Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বারবার ব্যথার ওষুধ নৈব নৈব চ! সর্দি-কাশি, পেটের কমপ্লেন পটাপট অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকুন। নইলে ক্ষতি হতে পারে কিডনির। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। সিডিএসসিও-এর জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ (NSAIDs) এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, বারবার বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার এড়ানোর পরামর্শ (Drug Regulator Warning) দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

    সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তাই সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেওয়া বা আগের প্রেসক্রিপশনের অব্যবহৃত ওষুধ পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।

    কিডনির রোগীদের বিশেষ সতর্কতা

    যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শরীরে জলশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতি থাকলে ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা

    অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট অসুখের ক্ষেত্রেই কাজ করে ভাইরাস বাহিত অসুখে নয়! অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ খেয়ে নেন অনেকে। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু তাই না বরং অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবনের ফলে শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত খেলে শরীরে একটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রয়োজনেও কাজ করা বন্ধ করে দেয় । অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে দেখা যায় ওষুধগুলি পাচক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলছে। বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিকমতো না নেওয়ার ফলে বা ভুল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ইনফেকশনের পরে পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা । বারবার মলত্যাগের বেগ পাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

    ব্যথার ওষুধে সমস্যা

    অসহ্য ব্যথায় ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু মাথাব্যথা একটু হল কি হল না, তাতে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকের। এ কাজ ঠিক নয়। তাতে উল্টে বিপদ ঘটতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল। খোলা বাজারে যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রধান হল এনসেড বা নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ৷ যেমন ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি৷ ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহও কমায় বলে এই সব ওষুধে চটজল্দি কাজ হয়৷ অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা কমালেও, প্রদাহ কমাতে পারে না। তা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও কার্যকারিতা এনসেড-এর চেয়ে কম৷ এ বার আসা যাক ক্ষতির কথায়৷ এনসেড গোত্রের ওষুধ পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে৷ বদহজম, পেটব্যথার মতো সমস্যা হয়৷ কারও কারও গ্যাসট্রাইটিস হয়৷ আলসার এবং পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ নিয়মিত ডাইক্লোফেনাক খেলে কারও কারও হার্ট ও রক্তনালির অসুখ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে৷ বয়স যাঁদের ৬৫-র বেশি, ব্যথার ওষুধ থেকে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের জন্যও নির্দেশিকা

    চিকিৎসকদের শুধুমাত্র চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন থাকলেই ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলতি ওষুধ এবং কিডনি-সহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য জীবাণু, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার, ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাওয়া এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে সতর্কতা

    ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদেরও প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে সিডিউল এইচ এবং এইচ ১-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের মাধ্যমে স্ব-চিকিৎসাকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং রোগীদের সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ওষুধগুলির নির্বিচার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Long-Range One-Way Attack Drone) তৈরির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সম্প্রতি, নয়ডার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা আইজি ডিফেন্স (IG Defence)-এর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাল’ (KAL) ড্রোন রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষা দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় ড্রোন-ভিত্তিক আক্রমণ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা

    সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’ ড্রোনের সর্বোচ্চ পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর ফ্লাইট এন্ডিওরেন্স বা একটানা উড়ে থাকার ক্ষমতা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পেলোড (বিস্ফোরক) বহন করতে পারে এই ড্রোন। অপারেটিং অল্টিটিউড সর্বোচ্চ ৫০০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন প্রায় ২০০ কেজি। ড্রোনটি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ক্রুজ করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটিকে তৈরি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্র বা মিশন কনফিগারেশন এবং কার্যকরী অনুমোদনের উপর এর ব্যবহার নির্ভর করবে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘কাল’?

    ‘কাল’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ব্যবস্থা। ম্যানুয়াল পাইলটিংয়ের প্রয়োজন কমাতে এতে মাল্টি-ব্যান্ড জিএনএসএস (GNSS) এবং ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS)-এর সমন্বিত নেভিগেশন স্যুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত মিশন প্রোফাইল অনুযায়ী ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতে সক্ষম হওয়ার কথা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’-কে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, রেডার, এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আঘাতের জন্য কনফিগার করা যেতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলেছে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ

    দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি উৎসের শাহেদ-১৩৬ (Shahed-136) এবং রুশ গেরান-২ (Geran-2)-এর ব্যবহার দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়ে শত্রুর এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করা সম্ভব।

