Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    Bhairav Battalion: প্রজাতন্ত্র দিবস কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘ভৈরব’ কমান্ডো বাহিনী, জানেন তাদের সম্বন্ধে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র যখন প্রতিরক্ষা বাহিনীর পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে, সেই সময়ই আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রূপান্তর সম্পন্ন করেছে। এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীতে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ভৈরব’ লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশনাল কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতীক হল ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav Light Commando Battalion)। কারণ, এই বিশেষ বাহিনীকে আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে নতুন গড়ে ওঠা ভৈরব ব্যাটালিয়নের মার্চপাস্ট।

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’

    ভগবান শিবের ভয়ংকর রূপ ‘ভৈরব’-এর নামে নামকরণ করা এই ইউনিটগুলি সুরক্ষা ও ধ্বংসের প্রতীকী শক্তিকে ধারণ করে—যার মূলে রয়েছে দ্রুততা, নিখুঁত আঘাত এবং ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা। সেনাবাহিনীর সামগ্রিক আধুনিকীকরণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গঠিত ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি (Bhairav Battalion) প্রচলিত পদাতিক বাহিনী ও অভিজাত প্যারা স্পেশাল ফোর্সের (স্থলসেনার কমান্ডো বাহিনী) মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থান পূরণ করবে, বিশেষ করে সংবেদনশীল সীমান্তে দ্রুত কৌশলগত অভিযানের জন্য। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ এবং শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের ভেতরে ঘাঁটি ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে বাস্তব অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করতে সক্ষম।

    ২৫ ব্যাটালিয়ন গড়ার লক্ষ্যে…

    সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী গত বছর ২৬ জুলাই, দ্রাসে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপনের সময় ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। বিশ্বব্যাপী সংঘর্ষ এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষার ভিত্তিতে সেনা সদর দফতরের উদ্যোগে ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়নগুলো গঠন করা হয়েছে। উচ্চগতির আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে স্পেশাল ফোর্সের দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নিবেদিত বাহিনী গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে, সেনাবাহিনী রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড ও শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্টের মতো সহায়ক কাঠামোরও সূচনা হয়। এই ব্রিগেডগুলো অল-আর্মস ফরমেশন— অর্থাৎ যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড ইউনিট, যুদ্ধট্যাঙ্ক, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ড্রোন ব্যবস্থার পাশাপাশি নিবেদিত লজিস্টিক ও কমব্যাট সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রায় ১৫টি ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এগুলোকে দুই সীমান্তেই বিভিন্ন ফরমেশনে মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে মোট প্রায় ২৫টি ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উদ্দেশ্য ও ভূমিকা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নের প্রধান লক্ষ্য হল উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত আঘাত, রেকি (গোয়েন্দা নজরদারি) এবং বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযান পরিচালনা করা। সাব-কনভেনশনাল যুদ্ধে উপযোগী করে নকশা করা এই ইউনিটগুলি রাজনৈতিক-সামরিক অভিযানে “লিন অ্যান্ড লিথাল” বিকল্প হিসেবে কাজ করে—যেখানে বড় ফর্মেশনের জটিল লজিস্টিক ছাড়াই তাৎক্ষণিক ‘শক ইমপ্যাক্ট’ প্রয়োজন।
    এই ইউনিটগুলি প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়ন (যাদের ভূমিকা দীর্ঘস্থায়ী লড়াই) ও প্যারা স্পেশাল ফোর্স (যারা গভীর, গোপন সীমান্তপার অভিযানের জন্য সংরক্ষিত)—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অপারেশনাল ব্যবধান পূরণ করে। কার্যত, ভৈরব ইউনিটগুলি সীমান্তের এপারের কৌশলগত দায়িত্ব স্পেশাল ফোর্সের কাঁধ থেকে সরিয়ে দেয়, ফলে তারা কৌশলগত ও গভীর অভিযানে মনোযোগ দিতে পারে। এতে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন ও প্রিসিশন অস্ত্রনির্ভর সংঘাতের জন্য সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি আরও মজবুত হয় এবং চিনের ‘আনরেস্ট্রিক্টেড ওয়ারফেয়ার’ মতবাদসহ আধুনিক হুমকি মোকাবিলা সম্ভব হয়।

    কাঠামো ও সংগঠন

    প্রতিটি ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়নে প্রায় ২৫০ জন সদস্য থাকে, যার মধ্যে ৭–৮ জন অফিসার—যা প্রায় ৮০০ সদস্যের প্রচলিত পদাতিক ব্যাটালিয়নের তুলনায় অনেক ছোট ও অধিক গতিশীল। কর্নেল পদমর্যাদার একজন অফিসারের নেতৃত্বে এই ইউনিটগুলিতে বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে— যেমন এয়ার ডিফেন্স থেকে ৫ জন, আর্টিলারি থেকে ৪ জন এবং সিগন্যালস থেকে ২ জন। এই বিশেষ বাহিনী গঠনে ‘সেভ অ্যান্ড রেইজ’ ধারণা অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীর বিদ্যমান ৪১৫টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন থেকে প্রত্যেকটি প্রায় ১১ জন করে জওয়ান নির্বাচিত করা হয়। ফলে নতুন নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। প্রাথমিক মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে—নর্দার্ন কমান্ডের অধীনে তিনটি ইউনিট (লেহে ১৪ কোর, শ্রীনগরে ১৫ কোর এবং নাগরোটায় ১৬ কোর), পশ্চিম সেক্টরের মরুভূমি অঞ্চলের জন্য একটি এবং পূর্ব সেক্টরের পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য একটি। সেনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হল, পাকিস্তান ও চিন সীমান্তজুড়ে ২৩–২৫টি ব্যাটালিয়ন গঠন। এই ব্যাটালিয়নগুলি সেনার বিদ্যমান ‘ঘাতক’ প্লাটুন (প্রতি পদাতিক ইউনিটে ২০ জনের আক্রমণ দল) থেকে আলাদা এবং সেগুলির বিকল্প হিসেবে নয়।

