Author: pranabjyoti

  • Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল কলকাতা বইমেলার সলতে পাকানোর কাজ। ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে নবান্নের চোদ্দতলার কনফারেন্স হয়ে গেল বৈঠক (Meeting)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা। গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের প্রধান সচিবও উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। জানা গিয়েছে, আসন্ন বইমেলায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে চাইছে সরকার। পূর্বে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বইমেলা কমিটিকে দিকনির্দেশনা দেবে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড। এই বোর্ড গঠিত হবে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে পরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে।

    কারা ছিলেন সভায়? (Kolkata Book Fair)

    রামকৃষ্ণ মিশনের বই প্রকাশিত হয় উদ্বোধন কার্যালয় থেকে। এই প্রকাশনা সংস্থার তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী আর্যেশানন্দ। ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী সরস্বতানন্দ মহারাজ। এঁরা প্রত্যেকেই নিজস্ব মতামত দেন। নানা বিষয়ে পরামর্শও দেন। পরামর্শদাতা বোর্ডে কারা থাকবেন তা নিয়েও সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। এঁরা হলেন, স্বামী আর্যেশানন্দ, প্রকাশনা প্রধান, উদ্বোধন (রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি), স্বামী সরস্বতানন্দ, প্রকাশনা প্রধান (ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিনিধি), শ্রী দেবজ্যোতি দত্ত (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি) (Kolkata Book Fair), শ্রী অনিল আচার্য (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী মিলিন্দ দে (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী রাজকুমার বর্মন (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রীমতী তনুজা চক্রবর্তী (সমাজকর্মী), অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার (আইনজীবী ও সম্পাদক, দেশের ডাক), শ্রী সপ্তর্ষি চৌধুরী (সমাজকর্মী), শ্রীমতী অফেলিয়া সিং (শিক্ষক), শ্রী প্রসেনজিৎ বক্সী (পরামর্শদাতা সম্পাদক, দূরদর্শন), শ্রী অনির্বাণ দে (গ্রন্থ বিকাশ পরিষদ), ড. অরিন্দম ভট্টাচার্য (অধ্যাপক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), শ্রী বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (কবি), শ্রী সুকেশ মণ্ডল (স্বস্তিকা), শ্রী জয়ন্ত বিশ্বাস (ভিএইচ বার্তা), ড. রবিরঞ্জন সেন (কলামিস্ট), ড. মোহিত রায় (লেখক), শ্রী অমিতাভ রায় (ভারতীয় জন বার্তা), অ্যাডভোকেট ওসমান গণি (সেক্যুলার ফাউন্ডেশন), এনবিটি (ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট)-এর একজন প্রতিনিধি, শ্রী আশিস গিরি, নির্দেশক, ইজেডসিসি (ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার-এর প্রতিনিধি), মাকাইয়াস (MAKAIAS)-এর একজন প্রতিনিধি, এবং রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি (Meeting)।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত

    এই বৈঠকে আরও বিষয়গুলিও সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে, সেগুলি হল ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) ইস্ট জোন কালচারাল সেন্টার (ইজেডসিসি) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি)-এর সহযোগিতায়, উপদেষ্টা বোর্ডের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড দ্বারা আয়োজিত হবে। সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে উপদেষ্টা বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে এবং গিল্ডের অন্যান্য সদস্য ও আয়োজকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।

    ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজ

    বইমেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-কমিটিগুলি প্রয়োজন (Kolkata Book Fair) অনুযায়ী উপদেষ্টা বোর্ড থেকে সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবে। উপদেষ্টা বোর্ডের বৈঠকগুলি ইজেডসিসি (EZCC)-তে অথবা উপদেষ্টা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য কোনও সুবিধাজনক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বইমেলা শুরু হবে আগামী ২২ জানুয়ারি, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধিরা জানান, মেলার জন্য নির্দিষ্ট মাঠ অর্থাৎ সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক বরাদ্দের অনুরোধ ইতিমধ্যেই নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। গিল্ডকে এই বিষয়টি নিয়ে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক (UDMA) বিভাগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা ও তদারকি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে। বৈঠক শেষে তৈরি (Meeting) হয় সভার কার্য বিবরণী। তাতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস ড. সুব্রত গুপ্ত (Kolkata Book Fair)।

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাইয়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জেরে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বড় মাপের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা পরিকল্পিত জনজমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ বলে (Mobilisation Funding) পুলিশ সূত্রে খবর। এখন থেকে কোনও বড় বা পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার গোয়েন্দা শাখা এবং বিশেষ শাখাকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু কোথায় বিক্ষোভ হবে, কখন হবে এবং আনুমানিক কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেন—এই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার বদলে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, সংগঠন, নেতৃত্ব, সমাবেশের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের সার পদ্ধতি এবং স্থানীয় যোগাযোগ-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    যন্তর মন্তরে জন জমাবেশ (Jantar Mantar Protest)

    গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় আধিকারিকদের একাংশের মনে হয়েছে, বিক্ষোভের আগে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা, তাঁদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভুল আগাম তথ্য পুলিশের হাতে ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।

