Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Equipment) উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইউনিকর্ন শিপবোর্ন কমিউনিকেশনস্ মাস্ট (UNICORN Shipborne Communications Mast)-র যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন। জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের (NEC Corporation) তৈরি এই অত্যাধুনিক সমন্বিত মাস্ট (মাস্তুল) ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতে এই ব্যবস্থা উৎপাদনের দায়িত্ব পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), যারা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এটি তৈরি করবে।

    কী এই ভারত-জাপান চুক্তি?

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান অত্যাধুনিক নকশা, মূল প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ভারত স্থানীয়ভাবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, উৎপাদন এবং নির্মাণের দায়িত্ব নেবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উচ্চ প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের তড়িৎ-চৌম্বকীয় দক্ষতা (Electromagnetic ) বাড়াবে এবং রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Low Radar Cross Section) কমাবে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

    কীভাবে ব্যবহার করবে ভারত?

    যদিও ইউনিকর্ন ব্যবস্থা মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন তৈরি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এতে নিজেদের সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অ্যান্টেনা সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত কমিউনিকেশন ও সেন্সর মাস্টের পরিবর্তে এই নতুন সমন্বিত মাস্তুল বসানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ বহুদিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারত ও জাপান ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথ খুলে গেল।

    কী এই ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট?

    ইউনিকর্ন, যার আরেক নাম নোরা-৫০ (NORA-50), যৌথভাবে তৈরি করেছে এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি। এটি মূলত জাপানের মোগামি শ্রেণির ফ্রিগেটের (Mogami-class Frigate) জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট সিস্টেম (Integrated Mast System), যেখানে যোগাযোগ, নজরদারি (Surveillance) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (Electronic Warfare) একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজের উপরের অংশে আলাদা আলাদা অ্যান্টেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা জাহাজের স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও সহজ করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারত-জাপানের এই প্রথম প্রতিরক্ষা সহ-উন্নয়ন প্রকল্পকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আরও আধুনিক ও স্টেলথ সক্ষম হবে।
    • ● ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
    • ● ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Congress: ১৩ বছর ধরে আকবর রোডের বাংলো দখলে রেখে দিয়েছে কংগ্রেস, এক টাকাও ভাড়া পায়নি কেন্দ্র!

    Congress: ১৩ বছর ধরে আকবর রোডের বাংলো দখলে রেখে দিয়েছে কংগ্রেস, এক টাকাও ভাড়া পায়নি কেন্দ্র!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের (Congress) পূর্বতন সদর দফতর ২৪, আকবর রোডের বাংলোটি ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে “অননুমোদিতভাবে দখলে” রয়েছে এবং ওই সময়ের পর থেকে সরকার কোনও (RTI) ভাড়াই পায়নি বলে তথ্যের অধিকার আইনের (আরটিআই) আবেদনের জবাবে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেসের বকেয়া কত রয়েছে, তা এখনও পর্যালোচনাধীন, এবং নির্ধারণ করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

    বাংলো দখল কংগ্রেসের (Congress)

    সংবাদ মাধ্যমের হাতে আসা আরটিআই জবাবে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন এস্টেট অধিদফতর জানিয়েছে, নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স এলাকার ২৪, আকবর রোডের বাংলোটি ১৯৯২ সালের ৭ আগস্ট কংগ্রেসকে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে ২০১৩ সালের ২৬ জুন থেকে ওই বরাদ্দ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই বাংলোটি কংগ্রেসের “অননুমোদিত দখলে” রয়েছে। আরটিআই জবাবে এস্টেট অধিদফতর জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ২৬ জুনের পর থেকে ২৪, আকবর রোডের জন্য কোনও ভাড়া জমা পড়েনি। কংগ্রেসের বকেয়া অর্থের পরিমাণ এখনও পর্যালোচনাধীন এবং তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে কংগ্রেসের কাছ থেকে সরকারের কত টাকা পাওনা, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব

    আরটিআই আবেদনকারী জানতে চেয়েছিলেন, কংগ্রেসকে বাংলো খালি করার জন্য সরকার কোনও নোটিশ জারি করেছিল কি না, এবং করলে তার প্রতিলিপি। তবে এস্টেট অধিদফতর সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে। তাদের বক্তব্য, এই (Congress) ধরনের নথি আলাদা করে সংকলিত অবস্থায় সংরক্ষিত নেই। সেগুলি সংগ্রহ ও সংকলন করতে গেলে তথ্যের অধিকার আইনের ৭(৯) ধারার আওতায় সরকারি দফতরের সম্পদের অযৌক্তিক ব্যবহার হবে। এই তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ ২০১৮ সালে সংবাদ মাধ্যমের হাতে আসা আর একটি আরটিআইয়ের জবাবে এস্টেট অধিদফতর জানিয়েছিল, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২৪, আকবর রোডের মাসিক লাইসেন্স ফি সংশোধন করে ৩,৯২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই জবাবের সঙ্গে ২০১৩ সালে কংগ্রেসের বরাদ্দ বাতিলের চিঠির প্রতিলিপিও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি জানানো হয়েছিল, বাংলোটি আগের শর্তে রাখার এবং স্বাভাবিক লাইসেন্স ফি নেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।

    ১১, অশোক রোড সম্পর্কেও তথ্য

    এদিকে, আরটিআই আবেদনে লুটিয়েন্স দিল্লির ১১, অশোক রোড সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছিল, যা একসময় ভারতীয় জনতা পার্টির সদর দফতর ছিল। এস্টেট অধিদফতর জানিয়েছে, ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ ওই বাংলোটি বিজেপিকে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ওই সম্পত্তি লোকসভার সদস্যদের আবাসন পুলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে ভাড়া আদায় এবং বর্তমানে কে ভাড়া দিচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যের আবেদন লোকসভা সচিবালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরটিআই জবাবে আরও বলা হয়েছে, বিজেপির সরকারের কাছে কোনও বকেয়া থাকলে তার পরিমাণও এখনও পর্যালোচনাধীন এবং নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে, ২০১৯ সালে সংবাদ মাধ্যমের হাতে আসা একটি আরটিআই জবাবে জানানো হয়েছিল, ১১, অশোক রোডের বাংলোটি তখনও বিজেপির দলীয় কার্যালয় হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। এছাড়া ২০১৮ সালের আর একটি আরটিআই (RTI) আবেদনের উত্তরে জানানো হয়েছিল, ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ওই বাংলোর মাসিক লাইসেন্স ফি ৩,৯২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (Congress)।

     

  • Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরিয়ত আইন বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কখনওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (Prohibition of Child Marriage Act, 2006) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012)-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক মামলায় এই রায় দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad HC)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সবার জন্য একই। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বিচারপতি জেজে মুনির এবং আচল সচদেব-এর ডিভিশন বেঞ্চ ১ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কাকোর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালত খারিজ করে দেয়।

    কোন মামলার প্রেক্ষাপটে এই রায়

    মামলার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। অভিযোগ, বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুয়া গ্রামে ১৬ বছরের এক মুসলিম কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাল্যবিবাহ (Child Marriage Acts) রুখতে উদ্যোগ নেন। কিশোরীকে অস্থায়ীভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে পেশ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং সরকারি কর্মীদের হুমকি ও বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে, অর্থাৎ সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়সের পর, তার বিয়ে বৈধ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইন্ডিয়ান মেজরিটি অ্যাক্ট, ১৮৭৫-এ সেই অবস্থান স্বীকৃত রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন তাদের ব্যক্তিগত আইনের ওপর প্রাধান্য পায় না।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অভিযুক্তদের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ব্যক্তিগত আইন কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন বা পকসো আইনের বিধানকে খর্ব করতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক পকসো আইনে অপরাধ। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে অনুমোদন করলে তা কার্যত পকসো আইনের লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল হবে। রায়ে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধ বয়স নির্ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন। ধর্মের ভিত্তিতে এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ধর্মীয় আইন পকসো-র ওপরে নয়

