Author: ishika-banerjee

  • India Bangladesh Relation: ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির! ৩ হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে তৎপর ভারত

    India Bangladesh Relation: ঢাকাকে কড়া বার্তা দিল্লির! ৩ হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে তৎপর ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সন্দেহভাজন প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশকে (India Bangladesh Relation) ফের বার্তা দিল ভারত। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি জানায়, এই যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বাধা পেয়েছে। বাইরের দেশ থেকে এসে অবৈধ ভাবে ভারতে যাঁরা বাস করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা এবং নিজের দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই ভারতের নীতি। এতে বাংলাদেশের কাছেও সহযোগিতা চাইল বিদেশ মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরানো নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

    বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, ভারত যদি জোর করে কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে এমন একাধিক মন্তব্য আমাদের চোখে পড়েছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মূল বিষয়টির প্রেক্ষাপটে মন্তব্যগুলিকে আমাদের বিচার করতে হবে। এতে অবশ্যই বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।’’ রণধীর জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে অনেকগুলিই বিবেচনাধীন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ তাদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে আমরা আশা করছি, যাতে ভারত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।’’ তিনি আরও বলেন, “ভারতের নীতি স্পষ্ট—দেশে অবৈধভাবে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আইন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

    ভারত বেআইনি পথ নেবে না

    বাংলাদেশে যা ‘পুশ ইন’, তা ভারতে ‘পুশ ব্যাক’ হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার পর্বেই বিজেপি বার বার দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে। তাই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পরে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-কে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। যদিও ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (অবৈধবাসী সন্দেহে ফেরত পাঠানো)-এর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে সে দেশের সরকার। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিজিবি-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা।

    তিস্তা প্রকল্পেও নজর ভারতের

    এদিন তিস্তা নদী নিয়েও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। জয়সওয়াল জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং জল সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা জানায়, চিন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বেজিংয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। ভারত বরাবরই তিস্তা প্রকল্পে চিনের সম্পৃক্ততা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। কারণ, তিস্তা নদী একটি কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। পূর্ব হিমালয় থেকে উৎপন্ন তিস্তা নদী সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের সেচ ও জীবিকার ক্ষেত্রে এই নদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ঢাকা-বেজিং সহায়তা

    বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা প্রকল্পে চিনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চেয়েছেন তারেক রহমান সরকারের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার বেজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, ‘এক চিন’ নীতি ও রোহিঙ্গাদের ফেরানো-সহ নানা বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রকের ১০ দফা ঘোষণা সংবলিত যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুরের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছিল বাংলাদেশে জলাভাবে রুগ্ন হয়ে পড়া তিস্তা নদীতে প্রাণ ফেরানোর প্রকল্পে চিনের সহযোগিতা এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পে সহযোগিতা। ঢাকার তরফে জানানো হয়, তিস্তার ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে চিনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দ্রুত বিনিয়োগকে বাংলাদেশ সরকার স্বাগত জানাবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতি

    চিন বহু বছর ধরে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সঙ্গে সংযোগকারী শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে তিস্তা নদী অববাহিকা অঞ্চলের উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে, ভারত ২০২৪ সালে তিস্তার জন্য প্রযুক্তিগত ও সংরক্ষণ সহায়তার প্রস্তাব দেয়, যা আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার জন্য দিল্লির প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে। তবে হাসিনা পরবর্তী সময়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জলবণ্টন একটি প্রধান বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নয়াদিল্লি এবং ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে দু’দেশই নিজেদের সম্পর্ক উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কেই নয়, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করলে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটপর্ব মিটেছে। ১৫ বছর পর ফের একবার ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী রইল বঙ্গভূমি। শনিবারই নতুন সরকার গড়বে বিজেপি। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। বিধানসভার (West Bengal Assembly) স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক, এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘরগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে পারবেন না কেউই। বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূলত এই নির্দেশ বহাল থাকছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় কাজ কর্ম শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সরল মমতার ছবি

