Author: Susanta Das

  • Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    Airbus H125 Helicopter: এভারেস্টে উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি হবে ভারতেই! ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ কতটা কার্যকর? কী এর বৈশিষ্ট্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্স যৌথভাবে বিশ্বের প্রথম এমন হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হবে। মঙ্গলবার ‘বন্ধু’ ইমানুয়েল মাক্রঁকে পাশে নিয়ে এই কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই উদ্যোগকে তিনি ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ কর্নাটকের কোলার জেলার ভেমাগালে ‘এয়ারবাস এইচ১২৫’ হেলিকপ্টারের অ্যাসেম্বলি লাইনের উদ্বোধন করেন। মোদি ও মাক্রঁ মুম্বই থেকে ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরুতে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতে এই হেলিকপ্টার অ্যাসেম্বলি শুরুর মাধ্যমে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হল। আমরা গর্বিত যে ভারত ও ফ্রান্স এমন একটি হেলিকপ্টার তৈরি করবে, যা মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি বিশ্বজুড়েও রফতানি করা হবে। অর্থাৎ, ভারত–ফ্রান্স অংশীদারিত্বের কোনও সীমা নেই—এটি গভীর সমুদ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”

    তৈরি হবে সামরিক সংস্করণও

    সূত্রের খবর, ভারতে তৈরি প্রথম এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে ২০২৭ সালের শুরুতে। অসামরিক সংস্করণের পাশাপাশি ভেমাগালের কারখানায় এই হেলিকপ্টারের সামরিক সংস্করণও উৎপাদিত হবে, যার নাম হবে ‘এইচ১২৫এম’ (এম ফর মিলিটারি)। এই উৎপাদন কেন্দ্রটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থা এয়ারবাসের সহযোগিতায় টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL) নির্মাণ করেছে। এই প্রথমবার কোনও বেসরকারি ভারতীয় সংস্থা দেশের মাটিতে সম্পূর্ণভাবে হেলিকপ্টার সংযোজন ও পরীক্ষার কাজ করবে।

    এয়ারবাস এইচ১২৫ হেলিকপ্টার কী?

    • ● এয়ারবাসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এইচ১২৫ বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত সিঙ্গল-ইঞ্জিন হেলিকপ্টার।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ একমাত্র হেলিকপ্টার, যা ইতিহাসে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করেছে। এর ফলে এটি বিদ্যমান লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টারগুলির তুলনায় অনেক বেশি উচ্চতায় কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
    • ● ভারতীয় সেনাবাহিনী যেসব অত্যন্ত-উচ্চ ও উচ্চ-তাপমাত্রার অঞ্চলে কাজ করে, সেখানে এই ক্ষমতা একটি বড় কৌশলগত সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এয়ারবাস এইচ১২৫ প্রথম উড়ান দেয় ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে পরিষেবায় যোগ দেয় একটি বহুমুখী লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার হিসেবে। এর সামরিক সংস্করণ এয়ারবাস এইচ১২৫এম চালু হয় ১৯৯০ সালে, যা সশস্ত্র নজরদারি, হালকা আক্রমণ ও পাইলট প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।
    • ● বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশের ৪৪টি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে এয়ারবাস এইচ১২৫ ও এয়ারবাস এইচ১২৫এম-এর ৪০০টির বেশি সামরিক সংস্করণ পরিষেবায় রয়েছে। প্রধান ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রাজিল (বায়ুসেনা ও নৌসেনা), মেক্সিকো, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও তাইল্যান্ড।

    এয়ারবাস এইচ১২৫-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য

    • ● রোটরের ব্যাস: ১০.৬৯ মিটার (৩৫.০৭ ফুট)
    • ● মোট দৈর্ঘ্য: ১২.৯৪ মিটার (৪২.৪৫ ফুট)
    • ● কেবিনের আয়তন: ৩ ঘনমিটার (পাইলট বাদে)

    ওজন ও বহনক্ষমতা:

    • ● সর্বাধিক টেক-অফ ওজন:
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স সহ ২,৩৭০ কেজি
    • ● বাহ্যিক লোড বহনের ক্ষেত্রে ২,৮০০ কেজি
    • ● কার্যকর লোড ক্ষমতা: ১,০৭৫ কেজি

