Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। তবে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের ওপর সবরকম নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকেই তারা স্বাগত বার্তা নয়াদিল্লির।

    ইরানের ঘোষণা

    শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল। যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত পথ ধরেই চালিত হবে।” এর ফলে সব বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগেছে গোটা পৃথিবী। তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে।

    ট্রাম্পের বার্তা

    ইরানের এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখে জানান,“ইরান এই মুহূর্তে ঘোষণা করল যে, হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার জাহাজ পারাপার করতে পারবে। ধন্যবাদ।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌ অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” চালু থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চুক্তি সম্পূর্ণ হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের এই শর্ত শুনেই ক্ষুব্ধ ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। কালিবাফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মার্কিন অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালীও খোলা হবে না।’’ শান্তির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একের পর এক ভুয়ো দাবি করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন কালিবাফ। অন্য দিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতা করতে হবে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও জানিয়েছে, ‘শত্রু দেশের’ রণতরী বা অন্য কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য জলপথ বন্ধই রাখা হয়েছে।

    শান্তির পথে সকলকে স্বাগত ভারতের

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে বারবারই শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছে ভারত। এবারও একই পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই। শান্তির পথে প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।” হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইজরায়েলের অনুরোধ এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে ভারতের নীতি সম্পর্কে একটি প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অধীনেই এই বিষয়গুলো সমাধান করা হয়।” উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি বৈঠকের ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু’দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তার আগেই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত ইজরায়েল বা হেজবোল্লার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি।

    জ্বালানি সংকট রুখতে সাহায্য ভারতের

    জ্বালানি সংকট নিয়ে এদিন দিল্লির তরফে বলা হয়, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ অনুযায়ী তাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও সহায়তা প্রদান করছে। রণধীর বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক দেশকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করছি। তবে, এটি আমাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং এখানে আমাদের সম্পদের প্রাপ্যতা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে।” জয়সওয়াল জানান, “আমরা মার্চ মাসে বাংলাদেশকে ২২,০০০ মেট্রিক টন হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহ করেছি। শ্রীলঙ্কার বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা গত মাসে তাদের কাছে ৩৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের বিদেশমন্ত্রী মরিশাস সফর করেছেন। সে সময় এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা বর্তমানে মরিশাসের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সরকারি-পর্যায়ের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং নেপালের মধ্যে। এই চুক্তিগুলোর অধীনে নেপালকে পেট্রোলিয়াম পণ্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “প্রতিবেশী প্রথম নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে একইভাবে, ভুটানের সঙ্গেও আমাদের একটি বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমরা তাদের জ্বালানি পণ্যও সরবরাহ করছি।”

  • Keralam Vishu: ‘বিশু’ উৎসবের বিজ্ঞাপনে শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে মাংসের ব্যবহার! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের তীব্র প্রতিবাদ হিন্দুদের

    Keralam Vishu: ‘বিশু’ উৎসবের বিজ্ঞাপনে শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে মাংসের ব্যবহার! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের তীব্র প্রতিবাদ হিন্দুদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালয়ালি নববর্ষ বা ‘বিশু’ (Keralam Vishu) উৎসবের প্রাক্কালে কেরলে একটি বিজ্ঞাপনী প্রচারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছবির পাশে মাংসের ছবি ব্যবহারের ঘটনা সামনে আসায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার একটি প্রচেষ্টা (Meher Mandi)। ইতিমধ্যে একাধিক হিন্দু সংগঠন ওই বিজ্ঞাপন দেওয়া সংস্থাকে কড়া বার্তা দয়েছে। নেওয়া হয়েছে আইনি পদক্ষেপও। যে কোনও ধর্মীয় উৎসবে হিন্দু ভাবাবেগের উপর চরম আঘাত করা যেন একটা স্বভাবে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় সনাতন ধর্মের প্রতি যত অবমাননা হয় অন্য ধর্মের প্রতি হয় না বললেই চলে। এই ঘটনায় চরম অসন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক ভাবে ক্ষুব্ধ করেছে (Keralam Vishu)   