    ইতিমধ্যেই বিধানসভার মন্ত্রীদের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এরইমধ্যে দেশের সংবিধান মেনে আগের সরকার ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। করেছেন ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা মারফত প্রাপ্ত ক্ষমতার প্রয়োগ। ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তবে, সরকার ভেঙে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল আরএন রবি। আসলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদেরও মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীও হয়ে গেলেন প্রাক্তন।

    সাজছে বিধানসভা

    ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘরে বা অন্যত্র কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। যেমন কোনও সুইচ বোর্ডের সমস্যা থাকলে, কোথাও শীততাপ যন্ত্রের সমস্যা থাকলে মেরামত করার কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে গোটা বিধানসভাজুড়েই। একইভাবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বারবার প্রয়োজনীয় পরিদর্শন করছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করছেন। নতুন নতুন নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সূত্রের খবর, ওখানেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গোটা বিধানসভায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি বন্দোবস্ত। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা।

  • Suvendu Adhikari: ‘আমি ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথ টার্গেট হত না’, নাম না করে তৃণমূলের দিকে সরাসরি অভিযোগ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘আমি ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথ টার্গেট হত না’, নাম না করে তৃণমূলের দিকে সরাসরি অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) না জিতলে চন্দ্রনাথকে এভাবে খুন হতে হত না। চন্দ্রনাথের মৃত্যু ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আমার সহায়ক না হলে হয়ত চন্দ্রনাথকে চলে যেতে হত না।” শুভেন্দুর দাবি, ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে, সুপারি কিলার এনে খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। শুভেন্দু বলেন, “বিরোধী দলনেতার সরকারি এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে গুলি চালানো হয়েছে। ১০ বছর তিনি এয়ারফোর্সে কাজ করেছেন। এখন আমার মনে হচ্ছে, বাড়ির লোক হয়ত ভাবতেই পারেন, আমার সহায়ক না হতেন, আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তাহলে ৩৮ বছরের যুবককে এভাবে চলে যেতে হত না। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক।”

    চন্দ্রনাথের মৃত্যু ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’

    চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari PA Death) বলেন, “ঠান্ডা মাথায় রেকি করে খুন করা হল। তদন্তকারীদের কাছে আমার প্রার্থনা, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বার করে আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।” বুধবার রাতে আপ্তসহায়কের মৃত্যুর খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ছুটে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের পর দেহ বের করার সময়ও সেখানে দেখা গেল শুভেন্দুকে। সঙ্গে আরও দুই বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো এবং অন্যান্য নেতারা।

    বুকের স্কেচ তৈরি করে গুলি

    বৃহস্পতিবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ডিজি শুভেন্দুকে জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, “গত ৩-৪ দিন ধরে রেইকি করে, যেভাবে পাঁচটি বুলেট তাঁর শরীরে বিদ্ধ করা হয়েছে, যেভাবে তাঁর বুকের স্কেচ তৈরি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তাতে নিন্দা আর দুঃখপ্রকাশ করার ভাষা পাচ্ছি না।” শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন যে, চন্দ্রনাথের চণ্ডীপুরের বাড়িতেও যাবেন তিনি। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কেরা সকলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, আমার কর্তব্য হল, চন্দ্রনাথের স্ত্রী-কন্যাসন্তানকে দেখা।”

    বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন

    বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর জনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন।

  • Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) প্রোফাইলের ডিসপ্লে ছবি পরিবর্তন করলেন। নতুন ডিসপ্লেতে স্থান পেয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতীকী ছবি, যা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor Anniversary)। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (PoJK)-এ অবস্থিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে নিশানা করে অভিযান চালায়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মোট ৯টি বড় জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে দাবি ভারতের।

    সেনাবাহিনীকে স্যালুট প্রধানমন্ত্রী মোদির

    পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে গত বছর ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। বৃহস্পতিবার তার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেনাবাহিনীর জয়গান গাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করার সংকল্পে অটল ভারত।” বৃহস্পতিবার মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এই অভিযানে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী অতুলনীয় সাহস, নির্ভুলতা এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রদর্শন করেছে। অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই অভিযান ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, প্রস্তুতি এবং তিন বাহিনীর সম্মিলিত শক্তির পরিচয় দিয়েছে। গোটা দেশ সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানায়। সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে করতে ভারত নিজের সংকল্পে অটল রয়েছে।”

