Author: ishika-banerjee

  • Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    Kisan Diwas: ডিজিটাল পেমেন্ট, ফসল বিমা ও পেনশন—ভারতীয় কৃষকদের জন্য নতুন যুগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ২৩ ডিসেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় কিষাণ দিবস বা জাতীয় কৃষক দিবস। এই দিনটি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত, যিনি আজীবন কৃষকস্বার্থের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিষাণ দিবস উপলক্ষে দেশ শ্রদ্ধা জানায় সেই কৃষকদের—যাঁরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র। ২০১৪ সালের পর থেকে কৃষক কল্যাণ ও কৃষি উন্নয়ন নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কেন্দ্রে রয়েছে। আর্থিক সহায়তা, ঝুঁকি সুরক্ষা, সহজ ঋণপ্রাপ্তি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষিকাজকে আরও লাভজনক, নিরাপদ ও টেকসই করার চেষ্টা চলছে।

    সরাসরি আয় সহায়তা: পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি

    কৃষকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পান, যা তিনটি কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এই অর্থ কৃষিজ উপকরণ কেনা থেকে শুরু করে পারিবারিক প্রয়োজনে কাজে আসে, ফলে উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন ১১ কোটিরও বেশি কৃষক এবং মোট বিতরণ করা হয়েছে ৩.২৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পিএম-কিষাণের ২১তম কিস্তি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে শুধু হরিয়ানাতেই ৩১৬ কোটি টাকা পৌঁছেছে ১৫.৮ লক্ষের বেশি কৃষকের কাছে।

    কৃষি সুরক্ষা: প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)। এই প্রকল্পে খরিফ ফসলের জন্য কৃষকদের মাত্র ২ শতাংশ এবং রবি ফসলের জন্য ১.৫ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হয়, বাকি অংশ বহন করে সরকার। ২০২৫ সালে উত্তরাখণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার কৃষক এই বিমা প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। শুধু উত্তরাখণ্ডেই ২৮,০০০-এর বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৬২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

    আত্মনির্ভরতার পথে নতুন উদ্যোগ

    ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদি কৃষকদের আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দুটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেন—পিএম ধান-ধান্য কৃষি যোজনা এবং ডাল স্বনির্ভরতা মিশন। প্রায় ৩৫,৪৪০ কোটি টাকার এই সম্মিলিত প্রকল্প ১০০টি জেলায় সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। উদ্দেশ্য একটাই—কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি স্বাস্থ্যের উন্নতি।

    সহজ ঋণ: কিষাণ ক্রেডিট কার্ড

    বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের জন্য মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্প কৃষকদের সহজ ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে কার্যকর কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ৭.৭৫ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি সুদের ভর্তুকি কৃষকদের বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাচ্ছে। আজীবন কৃষিকাজের পর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে পিএম কিষাণ মানধন যোজনা। এটি একটি স্বেচ্ছামূলক পেনশন প্রকল্প, যার মাধ্যমে ৬০ বছর বয়সের পর কৃষকরা মাসিক পেনশন পান।

    প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির পথে

    আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকার কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ফসল ফলন পূর্বাভাস প্রযুক্তি (YES-TECH) এবং উন্নত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কৃষকদের সময়োপযোগী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কিষাণ দিবসে মোদি সরকারের কৃষিনীতি এক নতুন ভারতের ছবি তুলে ধরছে—যেখানে ডিজিটাল লেনদেন কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেয়, বিমা প্রকল্প প্রাকৃতিক ঝুঁকি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উর্বর মাঠ থেকে শুরু করে উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি কৃষিজমি—সর্বত্রই সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। মোদি সরকারের সহায়তায় অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও আত্মনির্ভর কৃষিই শক্তিশালী ভারতের ভিত্তি।

  • VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে জননীতি ও কল্যাণমূলক প্রকল্প মানেই সংক্ষিপ্ত নাম বা অ্যাক্রোনিম। পোষাণ (POSHAN), পিএম-আশা (PM-AASHA)-র মতো প্রকল্পগুলির নামেই সরকারের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতাতেই সংসদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বাতিল করে পাশ হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G-RAM-G) আইন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকের রাজনীতির চোখে দেখলেও, বাস্তবে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান নীতিতে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। নতুন আইন কেবল নাম বদল নয়, বরং কাজের সুযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

    নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা। এটি সরাসরি গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের একক ১০০ শতাংশ অর্থায়নের বদলে রাজ্যগুলিকেও অর্থনৈতিক দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ)। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতা ও নজরদারি দু’টিই বাড়বে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল— বপন ও ফসল কাটার সময়ে ৬০ দিনের কাজ-বিরতি। প্রথম দর্শনে এটি সীমাবদ্ধতা মনে হলেও, বাস্তবে এর লক্ষ্য গ্রামীণ শ্রমকে কৃষি চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এতে শ্রমিকরা কৃষিকাজে বেশি মজুরি আদায়ের সুযোগ পাবে এবং সরকারি প্রকল্পের কাজও কৃষির পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পিত হবে। চতুর্থত, ‘ভিবিজিরামজি’( VB-G-RAM-G) চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজকে কেন্দ্রীভূত করেছে— জল, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা। মনরেগা-র অধীনে কাজের পরিধি বিস্তৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছিল। নতুন কাঠামোতে থিমভিত্তিক কাজের ফলে গ্রামীণ এলাকায় টেকসই সম্পদ, জল সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা

    তৃণমূলভিত্তিক বিচ্ছিন্ন কাঠামোর বদলে এই প্রকল্পকে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা। এর ফলে কাজের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নজরদারি হবে কেন্দ্রীয় ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে, তেমনই প্রকল্পের আউটপুট ও ফলাফল পরিমাপযোগ্য হয়। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন, মনরেগা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প ছিল। এটি ৭৪১টি জেলা, ২.৬৯ লক্ষ পঞ্চায়েত এবং ১২.১ কোটি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। সংসদের স্থায়ী কমিটি বারবার জানিয়েছে, শ্রমিকদের গড় মজুরি অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরির নিচে ছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল— বিপুল বকেয়া মজুরি। ২০২৫ সালের অগস্টে দেখা যায়, ১২,২১৯.১৮ কোটি টাকা অবৈতনিক মজুরি পড়ে রয়েছে, যা ওই বছরের বরাদ্দের প্রায় ১৪ শতাংশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প

    গত পাঁচ বছরে প্রকৃত কাজের দিন গড়ে ৪৮–৫২ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ২০২৪-২৫ সালে কাজ পাওয়া ৫.৭৮ কোটি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ পরিবার ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ, আইনে অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ পূর্ণমাত্রায় পৌঁছয়নি। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সরকার নতুন আইনে কাজের সুযোগের পাশাপাশি জবাবদিহি ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্যগুলির আর্থিক অংশগ্রহণ, থিমভিত্তিক কাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়— এই সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে পারে। বর্তমানে ভারত চালাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, ৮১ কোটি মানুষকে নিয়ে বিনামূল্যের খাদ্য প্রকল্প (ব্যয় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকা), স্বাস্থ্য বিমা, কৃষক আয় সহায়তা ও গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প। মোট ব্যয় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। এত বিপুল ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

     

     

  • Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: হিন্দু হত্যা, মিডিয়া অফিসে আগুন, বাংলাদেশের অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কট্টরপন্থী ভারতবিরোধী যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া অরাজকতা নিয়ে মুখ খুললেন শেখ হাসিনা। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, যে আইনহীন পরিস্থিতি আমার সরকারকে উৎখাত করেছিল, তা ইউনুসের অধীনে আরও বেড়েছে। সহিংসতা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর অন্তর্বর্তী সরকার হয় তা অস্বীকার করছে, নয়তো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এর ফলে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

    উনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন

    শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ইউনুসের শাসনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উগ্র ইসলামপন্থা ও চরমপন্থী শক্তির কবলে পড়ছে। তাঁর দাবি, “ইউনুস মন্ত্রিসভায় চরমপন্থীদের স্থান দিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্য জীবনে ভূমিকা নিতে দিয়েছেন। আমার আশঙ্কা, চরমপন্থীরা তাঁকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য মুখ দেখাচ্ছে, আর আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধীরে ধীরে উগ্রপন্থী করে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত এই বিশৃঙ্খলা, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন এবং আমরা একসঙ্গে যা গড়ে তুলেছিলাম তার ক্ষয় লক্ষ্য করছে। যখন একটি দেশ নিজের সীমানার ভেতর ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে না, তখন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।” হাসিনার কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী সব দেশের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ছিল আমাদের অন্যতম শক্তি, যা কয়েকজন উগ্রবাদীর খেয়ালে বিসর্জন দেওয়া যায় না।”

    কেন বাংলাদেশে ভারত বিরোধী হাওয়া চলছে?

    ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির জন্য ফের একবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেই দায়ী করলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, “ইউনূস সরকার যে চরমপন্থীদের বাংলাদেশে বেড়ে উঠতে দিচ্ছেন, তাদের জন্যই এই দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরাই সেই চরমপন্থী যারা ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের অফিস জ্বালিয়েছে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেছে। এরাই আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে বাধ্য করেছে। ফলে ভারত নিজেদের প্রতিনিধিদের নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, দায়িত্ববান সরকার হলে কূটনৈতিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিত, তবে ইউনূস নৈরাজ্যবাদীদের আরও বেশি করে ছাড় দিচ্ছেন। এমনকী তাদের যোদ্ধা হিসেবে তকমা দিচ্ছেন।” প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূস প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বিবৃতি জারি করে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ওরা ব্যর্থ। বিদেশনীতি পরিচালনা করছে চরমপন্থীরা। এরপর যখন অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে তখন মাথাব্যথা হয়। দশকের পর দশক ভারত এবং বাংলাদেশে একে অপরের বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অনেক গভীর। ফলে কোনও অস্থায়ী সরকারের কারণে তা নষ্ট হতে পারে না। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশে স্থায়ী গণতান্তান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও দৃঢ় হবে। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

     

     

     

  • Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সূচনা করলেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক জনসভায় দলের পতাকা উন্মোচন করে তিনি জানান, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে। সভায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তিনি সর্বোচ্চ ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এবং নির্বাচনের পরে নিজেকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করাই তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য।

    ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন

    নতুন দল তৈরির দিনই বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজে বিধানসভা নির্বাচনে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বহিষ্কার করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। নতুন দলের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও তিনি খোলা রাখছেন। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীর নিজে রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

    কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী, ব্রিগেডের ডাক

    সোমবার দুপুর ১টায় নিজের রাজনৈতিক দলের নাম এবং রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ করা হয় দলের পতাকাও। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রথম প্রার্থীর নামও। হাজী ইবরার হোসেনকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকেই খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। মালদার বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী হচ্ছেন মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী করা হচ্ছে মনীষা পাণ্ডেকে। এরআগে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। অর্থাৎ শুধু মালদা-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রেও ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা দিলেন। সেইসঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, ৯০ আসন জিততে পারলে তাঁর দল রাজ্যে সরকার গঠনের কাণ্ডারি হবে ৷ পাশাপাশি এদিন মঞ্চ থেকে হুমায়ুন জানিয়ে দেন আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি।

  • Winter Vegetable: হট চকোলেট কিংবা পেস্ট্রি নয়, শীতের অবসাদ কমাতে মেনুতে থাকুক ব্লু বেরি, রাঙা আলু

    Winter Vegetable: হট চকোলেট কিংবা পেস্ট্রি নয়, শীতের অবসাদ কমাতে মেনুতে থাকুক ব্লু বেরি, রাঙা আলু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতে বাড়ে অবসাদ। শুধু ভাইরাস ঘটিত সর্দি-কাশি কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের মতো রোগ নয়।‌ শীতে মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়ে। শীতে মানসিক অবসাদ বাড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বেশ কিছু খাবার মানসিক অবসাদ কমাতে সাহায্য করে‌। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অবসাদের সঙ্গে শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের বিষয়টি ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থাকে। তাই কিছু খাবার শরীরে স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে দেয়। তাই মানসিক অবসাদ, চাপ, বিষন্নতা সহজেই দূর হয়। অনেকেই মানসিক অবসাদ কাটাতে হট চকলেট কিংবা পেস্ট্রির মতো খাবার পছন্দ করেন। কিন্তু হট চকলেট কিংবা কেক-পেস্ট্রি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না। বরং লাগাতার এই ধরনের খাবার খেলে ওজন বেড়ে যায়‌। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশ, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শীতের মরশুমে কিছু বিশেষ ফল এবং সব্জিতেই ভরসা রাখছেন।

    ব্লু বেরি অবসাদ কমাবে, মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখবে!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্লু বেরি শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ব্লু বেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। এর ফলে মানসিক চাপ কম তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কম বয়সীদের জন্য ব্লু বেরি বিশেষ উপকারি। তরুণ প্রজন্মের মানসিক অবসাদের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত উদ্বেগ। ব্লু বেরি উদ্বেগ এবং হতাশার মতো আবেগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। মেজাজ খিটখিটে হওয়া থেকেও আটকাতে সাহায্য করে। মানসিক অবসাদ কমানোর পাশপাশি ব্লু বেরি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ব্লু বেরিতে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েড। যা নিউরনের সংযোগ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে। একদিকে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, আরেকদিকে উদ্বেগ ও অবসাদ হ্রাসের ক্ষমতা রয়েছে। তাই ব্লু বেরি খেলে যেকোনও কাজে মনঃসংযোগ বাড়ে‌। আবার বয়স্কদের অনেকেই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের এই ফল বিশেষ উপকারি। কারণ ব্লু বেরি মনে রাখার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

    রাঙা আলু বাড়তি উপকার দেবে!

    মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য রাঙা আলু বিশেষ উপকারি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, রাঙা আলুতে ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও কার্বোহাইড্রেটের বিশেষ অংশ থাকে। এই সব উপাদান মস্তিষ্ক এবং হরমোনের উপরে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাঙা আলুতে ভিটামিন বি ৬ উপাদান সেরোটোনিন এবং ডোপামিন নামে দুই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। এই দুই হরমোন স্ট্রেস কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। ফলে মানসিক অবসাদ কমে। রাঙা আলু কোর্টিন হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা চাপ তৈরি হয় না। তাই শীতের মরশুমে রাঙা আলু খেলে মানসিক চাপ ও অবসাদ কমে। বরং মস্তিষ্কের স্নায়ু সুস্থ থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যের পাশপাশি শরীরের জন্যও রাঙা আলু বিশেষ উপকারি। এই সব্জি অন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। ক্লান্তি দূর করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    ব্রোকলি মন শান্ত করাবে, অবসাদ কমাবে!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের সব্জি ব্রোকলি নিয়মিত খেলে অবসাদ কমবে। মন শান্ত থাকবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ব্রোকলিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান মানসিক অস্থিরতা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। অনেকেই সামান্য কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। যেকোনও ব্যাপারেই অস্থির হয়ে ওঠেন। যা মানসিক অবসাদ তৈরি করে। নিয়মিত ব্রোকলি খেলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    কাবুলি ছোলা অবসাদ কমিয়ে মন ভালো রাখে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোলা শরীরের জন্য বিশেষ উপকারি। তবে কাবুলি ছোলা শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারি। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ছোলায় থাকা ট্রিপটোফ্যান মন ভালো রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। ফলে অবসাদ কমে।

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়,  প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির জয় জয়কার। রবিবারই প্রকাশিত হয়েছে এই নির্বাচনের ফল। সেখানে জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংহভাগ আসনই জিতেছে বিজেপি। আর এই নির্বাচনে কার্যত পাত্তা পায়নি কংগ্রেস। মোট আসনের ৯৭ শতাংশেরও বেশি জিতে রাজ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এই ফলাফল রাজ্যের উন্নয়নে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ওপর জনগণের আস্থারই প্রতিফলন বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচনী জয়কে সুশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজেপির জয়-জয়কার

    অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) নির্বাচন কমিশনের অফিস সূত্রে খবর, সেখানকার জেলা পরিষদের ২৪৫টি আসনের মধ্যে ১৭০টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে ৫৯টি আসনে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে, জেলা পরিষদের ২৮টি আসনে জিতেছে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল। সেখানে জেলা পরিষদের মাত্র ৭টি আসন এসেছে কংগ্রেসের দখলে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৫টি আসনে এবং নির্দল ও অন্যান্যরা জিতেছে ২৩টি আসনে। একই ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮২০৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬০৮৫টি আসনে। এর মধ্যে ৫২১১ আসনেই বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ২১৬টি আসনে। এর মধ্যে ১১১টি আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া জয় পেয়েছে কংগ্রেস।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজেপির এই সাফল্যে বলেন, “অরুণাচল প্রদেশের মানুষ সুশাসনের রাজনীতির প্রতি অটল সমর্থন দেখিয়েছেন। বিজেপির প্রতি যে ভালোবাসা তাঁরা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এতে রাজ্যের রূপান্তরের লক্ষ্যে আমাদের সংকল্প আরও দৃঢ় হলো। তৃণমূল স্তরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা বিজেপি কার্যকর্তাদেরও সাধুবাদ জানাই।” মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুও রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি দলের কর্মী ও নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব ও দিশানির্দেশে অরুণাচলকে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট

    আর এক দিকে, ইটানগর পুরসভার ২০টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে বিজেপি। পাসিঘাট পুরসভার নির্বাচনে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল জিতেছে ৫টি আসনে। সেখানে বিজেপি দু’টি আসনে এবং নির্দল জিতেছে একটি আসনে। এই দু’টি পুরসভাতে খাতাই খুলতে পারেনি কংগ্রেস। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায় উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট। দলের কথা, “জেলা পরিষদ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত—সব স্তরেই বার্তা পরিষ্কার: শান্তি, অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার পক্ষে অরুণাচল; নেতৃত্বে এনডিএ।”

  • India-New Zealand: ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত, ফোনে ক্রিস্টোফারকে স্বাগত জানালেন মোদি

    India-New Zealand: ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত, ফোনে ক্রিস্টোফারকে স্বাগত জানালেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দুই নেতা যৌথভাবে এই যুগান্তকারী ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ঘোষণা করেন। নেতারা একমত হন যে এই এফটিএ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং যৌথ সুযোগ বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করবে। নেতারা প্রতিরক্ষা, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতিকেও স্বাগত জানান।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় আলোচনা শুরু হয়েছিল। দুই দেশের নেতারা জানান, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং যৌথ সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে, বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার হবে এবং কৌশলগত সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় এই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। মাত্র ৯ মাসের রেকর্ড সময়ে আলোচনা সম্পন্ন হওয়াকে দুই দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সম্পর্ক গভীর করার অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই নেতা।