    পরবর্তী সময়ে শাহেদ-শ্রেণির ড্রোনের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্য এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সংঘাতেও দেখা গিয়েছে। ফলে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় স্ট্রাইক ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটেই দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘কাল’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ প্রকল্পের অংশ ‘কাল’

    আইজি ডিফেন্সের ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ (GRID STRIKE) দীর্ঘপাল্লার প্রিসিশন-স্ট্রাইক পোর্টফোলিওর অংশ ‘কাল’। সংস্থার গ্রিড ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (GRID Battle Management System) সঙ্গেও এটি সংযুক্ত করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা একটি এআই-চালিত সি৫আইএসআরটি (C5ISRT) আর্কিটেকচার, যার লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন আনম্যানড প্ল্যাটফর্মকে সমন্বয় করা।

    আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয় বলেন, পোখরানে ‘কাল’-এর সফল পরীক্ষা সংস্থার পাশাপাশি ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলি দেখিয়েছে যে দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন আর কোনও প্রান্তিক সক্ষমতা নয়; আধুনিক যুদ্ধে প্রিসিশন স্ট্রাইক, এয়ার-ডিফেন্স এবং কৌশলগত প্রতিরোধের হিসাবেও এগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘কাল’-এর পোখরান পরীক্ষা তাই শুধু একটি নতুন ড্রোনের ট্রায়াল নয়; দীর্ঘপাল্লার, স্বয়ংক্রিয় এবং দেশীয় মানববিহীন স্ট্রাইক প্রযুক্তি গড়ে তোলার ভারতের বৃহত্তর প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  • Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট-সহ বিভিন্ন প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ পণ্যের প্যাকেজিংয়ে এবার থেকে পণ্যের উৎস নিরামিষ (ভেজ) নাকি আমিষ (নন-ভেজ), তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হল। নতুন নিয়মের ফলে পণ্য কেনার সময় গ্রাহকরা প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে সহজেই তা বুঝতে পারবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিরামিষ (Veg, Non-Veg Markings) উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে সবুজ রঙের ডট এবং অ-নিরামিষ উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি রঙের ডট ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের প্রধান প্রদর্শন অংশের (Principal Display Panel) উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে বলে নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোন নিয়ম পরিবর্তন?

    কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ (Legal Metrology Packaged Commodities Rules, 2011) সংশোধন করে এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ফলে এবার দোকানে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ কেনার সময় প্যাকেটের চিহ্ন দেখেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ না আমিষ উৎস থেকে তৈরি। আমিষ ও নিরামিষ বিতর্ক (Veg, Non-Veg Markings) এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই নির্দেশিকায় বিশেষভাবে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, প্রসাধনী সামগ্রী এবং টয়লেট সামগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    কীভাবে জানবেন আমিষ নাকি নিরামিষ?

    ঠিক যেভাবে কোনও খাবারের প্যাকেটে নিরামিষ ও আমিষ বোঝার ক্ষেত্রে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, এবার প্রসাধনী জাতীয় পণ্যেও তা দেখতে পাওয়া যাবে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নিরামিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের প্যাকেটে থাকবে গ্রিন বা সবুজ মার্ক (Non-Veg Labels)। অন্যদিকে, আমিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের ‘প্রিন্সিপাল ডিসপ্লে প্যানেল’-এর উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে, যাতে ক্রেতারা সহজেই তা দেখতে পান।

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তিত ও অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে আত্মনির্ভরতা এখন আর শুধুমাত্র ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লক্ষ্য ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত—প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ভারতে তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল এবং যুদ্ধক্ষমতার নিয়ন্ত্রণও ভারতের হাতে রাখা। গত এক বছরে নীতি সংস্কার, দেশীয় বরাত, বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ, স্টার্টআপ এবং তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণে একাধিক পদক্ষেপ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা কেনাকাটা নীতিতে বড় বদল

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আধুনিকীকরণ বাজেটের ৭৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প থেকে কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি ভারতীয় শিল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থাৎ, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সংস্থার বাইরে বেসরকারি শিল্পকেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল পরিকাঠামোর অংশ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর বা ডিএপি-র পর্যালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ডিএপি ২০২৬-এ দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘স্পাইরাল অ্যাকুইজিশন’-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও নিচের স্তরে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো এবং অটোমেশনের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন ‘বাই গ্লোবাল, ম্যানুফ্যাকচার ইন ইন্ডিয়া’ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিদেশি অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার বা ওইএম-কে ভারতে উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরিতে উৎসাহিত করা। ফলে শুধু মূল অস্ত্র নয়, যন্ত্রাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ারও ধীরে ধীরে দেশেই তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।