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ

    অন্যদিকে, এদিন সকালে সেনাবাহিনীর তরফেও ভিডিও প্রকাশ করে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। বলা হয়, “সন্ত্রাসবাদীদের রেহাই নেই। জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে শাস্তি দেবে ভারত।” এদিন অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান। এক্সে করা পোস্টে তিনি লেখেন, “অপারেশন সিঁদুর আমাদের জাতীয় সংকল্প ও প্রস্তুতির শক্তিশালী প্রতীক। এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে নিখুঁত সমন্বয়, আধুনিক কৌশল ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানের জন্যও এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় প্রস্তুত। একই সঙ্গে এই অভিযান আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতারও প্রমাণ বহন করে।”

  • Suvendu Adhikari PA Death: শুভেন্দুর পিএ মেরে কোন পথ ধরে আততায়ীরা? এসেছিল কোন দিক দিয়ে? প্রকাশ্যে এল প্ল্যান

    Suvendu Adhikari PA Death: শুভেন্দুর পিএ মেরে কোন পথ ধরে আততায়ীরা? এসেছিল কোন দিক দিয়ে? প্রকাশ্যে এল প্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে হাড়হিম হত্যা! মধ্যমগ্রামে রাস্তার ওপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Suvendu Adhikari PA Death)! গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গাড়ির চালকও। পুলিশের দাবি এই খুন সুপরিকল্পিত। যে আবাসনের সামনে এই ঘটনা ঘটে সেই শুভম গার্ডেনিয়া আবাসনের সিকিউরিটি গার্ড জানান আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই আবাসনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সবটাই।

    কোন দিক দিয়ে এসেছে আততায়ীরা

    সিকিউরিটি গার্ড জানান, ১০টা থেকে ১০.১০টার মধ্যে হঠাৎই গুলি চলার আওয়াজ পান তিনি। তখন সিকিউরিটি ডেস্ক-এ বসে ছিলেন। এমন আওয়াজ শুনেই গেটের সামনে ছুটে যান তিনি। দরজা খুলে দেখতে পান কিছু একটা ঘটছে তাঁর অনতিদূরে। এরপর তড়িঘড়ি তিনি ছুটে এসে আবাসনের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সিকিউরিটি। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল এই রাস্তা দিয়েই চলে যায় বাইক। কিন্তু ওই সুরক্ষাকর্মীর কথায়, এই রাস্তা দিয়ে দুটো বাইকের কোনও বাইকই যশোর রোডের দিকে যায়নি। সিকিউরিটির দাবি, বাইক দুটি ঢুকেছে যশোর রোড দিয়েই দোহারিয়ার দিকে। মনে করা হচ্ছে, যশোর রোড না ধরে ভিতরের ঘিঞ্জি এলাকা দিয়েই আততায়ীরা পালানোর পরিকল্পনা নেয়।

    গাড়ির দরজা খুলতেই…

    যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নিহত চন্দ্রনাথের ফ্ল্যাটের খুব কাছেই। ওই এলাকার এক বিজেপি কর্মী  হত্যার প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, পথকুকুরকে খাওয়ানোর সময় তিনি গুলির আওয়াজ শুনেই ছোটেন। সুশান্ত সরকার নামে ওই বিজেপি কর্মী জানান, সেই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল। তিনি জানান, সেখানে গিয়ে দেখেন একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ির সামনে একটি ছোট গাড়ি আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করানো রয়েছে। ছোট গাড়ির ভিতরে কেউ ছিল না। তবে স্করপিওর ভিতরে একজন ব্যক্তি আতঙ্কিত অবস্থায় বসে কাঁদছিলেন এবং ভয়ে দরজা খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। সুশান্ত জানান, তিনি সাহস জোগানোর পরে ওই ব্যক্তি গাড়ির দরজা খোলেন। এর পরেই গাড়ির ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় আরও দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সুশান্তর দাবি, এমনিই রাত ৮টার পরে একটু ফাঁকা থাকে ওই এলাকা। এখান থেকে এক মিনিটও লাগে না যশোহর রোড যেতে। আততায়ীরা একেবারে ঠান্ডা মাথায় সব প্ল্যান করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তাঁর।