    এফটিএ-র শক্ত ভিত্তি

    এই চুক্তির ফলে দুই দেশের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, কৃষক, এমএসএমই, ছাত্র ও যুবসমাজ বিভিন্ন খাতে নতুন সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা, ক্রীড়া, শিক্ষা এবং জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্কসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন নেতারা। এফটিএ-র শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

    দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের প্রতীক

    ক্রিস্টোফার লাক্সন, এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, “আমি এইমাত্র ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। এই এফটিএ ভারতে আমাদের রফতানির ৯৫% ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেয় বা সরিয়ে দেয়। পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দুই দশকে ভারতে নিউজিল্যান্ডের রফতানি বছরে ১.১ বিলিয়ন থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাণিজ্য বাড়ানোর অর্থ হলো কিউইদের জন্য আরও চাকরি, বেশি বেতন এবং কঠোর পরিশ্রমী নিউজিল্যান্ডবাসীদের জন্য আরও সুযোগ। এই চুক্তি আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে একটি, এবং এটি কিউই ব্যবসাগুলোকে ১৪০ কোটি ভারতীয় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়। আমাদের সরকার মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক করতে এবং ভবিষ্যৎ গড়তে অক্লান্তভাবে কাজ করছে – এই ধরনের নতুন বাণিজ্য চুক্তি আমাদের অর্থনীতিকে বাড়াতে সাহায্য করে যাতে সমস্ত কিউই এগিয়ে যেতে পারে।”

    ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি

    এই চুক্তি পরিষেবা, গতিশীলতা, পণ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর করবে। চুক্তির অংশ হিসেবে, নিউজিল্যান্ড ১৫ বছরের মেয়াদে ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মূলত ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (EFTA) মডেলের আদলে তৈরি। এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি একটি পুনঃভারসাম্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সমর্থিত হবে, যার অধীনে সম্মত বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে বাণিজ্য ছাড় স্থগিত করা হতে পারে। চুক্তির একটি প্রধান আকর্ষণ হলো পরিষেবা এবং গতিশীলতা। নিউজিল্যান্ড ১১৮টি পরিষেবা খাত এবং উপ-খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, সাথে ১৩৯টি পরিষেবা খাতে মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) মর্যাদা দিয়েছে।

    নিউজিল্যান্ডকে ১০৬টি পরিষেবা খাতে সুযোগ

    স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধ পরিষেবাগুলিতে বাণিজ্য সহজ করার জন্য একটি অ্যানেক্সও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিউজিল্যান্ডের জন্য প্রথমবার কোনো দেশের সাথে এই ধরনের অ্যানেক্স স্বাক্ষর করার ঘটনা। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগের (MSMEs) উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। চুক্তিটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী রুলস অফ অরিজিন (ROO) কাঠামোও প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে পছন্দের বাজারে প্রবেশের অখণ্ডতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকি রোধ করার জন্য পণ্য-নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারত, তার পক্ষ থেকে, নিউজিল্যান্ডকে ১০৬টি পরিষেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে।

    ভারতীয় ছাত্রদের সুবিধা

    নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সাথে স্টুডেন্ট মোবিলিটি এবং পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার উপর একটি অ্যানেক্স স্বাক্ষর করেছে। এই ব্যবস্থায় কোনো সংখ্যাগত সীমা নেই এবং ভারতীয় ছাত্রদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) বিষয়ে স্নাতক স্নাতকদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত, স্নাতকোত্তর স্নাতকদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত এবং ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের জন্য চার বছর পর্যন্ত পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, একটি নতুন টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রি ভিসা পথ তৈরি করা হয়েছে, যা যেকোনো সময়ে ৫,০০০ পর্যন্ত দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীকে নিউজিল্যান্ডে তিন বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবে।

  • Foxconn in Bengaluru: প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা! ৩০ হাজার কর্মী নিয়োগ করল ফক্সকন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য

    Foxconn in Bengaluru: প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা! ৩০ হাজার কর্মী নিয়োগ করল ফক্সকন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইওয়ানের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ফক্সকন (Foxconn in Bengaluru) বেঙ্গালুরুর কাছে দেবনহল্লিতে তাদের নতুন আইফোন অ্যাসেম্বলি কারখানায় মাত্র আট–নয় মাসের মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ কর্মী নিয়োগ করেছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির কারখানা সম্প্রসারণের উদাহরণ। এই দ্রুত নিয়োগ অ্যাপলের উৎপাদন ঘাঁটি চিনের বাইরে বৈচিত্র্যময় করার কৌশলকে স্পষ্ট করে। আনুমানিক ৩০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই কারখানায় কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা। সূত্রের দাবি, অধিকাংশ কর্মীর বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে এবং অনেকেই প্রথমবারের মতো কর্মজীবনে পা রেখেছেন।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় ফক্সকনের সহায়তা

