Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    Hindus Under Attack: হিন্দু নির্যাতন চলছেই, রাম মন্দিরে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার এক মুসলিম, আর কোথায় কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ-সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week) উদ্বেগের। ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার!

    ভারতে ধর্মীয় অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ২০১১ সালের বিধিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধন আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার গঙ্গোহ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সোহেলকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার যৌথ দল। অভিযোগ, তিনি অযোধ্যার রাম মন্দিরকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।

    গরু জবাইয়ের চেষ্টা ভন্ডুল

    উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলার সারধানা এলাকায় গরু জবাইয়ের একটি চেষ্টাও ভন্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় মনীশ, দিলশাদ ও সারতাজ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কুইন্টাল গোমাংস, একটি গরু এবং জবাই করার বিভিন্ন সরঞ্জাম। হায়দরাবাদের সমাজকর্মী এএস সন্তোষের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তেলঙ্গানা সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আগাপে অনাথ আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী সংক্রমণে আক্রান্ত অনাথ শিশুদের পরিচয় অর্থ সংগ্রহের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

    বিতর্কের মূলে কী

    কর্নাটকের প্রবেশিকা পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পবিত্র জেনেউ ও কালাভা খুলে ঢোকার নির্দেশকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল পরীক্ষার নিয়ম নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাংবিধানিক সমতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন। এদিকে, একটি বহুজাতিক রাসায়নিক ও প্লাস্টিক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মুম্বই শাখায় কর্মরত বহু প্রাক্তন কর্মীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সাংগঠনিক পরিবর্তনের আড়ালে ভারতীয় হিন্দু পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামি লিগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর রামের মূর্তি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    Jammu Kashmir: স্কুল শিক্ষা দফতরের ৮ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল শিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য (LG Manoj Sinha) নির্বাচিত দু’টি বইয়ে সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে যে দু’টি বই (Jammu Kashmir)

    সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত বই দু’টি হল ‘পার্সোনালিটিজ অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু ও কাশ্মীর (সিরিজ-৪)’ এবং ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর’। বই দু’টি বিশেষজ্ঞ সাবকমিটির অনুমোদনের পর সমগ্র শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় জম্মু, রামবান, উধমপুর ও বারামুলা-সহ কয়েকটি জেলার সরকারি বিদ্যালয়ে সীমিত সংখ্যায় পাঠানো হয়েছিল। ৩ জুলাই সেগুলি তুলে নেওয়া হয়।

    তরুণ মনে বিষ ঢালার চেষ্টা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, বই দু’টিতে জেকেএলএফ প্রতিষ্ঠাতা মকবুল ভাট, লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, শব্বির শাহ, মিরওয়াইজ উমর ফারুক ও মাসারত আলম ভাটকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি “ভারত অধিকৃত কাশ্মীর” শব্দবন্ধ ব্যবহার করে বিচ্ছিন্নতাবাদ-সমর্থক বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ। শাসক দলের নেতাদের দাবি, “বইগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।” তাঁদের আরও অভিযোগ, “এটি শিক্ষার মোড়কে তরুণ প্রজন্মের মনে বিষ ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।”

    আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    সরকারের বক্তব্য, বই নির্বাচন, মূল্যায়ন ও সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা না নেওয়া, গুরুতর গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (Jammu Kashmir) নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো নির্বাচন ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিক অশ্বিনী কুমারকে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। এর (LG Manoj Sinha) পাশাপাশি দুই লেখক ও দুই প্রকাশককে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের লেখা বা প্রকাশিত সমস্ত মুদ্রিত বই প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (Jammu Kashmir)।

     

  • Toyota Kirloskar: দূষিত জ্বালানির কারণেই সমস্যা হয়েছিল গাড়িতে, মালিকের অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়ে দিল টোয়োটা কির্লোস্কার মোটর

    Toyota Kirloskar: দূষিত জ্বালানির কারণেই সমস্যা হয়েছিল গাড়িতে, মালিকের অভিযোগ নস্যাৎ করে জানিয়ে দিল টোয়োটা কির্লোস্কার মোটর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে গাড়িতে সমস্যা হয়েছে। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন এক টয়োটা হাইক্রস গাড়ির মালিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। তার পরেই নড়েচড়ে বসেন টোয়োটা কির্লোস্কার (Toyota Kirloskar) মোটর কর্তৃপক্ষ। শনিবার তাঁরা জানিয়ে দেন, ওই অভিযোগ মোটেই ঠিক নয়। সংস্থার দাবি, সমস্যার মূল কারণ ছিল দূষিত জ্বালানি (Contaminated Petrol), ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নয়।

