Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    Odisha: ওড়িশার রেডহাখোল-এ ১০,০০০ বছরের প্রাচীন জনপদের হদিশ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে নেমেছে এএসআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) সম্বলপুর জেলার রেডহাখোলে মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় ১০,০০০ বছরের পুরনো (10000 Year Old City) এক প্রাচীন মানব বসতির সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI) ইতিমধ্যে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে। সুপ্রাচীন কালের পাথরের খোদাই করা নিদর্শন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান উদ্ধার হয়েছে। এই বিরাট ধ্বংসাবশেষের সঠিক উৎস ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারণের জন্য গত বৃহস্পতিবার থেকে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ এএসআই একটি বিস্তৃত সমীক্ষা অভিযান শুরু করেছে।

    আগামী প্রায় দু’মাস ধরে চলবে অনুসন্ধান (Odisha)

    সম্বলপুরের রাইরাখোল (Odisha) এলাকার ভীমা মণ্ডলী, রাইলা, ল্যান্ডিমাল এবং লোহাপানকা পঞ্চায়েত-সহ ছাতাডগা ও ব্রহ্মাণীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মোট ৪২টি স্থানে প্রাগৈতিহাসিক শৈলচিত্র ও প্রত্নবস্তুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই পাথুরে খোদাইগুলিতে মূলত বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে, যা আদিম মানুষের শৈল্পিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে অনুমান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিল্পকর্মগুলি অন্তত ১০,০০০ বছরের পুরোনো (10000 Year Old City)।

    এই আবিষ্কারগুলি নিয়ে নিবিড় গবেষণার লক্ষ্যে এএসআই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম পর্যায়ে ঐতিহাসিক ‘ভীমা মণ্ডলী’ গুহায় কাজ শুরু করেছে। একটি বিশেষজ্ঞ দল আগামী প্রায় দুই মাস এখানে থেকে নিবিড় সমীক্ষা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।

    ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে

    এই সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এএসআইয়ের সুপারিনটেন্ডিং আর্কিওলজিস্ট ডিবি গড়নায়ক এবং তাঁর ১৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। প্রাচীন এই ঐতিহ্যের সঠিক সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    ডিবি গড়নায়ক বলেছেন, “আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই জরিপ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। এএসআই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিবদ্ধ করবে। এই অনুসন্ধান সফল হলে অঞ্চলটি বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে। প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানগুলি পাহাড় ও বনাঞ্চল-সহ (Odisha) একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন, “সমীক্ষাটি (10000 Year Old City) শেষ হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে কাজ শেষ হতে অন্তত দু’মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।”

  • Al Falah University: ভুয়ো রোগী, কাগজে কলমে ডাক্তার! আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরক তথ্য

    Al Falah University: ভুয়ো রোগী, কাগজে কলমে ডাক্তার! আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরক তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লা (Delhi Red Fort Blast) এলাকায় বিস্ফোরণের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে হরিয়ানার আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় (Al Falah University)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। এই সম্পত্তি এখন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আল ফালাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী এবং তাঁর দাতব্য ট্রাস্টের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    ধারা ৫০ এর জবানবন্দিতে স্বীকার (Al Falah University)

    ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের ন্যাক শো-কজ নোটিশের পরে ইউজসি ১২বি স্বীকৃতি এবং ন্যাক সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য সমানে এসেছে। ইডির কাছে ধারা ৫০ এর জবানবন্দিতে স্বীকার করা হয়েছে, কাগজ কলমে কেবল ডাক্তার ছিলেন, রেকর্ড অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের (Al Falah University) বেতনভুক্ত, কিন্তু বাস্তবে তাঁরা নিয়মিত কলেজে যেতেন না, ক্লাস নেন না বা হাসপাতালে রোগীদের সেবা দেন না। ভুয়ো ডাক্তার নিয়োগের তথ্য দিয়ে সিদ্দিকী এবং আল ফালাহ হরিয়ানা সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র জোগাড় করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেটিই পিজি কোর্সের জন্য এনএমসি অনুমতির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

    ন্যাক এবং ইউজিসি স্বীকৃতি বিভ্রান্তিকর

    তদন্তকারী সংস্থা ইডি নভেম্বর মাসে সিদ্দিকীকে তাঁর ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। আল ফালাহ ট্রাস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের (Al Falah University) বিরুদ্ধে ভুয়া রোগী ভর্তি, জাতীয় মূল্যায়ন, স্বীকৃতি কাউন্সিল ন্যাক এবং ইউজিসি স্বীকৃতির বিভ্রান্তিকর অভিযোগ রয়েছে।

    আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা ইডি জানিয়েছে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Delhi Red Fort Blast) প্রধান অভিযুক্ত উমর উন নবী এবং অন্য অভিযুক্ত ডাক্তারদের নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ডক্টর জামিল খানের সুপারিশে হয়েছিল এবং অবশেষে চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী কর্তৃকও অনুমোদিত হয়েছিল। আল ফালাহর আইটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা ফারদিন বেগের বক্তব্য উল্লেখ  করে বলা হয়েছে মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে ভুয়ো রোগী ভর্তি করার চক্র চলত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে ভুয়ো রোগীদের বিস্তারিত রেকর্ড এবং অর্থপ্রদানের বিবরণ আল ফালাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরান আলমই করতেন। চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকী নিজেই যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিতেন। তাছাড়া, নিয়মিত অনুশীলনের অংশ হিসেবে ভুয়ো রোগীদের ভাউচারের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান করার তথ্যও পাওয়া গিয়েছে।

    ইডি আরও বলেছে, আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর মেডিকেল কলেজের ওয়েবসাইট আপডেটগুলি জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীর নির্দেশ অনুসারেই বেসরকারি বিক্রেতা দ্বারা পরিচালিত হত।

  • Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মাওবাদী নিহত

    Chhattisgarh: ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মাওবাদী নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে এক সংঘর্ষে অন্তত দুই মাওবাদী (Two Maoists Kill) নিহত হয়েছে। শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ভোরে বিজাপুর জেলার ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী একটি যৌথ অভিযান শুরু করলে সশস্ত্র সংঘর্ষে শুরু হয়। এরপর পরস্পর গুলি বিনিময়ে দুই মাওবাদীর মৃত্যু হয়।

    মাঝেমধ্যে গোলাগুলি চলছে (Chhattisgarh)

    স্থানীয় প্রতিবেদন সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত দুই মাওবাদীর (Two Maoists Kill) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এনকাউন্টার স্থলে এখনও মাঝেমধ্যে গোলাগুলি চলছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে এই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের কথা আরও জানা যাবে বলে অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    ১,৫০০-এর বেশি মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সশস্ত্র মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে মাওবাদী-বিরোধী অভিযান পুরোদমে চলছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া বিদ্রোহ-বিরোধী অভিযানগুলোর ফলে মাওবাদী সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছে। কোটি কোটি টাকার মাথার দামে অভিযুক্ত বহু শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের খতম করা হয়েছে। আবার বহু মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করে মূল ধারায় ফিরে এসেছেন।

    বস্তার (Chhattisgarh) অঞ্চলে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এই জোরালো অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক মাওবাদী সদস্য আত্মসমর্পণও করেছে। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই রাজ্যে ১,৫০০-এর বেশি মাওবাদী অস্ত্র ত্যাগ করেছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঘোষণা করেছে।

  • PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গায় স্নান সেরে কালীঘাট দর্শন বিকেলে ট্রেনে চেপে আজিমগঞ্জে নেমে তারাপীঠে মা-তারার পুজো। আবার পরের দিন সোজা গুয়াহাটি পৌঁছে মাতা কামাখ্যার প্রার্থনা। দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের (Vande Bharat Sleeper) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এর পাশাপাশি চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Malda)। রেলমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে এক ডজনের বেশি নতুন ট্রেন উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে রেলওয়ের উন্নয়নে ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।” শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া-কামাক্ষ্যা পথের এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি ৷ তাঁর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু, মালদা দক্ষিণের ঈশা খান চৌধুরি ৷

    বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের ভিতরে মোদি

    গতির সঙ্গে বিলাসিতার মিশেলে শনিবার থেকে হাওড়া-গুয়াহাটির মধ্যে চালু হল দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন। দূরপাল্লার যাত্রায় এখন আর ক্লান্তি নয় বরং বিলাসবহুল বিছানায় শুয়েই গন্তব্যে পৌঁছবেন যাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই অত্যাধুনিক এই ট্রেনের উদ্বোধন হল। এই ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার পাশাপাশি অসমের বঙ্গাইগাঁও ও কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় পরিষেবা দেবে। রাতের সফরের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ভাবে নকশা করা হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগে চলার ক্ষমতা থাকলেও, বাণিজ্যিক ভাবে এই ট্রেন চলবে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে। মোট ১৮টি কামরার এই ট্রেনে একসঙ্গে সফর করতে পারবেন ৮২৩ জন যাত্রী। এদিন বন্দেভারত ট্রেনের ভিতরের কোচও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সবুজ পতাকা নাড়িয়ে নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কথা বলেন কচিকাঁচাদের সঙ্গে।

