তৃণভূমি— সব মিলিয়ে ক্রঁ-মন্তানা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ। শীতে বরফঢাকা ঢালে স্কি, টোবগানিং, ক্রস-কান্ট্রি স্কির সুযোগ রয়েছে। রয়েছে বড়সড় স্নো পার্ক ও শহরের কেন্দ্রস্থলে সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ আইস রিঙ্ক। নিউইয়ার্স ইভের (New Year’s Eve) রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Blast) ঘটে দেশের জনপ্রিয় এই শহরে।

    কীভাবে লাগল আগুন

    স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের জেরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ‘লে কঁস্টেলাসিওঁ বার অ্যান্ড লাউঞ্জ’-এ। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (Viral Videos) দেখা যাচ্ছে, বারের ভিতর থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুইস সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, কনসার্ট চলাকালীন আতশবাজির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে পুলিশ সেই সম্ভাবনা নিশ্চিত করেনি। এর পিছনে নাশকতা বা কোনও সন্ত্রাস রয়েছে কি না তা-ও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • Kalpataru Utsav: সকাল থেকে ভক্তদের ঢল, কল্পতরু উৎসবে মিশল কাশীপুর-দক্ষিণেশ্বর-কামারপুকুর-বেলুড় মঠ

    Kalpataru Utsav: সকাল থেকে ভক্তদের ঢল, কল্পতরু উৎসবে মিশল কাশীপুর-দক্ষিণেশ্বর-কামারপুকুর-বেলুড় মঠ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন। প্রতি বছরের নিয়মে এই বছরও মহা সমারহের সঙ্গে পালিত হচ্ছে কল্পতরু উৎসব (Kalpataru Utsav)। আজকের দিনেই শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কল্পতরু হয়েছিলেন। কাশীপুর উদ্যান বাটীতে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুর কল্পতরু হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু ঠাকুরের অন্যতম কর্মভূমি লীলাভূমি হল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে। এই মন্দিরেই তিনি থাকতেন। প্রচলিত প্রথা মেনে কল্পতরু তিথিকে কেন্দ্র করে আজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে জনস্রোত উপচে পড়েছে কাশীপুর উদ্যানবাটি, দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির, কামারপুকুর ও বেলুড় মঠ প্রাঙ্গণে।

    কাশীপুর উদ্যানবাটীতে কল্পতরু

    সূর্য ওঠার আগেই রাস্তায় লম্বা লাইন। কারও হাতে প্রসাদ, কারও হাতে শীতের কম্বল, আর সকলের মুখে এক প্রার্থনা— “ঠাকুরের আশীর্বাদে মঙ্গলময় হোক নতুন বছর।” কাশীপুর উদ্যানবাটীই আজকের কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই স্মরণ করা হয় সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের উদ্দেশে অনুগ্রহ বর্ষণ করে মানবকল্যাণের চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছিলেন। সকালে বিশেষ পুজো, পাঠ ও কীর্তন দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানপর্ব। কাশীপুর উদ্যানবাটীর সাংগঠনিক অনুষ্ঠান আজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভক্তিগীতি, প্রবচন, পাঠসভা—সব মিলিয়ে আবেগে পরিপূর্ণ পরিবেশ।

    দক্ষিণেশ্বরে মানুষের ঢল

    আজ ভোর সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। এরপর মঙ্গল আরতির মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় কল্পতরু উৎসবের। আজকের এই বিশেষ দিন মা ভবতারিনীকে সাজানো হয় নতুন বেশে। মায়ের সেই রূপ দেখতে এবং সর্বোপরি প্রার্থনা জানাতে ভোর থেকেই পুজোর ডালি হাতে লম্বা লাইন দিয়েছেন ভক্তরা। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়ছে মন্দির চত্বর। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর পাশাপাশি সিসিটিভি ক‍্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারের বন্দোবস্তও করা হয়েছে। যাতে তীক্ষ্ণ নজরদারির আওতায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।

    ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে উৎসব

    মঙ্গলারতি ও বিশেষ পুজোর মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কল্পতরু উৎসব উদযাপন চলছে ঠাকুরের জন্মস্থান কামারপুকুরে ৷ চলছে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের জীবন ও বাণীকে স্মরণ করে পাঠ, ভজন ও ধর্মসভা। কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে মঠ সেজেছে ফুল, আলো ও আলপনায়। কামারপুকুর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী লোকত্তরানন্দজী মহারাজ বলেন, বেলুড় মঠ ও কাশীপুরের মতো কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠে ও এই কল্পতরু উৎসব পালন করা হয়। ঠাকুরের বাণী ‘যত মত তত পথ’ এর আদর্শে বিশ্বাসী হয়েই এই দিনটাকে পালন করা হয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে যেই তাঁর শরণাপন্ন হবে সকলেই মুক্তি লাভ করবে। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ এই দিনে ভিড় জমান কামারপুকুরে। রীতি মেনে সকাল থেকেই মঙ্গল আরতি হোম যজ্ঞ এবং পূজা পাঠ সবকিছুই চলছে।

    কল্পতরুর কথা

    কথিত আছে, ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ আজকের দিনেই কাশীপুর উদ্যানবাটিতে কল্পতরু হয়েছিলেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। সেদিনই ভক্তদের আশীর্বাদ করে রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। এরপর থেকেই প্রতিবছর জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে পালিত হয়ে আসছে কল্পতরু উৎসব।

  • India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবনির্মিত ও আধুনিকীকৃত হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ। এ বিষয়ে ভারত সরকার এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI)-কে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর হানিমাধু বিমানবন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মলদ্বীপ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব দেয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রাম মোহন নাইডু।

    হানিমাধু বিমানবন্দর-এর জন্য সহায়তা

    অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “হানিমাধু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা সম্ভব কি না, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব এএআই-কে দেওয়া হয়েছে।” বর্তমানে এএআই দেশের মধ্যে ১১৩টি বিমানবন্দরের মালিক এবং ২৬টি রাজ্যে বিমানবন্দর পরিচালনা করে। অন্যদিকে, জিএমআর, জিভিকে ও আদানি গোষ্ঠীর মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি চুক্তির ভিত্তিতে এএআই-এর মালিকানাধীন ১৩টি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। হানিমাধু বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এক্সিম ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে মলদ্বীপকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ দিয়েছে ভারত। ১৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্ব পায় ভারতীয় সংস্থা জেএমসি প্রোজেক্টস।

    হানিমাধু বিমানবন্দর সমস্যা

    এই প্রকল্পের আওতায় হানিমাধু বিমানবন্দরে ২,৪৬৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে এয়ারবাস এ৩২০ শ্রেণির বিমান ওঠানামা করতে পারবে। পাশাপাশি বছরে ১৩ লক্ষ যাত্রী পরিষেবার সক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। মলদ্বীপ কর্তৃপক্ষের আশা, এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। তবে এই নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে এক দশকেরও বেশি পুরনো জিএমআর বিতর্কের স্মৃতি। ২০১২ সালে হঠাৎ করেই মলদ্বীপ সরকার মালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য জিএমআর-এর সঙ্গে করা ৫১১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করে এবং সংস্থাটিকে সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতের রায়ে জিএমআর ২৭০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পায়। সেই ঘটনা এখনও পর্যন্ত মলদ্বীপে ভারতীয় কর্পোরেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    Indian Men’s Cricket Team: নতুন বছরে ঠাসা সূচি, জেনে নিন ২০২৬ সালে কোথায় কাদের বিরুদ্ধে খেলবে টিম ইন্ডিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেট মরশুম শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জানুয়ারি। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। নতুন বছরে টিম ইন্ডিয়া ঘরোয়া সিরিজ, বিদেশ সফর এবং আইসিসির বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মাদের কাছে।

    জানুয়ারি থেকে জুনের লড়াই

    ২০২৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে ভারত। ১১, ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি খেলা তিনটি হবে বরোদা, রাজকোট ও ইন্দোরে। এরপর রয়েছে কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। ২১, ২৩, ২৫, ২৮ ও ৩১ জানুয়ারি খেলাগুলি হবে নাগপুর, রায়পুর, গুয়াহাটি, বিশাখাপত্তনম ও তিরুঅনন্তপুরমে। এরপর রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হবে টুর্নামেন্ট। খেলা শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল ৮ মার্চ। এরপর মার্চের শেষে শুরু হয়ে যাবে আইপিএল। চলবে মে মাস অবধি। আইপিএলের পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে টিম ইন্ডিয়া। জুনে আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে একটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে। দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    জুলাই-আগস্টে ইংল্যান্ড সফর