    আমদানি কমাতে স্থানীয় উৎপাদন, এমএসএমই-তে জোর

    দেশে আগে তৈরি হয়নি, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব—এমন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট ও সাব-সিস্টেমকে আমদানির বিকল্প হিসেবে তৈরি করতে চালু হয়েছে মেক-৩ ক্যাটেগরি। এদিকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রকল্পে এমএসএমই-দের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তত দু’টি যোগ্য এমএসএমই অংশ নিলে এই সীমা ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ছোট ও মাঝারি ভারতীয় সংস্থাগুলিও বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহশৃঙ্খলে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে।

    শুধু গবেষণাগারে প্রযুক্তি তৈরিই নয়, সেটিকে দ্রুত সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। আইডেক্স এবং টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড-এর মাধ্যমে তৈরি সফল স্টার্টআপ প্রোটোটাইপকে দ্রুত অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি বা এওএন-এর পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রযুক্তি পরীক্ষায় সফল হলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিশ্চিত বরাত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মেক-১ ব্যবস্থায় দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরির খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরকার বহন করছে। একইসঙ্গে আগে সীমিত থাকা সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিও বেসরকারি শিল্পের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার আর্থিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।

    ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি বড় অনুমোদন

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের তালিকায় ছিল দেশীয় কিউআরএসএএম এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম এবং নেট্রা-র উন্নত এইডব্লিউঅ্যান্ডসি এমকে-১এ সংস্করণ।

    তিন বাহিনীর জন্য মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স বা মেল ড্রোন, আরও ৯৭টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর জন্য রাফাল মেরিন-এর মতো বড় প্রকল্পও রয়েছে। অর্থাৎ, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য শুধু ছোট অস্ত্র বা যন্ত্রাংশে সীমাবদ্ধ থাকছে না; যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি বিমান এবং ড্রোনের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    ‘রুদ্র’, ‘ভৈরব’, ‘অশ্নি’—বদলাচ্ছে সেনাবাহিনীর কাঠামো

    যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোনোমাস সিস্টেম, হাইপারসনিক অস্ত্র, ড্রোন এবং ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মার্ড ব্রিগেড এবং মাউন্টেন ব্রিগেডকে পুনর্গঠন করে রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন যুদ্ধশাখার ক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানো।

    এর পাশাপাশি প্রায় ২৬৪ জন সদস্যের ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্ট এবং দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি গঠনের কাজ এগিয়েছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে অশ্নি ড্রোন প্লাতুন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যাটালিয়ন স্তরেই ড্রোন-নির্ভর নজরদারি শক্তিশালী করা যায়।

    অপারেশন সিঁদুরের পর ড্রোনে আরও জোর

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা বিশেষ করে আনম্যান্ড এরিয়াল সার্ভেল্যান্স বা ইউএএস, কাউন্টার-ইউএএস এবং লয়টারিং মিউনিশনের ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সেই অনুযায়ী সেনাবাহিনীতে ইউএএস ও কাউন্টার-ইউএএস ব্যবস্থার জন্য একটি বিশেষ কোর কমিটি তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেশাল পারপাস ভেহিকল তৈরির পরিকল্পনা এবং অদিতি ও আইডেক্স-এর অধীনে নয়টি ফাস্ট ট্র্যাক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—যেসব প্রযুক্তির ঘাটতি যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলি দ্রুত দেশীয়ভাবে তৈরি করা।

    নৌবাহিনীতেও একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

    আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে দৃশ্যমান ছবি পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ কমিশন হয়েছে—আইএনএস অর্নালা, আইএনএস নিস্তার, আইএনএস উদয়গিরি, আইএনএস হিমগিরি, আইএনএস অন্ধ্রোথ, আইএনএস ইক্ষক এবং আইএনএস মাহে।

    ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস অঞ্জদীপ। এরপর একসঙ্গে আইএনএস অরিধমন ও আইএনএস তারাগিরি নৌবহরে যুক্ত হয়। আইএনএস অরিধমন ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন বহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এরপর কলকাতায় একদিনে আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় কমিশন করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস নিপুণ। অর্থাৎ, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় শিপইয়ার্ডের সক্ষমতা এবং উৎপাদনের গতি—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    অপারেশন সিঁদুরে তিন বাহিনীর সক্ষমতার পরীক্ষা