    টোয়োটা কির্লোস্কার মোটরের অভিযোগ (Toyota Kirloskar)

    সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টয়োটা হাইক্রস এমনভাবে তৈরি, পরীক্ষা এবং অনুমোদিত হয়েছে যাতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিরাপদে ব্যবহার করা যায়। এই বিষয়ে সংস্থা বলেছে, “গাড়িটির বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে সমস্যার কারণ ছিল দূষিত জ্বালানি। আমাদের পরীক্ষায় গাড়ির কোনও যন্ত্রাংশ বা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কোনও ক্ষতির খোঁজ মেলেনি।” টোয়োটা আরও জানিয়েছে, নিয়মিত পরিষেবা পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রথমে গাড়ির জ্বালানির ট্যাঙ্ক এবং জ্বালানি বহনের নল সম্পূর্ণ খালি করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর নির্ধারিত মানের ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ভরে গাড়িটি ফের পরীক্ষা করা হয়। সংস্থার দাবি, পরীক্ষায় গাড়িটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে (Toyota Kirloskar)।

    গাড়ি খারাপের কারণ ভেজাল জ্বালানি

    ওই গাড়ির মালিকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংস্থা সাফ স্পষ্ট জানিয়েছে, “এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে দূষিত ও নিম্নমানের জ্বালানির কারণে ঘটেছে। এর সঙ্গে ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের কোনও সম্পর্ক নেই।” গাড়ি চালকদের উদ্দেশে টয়োটা কির্লোস্কার মোটরের পরামর্শ, জ্বালানিতে ভেজাল বা দূষণের ঝুঁকি কমাতে শুধুমাত্র অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা উচিত। এর পাশাপাশি, এই ধরনের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে সরকারি বা সংস্থার বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সংস্থার অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র বা গ্রাহক সহায়তা (Contaminated Petrol) পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে টয়োটা কির্লোস্কার মোটরের তরফে (Toyota Kirloskar)।

     

  • Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    Attack In Balochistan: বালোচিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা, গুঁড়িয়ে গেল পাক সেনা শিবির, নিহত ৩০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত গদর (Gwadar)। এবার সেখানেই আত্মঘাতী হামলা (Gwadar Attack) বালোচ বিদ্রোহীদের। পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Coast Guard) শিবিরে হামলায় অন্তত ৩০ জন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির’ (BLA)। রক্তক্ষয়ী হামলার পুরো দায় স্বীকার করেছে ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA)।

    স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত হামলার হুঁশিয়ারি

    বিএলএ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বালোচিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নিশানা করে এই ধরনের হামলা চলতেই থাকবে। এমনকী আগামী দিনে এই হামলার ঝাঁঝ এবং তীব্রতা আরও বাড়বে বলেও হুমকি দিয়েছে বিদ্রোহীরা।

    আত্মঘাতী হামলা (Attack In Balochistan)

    ইতিমধ্য়েই, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে হামলার (Attack In Balochistan) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ এই অপারেশন চালানো হয়। বিএলএর এক আত্মঘাতী স্কোয়াড সদস্য বিস্ফোরক বোঝাই একটি বড় ট্রাক নিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সেনা শিবিরের একটি বড় অংশ মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিএলএ জানিয়েছে, এই আত্মঘাতী হামলাকারীর নাম আত্তাউল্লা বালোচ ওরফে আজমল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বালোচ বিদ্রোহীরা ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবিরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে। এরপরই পাকিস্তানি জওয়ানদের লক্ষ্য করে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে বহু পাক জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

    ব্যর্থতা ঢাকতে ইসলামাবাদের দোষারোপের রাজনীতি

    পাক-ভূখণ্ডে এই বালোচ গোষ্ঠীটিকে অনেক আগেই নিষিদ্ধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অগাস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও (USA) বিএলএকে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা এই সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেদের এই চরম ব্যর্থতা ঢাকতে পাক সরকার প্রতিবারের মতো এবারও ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের দাবি, বিএলএ আসলে ভারতের মদতপুষ্ট এবং ভারতই তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করে।