    প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

    • ● হেলিওনিক্স (Helionix) অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম
    • ● ৪-অক্ষের (Axis) অটোপাইলট
    • ● সিন্থেটিক ভিশন সিস্টেম
    • ● ট্র্যাফিক অ্যাভয়ডেন্স ফাংশন
    • ● ডুয়াল হাইড্রোলিক্স ও ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন (নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য)

    এই হেলিকপ্টারে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ ছয়জন যাত্রী বসতে পারেন। এটি এমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস (EMS) স্ট্রেচার বহন করতে পারে এবং বাহ্যিক স্লিং লোড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্লিং লোড বহনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১,৪০০ কেজি।

    ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কীভাবে শক্তি বাড়াবে

    • ● এইচ১২৫এম মূলত অধিক-উচ্চতার অঞ্চলে বহুমুখী সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এয়াবাসের মতে, এই হেলিকপ্টার কম শব্দ ও কম হিট সিগনেচার নির্গমন করে। ফলে ট্যাকটিক্যাল নজরদারি ও গোয়েন্দা অভিযানে এটি বিশেষভাবে কার্যকর।
    • ● যে সব অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চতা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এইচ১২৫এম-এর কর্মক্ষমতা এবং দেশীয় উৎপাদন মিলিয়ে এটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
    • ● এই হেলিকপ্টার জাতি গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, বিশেষ করে বেসামরিক ও আধা-সরকারি পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করতে।
    • ● এটি জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। কেন্দ্রের উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় এই হেলিকপ্টার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় শেষ মাইল সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, ফলে পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং যাত্রী পরিবহণ সহজ হবে।
    • ● স্থানীয়ভাবে এইচ১২৫এম উৎপাদন ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে অধিক-উচ্চতা, সন্ত্রাসদমন এবং প্রশিক্ষণমূলক অভিযানে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
  • Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য পরিমাণ খাবার খেলেও বমি, হজমের অসুবিধা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই মুশকিল। পেটের চর্বি দিন দিন বাড়ছে। আবার খাবার খাওয়ার পরেই বুকের ভিতরে এক ধরনের অস্বস্তি বোধ হয়। এমন অসুবিধায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষত কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ভারতীয় মহিলাদের অনেকেই এই ধরনের ভোগান্তির শিকার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ হজমের অসুবিধা বলে এই সমস্যা এড়িয়ে গেলেই বিপদ বাড়বে। ভারতীয়দের লিভারের অসুখ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে এই অসুখ বেশি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-র এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ৪০ শতাংশ ভারতীয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৩০-৪০ বছর। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মদ্যপানে অভ্যস্ত না হলেও কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আবার ঋতুস্রাব পরবর্তী পর্বে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই অসুখ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৪৫ শতাংশ ভারতীয় মহিলা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের এই অসুখ যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার উদ্বেগজনক রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভার আসলে লিভারের সমস্যা। লিভারে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট জমে যাওয়ার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপানে অভ্যস্ত হলে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মদ্যপান না করলেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হচ্ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলেই লিভারে ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ফলে লিভারের কার্যকারিতা কমছে। লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটার কার্যকারিতা নষ্ট‌ হলে শরীর সুস্থ থাকবে না। নানান জটিলতা তৈরি হবে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে ভারতীয়দের জীবন যাপনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটেছে। অধিকাংশ ভারতীয় এখন চটজলদি খাবারে অভ্যস্ত। আর চটজলদি খাবারে অধিকাংশ সময়েই পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই শরীরের অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ছে। ভারতীয়দের মধ্যে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস। একদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন খাবার খাওয়া, আরেকদিকে নিয়মিত শারীরিক কসরত না করা। এই দুইয়ের জন্য ভারতীয়রা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া পঞ্চাশ বছরের পরে মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তাই পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি? এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে অন্যদের আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই খাবারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার না খাওয়া, প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি সব্জি, ফাইবার জাতীয় খাবার সমান পরিমাণে খাওয়া জরুরি। তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। আবার ছোটো থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। কারণ, তাতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি নষ্ট হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে লিভারেও অতিরিক্ত ফ্যাট জমবে না। রোগের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Pakistan Cricket Crisis: ভারতের কাছে হারতেই পাক রাজনীতিতে তোলপাড়, সেনা-পিসিবি সংঘাত চরমে, কুর্সি যাচ্ছে নকভির?