    কবে কবে চলবে, কোথায় থামবে

    রেলমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ছ’দিন হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলবে হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে। পরের দিন কামাখ্যা পৌঁছবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। অন্যদিকে কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের যাত্রার সময় অনেকটাই কম লাগবে বলেই দাবি রেলের। অন্যদিকে দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মোট ১৩ টি স্টেশনে দাঁড়াবে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। রেলের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরেই প্রথমে ট্রেনটি দাঁড়াবে ব্যান্ডেল স্টেশনে। এরপর নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা জংশম, মালদহ টাউন, আলুবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া হয়ে কামাখ্যা পৌঁছাবে। কামাখ্যা থেকে ছাড়ার পর একইভাবে এই স্টেশনগুলিতেই স্টপেজ দেবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তবে কামাখ্যা থেকে বুধবার এবং হাওড়া থেকে বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে না ট্রেনটি। এদিন পতাকা নেড়ে ট্রেন রওনা হওয়ার পর কিছুক্ষণ ট্রেনের ভিতরেই কাটান প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের একাধিক কোচে ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই ট্রেনে থাকা স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা, যাত্রার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শিশুদের সঙ্গে গল্প করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তারপর প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা থেকেই একগুচ্ছ রেল ও সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি।

  • Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত তিন-চার বছরে ভারতীয় অটোমোবাইল (Indian Automobile) শিল্প এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর একটি শিল্প থেকে ভারতীয় অটোমোবাইল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক যানবাহন উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, ব্যয়-সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মডেলের দিকে কৌশলগত ঝোঁকের ফলে “মেড-ইন-ইন্ডিয়া” যানবাহন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

    অটোমোবাইল শিল্পে ভারতের নয়া মানদণ্ড

    উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যাত্রীবাহী গাড়ি, বৈদ্যুতিক যান, শক্তপোক্ত দুই-চাকার যান থেকে শুরু করে ভারী কৃষিযন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় শিল্প রেকর্ড ভেঙে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই সময়কাল ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতার এমন এক মাইলফলক, যেখানে গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনে ভারত শুধু বিশ্বমান ছুঁয়েই দেখেনি, বরং নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করেছে।

    ২০২৩–২০২৬: ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ঐতিহাসিক মোড়

    ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী অধ্যায় বলা যায়। উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তি এবং এসইউভি ও বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝোঁকের ফলে রফতানিতে নজিরবিহীন দ্বি-অঙ্কের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। চেন্নাই, পুণে ও সানন্দের মতো শিল্পাঞ্চলগুলি আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক রফতানি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই সাফল্য ভারতীয় উৎপাদনের পরিপক্বতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

    ২০২৫-এ রেকর্ড: যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি

    ২০২৫ সাল ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়। এই বছরে যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ৮.৫৮ লক্ষ ইউনিট অতিক্রম করে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া, টাটা মোটরস, হোন্ডা ও নিসান এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দেয়। আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের ভারতীয় গাড়ির চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, যার পেছনে রয়েছে ভারতের কম খরচের উৎপাদন ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় আধিপত্য: প্রধান গাড়ি সরবরাহকারী ভারত

    দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে ভারত এখন শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। ২০২৫ সালের শেষে দেশটির মোট লাইট ভেহিকল আমদানির ৫৩.২ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে—সংখ্যায় প্রায় ১,৫৭,৬১২ ইউনিট। এই তালিকায় রয়েছে ভারতীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারতীয় কারখানায় নির্মিত জাপানি ও কোরিয়ান মডেলও।

    ইউরোপে কৌশলগত অগ্রগতি

    বিশ্বব্যাপী চাহিদা কিছুটা কমলেও ইউরোপে ভারতীয় অটোমোবাইল রফতানি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসে ২০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.২৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য ও স্পেনে বৈদ্যুতিক গাড়ির রফতানি প্রায় চার গুণ বেড়েছে, যা ইউরোপের কঠোর পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান পূরণে ভারতের সক্ষমতা প্রমাণ করে। জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে ভারত। নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট অটো কম্পোনেন্ট রফতানির প্রায় ৭ শতাংশ যায় জার্মানিতে। ইঞ্জিন পার্টস, ট্রান্সমিশন সিস্টেম ও আধুনিক ইলেকট্রনিক উপাদান সরবরাহে ভারত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    দুই-চাকার যানে সাফল্য

    ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় দুই-চাকার যান রপ্তানি ২১.৪ শতাংশ বেড়ে ৪.২ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। লাতিন আমেরিকায় বাজাজ অটো, টিভিএস, হিরো মোটোকর্প, রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডার যান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাপানের মতো উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারত বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের প্রথম নয় মাসে জাপানে গাড়ি রফতানির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৬.৪৫ মিলিয়ন ডলার। মারুতি সুজুকির জিমনি ও হোন্ডার এলিভেট (জাপানে WR-V নামে পরিচিত) এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ভারতীয় কম্পোনেন্ট রফতানির প্রধান বাজার

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট রফতানি ২০২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-অর্থবর্ষের মধ্যে ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট রফতানির ২৮ শতাংশই যায় আমেরিকায়। ভারতীয় মোটরসাইকেল রফতানির মূল্য লাতিন আমেরিকায় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরে ৫০–২৫০ সিসি রেঞ্জের ৫০ লক্ষেরও বেশি ইউনিট রপ্তানি হয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পেরু ও গুয়াতেমালায়। জন ডিয়ারের উন্নত ৫এম ট্র্যাক্টর সিরিজ ভারতেই তৈরি হয়ে আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপানে রফতানি হচ্ছে। মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশই রফতানি করা হচ্ছে। এই অভূতপূর্ব রফতানি বৃদ্ধি শুধু সংখ্যার সাফল্য নয়, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় শিল্পের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে উদীয়মান অর্থনীতি—সবখানেই ভারত আজ বৈশ্বিক অটোমোবাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি অপরিহার্য কেন্দ্র। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মোবিলিটি রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত এখন দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়িয়ে।

  • Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প (Chabahar Port Project) থেকে ভারত সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবরকে শুক্রবার খারিজ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার প্রকল্পে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় (স্যানশনস ওয়েভার) বাড়ানোর বিষয়ে ভারত সরকার এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের জন্য ছয় মাসের শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভার দিয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। এই ছাড় যদি বাড়ানো না হয়, তাহলে ভারতকে হয় প্রকল্প থেকে সরে যেতে হবে, নয়তো মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত পদক্ষেপের ঝুঁকি নিতে হবে।

    আমেরিকার সঙ্গে কথা চলছে

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তার পর ভারত ছয় মাসের জন্য একটি ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়। এই ছাড়ের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চাবাহারের (Chabahar Port Project) শহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,“চাবাহার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি দফতর একটি চিঠি জারি করে শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভারের নির্দেশনা দেয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ। এই ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

    চাবাহার প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

    এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন ‘ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে চাবাহার প্রকল্প (Chabahar Port Project) কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেন—ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সরকারি সূত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই ভারত চাবাহার বন্দরের জন্য প্রায় ১২ কোটি ডলার প্রতিশ্রুত অর্থ ইরানে স্থানান্তর করেছিল। ফলে ভারত সরে গেলেও ইরান সেই অর্থ ব্যবহার করে বন্দরের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, নিষেধাজ্ঞার পর আইপিজিএল-এর বোর্ডে থাকা সরকারি মনোনীত ডিরেক্টররা একযোগে পদত্যাগ করেন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করতে সংস্থার ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চাবাহার প্রকল্প নিয়ে ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

  • 114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিষয়ে একধাপ এগলো ভারত। শুক্রবার এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ড বা ডিপিবি)। এখন প্রস্তাবটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) সামনে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এরপর খরচ সংক্রান্ত দরকষাকষি সম্পন্ন করা হবে এবং শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (সিসিএস) চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফাল যুদ্ধবিমানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৩৫টি রাফাল রয়েছে এবং নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতে মাক্রঁর সফরে চুক্তি স্বাক্ষর?

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরের সময় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফাল চুক্তিতে সই হতে পারে। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন মাক্রঁ। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। এই সময়কালেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তিটি যদি ২০২৭ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়, তবে ২০৩০ সাল থেকে প্রথম ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতকে সরবরাহ করবে ফ্রান্স। প্রস্তাবে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১২ থেকে ১৮টি প্রস্তুত রাফাল সরাসরি কেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি বিমানগুলি ভারতে নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ ভারতের