    নয়াদিল্লির কড়া জবাব

    যদিও এই দাবির পক্ষে আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে কোনও তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। স্বভাবতই ভারত সরকারও পাকিস্তানের এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং হাস্যকর বলেই দাবি করেছে। কিছু দিন আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “বালোচিস্তানের সমস্যার জন্য অন্য কোনও রাষ্ট্রকে দোষারোপ করার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত আয়নায় নিজেদের মুখ দেখা। অন্যকে কাঠগড়ায় না তুলে নিজেদের ত্রুটিপূর্ণ নীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা নিয়ে পাকিস্তানের গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।” আত্মঘাতী হামলা নিয়ে পাক সেনা এখনও নীরব। তারা এই হামলার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত যেমন করেনি, তেমনই ঠিক ক’জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে, সেই সংখ্যাও সাধারণ মানুষের সামনে আনেনি। ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পুরো ছবি জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।

  • PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই—ছ’দিনের সফরে (Six Day Tour) যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই সফরকে ভারতের পূর্বমুখী নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু সফর (PM Modi)

    সফরের প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ৬ থেকে ৮ জুলাই সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মোস অতিধ্বনিত গতির ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি এবং সাবমেরিন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে একাধিক সূত্রের খবর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পর এটি মোদির (PM Modi) প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। একই সঙ্গে এটি ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরকালে তিনি জাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রামবানান মন্দির দর্শন করবেন। প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ

    ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২০২২ সালের পর দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিশের জোট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি (Six Day Tour) হবে মোদির তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

    আপ্লুত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মোদির সফরের কথা ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমার বন্ধু নরেন্দ্র মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি সম্মানিত।” তিনি এও বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।” দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে (Six Day Tour)। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহীদের ফোরামের যৌথ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি

    অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তিনি দেশটির গভর্নর-জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশেও ভাষণ দেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে “মেলবোর্ন মিটস মোদি” নামে একটি বড় কমিউনিটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে (PM Modi)। সফরের শেষ ধাপে ১০ থেকে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী পা রেখেছিলেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    অকল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। ভারতের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই তিন দেশের সফর পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এবং জাপানের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত (Six Day Tour) চার দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোটও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলেই (PM Modi) অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি,  বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেনস’ নীতির কথা তুলে ধরে ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সমাজমাধ্যম এক্সে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে ওই ২৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইউএপিএ অ্যাক্টের ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে এদের জঙ্গি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাসে উসকানি, অস্ত্র পাচার, সীমান্ত অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক এবং ৬ জন ভারতীয়। তবে বর্তমানে সকলেই পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

    বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ওই ২৩ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জঙ্গি নিয়োগ, ভারতে অনুপ্রবেশ করানো, ট্রেনিং দেওয়া, ড্রোনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার ছক কষার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, ২৩ জনের মধ্যে তিন জন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া তিনজন ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম মূলচক্রী এবং দু’জন ২০২২ সালের সুনজওয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার সঙ্গে জড়িত।

    হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ

    কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল রউফ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ এবং রানা ইফতিখারের নাম হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, রানা ইফতিখারের কাজ ছিল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রাখা। সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইও করতেন তিনি। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কট্টরপন্থী পাক গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইফতেখার। রউফও জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। ওয়ালিদ বর্তমানে হাফিজের নিরাপত্তা্র দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনিও কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

    তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম—

    মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (জইশ-ই-মহম্মদ): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি জানাচ্ছে, এই পাকিস্তানি নাগরিক ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত ছিলেন। এনআইএ-র চার্জশিটে ‘চক্রান্তকারী’ হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। গত ৭ মে ‘সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের আটটি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতরে হামলার জেরে জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভাই ইউসুফ-সহ পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইলিয়াসই বর্তমানে সংগঠনে ‘নম্বর টু’।

    মহম্মদ মুসাদ্দিক (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত। এনআইএ তদন্তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের ভারতের যে হ্যান্ডলারেরা নিয়ন্ত্রণরেখা টপকাতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুসাদ্দিক।মুফতি মুহাম্মদ আসগর খান (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা সেনা শিবিরে হামলার মূল অভিযুক্ত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। সিঁদুর অভিযানের পরে জইশের নাম বদলে অল-মুরাবিতুন (যার অর্থ, ‘ইসলামের রক্ষাকারী’) রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আসগর নতুন পরিচয়ে সক্রিয়।

