Author: ishika-banerjee

  • India-Seychelles MoU: ভারত ও সেশেলস মউ স্বাক্ষর, এবার এই দ্বীপরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে সহজেই ইউপিআই পেমেন্ট

    India-Seychelles MoU: ভারত ও সেশেলস মউ স্বাক্ষর, এবার এই দ্বীপরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে সহজেই ইউপিআই পেমেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেশেলস সফরে গিয়ে ইউপিআই নিয়ে মউ স্বাক্ষর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার থেকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রে ঘুরতে গিয়ে ভারতীয়রা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা পাবেন। অনলাইনেই পেমেন্ট করতে পারবেন সব কিছুর খরচ। ভারত ও সেশেলসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আনন্দিত যে ইউপিআই-এর জন্য ভারত ও সেশেলসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি একটি কার্যকর মাধ্যম। আমরা ডিজিটাল গণপরিবহণে ভারতের সফল অভিজ্ঞতা সেশেলসের সঙ্গে ভাগ করে নেব।”

    ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কার মোদিকে

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেশেলসের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তাঁর উষ্ণ অভর্থ্যনার জন্য। ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরিজন’ সম্মানে ভূষিত করার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। দুই দেশের মধ্যে খুব ভালো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার জন্য আলোচনা হয়েছে। দুই দেশেই শিল্পের জন্য নতুন নতুন সুযোগ খোঁজা হবে। ভারত ও সেশেলসের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রচেষ্টাও চলছে।” সেশেলস সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন যে, এই সফরটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সঙ্গে মিলে গেছে: সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি। তিনি বলেন, “আমি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে সেশেলস সফর করছি, যখন দেশটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং আমরা ভারত ও সেশেলসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। এই পাঁচ দশকে আমরা বন্ধুত্বকে আস্থায়, আস্থাকে সহযোগিতায় এবং সহযোগিতাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তরিত করেছি।”

    ডিজিটাল কো-অপারেশনের উল্লেখ

    দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল কো-অপারেশনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন যে প্রযুক্তি বা টেকনোলজি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে আরও সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্টাকচারের অভিজ্ঞতা সেশেলসের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে সেশেলসে ইউপিআই চালু করার জন্য মউ স্বাক্ষর হয়েছে।” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে ভারতের ইউপিআই চালু হয়েছে। ভুটান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কাতার ও কম্বোডিয়ায় ইউপিআই চালু রয়েছে।

  • India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল  সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াল ভারত। ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে ভারত শুরু করেছে ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ (Operation Amistad)। স্প্যানিশ ভাষায় আমিস্তাদ শব্দের অর্থ ‘বন্ধুত্ব’। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দিয়ে ভারত-ভেনেজুয়েলার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) দু’টি সি-১৭ বিমান ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। ওই বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

    মানবিক সহায়তা ভারতের

    মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল। বিখ্যাত ‘৬০ প্যারা ফিল্ড হসপিটাল’-এর ৪১ জন সেনা-মেডিক্যাল কর্মী রয়েছেন এই দলে। এর মধ্যে ৯ জন অভিজ্ঞ মিলিটারি মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার)। এই দল দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আপৎকালীন চিকিৎসা, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং অস্ত্রোপচারের মতো জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। উল্লেখ্য, বুধবার মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। একাধিক বিল্ডিং ও পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ -এর বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তা করতেই বিশেষ অপারেশন শুরু করেছে ভারত। লেখেন, “ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি C-17 বিমান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছে। রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দুটি ভীষ্ম কিউব। এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ভারতীয় সেনার এই মানবিক মিশন আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল, যে কোনও আন্তর্জাতিক সংকটে বন্ধু দেশের পাশে সবার আগে দাঁড়াতে প্রস্তুত ভারত।

