Author: ishika-banerjee

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া টানাপড়েন কাটিয়ে ফের দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে ঢাকা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে মঙ্গলবার ভারতে (India Bangladesh Relation) এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, এই সফরে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ, জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় সভাপতি পদে ভারতের সমর্থন আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। সূত্রের খবর, ভারতে থাকাকালীন খলিলুর বৈঠক করতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে।

    কতদিন ভারতে থাকবেন খলিলুর

    বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) তারেক রহমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে এই প্রথম ভারত সফরে আসছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মূলত মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লিতে নামেন তিনি। কয়েক মাস আগেই ভারতে এসেছিলেন খলিলুর রহমান। তবে তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এবার তিনি তারেক রহমানের সরকারের বিদেশমন্ত্রী। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শীতলতা দূর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ। আর এবার খলিলুরের ভারত সফরের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কিছুটা ইতিবাচক গ্রাফে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খলিলুর ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ভারতে থাকবেন। ভারতে আসার আগে খলিলুর এই সফর নিয়ে বলেন, “আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।”

    বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির আশা

    ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তারেকের অধীনে বাংলাদেশ ফের ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। বর্তমানে ভারত দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। স্থলবন্দর দিয়েও বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রফতানি করেতে পারছে না বাংলাদেশ। এই সব নিয়ে বেশ চাপে আছে ঢাকা। এরই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে যে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চায় বাংলাদেশ। এই আবহে খলিলুরের এই সাক্ষাৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

    নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র

    প্রথম বৈঠকই হতে চলেছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র ও চুক্তি বিগত বছরগুলিতে কঠোরভাবে রক্ষিত হয়েছে। হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি আসার পরিমাণ কমে গিয়েছে, এই তথ্য খলিলুরকে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আশা প্রকাশ করা হবে, যাতে ওই প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারও পালন করে। দোভালের সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আলোচনায় উঠে আসবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি ও ভারত বিরোধিতার বিষয়টি। বুধবার খলিলুর রহমান ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একঝাঁক বকেয়া চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদী।

    ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বকেয়া চুক্তি হল ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি। যা ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হচ্ছে। তাই কীভাবে সেই চুক্তি রিনিউ করা যায়, সেই রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ দাবি উত্থাপন করলেও, এখনই পদক্ষেপ করছে না দিল্লি। এছাড়া, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থমকে যাওয়া বা ধীরগতি সম্পন্ন একাধিক রেল ও সড়ক প্রকল্পের কাজ পুনরায় দ্রুত শুরু করার বিষয়েও জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়েও এই সফরে আলোচনা করতে পারেন খলিলুর।

    তারেকের সঙ্গে বৈঠক ভারতীয় হাই কমিশনার

    বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারতে আসার আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে তারেক এবং প্রণয়ের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানান, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা হয় বৈঠকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকে তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রণয় বর্মা। এদিকে বৈঠকে নাকি প্রণয়কে তারেক বলেন, “ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।” ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাও বলেন, “আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।”

  • PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন (West Bengal Election 2026) দোরগোড়ায়। পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে উত্তপ্ত বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য, পাল্টানোর জন্য, বিজেপিকে জেতানোর জন্য কার্পেট বম্বিং করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১১ এপ্রিল, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। পরের দিন ১২ এপ্রিল, রবিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রোড শো করার কথা রয়েছে মোদির। এছাড়াও কলকাতায় দুটি রোড শো করতে পারেন তিনি। অর্থাৎ বঙ্গের সিংহাসন দখল করতে মোদিকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে বিজেপির। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এমনকি দলের প্রচারের জন্য রাজনাথ সিং, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকড়ি সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকায় তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

    ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা মোদির

    বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

  • Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠ কন্যা কস্তুরির পর এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুও (Anil Basu’s Son Joins BJP)। পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে ঘিরে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে সভা করল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরামবাগের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখা গেল সেই সভায়। সৌম্য এক সময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই করেছেন। তবে আজ তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

    বিজেপি দেশভক্তের দল

    অনিল বসু বাম আমলের প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে সিপিএম এর সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ছ’বার। ২০০৪ সালে শেষবার আরামবাগ থেকে রেকর্ড প্রায় ছ’লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন অনিল বসু। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যে রাজনৈতিক দলকে তাঁর পছন্দ, সে তার সঙ্গেই থাকুক। বিজেপি দেশভক্তের দল। সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি ধন্যবাদ জানিয়েছি উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।”

    বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাম শিবির ছেড়েছেন প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যাও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী। এবার বাম আমলের দৌর্দন্ডপ্রতাপ অনিল বসুর ছেলে ভোটের মুখে গেলেন গেরুয়া শিবিরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। আলোচনার ঝড়, সিপিএম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও। তিনি বলেন, “আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজ্যে বামেদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

  • SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR In Bengal) পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি হয়ে গেল। সোমবার রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সোমবার রাতেই ফ্রিজ হয়েছে প্রথম দফার ভোটের ভোটার তালিকা। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। সোমবার রাতেই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকা ফ্রিজ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। কলকাতা উত্তরে তুলনামূলক বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

    রাজ্যে ভোটার তালিকায় কত জনের নাম

    ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR In Bengal) কাজ শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম। অর্থাৎ, রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই মুহূর্তে নাম রয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮ জনের।

    নাম বাদ পড়ার নিরিখে প্রথমে কে

    যাচাইকরণে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় ওই জেলা থেকে বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের হিসেব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ওই জেলা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম। যাচাইকরণে উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। তবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা ধরলে ওই জেলা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬, যা সমগ্র এসআইআর-এর নিরিখে সর্বাধিক। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় মালদা থেকে বাদ পড়েছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৫ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই জেলা থেকে বাদ পড়ল মোট ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জনের নাম। এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও ১কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে, কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা কোটির গণ্ডি পেরোয়নি। যে ১১টি রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, তার মধ্যে বাদ যাওয়া ভোটারের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগীর রাজ্যে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোন জেলায় কত বাতিল

    নদিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা- প্রায় ২.০৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ২.২২ লক্ষ ভোটার এবং বীরভূমে প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হুগলিতে প্রায় ১.২০ লক্ষ, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ৭৪ হাজার এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ১.৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। কোচবিহারে বাদ পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম, জলপাইগুড়িতে ৩৫ হাজার ৩৫৬, দার্জিলিংয়ে ৪৪ হাজার ২৩০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৬ হাজার ৭৬৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কলকাতা দক্ষিণ থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ২১ হাজার ১৫১ জনের নাম। সোমবারের পর এই তালিকায় যুক্ত হল ২৮ হাজার ৪৬৮টি নাম। অর্থাৎ, বাদ গেল মোট ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১৯ জনের নাম। কলকাতা উত্তর থেকে বাদ গেল মোট ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৭৫ জনের নাম। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৪ হাজার ১০০, হাওড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭, পুরুলিয়ায় ৫ হাজার ৯৪২, বাঁকুড়ায় ৬ হাজার ৫৩৩, বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯, আলিপুর দুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পঙে ২ হাজার ৪০৭, ঝাড়গ্রামে ১ হাজার ২৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে।

  • Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion Against CEC Rejected) খারিজ করে দেওয়া হল। রাজ্যসভা ও লোকসভার উভয় কক্ষেই খারিজ হয়েছে এই প্রস্তাব। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্য সভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রইল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আর এগোবে না।

    সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে সিদ্ধান্ত

    ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সকল দলগুলি সাংসদে নোটিস জমা করেছিলেন। সোমবার সেটাই গ্রহণ করা হয়নি। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে সরানোর জন্য এমন নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতৃত্বে বিরোধীরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা গৃহীত হয়নি। গত ১২ মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি জমা পড়ার পর রাজ্য়সভার চেয়ারম্যান বিষয়টির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও অভিযোগ বিশদে পর্যালোচনা করেন। এরপর বিচারপতি (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সংসদ সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে নেওয়া হয়েছে।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ

    বিরোধী শিবির লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই এই বিষয়ে নোটিস জমা দিয়েছিল। ১০ পাতার ওই নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া (Mass Disenfranchisement)। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) অস্বচ্ছতা। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য দেখানো। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তগুলি অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তার কাজকর্মে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।

  • SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (SIR in Bengal) থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া (ডিলিটেড) নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়ার সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়াল (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫)। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসআইআর-এ বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষের কাছাকাছি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়ে গিয়েছে, বলে আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই চিঠিও পড়ে শোনান ৷

    কোন জেলায় কত নাম বাদ

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। মালদায় এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর করা হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকাতেও আরও কিছু নাম সংযুক্ত হতে পারে। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম।

