Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

suvendu-adhikari-ncc-reintroduction-bengal-schools-arjun-bahini

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share