Author: ishika-banerjee

  • PM Modi: ‘আবার ঘর থেকে কাজ করুন, পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাস ব্যাবহারে সংযত হন’, দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: ‘আবার ঘর থেকে কাজ করুন, পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাস ব্যাবহারে সংযত হন’, দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তার আবহে দেশবাসীর উদ্দেশে এক বছরের “নাগরিক সত্যাগ্রহ”-এর (Civic Satyagraha) ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সোমবার তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশবাসীকে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। দেশবাসীকে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্য সংযতভাবে ব্যবহারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য তিনি নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

    দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহার যথাসম্ভব সীমিত রাখা জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তেলঙ্গনায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া যেমন দেশপ্রেম, তেমনই দেশের জন্য বাঁচাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর কথায়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি ভারতীয়কে “রুপির রক্ষক” হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মত প্রধানমন্ত্রীর।

    পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর উপর জোর

    বর্তমানে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহের মূল পথ হরমুজ প্রণালীটি অবরুদ্ধ। তাই আমদানিনির্ভর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, রবিবার হায়দরাবাদের অনুষ্ঠান থেকে এমন আশঙ্কার কথাই জানান নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে এ কথা মাথায় রেখে দেশবাসীকে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় তিনি বলেন, “সময়ের দাবি মেনে পেট্রোল, গ্যাস এবং ডিজেলের মতো জ্বালানি অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ভারতের জ্বালানির অধিকাংশই আমদানি নির্ভর। তাই এর সঠিক ব্যবহার যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সাহায্য করবে, তেমনি যুদ্ধের প্রভাব থেকেও দেশকে রক্ষা করবে।” মোদি যাতায়াতের পদ্ধতিতে বদল আনার কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি অপচয় করা উচিত নয়। যেখানে সম্ভব, সেখানে মেট্রো রেল ও গণপরিবহণ ব্যবহার, ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে কার-পুলিং, পণ্য পরিবহণে রেলের ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কেন

    কোভিড-১৯-এর সময়কার দক্ষতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী দেশের কার্বন ফুটপ্রিন্ট এবং শক্তির খরচ কমাতে ভার্চুয়াল পরিকাঠামো পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। করোনা কালের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন বৈঠক ও ভার্চুয়াল কনফারেন্স ফের চালু করা যেতে পারে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন কমবে, তেমনই কার্বন নিঃসরণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    বিদেশ সফর নিয়ে সতর্ক বার্তা

    বিদেশ সফর নিয়েও সতর্ক বার্তা দেন মোদি। তাঁর কথায়, “আজকাল বিদেশে বিয়ে করা, বিদেশে বেড়াতে যাওয়া, ছুটি কাটাতে যাওয়ার সংস্কৃতি বাড়ছে মধ্যবিত্তদের মধ্যে। আমাদের ঠিক করতে হবে, সঙ্কটকালে, দেশের খাতিরে অন্তত এক বছর বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখব আমরা। আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে বিয়ে বা বিলাসবহুল অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা উচিত আমাদের।” তার বদলে দেশীয় পর্যটনকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। মোদি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন সম্পর্কে সচেতন থেকে “টাকার পাহারাদার” হিসেবে কাজ করতে বলেন।

    অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এখন নয়

    সোনার গয়না বা অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনাকাটাও এক বছরের জন্য কমানোর আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমবে। মোদি বলেন, “বিদেশি মুদ্রা বাঁচানোর সব উপায় দেখতে হবে। সোনা কেনার ক্ষেত্রেও বিদেশি মুদ্রা বেশি খরচ হয়। এককালে সঙ্কটের সময়, যুদ্ধের সময় দেশের স্বার্থে সোনা দান করতেন মানুষ। আজ দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্তত এক বছর, যে অনুষ্ঠানই হোক না কেন, সোনার গয়না কিনব না আমরা। সোনা কিনব না। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে, আমাদের দেশপ্রেম চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে হবে।”