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্মার্টফোনের দাপটে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। ভারত থেকে মোবাইল ফোন রফতানি ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছে। এই নীতির হাত ধরেই ভারত এখন আমেরিকায় স্মার্টফোন রফতানিতে চিনকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার বাজারে বিক্রি হওয়া মোট স্মার্টফোনের ৪৪ শতাংশই এখন ভারতে তৈরি। যার পিছনে ফক্সকনের এক বড় হাত রয়েছে। একটা সময় ভারত মোবাইল ফোনের জন্য মূলত আমদানির উপর নির্ভর করত। কিন্তু পিএলআই স্কিম সেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। পিএলআই স্কিম ভারতে উৎপাদন ও ভারত থেকে স্মার্টফোন রফতানিতে এক নব জোয়ার নিয়ে এসেছে। এর ফলে আগামীতে আরও বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা

    চলতি বছরের এপ্রিল–মে মাসে কারখানাটিতে ট্রায়াল প্রোডাকশন শুরু হয়, যেখানে আইফোন ১৬ মডেল অ্যাসেম্বল করা হয়। সূত্রের খবর, এখানে সর্বশেষ আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত আইফোনের ৮০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। আগামী বছরে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ শুরু করলে এই ইউনিটে কর্মসংস্থান ৫০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। কারখানা চত্বরে ছয়টি বড় ডরমিটরি রয়েছে, যার বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যেই মহিলা কর্মীদের জন্য চালু হয়েছে। বাকি পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সম্প্রসারণ সম্পূর্ণ হলে এক জায়গায় এত বেশি মহিলা কর্মীর উপস্থিতি ভারতের আর কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকবে না বলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকেও বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী এখানে কাজ পেয়েছেন।

    স্বয়ংসম্পূর্ণ টাউনশিপ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

    সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টাউনশিপ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের সুবিধা থাকবে। কর্মীরা বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা ও ভর্তুকিযুক্ত খাবার পাচ্ছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, গড় মাসিক বেতন প্রায় ১৮,০০০ টাকা, যা মহিলা ব্লু-কলার কর্মীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি। বেঙ্গালুরু প্রকল্পে ফক্সকনের বিনিয়োগ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণরূপে চালু হলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই এটি ভারতের বৃহত্তম কারখানায় পরিণত হবে। শুধু উৎপাদন ফ্লোরই প্রায় ২.৫ লক্ষ বর্গফুট জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই নতুন ইউনিটটি তামিলনাড়ুতে ফক্সকনের প্রথম আইফোন কারখানাকেও ছাপিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৪১,০০০ কর্মী কাজ করেন। সরকারি আধিকারিকরা এটিকে উৎপাদন খাতে জিডিপির অংশ বাড়ানোর কেন্দ্রের উদ্যোগের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে জোর

    পুরোপুরি নির্মিত হলে বেঙ্গালুরুর কারখানায় প্রায় এক ডজন আইফোন অ্যাসেম্বলি লাইন থাকতে পারে, যেখানে বর্তমানে প্রায় চারটি লাইন চালু রয়েছে। ২০২১ সালে চালু হওয়া প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের সহায়তায় অ্যাপল ধীরে ধীরে ভারতে আইফোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে। সরকারি সূত্রের মতে, মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের অধীনে অ্যাপলের ভারতীয় কার্যক্রম সরকার ও শিল্পের সফল অংশীদারিত্বের উদাহরণ। কয়েক বছর আগেও এত দ্রুত ও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ কল্পনাতীত ছিল। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে অ্যাপলের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বর্তমানে সব আইফোন মডেলই উৎপাদনের শুরু থেকেই ভারতে তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলি বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করা হচ্ছে। ভারতে অ্যাপলের সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক প্রায় ৪৫টি সংস্থায় পৌঁছেছে। এছাড়াও, কর্মী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ্যাপল তাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মহিলা কর্মীরা—যাঁদের অধিকাংশই উচ্চ মাধ্যমিক বা পলিটেকনিক পাশ—আইফোন অ্যাসেম্বলি লাইনে যোগ দেওয়ার আগে প্রায় ছয় সপ্তাহের অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

  • Modi in Assam: “দেশকে নিরাপত্তা ও সংহতির ক্ষেত্রে ভারী মূল্য দিতে হয়েছে”  অসমে কংগ্রেসকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী

    Modi in Assam: “দেশকে নিরাপত্তা ও সংহতির ক্ষেত্রে ভারী মূল্য দিতে হয়েছে” অসমে কংগ্রেসকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে ফের কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi in Assam)। গুয়াহাটিতে কংগ্রেসকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায়। কিন্তু, কিছু ‘দেশবিরোধী’ শক্তি সেই উদ্যোগ বানচাল করে ও দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করে সারা দেশে অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে। মোদির দু’দিনের অসম সফর দিয়েই বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রচার পর্ব শুরু হল।

