Bangladesh Protest: অশান্ত বাংলাদেশ, দেশে ফিরছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, বিশেষ নির্দেশ জারি হাই কমিশনের

bangladesh-protest-1

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংরক্ষণ-বিতর্কে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি বাংলাদেশে (Bangladesh Protest)। এই অশান্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ছাত্রদের জন্য উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে অবস্থিত ছাত্রদের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় হাই কমিশন (Indian High Commission)। ভারতীয় হাই কমিশনের তরফে অ্যাডভাইসরি রিপোর্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং বাংলাদেশে পড়তে আসা পড়ুয়াদের বাইরে না বেরনোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্ব-স্ব স্থানে থাকুন। কোথাও ভ্রমণের জন্য বেরবেন না।’ 

উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি (Bangladesh Protest)

বাংলাদেশে (Bangladesh Protest) এই মুহূর্তে ১৫ হাজারের বেশি ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পড়ুয়ার সংখ্যা ৮৫০০। অশান্ত পরিস্থিতিতে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে নয়াদিল্লির। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ভারতীয় পড়ুয়ারা আটকে পড়েছেন, তাঁদের ফেরানো হচ্ছে।’’ পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের চার রাজ্য— অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। এ রাজ্যের পেট্রাপোল, চ্যারাবান্ধার পাশাপাশি ত্রিপুরার আখাউড়া এবং মেঘালয়ের ডাউকির সীমান্তে অভিবাসন কেন্দ্র (ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট) দিয়েও ফেরানো হচ্ছে ভারতীয় পড়ুয়াদের। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা শনিবার জানান, বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে তাঁর রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৪০৫ জন ভারতীয় পড়ুয়া এসেছেন। তিনি বলেন, ‘‘গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্তবর্তী অভিবাসন কেন্দ্রে অনেক ভারতীয় পড়ুয়া পৌঁছেছেন।’’

বিদেশি ছাত্রছাত্রীও ফিরছেন

বাংলাদেশ (Bangladesh Protest) থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ত্রিপুরা এবং মেঘালয় দিয়ে শুধু শুক্রবারই ভারতে ফিরেছেন ৩০০-র বেশি পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যে  অনেক বিদেশি ছাত্রছাত্রীও ভারত হয়ে দেশে ফিরছেন। শুক্রবার কোচবিহারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেখলিগঞ্জ গেট দিয়ে বাংলাদেশের রংপুর মেডিক্যাল কলেজের বেশ কয়েক জন ডাক্তারি পড়ুয়া ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয় ছাত্রছাত্রী। এ ছাড়া নেপালের ন’জন পড়ুয়া এবং ভুটানের ১৮ জন ছাত্রছাত্রী ভারতে ঢোকেন। এখান থেকে তাঁরা নিজেদের দেশে চলে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৫, কার্ফু জারি দেশজুড়ে, নামল সেনা

কেন সংরক্ষণ, কাদের জন্য 

সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ-বিতর্ক নিয়েই অশান্তির (Bangladesh Protest) সূত্রপাত। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিলের দাবি জানান হয়। ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মুজিবর রহমান বাংলাদেশে সংরক্ষণ-ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। যেখানে  ৩০ শতাংশ সরকারি চাকরি মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু এই সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ডাক ওঠে। সেই ইস্যুই নিয়েই দেশের অন্দরে কার্যত যুদ্ধের চেহারা নেয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি (Bangladesh Protest)

আন্দোলনকারীদের (Bangladesh Protest) দাবি, এই সংরক্ষণের জন্যই সরকারি চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না সাধারণ মেধাবীরা। অন্যদিকে, হাসিনা সরকারের দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতেই তাঁদের পরিবারের জন্য় ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ। এদিকে সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে জাহাঙ্গির নগর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও। পথে নামে হাজার হাজার ছাত্র। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বাসে। আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বিভিন্ন হাইওয়ে।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share