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য ব্যবহারের গুরুত্ব

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য ব্যবহারের উপরও জোর দেন তিনি। জুতো, ব্যাগ, আনুষঙ্গিক সামগ্রী-সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারগুলিকে ভোজ্য তেলের ব্যবহারও কমাতে হবে। এতে যেমন দেশের আমদানি ব্যয় কমবে, তেমনই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

    প্রাকৃতিক চাষের দিকে নজর

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি প্রাকৃতিক চাষের দিকে ঝোঁকার এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেন। তিনি ভারতীয় কৃষককে পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লড়াইয়ে এক জন প্রথম সারির সৈনিক হিসেবে তুলে ধরেন। কৃষিক্ষেত্রে ডিজেলচালিত পাম্পের বদলে সৌরশক্তিচালিত পাম্প ব্যবহারের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারত এখন বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের ক্ষেত্রেও দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে তাঁর দাবি।

    দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা

    এদিন দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে এক সম্মিলিত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেনের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট শুধু সরকারের একার চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি জাতির চরিত্রের পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “শুধু সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করাই দেশপ্রেম নয়। এই সময়ে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দায়িত্বশীলভাবে বেঁচে থাকা এবং দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করাই আসল দেশপ্রেম। এগুলি কোনও ত্যাগ নয়, বরং দেশের প্রতি নাগরিক দায়িত্ব।” তিনি দাবি করেন, ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয় যদি এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলি একসঙ্গে করেন, তবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে ভারতকে আরও আত্মনির্ভর করে তোলা সম্ভব হবে।

  • Suvendu Adhikari: “মায়ের পা থেকে পদ্মফুল হাতে পড়েছিল” কালীঘাটে গিয়েই জেনেছিলেন বিজেপির জয়ের কথা, দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “মায়ের পা থেকে পদ্মফুল হাতে পড়েছিল” কালীঘাটে গিয়েই জেনেছিলেন বিজেপির জয়ের কথা, দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় যে বিজেপি সরকার গঠন করছে, তাঁর নির্দেশ নির্বাচনের আগে কালীঘাট মন্দির থেকেই পেয়েছিলেন, দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। কয়েকঘণ্টা পর ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে বেরিয়ে তিনি বললেন, বিজেপি যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে, কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে সেই উপলব্ধি হয়েছিল তাঁর।

    মা-কালীর নির্দেশেই পথচলা

    সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীঘাট মায়ের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল। কারণ, আমি যেদিন প্রথম মাকে প্রণাম ও পুজো করতে যাই, সেদিন মায়ের পা থেকে একটি পদ্মফুল আমার হাতে পড়েছিল। আমি সেদিনই বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ আমার কিংবা আমাদের উপর রয়েছে।” এদিন সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে যান শুভেন্দু। মাথায় পুজোর ডালা নিয়ে সোজা গর্ভগৃহে ঢুকে পড়েন। মা কালীর আশীর্বাদ নিয়েই পথচলা শুরু করবেন বলে জানান শুভেন্দু। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যেহেতু ভবানীপুরের বিধায়ক, শীতলা মায়ের মন্দিরে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”

    রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের তাঁবুতে বৈঠকটি হয়। এই বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নেন শুভেন্দু। অন্য দিকে, সোমবার বিকেল পাঁচটায় নবান্ন সভাঘরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত

    সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুব্রত গুপ্তকে। দিনদুয়েক আগে তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। এবার সেই সুব্রতকেই নতুন দায়িত্ব দিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হল। শুধু তা-ই নয়, নিয়োগ করা হল মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবও। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব করা হল শান্তনু বালাকে। তিনি ২০১৭ ব্যাচের আইএএস। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ছিলেন তিনি। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে নিয়োগ করল নবান্ন। গত বছরের অক্টোবরে রাজ্যে যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয় সেই সময় সুব্রতকে বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআরের কাজে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে সুব্রতের ভূমিকায় কমিশন সন্তুষ্ট হওয়ায় তাঁকে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনপর্ব মেটার পর গত বৃহস্পতিবার কমিশন সুব্রতকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। দু’দিন কাটতে না কাটতেই নতুন সরকারে নতুন ভূমিকায় সুব্রত।

  • Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    Ministers of West Bengal: সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়ন! শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ভারসাম্যের ছবি। রয়েছে সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা-মুখ, রাজবংশী-মতুয়া-আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এই মন্ত্রিসভা প্রমাণ করছে ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’-ই বাংলয় বিজেপি সরকারের লক্ষ্য। ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

    কারা কারা শপথ নিলেন শনিবার

    দিলীপ ঘোষ: শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার। বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    অগ্নিমিত্রা পাল: বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক। একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

    ক্ষুদিরাম টুডু: প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    অশোক কীর্তনিয়া: মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

    নিশীথ প্রামাণিক: শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল। শপথ নিলেন মাথাভাঙার বিজেপি বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

    বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ সোমবার

    বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে আগামী সোমবার, ১১ মে। সে দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোন দফতর সামলাবেন। জানা গিয়েছে, মন্ত্রী হতে পারেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। মন্ত্রী হতে পারেন অজিত কুমার জানা। মন্ত্রী হতে পারেন শঙ্কর ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মন্ত্রী হতে পারেন ইন্দ্রনীল খাঁ। মন্ত্রী হতে পারেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। মন্ত্রী হতে পারেন জুয়েল মুর্মু। মন্ত্রী হতে পারেন নমন রাই। মন্ত্রী হতে পারেন দীপক বর্মন। মন্ত্রী হতে পারেন বঙ্কিম ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সজল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন রুদ্রনীল ঘোষ। মন্ত্রী হতে পারেন সুব্রত ঠাকুর। মন্ত্রী হতে পারেন রথীন্দ্রনাথ বসু। মন্ত্রী হতে পারেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও সম্ভাব্য তালিকায় আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক রয়েছেন। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার তালিকায় আরও অনেকের নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার তালিকা তৈরি করার ক্ষেত্রে কিছু জিনিস মাথায় রেখেছে দল। এক, সমস্ত অঞ্চলগুলোর যেন প্রতিনিধিত্ব থাকে। দুই, সমস্ত স্তরে, জনজাতির মানুষদের মধ্যে থেকে যেন মন্ত্রী থাকেন সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তিন, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতর আছে, যেগুলো সামাল দেওয়ার জন্য শিক্ষিত মানুষের দরকার, শহরের মানুষের দরকার, সেই রকম কিছু মানুষকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি খেয়াল রাখা হচ্ছে সেটা হল, গোটা রাজ্যের প্রতিনিধিদের যাতে মন্ত্রিসভায় সামিল করা যায়।

    বিধানসভার স্পিকার হতে পারেন তাপস রায়

    আগামী সোমবার লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তার পর মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। মঙ্গলবার রাজভবনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী প্রোটেম স্পিকারের শপথ করাতে। বিধানসভার নতুন স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তাপস রায়ের। তার পর আগামী বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বিজেপির বিধায়কেরা শপথ গ্রহণ করবেন। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নামফলক বসে গিয়েছে বিধানসভায়। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। সে কারণে ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ‘যারা সমালোচনা করছে করুক, আমরা শুধু এগিয়ে যাব’, শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘যারা সমালোচনা করছে করুক, আমরা শুধু এগিয়ে যাব’, শপথের পর জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঁচিশে বৈশাখ, শনিবার কবিগুরুর জন্মদিনকেই বাংলায় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। এদিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণের (West Bengal CM 2026 Oath Ceremony) পর সরাসরি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কবিগুরুকে প্রণাম করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করলেন তিনি। এদিন শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভার সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন জোড়াসাঁকো, কালীঘাট মন্দির, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাবেন। বুধবার বিধানসভায় আসবেন। ওই দিন বিধায়করা শপথ গ্রহণ করবেন।