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের বাস্তব পরীক্ষাও হয়ে ওঠে। নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ ও সাবমেরিন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করে। সারফেস, এয়ার, স্পেস এবং শোর-বেসড সেন্সরের সমন্বয়ে মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বজায় রাখা হয়।

    বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রেও অপারেশন সিঁদুর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড ওয়েপন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামরিক ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা আইএসিসিএস-এর মাধ্যমে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালিত হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময়ে একটি ভারতীয় এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লক্ষ্য শুধু অস্ত্র তৈরি নয়, গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশীয় করা

    গত এক বছরের নীতি ও সামরিক পরিবর্তনকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি এখন শুধু বিদেশি অস্ত্রের পরিবর্তে ভারতীয় অস্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    কাঁচামাল, কম্পোনেন্ট, ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রোটোটাইপ, পরীক্ষা, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দেশীয় করার দিকে এগোচ্ছে ভারত।

    এই প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প, এমএসএমই এবং স্টার্টআপকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্প থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য মূলধনী বাজেটের ৭৫ শতাংশ নির্দিষ্ট রাখার নীতি এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এখন ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’ ধারণার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে শুধু অস্ত্রের গায়ে ভারতের নাম থাকাই নয়, সেই অস্ত্রের প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহশৃঙ্খল এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণও দেশের হাতে রাখাই হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য।

  • Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপাল, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও অসমকে ঘিরে জাল ভারতীয় নোটের একটি সন্দেহভাজন চক্র (Pakistan) সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যমের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। তদন্তে উঠে এসেছে, নেপালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার পর সন্দেহভাজন চক্রটির একটি অংশ গুয়াহাটিতে চলে আসে। তদন্তকারী দলের দাবি, গুয়াহাটি থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল নোট সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয় (UP Polls)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের পারসা জেলার ইনরওয়া থেকে তদন্তের সূত্রপাত হয়। সেখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে জাল নোটের লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মায়া পৌডেল নামে এক মহিলার কথা উঠে আসে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, নেপালে নজরদারি ও ধরপাকড় বাড়ার পর জাল নোটের সন্দেহভাজন কারবারের একটি অংশ গুয়াহাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর তদন্তকারীরা রাতুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। রাতুল নিজেকে গুয়াহাটি থেকে জাল নোটের একটি চক্র পরিচালনাকারী হিসেবে দাবি করেন। তদন্তকারী প্রতিবেদক সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকার জাল নোট সরবরাহ নিয়ে কথাবার্তা হয়।

    ১ কোটি টাকায় ৩ কোটি টাকার জাল নোট! (Pakistan)

    তদন্তে প্রকাশিত কথোপকথন অনুযায়ী, রাতুল দাবি করেন, ১ কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি টাকার জাল নোট দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতুলের দাবি ছিল, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জাল নোট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। বিভিন্ন জেলায় সমন্বয়কারী রাখা হবে এবং তাঁদের কাছে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রেতার লোকজন তা আরও বিতরণ করবে।

    রাতুল আরও দাবি করেন, আগের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর চক্র জাল নোট সরবরাহ করেছিল এবং প্রায় ৬৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছিল। তবে তদন্তে প্রকাশিত উপাদান দিয়ে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগসূত্রের দাবি

    তদন্তকারী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে রাতুল দাবি করেন, জাল নোটের উৎস চিন ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ হয়ে তা ভারতে ঢোকে। তাঁর দাবি, গুয়াহাটিতে একটি ‘জাল নোটের ভাণ্ডার’ রয়েছে, যেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নোট পাঠানো হয়।

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান ও হরিয়ানায়ও এই সন্দেহভাজন চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

    তবে চিন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে জাল নোট আসার দাবি শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এই বক্তব্য থেকেই জাল নোটের প্রকৃত উৎস বা পরিবহণের পথ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয় না (Pakistan)।

    গুয়াহাটিতে তদন্তকারী প্রতিবেদক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তদন্তকারী প্রতিবেদক গুয়াহাটিতে যান। রাতুল তাঁকে রাজীব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। রাজীব লখরা উড়ালপুলের কাছে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি কথিত মজুতকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যান।

    রাজীবের দাবি ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বড় চালান থেকে প্রতিবেদকের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট একটি চালান তৈরি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিবেদককে একটি পাহাড়ি এলাকার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি পুরনো দোতলা ভবনের বাইরে থামানো হয়।

