Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh Map Update) বিভিন্ন এলাকার নাম বারবার বদলে দেওয়ার চিনা (India China) প্রচেষ্টার পাল্টা জবাব দিল ভারত। গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও মানচিত্র-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানকে ভারতের মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শুক্রবার অরুণাচল সরকারের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করে, সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মানচিত্রগুলিতে এই ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে মানচিত্রে যোগ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিগত নামকরণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলোর সঠিক ভৌগোলিক স্বীকৃতিকে উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই ২৭টি স্থানের মধ্যে ২১টি স্থলভাগ, ৪টি গিরিপথ, ১টি হ্রদ এবং ১টি স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল সেগুলিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

    চিনকে জবাব ভারতের

    অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার চিনা পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এ ধরনের নামকরণ “অর্থহীন ও হাস্যকর” এবং এর মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—অরুণাচল প্রদেশ “ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে।” অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চিনের দেওয়া নামকে বরাবরই “কাল্পনিক” ও “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চিন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের জন্য তথাকথিত ‘মানক’ নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে আরও ১৫টি স্থানের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নামের তালিকা প্রকাশ করে বেজিং। চিন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ (Zangnan) নামে অভিহিত করে। তবে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে, নাম পরিবর্তন করে কোনওভাবেই অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অংশ হওয়ার ঐতিহাসিক ও বাস্তব সত্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা

    সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলির আনুষ্ঠানিক নামকরণ, বহুদিন ধরে ঘটে চলা আঞ্চলিক নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের কড়া জবাব। জাতীয় মানচিত্রের মধ্যে আদিবাসী, ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত নামগুলিকে আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করল। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষামূলক উপকরণ, সরকারি নথি, জনযোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্র সংক্রান্ত তথ্যে সরকারি ভারতীয় নামকরণই উল্লেখিত হবে।

    কোন কোন জায়গা চিহ্নিত

    সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে লং জু (Long Ju)। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-এর কাছে অবস্থিত এই এলাকা ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ওই সময় চিনা বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছিল। উপরের সুবনসিরি জেলার লং জু-এর কাছে অবস্থিত মাজা (Maja) গ্রামকেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিসা (Bisa) গ্রাম এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা (Dzo La), রিজা লা (Riza La) এবং পুকুর লা (Pukur La)। সরকারি মানচিত্রে স্থান পেয়েছে উচ্চ পার্বত্য হ্রদ সাম্ভো সরোবর (Sambho Sarovar), পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের বড়া কুন্ডুন ও ছোট কুন্ডুন, পাশাপাশি ধানবাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর এবং জশবন্ত গড়।

    ১৯৬২ সালে ভারত-চিনের সংঘাতের জায়গার নামও ম্যাপে

    একইভাবে তাওয়াং জেলার নামকা চু উপত্যকার টেগ লা’ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মানচিত্রে। ১৯৬২ সালে ভারত এবং চিনের যুদ্ধের শুরুটা প্রথম যে জায়গাগুলিতে শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল থাগ লা (Thag La)। আবার পূর্ব সীমান্তের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর, বৈশাখী, যশবন্ত গড়ের (১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে শহিদ জওয়ান যশবন্ত সিং রাওয়াতের মেমোরিয়াল) মতো জায়গাকে মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জয়রামপুর (Jairampur)-ও। চাংলাং জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রটি পূর্ব অরুণাচল এবং মায়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

    কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

    জশবন্ত গড়ে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা জওয়ান জশবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। তাওয়াং যাওয়ার পথে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি ভারতীয় সেনার বীরত্বের অন্যতম প্রতীক। ২৭টি স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামের নাম। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর ত্রিলোক সিং থাপা-র স্মৃতিতে নির্মিত শের-এ-থাপা মেমোরিয়াল-কেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ছোট রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কামলাং নগর এবং বুদ্ধমন্দির-ও। কামলাং অভয়ারণ্যের কাছে অবস্থিত কামলাং নগরেরও কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তিনটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। উত্তরে ও উত্তর-পূর্বে তিব্বতের মধ্য দিয়ে চীন, পশ্চিমে ভুটান এবং পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমার। তাই এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরেও বার্তা দিল ভারত।

  • FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill, 2026) আগামী ১২ অগাস্ট সংসদে আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হবে। তবে বিলটি পূর্ববর্তী সময় (Retrospective Effect) থেকে কার্যকর করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। বৈঠকে তাঁরা প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। লালদুহোমা বলেন, “আমরা নতুন এফসিআরএ বিল নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিল অতীত থেকে কার্যকর হবে না।” তিনি আরও জানান, অমিত শাহ তাঁদের বলেছেন যে ১২ অগাস্ট সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।

    বিলে কী কী প্রস্তাব রয়েছে

    প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হবে, স্বেচ্ছায় জমা দেবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদ প্রথমে একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’-র অধীনে অস্থায়ীভাবে ন্যস্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নতুন লাইসেন্স না পায় বা লাইসেন্স পুনর্বহাল না হয়, তাহলে সেই সম্পদ ও বিদেশি অনুদান স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে।

    প্রতি বছর হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

    বিদেশি অনুদান (এফসিআরএ) সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান গ্রহণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সেই অর্থ কোথা থেকে এল, কীভাবে খরচ হল এবং তার হিসেব যাতে স্পষ্ট থাকে, সেটাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংস্থাগুলিকে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নিতে হবে। প্রতি বছর নিরীক্ষিত হিসেব জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

    বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে

    ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা কোন ধরনের কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কাজ করবে, তা আগে থেকেই জানাতে হবে। নিবন্ধন নবীকরণের জন্য গত দুই বছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্পে খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু দেশেও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত আবারও ইতিহাস গড়লেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার (Fighter Combat Leader – FCL) কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ভাবনা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (TACDE)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে আইএএফ-এর অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ উন্নত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শুধুমাত্র নির্বাচিত ফাইটার পাইলটদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করলে সংশ্লিষ্ট পাইলটরা আকাশপথে কঠিন যুদ্ধাভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

    শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় ভাবনা

    ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টকে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ফাইটার ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্যাদা অনেকটা মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ (Strike Fighter Tactics Instructor Programme)-এর সমতুল্য। এখানে উন্নত যুদ্ধকৌশল, মিশন পরিকল্পনা, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার কৌশল, পাশাপাশি উচ্চ-তীব্রতার সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট ও এয়ার কন্ট্রোলাররা। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় স্থান করে নিলেন ভাবনা।

    কে এই স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত?

    বিহারের দারভাঙার বাসিন্দা ভাবনা কান্ত একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলটদের ব্যাচের সদস্য হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁর সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। সামরিক বিমানচালনায় নারীদের অগ্রযাত্রায় ভাবনা কান্ত একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমোদন পান। প্রথমে তিনি মিগ ২১ বাইসন উড়িয়েছেন, পরে এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ওড়ান। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর এবার ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের নেতৃত্ব ও যুদ্ধক্ষমতার ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাবনা কান্তের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

  • Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ (Mohan Bhagwat on Reservation) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও চলবে।” তবে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছেন, তাঁদের উচিত উদারতার পরিচয় দিয়ে সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ উপকৃত হতে পারেন। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ এক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২,০০০ তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

    ‘আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সংরক্ষণকে দেখতে হবে’

    শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ অনির্দিষ্টকাল চলবে কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভাগবত বলেন, বিষয়টি ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ সামাজিক কারণে চালু হয়েছে। যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও থাকবে। সংরক্ষণের মাধ্যমে যাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় এই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ সুযোগ পান।” তিনি জানান, সংরক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যেই এমন মানসিকতা গড়ে উঠছে যে, সংরক্ষণ কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; এর সুফল নিয়ে নিজেদের উন্নত করার পর অন্যদের জন্য সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    উপ-শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে মত

    সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিন্যাস (Sub-categorisation) নিয়ে ওঠা দাবির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য হল সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও মতামত দিয়েছে। ভাগবতের বক্তব্য, সংরক্ষণকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, তবে দ্রুত সামাজিক বৈষম্য কমবে এবং একসময় সংরক্ষণের প্রয়োজনও শেষ হবে। তার আগে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়।