    প্রশিক্ষণ ও নির্বাচন

    ভৈরব ইউনিটের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘সন্স অব দ্য সয়েল’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে অভ্যস্ত সৈন্যদের অগ্রাধিকার, যাতে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ে। নির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে নিজ নিজ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে ২–৩ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। যেখানে গতি, নমনীয়তা ও কৌশলগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়। এরপর এক মাসের জন্য অপারেশনাল থিয়েটারে স্পেশাল ফোর্স ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে মাল্টি-ডোমেন অপারেশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যাতে সৈন্যরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ও গোপন অভিযানে দক্ষ হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মতোই প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাপনা করা হয়, যেখানে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টগুলি নির্বাচন ও প্রস্তুতির দায়িত্ব নেয়।

    সরঞ্জাম ও সক্ষমতা

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলিকে ড্রোন-সক্ষম দ্রুত আঘাতের অভিযানের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নজরদারি ড্রোন, লয়টারিং মিউনিশন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম, হালকা যান, মর্টার এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল। সম্প্রতি, বাহিনীকে ৫.৫৬×৪৫ মিমি ক্যালিবারের ৪.২৫ লক্ষ ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কারবাইন সরবরাহ করেছে ভারত ফোর্জ ও পিএলআর সিস্টেমস। এই কারবাইনগুলো হালকা ও শহুরে/সন্ত্রাস দমন অভিযানের জন্য উপযোগী।পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে ১০৪টি জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল ও ১২টি লঞ্চার কেনা হচ্ছে। ড্রোন-সজ্জিত ‘অশনি’ প্লাটুনের মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড রিকনাইস্যান্স (ISR) সক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে। ন্যূনতম লজিস্টিক সহায়তায় পরিস্থিতিগত সচেতনতা তৈরি ও নিখুঁত আঘাত হানতে এই ইউনিটগুলি বিশেষভাবে দক্ষ—যা হাইব্রিড যুদ্ধপরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর।

    মোতায়েন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    প্রাথমিকভাবে উচ্চ-হুমকিপূর্ণ এলাকায় মোতায়েনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান ও চিন সীমান্তবর্তী সেক্টরগুলিতে ইতিমধ্যেই ইউনিটগুলি কার্যকর। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ছয় মাসের মধ্যে সব ২৫টি ব্যাটালিয়ন কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে বিস্তৃত কভারেজ নিশ্চিত হয়। ভবিষ্যতে বৃহত্তর ফর্মেশনের সঙ্গে এই ব্যাটালিয়নগুলির সংযুক্তিকরণ করা হবে, যাতে দ্রুত ও বহুমুখী আক্রমণ সমর্থন করা যায়। এটি সেনাবাহিনীর জনবল সংকট (১ লক্ষের বেশি ঘাটতি) মোকাবিলা এবং পদাতিক ইউনিটে অননুমোদিত সংযুক্তি কমানোর লক্ষ্যকেও সহায়তা করবে।

    অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্ক

    ভৈরব ব্যাটালিয়নগুলি রুদ্র ব্রিগেডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রুদ্র ব্রিগেড হলো অল-আর্মস ফর্মেশন, যেখানে পদাতিক, মেকানাইজড উপাদান, আর্মার্ড, আর্টিলারি, স্পেশাল ফোর্স এবং ইউএভি একত্রে কাজ করে। বিদ্যমান দুটি পদাতিক ব্রিগেডকে রুদ্র ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে, যা কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিনের আওতায় আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ায়। এই কাঠামোতে ভৈরব ইউনিটগুলি বিশেষায়িত কমান্ডো সহায়তা দেয় এবং শক্তিবাণ আর্টিলারি ও পদাতিক জুড়ে ডেডিকেটেড ‘অশনি’ ড্রোন প্লাটুনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে। এর ফলে ১০ প্যারা (স্পেশাল ফোর্স) ও ৫ প্যারা (এয়ারবোর্ন) ব্যাটালিয়নকে সীমান্তপার অভিযানের জন্য মুক্ত রাখা সম্ভব হয়, যা সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে—যেখানে দ্রুততা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় আধুনিক হুমকি মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি। দ্রুত ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত অভিযানের মাধ্যমে এই ইউনিটগুলি ভারতের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য ভারতের প্রস্তুতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী যখন এই ফর্মেশনগুলিকে আরও বিস্তৃত ও পরিমার্জিত করছে, তখন ভৈরব ব্যাটালিয়ন জাতীয় নিরাপত্তায় কৌশলগত উদ্ভাবনের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।

  • Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০২৬! অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day Parade 2026) বিশেষ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিবারের মতোই। তবে এই বছর থাকবে বিশেষ অস্ত্র প্রদর্শন। সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধের পটভূমি। সঙ্গে বাজবে বন্দে মাতরম-এর সুর। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের উদ্‌যাপন ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্য পথ (Kartavya Path)-এ অনুষ্ঠিত রিপাবলিক ডে প্যারেডের মূল থিম হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি (150 years of Vande Mataram)। সামরিক শক্তি ও ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনই থাকবে এবারের কুচকাওয়াজের কেন্দ্রে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর: মূল থিম

