মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বিএপিএস (BAPS) স্বামীনারায়ণ মন্দির (Swaminarayan Mandir)। প্রাচীন স্থাপত্যের ঐতিহ্য বহন করে এমন ভারতীয় শিলা পাথর পৌঁছে গিয়েছে প্যারিসে (Paris)। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে এই স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দির নির্মিত হতে চলেছে। মন্দির নির্মাণের জন্য এই পাথরগুলি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য কৌশলে খোদাই করা।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কেন্দ্র (Paris)
ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং অসাধারণ কারুকার্যমণ্ডিত এই পাথরগুলো প্যারিসে পৌঁছলে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। প্যারিসের (Paris) উপকণ্ঠে বুসি-সাঁ-জর্জে (Bussy-Saint-Georges) এই মন্দিরটি নির্মিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষকরা মনে করছেন এই মন্দির কেবল মন্দির (Swaminarayan Mandir) নয়, এটি ভারত ও ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সম্পর্ক এবং বিশেষ করে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতিফলন। এই মন্দিরটি ভারতের প্রাচীন স্থাপত্য জ্ঞান এবং কারিগরদের দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন। ভারতীয় শিল্পকলাকে বিদেশের মাটিতে ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ (Soft Power)-কে তুলে ধরবে। মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত এই বেলেপাথরগুলো ভারতের দক্ষ কারিগররা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে খোদাই করে তৈরি করেছে। মন্দিরের জন্য নির্মিত পাথরের শিল্পকলা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের এক সংরক্ষিত শিল্পকলার নিদর্শন।
ভারত-ফ্রান্স স্থাপত্য সহযোগিতার প্রতীক
প্যারিসের এই বিএপিএস স্বামীনারায়ণ মন্দির নির্মাণে ভারতীয় কারিগরদের পাশাপাশি ফরাসি পাথর-মিস্ত্রিরাও কাজ করবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ফরাসি দলে এমন কারিগররাও রয়েছেন যারা বিখ্যাত ‘নটর-দাম ক্যাথেড্রাল’ (Notre-Dame Cathedral) সংস্কারের কাজে যুক্ত ছিলেন। এটি দুই দেশের জ্ঞান ও দক্ষতার আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হতে চলেছে। নতুন এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) কেবল একটি উপাসনালয় হবে না, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, শিক্ষা এবং সামাজিক মেলবন্ধনের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনকে বিশ্বকল্যাণের কাজে ছড়িয়ে দিতেও এই মন্দির বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গাঁথা
প্যারিস (Paris) মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের সিইও এবং বিএপিএস ইউকে ও ইউরোপের ট্রাস্টি সঞ্জয় কারা বলেন, “ভারত থেকে প্রথম পাথরের আগমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিটি পাথর আমাদের ঐতিহ্য ও যত্নের প্রতীক। মহন্ত স্বামী মহারাজের সেবা, নম্রতা ও সম্প্রীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত এই প্রকল্প ভারত ও ফ্রান্সের দক্ষতাকে এক সুতোয় গেঁথেছে।” ফ্রান্সে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সঞ্জীব কুমার সিংলা বলেন, “এই মন্দিরটি (Swaminarayan Mandir) একটি অনন্য সহযোগিতার ফসল। ভারতে দক্ষ শিল্পীদের হাতে খোদাই করা এই পাথরগুলো এখানে ফ্রান্সের দক্ষ কারিগররা সংযোজন করবেন। এটি পবিত্র স্থাপত্যের দুটি মহান ঐতিহ্যের মিলন।” ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত জঁ-ক্রিস্তফ পসেল মন্তব্য করে বলেন, “এই ধরনের মন্দির ফ্রান্সে এই প্রথম এবং এটি দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও মানবিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়।” ২০২৪ সালের জুনে এই মন্দিরের কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ভারত ও ফ্রান্সের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

Leave a Reply