    পাশ দিয়েই চলে গিয়েছিল আততায়ীরা

    পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১০ থেকে ১০.১৫-র মধ্যে। জানা যাচ্ছে, হামলার সময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর গাড়ির চালক। কিন্তু বিস্তারিত জানতে মধ্যমগ্রাম ও ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে নজর রেখেছে পুলিশ। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। আদিত্য নামের ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘চন্দ্রনাথদার যে গাড়িটি ছিল সেটা আমাকে ক্রস করেছিল। বারাসাতের দিকে যাচ্ছিলাম এই পথে। সেই সময় আমাকে ক্রস করেই এগিয়ে যায় গাড়িটি। আমি চন্দ্রদার গাড়ি থেকে খুব বেশি হলে ১৫০ মিটার দূরে ছিলাম। আমার গাড়ি ওই ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছিল। ওঁর গাড়ি ৬০ এর কাছাকাছি ছিল কারণ আমার গাড়িকে ক্রস করে। হঠাৎ করেই দেখি গাড়ির গতি কমে যায়। পড়ে বুঝতে পারি সামনে একটা গাড়ি চলে আসে। এরপর একটি বাইক আমাকেও ক্রস করে ওই গাড়ির কাছে চলে যায়। ওই লোকটিই গুলি করে। একজন লোকই ফায়ার করেছিল। ওখানে আমার আর দাঁড়ানোর সাহস ছিল না। মাথায় হেলমেট ছিল বলে মুখ দেখতে পাইনি ওই বাইকারের।’

    পেয়ারাবাগানে অপেক্ষা

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনার পর বাইকটি দোহারিয়া শৈলেশ নগরের কাছে পেয়ারাবাগানে ওই গাড়িটির জন্য অপেক্ষা করছিল। এরপর চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি ওই এলাকায় ঢুকতেই পেয়ারাবাগান থেকে রওনা দেয় গাড়িটি। এরপর পথ আটকে গাড়ি থেকে নেমে আসে দুষ্কৃতীরা। গুলি করার ধরন দেখে তদন্তকারীদের দাবি ওই আততায়ী শার্প শ্যুটার। তাঁকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অলিগলি না চিনলে বা আগে থেকে রেকি না করলে এমন নির্জন জায়গা বেছে নেওয়া সম্ভব নয়।

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

  • Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনা উসকে দিয়েই আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি বৈঠকে বসছে বিজেপি (BJP)। আর সেই বৈঠকের পৌরহিত্য করতে খোদ কলকাতা আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা কে হবেন। অর্থাৎ, কার মাথায় উঠবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট।

    ‘অ্যাকশনে’র প্রস্তুতি শুরু

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রস্তুতি শুরু শুক্রবারের ‘অ্যাকশনে’র। আগামী ৮ মে, শুক্রবার ঠিক বিকেল চারটেয় নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মিটিং থেকেই ঠিক হবে বাংলা কার নেতৃত্বে চলবে আগামী পাঁচ বছর। আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে এখানেই। এই বৈঠকের প্রস্তুতি এবং সভাস্থল খতিয়ে দেখতে বুধবারই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার ঘুরে দেখলেন শঙ্কর ঘোষ ও সৌমিত্র খাঁ-র মতো দলের হেভিওয়েট নেতারা।

    অমিত শাহের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ

    সাধারণত দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা বিজেপির দস্তুর। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে শাহের সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজনৈতিক মহল। নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানী বিজেপি। সর্বসম্মতভাবে নেতা নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের লক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে, ঐক্যের বার্তা। সরকার গঠনের আগে দলের বিধায়কদের একজোট রাখার কড়া বার্তা দেওয়া এই বৈঠকের অন্যতম অ্যাজেন্ডা বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই বৈঠকে আলোচনা হবে শপথের রূপরেখা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক নাম ঘুরছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে। জল্পনার তালিকায় যেমন রয়েছেন দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতারা, তেমনই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নামও উঠে আসছে। শুক্রবারের বৈঠকের পর শাহের উপস্থিতিতেই সেই ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কখন আসবেন শাহ