    দেশের জমি ও বন অন্যদের দিয়ে দেবে কংগ্রেস

    রবিবার নামরুপে জনসভায় মোদি কংগ্রেসকে (PM Attacks Congress) তিনটি বিষয়ে নিশানা করেন—উন্নয়ন, কল্যাণ ও অনুপ্রবেশ রোধ। আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এগুলিই বিজেপির মূল প্রচার-ইস্যু হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মোদি দাবি করেন, “কংগ্রেস কখনওই অসমের স্বার্থ রক্ষা করবে না, বরং অসমের জমি ও বন অন্যদের দখলে দিয়ে দেবে।” তিনি কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈয়ের মূর্তি উদ্বোধন করে বলেন, “কংগ্রেস অসমের পরিচয় ধ্বংস করার চেষ্টা স্বাধীনতার আগে থেকে করছে। ইংরেজ ও মুসলিম লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা অসমকে পূর্ববঙ্গের অংশ করতে চেয়েছিল। তখন গোপীনাথ বরদলৈ নিজের দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তা রোখেন। বরদলৈ কখনও অসমের স্বার্থ ও পরিচয়ের সঙ্গে আপস করেননি। এখন অসমবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কংগ্রেসের ‘ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করতে হবে।”

    অবাধ অনুপ্রবেশকে মদত দেয় কংগ্রেস

    নামরুপে ডিব্রুগড় জেলার অসম ভ্যালি ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ₹১০,৬০০ কোটি টাকার অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া সার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মোদি (Modi in Assam) কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দেশবিরোধী চিন্তাধারা’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর (PM Attacks Congress) দাবি, “বাংলা ও অসমে ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে কংগ্রেস অবাধ অনুপ্রবেশকে মদত দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা এখানকার জনচরিত্র বদলে দিয়েছে। জঙ্গল ও জমি দখল করে নিয়েছে। হিমন্তের সরকার এখন অসমের সম্পদকে এই সব বেআইনি ও দেশবিরোধী শক্তি থেকে মুক্ত করছে।” তিনি আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বসতি স্থাপন ও রক্ষার কাজ কংগ্রেসই করেছে, তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতা করছে তারা। ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, অসমের পরিচয় ও সম্মান রক্ষায় বিজেপি ‘ইস্পাতের মতো দৃঢ়’।

    কংগ্রেসের ভুলে মূল্য চোকাতে হয় সমগ্র দেশকে

    দেশদ্রোহীরা চেষ্টা করছে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে। কিন্তু, এসআইআর তা হতে দেবে না। কংগ্রেস যতই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করুক, বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনীতে তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবেই। বিজেপি শাসিত অসমের মাটিতে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস সহ বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লকের পার্টিগুলিকে হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের যারা বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেন মোদি (Modi in Assam)। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে। কিন্তু, দেশদ্রোহীরা তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রী বলেন,“অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের আড়ালে রেখে ওরা যে অপরাধ করেছে, তার মূল্য চোকাতে হয় সমগ্র দেশকে। দেশকে একতা, নিরাপত্তা ও সংহতির ক্ষেত্রে ভারী মূল্য দিতে হয়েছে কংগ্রেসের ভুলে। কংগ্রেসের আমলেই দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলে হিংসা বজায় ছিল। আর আমরা ১০-১১ বছর ক্ষমতায় এসেই সেই উগ্রবাদকে শেষ করেছি। একদিন যে জেলাগুলি হিংসা উপদ্রুত ছিল, আজ সেখানেই উন্নয়ন চলছে।”

    অসমের মাটির সঙ্গে একাত্ম প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Attacks Congress) এই বক্তব্য রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জুলাই থেকে শুরু হওয়া কড়াকড়ির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সরকারি ও বনভূমি থেকে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। চলমান উচ্ছেদে প্রভাবিতদের বড় অংশই মিয়া সম্প্রদায়ের—বাংলাভাষী মুসলমান, যাদের অনেকের শিকড় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। গুয়াহাটিতে মোদি বলেন, রাজ্য সরকার ‘অবৈধ ও দেশবিরোধী দখল’ থেকে সম্পদ মুক্ত করতে কাজ করছে এবং কংগ্রেস ও ইন্ডি জোট অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে আইনি হস্তক্ষেপসহ নানা ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে। রবিবার তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশি। প্রধানমন্ত্রী অসম আন্দোলনের ৮৬০ শহিদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান এবং ব্রহ্মপুত্রের উপর একটি ক্রুজে ২১ জন পড়ুয়ার সঙ্গে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’য় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অসমের মাটির সঙ্গে আমার আত্মা মিশে আছে। ভালবাসা ও এখানকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মা-বোনেদের ভালবাসা আমাকে উৎসাহিত করে, অনুপ্রেরণা জোগায়।”

  • ISRO Data Centre: এবার মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ভাবনা ইসরোর! কীভাবে হবে অসাধ্যসাধন?