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় চুক্তির কথ মাথায় রেখে ভারত ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের জন্য বেশ কয়েকটি ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ বা আপসহীন শর্ত নির্ধারণ করেছে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে—১১৪টি যুদ্ধবিমানের প্রতিটিতে ভারতীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের সংযোজন; পাশাপাশি বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাকে এমন সুরক্ষিত ডেটা লিঙ্ক সরবরাহ করতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতীয় রেডার ও সেন্সরের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে সংযুক্ত করা যাবে এবং সেই তথ্য ও ছবি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলিতে পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে, রাফাল যুদ্ধবিমানের এভিওনিক্স ও রেডার এবং উইপন সিস্টেমে একাধিক বদল করতে হবে বিমান নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থাকে। তবে বিমানের সোর্স কোড ফরাসি পক্ষের কাছেই থাকবে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও দাসো এভিয়েশন এয়ারফ্রেম নির্মাণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য ইঞ্জিন নির্মাতা সাফরান এবং অ্যাভিওনিক্স সরবরাহকারী থ্যালেসের মতো সংস্থাগুলিও রাফাল-চুক্তিতে অংশ নেবে।

    ৯০টি রাফাল এফ-৪, ২৪টি এফ-৫ সংস্করণ!

    জানা যাচ্ছে, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ভারত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে ৯০টি নতুন রাফালের আপগ্রেডেড এফ-৪ সংস্করণ যুদ্ধবিমান পাবে। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে থাকা এফ-৩আর সংস্করণের ৩৫টি রাফালকে এফ-৪ সংস্করণের মানে উন্নীত করবে ফ্রান্স। এই আপগ্রেডের মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রেডার, যা আরও দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধশক্তি দেবে। এতে নতুন বিপদ শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য উন্নত আত্মসুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এই আপগ্রেড ফরাসি বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর রাফাল বিমানের আপগ্রেডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই সক্ষমতার আওতায় থাকবে আরও উন্নত দীর্ঘ-পাল্লার সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অনেক দূর থেকেই শত্রুকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাকে ধ্বংস করতে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমানে উন্নত স্যাটেলাইট লিঙ্ক যুক্ত করা হবে এবং পাইলটের সামনে আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যালগরিদমও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ২৪টি রাফাল (সর্বাধুনিক) এফ-৫ সংস্করণ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে দাসো অ্যাভিয়েশন তৈরি করবে ফ্রান্সেই।

    রাফাল ও সু-৫৭ ভিন্ন প্রকল্পের আওতায়!

    প্রতিবেদন বলছে, সাধারণত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এই হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হয়ে থাকে। কিন্তু, এই চুক্তিতে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভারতকে যথাক্রমে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব করলেও ভারত রাফাল চুক্তির দিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সু-৫৭ প্রস্তাবের সঙ্গে এই রাফাল চুক্তি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কারণ, দুটি ভিন্ন।একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
    তাঁদের মতে, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কর্মসূচির অধীনে ভারতীয় বায়ুসেনা চতুর্থ প্রজন্মের অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর অন্তত একটি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী ঘাটতি পূরণে সরকারকে দুই থেকে তিনটি স্কোয়াড্রন পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাবও দিয়েছে বায়ুসেনা। সেখানে বিবেচনার মধ্যে রয়েছে রুশ সু-৫৭।

    সিসিএস-এর ছাড়পত্র মিললেই সবুজ সঙ্কেত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, “ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার স্টেটমেন্ট অফ কেস (SoC) কয়েক মাস আগেই মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে।” রাফালের সাম্প্রতিক কার্যকারিতা এই প্রস্তাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে রাফাল যুদ্ধবিমান স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের মাধ্যমে চিনা পিএল-১৫ আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    এদিকে, ফরাসি পক্ষ হায়দরাবাদে রাফাল বিমানে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার ও ওভারহল (MRO) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। দাসো অ্যাভিয়েশন ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা গঠন করেছে। টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় এয়ারোস্পেস সংস্থাও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় বায়ুসেনা দ্রুত নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করছে। ভবিষ্যতে বায়ুসেনার ফাইটার ফোর্স স্ট্রাকচার মূলত সুখোই-৩০এমকেআই, রাফাল এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্পের উপর নির্ভর করবে। ভারত ইতিমধ্যেই ১৮০টি এলসিএ তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে এবং ২০৩৫ সালের পর বড় সংখ্যায় দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যামকাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

  • Chhattisgarh: হিন্দু ধর্মে ফিরল ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবার

    Chhattisgarh: হিন্দু ধর্মে ফিরল ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে ফিরলেন ছত্তিশগড়ের ৫০টিরও বেশি পরিবারের মোট ১০৪ জন সদস্য। বৃহস্পতিবার ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) মহাসামুন্দ জেলার সারাইপালিতে স্বামী সুমেধানন্দ বৈদিক গুরুকুলে ওই পরিবারগুলি হিন্দুধর্মে ফিরে আসেন। তাঁদের হিন্দুধর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে আয়োজন করা হয়েছিল এক অনুষ্ঠানের। ছত্তিশগড় বিজেপির রাজ্য ইউনিটের সহ-সভাপতি এবং সর্বভারতীয় ‘ঘর ওয়াপসি’ আন্দোলনের পুরোধা প্রবল প্রতাপ সিং জুদেও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এবং তাঁদের পা ধুয়ে সনাতন ধর্মে স্বাগত জানান।

    কখনওই বাংলা হতে দেওয়া হবে না (Chhattisgarh)

    অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও এক্স হ্যান্ডেলে  শেয়ার করে প্রবল প্রতাপ লেখেন, “ছত্তিশগড়কে কখনওই বাংলা হতে দেওয়া হবে না! গতকাল সারাইপালির মা রুদ্রেশ্বরীর পবিত্র ভূমিতে আমি ১০৪ জন ধর্মান্তরিত পরিবারের সদস্যের পা ধুয়ে সনাতন ধর্মে ফিরিয়ে এনে ‘ঘর ওয়াপসি’ সম্পন্ন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।” প্রবল প্রতাপ সতর্ক করে বলেন, “সারা দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি বলেন, “ধর্মান্তরের ষড়যন্ত্র ভারতের সামগ্রিক জনসংখ্যাগত ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। ভারতের ৮০০টি জেলার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০০টি জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। এটি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। ধর্মান্তরই আজ দেশের সবচেয়ে বড় হুমকি। হিন্দু জনসংখ্যার এই পরিবর্তন দেশের জন্য এক গভীর সঙ্কট (Chhattisgarh)।”

    আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

    তিনি এও বলেন, “আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, আমাদের শ্রদ্ধেয় পিতা কুমার দিলীপ সিং জুদেওজি যে ‘জাতি গঠনের ঘর ওয়াপসি আন্দোলন’ শুরু করেছিলেন, আমরা তা আজীবন এগিয়ে নিয়ে যাব।” প্রবল প্রতাপ জানান, এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করা হয় মহর্ষি দয়ানন্দ মঠ ধর্মার্থ ট্রাস্ট, সারাইপালি-কাতাংপালিতে অবস্থিত স্বামী সুমেধানন্দ বৈদিক গুরুকুল এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে। পাঁচদিনব্যাপী ‘সঙ্গীতময় বৈদিক শ্রীরাম কথা ও বিশ্বকল্যাণ মহাযজ্ঞে’র অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল (Chhattisgarh)।

  • BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    BJP: মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি (BJP)-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) পুরসভা নির্বাচনে। শুক্রবার প্রাথমিক ফলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে ২৫টিতেই এগিয়ে রয়েছে এই জোট। বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত মহাযুতি রাজ্যজুড়ে ১,৪০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)-কে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

    বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (BJP) 

    মুম্বইয়ের মর্যাদাপূর্ণ বৃহন্মুম্বই পুরনিগমে (বিএমসি)—যা ভারতের সবচেয়ে ধনী পুরসভা এবং যার বার্ষিক বাজেট ৭৪,৪০০ কোটি টাকারও বেশি—মহাযুতি জোট ২২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ১১৪টি আসন অতিক্রম করেছে। বিজেপি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় দুই দশক পর একজোট হওয়া ঠাকরে ভাইরা উদ্ধব ও রাজের জোট উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রায় তিন দশক ধরে শিবসেনার আধিপত্যের অবসান ঘটল। রাজ্যের অন্যান্য বড় শহরেও মহাযুতির জয়যাত্রা অব্যাহত। নাগপুর পুরনিগমের ১৫১টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৫টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং পুণেতে তারা ৫২টি আসন পেয়েছে। নভি মুম্বইয়ে বিজেপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে—১১১টি আসনের মধ্যে ৬৭টি দখল করে (BJP)।