    Pakistan Cricket Crisis: ভারতের কাছে হারতেই পাক রাজনীতিতে তোলপাড়, সেনা-পিসিবি সংঘাত চরমে, কুর্সি যাচ্ছে নকভির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারের অভিঘাত সীমাবদ্ধ নেই সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে। ক্রমে তা তীব্র আকার নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে একেবারে পাকিস্তানের প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে। যার জেরে সংঘাত বেঁধেছে পিসিবি ও পাক সামরিক বাহিনীর মধ্যে। পরিস্থিতি এমন যে পিসিবি প্রধানের কুর্সি নিয়েই টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে।

    ক্রিকেটে হারের জের, পাক রাজনীতিতে তোলপাড়

    বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় জয়ের মাধ্যমে সুপার ৮ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে ভারত। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে গ্রুপ এ-এর ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে ব্যাটে ও বলে একতরফা আধিপত্য দেখায় মেন ইন ব্লু। অন্যদিকে, ভারতের হাতে পাকিস্তানের এই পরাজয় শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি বিষয়টি পৌঁছেছে দেশের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পর্যন্ত।

    ক্ষুব্ধ পাক সেনার সর্বেসর্বা আসিম মুনির

    খবরে প্রকাশ, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দুর্বল ও নিম্নমানের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ পাক সেনার সর্বেসর্বা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেনাবাহিনীর দৃষ্টিতে এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়েছে। তাদের মতে, দলটি ম্যাচের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল না। পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, প্রতিরক্ষা সচিবের মাধ্যমে মুনিরের এই অসন্তোষের কথা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দল নির্বাচন, প্রস্তুতি এবং প্রকাশ্য মন্তব্যের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর জেরে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বর্তমানে তীব্র চাপে রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

    মোহসিন নকভিকে নিয়ে বিতর্ক

    এর আগে, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আইসিসি বাতিল করার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। পিসিবির ওই আট দিনের নাটকের মাঝেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে মোহসিন নকভিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি শাস্তি দিতে পারে কি না। উত্তরে তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান সরকার কাউকে ভয় পায় না। “সবাই আমাদের ফিল্ড মার্শালকে চেনে,” মন্তব্য করেন নকভি।

    সেনা সদর দফতরের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রিকেট ও প্রশাসনিক বিষয়ে নিজের নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ব্যবহার করায় সামরিক মহলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তার উপর ভারতের কাছে পাকিস্তানের লজ্জাজনক পরাজয় পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সূত্রের দাবি, ওই মন্তব্যের পরই রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত সেনা সদর দফতর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। সেনা নেতৃত্বের মতে, সেনাপ্রধানের নাম উল্লেখ করে পিসিবি চেয়ারম্যান নকভি সামরিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িয়ে ফেলেছেন। এর ফলে একটি ক্রীড়াজনিত পরাজয় এখন পিসিবি চেয়ারম্যান ও সেনা নেতৃত্বের মধ্যে কৌশলগত বিরোধে রূপ নিয়েছে।

    নকভির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

    ইসলামাবাদের সূত্র জানিয়েছে, আসিম মুনির তাঁর সামরিক সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলোর দিকেও নজর আকর্ষণ করেছেন। এই ঘটনার পর জল্পনা বেড়েছে যে, পিসিবি চেয়ারম্যান হিসেবে নকভির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট করা এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ওপর আস্থা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে খবর।

  • Pathum Nissanka: দুরন্ত শতরান, উড়ন্ত ক্যাচ! নিশাঙ্কা-ঝড়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার জয়ের নেপথ্যে ২ প্রাক্তন ভারতীয় কোচ

    Pathum Nissanka: দুরন্ত শতরান, উড়ন্ত ক্যাচ! নিশাঙ্কা-ঝড়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার জয়ের নেপথ্যে ২ প্রাক্তন ভারতীয় কোচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সোমবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দুরন্ত অপরাজিত শতরান করে অজিদের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। দলের এই দুর্দান্ত জয়ের পরে ২ ভারতীয়ের অবদানের কথা স্বীকার করেন শ্রীলঙ্কার হেড কোচ তথা সেদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সনৎ জয়সূর্য।