    রাজীব দাবি করেন, ভবনের ভিতরে বাইরের লোকজন রয়েছে, তাই প্রতিবেদককে ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে তিনি জাল নোট প্যাকেটজাত করার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও দেখান (UP Polls)।

    ভিডিওতে নোটের বান্ডিল দেখানোর দাবি

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কয়েকজনকে প্লাস্টিকের মোড়কে নোটের বান্ডিল ভরতে দেখা যায়। সেখানে ৫০০ টাকার নোটের মতো দেখতে বান্ডিলও ছিল।

    তদন্তকারী দলের দাবি, একটি বাক্সে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। তবে ভিডিওতে দেখা সামগ্রীর সত্যতা এবং প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    রাজীবের দাবি ছিল, ওই নোট বিহারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং নির্বাচন না থাকলেও সেখানে জাল নোটের চাহিদা রয়েছে (Pakistan)।

    দুই ধরনের জাল নোট দেখানোর দাবি

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদককে দু’ধরনের সন্দেহভাজন জাল নোট দেখানো হয়। একটি ছিল কালো আবরণে ঢাকা এবং অন্যটি আসল নোটের মতো দেখতে।

    রাজীবের দাবি, কালো আবরণে ঢাকা নোট চিন ও পাকিস্তান থেকে আসে এবং নোট পরীক্ষার যন্ত্রের পরীক্ষায়ও বিষয়টি ধরা পড়েনি। তাঁর আরও দাবি, নতুন ধরনের নোটে উন্নত মানের কাগজ ও ছাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলি আগের চালানের তুলনায় দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।

    ৮০ কোটি টাকার তথাকথিত নির্বাচনী চুক্তি

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে প্রতিবেদক রাতুলের সঙ্গে ৮০ কোটি টাকার একটি তথাকথিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। রাতুল দাবি করেন, আগে তাঁদের কার্যকলাপ নেপালকেন্দ্রিক ছিল। সেখানে কড়াকড়ি বাড়ার পর জাল নোটের ভাণ্ডার গুয়াহাটিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    গুয়াহাটির অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা দেয় বলেও রাতুল দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, এই অবস্থান থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালান পাঠানো সহজ।

    তদন্তে আরও বলা হয়েছে, গুয়াহাটি থেকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জাল নোট কীভাবে পৌঁছতে পারে (UP Polls), কারা সেগুলি গ্রহণ করে এবং কোন পথ ব্যবহার করা (Pakistan) হয়—এখন সেগুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

     

  • Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    Rajya Sabha Election: পুজোর আগে আরও একটা নির্বাচন! কোয়েল মল্লিকের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৬ অক্টোবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের (Rajya Sabha Election) দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৬ অক্টোবর ওই আসনে ভোটগ্রহণ হবে। অর্থাৎ কয়েক মাস আগে খালি হওয়া আসনে নতুন সাংসদ বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই নজর থাকবে কোন দল কাকে প্রার্থী করে, সেদিকে। বাংলার এই আসনের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের ১০টি এবং উত্তরাখণ্ডের একটি রাজ্যসভা আসনে ভোট হবে। সেখানকার বর্তমান সাংসদদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের নভেম্বরে।

    কোন কোন আসনে ভোটগ্রহণ

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর হবে মনোনয়নপত্র যাচাই। প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ অক্টোবর। ভোটগ্রহণ হবে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা কমিশনের। উত্তরপ্রদেশের ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৫ নভেম্বর। এই ১০টি আসনের মধ্যে বর্তমানে বিজেপির দখলে রয়েছে আটটি। সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির হাতে রয়েছে একটি করে আসন। মেয়াদ শেষ হতে চলা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির ব্রিজ লাল, সীমা দ্বিবেদী, নীরজ শেখর, গীতা শাক্য, হরদীপ সিং পুরী, অরুণ সিং, বিএল বর্মা এবং দীনেশ শর্মা। সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব এবং বহুজন সমাজ পার্টির রামজি গৌতমের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড থেকে একটি রাজ্যসভা আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ওই আসনের বর্তমান সাংসদ বিজেপির নরেশ বনসল। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসনটিতে নতুন করে নির্বাচন হবে।