    উপহার অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাঠানো প্রায় ৬ টন জরুরি ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে বায়ুসেনার বিমান দুটি। তবে এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক মোবাইল হাসপাতাল ‘ভীষ্ম কিউব’ (BHISHM Cube – Bharat Health Initiative for Sahyog, Hita & Maitri)। ভারতের ‘আরোগ্য মৈত্রী প্রজেক্ট’-এর অধীনে এই মডিউলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। যেকোনও বড় বিপর্যয় বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যেখানে স্থায়ী হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যায়, সেখানে এই ‘ভীষ্ম কিউব’ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। একে খুব কম সময়ের মধ্যে খোলা জায়গায় একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়। এই মিনি হাসপাতালে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটর, ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, নিজস্ব জেনারেটর এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সিস্টেম রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন গুরুতর আহত রোগীকে ট্রমা কেয়ার ও জরুরি অস্ত্রোপচারের সুবিধা দিতে পারে এই ভীষ্ম কিউব।

    বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই উদ্যোগ ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) নীতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভারতের অন্যতম দূরপাল্লার মানবিক ত্রাণ অভিযান বলে জানানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে এবং লাতিন আমেরিকায় মানবিক সহায়তা প্রদানে নিজের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “মানবতার সেবায় ভারতের এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। ভীষ্ম কিউব মোতায়েন শুধু একটি পেশাগত সাফল্য নয়, এটি মানবসেবার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।” সরকারের মতে, অপারেশন অমিস্তাদ প্রমাণ করেছে যে, সংকটের সময় ভারত একটি নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সামরিক দক্ষতা, কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

    বিপর্যয়ের সাক্ষী ভেনেজুয়েলা

    গত বুধবার প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে ভেনেজুয়েলা (Venezuela Earthquake)। সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ। এই যমজ ভূমিকম্পের (Twin Earthquakes) জেরে এ পর্যন্ত ৯০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি। উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Photos) ধরা পড়েছে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের বুক কাঁপানো দৃশ্য, যেখানে মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবলই ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি আর উপড়ে যাওয়া রাস্তার ছবি দৃশ্যমান। ভেনেজুয়েলার এই চরম মানবিক সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল (Search-and-Rescue Teams) কারাকাসে পাঠাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে সরাসরি নেমেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN)। একটি বৈশ্বিক জরুরি তহবিলের মাধ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের সামগ্রিক সমন্বয় সাধন করছে তারা। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষদের সংখ্যা। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সংখ্যক মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

  • Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের রাজধানী বেজিংয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা (Beijing Plane Crash)। শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং সিআইটিআইসি টাওয়ারে শনিবার ভেঙে পড়ে একটি বিমান। ওপর থেকে নিচে পড়তে পড়তে সোজা ওই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায় বিমানটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এদিনের ঘটনার একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিমানটির সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ের ধাক্কা লাগার পরেই মাটিতে পড়ছে ধ্বংসাবশেষ। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ছোট বিমান বেজিংয়ের সর্বোচ্চ অট্টালিকা ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ আছড়ে পড়েছে। সংঘর্ষের জেরে ওই অট্টালিকার দুটি জানালা ভেঙে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চিনের অন্যতম উঁচু বিখ্যাত এই টাওয়ারে দুর্ঘটনার ঘটনায় হইচই বিশ্বজুড়ে৷ ভাইরাল ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১,৭০০ ফুট উঁচু বাড়িটির উপর থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। টাওয়ারের নীচের তলায় ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের ভাঙা অংশ। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর গোটা ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    ভেঙে পড়ল চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমান

    বিমানের গায়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০১ অরোরা’ নামের একটি লাইট স্পোর্ট বিমান। এই বিমানটি তৈরি করে থাকে স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন সংস্থা। ওই সংস্থার তরফে মূলত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত জেট এবং আকাশপথে ছবি তোলার মতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা চিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। চিনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হলেও, সেগুলি দ্রুত অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি গাড়ির আকারের একটি ছোট বিমান।

     

     

     

     

     

     

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম জেলার হাটনারা গ্রামে মহররমের (Muharram Tazia Accident) মিছিলের সময় একটি তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বড় বিপত্তি ঘটল। সূত্রের খবর, মহরমের মিছিলটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাজিয়ার একেবারে উপরের অংশ হাই-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে আসায় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ-এর সংস্পর্শে আসতেই ইলেকট্রিক শক লাগে তাজিয়া বহনকারী মানুষদের। জ্বলে ওঠে তাজিয়াটি। প্রায় ১২ জন আগুনে ঝলসে যান। আহতদের সবাইকে দ্রুত রতলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি নয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত ৩ জনের নাম হল রশিদ খান, সাদ্দু হুসেন ও আরবাজ খান।