    ‘১৫০ ইয়ার্স অব বন্দে মাতরম’ (150 years of Vande Mataram) থিমটি কুচকাওয়াজের ভিজ্যুয়াল, ট্যাবলো, সঙ্গীত, সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে উঠবে। ১৯২৩ সালে শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রের আঁকা ‘বন্দে মাতরম’-এর বিভিন্ন স্তবকভিত্তিক চিত্রকর্ম কর্তব্য পথের পাশে প্রদর্শিত হবে। কুচকাওয়াজের শেষে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার উন্মোচন করা হবে এবং রবার বেলুন ওড়ানো হবে। ১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর উদ্যোগে ‘বন্দে মাতরম’ থিমে ব্যান্ড পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথমবার ভিভিআইপি তকমার ইতি

    প্রচলিত রীতিনীতি থেকে সরে এসে প্যারেড ভেন্যুর এনক্লোজারগুলির জন্য আগে ব্যবহৃত ‘ভিভিআইপি’ ও অন্যান্য তকমা আর ব্যবহার করা হবে না। তার পরিবর্তে, সব এনক্লোজারের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে— প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা এ কথা জানান। এই নদীগুলির মধ্যে রয়েছে—বিয়াস, ব্রহ্মপুত্র, চম্বল, চেনাব, গান্ডক, গঙ্গা, ঘাঘরা, গোদাবরী, সিন্ধু, ঝিলম, কাবেরী, কোসি, কৃষ্ণা, মহানদী, নর্মদা, পেন্নার, পেরিয়ার, রবি, সোন, সুতলজ, তিস্তা, বৈগাই এবং যমুনা। একইভাবে, ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানের জন্য এনক্লোজারগুলির নামকরণ করা হবে ভারতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের নামে। এর মধ্যে থাকবে—বাঁশি (বাঁশুরি), ডমরু, একতারা, এসরাজ, মৃদঙ্গম, নাগাড়া, পাখাওয়াজ, সন্তুর, সারঙ্গি, সারিন্দা, সরোদ, শেহনাই, সেতার, সুরবাহার, তবলা ও বীণা।

    অপারেশন সিঁদুর- এর পর প্রথম

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই ২৬ জানুয়ারির (Republic Day Parade 2026) প্যারেডে ভারতের সামরিক শক্তি ধরা দেবে একেবারে বাস্তব যুদ্ধের ছকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army)–র কুচকাওয়াজে এ বার আর শুধু আলাদা আলাদা বাহিনী নয়—দেখানো হবে কী ভাবে ধাপে ধাপে যুদ্ধক্ষেত্রে এগোয় সেনা। কর্তব্য পথে সেই দৃশ্যই প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। সূত্রের খবর, কুচকাওয়াজ শুরু হবে রেকনেসেন্স বা নজরদারি পর্ব দিয়ে। উচ্চগতির রেকনেসেন্স যান, ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল—সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তের প্রস্তুতিই তুলে ধরা হবে। এর পর ধাপে ধাপে যুক্ত হবে লজিস্টিকস, সাপোর্ট ইউনিট এবং ব্যাটল গিয়ারে সজ্জিত সেনা। এই প্রথম রিপাবলিক ডে প্যারেডে ভারতীয় সেনা ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে’ ফরম্যাটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এর পাশাপাশি থাকবে ৬১ ক্যাভালরির মাউন্টেড কলাম এবং সাতটি মার্চিং কনটিনজেন্ট।

    নজরদারি থেকে বায়ু সেনা—যুদ্ধের পূর্ণ ছবি

    প্রথমেই দেখা যাবে হাই-মোবিলিটি রেকনেসেন্স ভেহিকল, যেগুলিতে থাকবে সার্ভিলেন্স ড্রোন ও ব্যাটলফিল্ড সার্ভিনেন্স রেডার। আকাশে গর্জন তুলবে ‘অ্যাপাচে’ (Apache) এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’ (Light Combat Helicopter Prachand)। এর পর একে একে নামবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র—টি-৯০ ট্যাঙ্ক, অর্জুন মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, বিএমপি-২, নাগ মিসাইল সিস্টেম, আর্টিলারি গান, এয়ার ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র। থাকবে রোবোটিক ডগ, আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিক্যল, অল-টেরেন ভেহিক্যল এবং রোবোটিক মিউল। ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে রাফাল (Rafale), সু-৩০ (Su-30), পি-৮১ (P-8I), সি-২৯৫ (C-295), মিগ-২৯ ( MiG-29), ও বিভিন্ন ফর্মেশনে এমআই -১৭ ( Mi-17) কপ্টার।

    নতুন কমান্ডো ইউনিট

    এ বছরের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ সেনার প্রাণী বাহিনী—জানস্কার পোনি, ব্যাকট্রিয়ান উট এবং প্রশিক্ষিত কুকুর। ‘উঁচা কদম তাল’-এ পাশাপাশি প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করবে নতুন গঠিত ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav light commando battalion)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি মার্চিং কন্টিনজেন্ট ও ১৩টি ব্যান্ড অংশ নেবে। পুরো যুদ্ধছকভিত্তিক প্রদর্শন চলবে প্রায় ১৫ মিনিট।

    মেক-ইন ইন্ডিয়ার অস্ত্র

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র। এখানেই শেষ নয়, সৈনিকরা প্রত্যেক বারের মতো বিভিন্ন ফরমেশন তৈরি করে রাজপথে চমক লাগিয়ে দেবে দর্শকদের। সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর–পরবর্তী প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বার্তা স্পষ্ট—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনা শুধু শক্তিশালীই নয়, সম্পূর্ণ আধুনিক।

    ৩০টি ট্যাবলো

    এবার কর্তব্য পথে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে মোট ৩০টি ট্যাবলো—এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের। স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। এগুলি বিভিন্ন প্রদেশ থেকে দিল্লির রাজপথে চলবে এবং তুলে ধরবে বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতিকে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের অবদান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ভেটেরান্স ট্যাবলোও থাকবে। ট্যাবলোগুলির মূল ভাবনা হবে— ‘স্বাধীনতার মন্ত্র – বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র – আত্মনির্ভর ভারত’।

    উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা

    ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) উপলক্ষ্যে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে খবর, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন (Ursula von der Leyen) ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি তিনদিনের সফরে ভারতে আসছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে যে উদযাপন হতে চলেছে, সেই উৎসবে যোগ দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।

    সমাজের নানা স্তর থেকে বিশেষ অতিথি

    প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন কৃষক, কারিগর, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, উদ্যোগপতি, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা, ক্রীড়াবিদ, ছাত্রছাত্রী, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাফাইকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তারা। বিদেশি প্রতিনিধি ও যুব বিনিময় কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণকারীরা থাকবেন।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’—এই দুই থিমকে কেন্দ্র করেই পরিবেশনা সাজানো হবে। সৃজনশীল দলের নেতৃত্বে থাকছেন সঙ্গীত পরিচালক এম.এম. কীরাবানি, গীতিকার সুভাষ সেহগল, কোরিওগ্রাফার সন্তোষ নায়ার। অনুষ্ঠানের পরিচালনায় থাকবেন অনুপম খের। তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. সন্ধ্যা পুরেচা।

    সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সুবিধা

    জনসাধারণের জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে টিকিট মিলবে। টিকিটধারীদের জন্য বিনামূল্যে মেট্রো যাত্রা ও পার্ক-অ্যান্ড-রাইড সুবিধা থাকবে। সব গ্যালারি থাকবে দিব্যাঙ্গ-বান্ধব। প্যারেডের পরে NCC ক্যাডেট ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে স্বচ্ছতা অভিযানও চালানো হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের পর ২৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ভারত পর্ব, যেখানে ট্যাবলো, আঞ্চলিক খাবার, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা যাবে। ২৮ জানুয়ারি কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে প্রধানমন্ত্রীর এনসিসি র‍্যালি।

    বাংলার জন্য বিশষ ভাবনা

    এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) বাংলার কাছেও বিশেষ। বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে (150 years of Vande Mataram) পশ্চিমবঙ্গের বঙ্কিম ভবন—ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। খুশির জোয়ার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামেও। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার ডাক পেয়েছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দা মৌসুমি ঘোষ। সারা দেশ থেকে মোট ১০০ জনকে ডাকা হয়েছে এই প্যারেডের অনুষ্ঠানে। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন মৌসুমি। জঙ্গলমহলের সিমলাপালের প্রত্যন্ত গ্রাম কড়াকানালী। এই এলাকায় বাস বহু কৃষক পরিবারের। তেমনই এক কৃষক পরিবারের সন্তান মৌসুমি। বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সেবার কাজে। জাতীয় সেবা প্রকল্পে অংশ নেন তিনি। সেখানেই বিশেষ কৃতিত্বের জন্য মৌসুমিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

  • DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    DGCA: ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার জরিমানা, কারণ কি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসামরিক বিমান চলাচল মহাপরিদফতর (DGCA) দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ওপর ২২.২০ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ব্যাপক হারে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে তিন লাখেরও বেশি যাত্রী আটকে পড়েছিলেন (Indigo)। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তে অপারেশনাল পরিকল্পনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ মেনে চলার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে।

    ডিজিসিএ (DGCA)

    ডিজিসিএ প্রকাশিত এক প্রেস নোট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিপর্যয় ঘটে। ওই সময়ে মোট ২,৫০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং আরও ১,৮৫২টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে চালানো হয়েছে। ডিজিসিএ গঠিত চার সদস্যের একটি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত চালায়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য গ্রহণ, নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিশ্লেষণ, ক্রু রোস্টারিং পদ্ধতি, এবং ব্যবহৃত সফটওয়্যার ব্যবস্থার পর্যালোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ‘অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন’ বা সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রবণতাই ছিল মূল কারণ। সংস্থাটি ক্রু, বিমান এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সর্বাধিকতা নিশ্চিত করতে গিয়ে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে উপেক্ষা করেছে।

    প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে, ক্রু রোস্টারে পর্যাপ্ত বাফার না থাকা, অতিরিক্ত দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্নের ওপর নির্ভরতা, ঘন ঘন ‘টেইল সুইচ’ (বিমানের পরিবর্তন) এবং ‘ডেড-হেডিং’ বা যাত্রী হিসেবে ক্রু পরিবহণের ব্যবহার। এসবের ফলে অপারেশনাল স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ ছিল অপারেশনের অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন, নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তার ঘাটতি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণে গুরুতর দুর্বলতা (DGCA)।”

    রিপোর্টের বক্তব্য

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পরিচালনায় অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশনের চেষ্টা, পর্যাপ্ত (Indigo) নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতির অভাব, সিস্টেম সফটওয়্যার সহায়তায় ত্রুটি এবং এম/এস ইন্ডিগোর ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও পরিচালন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।” রিপোর্ট অনুযায়ী, কমিটি লক্ষ্য করেছে যে এয়ারলাইনের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাগত দুর্বলতা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, পর্যাপ্ত অপারেশনাল বাফার বজায় রাখেনি এবং সংশোধিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (FDTL) বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার ফলেই ব্যাপক ফ্লাইট বিলম্ব ও বড় আকারের বাতিলের ঘটনা ঘটে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

    ডিজিসিএর বিবৃতি

    ডিজিসিএর বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তে আরও বলা হয়েছে যে ক্রু, বিমান ও নেটওয়ার্ক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রোস্টার বাফার মার্জিন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিবৃতিতে বলা হয়, “ক্রু রোস্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে ডিউটি সময় সর্বোচ্চ হয়। এর জন্য ডেড-হেডিং, টেল-সোয়াপ, দীর্ঘ ডিউটি প্যাটার্ন এবং খুবই সীমিত রিকভারি মার্জিনের ওপর নির্ভর করা হয় (Indigo)। এই পদ্ধতি রোস্টারের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করেছে এবং অপারেশনাল সক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।” তদন্তের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমূলক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং যাত্রীদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়। ডিজিসিএ জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষণগুলি টেকসই পরিচালনা, যাত্রী সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সুষম অপারেশনাল পরিকল্পনা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা তদারকির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (DGCA)।

    সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস

    জরিমানার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (CARs) লঙ্ঘনের জন্য এককালীন ₹১.৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফ্লাইট টাইম লিমিট সংক্রান্ত সম্মতিসম্পন্ন স্কিম তৈরি করতে ব্যর্থতা, অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণের ভুলভাবে দায়িত্ব অর্পণ এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৬৮ দিন ধরে এফডিটিএল নিয়ম না মানার জন্য ইন্ডিগোকে আরও ২০.৪০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা দৈনিক ৩০ লাখ টাকা হারে হিসেব করা হয়েছে (Indigo)। কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে ৫০ কোটি টাকার একটি ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্ডিগো সিস্টেমিক রিফর্ম অ্যাসিওরেন্স স্কিম (ISRAS)-এর আওতায় নেতৃত্ব, জনবল পরিকল্পনা, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বোর্ডের তদারকিতে যাচাইযোগ্য উন্নতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে এই অর্থ ছাড় করা হবে (DGCA)।

    ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি, ডিজিসিএ শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। ইন্ডিগোর সিইওকে পর্যাপ্ত তদারকি ও সংকট ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ২০২৫ সালের শীতকালীন সূচি এবং সংশোধিত এফডিটিএল বিধির প্রভাব মূল্যায়নে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টেবল ম্যানেজারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।অপারেশনস কন্ট্রোল সেন্টারের (OCC) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে গুরুতর পরিকল্পনাগত ব্যর্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে এবং ভবিষ্যতে কোনও জবাবদিহিমূলক পদে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তদারকি ও রোস্টার ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির জন্য ডেপুটি হেড অব ফ্লাইট অপারেশনস, ক্রু রিসোর্স প্ল্যানিংয়ের এভিপি এবং ডিরেক্টর অব ফ্লাইট অপারেশনসকে সতর্ক করা হয়েছে। এয়ারলাইনটিকে তার অভ্যন্তরীণ তদন্তে চিহ্নিত অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে এবং ডিজিসিএর কাছে একটি সম্মতিসূচক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Indigo)। এর জবাবে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে তারা ডিজিসিএর নির্দেশ মেনে নিচ্ছে এবং তাদের বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা রিপোর্টে উত্থাপিত বিষয়গুলি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (DGCA)।

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশ, সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই একপ্রকার গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। গত কয়েক দশক ধরে গভীর ও উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জেরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতা উপেক্ষা করে এসেছে (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষ।

    মানবাধিকার সঙ্কট (Hindus Under Attack)

    ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু ঘটনার একটি ছবি তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই গুরুতর মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। মাদ্রাজ হাই কোর্ট তিরুপ্পারনকুন্দ্রমে অবস্থিত অরুলমিগু সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের নির্বাহী আধিকারিককে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত জমিতে একটি দরগার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। আদালতের মন্তব্য, এই কাজটি ফৌজদারি অনধিকার প্রবেশের শামিল।

    অধ্যাপকের অভিযোগ

    আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক রচনা কৌশল প্রায় তিন দশক ধরে চলা ধর্মীয় বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলে এমন এক শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে ২০০৪ সালে যমজ সন্তানের গর্ভধারণের সময় তাঁর গর্ভপাত ঘটে। এএমইউয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডিং ও নথিপত্রের ভিত্তিতে করা এই অভিযোগ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার মারাত্মক লঙ্ঘন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির চিত্র তুলে ধরে (Hindus Under Attack)।

    রাম’ শব্দে বিতর্ক

    ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় সরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার একটি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ঘিরে ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভ ছড়িয়ে (Roundup Week) পড়ে। প্রশ্নে একটি কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পের মধ্যে ‘রাম’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ৭ জানুয়ারির পরীক্ষায় প্রশ্নটি ছিল—‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘বালা’, ‘শেরু’, ‘নো ওয়ান’ এবং ‘রাম’। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির হুলিমাঙ্গলা এলাকায় এক উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হল শহরটি। অবৈধ ইসলামি বসতি উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক ইসলামপন্থী মহিলা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেসিবি মেশিন দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে হেব্বাগোডি থানার পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব

    দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে পুরনিগমের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘটিত হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Roundup Week)। পাকিস্তানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে হিন্দু সংখ্যালঘু নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু সিন্ধ প্রদেশেই প্রতি বছর অন্তত ১,০০০ সংখ্যালঘু মেয়ে এ ধরনের যৌন দাসত্বের শিকার হয়। এছাড়াও পাকিস্তানের হিন্দুরা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্য এবং অবহেলার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু মন্দিরে ঘনঘন হামলা, শিক্ষাক্রমে হিন্দুবিদ্বেষী উপস্থাপন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব, মৌলিক অধিকার অস্বীকার এবং এমনকি অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক বৈষম্য। পাকিস্তানে ভিল (Bheel) সম্প্রদায়ের মহিলাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের করুণ অবস্থার আর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

    প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত

    পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে প্রভাবশালী এক জমিদারের গুলিতে কাইলাস কোলহি নামে এক প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রামীণ সিন্ধে সামন্ততান্ত্রিক হিংসা, সংখ্যালঘু অধিকার ও বিচারহীনতার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আবারও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবিতে সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

    দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এক মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফতকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ঘটনাটি বাংলাদেশ-সহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং ভারত থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছিল। শরীয়তপুর জেলায় সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় জখম হয়ে বছর পঞ্চাশের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর। তিনি ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মালিক ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে কেওড়ভাঙা বাজারের কাছে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় (Roundup Week)।

    হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ড

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে এক হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ডে। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা জয় মহাপাত্রকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরে বিষ প্রয়োগ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Hindus Under Attack)। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক ঘটনায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মিঠুন সরকার নামে একজন। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার আর একটি উদাহরণ। পাবনা জেলার প্রখ্যাত হিন্দু সংগীতশিল্পী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রবীণ নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

    ঘৃণাজনিত অপরাধ

    বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে হিন্দুবিদ্বেষ, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভেতরে প্রোথিত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনপরিসরে হিন্দুবিদ্বেষের আর একটি সূক্ষ্ম রূপ রয়েছে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে (Roundup Week)। এই সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না বিদ্যমান আইন ও তার প্রয়োগের ধরন এবং সামগ্রিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে বাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। আপাতদৃষ্টিতে এটি দূষণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ এবং এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে সুসংগত যুক্তির অভাব লক্ষ্য করলে সংশ্লিষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) সম্বলপুর জেলার রেডহাখোলে মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় ১০,০০০ বছরের পুরনো (10000 Year Old City) এক প্রাচীন মানব বসতির সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI) ইতিমধ্যে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে। সুপ্রাচীন কালের পাথরের খোদাই করা নিদর্শন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উদ্ধার হয়েছে। এই বিরাট ধ্বংসাবশেষের সঠিক উৎস ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারণের জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ এএসআই একটি বিস্তৃত সমীক্ষা অভিযান শুরু করেছে।

    আগামী প্রায় দু’মাস ধরে চলবে অনুসন্ধান (Odisha)

    সম্বলপুরের রাইরাখোল (Odisha) এলাকার ভীমা মণ্ডলী, রাইলা, ল্যান্ডিমাল এবং লোহাপানকা পঞ্চায়েত-সহ ছাতাডগা ও ব্রহ্মাণীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মোট ৪২টি স্থানে প্রাগৈতিহাসিক শৈলচিত্র ও প্রত্নবস্তুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই পাথুরে খোদাইগুলিতে মূলত বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে, যা আদিম মানুষের শৈল্পিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে অনুমান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পকর্মগুলি অন্তত ১০,০০০ বছরের পুরোনো (10000 Year Old City)।

    এই আবিষ্কারগুলি নিয়ে নিবিড় গবেষণার লক্ষ্যে এএসআই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ঐতিহাসিক ‘ভীমা মণ্ডলী’ গুহায় কাজ শুরু করেছে। একটি বিশেষজ্ঞ দল আগামী প্রায় দুই মাস এখানে থেকে নিবিড় সমীক্ষা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।

    ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে

    এই সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এএসআইয়ের সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডিবি গড়নায়ক এবং তাঁর ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। প্রাচীন এই ঐতিহ্যের সঠিক সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    ডিবি গড়নায়ক বলেছেন, “আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই জরিপ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। এএসআই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিবদ্ধ করবে। এই অনুসন্ধান সফল হলে অঞ্চলটি বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলি পাহাড় ও বনাঞ্চল-সহ (Odisha) একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, “সমীক্ষাটি (10000 Year Old City) শেষ হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে কাজ শেষ হতে অন্তত দু’মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।”

  • Al Falah University: ভুয়ো রোগী, কাগজে কলমে ডাক্তার! আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরক তথ্য

    Al Falah University: ভুয়ো রোগী, কাগজে কলমে ডাক্তার! আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরক তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লা (Delhi Red Fort Blast) এলাকায় বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। এই সম্পত্তি এখন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আল ফালাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী এবং তাঁর দাতব্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    ধারা ৫০ এর জবানবন্দিতে স্বীকার (Al Falah University)

    ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের ন্যাক শো-কজ নোটিশের পরে ইউজসি ১২বি স্বীকৃতি এবং ন্যাক সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য সমানে এসেছে। ইডির কাছে ধারা ৫০ এর জবানবন্দিতে স্বীকার করা হয়েছে, কাগজ কলমে কেবল ডাক্তার ছিলেন, রেকর্ড অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের (Al Falah University) বেতনভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তাঁরা নিয়মিত কলেজে যেতেন না, ক্লাস নেন না বা হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেন না। ভুয়ো ডাক্তার নিয়োগের তথ্য দিয়ে সিদ্দিকী এবং আল ফালাহ হরিয়ানা সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র জোগাড় করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেটিই পিজি কোর্সের জন্য এনএমসি অনুমতির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

    ন্যাক এবং ইউজিসি স্বীকৃতি বিভ্রান্তিকর

    তদন্তকারী সংস্থা ইডি নভেম্বর মাসে সিদ্দিকীকে তাঁর ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। আল ফালাহ ট্রাস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের (Al Falah University) বিরুদ্ধে ভুয়া রোগী ভর্তি, জাতীয় মূল্যায়ন, স্বীকৃতি কাউন্সিল ন্যাক এবং ইউজিসি স্বীকৃতির বিভ্রান্তিকর অভিযোগ রয়েছে।

    আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা ইডি জানিয়েছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) প্রধান অভিযুক্ত উমর উন নবী এবং অন্য অভিযুক্ত ডাক্তারদের নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ডক্টর জামিল খানের সুপারিশে হয়েছিল এবং অবশেষে চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী কর্তৃকও অনুমোদিত হয়েছিল। আল ফালাহর আইটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা ফারদিন বেগের বক্তব্য উল্লেখ  করে বলা হয়েছে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে ভুয়ো রোগী ভর্তি করার চক্র চলত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে ভুয়ো রোগীদের বিস্তারিত রেকর্ড এবং অর্থপ্রদানের বিবরণ আল ফালাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরান আলমই করতেন। চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী নিজেই যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিতেন। তাছাড়া, নিয়মিত অনুশীলনের অংশ হিসেবে ভুয়ো রোগীদের ভাউচারের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করার তথ্যও পাওয়া গিয়েছে।