    ‘টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ’

    আগের দুই টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ-পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হওয়া শ্রীলঙ্কা এবার ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সুপার ৮ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক নিশাঙ্কা। অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শন করে তিনি টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নজর কেড়েছেন নিশাঙ্কা। পয়েন্ট পজিশনে দাঁড়িয়ে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সুইচ হিট করা বল অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেন। অনেক সমর্থকই এই ক্যাচকে ইতিমধ্যেই ‘টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    জয়ের কারিগর রাঠৌর-শ্রীধর

    ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়সূর্য দলের সাফল্যের কৃতিত্ব দেন ভারতের দুই প্রাক্তন কোচ আর শ্রীধর এবং বিক্রম রাঠৌরকে। গত বছর পর্যন্ত এই দুজন টিম ইন্ডিয়ার কোচ ছিলেন। শ্রীধর ছিলেন ফিল্ডিং কোচ এবং রাঠৌর ছিলেন ব্যাটিং কোচ। বিক্রম রাঠৌর ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন এবং পাঁচ বছর ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে, শ্রীধর এখন লঙ্কাবাহিনীর ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায়। অন্যদিকে, চলতি আইসিসি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসে তাঁকে ব্যাটিং পরামর্শদাতা তথা কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা। এই দুজন নিজেদের পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একটা সংঘবদ্ধ দলে পরিণত করেছেন। সেকথা স্বীকার করে নেন জয়সূর্য।

    ভারতীয় কোচেদের প্রশংসায় জয়সূর্য-শানাকা

    সাংবাদিক সম্মেলনে জয়সূর্য বলেন, “শ্রীধর আমাদের ফিল্ডিং কোচ এবং বিক্রম আমাদের ব্যাটিং কোচ। দু’জনেই খুব ভালো মানুষ। অনুশীলনে আমরা যা চাই, তাঁরা সেটাই করান। আইপিএল অভিজ্ঞতা নিয়ে বিক্রম খেলোয়াড়দের সঙ্গে দারুণভাবে কাজ করছেন। আমরা ব্যাটারদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছি এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছি। বিক্রম ও শ্রীধর সত্যিই অসাধারণ কাজ করেছেন।” শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকাও ব্যাটিং কনসালট্যান্ট বিক্রম রাঠৌরের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, রাঠৌর দলের ব্যাটারদের মধ্যে আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিক্রম রাঠৌর আমাদের দলের জন্য খুব ভালো সংযোজন। তাঁর জ্ঞান এবং মানসিকতা—তিনি সবসময় চাইতেন আমরা আক্রমণাত্মকভাবে খেলি, যাতে খেলোয়াড়রা নিজেদের আরও মুক্তভাবে প্রকাশ করতে পারে। তিনি সত্যিই দলের জন্য মূল্যবান সংযোজন।”

    কার্যত ছিটকে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

    এদিকে, প্রথমে জিম্বাবোয়ের কাছে পরাজয়। এবার শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার পথে অস্ট্রিলিয়া। মিচেল মার্শরা এখন খাদের কিনারায়। অন্য দলের খেলার দিকে তাকিয়ে। তবে, সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কারণ, আয়ারল্যান্ডকে যদি জিম্বাবোয়ে হারিয়ে দেয়, তাহলে, তারা সুপার-৮ পর্যায়ে চলে যাবে। ছিটকে যাবে অস্ট্রেলিয়া। এই গ্রুপ থেকে সোমবারই সুপার-৮ এ নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র আশা, যদি জিম্বাবোয়ে নিজেদের পরের দুটি ম্যাচই খুব বাজেভাবে হারে। এবং শেষ ম্যাচে যদি অস্ট্রেলিয়া দারুণভাবে যদি জেতে, তাহলে হয়ত কোনও একটা মিরাক্যল হতে পারে।

  • Amit Shah: বুধবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, মায়াপুর ইসকনে রয়েছে বিশেষ কর্মসূচি

    Amit Shah: বুধবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, মায়াপুর ইসকনে রয়েছে বিশেষ কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। ভোটের প্রস্তুতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে আগামী মার্চ মাসে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে তার আগেই ফের রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন এবং নদিয়ার মায়াপুরে ইসকনের মন্দিরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