    দুর্ঘটনার কবলে মহরমের তাজিয়া

    শুক্রবার পালিত হয়েছে মহরম। ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসই হল মহরম। দেশ জুড়ে বহু রাজ্যে পালিত হয়েছে দিনটি। তারই মধ্যে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে হাটনারা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহররমের মিছিলটি প্রতি বছর একই পথ দিয়ে যায় এবং মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের (এমপিইবি) কর্মীরা মিছিলের সঙ্গে থাকেন। যাতে তাজিয়াটি ওভারহেড লাইনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাদের দাবি, এ বছরও লাইনম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, যার ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বিষয়টি তদন্তাধীন

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ১১ কেভি হাই-ভোল্টেজ লাইনটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিচু দিয়ে গেছে, যার ফলে এর নিচ দিয়ে বাস ও ট্রাকেরও চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তাঁরা বিদ্যুৎ লাইনটি স্থানান্তর অথবা এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার লাল বলেছেন, আহতদের রতলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিবেক কুমার আরও জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিকরণ ইস্যুতে ফের বিতর্ক ইউরোপে। মুখঢাকা বোরখা পরে জনসমক্ষে বেরোনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল আগেই। এবার ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে কোপ পড়তে চলেছে লাউডস্পিকারে শোনানো আজানে! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি মেল’-এ প্রকাশিত খবরে দাবি, ‘ক্রমবর্ধমান ইসলামিকরণ’ ঠেকাতে সম্প্রতি এমনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডস্কভ। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসেন ইতিমধ্যেই তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেনে আগে থেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। এবার গোটা দেশেই সেই ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।

    আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি নয়

    ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেনের মন্তব্য, ‘‘ডেনমার্কের কিছু কিছু এলাকা এখন দেখে মনে হয়, যেন তা ইসলামাবাদেরই (পাকিস্তানের রাজধানী) কোনও শহরতলি। এমনটা হতে দেওয়া যায় না।’’ এর পরেই ডেনমার্কের বামপন্থী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টির ওই মন্ত্রীর মন্তব্য, “ডেনিশ ছাদগুলোর উপর দিয়ে আজানের শব্দ যাওয়া বাঞ্ছিত নয়।’’তিনি জানান আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ নয়। ডেনমার্কের মানুষের যাতে মনে না হয়, তাঁরা ডেনমার্কের বদলে ইসলামাবাদে বসবাস করছেন।

    ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার প্ল্যান

    ডেনমার্কে আজান (Azaan Controversy in Denmark) নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত মঞ্জুরি মেলেনি। ডেনমার্কের সংবিধানে সর্বজনীন ভাবে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই সরকারকে এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। ডেনমার্কের বিরোধী দল সহ সব পক্ষের সহমত দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ইউরোপীয় দেশে অভিবাসন, হিজাব, ধর্মীয় পরিচয় এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বহু দেশের ডানপন্থী ও অভিবাসন বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, ব্যাপক অভিবাসন ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ক্ষুণ্ণ করছে। ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে, ডেনমার্কে বসবাসের বৈধ অধিকার নেই এমন বিদেশিদের পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হবে।

    ইসলামিক অভিবাসন নিয়ে কড়া ডেনমার্ক

    ডেনমার্কের জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম। সে দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমরাই। গত এক দশকে পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রমাগত মুসলিম শরণার্থীদের আগমন বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কড়া করার কথাও ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসেনের সরকার। ঘটনাচক্রে, বছরখানেক আগেই ডেনমার্ক সরকার জনসমক্ষে ‘ইসলামিক পূর্ণ মুখঢাকা পর্দা’ (বোরখা) নিষিদ্ধ করার একটি আইন পাশ করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নির্দেশিকা পাঠিয়ে নমাজের জন্য কোনও ঘর আর বরাদ্দ না-রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

  • FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করতে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর অধীনে নতুন সংশোধিত বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নিয়মে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদান কোনওভাবেই ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট বেসরকারি সংস্থা (NGO), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মিশনারি সংগঠন সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে ধর্মান্তরণের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করছে। বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পর কেন্দ্র এফসিআরএ-র নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এফসিআরএ (FCRA)-র ইতিহাস