    রাজ্য মেশিনারি ব্যর্থ

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনাও সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে আপনাদের মারার জন্য ৷ ক্রমাগত এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে ৷’’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আপনারা শুনুন, একজন মহিলা বিচারক ভয়ে কীভাবে কেঁদে আর্ত চিৎকার করছেন ৷’’ যা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য মেশিনারি যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো স্পষ্ট ৷’’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গঠিত হবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দ্বারা ৷ তবে আগে ট্রাইবুনালের কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকতে হবে ৷ ১৫ জন বিচারপতিকে দিয়ে ১৯ দিনে সব কাজ করতে বললে তো বিশৃঙ্খলা হবেই ৷ আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচাপতিকে বলব, তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন ৷ এবং সেই কমিটি দেখবে ট্রাইবুনালের কাজ৷’’

    ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

    এসআইআর নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছেন যাঁরা তাঁরা ফের অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ নিতে হবে। সোমবার, এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে এসআইআর-এ (SIR in Bengal) নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গ ৷ রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘‘যার আঁকা ছবি ছাড়া ভারতের সংবিধান অসম্পূর্ণ থাকত, তাঁর পরিবারের লোকের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে ৷’’ এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া ট্রাইবুনাল নিয়ে এদিন বিশেষ কয়েকটি নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয় পরবর্তী শুনানি।

  • India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif)-এর “ভবিষ্যৎ সংঘাতে কলকাতায় হামলা” (Pak Target Kolkata) সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি এবং বিরোধী কংগ্রেস উভয়ই এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। প্রয়োজন পড়লে কলকাতাতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘‘ভারত যদি আবার আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে গত বছরের চেয়েও বড় অপমানের মুখে পড়বে। এবার সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আমরা কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করব এবং তাদের নিজেদের ঘরের ভিতরেই আঘাত করব।’’ তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের ভুয়ো অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে পারে ভারত (India Pakistan Relation)।

    পাকিস্তানের নিশানায় কলকাতা

    গত ২ এপ্রিল ‘অপারেশন সিঁদুর’এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার আসিফের গলায় পালটা হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। আসিফ বলেন, ‘সাজানো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এর জন্য ওরা নিজেদের লোক ব্যবহার করবে। নাহলে ওদের হেপাজতে থাকা পাকিস্তানি বন্দিদেরও কাজে লাগাতে পারে। কয়েকটি মৃতদেহ ছুড়ে দিয়ে ওরা দাবি করবে, তারা জঙ্গি ছিল।’ আসিফের দাবি, ‘এক বছর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে ওদের নিজেদের লোকও প্রশ্ন তুলেছিল। এবার যদি তেমন কোনও নাটকের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরাও জবাব দেব। বিষয়টি কলকাতা পর্যন্ত চলে যাবে।’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। ওই সন্ত্রাসী হামলায় হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমন‌ই অভিযোগ তুলে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রত্যাঘাত করে নয়াদিল্লি। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন সংঘর্ষ চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে ইতি পড়লেও উত্তেজনা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত।

    সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই

    পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তান নিজেই ভুয়ো অপারেশন চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তারা যেন পিএইচডি করেছে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই। বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে আমরা তাদের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করেছি। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যায়নি।” তাঁর দাবি, সেই সময় পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল এবং ভারত নিজেদের শর্তে তা মেনে নেয়। তিনি আরও বলেন, “কলকাতা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে। তারা শুধু বড় বড় কথা বলে। ভারত চাইলে পাকিস্তানের যেকোনও স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।” এছাড়া জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীরজ কুমার-ও একই সুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি কয়েক মিনিটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনও টাটকা থাকা উচিত।”

    নজর ঘোরাতে এই মন্তব্য

    খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল বলেন, “পাকিস্তানের ভেতরের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, ঋণ শোধে চাপে সরকার, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য আসলে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।” একই সুরে বিজেপি নেতা শ্রীনিবাসও আসিফের বক্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলতে থাকলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর-২’-এর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ মজিদ মেমন কূটনৈতিক সংযম বজায় রাখার উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “কোনও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই উচিত।”

    আসিফকে কটাক্ষ নেটিজেনদের

    আসিফের অভিযোগ, ফের সাজানো হামলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এই অভিযানে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলে বন্দি পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এহেন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি আসিফ। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। হুমকির ভিডিও সামনে আসতেই আসিফের সমালোচনায় সরব সোশ্যাল মিডিয়া। এক ব্যক্তি লেখেন, ‘প্রথমে নিজেদের দেশের মানুষকে পর্যাপ্ত খাবার দিন। পাকিস্তানের জেনারেল আর রাজনৈতিক নেতারা শুধু ফাঁপা হুঁশিয়ারি দিতে পারেন। দেশ বাঁচাতে মানুষের বিদ্রোহ ঘোষণা করা উচিত। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে জেনারলেরা।’ আরেক ব্যক্তির কটাক্ষ, ‘বাঙালিরা ক্ষেপণাস্ত্র ধরে মাছের ঝোল বানিয়ে খেয়ে ফেলবে।’ ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে আরেকজন লেখেন, ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে। ঢাকার স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল কলকাতা। তাই সাজানো অভিযানের অজুহাত দিয়ে কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।’