    বুধবার মায়াপুরে অমিত শাহ

    জানা যাচ্ছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার মায়াপুরে ইসকনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর হেলিকপ্টারে সরাসরি মায়াপুর যাবেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি প্রথমে ইসকনের শঙ্খভবনে যাবেন। সেখান থেকে তিনি রাধামাধব এবং পঞ্চতত্ত্বের বিগ্রহ দর্শন করবেন। পরে পদ্মভবনে সাধু-সন্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। এরপর ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। জানা যাচ্ছে, মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরতিতেও অংশ নিতে পারেন তিনি। মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরতিও করতে পারেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেলেই তিনি পুনরায় হেলিকপ্টারে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

    নিরাপত্তার কড়াকড়ি মায়াপুরে

    এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়াপুর সফর ঘিরে শুরু হয়েছে নদিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মায়াপুরে সাজসাজ রব। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। মায়াপুরের অস্থায়ী হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে মন্দির চত্বর, শঙ্খ ভবন— সর্বত্র নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা। দফায় দফায় নিরাপত্তা মহড়া এবং এলাকা পরিদর্শন চলছে। এর আগে, অমিত শাহের মায়াপুর আসার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে সেই সফর বাতিল হয়েছিল।

  • Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদায় নিচ্ছে শীত! আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই সোয়েটার আর লেপ কম্বলের পর্ব শেষ হতে চলেছে। গরম এবার আগাম পা বাড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু বসন্তেই গরম হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই আবহাওয়া একাধিক রোগের দাপট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।

    কেন রোগের দাপট বাড়তে পারে?

    শীতে তাপমাত্রার পারদ কম থাকে। চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু গরমের দাপটে আবহাওয়ার অনেকটাই পরিবর্তন হয়। শীত শেষের এই মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তাই সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া বছরের এই সময় শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই নানান ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। পেশি ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর পরিবর্তিত পরিবেশ মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার ফলে শরীর বেঁকে বসে। হজমের সমস্যা থেকে পেশির খিঁচুনির মতো নানান ভোগান্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বোর্ড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    আগাম গরমে বাড়তে পারে ভাইরাসঘটিত জ্বর ও কাশি।‌ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত কমে গেলেও সন্ধ্যার পরে কিংবা ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে বেরোলে অবশ্যই কান, গলা ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাহলে আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমানো যাবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই এই আবহাওয়ায় কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে অনেক সময় জ্বর হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

    বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ

    বছরের এই সময়ে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই শিশু ও বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ট্রেন-বাস-অটোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের সময় সকলকেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে অনেকেই কাশি-সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।

    সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়া জরুরি

    বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধোয়া জরুরি। তাতে নানান সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হয় বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
    খাবার খাওয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশেষত পরীক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই আবহাওয়ায় পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় হজমের গোলমাল হয়। তাপমাত্রার হঠাৎ বদলের জেরে শরীরের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই হজমের গোলমাল, পেটের অসুখ, বমির মতো ভোগান্তি কমাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারি, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত‌্যন্ত জরুরি। তাই বিশেষ করে রাতের দিকে তাদের হালকা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পেশির খিঁচুনি‌ এড়াতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আবহাওয়ায় নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নানান সমস্যা এড়ানো যায়‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল অসম। শনিবার সকালে অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটিতে (ELF) অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান।

    জাতীয় সড়কে নামল মোদির বিমান

    দিল্লি থেকে অসমের চাবুয়া বিমানঘাঁটি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সহ রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। চাবুয়া থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে চেপে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মোরান মোরান বাইপাস এলাকায়। সেখানে জাতীয় সড়কের একটি অংশে বিশেষভাবে নির্মিত ইএলএফ-এ অবতরণ করে মোদির বিশেষ বিমান। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বায়ুসনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ইএলএফ হল মোরান বাইপাসের ওপর ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শক্তিশালী কংক্রিটের রানওয়ে। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধবিমান ও পণ্যবাহী পরিবহণ বিমানের জন্য কৌশলগত ও বহু-উদ্দেশ্যপূর্ণ রানওয়ে হিসেবে কাজ করবে, যা প্রতিরক্ষা, লজিস্টিক্স এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা আরও মজবুত করবে।