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act) প্রথম চালু হয় ১৯৭৬ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশি অর্থ যাতে দেশের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো বা জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে না পারে। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধিত হয়। এরপর ২০২০ এবং ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরে তা নবীকরণ করতে হয়।

    নিবন্ধনের সময় জানাতে হবে উদ্দেশ্য ও কাজের ক্ষেত্র

    সেবা ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ রাকেশ মিত্তলের দাবি, নতুন সংশোধনের ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে। এখন থেকে নিবন্ধন বা নবীকরণের আবেদন করার সময় সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান নেওয়া হচ্ছে এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যেসব সংস্থার ইতিমধ্যেই এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে, তাদেরও এক বছরের মধ্যে নিজেদের ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী হালনাগাদ করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।

    পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কার্যক্রম

    সংশোধিত নিয়মে বিদেশি অনুদানে পরিচালিত কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক। এর অধীনে একাধিক উপ-বিভাগও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ২২টি উপ-শ্রেণি রাখা হয়েছে। তবে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক সচেতনতা সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করতে হলে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ১৮টি উপ-শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সমকালীন শিল্পকলার প্রসারের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ধর্মীয় কার্যক্রমে ধর্মান্তরণে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

    নতুন সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় কার্যক্রমের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান শিবির, ধর্মীয় সাহিত্য প্রকাশ, উপাসনালয় নির্মাণ এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা প্রদানের মতো কার্যক্রমের অনুমতি থাকলেও, নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কোনও কার্যকলাপ বিদেশি অনুদানে করা যাবে না।

    বিদেশি নাগরিক থাকলে নিবন্ধনে কড়াকড়ি

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণভাবে সেই সংস্থাকে এফসিআরএ নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদেশি অনুদানের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার আগে আগের প্রাপ্ত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে বলে দেখাতে হবে। সংস্থাগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, প্রকাশনা এবং ট্রাস্টি, পরিচালক, অংশীদার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। ফলে পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের আইনগত জবাবদিহিও বাড়বে।

    সরকারের লক্ষ্য কী?

    সেবা ভারতীর জাতীয় সম্পাদক রমেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র যে উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেই কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

    কত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক বার্ষিক রিপোর্ট জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২১,৯৩৩টি এনজিওর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অথবা তাদের নবীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এসব সংস্থা আর বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

    একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে

    গত কয়েক বছরে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মার্কিন সংস্থা কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল (Compassion International)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নবীকরণ আটকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া (World Vision India) এবং গসপেল ফর এশিয়া (Gospel for Asia)-সহ একাধিক বিদেশি অর্থপুষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসে। ২০২১ সালে মাদার টেরেসা প্রতিষ্ঠিত Missionaries of Charity-র FCRA নবীকরণও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সম্প্রতি, ২০২৬ সালের জুনে বেঙ্গালুরু পুলিশ মার্কিন মিশনারি সংস্থা দ্য টিমোথি ইনিসিয়েটিভ (The Timothy Initiative)-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বৈধ এফসিআরএ নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং মিশনারি কার্যক্রমে তা ব্যবহারের অভিযোগে ৯২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আরও কঠোর নজরদারির পথে কেন্দ্র

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সংশোধিত এফসিআরএ বিধি ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রথমবার ধর্মান্তরণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, কার্যপরিধি এবং সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় কাজ করতে হবে।

  • UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (UPSC) প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (CSE) আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে ৫৬৯টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ছিল একাধিকবার জমা দেওয়া আবেদন এবং নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করা প্রার্থীদের আবেদন।

    পূজা খেডকর বিতর্কের পর কঠোর নজরদারি

    ইউপিএসসি-র এই পদক্ষেপ এসেছে প্রাক্তন আইএএস প্রশিক্ষণার্থী পূজা খেড়কর-কে ঘিরে বিতর্কের প্রায় দুই বছর পর। ২০২৪ সালে অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের ও তাঁর বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত প্রচেষ্টার সংখ্যা শেষ করে ফেলেছিলেন। পরে UPSC তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে এবং তাঁকে পরিষেবা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে সাধারণত এই ধরনের যাচাই-বাছাই সাক্ষাৎকার পর্বে, অর্থাৎ প্রিলিমস ও মেইনস উত্তীর্ণ হওয়ার পর করা হতো। তবে এ বছর কমিশন আবেদন জমার পরপরই যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