    বিশু উৎসবের (Keralam Vishu) জন্য ব্যবহৃত উপকরণের তালিকায় মাংসকেও অন্তর্ভুক্ত করার ছবি এখন সকলের মোবাইলে। কেরলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিজ্ঞাপনী দৃশ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ব্যাপক চাঞ্চাল্য তৈরি হয়েছে। ছবিতে স্পষ্ট ভাবে দেখা গিয়েছে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ বা ছবির সঙ্গে আমিষ খাবারের চিত্রায়ন। কার্যত চিকেনের ছবি দেখা যাচ্ছে। আর এই ঘটনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক ভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের মতে, বিশু একটি পবিত্র ধর্মীয় উৎসব যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিরামিষ ‘কানি’ উপহার (Meher Mandi) নিবেদন করা হয়। এই নিবেদনে কখনও মাংস দেওয়া যায় না। আর বিজ্ঞাপনে এই ঘটনা অত্যন্ত সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু কেন এই রকম ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হল? এটাই বড় প্রশ্ন।

    অভিযোগের মূল অভিমুখ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণপন্থী সংগঠন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্পূর্ণ ভাবে এই ঘটনা পরিকল্পিত ভাবে প্ররোচনা। অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ এই ধরনের ছবি ব্যবহারের নেপথ্যে কোনও নির্দিষ্ট ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্কের মদত রয়েছে। সুকৌশলে হিন্দুদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে অবমাননা করতে চাইছে। তবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছবির (Keralam Vishu) সঙ্গে আমিষ খাবারের ছবি জুড়ে দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করার অপরাধে পুলিশ ‘মেহের মান্ডি অ্যান্ড গ্রিলস’ (Meher Mandi & Grills) নামক একটি রেস্তোরাঁর অন্যতম অংশীদার আরশাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক অবক্ষয়

    ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের (Meher Mandi) প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনী পোস্টারে আরাধ্য দেবতা শ্রীকৃষ্ণের (Keralam Vishu) ছবির পাশেই একটি আমিষ পদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিশু উৎসবে ‘বিশুকানি’ বা পবিত্র দর্শনের মাধ্যমে দিন শুরু করা হয়, যেখানে নিরামিষ এবং সাত্ত্বিক উপকরণ ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচারকে ইচ্ছাকৃত উস্কানি এবং ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তবে ঘটনার রেশ এখানেই থেমে থাকবে না বলে মনে করছেন হিন্দুরা। কেরলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার এই ধরনের ছবি বা দৃশ্য সামনে এসেছে, যা রাজ্যের সম্প্রীতির আবহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এই ঘটনার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

    সামাজিক প্রতিক্রিয়া

    ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই কেরল জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন যে, বাণিজ্যিক স্বার্থে (Meher Mandi) বা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগকে তুচ্ছ করার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

    ১৯২ ধারায় মামলা রুজু

    অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে চের্থালা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৯২ ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই ধারাটি মূলত দাঙ্গা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আরশাদ (Meher Mandi) এই পোস্টারটি তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই রেস্তোরাঁটির মালিকানায় মোট নয়জন রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার সূত্রও পাওয়া গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    তীব্রতর হচ্ছে আন্দোলন

    এই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এবং হিন্দু ঐক্যবেদীর মতো সংগঠনগুলো সরব হয়েছে। হিন্দু ঐক্যবেদীর নেত্রী কেপি শশীকলা এই বিজ্ঞাপনকে ‘নির্লজ্জ আচরণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ওই হোটেলের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছুুুিল হিন্দু সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, এটি কেবল বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন (Keralam Vishu) নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ঘটনা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ।

    প্রশাসনের ভূমিকা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এলাকায় পুলিশ (Meher Mandi) মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • Rahul Gandhi: রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব বিতর্ক! কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Rahul Gandhi: রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব বিতর্ক! কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। এলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad High Court) আজ কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

    কর্ণাটকের বিজেপি কর্মী এস. বিগ্নেশ গুণের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতিরা (Allahabad High Court) এই নির্দেশ প্রদান করেন। মামলাকারীর দাবি ছিল, রাহুল গান্ধী এক সময় নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, যা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদের জন্য অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর আর্জি (Rahul Gandhi)

    আদালত (Allahabad High Court) কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi)  ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে একটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। জনস্বার্থ মামলায় এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CBI) দিয়ে তদন্ত করানোর আর্জি জানানো হয়েছিল। আদালত কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেছে।

    বিতর্কের মূলে কী রয়েছে?