    আগামী কাল, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ শাহের বিমান কলকাতার মাটি ছোঁবে। নিউটাউনের হোটেলে রাত কাটাবেন তিনি। খোদ অমিত শাহের কলকাতায় এসে এই বৈঠক করা আসলে প্রমাণ করছে, বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে একচুলও ঢিলেমি দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতায় এসে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের ‘ক্লাস’ও নেবেন শাহ। কীভাবে রাজ্যে সরকার বা প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাতে হয়, প্রধানত তারই পাঠ। দলের অন্দরের ব্যাখ্যা, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের বিরোধী দলের ভূমিকাই সামলাতে হয়েছে। ফলে সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা বঙ্গ বিজেপির একেবারেই নেই। সেই অভিজ্ঞতার পাঠই পড়াবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে শুধুই ‘ক্লাস’ করানো নয়। প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশিকাও দেবেন অমিত শাহ।

  • Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুদের স্তুপের উপর বসে রাজ্য। ভোট পরবর্তী ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলছে। কোথাও চলল গুলি, কোথাও বোমাবাজি (Panihati Bombing)। পরপর হামলা, অশান্তির অভিযোগ শহর কলকাতা লাগোয়া একাধিক জায়গায়। ভোট পরবর্তী সময়ে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারাকপুর, টিটাগড়, সোদপুর, কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া চত্বর। কার্যত বোমা-বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই সব এলাকা। এখনও সেই রেশ ধরেই বুধবার পানিহাটিতে চলল বোমাবাজি। রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পরও আক্রান্ত হলেন বিজেপি কর্মীরা। একদিকে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কে গুলি করে খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ বিজেপি কর্মী।

    পানিহাটিতে পরপর বোমা

    বুধের মধ্যরাত পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অশান্তির খবর আসে। সূত্রের খবর, পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে বুধবার রাত সাড়ে দশটার কিছু পরে অশান্তি শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা বোমা ছোড়ে। পানিহাটির (Post Poll Violence) দু’নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডের ঘটনা। গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসেন। বাইকে চারজন ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেখানে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরপর তিনটি বোমা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই সেখান থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

    পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত

    বোমাবাজিতে প্রায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দা থানার পুলিশ। সঙ্গে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সেখানে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দা থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এছাড়াও সোনারপুরের সাউথ উইন্ডস কমপ্লেক্স এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বুধবার। বরানগরে বিজেপির এক কর্মীর উপর ছুরি চালানো হয়েছে।

  • Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না, হুঁশিয়ারি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya)। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার জন্য বুধবার বিকেলে নবান্নে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে ঢোকার আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলে যান, ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনাও করবেন তিনি।

    কেন নবান্নে গেলেন শমীক

    বুধবার বিকেল ৩টে নাগাদ শমীক নবান্নে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। উদ্দেশ্য, ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করা। আগামী শুক্রবার, ৮ মে সন্ধেয় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ৯ মে শনিবার পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হবে রাজকীয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করতেই এদিন বিকেলে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    শপথগ্রহণে থাকবেন মোদি-শাহ

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ভাবে নাম বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। এগারো সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘পাল্টানো দরকার’ ক্যাম্পেনে বিজেপি কোনও একজনকে মুখ করেনি। তৃণমূলকেও এ ব্যাপারে কোনও ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দেয়নি। দল লড়েছিল সমষ্টিগত লড়াই দিয়ে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কঠোর

    নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক আবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’’

    দলে তৃণমূলীকরণ নয়

    শমীকের দাবি, রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। আর যাঁরা ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বিদায় জানানো হবে। বস্তুত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এবং পর দলবদলের রাজনীতি সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর দল পাল্টানোর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। শমীক জানাচ্ছেন, তাঁর দলে ওই দৃশ্য দেখা যাবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে… প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’’