    বাংলাকে নবনির্মাণের ডাক

    ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে এদিন শুভেন্দু জানান, বাংলার অনেক ক্ষতি হয়েছ গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে বাংলাকে নবনির্মাণ করার ডাক দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এখন অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এখন একে অপরের সমালোচনার সময় নয়। যারা সমালোচনা করতে চাইছে করুক। আমরা এখন শুধু এগিয়ে যাব। চরৈবতি, চরৈবতি।” তাঁর কথায়, “ধুতি-পাঞ্জাবিতে থাকা ডঃ শ্যামপ্রসাদ মুখার্জির আদর্শের ভিত্তিতে যে দল তৈরি হয়েছে তার কোনও সার্টিফিকেট লাগে না। কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করব না। আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সকলের। যারা সমালোচনা করছেন তাঁদের চৈতন্য হোক।”

    বাঙালির চেতনা কবিগুরুর ভাবনায় হবে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছাতেই রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথা মেনে শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সরকারি কর্মসূচিতে যোগদান করেন তিনি। কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তাঁর বার্তা, বাংলা ও বাঙালির চেতনা কবিগুরুর চেতনা ও ভাবনায় হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও দেখা করতে পা যান। তখন পিছন থেকে বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান তোলেন। তখন একটু বিরক্তি নিয়েই পিছনে তাকান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন – ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’ স্লোগান তুলতে। সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান বদলে হয়ে যায় – ‘কবিগুরু লহ প্রণাম’।

    প্রকৃত উন্নয়নের পথে পশ্চিমবঙ্গ

    উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের লড়াইতে প্রথম থেকেই বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল হিসেবে দাগিয়ে দিতে চেয়েছে তৃণমূল। বাঙালি বনাম অবাঙালি বিভাজনের সমীকরণে পশ্চিমবঙ্গের গদি নিজেদের দখলে রাখতে চেয়েছিল তৃণমূল। তবে সে সব সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি বাংলায় সরকার গঠন করল। আজ পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁর শপথ উপলক্ষে যে মঞ্চ তৈরি করা হয়, সেই মঞ্চে দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বাঙালি সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের ছাপ ছিল মঞ্চে। অনুষ্ঠান স্থলে ছৌ নাচ ও বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছিল। অন্যান্য বছরেও ২৫শে বৈশাখ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে এই প্রথম ঠাকুরবাড়িতে ঢুকলেন তিনি। রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কবিগুরুকে প্রণাম জানিয়ে তিনি বলেন , ‘‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শির…।’’ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ বার প্রকৃত উন্নয়নের পথে চলবে পশ্চিমবঙ্গ।

  • India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    India’s Next CDS: দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক হচ্ছেন এনএস রাজা সুব্রমণি, পরবর্তী নৌসেনা প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। শনিবার সকালে ওই পদে তাঁকে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) হওয়ার পর স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা— তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সুব্রমণি। দেশের নতুন নৌসেনা প্রধানকেও নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। নৌসেনার ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার অফিসার কৃষ্ণ স্বামীনাথন চলতি মাসের শেষে নৌসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

    কবে থেকে দায়িত্ব গ্রহণ

    বর্তমানে দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক (India’s Next CDS) পদে আছেন জেনারেল অনিল চৌহান। আগামী ৩০ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার পরেই সিডিএস পদে দায়িত্ব নেবেন সুব্রমণি। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুব্রমণি সিডিএস-এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সামরিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবেও কাজ করবেন। বর্তমানে নৌসেনার মাথায় আছেন অ্যাডমিরাল দীনেশকুমার ত্রিপাঠী। আগামী ৩১ মে তাঁর কার্যকালের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তারপরই দায়িত্ব নেবেন নৌসেনা প্রধান। পরবর্তী নৌসেনা প্রধান স্বামীনাথন বর্তমানে মুম্বইয়ে পশ্চিম নেভাল কমান্ডের মাথায় রয়েছেন। এর আগে নৌসেনার উপপ্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলিশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার ছিলেন তিনি।

