মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফকির লালন বলেছিলেন, “বামুন চিনি পৈতে প্রমাণ, বামনি চিনি কী প্রকারে?”। সত্যিই, পৈতে তো শুধু ব্রাহ্মণ ছেলেদেরই হয়, মেয়েদের তো হয় না। ফকির লালনশাহের এই প্রশ্নের উত্তর ছিল না যুগ যুগ ধরে। কিন্তু আজ ২০২৪ সালে ঠিক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল বীরভূমের (Birbhum) সিউড়িতে। শোনা যায় বৈদিক যুগে মেয়েরাও ‘দ্বিজা’ হতেন, অর্থাৎ মেয়েদেরও পৈতে হত। আর সেই হারিয়ে যাওয়া বৈদিক যুগের রীতি অনুযায়ী আবার প্রথমবার সবাইকে তাক লাগিয়ে দ্বিজা হল সিউড়ির পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কৈরভী। কৈরভী এখনও জানে না, ধর্ম, নিয়ম, রীতি, বৈদিক যুগ কী জিনিস। তবে তার মা-বাবার এরকম একটা অতুলনীয় সিদ্ধান্ত গোটা ভারতবর্ষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
সাধারণ পৈতের নিয়ম মেনেই হল সবকিছু, দেখতে ভিড় (Birbhum)
এই ধরনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় করে আশপাশের অনেক মানুষ। সবাই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কৈরভীর মা-বাবা কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। তাঁরা চিকিৎসক দম্পত্তি। কিন্তু এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। ছেলেদের পৈতে হয়, সে তো সবাই জানে। কিন্তু প্রথমবার মেয়ের পৈতের ব্যাপারটি নিয়ে অনেক বিস্ময়সূচক প্রশ্নের জবাব দিতে হয় কৈরভীর মা কৌশানী চট্টোপাধ্যায়কে (Birbhum)। আর সব প্রশ্ন, বিস্ময়কে কাটিয়ে সমাজে মেয়েদের ভূমিকা, অধিকার বুঝিয়ে দিতেই তাঁদের ইচ্ছা পূরণ করে ফেলেন। এই সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র ইচ্ছার ওপর ভর করেই সম্পন্ন হয়েছে তা নয়, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ, ইতিহাস ঘেঁটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসক দম্পতি। বৈদিক যুগে প্রচলিত ছিল মেয়েদের দ্বিজা প্রথা। আর সেই বৈদিক যুগের পর বর্তমানে পুনরাবৃত্তি হল সেই প্রথার।
বৈদিক যুগে কি সত্যিই মেয়েদের উপনয়ন হত? কী বলছে শাস্ত্র?
বৈদিক যুগে নারীদের পবিত্র ব্রহ্মসূত্র দ্বারা দীক্ষিত করা হত, অর্থাৎ তাঁদের উপনয়ন হত। তাঁরা গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতেন, এমনকি পবিত্র অগ্নিযজ্ঞ আরাধনা করতেন, যা একজন পুরুষের সমান। সেই যুগের নারীকে দুই ভাগে ভাগ করা হত। এক সদ্যবধূ ও ব্রহ্মবাদিনী। এক পবিত্র উৎসবের দ্বারা ব্রহ্মসূত্রে উপনীত করে যাদের বিবাহ হত, সেই নারীকে সদ্যবধূ বলা হত। অপরদিকে ব্রহ্মবাদিনীরা বিবাহ করতেন না, তাঁরা সেই যুগের পুরুষদের মতোই ব্রহ্মচর্য পালন করতেন। মহাভারতে পান্ডব মাতা কুন্তীও ব্রহ্মসূত্রে ভূষিতা ছিলেন অর্থাৎ তাঁর পৈতে ছিল (Birbhum)।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।
Leave a Reply