    ISRO Data Centre: এবার মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ভাবনা ইসরোর! কীভাবে হবে অসাধ্যসাধন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরো। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এ নিয়ে সম্ভাব্য পরীক্ষাও করছে। এ বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যসভায় এই তথ্য জানাল ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস বা মহাকাশ-বিষয়ক দফতর। বিজেপি সাংসদ কার্তিকেয় শর্মার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনস্থ মহাকাশ-বিষয়ক দফতর জানায়, ইসরো বিভিন্ন নেক্সট-জেনারেশন স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যার মধ্যে অন-বোর্ড ডেটা প্রসেসিং ও ডেটা স্টোরেজ অন্যতম।

    মহাকাশে প্রকৃত ডেটা সেন্টার স্থাপন

    সংসদীয় সূত্রে খবর, শর্মা জানতে চেয়েছিলেন, স্যাটেলাইট ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের জন্য ইসরো কি মহাকাশে প্রকৃত ডেটা সেন্টার স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। জবাবে মহাকাশ-বিষয়ক দফতরের তরফে জানানো হয়, অন-বোর্ড ডেটা প্রসেসিং ও স্টোরেজ বিষয়ে ইসরো প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে এবং এতে দেখা গিয়েছে যে স্পেস-এজ কম্পিউটিং অবকাঠামোর একটি প্রুফ অব কনসেপ্ট তৈরি করা সম্ভব। ডিপার্টমেন্ট অফ স্পেস, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনস্থ, আরও জানিয়েছে যে এই ধরনের একটি ব্যবস্থা ভাবনা-চিন্তার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের সমীক্ষা মাত্র। পূর্ণাঙ্গ স্পেস-এজ কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য বেশ কয়েকটি নতুন প্রযুক্তির উন্নতি প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে— কক্ষপথে শক্তি উৎপাদন, রেডিয়েশন-প্রতিরোধী জিপিইউ/সিপিইউ, স্যাটেলাইটের সুরক্ষা শিল্ড, ইত্যাদি। ইসরোর মহাকাশে কোনও ডেটা সেন্টার নেই। ইসরো পৃথিবীতেই ডেটা সেন্টার পরিচালনা করে, যেমন বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান স্পেস সায়েন্স ডেটা সেন্টার (ISSDC), যা মহাকাশ থেকে আসা ডেটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রধান কেন্দ্র। মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাটি নতুন এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলো বর্তমানে এই বিষয়ে কাজ করছে, কিন্তু ইসরোর প্রধান ডেটা সেন্টারগুলো পৃথিবীতেই অবস্থিত। তবে, এবার ইসরোও মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য ভাবনা চিন্তা করছে।

    কীভাবে কাজ করবে এই ডেটা সেন্টার

    প্রসঙ্গত, পৃথিবীর ডেটা সেন্টারগুলো বিপুল পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করে। ফলে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনে অত্যন্ত শক্তি-দক্ষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে, যা সৌরশক্তি ও ব্যাটারিতে চলতে সক্ষম। পাশাপাশি মহাকাশের তীব্র রেডিয়েশন থেকে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও জরুরি—যা পৃথিবীতে বায়ুমণ্ডল স্বাভাবিকভাবেই করে থাকে। মন্ত্রকের মতে, অন-বোর্ড ডেটা প্রসেসিং সক্ষম স্যাটেলাইট কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যই গ্রাউন্ড স্টেশনগুলোতে পাঠাবে, ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত প্রয়োজনে ডেটা পৌঁছতে দেরি হবে না। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্যাটেলাইট নিজেই সেই তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে দ্রুত ফল দিতে পারবে। এছাড়া, অন-বোর্ড প্রসেসিং ব্যবস্থায় যোগাযোগ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথেই পুনর্গঠনের (reconfiguration) সুবিধা দেয়, ফলে ব্যবহারে আরও বেশি নমনীয়তা আসে। এজ কম্পিউটিং বলতে বোঝায় এমন এক বিতরণ-ভিত্তিক কম্পিউটিং পদ্ধতি যেখানে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ ডেটার উৎসের কাছাকাছি করা হয়, কেন্দ্রীয় ক্লাউড বা ডেটা সেন্টারে পাঠানো হয় না। ইসরো যা পরীক্ষা করছে তা হলো স্যাটেলাইট এজ কম্পিউটিং বা স্পেস এজ কম্পিউটিং, যেখানে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ সরাসরি মহাকাশেই করা হবে।

LinkedIn
Share