    ইডি আরও বলেছে, আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট আপডেটগুলি জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশ অনুসারেই বেসরকারি বিক্রেতা দ্বারা পরিচালিত হত।

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মাওবাদী নিহত

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মাওবাদী নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে এক সংঘর্ষে অন্তত দুই মাওবাদী (Two Maoists Kill) নিহত হয়েছে। শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ভোরে বিজাপুর জেলার ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী একটি যৌথ অভিযান শুরু করলে সশস্ত্র সংঘর্ষে শুরু হয়। এরপর পরস্পর গুলি বিনিময়ে দুই মাওবাদীর মৃত্যু হয়।

    মাঝেমধ্যে গোলাগুলি চলছে (Chhattisgarh)

    স্থানীয় প্রতিবেদন সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত দুই মাওবাদীর (Two Maoists Kill) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এনকাউন্টার স্থলে এখনও মাঝেমধ্যে গোলাগুলি চলছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে এই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের কথা আরও জানা যাবে বলে অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    ১,৫০০-এর বেশি মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সশস্ত্র মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে মাওবাদী-বিরোধী অভিযান পুরোদমে চলছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া বিদ্রোহ-বিরোধী অভিযানগুলোর ফলে মাওবাদী সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছে। কোটি কোটি টাকার মাথার দামে অভিযুক্ত বহু শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের খতম করা হয়েছে। আবার বহু মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করে মূল ধারায় ফিরে এসেছেন।

    বস্তার (Chhattisgarh) অঞ্চলে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এই জোরালো অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণও করেছে। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই রাজ্যে ১,৫০০-এর বেশি মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করেছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঘোষণা করেছে।

  • PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গায় স্নান সেরে কালীঘাট দর্শন বিকেলে ট্রেনে চেপে আজিমগঞ্জে নেমে তারাপীঠে মা-তারার পুজো। আবার পরের দিন সোজা গুয়াহাটি পৌঁছে মাতা কামাখ্যার প্রার্থনা। দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের (Vande Bharat Sleeper) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এর পাশাপাশি চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Malda)। রেলমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে এক ডজনের বেশি নতুন ট্রেন উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে রেলওয়ের উন্নয়নে ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।” শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া-কামাক্ষ্যা পথের এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি ৷ তাঁর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু, মালদা দক্ষিণের ঈশা খান চৌধুরি ৷

    বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের ভিতরে মোদি

    গতির সঙ্গে বিলাসিতার মিশেলে শনিবার থেকে হাওড়া-গুয়াহাটির মধ্যে চালু হল দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন। দূরপাল্লার যাত্রায় এখন আর ক্লান্তি নয় বরং বিলাসবহুল বিছানায় শুয়েই গন্তব্যে পৌঁছবেন যাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই অত্যাধুনিক এই ট্রেনের উদ্বোধন হল। এই ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার পাশাপাশি অসমের বঙ্গাইগাঁও ও কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় পরিষেবা দেবে। রাতের সফরের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ভাবে নকশা করা হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগে চলার ক্ষমতা থাকলেও, বাণিজ্যিক ভাবে এই ট্রেন চলবে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে। মোট ১৮টি কামরার এই ট্রেনে একসঙ্গে সফর করতে পারবেন ৮২৩ জন যাত্রী। এদিন বন্দেভারত ট্রেনের ভিতরের কোচও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সবুজ পতাকা নাড়িয়ে নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কথা বলেন কচিকাঁচাদের সঙ্গে।

    কবে কবে চলবে, কোথায় থামবে

    রেলমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ছ’দিন হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলবে হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে। পরের দিন কামাখ্যা পৌঁছবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। অন্যদিকে কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের যাত্রার সময় অনেকটাই কম লাগবে বলেই দাবি রেলের। অন্যদিকে দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মোট ১৩ টি স্টেশনে দাঁড়াবে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। রেলের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরেই প্রথমে ট্রেনটি দাঁড়াবে ব্যান্ডেল স্টেশনে। এরপর নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা জংশম, মালদহ টাউন, আলুবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া হয়ে কামাখ্যা পৌঁছাবে। কামাখ্যা থেকে ছাড়ার পর একইভাবে এই স্টেশনগুলিতেই স্টপেজ দেবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তবে কামাখ্যা থেকে বুধবার এবং হাওড়া থেকে বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে না ট্রেনটি। এদিন পতাকা নেড়ে ট্রেন রওনা হওয়ার পর কিছুক্ষণ ট্রেনের ভিতরেই কাটান প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের একাধিক কোচে ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই ট্রেনে থাকা স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা, যাত্রার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শিশুদের সঙ্গে গল্প করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তারপর প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা থেকেই একগুচ্ছ রেল ও সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি।

  • Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত তিন-চার বছরে ভারতীয় অটোমোবাইল (Indian Automobile) শিল্প এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর একটি শিল্প থেকে ভারতীয় অটোমোবাইল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক যানবাহন উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, ব্যয়-সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মডেলের দিকে কৌশলগত ঝোঁকের ফলে “মেড-ইন-ইন্ডিয়া” যানবাহন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