    কোয়েলের আসনে কে

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল। সেই তালিকায় বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে নাম ছিল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। এর আগে প্রকাশ্যে রাজনীতির আশপাশে দেখা যায়নি কোয়েলকে। শপথের পর কোয়েল জানিয়েছিলেন, দেশের ও মানুষের সেবা করার সুযোগ হিসেবে তিনি দায়িত্বটিকে দেখছেন। তবে সাংসদ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ হয়নি তাঁর। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হয়। তারপরই কোয়েলের ইস্তফা সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যা সত্যি হয় জুলাইয়ের শেষ দিকে। ছাব্বিশের ভোটে বিধানসভার বিন্যাস বদলেছে। সেই অঙ্কের হিসেব অনুযায়ী, কোয়েলের ছাড়া আসন এবার বিজেপিরই হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এবার বিজেপির হয়ে ফের রাজ্যসভায় যেতে পারেন কোয়েল মল্লিকই।

     

  • Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    Google on Child Abuse: অনলাইনে শিশুদের যৌন হেনস্থা! এবার সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট দেবে গুগল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে শিশুদের যৌন নিগ্রহের ‘কনটেন্ট’-এর বিরুদ্ধে কড়াকড়ি শুরু করেছে কেন্দ্র। এবার শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি অনলাইন সামগ্রী (CSAM) শনাক্ত হলে তা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে গুগলও (Google)। এতদিন এই ধরনের রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিশিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেশন অফ চিল্ড্রেন (NCMEC)-এর সাইবার টিপলাইন (CyberTipline)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছত। তবে কেন্দ্রে মোদি সরকারের সক্রিয়তায় এখন থেকে ভারত-সম্পর্কিত ঘটনাগুলির তথ্য সরাসরি ভারতীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে গুগল। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করছে তারা (Google)। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে তথ্য পৌঁছনোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনও শিশুর তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তথ্য পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত ও উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট 

    মার্কিন সংস্থার (NCMEC) সাইবার টিপলাইন ১৯৯৮ সাল থেকে অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে আসছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি তাদের প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক শিশু-শোষণ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড শনাক্ত করলে সেই তথ্য সাইবার টিপলাইন-এ রিপোর্ট করতে পারে। এরপর মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি (NCMEC) প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়। ২০২৫ সালে সাইবার টিপলাইন-এ মোট ২ কোটি ১৩ লক্ষ রিপোর্ট জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত। প্রায় ১৪ লক্ষ রিপোর্ট শিশুদের অনলাইনে প্রলুব্ধ বা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করার ঘটনা (online enticement) নিয়ে ছিল। ৭৭ শতাংশেরও বেশি এমন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল যার উৎস যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করে।

    কেন ভারত সরাসরি রিপোর্ট চাইছে

    ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইন অপরাধের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত রিপোর্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। সরকারের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় হল—বিদেশি কোনও সংস্থার মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি ধাপ থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় তদন্তকারীদের কাছে তথ্য পৌঁছতে সময় লাগতে পারে। গুগল (Google)-এর নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হল ভারত-সম্পর্কিত শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত তথ্যকে আরও সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার (Indian Cyber Crime Coordination Centre)-এর সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। ভারতের সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনশন সেন্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামো হিসেবে কাজ করে। গুগল জানিয়েছে, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত সামগ্রী শনাক্ত করা, প্রতিরোধ করা, সরিয়ে দেওয়া এবং রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখছে।

    মেটা-র পর গুগল-এর পদক্ষেপ

    গুগল-এর এই সিদ্ধান্তের আগে মেটা-ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি তথ্য ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। ফলে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে ভারতের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকারের আলোচনায় সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব-এর মতো বৃহৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হলে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছানোর একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে।

    পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে মেটা

    ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত জুলাই মাসে মেটা কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ওই ধরনের বিজ্ঞাপনগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়। শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত ‘কনটেন্ট’ পুলিশকে জানানোর বিষয়ে রাজি হল মেটা। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআই জানাচ্ছে, যে সব সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে যে কোনও আপস করা হবে না, তা-ও স্পষ্ট করেছে মন্ত্রকের ওই সূত্র। এ বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন থেকে ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইফোরসি) পরিচালিত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত পোর্টালে অভিযোগ জানাবেন। বস্তুত, এই পোর্টালটি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাও ব্যবহার করে। মেটার এক মুখপাত্র বলেন, “সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    অনলাইন শিশু-নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসর

    মার্কিন সংস্থা এনসিএমইসি-এর ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান থেকে অনলাইনে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ওই বছরে সাইবারটিপলাইন-এ পাওয়া রিপোর্টে মোট ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ফাইল ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লক্ষ ছবি এবং ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ভিডিও ছিল। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত সামগ্রী তৈরি বা বিকৃত করার ঘটনাও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ৮২ হাজারের বেশি রিপোর্টে জেনারেটিভ এআই-এর সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতনের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল।