    রানওয়ে থেকে উড়ল সুখোই, রাফাল

    এই নতুন ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ফলে এটি ভারতের বিমান পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিটের এক বিশাল এয়ার শো প্রত্যক্ষ করেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার। এর মাধ্যমে বায়ুসেনার অপারেশনাল প্রস্তুতি ও হাইওয়ের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্যতার ক্ষমতা তুলে ধরা হয়। মোরনের ইএলএফ থেকে পরপর উড়ে যায় সুখোই-৩০এমকেআই, রাফালের মতো যুদ্ধবিমান।

    বায়ুসেনার নজিরবিহীন এয়ার শো

    এছাড়া, বায়ুসেনার ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে পরিচিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং এএন-৩২ পরিবহণ বিমান বিশেষভাবে নির্মিত এই ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইএলএফ-এ অবতরণ ও উড়ানের মহড়া চালায়। এছাড়া, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) দিয়ে বিশেষ হেলি-বোর্ন অপারেশন এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR) মহড়া চালানো হয়। এই হেলিকপ্টারগুলি নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্গম এলাকায় খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনার এলিট বাহিনী গরুড় কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরাও তাদের নিখুঁত দক্ষতা ও যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করেন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    কৌশলগত দিক থেকে এই ইএলএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোরান থেকে চিন সীমান্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং মায়ানমার সীমান্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী আগেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছিলেন, এই ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ মোতায়েনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে। এই পরিকাঠামো বন্যা ও ভূমিকম্পপ্রবণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। ইএলএফটি সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের পরিবহণ বিমান ওঠানামায় সক্ষম।

    একাধিক কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর

    মোরনের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের ইএলএফ থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে করে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেন। গুয়াহাটির লাচিত ঘাটে ৫,৪৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করেন, যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩,০৩০ কোটি টাকা। এই ছয় লেনের এক্সট্রাডোজড প্রি-স্ট্রেসড্ কংক্রিট (PSC) সেতু গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এক্সট্রাডোজড সেতু। এই সেতু চালু হলে গুয়াহাটি থেকে উত্তর গুয়াহাটি যাতায়াতের সময় কমে মাত্র ৭ মিনিটে দাঁড়াবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আইআইএম গুয়াহাটির উদ্বোধন করেন এবং পিএম ই-বাস সেবা প্রকল্পের আওতায় চারটি শহরে ২২৫টি বৈদ্যুতিক বাসের সূচনা করেন।

  • SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    সুশান্ত দাস

    গুলি ছাড়া যেমন বন্দুক মূল্যহীন, ঠিক তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া যুদ্ধবিমানেরও কোনও মূল্য নেই। বৃহস্পতিবারই ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তবে, স্রেফ যুদ্ধবিমান কিনলেই তো হবে না, তার অস্ত্রও পেতে হবে। যে কারণে, রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করার জন্য বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের বিপুল বরাতও দেওয়ার তোড়জোড় করছে মোদি সরকার। আর এই তালিকায় রয়েছে একজোড়া ভয়ঙ্কর ও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র— স্ক্যাল্প (SCALP) বা স্টর্ম শ্যাডো (Storm Shadow) এবং মিটিয়র (Meteor)। বরাতের মূল্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। বলাবাহুল্য, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফ্রান্স— যে দেশ থেকে আসছে রাফাল জেট।

    ৩০ কোটি ইউরোর চুক্তি

    কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, এই মর্মে ভারত ও ফ্রান্স একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা বিপুল সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কিনতে চলেছে। এই স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভিতরে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    স্ক্যাল্প মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প (SCALP)-এর পূর্ণরূপ <Système de Croisière Autonome à Longue Portée>। ফরাসি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল— দূরপাল্লার স্বায়ত্তশাসিত ক্রুজ সিস্টেম। আন্তর্জাতিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামেও পরিচিত। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ নির্মিত যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্রুজ মিসাইল মূলত বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মতো উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। এই মিসাইল অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে ভূখণ্ড অনুসরণ করে এগোতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের রেডার এড়ানো সম্ভব হয়। এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে জিপিএস, ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, টেরেন ম্যাপিং এবং ইনফ্রারেড সিকার। এর পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি, ফলে যুদ্ধবিমান নিরাপদ দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে।

    অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার

    গত বছরের অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুর জেলায় জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। আধিকারিকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। ৬–৭ মে রাতের অভিযানের পর ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) একাধিক ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালায়। এই অভিযানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করা হয় এবং সেখানে থাকা যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের মতো একাধিক উচ্চ-মূল্যের সম্পদ ধ্বংস করা হয়। স্ক্যাল্প মিসাইল রাফাল যুদ্ধবিমানের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হবে।

    মিটিয়র মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প-এর পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াতে বিপুল সংখ্যক মিটিয়র (Meteor) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এর জন্য প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হল মিটিয়র। এটি একটি আধুনিক প্রজন্মের বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। এটি আকাশযুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মিটিয়র মিসাইলের কার্যকর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। এর উন্নত গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, ডেটালিঙ্ক আপডেট এবং শেষ ধাপে অ্যাকটিভ রাডার সিকার, যার ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এই মিসাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর র‌্যামজেট প্রোপালশন সিস্টেম। সাধারণ মিসাইল যেখানে শেষ পর্যায়ে গতি ও শক্তি হারায়, সেখানে মিটিয়র পুরো উড়ানজুড়েই উচ্চগতি বজায় রাখতে পারে। ফলে দ্রুতগামী ও কৌশলী শত্রু বিমান, ড্রোন কিংবা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই মিসাইলগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা ২৬টি রাফাল-মেরিন Rafale-M) যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে, যেগুলি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।

    ভারতের ভবিষ্যৎ বায়ুশক্তির কেন্দ্রে রাফাল

    প্রস্তাবিত স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল কেনা ভারতের বিমান শক্তিকে রাফালকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা বিষয়ক মস্ত্রিসভার কমিটিতে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতের রাফাল বহর প্রায় ১৭৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা শত্রুদেশের গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত কর্মক্ষমতার ভিত্তিতেই এই স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে আরও সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এবার কয়লা পাচার মামলার (Bengal Coal Scam) মূল অভিযুক্ত লালা সিন্ডিকেটের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার পুরনো কয়লা পাচার মামলাতেই ১০০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এর ফলে এই মামলায় এখন পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট অঙ্ক দাঁড়াল ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীরা জানান, গত ৪ জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে চালানো তল্লাশি অভিযানের সময়ই লালা সিন্ডিকেটের গড়া এই বিপুল সম্পদের নথি উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে হত কয়লা পাচার?

    ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে আরও জানা গেছে, কয়লা পাচারের অর্থ দুটি বেনামি সংস্থার নামে জমি কেনা ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে লুকানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানের মাধ্যমে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে লেনদেন দেখানো হত। এই সামান্য চালানের আড়ালেই গড়ে ওঠে কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি। তদন্তে উঠে এসেছে, চালানে পিন আটকানো ১০ বা ২০ টাকার নোট। ওই নোটের নম্বরই আসলে কোড। নাম তার ‘লালা প‌্যাড’। কয়লা মাফিয়া হিসাবে অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নামেই নামকরণ হয় এই প‌্যাডের। এই নোট-সহ প‌্যাডের ছবি হোয়াটসঅ‌্যাপে কয়লা পাচারের (Bengal Coal Scam) সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। এই টাকা আটকানো চালান যে ট্রাক চালকের কাছে থাকত, তাঁকে আটকানো হত না। ভুয়ো চালানের সঙ্গে পাঠানো হত ট্রাকের নম্বর প্লেটও। সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত বেআইনি কয়লা-সহ ট্রাক। এভাবেই বেআইনি কয়লা খাদান থেকে কয়লা পাচার হত বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate)। ইডির গোয়েন্দারা জানান, ওই কয়লা পাচার চক্র বিপুল টাকা পাচার করত হাওয়ালার মাধ‌্যমেও। সেই ক্ষেত্রেও ১০ টাকার নোটের নম্বর ব‌্যবহার করা হত। ওই নম্বর দেখেই হাওয়ালা চক্র জায়গামতো পাঠিয়ে দিত কোটি কোটি টাকা। তদন্তকারীদের ধারণা, লালা সিন্ডিকেটের মোট দুর্নীতির পরিমাণ ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।