    এআই ও আধারভিত্তিক যাচাই

    ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মোট ৮.১৮ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫.৪৯ লক্ষ পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ৯.৫ লক্ষ আবেদনকারীর তুলনায় এ বছর সংখ্যা কিছুটা কম। সূত্রের মতে, নতুন যাচাই পদ্ধতি এই হ্রাসের অন্যতম কারণ হতে পারে। কমিশন এ বছর একটি নতুন আবেদন পোর্টাল চালু করে, যেখানে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। প্রায় ৯৪ শতাংশ আবেদনকারী এই সুবিধা গ্রহণ করেন। বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ এবং ছবি মিলিয়ে ডুপ্লিকেট আবেদন শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৫ বছরের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় প্রার্থীরা বয়সসীমা বা প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছেন কি না। এই প্রক্রিয়ায় ৫৬৯ জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী এবং আরও ৬৯ জন ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) পরীক্ষার আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়।

    সংরক্ষণ শ্রেণি পরিবর্তনও খতিয়ে দেখা হয়েছে

    ইউপিএসসিতে এআই-এর সাহায্যে পরীক্ষা করেছে, কোনও প্রার্থী পূর্ববর্তী আবেদনের তুলনায় সামাজিক শ্রেণি (Category) পরিবর্তন করেছেন কি না। তদন্তে দেখা যায়, ৪৩,৪৯৭ জন আবেদনকারী আগেরবারের তুলনায় ভিন্ন ক্যাটাগরি নির্বাচন করেছেন। তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়। অনেক প্রার্থী জানান, সময়মতো প্রয়োজনীয় শংসাপত্র না পাওয়ায় তাঁরা আগে সাধারণ (General) শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। তবে যাচাই শেষে ১৩৩টি আবেদন বাতিল করা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাঁদের বর্তমান শ্রেণির নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

    প্রযুক্তির লক্ষ্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করা

    ইউপিএসসি-র চেয়ারম্যান অজয় কুমার বলেন, “প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এ বছর UPSC প্রিলিমসের আবেদন পর্যায়েই ডি-ডুপ্লিকেশন প্রক্রিয়া চালিয়েছে, যাতে প্রকৃত প্রার্থীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং জাল বা একাধিক আবেদন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউপিএসসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং প্রযুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি।”

  • ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করল ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সম্প্রতি চালু করেছেন অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ, যা মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভারতের পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং আধুনিক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য পেতে সাহায্য করবে। এটি শুধু তদন্তের গতিই বাড়াবে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উন্নততর সমন্বয় সাধনেও সাহায্য করবে।

    অভিজ্ঞান অ্যাপ কী?

    অভিজ্ঞা(ABHIGYAN App)  হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার জন্য নির্মিত একটি উন্নত ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্যের একটি একক উৎস প্রদান করা। আগে বিভিন্ন বিভাগ ও ডেটাবেসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজে বের করতে অনেক সময় লাগত, কিন্তু এখন অভিজ্ঞানের মাধ্যমে এই তথ্য সহজেই এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। এই প্ল্যাটফর্মটি আঙুলের ছাপের রেকর্ড, অপরাধীদের প্রোফাইল, মানব পাচার নেটওয়ার্ক এবং অপরাধ-সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। এই অ্যাপটি তদন্তকারীদের দ্রুত মামলাটি সমাধানে সাহায্য করার জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণও করে। এই অ্যাপটির ডেমোতে দেখানো হয়েছে যে, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাটাবেসের সাথে আঙুলের ছাপ মেলানো যায়।

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণে বড় অগ্রগতি

    অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপটি দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একটি বিশাল জাতীয় বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই ডেটাবেসে ১.২৯ কোটিরও বেশি ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে আগে যেখানে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই করতে কয়েক দিন সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই অ্যাপটি সরাসরি যুক্ত রয়েছে ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (National Automated Fingerprint Identification System বা NAFIS) সঙ্গে। এনএএফআইএস দেশের স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পুলিশ স্টেশন কিংবা প্রথম পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির আঙুলের ছাপ স্ক্যান করা হলে, অভিজ্ঞান তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিচয় খুঁজে বের করে। ফলে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    অ্যাপের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

    • ● মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে শনাক্তকরণ
    • ● জাতীয় অপরাধ তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
    • ● নতুন বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটাবেস সম্প্রসারণ
    • ● গ্রাউন্ড লেভেল থেকেই তদন্ত ও পুলিশি কাজে সহায়তা
    • ● ম্যানুয়াল যাচাইয়ের উপর নির্ভরতা কমানো

    তদন্তে গতি ও নির্ভুলতা বাড়বে

    দ্রুতগতিতে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। প্রতারকরা মানুষকে টার্গেট করতে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ক্যাম করছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং মানব পাচার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে, অপরাধ নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়াটি এত দীর্ঘ সময় নেয় যে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি পেতে চলেছে যা তাদের কাজকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দেবে। সরকারি সূত্রের দাবি, অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপ চালুর ফলে পুনরাবৃত্ত অপরাধী এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

    রাস্তায় দাঁড়িয়েই অপরাধী শনাক্তকরণ

    অভিজ্ঞান অ্যাপের (ABHIGYAN App) সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কোনও সন্দেহভাজন তথ্য বা একটি মামলা সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারীদের বিভিন্ন রেকর্ড ঘাঁটতে হবে না, এখান থেকেই সব পাবেন। এই একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে, তাঁরা দ্রুত সেই কেসটি শনাক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মটি অপরাধের ধরন বুঝতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকা বা কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে পুলিশ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই অ্যাপটির সাহায্যে পুলিশ রাস্তায়ও যেকোনো সন্দেহভাজনের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে পলাতক অপরাধীদের ধরতে আরও সহজ হবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের দিকে ভারত

    বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলি ক্রমশ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সেই ধারায় ভারতও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল রেকর্ড ও সময়সাপেক্ষ ফরেনসিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল পুলিশি ব্যবস্থা এখন রিয়েল-টাইম ডিজিটাল শনাক্তকরণের যুগে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপ শুধু তদন্তের সাফল্যের হারই বাড়াবে না, বরং দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের কারণে অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেস, অটোমেশন এবং মোবাইল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি অভিজ্ঞান ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Asian Relay Championship: চিনের মাটিতে চিনকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ৪x১০০ মিটার রিলে দল

    Asian Relay Championship: চিনের মাটিতে চিনকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ৪x১০০ মিটার রিলে দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান রিলে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুরন্ত সাফল্য পেল ভারত। চিনের ঘরের মাঠে চিনকে হারিয়ে মহিলাদের ৪x১০০ মিটার রিলেতে সোনার পদক জিতে নিল ভারতীয় দল। রবিবার প্রতিযোগিতার শেষ দিনে এসএস স্নেহা, সুদেষ্ণা শিভাঙ্কর, তামান্না এবং অভিজ্ঞ অ্যাঙ্কর শ্রাবণী নন্দা এই সাফল্য ছিনেয়ে আনেন। ভারতীয় কোয়ার্টেট ৪৩.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেয়। ভারতের ঠিক পিছনেই ৪৪.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপো জেতে চিন। মাত্র দুই শতাংশ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৪৪.১১ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ পায় থাইল্যান্ড। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ফটো ফিনিশে নির্ধারিত হয় পদকজয়ীদের স্থান।

    তামান্না ও স্নেহার জোড়া সাফল্য

    রিলে দৌড়ে গতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম নয় ব্যাটন বিনিময়ের নিখুঁততা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কোচ মার্টিন ওয়েন্সের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় দল একাধিক নিখুঁত ব্যাটন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চিনের শক্তিশালী দলকে পিছনে ফেলে দেয়। এই জয়ের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপে তামান্না এবং স্নেহা দু’জনেই দুটি করে পদক জিতেছেন। এর আগে তাঁরা পুরুষদের ২০০ মিটার জাতীয় রেকর্ডধারী অনিমেষ কুজুর এবং প্রণব গুরাভের সঙ্গে মিশ্র ৪x১০০ মিটার রিলেতে ৪১.২৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ভারতের তৃতীয় পদক আসে মিশ্র ৪x৪০০ মিটার রিলেতে। তীর্থেশ পি শেট্টি, এমআর পুভাম্মা, ভারত শ্রীধর এবং নীরু পাঠকের দল ৩:১৭.০৬ মিনিট সময় নিয়ে রুপো জয় করে। তবে ৪x৪০০ মিটার বিভাগে মহিলা দল ৩:৩৪.৮৮ মিনিট সময় নিয়ে চতুর্থ এবং পুরুষ দল ৩:০৫.৩৩ মিনিট সময় নিয়ে পঞ্চম স্থানে শেষ করে। এই দুই বিভাগেই সোনা জেতে ভিয়েতনাম।