    জুলাইয়ে ভারত যাবে ইংল্যান্ড সফরে। খেলবে পাঁচটি টি–টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে। ১, ৪, ৭, ৯, ১১ জুলাই টি–টোয়েন্টি ম্যাচগুলি হবে চেস্টার লি স্ট্রিট, ম্যাঞ্চেস্টার, নটিংহ্যাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটনে। আর ১৪, ১৬ ও ১৯ জুলাই একদিনের ম্যাচগুলি হবে বার্মিংহাম, কার্ডিফ ও লর্ডসে। আগস্টে ভারত যাবে শ্রীলঙ্কা সফরে। খেলবে দুই টেস্টের সিরিজ। এই সিরিজের দিনও এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২২ গজের লড়াই

    সেপ্টেম্বরে ভারত যাবে বাংলাদেশ সফরে। খেলবে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ। এরপর ১৯ অক্টোবর থেকে ৪ অক্টোবর চলবে এশিয়ান গেমসে। জাপানে এই টুর্নামেন্টে আবার ক্রিকেট ফিরছে। এরপর আবার আফগানিস্তান আসবে ভারতে। খেলবে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ। এরপর দেশের মাটিতে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ওয়ানডে ও পাঁচ টি–টোয়েন্টির সিরিজ। অক্টোবর–নভেম্বরে ভারত যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। খেলবে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি–টোয়েন্টি। এই সিরিজের দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা আসবে ভারত সফরে। রয়েছে তিনটি ওয়ানডে ও সমসংখ্যক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ।

    টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দখলে রাখার লড়াই

    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই দেশের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তাই বিশ্বকাপ রক্ষার দায়িত্ব এবার সূর্যদের। দলও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারত। কিউয়িদের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে নিজেদের একবার যাচাই করে নেবেন সূর্যরা।

     

  • Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    Weather Update: ১৮ বছরে শীতলতম বর্ষবরণ শহর কলকাতার! ভিড় চিড়িয়াখানা থেকে ইকো পার্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরেও জাঁকিয়ে শীত (Weather Update)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৬ ডিগ্রি কম। গত ১৮ বছরে ১ জানুয়ারিতে কখনও এতটা পারদ পতন হয়নি কলকাতায়। ২০০৮ সালে বছরের প্রথম দিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৪। তার পর ২০২৬-এমন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। গত বছরের শেষ দিনে শহর কলকাতার তারপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। জাঁকিয়ে শীতকে সঙ্গে নিয়ে এবার ভরা পৌষে চলছে কল্পতরু উৎসবও। বছরের প্রথম দিনে উৎসবের মেজাজে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানা, ইকো পার্ক, ভিক্টোরিয়ায়। কল্পতরু উপলক্ষে ভিড় দক্ষিণেশ্বর, জয়রামবাটী-কামারপুকুরে।

    ফের পারদ পতনের সম্ভাবনা

    বুধবার মরসুমের শীতলতম দিন কাটিয়ে ফেলেছে কলকাতা। বুধবার ভোরে কলকাতার (Winter in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার ভোরে তা সামান্য বেড়ে ১১.৬ ডিগ্রি হয়েছে। আজ শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘুরপাক খেতে পারে। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল, যা স্বাভাবিকের থেকে ৫.৩ ডিগ্রি কম ছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমবে। তার পরের চার দিন তাপমাত্রায় হেরফের হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ, আগামী সাত দিন শীতের কনকনানি থেকে খানিক রেহাই মিলতে পারে। তার পর ফের পারদ পতনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন হবে না। তবে এর পরের চার দিন ধীরে ধীরে কমতে পারে শীত।

    জেলায় জেলায় কুয়াশার দাপট

    নদিয়া, সিউড়ি, শ্রীনিকেতন, আসানসোলের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৯ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রা। কোথাও তা ১২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। উপকূলের জেলাতে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণবঙ্গে আগামী ৩ দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একটু বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী চার-পাঁচ দিনই কুয়াশা থাকবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমানে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে দৃশ্যমানতা ৯৯৯ মিটার থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও সকালের দিকে কুয়াশার দাপট থাকবে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিঙের পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতও হতে পারে। থাকবে কুয়াশাও।

  • PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    PM Modi: সমৃদ্ধ ভারত গঠনের আহ্বান, দেশবাসীর সুস্থ জীবন প্রার্থনা করলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাগত ২০২৬! নতুন বছরে পা রাখল বিশ্ব। পৃথিবীর নানা প্রান্তে যখন নতুন বর্ষবরণের আনন্দ, সেই সময়ে দেশের মানুষকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Wishing New Year) ও রাষ্ট্রপতি (President of India) দ্রৌপদী মুর্মু। দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার বার্তা দিলেন। দেশবাসীর উন্নতিতে প্রার্থনা করলেন। আহ্বান জানালেন সমৃদ্ধ ভারত গঠনের।

    প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির বার্তা

    নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu) ভারতে এবং ভারতের বাইরে বসবাসকারী সকল ভারতীয়কে (Indian) শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, “নতুন বছর শক্তির পুণর্নবীকরণ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি আত্ম দর্শনের এবং নতুন সংকল্পেরও সুযোগ এনে দেয়। এই অবসরে জাতির উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির রক্ষায় আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করি।” নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর জন্য প্রার্থনা করেন, যেন আগামী বছর প্রত্যেকের সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সকল প্রচেষ্টায় সফলতা ও সকল কার্যপূরণ হয়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের শান্তি এবং সুখ প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করি। আশা রাখি ২০২৬ আমাদের জীবনে শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক এবং আমাদের মধ্যে নতুন শক্তি সঞ্চারিত করুক যাতে আমরা আরও শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তুলতে পারি। “

    বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণ

    নববর্ষের আগের রাত শুরু হতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ আতশবাজি, পারিবারিক জমায়েত এবং নতুন বছরের সংকল্পের মাধ্যমে আগামী বছরকে স্বাগত জানানো শুরু করেছিলেন সকলে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সবাই উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন। এই বিশ্বব্যাপী উদযাপনের সূচনা করে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতি, যা ক্রিসমাস আইল্যান্ড নামেও পরিচিত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। মধ্যরাত যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ভারতের নানা শহরও। বড় শহর থেকে শুরু করে ছোট শহর—সর্বত্রই পার্টি, আলোর সাজ, আতশবাজি এবং পারিবারিক ও বন্ধুমহলের জমায়েতে উচ্ছ্বাসের আবহ। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব ও খোলা প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অনেকেই আবার বাড়িতেই প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা করছেন। মন্দিরে প্রার্থনা, বাড়িতে বিশেষ রান্না এবং শুভেচ্ছা বার্তা আদানপ্রদানের মধ্য দিয়ে অনেক পরিবার নতুন বছরের সূচনা করতে চান।

  • India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    India’s Pralay Missile: রেঞ্জে বাংলাদেশ, পাকিস্তান! একই লঞ্চার থেকে পর পর দু’বার ছোড়া হল প্রলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা বিশ্ব যখন বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতিতে মগ্ন, তখনই দেশের সুরক্ষায় কঠোর ভারত। বছরের শেষ দিনে শত্রুদের নিজের শক্তির কথা জানিয়ে সতর্ক করল ভারত। তবে কোনও হামলা নয়, নিজের আত্মরক্ষার প্রস্তুতিতে মগ্ন দিল্লি। ওড়িশার চাঁদিপুরে গর্জে উঠল ভারত। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও পরপর একই লঞ্চার থেকে দু’টি ‘প্রলয়’ মিসাইল (India’s Pralay Missile) উৎক্ষেপণ করল। এই প্রথম ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই সফল ভারত। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ‘ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ’ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। বুধবারের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ডিআরডিও, ভারতীয় সেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।

    পিনাকারের পরে প্রলয়

    পিনাকার পরে প্রলয়- এক সপ্তাহের মধ্যেই পরপর দুটি মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য পেল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ ওড়িশা উপকূল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি প্রলয় মিসাইলের উৎক্ষেপণ করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে। আর চাঁদিপুরে থাকা ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের ট্র্যাকিং সেনসর এবং জাহাজ থেকে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দুটি মিসাইলই নির্দিষ্ট পথ ধরেই এগিয়ে গিয়েছে। পূরণ করেছে যাবতীয় মাপকাঠি।