    জড়িত পুলিশ আধিকারিক?…

    একদিকে পুরনো মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন মামলায় (Bengal Coal Scam) চলছে জোরদার তলব। সম্প্রতি কয়লা পাচার সংক্রান্ত নতুন মামলায় বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে হাজিরার নির্দেশ দেয় ইডি। নির্দিষ্ট দিনে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর বদলে দুই আইনজীবী—শুভ্রাংশু পাল ও দেবতনু দাস হাজির হন। তাঁদের কাছ থেকেই মনোরঞ্জন মণ্ডল এবং তাঁর বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। রাজ্যের বিভিন্ন রেল সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা সামনে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর এবং পরে সিবিআই তদন্তে নামে। সেই সূত্রেই প্রকাশ্যে আসে অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং তার সিন্ডিকেটের নাম। গত বছর ইডি (Enforcement Directorate) এই ঘটনায় আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করে। ভোটমুখী বাংলায় সেই তদন্ত এখন ফের তীব্র গতিতে এগোচ্ছে।

  • Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে বাড়ছে এপিলেপসি (Epilepsy in West Bengal) বা মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি এবং নানান জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথম থেকেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Epilepsy Symptoms Prevention) বলেই মত চিকিৎসক মহলের।

    দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানা গিয়েছে, গোটা ভারতেই এপিলেপসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জনে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। শহরে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রতি ১০০০ জনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ১০০০ জনে এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) সংখ্যা ১৫ জন। পুরুষদের মধ্যে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ পুরুষদের ১০০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন এপিলেপসিতে আক্রান্ত হন। কলকাতা সহ বড় শহরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কেন রাজ্যে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের একটি বড় অংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। যারা জীবনের কোনও একটা সময় স্নায়বিক সমস্যায় ভুগেছেন। আবার অনেকের স্ট্রোক হয়েছে কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। তাই এপিলেপসির (Epilepsy in West Bengal) মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে। তাই এপিলেপসির মতো জটিলতায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    কোন বয়সে এপিলেপসি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার সীমারেখা টানতে পারে না। শিশুর জন্মের পরে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ পঞ্চাশ কিংবা পঞ্চান্ন বছর বয়সে নতুন ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে বছর বারো বয়সের পরে রোগের প্রকোপ অনেকখানি কমে। শিশুদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তুলনায় বয়স্কদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনায় জটিল হয়ে ওঠে।

    কেন হয় এপিলেপসি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য একধরনের শক্তি তৈরি হয়। যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত। আর তার ফলেই খিঁচুনির মতো রোগ দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিলেপসি বলা হয়।
    শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছলে জন্মের পরেই শিশু এপিলেপসি আক্রান্ত (Epilepsy in West Bengal) হতে পারে। এছাড়াও ১-২ বছর বয়সে কোনও জটিল ভাইরাস ঘটিত অসুখ, মেনিনজাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এপিলেসসি আক্রান্ত হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত স্ট্রোকের কারণেই বয়স্কেরা এই রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া, কোনও ধরনের দূর্ঘটনার ফলেও এই রোগ হতে পারে। পথ দূর্ঘটনা কিংবা অত্যন্ত গভীর মানসিক চাপের জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে এপিলেপসি হতে পারে। আবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। তার জেরেও এপিলেপসি হতে পারে।

    ঘুমের মধ্যেই কি রয়েছে সুস্থ থাকার দাওয়াই?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ (Epilepsy Symptoms Prevention) সম্ভব। ঘন ঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের সুস্থ থাকা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের স্নায়ুর বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের নিয়মিত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে। স্নায়ু অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সক্রিয় হবে না। মানসিক চাপ তৈরি হয়, এমন কাজ কখনোই করা উচিত নয়। এপিলেপসি আক্রান্তের পাশপাশি তার পরিবারকেও এদিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, মানসিক চাপ স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাঁদের মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। খাবারে যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং তেল মশলা না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্নায়ু্র কাজ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া চিকিৎস যদি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে নিয়ম মেনে সেই ওষুধ খেতে হবে বলেও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ মহল।

LinkedIn
Share