    আদালত আরও জানায়, পিসিএমএ (PCMA) এবং পকসো (POCSO)—দুই আইনই জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে প্রণীত বিশেষ আইন। তাই কোনও ব্যক্তিগত আইন, প্রথা বা ধর্মীয় রীতিনীতি এই আইনগুলির প্রয়োগে বাধা হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে প্রণীত এবং সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য আইন হিসেবে পিসিএমএ-ই কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ রুখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজে বাধা, হামলা ও সরকারি কর্তব্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত বন্ধ করার কোনও কারণ নেই। আদালত তদন্তের ওপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেয়।

    ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে নাবালকদের সুরক্ষা

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন হাইকোর্টে এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ধর্ম বা ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে রয়েছে নাবালকদের সুরক্ষা এবং দেশের শিশু সুরক্ষা আইন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে প্রশাসনকে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত জানায়, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনও নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন

    ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটির নানা ধারা ২০০৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ফাঁকগুলি মেরামতের পাশাপাশি আইন প্রযুক্তকারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ‘মূল ভাবনা’র কথাও সময় বিশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি শেষ পন্থা হিসেবে অবলম্বন করতে হবে। এমনকী অপ্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও এই আইনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের পথ রোধ করতে পারে না ব্যক্তি অধিকারের আইন। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকাদের বাগ্‌দান বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আদালত।

  • PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Pact) গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Visit) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সফরে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির দুয়ার খুলে যাবে। এর ফলে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা পূরণে বড় রকমের সুরাহা হবে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ের কারণে বাণিজ্যিকভাবে ইউরেনিয়াম রফতানি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই জটিলতা এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (PM Modi Visit)

    ভারত আগামী কয়েক দশকে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, তেমনি অন্যদিকে, নির্ভরতা কমবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর।মেলবোর্ন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম (PM Modi Visit) সরবরাহ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বিশ্বেশ নেগি বলেন, “সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই আলোচনার যৌক্তিক পরিণতি হবে (Uranium Supply Pact) বলেই আমরা আশাবাদী।”

    ভারতের লাভ

    এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জন্য নির্ভরযোগ্য ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন এবং শিল্প, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং তথ্যকেন্দ্র খাতের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণেও সহায়ক হবে। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বিরল খনিজ নিয়েও হতে পারে বড় চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রেয়ার আর্থ খনিজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই খনিজগুলি সামরিক সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, স্মার্টফোন এবং উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের রেয়ার আর্থ খনিজ উত্তোলনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াকরণের প্রায় ৯০ শতাংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রফতানিতে চিনের বিধিনিষেধের ফলে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বহু (PM Modi Visit) দেশ। ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য, বছরে প্রায় ৬ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা (Uranium Supply Pact)। অস্ট্রেলিয়ার রেয়ার আর্থ খনিজ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ট্র্যাভিস বেইঙ্কে বলেন, “আমাদের প্রকল্প থেকে কাঁচামাল সরবরাহের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও এমন আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।” অন্যদিকে আরাফুরা রেয়ার আর্থ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ড্যারিল কাজুব্বো বলেন, “ভারত তাদের উৎপাদন শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত সরকারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।”

    ২০৪৭ সালের বড় লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এআই এবং তথ্যকেন্দ্র শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে আগামিদিনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, বিশ্বের মোট পরিচিত ইউরেনিয়াম মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও, বিভিন্ন রাজ্যে খনন নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় কম। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক হল বিএইচপি, যারা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক ড্যাম খনিতে তামার পাশাপাশি ইউরেনিয়ামও উৎপাদন করে (PM Modi Visit)। অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের সভাপতি টানিয়া কনস্টেবল বলেন, “এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। ভারতের উচ্চাভিলাষী পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে আমাদের ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এটি প্রমাণ করে যে অস্ট্রেলিয়ার খনিজ সম্পদ ভারতের কাছে (Uranium Supply Pact) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশটি ইউরেনিয়াম রফতানি করে রোজগার করেছে প্রায় ১২০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (PM Modi Visit)।

     

  • Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    Shopian Anti-Terror Operation: শোপিয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে নিহত লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) শোপিয়ান (Shopian Anti-Terror Operation) জেলায় দীর্ঘ চার দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র কমান্ডার জাকির গনাই। বুধবার তার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের মতে, এই অভিযান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ শোপিয়ান জঙ্গিদের ট্রানজিট বা পালানোর পথ হিসেবে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই করিডর দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে মধ্য কাশ্মীর ও পীর পাঞ্জাল রেঞ্জকে যুক্ত করে।

    জঙ্গি দমন অভিযান অব্যাহত

    গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের একটি ঘন আপেল বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। শুক্রবার নজরদারি ক্যামেরায় মীমান্দর এলাকায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা প঩ড়ে। এরপরই ওই এলাকার ফলের বাগান ঘিরে ফেলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী। তল্লাশির সময় জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পালটা জবাব দেয় বাহিনী। এরইমধ্যে দুই জঙ্গির পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা লতিফ ও জাকির। ২০২৪ সালে লস্করে যোগ দেয় জাকির। লতিফ গত বছর। রাতে জঙ্গিদের গতিবিধি জানতে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলিতে আলোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি জঙ্গিদমনে বিশেষ পারদর্শী ‘ভিক্টর ফোর্স’কে সেখানে মোতায়েন করা হয়। জঙ্গিদের পালানোর সব পথ সিল করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের গোপন ডেরা রয়েছে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে বেশ কয়েকটি ‘ব্লাইন্ড স্পট’ রয়েছে। যেখানে দিনের বেলাতেও ভালোভাবে দেখা যায় না। তারই সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ঘনঘন স্থান পালটে ফেলছিল।

    শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি

    এরপরই সেনাবাহিনী, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF) যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একাধিক গ্রাম ঘিরে চলতে থাকে সাঁড়াশি অভিযান। এনকাউন্টারের পরও এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জাকির গনাইয়ের সঙ্গে থাকা অপর এক লস্কর জঙ্গি লতিফ এখনও এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে শোপিয়ানের সাতটি গ্রাম জুড়ে তল্লাশি চলছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সম্ভাব্য পালানোর পথগুলো ঘিরে ফেলেছে। রাতের অভিযান চালাতে আলোকসজ্জারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, গ্রীষ্মকালের ঘন পাতার আচ্ছাদন ও বিস্তীর্ণ ফলের বাগান জঙ্গিদের আত্মগোপনের সুযোগ করে দিচ্ছে, ফলে অভিযান পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি জঙ্গিদের পাশাপাশি স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নিয়োগ রুখতে জাকির গনাইয়ের মৃত্যু ও লতিফকে গ্রেফতার বা নিকেশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi Terror Module) পাকিস্তান-সমর্থিত দুই পৃথক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করছিল। একটি মডিউলের লক্ষ্য ছিল দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বা পুলিশ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অন্যটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জেরা করে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    আইএসআই-এর প্রচ্ছন্ন মদতে চলত কাজ

    দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়াহ জানান, প্রথম মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার রানা হুনাইনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। রানা হুনাইন শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের। এই মডিউলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা পুলিশ ভবনে পেট্রোল বোমা হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় বিজয় ঘাট এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পেট্রোল বোমা এবং ২,০০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের বাসিন্দা ২৪ বছরের দানিশ ওরফে চাঁদ মিয়া এবং ২০ বছরের সালমান। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রানা হুনাইনের সংস্পর্শে আসে। তাকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দানিশের বন্ধু সালমানকে হামলার ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকেও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডিউলটি সীমান্ত (Pak Based Terror Module) পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রটি আইএসআই-এর আরেক হ্যান্ডলার হাসান গুজ্জরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। গুজ্জরও শাহজাদ ভাট্টির সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় কালিন্দি কুঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম তায়্যাব (২৭), জুবায়ের খান (২৪), আলি ফজল (২৬) এবং মালকিয়াত সিং (৩৬)। তদন্তে জানা গিয়েছে, তায়্যাবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হাসান গুজ্জরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। গুজ্জরের নির্দেশে জুবায়ের খান অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করে এবং পরে তা আলি ফজলের হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ক্রেতাদের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া পাকিস্তান থেকে পাঠানো অর্থ ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

  • Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    সুশান্ত দাস

    ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে ড্রোনকেন্দ্রিক হতে চলেছে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেনার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ (Baaz Battalions)। এই নতুন ইউনিটের মূল কাজ হবে দীর্ঘক্ষণ আকাশপথে নজরদারি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, লইটারিং মিউনিশন পরিচালনা এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা (Indian Army Drone Warfare)। সদ্যপ্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু স্থলসেনাই নয়, আকাশে থাকা মানববিহীন ড্রোনও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    কেন আলাদা ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’?

    এতদিন ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি বা অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে ছোট ড্রোন ডিটাচমেন্ট যুক্ত থাকত। তাদের প্রধান কাজ ছিল নজরদারি, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আর্টিলারিকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ড্রোনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি বিস্তৃত।

    বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে—

    • ● শত্রুপক্ষের গভীরে নজরদারি চালানো যায়।
    • ● ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ও আর্টিলারি ধ্বংসে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে (সুইসাইড ড্রোন) হিসেবে সরাসরি আঘাত হানা যায়।
    • ● একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহার করে সোয়ার্ম অ্যাটাক (Swarm Attack) চালানো যায়।
    • ● হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করা সম্ভব।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত ও ব্যাহত করা যায়।

    এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্যই শুধুমাত্র ড্রোন অপারেশনের উদ্দেশ্যে পৃথক, বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং স্বাধীন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

    কী কাজ করবে বাজ ব্যাটালিয়ন?

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজ করবে।

    এই ইউনিটগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স ও রিকনেস্যান্স (ISR) পরিচালনা।
    • ● দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি।
    • ● নির্ভুল ড্রোন হামলা।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন পরিচালনা।
    • ● আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান।
    • ● আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ধরনের অভিযানে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা।

    প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এক ধরনের নয়, বরং একাধিক শ্রেণির মানববিহীন আকাশযান (UAV) মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ‘অশ্বিনী’ প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সেনার অশ্বিনী (Ashini) প্রকল্প থাকতেই আবার নতুন ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রয়োজন কেন? আসলে দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য এক নয়। অশ্বিনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের কাছে ছোট আকারের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি মূলত সীমিত দূরত্বে নজরদারি, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    অন্যদিকে, বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষায়িত ড্রোন যুদ্ধ ইউনিট। এগুলির কাজ শুধুমাত্র নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার অপারেশন, নির্ভুল হামলা, লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনাই হবে মূল লক্ষ্য। সহজভাবে বললে, অশ্বিনী যেখানে সামনের সারির সেনাদের হাতে ‘চোখ’ তুলে দেয়, সেখানে Baaz Battalions ভারতীয় সেনার পূর্ণাঙ্গ ড্রোন যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সাম্প্রতিক প্রবণতা ভারতীয় সেনাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক অস্ত্র। সেই কারণেই ড্রোনকে শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যম হিসেবে না দেখে, গোয়েন্দা অভিযান, নির্ভুল আঘাত, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গঠন সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপান্তরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়করা সম্মান পায়। তাদের বিচারধারা দর্শন অনুযায়ী সরকার চালিত হয়। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলন মেলায় সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (PM Modi on Shyama Prasad) জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আজ তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। দেশের চারদিকে যে বিচারধারা ছড়িয়ে পড়েছে, তার বীজকে আজ স্মরণ করছে দেশ।”

    বাংলায় শ্যামপ্রসাদের জন্মদিন পালন

    বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অথচ তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এতদিন ধুমধাম করে বিজেপি শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির উদ্যোগে সরকারি ও দলগত ভাবে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মদিবস উদযাপন ছিল নজরকাড়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীর এ দিন হাজির ছিলেন কলকাতায়। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি বসবে। একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। তার জন্য সোমবার কলকাতায় এসে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন শাহ। ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে‍ন, ‘এ রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরির পরে আমি শুভেন্দুদাকে ফোন করে বলেছিলাম, শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বানানোর জন্য এবং তাঁর জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’

    বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি

    সোমবারই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘৬ জুলাই জাতীয়তাবাদ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে বিশ্বাসী কোটি কোটি দেশবাসীর কাছে বিশেষ একটি দিন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাণ্ডিত্য, জনসেবা এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। আধুনিক ভারতের খুব কম নেতার মধ্যেই এতগুলি গুণ একসঙ্গে দেখা যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ায় তাঁর যে দূরদর্শী ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ ভারতের যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ দেখেছিলেন, আজ আমাদের কাঁধে তা পূরণ করার দায়িত্ব। বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উনি জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায় আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’ মোদির কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি জন আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ভারতে এক দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। জনসঙ্ঘ যে সময় তৈরি হয়, সেই সময় চারিদিকে কংগ্রেসের জয়জয়কার জনপ্রিয়তা ছিল। ভিন্ন ভাবধারার কোনও জায়গা ছিল না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সংগঠন তৈরি করেছেন।

    ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিবেদিত

    সমাজমাধ্যমে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সংকল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।’’ প্রয়াত জনসঙ্ঘ-প্রতিষ্ঠাতার অবদান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত ছিল জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘তিনি (শ্যামাপ্রসাদ) ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যু

    শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসে ভারত ভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নিশানা করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তুললেন, শ্যামাপ্রসাদের ‘রহস্যমৃত্যু’র প্রসঙ্গও। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শাহের বক্তৃতায় গোড়াতেই এসেছে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদের ইস্তফার ঘোষিত ও প্রত্যক্ষ কারণ— ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘নেহেরু-লিয়াকত (পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’। শাহ বলেন, ‘‘আমি সেই পদত্যাগপত্র দেখেছি। চুক্তিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অধ্যয়ন করে বলেছিলেন যে, তাতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের কথা চিন্তাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা ভাবা হয়নি। এই চুক্তি একতরফা। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।’’ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে শাহের মন্তব্য, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘ভারতের জমি থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে ভারতকে পূর্ণ সুরক্ষিত বানাব।’’ নেহরুর জমানায় কাশ্মীরের জেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হয়েছিল জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কিন্তু কংগ্রেস কোনও দিন তার তদন্ত করায়নি।’’

    মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ তাঁর রাজ্যের

    ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দু আমাদের রোজ বলছেন। তাঁকে বলছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ যেটুকু বাকি আছে, তা-ও দ্রুত করে দেব।’’ মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁর স্মারক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে শাহ সোমবার বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে আবার যিনি সমগ্র ভারতের প্রেরণাকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন, আমার সেই মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অভিনন্দন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দলের সরকার হল। তাঁর বিচারধারার সরকার হল। দেশভক্তদের সরকার হল। তাই শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউট

    সোমবার দুপুরে নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের (Amit Shah on Shyama Prasad) মূর্তির ভিত্তিস্থাপন করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিপুজো নয়। এটা সোনার বাংলার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার ভূমিপুজো। শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটও হবে।’ শাহের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ এমন বীজ বপন করেছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের রূপে, যা ভারতের সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করেছিল। তাঁর বপন করা বীজ আজ বটবৃক্ষের রূপ নিয়ে গোটা দেশকে ফল দিচ্ছে। এদিন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান শাহ।

    শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম

    এর সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেটি সরকার কিনে নিয়েছে। সেখানে মিউজিয়াম হবে। সূর্যকে যেমন চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তেমনই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শকেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’ বন্দে মাতরম রচনার ১৫০ বছর, শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ বছর জন্মদিবস এসেছে একই বছরে। শাহের কথায়, ‘এই ঘটনা বিধির বড় সঙ্কেত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে বন্দে মাতরমের রচনা করেছিলেন, তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরির কাজ হয়েছিল। এর চেয়ে ভাল মণিকাঞ্চন যোগ কোথাও হয় না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হোক, অখণ্ড ভারতের সঙ্কল্প হোক, সব বিচারধারার একটাই গঙ্গোত্রী— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

     

     

     

     

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

LinkedIn
Share