    প্রলয় মিসাইলের রেঞ্জ

    প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। ‘ভূমি থেকে ভূমি’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলি উড়ন্ত অবস্থায় অভিমুখ বদলাতেও পারে। ২০২২ সালে ভারতীয় সেনার অস্ত্রাগারে প্রথম শামিল হয়েছিল প্রলয়। তার পর থেকে সেটি উন্নত করার কাজ করছে ডিআরডিও। ৩৫০ থেকে ৭০০ এবং ৫০০ থেকে হাজার কেজির উচ্চ শক্তির বিস্ফোরক ব্যবহার করে প্রলয়। শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে প্রলয়। ভারতীয় সেনার পাশাপাশি বায়ুসেনাও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

    সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি প্রলয়

    সম্পূর্ণ দেশীয় সরঞ্জাম এবং পদ্ধতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনা ফৌজের আগ্রাসন এবং গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পরে এলএসি-তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২০২২ সালে পূর্ব লাদাখে মোতায়েন করা হয়েছে প্রলয়।

    প্রলয় কেন আলাদা

    প্রলয় কেবল কোনও সাধারণ মিসাইল নয়, এটি একটি আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এটি নির্দিষ্ট পথে চলে না। ওড়ার সময় এটি নিজের গতিপথ বদলে ফেলতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স একে ট্র্যাক করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলবে। ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইলটি মোবাইল লঞ্চার থেকে যে কোনও সময় ছোড়া সম্ভব।

    রণক্ষেত্রের গেম-চেঞ্জার

    প্রলয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এর ওয়ারহেডে। পিএফ ওয়ারহেড: একটি ৭০০ কেজির ওয়ারহেডে থাকে ৮৩ হাজার ৫০০টি টাংস্টেনের টুকরো। বিস্ফোরণের পর ১০০ মিটার এলাকা কার্যত গুঁড়িয়ে দেয় এই মিসাইল। রানওয়ে ধ্বংস: এর আরডিপিএস প্রযুক্তি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে শত্রু বিমানঘাঁটির রানওয়েতে বড় বড় গর্ত তৈরি করে দিতে পারে। ফলে যুদ্ধবিমান সেখানে থাকলেও তা ওড়ার সুযোগই পাবে না।

    সতর্ক পাকিস্তান-বাংলাদেশ

    প্রলয় মিসাইলের সেই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিনদুয়েক আগেই ওড়িশার উপকূল থেকে পিনাকা দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়। এই মিসাইলের এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ছিল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মিসাইল। এই পিনাকা গাইডেড রকেটটির সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত ভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অর্থাৎ ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্ত থেকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের মতো শহর অনায়াসে সেই মিসাইলের রেঞ্জে চলে আসতে পারে। এছাড়াও বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহির মতো যে কোনও বড় শহরই এই মিসাইলের রেঞ্জে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর প্রলয়ের রেঞ্জেও বাংলাদেশ থাকবে। যেমন কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৩৫০ কিমি। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভারতের এমন অনেক মিসাইল আছে, যেগুলির রেঞ্জে আছে বাংলাদেশ। ব্রহ্মোস মিসাইলের তো রেঞ্জে আছে পাকিস্তানও। গত অক্টোবরেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তো বলেছিলেন, ‘দেশ আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের প্রতিপক্ষরা আর কোনওভাবেই ব্রহ্মোসের গ্রাস থেকে পালাতে পারবে না। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি এখন আমাদের ব্রহ্মোসের নাগালের মধ্যে আছে।’ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জোড়া উৎক্ষেপণ নিছক পরীক্ষা নয়। পূর্ব এবং পশ্চিম—দুই সীমান্তের প্রতিবেশীদের জন্যই এটি কড়া বার্তা। ভারতের কৌশলগত লক্ষ্য এখন পরিষ্কার, যুদ্ধের শুরুতেই শত্রুর তেল ভাণ্ডার এবং সেনা ছাউনি ধ্বংস করে তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া।