    এই অভিজ্ঞতার পরেই বিশেষ শাখাকে আরও বিস্তারিত এবং ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনও বিক্ষোভের ক্ষেত্রে শুধু জনসমাগমের সম্ভাব্য আকার বা ঘটনাস্থলের তথ্য নয়, বরং বিক্ষোভের সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোন রাজ্য থেকে কত মানুষ আসছেন, তাঁদের কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, কারা তাঁদের নিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভের পিছনে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা সংগঠকের ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট দাবি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে (Mobilisation Funding)।

    জোগাড় করা হবে যাবতীয় তথ্য

    বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে কোথায় থাকছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, দিল্লিতে তাঁদের কী ধরনের স্থানীয় সংযোগ রয়েছে—এই তথ্যও সংগ্রহ করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য অর্থের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এত বড় জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ, থাকা, খাবার এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    এক কথায়, দিল্লি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু “কোথায় বিক্ষোভ হবে” বা “কখন বিক্ষোভ হবে”—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা নয়। বরং বিক্ষোভের পিছনে কারা রয়েছেন, কারা মানুষকে সংগঠিত করছেন, কোন কোন এলাকা বা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, কোন সংগঠনগুলি যুক্ত এবং কীভাবে গোটা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য (Jantar Mantar Protest)।

    বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে থাকা পুলিশকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দ্রুত নীচে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সমস্ত ত্রুটি বা ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের লক্ষ্য

    পুলিশের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্য কোনও ধরনের বিক্ষোভ বন্ধ করা নয় বলেই সূত্রের দাবি। বড় জনসমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যে সমস্ত বিক্ষোভে দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন অথবা একাধিক সংগঠন একই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে বড় ধরনের শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়—সমাবেশের আকার, অংশগ্রহণকারীদের উৎস, সংগঠকদের ভূমিকা, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম নির্ভুল তথ্য থাকা জরুরি। সেই প্রয়োজন থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিকে আরও বিস্তৃত এবং কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Jantar Mantar Protest)।

    নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের আগে পাওয়া তথ্যকে একাধিক স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোনও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, কোথায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—সেই সব বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Mobilisation Funding)।

    বদলাতে পারে দিল্লি পুলিশের কৌশল

    দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বড় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনায় তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিপুল জনসমাগম এবং একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরের ঘটনার পর পুলিশের লক্ষ্য এখন একটাই—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে (Mobilisation Funding) ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকা (Jantar Mantar Protest)।

     

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়া পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গিয়েছে গুন্ডাদমন আইনের (Anti Goonda Act) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা অন্য কোনও অজুহাতে সরকারি বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সদ্য পাস হওয়া আইন কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানেই বলা হয়, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর করা হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

    সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে হিংসাত্মক আন্দোলন বা অরাজকতার নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতির মূল পরিমাণের তিন গুণ অর্থ আদায় করা হবে। সেই অর্থ কড়ায়-গন্ডায় সুদ-সহ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হবে। শুধু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায়ও দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    জুলাইয়েই বিধানসভায় পাস গুন্ডাদমন বিল (Anti Goonda Act)

    রাজ্য থেকে অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতেই বিধানসভায় পেশ ও পাস করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’। সাধারণ মানুষের কাছে যা গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাসও হয়।

    বিল পেশের সময় সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত বাংলা গড়ে তোলাই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয় (Anti Goonda Act)।

    এর পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যে আগে থেকেই চালু থাকা আইনি কাঠামোয় সংশোধন এনে পাস করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষণ আইন সংশোধনী বিল, ২০২৬’। দু’টি আইন একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা এসেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক আটক করার পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

    অতীতের হিংসার প্রসঙ্গ তুলে কড়া বার্তা

    সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। রেল স্টেশন, ট্রেন এবং সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়। কয়েকটি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    হাওড়ার সাঁকরাইলেও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Anti Goonda Act)।

    সরকারি সম্পত্তি নষ্টে জিরো টলারেন্সের বার্তা

    বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আন্দোলনের নামে হিংসা, অরাজকতা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।

    সরকারের বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পত্তি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। গুন্ডামি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন ভাঙলে তার আর্থিক ও আইনি—দুই ধরনের পরিণতিই ভোগ করতে হবে (Anti Goonda Act)।

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের (Pakistani Military Convoy) মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে ভয়াল হামলা এবং পরবর্তী অতর্কিত হামলায় ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Army)।

    সংগঠনের মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ জানিয়েছেন, ২২ অগাস্ট রাতে মাস্তুং জেলার খাদকোচা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আর একটি সাঁজোয়া গাড়ি ও কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    জিয়েন্দ বালোচ বলেন, “এই ভয়াবহ হামলায় দখলদার বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি জখম হয়েছে।” তিনি জানান, এই অভিযানে সংগঠনটির বিশেষ কৌশলগত অভিযান দল অংশ নেয়।

    এর আগে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বালোচিস্তান পোস্টকে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস এবং আর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

    হামলার পর অনির্দিষ্টকালের কারফিউ (Baloch Liberation Army)