    বিতর্কটির সূত্রপাত কয়েক বছর আগে, যখন অভিযোগ ওঠে যে ব্রিটেনের একটি কোম্পানি ‘ব্যাকোপস লিমিটেড’ (Backops Limited)-এর নথিতে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)  নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে এটি একটি যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা কুৎসা মাত্র।

    পরবর্তী পদক্ষেপ

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন এই বিষয়ে ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থেকে তথ্য যাচাই করতে পারে। যদি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো অসঙ্গতি প্রমাণিত হয়, তবে তা রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবির এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। আদালতের (Allahabad High Court) এই নির্দেশের ফলে নাগরিকত্ব ইস্যুটি পুনরায় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এল। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই তদন্ত প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন করে এবং আদালতের কাছে কী রিপোর্ট পেশ করে।

  • Delimitation Bill: লোকসভায়  মহিলা সংরক্ষণ ও আসনবৃদ্ধি বিল পাশ না হলেও, জয় বিজেপিরই, জানেন কেন? কীভাবে?

    Delimitation Bill: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও আসনবৃদ্ধি বিল পাশ না হলেও, জয় বিজেপিরই, জানেন কেন? কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবল বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি (Delimitation Bill) সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দু’দিনের বিতর্ক-পর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নেন। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল ( Women’s Reservation) পাস না হওয়ার পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির বিরোধিতায় বিলটি খারিজ হলেও, এই ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে বিজেপি।

    মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে

    বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। বিজেপির দাবি, বিরোধীরা মহিলাদের “ন্যায্য অধিকার” থেকে বঞ্চিত করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই বার্তা জনতার কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে “হাইজ্যাক” করেছে এবং সরকার মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাবে।

    সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্বের স্বার্থেই আসন বাড়ানো জরুরি

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ভোট চাইতে গেলে বিরোধীদের “মহিলাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে”। ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে গেলে ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেনদ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস অনিবার্য। আর এই আসন বৃদ্ধিতে কোনও বিশেষ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব কমবে না। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব (Delimitation Bill)  নিয়ে চলমান উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় এমনই দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ দিন লোকসভায় অমিত শাহ জানান, ৫০ বছর ধরে ডিলিমিটেশন না হওয়ায়, বর্তমানে এমনও কিছু লোকসভা কেন্দ্র আছে যেখানে সাসংদকে ৪৯ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কী ভাবে একজন সাংসদ কোনও নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪৯ লক্ষ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন? তিনি সকলকে মুখও দেখাতে পারেন না।’ শাহ দাবি করেন যে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্বের স্বার্থেই লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

    কেন ২০২৬-এর পরে ডিলিমিটেশন?

    মহিলা সংরক্ষণ ( Women’s Reservation) বিলের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কেন এখন এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা? এই প্রশ্নের জবাবে শাহ মনে করিয়ে দেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন স্থগিত রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, ২০২৩ সালের আইনেই পরিষ্কার বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী জনগণনার পরেই এটি কার্যকর হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে গেলে ডিলিমিটেশনের কোনও বিকল্প নেই বলে জানান তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।’’

    উত্তর-দক্ষিণ বিভাজনের অভিযোগ খারিজ

    দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকে লোকসভা আসন কমে যাবে বলে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তাকে ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব ২৩.৭৬%। ডিলিমিটেশনের পরে এই প্রতিনিধিত্ব থেকে বেড়ে ২৩.৮৭% হবে। অমিত শাহ দাবি করেন, বিরোধীরা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার এটা কোনও ভাবেই হতে দেবে না। এমনকি বিরোধী দলগুলো যদি আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ধারায় রাজি হয়, তবে সরকার সেই সংশোধনী আনতেও প্রস্তুত।