    হাফিজ় আবদুল শুকুর (জইশ-ই-মহম্মদ): এনআইএ রিপোর্টে ‘ক্বারি জ়ারার’ নামেও চিহ্নিত এই পাক নাগরিক একাধিক বার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আগে স্থানীয় সহায়তাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    আবদুল্লাহ জেহাদি (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আর এক চক্রী। বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানে জইশের সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির দায়িত্বে।ফিরদৌস আহমদ ভাট (লশকর-এ-ত্যায়বা): হাফিজ় সইদের ঘনিষ্ঠ এই নেতা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। কাশ্মীর উপত্যকার লশকরের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ ও লজিস্টিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির বন্দোবস্তও তাঁর দায়িত্বে।

    বিলাল আহমদ মির (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট): লশকরের এই প্রাক্তন কমান্ডার বর্তমানে তাদেরই ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর মূল নেতা। বিলাল মূলত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা এবং ভারতে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত। পহেলগাঁও সন্ত্রাসেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।

    তালিকায় আরও রয়েছেন ফিরদৌস আহমেদ ভাট, গুলাম ফরিদ, হারুন রশিদ গনাই, মহম্মদ শহিদ ফয়সাল, বিলাল আহমেদ মির, আবিদ কাইয়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, আশফাক আহমেদ, মৌলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি, মৌলানা সইফুল্লাহ খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মৌলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাট, ওয়াইস ফারুজ এবং কারি ইয়াকুব শেখের নামও।

    কেন এই পদক্ষেপ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইনে জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী কেবল কোনও সংগঠনকে ‘নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা যেত। কিন্তু ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে মোদী সরকার ইউএপিএ (UAPA) আইনে এক ঐতিহাসিক সংশোধন আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা পায় কেন্দ্র। এই তকমা পাওয়ার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো ওই অপরাধীদের অস্ত্র ও অর্থ জোগানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে এবং ভারতের মাটিতে থাকা তাদের সমস্ত সম্পত্তি বা অ্যাসেট বাজেয়াপ্ত করতে পারে। শনিবারের এই নতুন ২৩টি নাম যুক্ত হওয়ার পর, ভারতের এই বিশেষ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা মোট ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ জনে। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই হাফিজ সঈদ, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার, ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকি-উর-রহমান লাখভি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং আমেরিকাতে থাকা খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের মতো নামগুলো রয়েছে।

  • Union Govt Summon Meta:  ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে বিজ্ঞাপন! মেটাকে তলব কেন্দ্রের

    Union Govt Summon Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে বিজ্ঞাপন! মেটাকে তলব কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে এবার মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Union Govt Summon Meta)। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। সেখানে দেখানো হচ্ছে শিশুদের যৌন নিগ্রহের বিজ্ঞাপন। অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপন থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও সংগ্রহ করছেন আগ্রহী ব্যক্তিরা। তার জন্য দিতে হচ্ছে মাত্র ৯৯ টাকা। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। তারপরই বিষয়টা নিয়ে পদক্ষেপ করে কেন্দ্র। মূল সংস্থা ‘মেটা’-কে জবাবদিহির জন্য তলব করেছে কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।

    ইনস্টার-র বিরুদ্ধে অভিযোগ

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রে খবর, মেটার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কীভাবে এমন বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে চলতে পারে? কিংবা এই ধরনের কনটেন্ট রুখতে তারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? ‘বিবিসি’-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে যেখানে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞাপনগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামও ব্যবহার করা হয়েছিল। যেগুলি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র ৯৯ টাকায় ভিডিও কেনার সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল। বিবিসি এ বিষয়ে ইনস্টাগ্রামকে জানায়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, ওই পোস্টগুলি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ লঙ্ঘন করেনি।

    ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার

    বিবিসির গোপন অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রথমে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট দেখানো হলেও ধীরে ধীরে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম শিশুদের জড়িত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করে। এমনকি ব্যবহারকারী এ ধরনের কনটেন্ট খুঁজে না দেখলেও প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রমশ আরও আপত্তিকর কনটেন্টের সুপারিশ করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোট ৩০টি আলাদা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের প্রচার করা হচ্ছিল। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপনও শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু বিজ্ঞাপনে নাবালক ছেলে ও মেয়েদের যৌন নির্যাতনের দৃশ্য এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে নাবালিকাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর ইঙ্গিত ছিল। এসব বিজ্ঞাপন থেকে সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে যাওয়ার লিঙ্কও দেওয়া হয়েছিল।