    রক্ত ঝড়ছে বিজেপি কর্মীদের

    শমীকের এ-ও দাবি, রাজ্যে প্রথম বার বিজেপি ক্ষমতা দখল করার পরেও রক্ত ঝরেছে তাঁদেরই। ইতিমধ্যে বিজেপির দু’জন কর্মী মারা গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ নির্বাচনের ফল যদি উল্টো হত, এখনই বিজেপির ২০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। ১০০০ মহিলা গণধর্ষিতা হতেন। কিন্তু আমরা কোনও অবস্থায় হিংসা চাই না। আমি আগেও রাজ্যের ডিজি, কলকাতার সিপি-কে বলেছি, লাঠিচার্জ করতে।’’বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। তার পরেও বিজেপির যদি কোনও নেতা উস্কানিতে প্ররোচনা দেন, হিংসায় প্রশ্রয় দেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’

    নবান্ন না মহাকরণ!

    বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল (West Bengal Election Result 2026) ঘটে গেলেও প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে জল্পনা চলছেই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে আবার গঙ্গার এপারে মহাকরণে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ নবান্ন (Nabanna) থেকে নয়, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ (Writers’ Building) থেকেই সরকার চলবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সরে যাওয়ার পর থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল, তা আজও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্ন না কি মহাকরণ – কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে প্রথম বৈঠক!

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুধবার জানিয়েছেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের স্থান এখনও স্থির হয়নি। মহাকরণের মেইন ব্লকসহ একাধিক ব্লকের সংস্কারের কাজ এখনও বাকি। এই অবস্থায় বৈঠক কোথায় হতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। বিকল্প হিসেবে নবান্ন বা বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের নাম উঠে আসছে। তবে সূত্রে খবর, বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব বিধানসভার সচিবের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়তো বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত হতে পারে।

     

     

     

     

     

  • ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC Ranking) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে ভারত। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। মাঠের মতো আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকাতেও এখন সেরা সূর্যকুমারেরা। মঙ্গলবার আইসিসি দলগুলির যে ক্রমতালিকা প্রকাশ করেছে তাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ভারতীয় দলের রেটিং ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড। তাদের রেটিং ২৬২।

    ক্রম তালিকায় কে কোথায়

    গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রানার্স নিউজিল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ স্থানে। মিচেল স্যান্টনারের দলের রেটিং ২৪৭। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব বিদায় নিলেও ক্রমতালিকায় তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ২৫৮। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকাও রয়েছে ক্রমতালিকায় পঞ্চম স্থানে। প্রোটিয়াদের রেটিং ২৪৪। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তাদের রেটিং ২৪০। দু’বারের বিশ্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৩ রেটিং নিয়ে সপ্তম স্থানে। বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশ রয়েছে ক্রমতালিকায় আট নম্বরে। লিটন দাসের দলের রেটিং ২২৫। নয় এবং দশ নম্বরে রয়েছে এশিয়ার অন্য দুই দেশ শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান। এই দু’দেশের রেটিং যথাক্রমে ২২১ এবং ২২০।

    সেরা ব্যাটার অভিষেক

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সূর্যকুমার যাদবের দল এখনও মাঠে নামেনি। ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই এই ফরম্যাটে সেরা ভারত। ২০২৪ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এই দু’বছরে একটাও সিরিজ হারেনি টিম ইন্ডিয়া। এমনকী, ২০২৬ বিশ্বকাপটাও ভারত খেতাব জেতে। যার সুফল টিম ইন্ডিয়া পেয়েছে আইসিসি ক্রমতালিকাতেও। ব্যক্তিগত ক্রমতালিকাতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই ভারতীয়রাই। ব্যাটারদের ক্রমতালিকায় প্রথম তালিকায় রয়েছেন অভিষেক শর্মাই। দু’নম্বরে ভালো ফর্মে থাকা ঈশান কিষান। পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান তৃতীয় স্থানে। বোলারদের শীর্ষস্থান অবশ্য খুইয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। যশপ্রীত বুমরা রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।

LinkedIn
Share