    নির্বাচনী প্রচারে বড় হাতিয়ার

    আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) তাঁর ভাষণে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, তাঁর সরকার নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অথচ বিরোধীরা সেই পথে বাধা সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে বিল পাস না হলেও বিজেপি এই ইস্যুকে নির্বাচনী প্রচারে বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ইতিমধ্যেই ‘লাড়লি বহেনা’, ‘লাড়কি বহিন’, ‘দীনদয়াল লাডো লক্ষ্মী’—এর মতো নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির। বিল খারিজ হওয়া সত্ত্বেও নারী সংরক্ষণ ইস্যু এখন রাজনৈতিক ময়দানে বড় অস্ত্র হয়ে উঠবে বিজেপির কাছে।

  • Varanasi: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে যোগ! বারাণসীতে চিকিৎসকের বাড়িতে এটিএস অভিযান

    Varanasi: আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের সঙ্গে যোগ! বারাণসীতে চিকিৎসকের বাড়িতে এটিএস অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের আদমপুর থানা এলাকার পাঠানি টোলায় অবস্থিত ডা. আরিফ আনসারির (Dr Arif Ansari) বাসভবনে মুম্বই এবং বারাণসী অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)-এর যৌথ টিম অভিযান চালিয়েছে। ডা. আরিফ আনসারি এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাঁর ছেলে আবু বকর বর্তমানে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদেরকে একটি সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযানে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত

    অধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল তথ্য ও ব্যক্তিগত সামগ্রী খতিয়ে দেখা হয়। এটিএস সূত্রে খবর, দুই টিমের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট। মুম্বই এটিএসের একটি দল বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বারাণসী এটিএসের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযানে অংশ নেয়। পাঠানি টোলা এলাকাটি আদমপুর পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালের দিকে বেশ কয়েকটি গাড়ি নিয়ে পুলিশ বাহিনী এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চলাকালীন বাইরে ছিল কড়া নিরাপত্তা।

    আইএসআই যোগের সন্দেহ

    তদন্তকারীদের মতে, এই দুজনের সঙ্গে পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর যোগ ছিল। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই যোগের বিষয়ে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। আবু বকরকে প্রায় ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যকলাপ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি কোনও উগ্রপন্থী মতাদর্শ বা নেটওয়ার্কের প্রভাবে পড়েছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযান চলাকালীন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য স্টোরেজ ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই অভিযান ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে মুম্বই, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটসহ বিভিন্ন জায়গায় এটিএস ও জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) একাধিক ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদী মডিউল ভেঙে দিয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন, অর্থায়ন এবং বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আধিকারিকরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে।

  • Gautam Adani: মুকেশ অম্বানিকে টপকে ফের এশিয়ার ধনীতম গৌতম আদানি, মোট সম্পত্তি কত জানেন?

    Gautam Adani: মুকেশ অম্বানিকে টপকে ফের এশিয়ার ধনীতম গৌতম আদানি, মোট সম্পত্তি কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শিল্পমহলে ফের এক বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটল। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইন্ডেক্সের (Bloomberg Billionaires Index) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ অম্বানিকে পেছনে ফেলে আবারও এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তির শিরোপা দখল করলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। গত কয়েকদিনের শেয়ার বাজারের অস্থিরতা এবং আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের ধারাবাহিক উত্থান এই রদবদলের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

    গৌতম আদানির সম্পত্তি (Gautam Adani)

    ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স সূচকে (Bloomberg Billionaires Index) বর্তমানে গৌতম আদানির (Gautam adani) মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২.৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বতালিকায় তিনি এখন ১৯তম স্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক এক দিনের ব্যবধানেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি প্রায় ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মুকেশ আম্বানির সম্পত্তি

    অন্যদিকে, মুকেশ অম্বানির মোট সম্পত্তির পরিমাণ বর্তমানে ৯০.৮ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব ধনকুবেরদের তালিকায় তিনি ২০তম স্থানে পিছিয়ে এসেছেন। এই বছরের শুরু থেকে তাঁর নিট সম্পত্তিতে প্রায় ১৬.৯ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা গিয়েছে। মুকেশের পর রয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তাল। তিনি ৩৬.৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এরপর রয়েছেন শিব নাদার। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার এবং শাপুরজি মিস্ত্রি ও তার পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ ৩৩.২ বিলিয়ন ডলার। সাবিত্রী জিন্দালের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার। এরপর সুনীল মিত্তাল ও তার পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২৫.১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে দিলীপ সাংভির সম্পত্তির পরিমাণ ২৪.২ বিলিয়ন ডলার। আজিম প্রেমজির সম্পত্তির পরিমাণ ২২.৫ বিলিয়ন ডলার এবং কুমার মঙ্গলম বিরলা ২২.৪ বিলিয়ন ডলার সম্পত্তি নিয়ে শীর্ষ দশের তালিকায় স্থান দখল করেছেন।

    কেন এই পরিবর্তন?