    অশ্লীল কন্টেন্ট বিক্রি

    রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিবিসি কর্তৃপক্ষ ইনস্টাগ্রাম-এ একটি টেস্ট অ্যাকাউন্ট খোলে। যেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই অশ্লীল কন্টেন্ট-এর সাজেশন আসতে শুরু করে। এমনকী অশ্লীল কন্টেন্ট বিক্রি করা হচ্ছে, এমন ধরনের টেলিগ্রাম চ্যানেল-এর লিঙ্ক দিয়েও বিজ্ঞাপন আসে। বিবিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই টেস্ট অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে তিরিশের কাছাকাছি অশ্লীল কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা গিয়েছে। যেখানে শিশুদের যৌন নিগ্রহমূলক ভিডিও-র প্রচারও করা হয়েছে। যৌন নিগ্রহমূলক কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপনের অভিযোগ সামনে আসতেই মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা বেশ কিছু বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছেন। যে অ্যাকাউন্টগুলি থেকে এমন ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিকেও তাঁরা সাসপেন্ড করেছেন। পাশাপাশি, অতিরিক্ত কিছু বিজ্ঞাপনও সরানো হয়েছে। অশ্লীল বিজ্ঞাপনের ইউআরএল-ও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

    কনটেন্ট সরাল মেটা!

    এক বিবৃতিতে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিশুদের শোষণ একটি জঘন্য অপরাধ। তাঁরা নিজেদের অ্যাপগুলিতে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তাঁদের সংস্থার মাধ্যমে শিশুদের উপরে নিগ্রহমূলক কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন ইচ্ছাকৃত ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ ভুল’। সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, ‘কোনও ব্যবস্থাই নিখঁুত নয়। আমাদের রিভিউ প্রক্রিয়ায় সমস্ত পলিসি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়েনি।’ মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত অশ্লীল কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে চলেছেন। যে কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে

    মন্ত্রকের হাতে সব তথ্য

    মেটার এক মুখপাত্র স্বীকার করেছেন, কোনও পর্যালোচনা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্ট নজর এড়িয়ে যেতে পারে। তবে সংস্থার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সক্রিয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত ও অপসারণের কাজ জোরদার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিবিসি তাদের অনুসন্ধানে চিহ্নিত সমস্ত বিজ্ঞাপন ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। টেলিগ্রামকে দুটি চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলে, তার মধ্যে একটি পরে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ‘অটোমেটেড টুলস’ এর ব্যবহার

    অন্য দিকে, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা শিশুদের উপরে যৌন নিগ্রহমূলক ঘটনার কন্টেন্ট ‘অটোমেটেড টুলস’ ব্যবহার করে নিয়মিত সরিয়ে দেন। ২০২৬ সালেই তাঁরা এমন ধরনের কন্টেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে ২.৭৪ লক্ষ গ্রুপ বন্ধ করে দিয়েছেন। আগামী দিনেও তাঁরা এমন ধরনের পদক্ষেপ করতে থাকবেন। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বার মেটাকে তলব করল কেন্দ্র। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেটাকে ডেকেছিল মন্ত্রক। সরকারের আশঙ্কা, এই ফিচারের অপব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে পারে। সেই কারণে সরকারের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন ফিচার চালু না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

  • BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পপতিদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    কী বললেন শমীক? (BJP)

    শমীক জানান, গত চার দশকে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বাংলার নাড়ির যোগ রয়েছে, তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসতে আগ্রহী। আমি সরকার নই, আমি দলের প্রতিনিধি। আমি তাঁদের জানিয়েছি, সরকার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পায়নের সুফল দেখতে পাবেন।’’

    শিল্পপতিদের আশ্বাস শমীকের

    মুম্বই সফরে বস্ত্র, ইস্পাত, কাচ, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একাধিক নয়া উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন তিনি। তাঁদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, শিল্পপতিদের আর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়ে এগোতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের শিল্পপতিদের বলেছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাঁরা সেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।’’ তিনি এও (BJP) বলেন, ‘‘শুধু শিল্পের কথা বললেই শিল্পায়ন হয় না। শিল্প গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট শিল্পনীতির প্রয়োজন। আমাদের সরকার সেই নীতির ওপর কাজ করছে।’’