    ভারতীয় আইনে কঠোর শাস্তির বিধান

    ভারতে শিশুদের যৌনভাবে স্পষ্ট বা আপত্তিকর সামগ্রী তৈরি, প্রকাশ, প্রেরণ, প্রচার বা এ ধরনের কাজে শিশুদের ব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭বি ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। আইনের অধীনে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। গুগুল-এর সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ পৌঁছনোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী রিপোর্টিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে সরাসরি রিপোর্টিং ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, প্রমাণের নির্ভুলতা, ভুল রিপোর্টের ঝুঁকি এবং তদন্তের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়—এই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। গুগল-এর এই উদ্যোগ ভারতে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে কোনও শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর তথ্য থেকে তদন্ত—এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত ও সরাসরি করা।

     

  • ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    ABVP: কেরলের কলেজে এসএফআই শাসনের অবসান, সব প্রধান পদেই জয়ী এবিভিপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড়সড় পালাবদল। দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ছাত্র সংসদে প্রভাব ধরে রেখেছিল এসএফআই। তাদের সরিয়ে এ বার সংসদের নিয়ন্ত্রণ নিল এবিভিপি (ABVP)। নির্বাচনে ছ’টি প্রধান পদেই জয়ী হয়েছে এবিভিপি। কলেজটি (Kerala Tripunithura College) দীর্ঘদিন ধরেই এসএফআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।

    জানা গিয়েছে, চেয়ারপার্সন পদে জয়ী হয়েছেন স্নিগ্ধা এম হরি। ভাইস চেয়ারপার্সন হয়েছেন আদিত্য টি এ। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিগ্নেশ ভট্ট। ম্যাগাজিন সম্পাদক হয়েছেন বিগ্নেশ ডি এবং আর্টস ক্লাব সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন অঞ্জলি টি। বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়ন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন নিবেদ্যা কে এন। দ্বিতীয় স্নাতক প্রতিনিধি এবং দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর প্রতিনিধি পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে শিবানি আর এবং অবনী সি বি।

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজটিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের প্রভাব ছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বার সেই দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে এবিভিপির এই ফলাফল ত্রিপুনিথুরার ছাত্র রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জয়ী এবিভিপি (ABVP)

    ফল প্রকাশের পর এবিভিপির তরফে এই জয়কে এসএফআইয়ের কথিত “ছাত্রবিরোধী নীতির” বিরুদ্ধে ছাত্রদের রায় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংগঠনের এক প্রতিনিধির দাবি, ত্রিপুনিথুরার এই ফল কেরলের অন্যান্য কলেজে এবিভিপির সংগঠনগুলিকেও উৎসাহিত করবে।

    এবিভিপির আরও অভিযোগ, আগের এসএফআই-নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদগুলি সংস্কৃত ভাষা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। ছাত্রদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এসএফআইয়ের কার্যকালে পর্যাপ্ত ছাত্রকল্যাণমূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে এবিভিপি।

    পুরসভায়ও পালাবদল

    ত্রিপুনিথুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও এই ফলকে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ত্রিপুনিথুরা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিজেপি। ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপি ২১টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়; বাম গণতান্ত্রিক জোট পেয়েছিল ২০টি এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ১২টি আসন। পরে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদও দখল করে (ABVP) বিজেপি।

    তবে পুরসভা নির্বাচন এবং কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন পৃথক বিষয়। তাই কলেজের এই ফলকে বৃহত্তর জনমতের সরাসরি প্রতিফলন বলা বোধহয় ঠিক হবে না। সরকারি সংস্কৃত কলেজটি মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় (Kerala Tripunithura College)।

    ত্রিপুনিথুরা সরকারি সংস্কৃত কলেজে দীর্ঘদিনের এসএফআই-প্রভাবের পর এবিভিপির এই জয় কেরলের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রাজনৈতিক পরিসর দখলের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিল (ABVP) বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

     

  • Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    Vande Mataram: কর্নাটক বিধানসভায় দুই স্তবকের পর ‘বন্দে মাতরম’ থামতেই পুরো গান গাইলেন বিজেপি বিধায়করা, উত্তপ্ত বিধান পরিষদও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদের অধিবেশন শুরুর সময় সরকারিভাবে ‘বন্দে মাতরমে’র (Vande Mataram) রেকর্ডিং দুই স্তবক গাওয়ার পর থেমে যায়। এরপর বিজেপির বিধায়ক ও পরিষদ সদস্যরা নিজেরাই গানটির বাকি অংশ গেয়ে পুরো গানটি শেষ করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিধানসভায় ও বিধান পরিষদে (Karnataka Assembly Council) শাসক কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও বিক্ষোভ হয়।