    অর্থনীতি এবং বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আদানি গোষ্ঠীর (Gautam Adani) পরিকাঠামো এবং জ্বালানি খাতের শেয়ারের অভূতপূর্ব সাফল্যের ফলেই এই সম্পত্তি বৃদ্ধি (Bloomberg Billionaires Index)। এ বছর আদানির ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে প্রায় ৮.১ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। বিপরীতে, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আদানির দ্রুত গতির কাছে আম্বানিকে শীর্ষস্থান ছাড়তে হয়েছে।

    বিশ্বমঞ্চে অনান্য শিল্পপতি

    ব্লুমবার্গের (Bloomberg Billionaires Index) তালিকায় শীর্ষস্থানে এখনও আধিপত্য বজায় রেখেছেন টেসলা ও স্পেস-এক্স প্রধান এলন মাস্ক। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জানা গিয়েছে ৬৫৬ বিলিয়ন ডলার। তালিকার পরবর্তী নামগুলো হলো ল্যারি পেজ, জেফ বেজোস এবং মার্ক জাকারবার্গ। ভারতের দুই শীর্ষ শিল্পপতির এই ‘সম্পত্তির লড়াই’ দীর্ঘদিনের। শেয়ার বাজারের এই ওঠানামা আদানিকে আবারও এশিয়ার সিংহাসনে বসালো, যা ভারতীয় অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    Noida Violence: ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় পাকিস্তানি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে! নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় নয়া তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ডার সাম্প্রতিক শ্রমিক বিক্ষোভ (Noida Violence) ছিল একটি “পরিকল্পিত ও বহুস্তরীয় ষড়যন্ত্র”। এমনই দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। নয়ডায় যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সীমান্তপারের চক্রান্ত। পুলিশের মতে, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত দুটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানান, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে বাইরের কিছু শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হাইজ্যাক করে।

    পাক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর

    পুলিশ কমিশনার বলেন, “বর্তমানে নয়ডায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গত দু’দিন ধরে শান্তি বজায় রয়েছে। পুলিশ ফ্ল্যাগ মার্চ ও পিকেটিং করেছে, সব শিল্প ইউনিট খুলেছে এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন।” উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন বলে জানান কমিশনার। তবে গত, ১৩ এপ্রিল একদল ব্যক্তি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর পরেই দুটি সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে পুলিশের গুলিতে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়। তদন্তে জানা যায়, এই অ্যাকাউন্টগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

    কীভাবে ছড়ানো হয়েছিল বিক্ষোভ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনজন মূল ষড়যন্ত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে—রূপেশ রাই, মনীষা চৌহান এবং আদিত্য আনন্দ। এদের মধ্যে রাই ও চৌহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আদিত্য আনন্দ পলাতক। পুলিশের দাবি, এই তিনজন শুধু নয়ডায় উপস্থিতই ছিলেন না, বরং শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে ভিড়কে হিংসাত্মক করে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল এই ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়। ৯ ও ১০ এপ্রিল কিউআর কোডের মাধ্যমে মানুষকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। ১০ এপ্রিল বিক্ষোভ শুরু হয়, ১১ এপ্রিল রাস্তায় অবরোধ হয় এবং ১৩ এপ্রিল পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ

    পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় শ্রমিক নন, বরং বাইরের লোক। তদন্তে সহায়তা করছে ইন্টেলিজেন্স বুরো এবং অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়ডার শিল্পাঞ্চল, বিশেষত ফেজ-২ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে হিংসার দিকে ঠেলে দেয়।

  • TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    TCS Nashik Case: ‘দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়ষন্ত্র, সন্ত্রাসবাদের সামিল’, টিসিএসে কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (TCS Nashik Conversion Case) ধর্মান্তর বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হল শীর্ষ আদালতে। ওই আবেদনে বলে হয়েছে, বিষয়টি জেনে গোটা দেশ চমকে উঠেছে। এই ধরনের কাজ ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে’র আওতায় পড়ে। ‘অবৈধ ধর্মান্তর’ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র ও রাজ্যগুলি। এই ঘটনার সরেজমিনে তদন্ত করতে শুক্রবার ঘটনাস্থলে যাচ্ছে জাতীয় মহিলা কমিশনের এক প্রতিনিধি দল। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তারা স্বতঃপ্রণোদিত (suo motu) হয়ে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। গঠন করা হয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি।

    নাসিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের দল

    নাসিকের (TCS Nashik Conversion Case) এই ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, কমিশন ১৯৯০ সালের জাতীয় মহিলা কমিশন আইনের ৮ নং ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন বম্বে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সাধনা যাদব, হরিয়ানার প্রাক্তন ডিজিপি বিকে সিনহা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিকা অরোরা এবং এনসিডব্লিউ-এর সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর লীলাবতী। ওই কমিটির শুক্রবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার কথা। ওই সংস্থার কর্মী, অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

    শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা

    এই বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। এই আবেদনটি দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায় (Ashwini Kumar Upadhyay) ও তাঁর পক্ষে আইনজীবী অশ্বিনী দুবে। জনস্বার্থ মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, নাসিকের ঘটনাটি (TCS Nashik Case) ব্যতিক্রম নয়। বরং বড়সড় চক্রান্তেরই অংশ। আবেদনকারীর আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, “প্রতারণামূলক ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর” দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, যখন বলপ্রয়োগ বা প্রলোভন ব্যবহার করে সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ধর্মান্তরণ চালানো হয়, তখন তা ভারতের জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনে একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে গণ্য হয়। বেশ কিছু বিদেশি সংস্থা অর্থ জুগিয়ে করে এদের সাহায্য করছে। আবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যকলাপ দেশের অখণ্ডতাকে বিপন্ন করে। ফলে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনের আওতায় এর বিচার হওয়া উচিত।

    সংবিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— এই ধরনের সংগঠিত ধর্মান্তরকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর ধারা ১১৩-এর আওতায় আনতে হবে। আবেদনে ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তার সীমাবদ্ধতার কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে এই নয় যে কেউ ইচ্ছামতো কিছু করতে পারবেন। কখনই প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মান্তর সংবিধানসম্মত নয়। জোরপূর্বক ধর্মান্তর মামলার জন্য বিশেষ আদালত গঠনের কথা বলা হয়েছে। দোষীদের জন্য ধারাবাহিক (consecutive) শাস্তির বিধান দিতে হবে। এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যকে কঠোর আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে হবে।

    মেয়েদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা

    যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ রয়েছে আইটি জায়েন্ট টিসিএস-এর নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। একজন পুরুষ কর্মীও মানসিক নির্যাতন ও ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।” গোট ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারত বিখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার। ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নেমেছে নাসিক পুলিশ।

    দলবদ্ধভাবে কাজ, জানাল নাসিক পুলিশ

    এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ মোট ৯টি এফআইআর দায়ের করেছে। সাতজন পুরুষ ও একজন মহিলা সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও আরও এক মহিলা অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া পুরুষ অভিযুক্তদের নাম হল দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, শফি শেখ, আসিফ আফতাব আনসার এবং শাহরুখ শেখ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে তদন্তকারী দল। তাঁরা কীভাবে কাজ করত, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। নাসিক পুলিশের কমিশনার সন্দীপ কারনিক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গিয়েছে যে সাতজন পুরুষ এই টিসিএস-এর বিপিও-তে একটি সংগঠিত দলের মতো কাজ করত। তারা মহিলা কর্মীদের টার্গেট করত। তাঁর কথায়, ‘এই সাতজন পুরুষ কর্মী অধিকাংশ মামলায় সহ-অভিযুক্ত, যা থেকে বোঝা যায় তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করত।’এই পুরো কারবারের মাথা হিসেবে উঠে এসেছে নিদা খানের নাম। অভিযোগ, নিদা খান নামে ওই এইচ আর ম্যানেজার নতুন জয়েনি মেয়েদের প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অ্যাড করতেন। তারপর তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে ধর্মীয় আলোচনায় টেনে আনতেন। এরপর তাঁদের ধর্মান্তরণে প্ররোচনা দিতেন। ৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী টিসিএস-এর একাধিক মহিলা কর্মী যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরণের অভিযোগে এফআইআর করেছেন।

  • Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ভারতের রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইন কার্যকর করল মোদি সরকার (Modi Government)। এর মাধ্যমে, বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ (Women’s Reservation Law) অবশেষে কার্যকর হল। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই এই আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কী বলছে আইন (Women’s Reservation Law)?

    এই আইন অনুযায়ী—

    • ● লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে
    • ● তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি উপজাতি (ST)-এর জন্য সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও একই হারে মহিলাদের জন্য কোটা থাকবে
    • ● ভবিষ্যতে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই সংরক্ষণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে
      কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে—

    • ● দেশের আইনসভায় মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে
    • ● নীতি নির্ধারণে নারীদের মতামত ও নেতৃত্ব আরও গুরুত্ব পাবে
    • ● রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার দিকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে

    গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল এই নারী সংরক্ষণ আইন। তবে তখনই এটি কার্যকর হয়নি। আইনের ধারা ১(২)-এ উল্লেখ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা পর্যন্ত আইন কার্যকর হবে না। সেই অনুযায়ী, এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার দিন ঘোষণা করল। এই বিজ্ঞপ্তি এমন এক সময়ে জারি হয়েছে, যখন সংসদে নতুন করে সংবিধান সংশোধনী নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পেশ করেছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণনার পরবর্তী সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)-এর সঙ্গে যে শর্ত যুক্ত ছিল, তা পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। তবে, এখন পাশ হলেও, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হওয়ার কথা।

    নতুন প্রস্তাবে কী কী পরিবর্তন?

    ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছিল, পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সেই প্রক্রিয়া শেষ না হলে সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে এই শর্ত শিথিল করে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলেই দ্রুত সংরক্ষণ চালুর পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বিরোধী দলগুলি নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, পুরনো জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটবে না।

    শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটি

    আজ, শুক্রবার লোকসভায় এই সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হওয়ার কথা। যেহেতু এটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই পাশ করাতে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। পাশ হলে, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হবে। এই প্রেক্ষাপটে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়া এবং লোকসভা আসন বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপ, দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ ভারতের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং আগামী দিনে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

  • WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমাদের ট্রেনের টিকিট সম্ভবত কনফার্ম হবে না। ওয়েটিং লিস্টও খুব বড়। কিন্তু আমি একটা জিনিস জানি, আমরা কালই বেরিয়ে পড়ব। চাকরি চলে গেলেও আমার কিছু যায় আসে না।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন পোদ্দা। পূর্ব দিল্লির দাল্লুপুরায় গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। পোদ্দা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তিনি এবং তাঁর পরিবারের আরও আট সদস্য বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তাঁদের গ্রামে যাবেন ভোট দিতে। তাঁর মতে, তাঁর মতো শত শত মানুষ বাংলায় নিজেদের ভিটেয় ফিরে যাচ্ছেন স্রেফ ভোট দিতে। ভোট না দিলে পাছে নাগরিকত্ব হারাতে হয়, তাই এবার (SIR) ভোট দিতে মরিয়া তাঁরা।

    ভোট দিতে কাজ খোয়াতেও রাজি পরিযায়ী শ্রমিকরা (WB Migrant Workers)

