Autism: বাচ্চা একটু বেশিই মোবাইলের প্রতি আসক্ত? সময় থাকতে নজর দিন

Autism

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনার বাচ্চার মধ্যে হঠাৎ কিছু পরিবর্তন নজর করছেন? দেখছেন, তার মধ্যে চঞ্চলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সমবয়সী বাচ্চার সাথে সে মেলামেশা করছে না, এমনকী কথা বলাও কমে গিয়েছে অনেকটাই। সব সময় যেন সে নিজের অন্য জগতে বিচরণ করছে? হঠাৎ এই ধরনের আচরণ দেখলে বুঝতে হবে, আপনার বাচ্চা অটিজমের (Autism) শিকার হতে পারে। আরও একটি বিষয় ইদানীং লক্ষ্য করা যায়, বর্তমানে বাচ্চারা একটু বেশিই মোবাইলের প্রতি আসক্ত। ফলে তারা এই মোবাইলে যে সব ভিডিও, ছবি দেখছে, সেগুলিকেই বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করছে। তার মস্তিষ্কে তৈরি হচ্ছে এক অন্য জগৎ। সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে পারছে না। খেলাধুলো করার ইচ্ছা শেষ হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন এই মোবাইলের মধ্যেই বুঁদ হয়ে থাকছে। চিকিৎসকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধরনের রোগ ভার্চুয়াল অটিজম নামে পরিচিত।

কী হয় এই অসুখে (Autism)?

এই অসুখ নিয়ে অনেক গবেষণা করা হচ্ছে এখনও। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি এক ধরনের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার। এর প্রভাবে একটি বাচ্চার ব্যবহারে একগুঁয়েমি, চঞ্চল মনোভাব, কারও সাথে বেশি কথা না বলা, ইন্দ্রিয়গত সমস্যা ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। অপরদিকে ভার্চুয়াল অটিজমের (Autism) প্রভাবে ঠিক ওই সমস্যাগুলিই থাকে। তার সাথে ছটফটে মনোভাব, কম কথা বলা, চোখে চোখ রেখে কথা না বলা ইত্যাদি থাকে। কিন্তু এর সাথে মোবাইল ফোনের একটি যোগসূত্র গবেষকরা খুঁজে পান। ভার্চুয়াল অটিজমের ক্ষেত্রে মোবাইলের নেশা সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলে বাচ্চাদের ওপর।

আর কী পার্থক্য আছে অটিজম (Autism) আর ভার্চুয়াল অটিজমের মধ্যে?

সাধারণত, সমস্ত বাচ্চার মধ্যে সামাজিক সচেতনতা বোধ কম-বেশি থাকে। কিন্তু যে সব বাচ্চা অটিজমের (Autism) শিকার, তাদের সামাজিক সচেতনতা বোধ নেই বললেই চলে। তার আশপাশের পরিবেশগত উদ্দীপনা স্বাভাবিক থাকলেও তার প্রভাব কোনও ভাবেই বাচ্চার মধ্যে পড়ে না। অপরদিকে ভার্চুয়াল অটিজমের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বোধ বাচ্চাদের মধ্যে একটু হলেও বেশি। কিন্তু পরিবেশগত উদ্দীপনা এদের মস্তিষ্কে কোনও প্রভাব ফেলে না। তাই এদেরও অটিজমের শিকার হতে হয়।

এর (Autism) থেকে মুক্তি পেতে কী করা উচিত?

যদি আপনি সন্দেহ করেন যে আপনার বাচ্চা এই ভার্চুয়াল অটিজমের (Autism) শিকার, তাহলে দেরি না করে কোনও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাচ্চার মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দিন। তাছাড়াও চিকিৎসকের কাছে অকুপেশনাল থেরাপি ও স্পিচ থেরাপি শুরু করা উচিত। চারপাশের মানুষের সাথে যাতে সহজে মেলামেশা করতে পারে, তার জন্য আপনার বাচ্চাকে অবগত করুন। এতেই আপনার বাচ্চার ইন্দ্রিয়গুলির কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটবে খুব তাড়াতাড়ি।

 

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share