    অটোমোবাইল শিল্পে ভারতের নয়া মানদণ্ড

    উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যাত্রীবাহী গাড়ি, বৈদ্যুতিক যান, শক্তপোক্ত দুই-চাকার যান থেকে শুরু করে ভারী কৃষিযন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় শিল্প রেকর্ড ভেঙে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই সময়কাল ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতার এমন এক মাইলফলক, যেখানে গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনে ভারত শুধু বিশ্বমান ছুঁয়েই দেখেনি, বরং নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করেছে।

    ২০২৩–২০২৬: ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ঐতিহাসিক মোড়

    ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী অধ্যায় বলা যায়। উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তি এবং এসইউভি ও বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝোঁকের ফলে রফতানিতে নজিরবিহীন দ্বি-অঙ্কের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। চেন্নাই, পুণে ও সানন্দের মতো শিল্পাঞ্চলগুলি আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক রফতানি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই সাফল্য ভারতীয় উৎপাদনের পরিপক্বতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

    ২০২৫-এ রেকর্ড: যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি

    ২০২৫ সাল ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়। এই বছরে যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ৮.৫৮ লক্ষ ইউনিট অতিক্রম করে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া, টাটা মোটরস, হোন্ডা ও নিসান এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দেয়। আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের ভারতীয় গাড়ির চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, যার পেছনে রয়েছে ভারতের কম খরচের উৎপাদন ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় আধিপত্য: প্রধান গাড়ি সরবরাহকারী ভারত

    দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে ভারত এখন শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। ২০২৫ সালের শেষে দেশটির মোট লাইট ভেহিকল আমদানির ৫৩.২ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে—সংখ্যায় প্রায় ১,৫৭,৬১২ ইউনিট। এই তালিকায় রয়েছে ভারতীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারতীয় কারখানায় নির্মিত জাপানি ও কোরিয়ান মডেলও।

    ইউরোপে কৌশলগত অগ্রগতি

    বিশ্বব্যাপী চাহিদা কিছুটা কমলেও ইউরোপে ভারতীয় অটোমোবাইল রফতানি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসে ২০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.২৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য ও স্পেনে বৈদ্যুতিক গাড়ির রফতানি প্রায় চার গুণ বেড়েছে, যা ইউরোপের কঠোর পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান পূরণে ভারতের সক্ষমতা প্রমাণ করে। জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে ভারত। নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট অটো কম্পোনেন্ট রফতানির প্রায় ৭ শতাংশ যায় জার্মানিতে। ইঞ্জিন পার্টস, ট্রান্সমিশন সিস্টেম ও আধুনিক ইলেকট্রনিক উপাদান সরবরাহে ভারত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    দুই-চাকার যানে সাফল্য

    ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় দুই-চাকার যান রপ্তানি ২১.৪ শতাংশ বেড়ে ৪.২ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। লাতিন আমেরিকায় বাজাজ অটো, টিভিএস, হিরো মোটোকর্প, রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডার যান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাপানের মতো উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারত বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের প্রথম নয় মাসে জাপানে গাড়ি রফতানির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৬.৪৫ মিলিয়ন ডলার। মারুতি সুজুকির জিমনি ও হোন্ডার এলিভেট (জাপানে WR-V নামে পরিচিত) এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ভারতীয় কম্পোনেন্ট রফতানির প্রধান বাজার

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট রফতানি ২০২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-অর্থবর্ষের মধ্যে ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট রফতানির ২৮ শতাংশই যায় আমেরিকায়। ভারতীয় মোটরসাইকেল রফতানির মূল্য লাতিন আমেরিকায় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরে ৫০–২৫০ সিসি রেঞ্জের ৫০ লক্ষেরও বেশি ইউনিট রপ্তানি হয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পেরু ও গুয়াতেমালায়। জন ডিয়ারের উন্নত ৫এম ট্র্যাক্টর সিরিজ ভারতেই তৈরি হয়ে আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপানে রফতানি হচ্ছে। মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশই রফতানি করা হচ্ছে। এই অভূতপূর্ব রফতানি বৃদ্ধি শুধু সংখ্যার সাফল্য নয়, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় শিল্পের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে উদীয়মান অর্থনীতি—সবখানেই ভারত আজ বৈশ্বিক অটোমোবাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি অপরিহার্য কেন্দ্র। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মোবিলিটি রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত এখন দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়িয়ে।

  • Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প (Chabahar Port Project) থেকে ভারত সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবরকে শুক্রবার খারিজ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার প্রকল্পে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় (স্যানশনস ওয়েভার) বাড়ানোর বিষয়ে ভারত সরকার এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের জন্য ছয় মাসের শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভার দিয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। এই ছাড় যদি বাড়ানো না হয়, তাহলে ভারতকে হয় প্রকল্প থেকে সরে যেতে হবে, নয়তো মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত পদক্ষেপের ঝুঁকি নিতে হবে।

    আমেরিকার সঙ্গে কথা চলছে

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তার পর ভারত ছয় মাসের জন্য একটি ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়। এই ছাড়ের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চাবাহারের (Chabahar Port Project) শহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,“চাবাহার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি দফতর একটি চিঠি জারি করে শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভারের নির্দেশনা দেয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ। এই ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

    চাবাহার প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

    এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন ‘ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে চাবাহার প্রকল্প (Chabahar Port Project) কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেন—ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সরকারি সূত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই ভারত চাবাহার বন্দরের জন্য প্রায় ১২ কোটি ডলার প্রতিশ্রুত অর্থ ইরানে স্থানান্তর করেছিল। ফলে ভারত সরে গেলেও ইরান সেই অর্থ ব্যবহার করে বন্দরের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, নিষেধাজ্ঞার পর আইপিজিএল-এর বোর্ডে থাকা সরকারি মনোনীত ডিরেক্টররা একযোগে পদত্যাগ করেন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করতে সংস্থার ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চাবাহার প্রকল্প নিয়ে ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

LinkedIn
Share