  • US Corn Imports: শুকরের বিষ্ঠার সার দেওয়া ভুট্টা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা! সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    US Corn Imports: শুকরের বিষ্ঠার সার দেওয়া ভুট্টা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে আমেরিকা! সমাজমাধ্যমে ট্রোলের বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সম্প্রতি একটি টুইটে জানায় যে আমেরিকা থেকে ভুট্টা (US Corn Imports) এই মাসেই বাংলাদেশে আসছে। ভুট্টার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যশিল্পে ব্যবহারের কথা তুলে ধরে দেওয়া ওই পোস্টটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কারণ হিসেবে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা চাষে শূকরের সার ব্যবহারের বিষয়টি—যা মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বলে বিবেচিত। দূতাবাসের টুইটে বলা হয়, “মার্কিন ভুট্টা এই মাসে বাংলাদেশে আসছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্য কর্নব্রেড ও ব্রেকফাস্ট-সহ নানা খাদ্যে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি এটি পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।” তবে পোস্টটির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শূকর সার ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

    বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্যে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেন। কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন তোলেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। একাধিক পোস্টে মার্কিন নীতির সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ‘চাপের মুখে’ আমদানিতে বাধ্য করা হয়েছে—এমন দাবিও করা হয়। এ নিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে আমদানিকৃত মিট অ্যান্ড বোন মিল (এমবিএম) পাউডারে শূকরজাত উপাদান শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় দেশটি ওই পণ্যের আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। ফলে খাদ্য ও পশুখাদ্যে ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে সতর্কতা নতুন নয়।

    কেন মার্কিন ভুট্টা?

    ভুট্টা চাষে ব্যাপক সার প্রয়োজন হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতের মতো বাজারে রফতানি বাড়াতে আগ্রহী। কিছু প্রতিবেদনে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ভুট্টা মজুতের চাপের কথাও উঠে এসেছে। ভারত বড় পরিসরে মার্কিন ভুট্টা আমদানিতে এখনও অনাগ্রহী থাকলেও বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পেছনে রয়েছে দু’দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করলেও পরে তা কমানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মার্কিন গম কেনার অনুমোদনও দিয়েছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভুট্টা সংক্রান্ত পোস্টটি বাণিজ্যিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইলেও, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার কারণে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    Amit Shah: ‘‘ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে’’, আশ্বাস অমিত শাহর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এলে রাজ্যের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, উল্টে বাড়বে। রাজ্যে এসে স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government) এখন অনেকগুলি জনকল্যাণমূলক (WB Scheme) প্রকল্প চালায়। আর বাংলায় বিজেপি সরকার (BJP) এলেই নাকি সেই সব স্কিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূলের এই দাবি উড়িয়ে শাহ জানালেন, “এটা ভুল ধারণা। আমি এখানে বলতে চাই, ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরির পর একটাও স্কিম বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, আমাদের ঘোষণাপত্রে যা যা স্কিম থাকবে, সেটাও বাস্তব হবে। এটা আমাদের রেকর্ড (Lakshmir Bhander)।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাংলায়

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর অভিযোগ, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে তার বদলে চালু রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী— যা তাঁর মতে আরও দুর্বল একটি প্রকল্প। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে শাহ বলেন, “বাংলার মানুষ কি ভিনরাজ্যে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর (Swasthya Sathi) সুবিধা পাবেন?” শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দেশের অন্যান্য রাজ্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভারেজের সঙ্গে নিজেদের তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধাও যোগ করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই রকম কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অর্থনীতিবিদরা মেয়েদের হাতে সরকারের এই টাকা দেওয়াকে ‘অপচয়’ বলতে রাজি নন। শাহ জানান মেয়েদের, বিশেষত দরিদ্র, প্রান্তিক মেয়েদের হাতে নগদ টাকা থাকলে তা সংসার ও সন্তানের কাজেই লাগে। বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারও নগদ পাওয়ার এই প্রকল্পে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তিকে সক্ষমতার একটি সূচক বলেই দেখে।

    আজ শহরে শাহের সফর

    দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। চড়ছে রাজনীতির পারদ। আর নতুন বছর শুরুর আগেই রাজ্যে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনদিনের সফরে আজ, বুধবারই শেষ দিন। আজ একাধিক কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। বিজেপি সূত্রে খবর, হোটেলে দলীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এর পাশাপাশি দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সায়েন্স সিটিতে বৈঠক রয়েছে অমিত শাহের। কলকাতার সমস্ত বুথ কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন অমিত শাহ। ইতিমধ্যেই শাহ জানিয়েছেন, আগামী বছর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।