    রাজ্যের খরা পরিস্থিতি এবং পশ্চিমঘাটের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল নিয়ে কস্তুরীরঙ্গন কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার থেকে কর্নাটক বিধানসভার তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে। কিন্তু সরকারিভাবে বাজানো রেকর্ডিং দুই স্তবকের পর বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘বন্দে মাতরম’ গাইলেন বিজেপি বিধায়করা (Vande Mataram)

    এর পর বিধানসভার অধ্যক্ষ জি এস পাটিল সম্প্রতি প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি শোকজ্ঞাপন পাঠ শুরু করেন। সেই সময় বিজেপি বিধায়করা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি গাইতে শুরু করেন এবং পরে স্লোগান দেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক আরবি শিরিয়ান্নাভারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন।

    বিধান পরিষদেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিষদের সভাপতি সলিম আহমেদ নিয়ম অনুযায়ী সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ শুরু করলেও বিজেপির সদস্যরা ‘বন্দে মাতরমে’র বাকি স্তবকগুলি আবৃত্তি করতে থাকেন। পরে পূর্ণ গান পরিবেশন না করার জন্য তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

    এর জেরে বিধান পরিষদে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সদস্যরা সভাকক্ষের মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান। কংগ্রেস সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিজেপি সদস্যরা সভাপতির নির্দেশ মানছেন না এবং ইতিমধ্যেই পাঠ করা সংবিধানের প্রস্তাবনা ফের পড়ে সভার কার্যপ্রণালী ব্যাহত করছেন।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যেই পাঠ করা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ দুই স্তবক পর্যন্ত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত সরকারই নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

    কর্নাটক সরকার ৮ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী অথবা রাজ্যপাল উপস্থিত না থাকলে রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় অবশ্য সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরমে’র ছয়টি স্তবক গাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশিত হলে আগে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জন গণ মন’ গাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    বিধান পরিষদে সরকারের তরফে পরিষদ নেতা তথা মন্ত্রী যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যপাল উপস্থিত থাকা অনুষ্ঠানগুলি বাদ দিয়ে সরকারি কর্মসূচিতে শুধু দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই কক্ষেই দুই স্তবক পরিবেশন করা হয়েছে।

    এদিকে বিজেপি সদস্যরা সরকারের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসম্মান দেখানোর অভিযোগ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। পাল্টা কংগ্রেস সদস্যরা বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন। দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

    কংগ্রেসের পরিষদ সদস্য বিকে হরিপ্রসাদ বলেন, পরিষদে বর্তমানে ‘বন্দে মাতরমে’র দুই স্তবকই গাওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে বিজেপির সদস্য সভাপতি থাকাকালীন চারটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছিল।

    বিতর্কের মধ্যে যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া বলেন, বিধানসভায় মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলনেতা চলবাদী নারায়ণস্বামী এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। সভাপতির ভূমিকা নিয়ে যতীন্দ্রের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নারায়ণস্বামী দাবি করেন, সভাপতির উচিত যতীন্দ্রের বক্তব্যের জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করা।

    সভাপতি সলিম আহমেদ জানান, তিনি কার্যবিবরণীর নথি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজন হলে আপত্তিকর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তবে তাতেও বিরোধী দলনেতা সন্তুষ্ট হননি। যতীন্দ্র পাল্টা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুল ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এর পর উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, বিরোধীরা খরা ও কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্টের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়, বরং শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সরব হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিজেপি সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সভায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

    পরমেশ্বর কস্তুরীরঙ্গন রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করতেই বিজেপি সদস্যরা দুই স্তবকে ‘বন্দে মাতরম’ সীমাবদ্ধ করার প্রতিবাদে সভার মধ্যবর্তী অংশে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।পরমেশ্বর বক্তব্য শেষ করার পর সভাপতি কিছু সময়ের জন্য সভা মুলতুবি করেন।

    পরে সভা ফের শুরু হলে সভাপতি জানান, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) নিয়ে তিনি শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে কীভাবে পরবর্তী আলোচনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত (Karnataka Assembly Council) নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সভাপতির এই প্রস্তাব মেনে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন বিজেপি সদস্যরা।

     

LinkedIn
Share