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হবে দু’দফায় —২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার নির্বাচন মাত্র এক সপ্তাহ দূরে থাকায়, গৃহকর্মী, আয়া, রাঁধুনি এবং অন্যান্য শ্রমিক-সহ বহু পরিযায়ী শ্রমিক দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহর এবং শিল্পাঞ্চল থেকে বাংলায় ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি করছেন। পোদ্দা বলেন, “দিল্লিতে যেখানে আমি থাকি, সেখানে আমাদের মতো অনেকেই বাড়ি ফিরছে। তারা ভয় পাচ্ছে, এবার ভোট না দিলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। কেউ কেউ তো আবার নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কাও করছেন।” দিল্লির পোদ্দার মতোই কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন মুর্শিদা খাতুন। তিনি আয়ার কাজ করেন। তিনিও ভোট দিতেই ফিরছেন বাংলায়। মুর্শিদার মালকিন (SIR) আকাঙ্খা। তিনি বলেন, “উনি (মুর্শিদা) একদম স্পষ্টভাবে বলেছিলেন কেন যাচ্ছেন। তাঁর ভয় ছিল, এবার ভোট না দিলে হয়তো আর কখনও সুযোগ পাবেন না। তিনি আরও ভয় পাচ্ছিলেন এই ভেবে যে, ভোট না দিলে তাঁকে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    নাগরিকত্ব হারানোর ভয়

    গৃহকর্মী এবং আয়াদের মতোই, দেশের বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চলের বহু শ্রমিকও যেন-তেন প্রকারে বাংলায় ফিরে ভোট দিতে চাইছেন।কিছু পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের বার্ষিক বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ফিরছেন যাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকে, আশঙ্কা এড়ানো যায় নাগরিকত্ব হারানোরও। যদিও এই ভয়গুলির বাস্তব কোনও ভিত্তিই নেই, তবুও তাঁরা মনে করছেন এটাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারের কিছু শ্রমিক, যাঁরা ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না, তাঁরা প্রায় ১৯০০-২৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বাসে।

    এসআইআর

    ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ করতে চালু হয়েছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেড়েছে এই ধরনের প্রবণতা। অনেকেই বলছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা এখন ভোট দেওয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তৃণমূল নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বেরিয়ে বলেছেন, “ইসি, বিজেপি এবং কেন্দ্র সংবিধান মানছে না। তারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, কাল এনআরসি এনে নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই বাংলায় ফিরতে হুড়োহুড়ি করছেন নিজ ভূমে পরবাসীরা (WB Migrant Workers)।

    বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি

    নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যু বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধিকে অবৈধ অভিবাসনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, যার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। এই রাজনৈতিক বার্তাগুলি বাংলার বাইরে কাজ করা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাই বেড়েছে বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি। এর প্রভাব পড়ছে দিল্লি এনসিআর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরের পরিবারগুলিতে, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বড় শহরগুলির পেশাগত কাঠামো কতটা নির্ভরশীল অসংগঠিত শ্রমিকদের ওপর (SIR)। পোদ্দা বলেন, “যদি কিছুই না হয় (টিকিট কনফার্ম), তাহলে আমরা গাদাগাদি করে সাধারণ বগিতে করেই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে যাব।” তিনি বলেন, “অনেকে ভয় পাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সুবিধাও হারাতে হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    বাংলায় কাজ নেই, তাই পাড়ি ভিন রাজ্যে!

    উত্তরপ্রদেশের খুরজার সিরামিক শিল্পে কাজ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমার কোনও উপায় নেই। আমাকে প্রায় ২০ দিনের জন্য কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হবে।” তিনিও বলেন, “ভোট না দিলে নাম কাটা যেতে পারে, প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে নাগরিকত্বও।” এই কারণেই খুরজার বহু সিরামিক কারখানা প্রায় ২০ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে, দিল্লি, গুরগাঁও, নয়ডা, জয়পুর-সহ বিভিন্ন শহরে গৃহকর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। অনলাইন পরিষেবাগুলিতেও স্লট মিলছে না। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এখানকার প্রায় ৬০ শতাংশ কারিগর ইতিমধ্যেই ফিরে গিয়েছেন, আরও অনেকেই যাবেন। বস্তুত, এই গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের কাছে এই নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়—এটি তাঁদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি। তাঁরা মনে করছেন, ভোট না দিলে সামাজিক সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাঁরা রুজি-রোজগার এবং দীর্ঘ পথযাত্রার ঝুঁকি নিয়েও ভোট দিতে ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের গাঁয়ে। তাঁদের এই ‘দেশে’ ফেরা থেকেই স্পষ্ট, বাংলায় কাজ নেই। পেটের দায়ে তা-ই তাঁদের পাড়ি দিতে হয় ভিন রাজ্যে (sir)।

     

LinkedIn
Share