    ‘লক্ষ্য এশিয়ান গেমস’

    চলতি বছরের শেষদিকে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। ৩৫ বছর বয়সি শ্রাবণী নন্দা মনে করেন, এই সোনাজয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তিনি বলেন, “পরিষ্কার ও ডোপমুক্ত থেকে প্রতিযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো মনোযোগ প্রতিযোগিতায় রাখা যায়। আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। ‘ড্রাগ ছাড়া সম্ভব নয়’—এই ধারণার বদলে ‘ড্রাগ ছাড়াই সফল হওয়া যায়’—এই বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।”শ্রাবণী বলেন, “এই মরশুমে আমার প্রধান লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। আমি সেরাটা দেওয়ার আশায় আছি।” উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের এশিয়ান রিলে চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হিসেবে চণ্ডীগড়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার আগে চিনের মাটিতে সোনা জিতে ভারতীয় স্প্রিন্টাররা মহাদেশীয় অ্যাথলেটিক্সে নিজেদের শক্তির পরিচয় আরও একবার তুলে ধরলেন।

  • Venezuela Earthquake: পরপর জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

    Venezuela Earthquake: পরপর জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিস্তীর্ণ অংশ। পরপর জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসের বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, জোড়া ভূমিকম্পের মধ্যে রিখটার স্কেলে প্রথমবার কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.১ ৷ যার উৎপত্তিস্থল ক্যারিবীয় উপকূলীয় এলাকা মোরোনের পশ্চিমে ৷ ওই এলাকাটি কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার (104 মাইল) দূরে। ভূমিকম্পনের গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরে হওয়া দ্বিতীয় ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৫। এর উৎপত্তিস্থল প্রায় ওই একই অঞ্চলে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    কেন এত ভয়াবহ এই ভূমিকম্প?

    ভেনেজুয়েলা অবস্থিত ক্যারিবিয়ান প্লেট (Caribbean Plate) এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)-এর সংযোগস্থলের কাছে। এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় অতীতে একাধিক শক্তিশালী কম্পনের সাক্ষী থেকেছে দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী কয়েকদিন আফটারশকের আশঙ্কাও রয়েছে।

    হতাহতের আশঙ্কা

    ইউএসজিএস আশঙ্কা করে জানিয়েছে, এই জোড়া ভূমিকম্পে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তত ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলা জুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। কারাকাসের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। উল্লেখ্য, ভেলেজুয়েলার এই ভূমিকম্প ওই অঞ্চল থেকে ১০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটাতেও অনুভূত হয়েছে। দুটি ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে ২০ বার আফটারশক হয়। কারাকাস ছাড়াও ভেনেজুয়েলার উত্তরীয় তটরেখা, লা গুয়ারিয়া, আরাগুয়া, ফ্যালকন, কারাবোডো অঞ্চল ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রশাসন ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করেছে। সেনা, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমেছে। হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    শতাব্দীর ভয়াবহতম ভূমিকম্প!

    ভেনেজুয়েলায় এই ভূমিকম্প গত এক শতকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ৷ শক্তিশালী এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করাও হচ্ছে ৷ এখনও কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো না-হলেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। অনেকেই হতাহত হয়ে থাকতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে ৷ রাজধানী কারাকাসে বেশ কিছু ভবন তাসের ঘরের মত ধসে পড়ে। বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন৷ একাধিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের তরফে ভূমিকম্পে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে৷ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীর রাষ্ট্রপতি ডেলসি রডরিগেজ দেশে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, রেল এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের জেরে ভেঙে পড়েছে সেখানকার ইন্টারনেট পরিষেবা।

LinkedIn
Share