  • India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    India China: তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই, ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানো নিয়ে চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী সময়ে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত আগেই তা খারিজ করেছে। এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে চিনের (India China) মধ্যস্থতা করার দাবিকেও উড়িয়ে দিল ভারত। নয়াদিল্লি ফের জানিয়ে দিল, ভারত–পাকিস্তান সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সরাসরি দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেই গৃহীত হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

    বুধবার চিনের (India China) বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র দাবি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে ভারত জানাল, সংঘর্ষবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। দুই দেশের ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস’ (ডিজিএমও)-এর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পরই ১০ মে যুদ্ধ স্থগিত করা হয়। সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানানো হয়েছে, “আমরা এই ধরনের দাবি ইতিমধ্যেই খারিজ করেছি। ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। অতিতেও একাধিকবার আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও-দের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই এই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে।”

    চিনের দাবি ওড়াল ভারত

    সম্প্রতি বেজিংইয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির (India Pakistan Conflict) কৃতিত্ব দাবি করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনও এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাত দেখা যায়নি। যা এই বছর দেখা গিয়েছে। কঠিন এই সময়ে চিন নিরপেক্ষ ও ন্যায় সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে।” উদাহরণ তুলে ধরে একইসঙ্গে তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার সেই লক্ষে চিন উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামাতেও মধ্যস্থতা করেছে।” ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চিনের এহেন দাবি সামনে আসতেই বিতর্ক চরম আকার নেয়। এবার সে দাবি স্পষ্টভাষায় খারিজ করল ভারত।

    কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই এই প্রথম নয়

    এই প্রথম নয়—এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করেছিলেন যে তাঁর উদ্যোগেই ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থেমেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই রাজি করিয়েছেন। ভারত সরকার এই দাবি উড়িয়ে দেয় প্রথম থেকেই। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, সামরিক স্তরে ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়নি, হবেও না।

    চিনের দ্বিচারিতা

    বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চিনের সাম্প্রতিক এই দাবি তাদের দ্বিচারিতা তুলে ধরে। কারণ, সংঘাত চলাকালীন বেজিং প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ভারতের হামলায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১১টি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং সম্প্রতি জানান, এই সংঘাতকে চিন কার্যত একটি “লাইভ ল্যাব” হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তান ছিল সামনে, আর চিন সব রকম সহায়তা দিচ্ছিল। গত পাঁচ বছরে পাকিস্তানের ৮১ শতাংশ সামরিক সরঞ্জামই চিনের। নিজেদের অস্ত্র অন্য দেশের অস্ত্রের বিরুদ্ধে পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে তারা।”

    কেন এই দাবি চিনের 

    চিনের উপর নতুন বছরের শুরু থেকেই কিছু ইস্পাত পণ্যে ১১-১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপাচ্ছে নয়াদিল্লি। তিন বছরের মেয়াদে এই শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছে অর্থ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপে চিন থেকে সস্তায় ইস্পাত আমদানির বাণিজ্যে লাগাম পরানো যাবে বলে অনুমান। সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম বছরে ১২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ১১.৫ শতাংশ ও তৃতীয় ও শেষ বছরে ১১ শতাংশ হারে শুল্ক বসাতে চলেছে ভারত। দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে চায় এনডিএ সরকার। কারণ, সস্তায় চিনা ইস্পাতের কারণে দেশের বড় বড় প্রস্তুতকারী সংস্থা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই আবহে ভারতকে কিছুটা চাপে রাখতে হঠাতই পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যস্থতার দাবি করল বেজিং। খানিকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতোই অযৌক্তিক দাবি করলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই।

    সংঘাতের পটভূমি

    উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গিঘাঁটিগুলি। এরপর সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ। চারদিন টানা উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে। ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষ চলাকালীন একাধিক দেশ উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছিল। সৌদি আরব, আমেরিকা, রাশিয়া, চিন দুই দেশের সঙ্গেই কথা বলে এবং সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানায়। তবে নয়াদিল্লির বক্তব্য, চূড়ান্ত স্তরে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই।

LinkedIn
Share