    এগিয়ে বিজেপি

    নাসিকেও জোট বড় সাফল্য পেয়েছে। সেখানে বিজেপি ও শিন্ডে শিবসেনা মিলিয়ে ১২২টি আসনের মধ্যে ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। থানে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমেও মহাযুতি তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে (Maharashtra)। ১৫ জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে ৮৯৩টি ওয়ার্ডের ২,৮৬৯টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ১৫,৯৩১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করেন। ভোটদানের হার ছিল ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। এর মধ্যে কোলহাপুরে সর্বোচ্চ ৫০.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২০১৭ সালের নির্বাচনের তুলনায় এটি মহাযুতির জন্য এক বড় প্রত্যাবর্তন। সেই সময় অবিভক্ত শিবসেনা একাই মুম্বই বিএমসিতে ৮৪টি আসন জিতেছিল এবং বিজেপি-শিবসেনা মিলিয়ে বহু পুরসভা নিয়ন্ত্রণ করত।

    বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে

    শহরাঞ্চলজুড়ে বিরোধীরা বড় ধাক্কা খেয়েছে। কংগ্রেস মাত্র ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে রয়েছে—এর মধ্যে সাংলি, কোলহাপুর ও লাতুরের কিছু অংশ রয়েছে (BJP)। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে), এনসিপি (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) ও কংগ্রেসকে নিয়ে গঠিত মহা বিকাশ আঘাড়ি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ঠাকরে ভাইদের পুনর্মিলনও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।এই নিরঙ্কুশ জয় দেবেন্দ্র ফড়নবিস-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মহারাষ্ট্রের শহর প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করল, যা আগামী দিনের (Maharashtra) নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (BJP)।

    জানা গিয়েছে, মুম্বই, পুনে, পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড, কল্যাণ-ডোম্বিভলি, নাসিক, থানে ও নবি মুম্বই-সহ রাজ্যের ২৯টি পুরসভা কর্পোরেশনের অধিকাংশেই জোটটি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত ট্রেন্ড অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে রাজ্যের শাসক জোটটি মোট ২,৮৬৯টি আসনের মধ্যে ১,৬০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল।

  • Mumbai Election Results: মুম্বই পুর নির্বাচনে বিজেপি ও শিবসেনা জোটের জয়জয়কার, নেপথ্যে ফ্যাক্টরগুলো কী কী?

    Mumbai Election Results: মুম্বই পুর নির্বাচনে বিজেপি ও শিবসেনা জোটের জয়জয়কার, নেপথ্যে ফ্যাক্টরগুলো কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই থেকে পুণে, নাগপুর থেকে আকোলা— মহারাষ্ট্রের পুরভোটে বিজেপি এবং তার জোটের জয়জয়কার। শুক্রবার বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন (Mumbai Election Results) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোট ১১৯টি আসনে এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, মহা বিকাশ আঘাদি (এমভিএ) ৭১টি আসনে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যান্যরা দশটি আসনে এগিয়ে আছে। মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি–শিন্ডে সেনা জোটের নিরঙ্কুশ জয় রাজ্যের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড় এনে দিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক পর বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) দখল করে ঠাকরে পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্যে সবচেয়ে বড় আঘাত হানল এই জোট। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নেতৃত্বে বিজেপি ২০১৭ সালের তুলনায় মুম্বইয়ে নিজের আসনসংখ্যা বাড়িয়েছে, আর একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সমর্থনে জোট অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অতিক্রম করেছে। ফলে বিএমসিতে বিজেপি–শিন্ডে সেনার মেয়র হওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুরসভা নির্বাচনে মহাযুতির বড় জয়ের পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণ।

    মহারাষ্ট্রের এক নম্বর রাজনৈতিক দল

    মারাঠাদের এই রায় স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মহারাষ্ট্রের শহুরে রাজনীতিতে এক গভীর পরিবর্তন চলছে। উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরের বহু আলোচিত রাজনৈতিক সমঝোতাও বিজেপির উত্থান থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিভক্ত বিরোধী শিবির, বদলে যাওয়া জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এবং ভোটারদের নতুন অগ্রাধিকার মিলিয়ে শাসক জোটের পক্ষেই পাল্লা ভারী হয়েছে—শুধু মুম্বই নয়, রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুরসভাতেও। এই ফলাফল বিজেপিকে মহারাষ্ট্রের এক নম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। শুধু বিধানসভা বা লোকসভা নয়, শহুরে নাগরিক প্রশাসনেও বিজেপির প্রভাব এখন স্পষ্ট।