    হামলার পর ২৩ অগাস্ট সকাল ৭টা থেকে খাদকোচা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও বাজারে যাতায়াত করাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং এলাকায় চলমান অভিযানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Pakistani Military Convoy)।

    এদিকে ২৩ অগাস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় পৃথক একটি হামলায় তিন পাক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি তল্লাশি দলের ওপর হামলা হলেও তিন সদস্যই আহত হয়েছেন।

    কর্তাদের বক্তব্য, তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছ’জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পর গুলি চালায়। পরে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির আরও দাবি করেছে, নোশকি, কালাত, খারান, ওয়াশুক, জেহরি ও চাগাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আরও আটটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটির পরবর্তী সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে (Baloch Liberation Army)।

    সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস

    স্থানীয় সূত্রে খবর, খাদকোচায় সামরিক কনভয়ের অংশ হিসেবে চলাচলকারী একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য একটি সাঁজোয়া গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    আঞ্চলিক সূত্রগুলি জানিয়েছে, দুই সামরিক সদস্যের মরদেহ এবং আটজন আহত সেনাকে মাস্তুংয়ের নওয়াব গাউস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর (Pakistani Military Convoy)। তবে এই হামলায় হতাহতের বিষয়ে পাক কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু বলেননি।

    খাদকোচা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    খাদকোচায় সর্বশেষ হামলার আগে ১৭ জুলাই ওই একই এলাকায় বড় ধরনের আর একটি হামলা হয়েছিল। সেদিন কোয়েটা থেকে করাচির দিকে যাওয়া ১৮টিরও বেশি বাস ও নিরাপত্তাবাহিনীর যানবাহন নিয়ে গঠিত একটি কনভয়ে হামলা হয়। সেই হামলার দায়ও বালোচ লিবারেশন আর্মি স্বীকার করেছিল এবং বহু সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল সংগঠনটি।

    এদিকে ২২ অগাস্ট রাতেই মাস্তুং জেলার খাদকোচার কাছে আনজেরি ক্রস এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক এন-২৫-এর একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেতুটিতে হামলা চালায়। যদিও, হতাহতের খবর  মেলেনি।

    সেতুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মহাসড়কে যান চলাচলে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কর্তৃপক্ষ। বালোচিস্তানকে (Baloch Liberation Army) করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির একটি হল এই মহাসড়ক (Pakistani Military Convoy)।

    এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেতুতে তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ২১ অগাস্ট খুজদারের জিদি এলাকায় একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয় বলে খবর মিলেছে। এর আগে খারানের সোটাগান এলাকায় খারান-করাচি মহাসড়কের একটি সেতু ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া যায়।

    তবে সেতুগুলিতে চালানো এসব হামলার কোনওটির দায় স্বীকার করে সোমবার সন্ধে (Baloch Liberation Army) পর্যন্তও বিবৃতি দেয়নি কোনও সংগঠন (Pakistani Military Convoy)।

     

  • JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের (Wandhama Massacre) তদন্ত ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর (JK SIA) রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। ওই হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন। উপত্যকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তুঙ্গপর্বে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকালাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার মামলার তদন্তও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যার মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছিল।

    ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড ও টাপলুর হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন আগে কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা এখন হামলায় জড়িত জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

    ওয়ান্ধামায় নিহত ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিত (JK SIA)

    ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামের কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা। হামলায় ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন এবং রমজান মাসের অন্যতম পবিত্র রাত শবে কদরের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি (JK SIA)।

    নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘটনাটি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের সময়কালের বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাগুলির পুনর্তদন্তের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুরনো হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    জুন মাসে সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৩৭ পাতার অভিযোগপত্র পেশ করে ওই সংস্থা। ১৯৯০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জেলবন্দি জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Wandhama Massacre)।

    এর পর অগাস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

    টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি গঞ্জুর মামলায়ও নজর

    কাশ্মীরের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সহ-সভাপতি টিকালাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে টাপলুর হত্যাও ছিল অন্যতম (JK SIA)।

    বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তও নতুন করে জোরদার করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি গঞ্জু।

    ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে সন্দেহভাজন জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বিচারপতি গঞ্জু। তার আগে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

    কয়েক দশকের পুরনো মামলায় ফের তৎপরতা

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলিকে ফের তদন্তের আওতায় আনার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ। সরলা ভাট এবং সর্বানন্দ কৌল প্রেমীর হত্যার মামলায় সাম্প্রতিক তদন্ত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগপত্র পেশের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা কয়েক দশকের পুরনো একাধিক মামলার সূত্র খতিয়ে দেখছে। জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে সন্ধান করা হচ্ছে (Wandhama Massacre) নতুন সূত্রের।

    ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলা ফের সক্রিয় তদন্তের আওতায় এল। ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড, টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার পুনর্তদন্ত সেই প্রক্রিয়াকেই আরও বিস্তৃত করল (JK SIA) বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

    তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

    অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

    তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

    এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

    সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

    অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

    আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

    রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

    তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

     

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

LinkedIn
Share