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে সেনা সর্বাধিনায়ক

    জাতীয় ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে ছিলেন সুব্রমণি (Lt Gen NS Raja Subramani)। সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে যান গারওয়াল রাইফেল্‌স-এ। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড স্টাফ কলেজে কয়েক বছরের জন্য যোগ দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তাঁকে পর্বত ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এর পর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজেও ছিলেন সুব্রমণি। ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক সংঘাতপ্রবণ এলাকায় সংবেদনশীল পদের দায়িত্ব সামলেছেন। কাজাখাস্তানের ভারতীয় দূতাবাসেও ছিলেন একসময়। সেনাবাহিনীতে নজরকাড়া কাজের জন্য একাধিক সম্মান লাভ করেছেন তিনি। ২০২৩ সালে সুব্রমণি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ জেনারেল অফিসার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার পরের বছরেই দেশের ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে অবসরের পর সুব্রমণি আপাতত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন। এ বার তাঁকে তিন বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হল।

  • Suvedu Adhikari: সমাজমাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ জুড়ে নিলেন শুভেন্দু, এখনও ‘প্রাক্তন’ লিখলেন না মমতা! বদলে কী করলেন?

    Suvedu Adhikari: সমাজমাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ জুড়ে নিলেন শুভেন্দু, এখনও ‘প্রাক্তন’ লিখলেন না মমতা! বদলে কী করলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমাজমাধ্যমে শনিবার নিজের পরিচয় বদলালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvedu Adhikari)। নামের সঙ্গে জুড়লেন ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়। তবে ভাঙলেন কিন্তু মচকালেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ বা এক্স হ্যান্ডলে নিজের নামের পাশে এতদিন ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ লেখেননি মমতা। শুধু উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ। আজ থেকে সমাজমাধ্যমে মমতার নতুন পরিচয়— ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (পঞ্চদশ, ষোড়শ এবং সপ্তদশ বিধানসভা)’।

    সমাজমাধ্যমে পরিচয় বদল

    অন্য দিকে, শনিবার শপথ নেওয়ার পরে শুভেন্দুর সমাজমাধ্যম-পরিচয় হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী’। গত ৪ মে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেও প্রথা মেনে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত তাঁর সরকারের মেয়াদ ছিল। সেই রাতে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আরএন রবি। অর্থাৎ, বিধানসভার অস্তিত্বও আর নেই। কিন্তু সমাজমাধ্যমে তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেননি। শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে নিজেকে ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলে পরিচিত করছেন তিনি। তাঁর ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজ বা এক্স হ্যান্ডল খুললেই সেই পরিচয় দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই তা বদলে গেল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে ২৯৪ (ভোট হয়েছে ২৯৩ আসনে) আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন বিজেপি জিতে নিয়েছে। শাসকদল তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা।

    কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিবর্তন

    কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়াতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটানো হল। ‘আনফলো’ করা হয়েছে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। অন্যদিকে ‘ফলো’র তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক্স অ্যাকাউন্ট। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অফিস অর্থাৎ পিএমও এবং অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও সংযুক্ত করা হয়েছে ‘ফলো’র তালিকায়। আগে থেকেই কলকাতা পুলিশের এক্স হ্যান্ডেলে ফলো’র তালিকায় ছিলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তাই শুধু নয়, তিনি নিজেও ভবানীপুরে হেরে গিয়েছেন। ফলে এই মুহূর্তে তিনি লোকসভা এবং বিধানসভার সদস্য নন। তার বিরোধী দলনেতা হওয়ারও কোনও সুযোগ নেই। তিনি এখন শুধুই তৃণমূলের চেয়ারপারসন।