    হিন্দুত্ব প্লাস উন্নয়ন

    ‘হিন্দুত্ব প্লাস উন্নয়ন’—বিজেপির এই রাজনৈতিক বার্তা তরুণ শহুরে ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আবেগী ঐতিহ্যের চেয়ে শাসন, পরিকাঠামো ও কল্যাণমূলক প্রকল্পই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেবেন্দ্র ফড়নবীস রাজ্যের বিজেপিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার জায়গা আরও শক্ত করলেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের অন্যতম প্রধান গণনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঠাকরে ব্র্যান্ডের স্পষ্ট অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুম্বই আর শিবসেনার ঐতিহ্যগত ঘাঁটি হিসেবে একচেটিয়া ভোট দিচ্ছে না—এটাই বড় ইঙ্গিত। পওয়ার পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে শহুরে অঞ্চলে, ক্রমশ কমছে। শুধুমাত্র পারিবারিক পরিচয় দিয়ে ভোটারদের টানার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বিজেপির নারী-কেন্দ্রিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি আবারও ভোটে সাফল্য এনে দিয়েছে, যা এই ধরনের প্রকল্পের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও জোরালো করে।

    বিভক্ত ও অসংগঠিত বিরোধী শিবির

    কংগ্রেস মহারাষ্ট্রের শহরাঞ্চলে তার ভোটব্যাংক হারাচ্ছে, যা নগরভিত্তিক নির্বাচনে দলের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিভক্ত ও অসংগঠিত বিরোধী শিবির বিজেপিকে বড় সুবিধা করে দিয়েছে। মুম্বইয়ের বদলে যাওয়া জনসংখ্যাগত কাঠামো শিবসেনার ঐতিহ্যগত রাজনীতির পক্ষে আর সহায়ক নয়। মারাঠি ভোট একাধিক দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ভারতীয় ও অ-মারাঠি ভোটের বড় অংশ বিজেপির পক্ষে একত্রিত হয়েছে। রাজ ঠাকরের আক্রমণাত্মক ‘বহিরাগত বিরোধী’ রাজনীতি তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী শহুরে ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

    পাওয়ার গোষ্ঠীর ভরাডুবি

    শরদ এবং অজিত পওয়ারের এনসিপি মুম্বইয়ে এখনও খাতাই খুলতে পারেনি। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে পুণে এবং পিম্পরি ছিঁচওয়াড়ে একসঙ্গে লড়েছিল দুই এনসিপি। দুই পুরসভাতেই বিজেপির সামনে তারা কার্যত উড়ে গিয়েছে। গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে এনসিপি (শরদ) এবং এনসিপি (অজিত পাওয়ার)-এর জোট। কাকা শরদ পাওয়ারের দলে ভাঙন ধরিয়ে বেরিয়ে এসে বিজেপি-র হাত ধরেছিলেন অজিত। এমনকি কাকার দলের প্রতীকও ছিনিয়ে নেন তিনি। এরপরেও, পিম্প্রি দখলে রাখতে কাকার হাত ধরেই লড়েন অজিত। সেই জোটকেও ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। পুণের ১৬৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৪৩টি, কংগ্রেস ৭টি, এনসিপি (অজিত পাওয়ার) ৫টি এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) ৩টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। পিম্প্রি-চিঞ্চওয়াড় পৌরসভায় ১২৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৭০টি ওয়ার্ডে, এনসিপি ৪০টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। পশ্চিম মহারাষ্ট্রের অন্যান্য শহর, যেমন কোলাপুর, সাতারা, সোলাপুর এবং সাঙ্গলি পৌরসভাতেও বিজেপি শীর্ষস্থান দখল করেছে।

    ঠাকরে দুর্গের পতন

    মহারাষ্ট্রের ২৯টি পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন (বিএমসি)-এর নির্বাচন, যা ভারতের সবচেয়ে ধনী এবং এশিয়ার অন্যতম ধনী পৌর সংস্থা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস রাজ্যের বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র চৌহানকে ফোন করে পৌরসভা নির্বাচনে জোটের বিশাল অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস বলেছেন, ২০২৫-২৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপি আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করল। এই ফলাফল কেবল রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যই বদলে দিয়েছে না, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের গতিপথও অনেকটাই বদলে দিয়েছে। মুম্বাই পৌর কর্পোরেশনে (বিএমসি) বিজেপি এবং তার মিত্রদের জয় মহারাষ্ট্রের নগর রাজনীতিতে এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দেয়। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হল ঠাকরে ব্র্যান্ড দুর্বল হয়ে পড়া। মুম্বইতে, যেখানে ঠাকরে পরিবার গত ২৫ বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করেছিল, সেখানে বিজেপি এবং শিন্ডে গোষ্ঠীর উত্থান ঠাকরে দুর্গকে ভেঙে দিয়েছে। যুবসমাজ রাজ ঠাকরের “বহিরাগত বনাম স্থানীয়” রাজনীতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে।

     

     

     

LinkedIn
Share