    শিল্পায়ন নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিল্পায়নকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা সম্মেলন কেন্দ্রে নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর তিনি জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে (Samik Bhattacharya)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’হাজার একশো কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন

    মুম্বই সফর প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক লেখেন, ‘‘মুম্বইয়ের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’’ তিনি (Samik Bhattacharya) আরও লেখেন, ‘‘শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি (BJP)।’’

     

  • Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা সংক্ষেপে ডিএসি (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহু— স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, কামিকাজে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির একাধিক প্রকল্প রয়েছে। ডিএসি-র অনুমোদন মূলত ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। এরপর ধাপে ধাপে টেন্ডার ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

    ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘আকাশ তরঙ্গ’ (Akash Tarang) অ্যান্টি-UAV ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
    • ● ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
    • ● মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
    • ● ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
    • ● ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
    • ● জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন

    স্থলসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘আকাশ তরঙ্গ’

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ম্যান-পোর্টেবল এটিজিএম’ শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বাড়াবে। ‘এমআরস্যাম’ ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দূরপাল্লার আকাশ হামলা বা স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

    ‘ভি-শোরাডস্’-এর প্রয়োজনীয়তা

    এছাড়া ‘ভি-শোরাডস্’-এ মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি থাকায় এটি শত্রুর ইলেকট্রনিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। ট্যাঙ্কের জন্য অনুমোদিত অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আক্রমণকারী অস্ত্রকে লক্ষ্যভেদ করার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করার সক্ষমতা দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে রয়েছে জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন, যা নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুবিধাও মিলবে।

    নৌবাহিনীর নজরদারি ও মাইন ওয়ারফেয়ার আরও শক্তিশালী

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে—
    • ● মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)
    • ● নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS)
    • ● ইলেকট্রিক প্রোপালশন প্রযুক্তির জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF)

    সামুদ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি

    এমআইজিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে কৌশলগত সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও মোতায়েন সীমিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত ‘নেভাল ইউএএস’ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস আরও বাড়াবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে রিয়েল-টাইম নজরদারি সহজ হবে। নতুন ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক প্রপালশন প্রযুক্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে সহায়ক হবে।

    বায়ুসেনার জন্য উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে ‘ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড পসুডো স্যাটেলাইট’ (FW-HAPS)। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থান করে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স এবং রিকনাইস্যান্স (ISR) পরিচালনা করতে সক্ষম। পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেই জোর আধুনিকীকরণে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ডিএসি-র নীতিগত অনুমোদনের পর এবার এই সমস্ত প্রকল্প ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

  • Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। ৩ জুলাই পরিচালিত এক অভিযানে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা গত প্রায় ছয় মাস ধরে সক্রিয় ছিল। গুজরাটে জইশ-ই-মহম্মদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল তারা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সময়মতো অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।

    এটিএস-এর হাতে ধৃতদের পরিচয়

    এটিএস সূত্রে জানা গেছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলা থেকে তিনজন, পাটন জেলা থেকে তিনজন, নওসারি জেলা থেকে একজন এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হল— আহমেদ আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু উবাইদা (১৯), ইব্রাহিম মহম্মদ হুসেন ঘাঘা ওরফে আবু হামজা (৩০), মুদাস্সির আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু আয়া (২২), জাকারিয়া দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে ইবনে আম্মার ওরফে জাকারিয়া পালানপুরি (২১), মুফতি ফওজান ইসমাইল দাউয়া ওরফে মুফতি সাহেব (৪০), মহম্মদ আমিন শেরা ওরফে আমিন পালানপুরি (২১), মহম্মদ আবদুল রহমান সাভদি ওরফে মহম্মদ পালানপুরি ওরফে আবু ইউনাইসা (২২) এবং বিলাল দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে আবু দুজানা, আবু সুফিয়ান, আবু জুন্দাল, উমর বিন খাত্তাব (১৮)।

    সক্রিয় জঙ্গি মডিউল ভেস্তে গেল

    প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, অভিযুক্তরা গুজরাট-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সময়মতো পদক্ষেপ করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর ১৩ (বেআইনি কার্যকলাপ), ১৭ (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহ), ১৮ (ষড়যন্ত্র), ৩৮ (সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৪৮ এবং ৬১ ধারায়ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ATS-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ৬১ ধারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এবং ১৪৮ ধারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুজরাটের বিখ্যাত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share