    কেন ফলো করা হতো না প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে

    বলাই বাহুল্য কলকাতা পুলিশের এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচনী ফলাফল একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক আছে। কোনও কোনও মহলের বক্তব্য, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে পুলিশের কাজের স্বার্থেই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ফলোর তালিকায় রাজনৈতিক প্রশাসনিক এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ফলো’র তালিকায় থাকা বাঞ্ছনীয়। সেই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে এতদিন কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের ফলো’র তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পিএমও, হোম মিনিস্ট্রি সহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মন্ত্রকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল কেন ফলো করা হতো না?

  • Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা বাংলার ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হল। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। শপথবাক্য পাঠের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও চওড়া হাসি। পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি।

    শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন কারা

    এদিন শুভেন্দুর পর মন্ত্রী হিসবে একে একে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আরও পাঁচ জন বিধায়ক এদিন শপথ নেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। যদিও এখনও কারও দফতর ঘোষণা হয়নি।

    শপথ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। ছিলেন নিতিন গড়কড়ি। তালিকায় রয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্দু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। এছাড়াও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেম চন্দ সিং ও উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা কলকাতা

    অনুষ্ঠান উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতাকে। প্রায় ৪০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০টি প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছে। তবে খুশির আবহাওয়ার মাঝেও উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের আপাতত বিজয় মিছিল থেকে বিরত থেকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

    শপথের সকালে শুভেন্দুর বার্তা

    এদিন শপথের সকালেই তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু লিখলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ভোর। আজ, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পূরণ করছি। আজকের দিনটি দশকের পর দশকের দুঃশাসনের অবসান এবং উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ যুগের সূচনা করল। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনার বাংলা’ যুগের সূচনা হল।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘এই ঐতিহাসিক রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রাখা অটল আস্থারই প্রমাণ। অঙ্গ-কলিঙ্গ-বঙ্গ অঞ্চল জুড়ে জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে নির্ণায়ক জনরায়ের মাধ্যমেই এখন বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মীরা তাঁদের রক্ত ​​ও ঘাম দিয়ে এই বিজয়কে সিক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এটিকে সম্ভব করেছে। ভয়ের পরিবর্তে অগ্রগতিকে বেছে নেওয়ায় আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করব।’’

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসেই ভারতে (India-Iran Relation) আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সূত্রের খবর, আগামী ১৪-১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা তীব্র সংঘাতের আবহে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষিতে ব্রিকস মঞ্চকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় করতে চাইছে তেহরান। সূত্রের দাবি, ব্রিকসে যোগদানের পর থেকেই ইরান এই গোষ্ঠীকে “গুরুত্ব” দিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন বৈঠকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে।

    ভারতের প্রতি তেহরানের বার্তা, ব্রিকসের গুরুত্ব

    পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই হবে আব্বাস আরাঘচির প্রথম ভারত সফর। জানা গিয়েছে, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় ইরান চাইছে এই গোষ্ঠী আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে “গঠনমূলক ভূমিকা” নিক। এর আগেও মার্চ মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথোপকথনে ব্রিকসের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন আরাঘচি। ইরান সরকারের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের গঠনমূলক অবদান রাখা উচিত।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্রিকস গোষ্ঠীতে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মতো শক্তিধর দেশের পাশাপাশি ইরান নিজেও রয়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস কাঠামোয় সংযুক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবও—যাদের নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তেহরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে। কারণ বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এ বছর নয়াদিল্লিতেই আয়োজিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে তাই নয়াদিল্লির প্রতি তেহরানের এই বার্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারত-ইরান আলোচনা

    এই আবহে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন এলাকায় আটকে থাকা ভারতের ১৩টি জাহাজ নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত ও ইরান কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করে বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৩টি এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের তেল ও গ্যাস আমদানির বড় অংশ এই সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই রুটের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

LinkedIn
Share