  • India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দেবে সাপ ও কুমির। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিনব পরিকল্পনার কথা ভাবছে বিএসএফ (Border Security Force)। সূত্রের খবর, নদী ও জলাভূমি অঞ্চলগুলিতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে সাপ ও কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। বিএসএফ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    কেন সাপ ও কুমির ব্যবহারের ভাবনা

    ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি ঘেরা। এইসব জায়গায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ‘ডিটারেন্স-ফার্স্ট’ বা ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। সীমান্ত-সুরক্ষার কৌশল হিসেবে এই পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বিএসএফ-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল। জানা গেছে, ২০ মার্চ নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত আরেকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়। এরপর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের সীমান্ত পর্যায়ের কর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এরকমই একটি নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নদী তীরবর্তী এলাকায় সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উপর একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    সীমান্তে নজরদারি

    বিএসএফ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার নজরদারি পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। জানা গেছে যে, সৈন্যরা নাইট-ভিশন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫,০০০-এর বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এছাড়াও, সীমান্ত বরাবর যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ এবং আইরিস স্ক্যান সংগ্রহ করার জন্য বায়োমেট্রিক ডিভাইসও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন অংশে দ্রুত অ্যান্টি-কাট ও অ্যান্টি-ক্লাইম্ব বেড়া, নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সক্ষম ট্র্যাকিং সিস্টেম, থার্মাল ইমেজার এবং বিদ্যুতায়িত বেড়া স্থাপন। বিশেষভাবে সংবেদনশীল নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বোল্ড-কিউআইটি (BOLD-QIT) প্রকল্প, যা ২৪x৭ নজরদারির জন্য সেন্সর, ইনফ্রারেড ও নাইট-ভিশন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে।

    অন্ধকার অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ

    নদী তীরবর্তী এলাকায় অভিযানের জন্য বাহিনী বর্তমানে বিশেষ জলযান, স্পিডবোট এবং ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) মোতায়েন করেছে। নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাবের পাশাপাশি, ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ব ভারতের সেক্টর সদর দফতরগুলোকে এমন সব ‘ডার্ক জোন’-এ অবস্থিত সীমান্ত চৌকি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিকে যতই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হোক না কেন, বেশ কিছু বাস্তব প্রশ্ন অমীমাংসিতই থেকে যায়। কোন সংস্থা বা কর্মীদের সাপ বা কুমির ধরা এবং সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে, কতগুলো সরীসৃপ ছাড়া হবে এবং সীমান্তের কোন কোন জায়গায় সেগুলোকে ছাড়া হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সীমান্তে বিএসএফ-এর সাফল্য

    সম্প্রতি সীমান্তে চোরাচালান রুখতে একাধিক সাফল্য পেয়েছে বিএসএফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় একটি বড় অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা অভিযানে নেমে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নদিয়াতেই একটি ঘটনায় এক বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়। অভিযোগ, বিএসএফের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলি চালানো হলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, ফেনসিডিলের বোতল এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বেশি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২০২৫ সালে ১,১০৪ বার অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা হয়েছে। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৭৭টি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল। এই সীমান্তে অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা অন্যান্য সীমান্তে হওয়া চেষ্টাগুলিকে ম্লান করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান ৩২টি অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মায়ানমার ৯৫টি এবং নেপাল ও ভুটান একত্রে ৫৪টি। অর্থাৎ, বর্তমানে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করায় ২,৫৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেপ্টেম্বরে ৩৩০ জন এবং নভেম্বরে ৩০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কঠোর সরকার

    অন্যদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২৭টি এবং অক্টোবরে ১২৫টি ঘটনা ঘটে। মাসিক গ্রেফতারের সংখ্যা ৮৯ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। এই ঘটনায় প্রমাণ করে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে সংগঠিত চোরাচালান চক্রের বাড়বাড়ন্তের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এই আবহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় সরীসৃপ ব্যবহারের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে এযাবৎকালের অন্যতম কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি কঠিন নিরাপত্তা ঘাটতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কতটা দূর যেতে প্রস্তুত, তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

LinkedIn
Share