    ‘রাজনীতিকরণই সমস্যার মূল’

    সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে মোহন ভাগবত বলেন, এটি মূলত সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করায় সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যবস্থাটি ভুল নয়। কিন্তু যারা এটিকে ব্যবহার করছে, তারা ভুলভাবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা না বদলালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সংরক্ষণ নীতির পর্যালোচনা বা সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভের আবহে সংঘ প্রধানের এই মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি রা যদি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে, তাহলে সেটিকে কেবল বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ করলেই নতুন প্রজন্মকে ‘দেশ-বিরোধী’ (Anti-National) দেগে দেওয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আজকের ‘জেন জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তার অর্থ এই নয় যে তারা দেশবিরোধী। ওরা দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে।

    জেন জি ও জেন আলফা দেশের ভবিষ্যৎ

    বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat on Gen-Z) বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের বয়সে ছিলাম, তখন প্রবীণদের কথা চোখ বন্ধ করে শুনে নিতাম। প্রশ্ন করার সাহস বা মানসিকতা ছিল না। কিন্তু আজকের জেন জি যুক্তিসহ উত্তর চায়। তারা না বুঝে কোনও কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যদি জেন জি কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তবে তারা দেশবিরোধী, এমন তো নয়। তারা আমাদেরই পরিবার, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে এই নতুন প্রজন্ম – জেন জি এবং জেন আলফা (Gen Alpha) অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সেবার সৎ বার্তা ওদের ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করে।’’

    সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

    সমাজে মতভেদ বা অসন্তোষের পরিস্থিতিতে সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও তা যেন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে, বরং ঐকমত্য গড়ে তোলার পথে সহায়ক হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর একটি অনুষ্ঠানে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ড. ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন ‘শাস্ত্রার্থ’-এর ঐতিহ্যে বিরোধী মত (পূর্বপক্ষ) এবং তার জবাব (উত্তরপক্ষ)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়

    ড. ভাগবতের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়। তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং আচরণ যেন মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজি আম্বেডকরও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সঠিক নীতির ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনও আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের উদ্দেশ্যেই আন্দোলন হওয়া উচিত। এদিন আনুমানিক দুই হাজার জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ভাগবত। ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুবসমাজের ভূমিকা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’’ শীর্ষকর্ষ এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ কেন

    সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তিতর্তি রোল মডেল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মোহন ভাগবত। সংঘ প্রধানের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই সমস্যার সমাধান নয়; বরং সমাজের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাই প্রকৃত পথ। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই আসল বিষয়। নিয়ম তৈরি করা এবং শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনর্ত না হলে শুধু আইন করে কোনও লাভ হবে না। সমাজই প্রকৃত আইন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি যুগে রোল মডেল পরিবর্তিত হয়। তবে যাঁদের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করেন, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যদি আমার দশ লক্ষ অনুসারী থাকে, তাহলে আমার দায়িত্ব তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত না করা। এটিই প্রকৃত প্রজ্ঞা।’’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার

    সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই যে কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। ড. ভাগবত বলেন, ‘‘নতুন যুগের এই মাধ্যম ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। শুধুজেন জি নয়, গোটা সমাজকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড়রা নিজেরা তা মেনে চললে তবেই তরুণ প্রজন্মও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।’’ সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু নিষিদ্ধ করলে তা কালোবাজারে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়। এর সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না।’’

  • Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    Tarun Tejpal: সেশনস কোর্টের রায় খারিজ! ২০১৩-র যৌন নির্যাতন মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, ১০ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে বড় মোড়। ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় প্রাক্তন ‘তেহেলকা’ সম্পাদক তরুণ তেজপালকে (Tarun Tejpal) ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ (Bombay High Court)। ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট যে খালাসের রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করে তেজপালকে (Tarun Tejpal) দোষী সাব্যস্ত করেছে হাই কোর্ট। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।

    কী অভিযোগ?

    ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় হোটেলের লিফটে পরপর দু’দিন এক তরুণী সহকর্মী সাংবাদিককে যৌন নির্যাতন করেন তিনি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

    সেশনস কোর্টে খালাস, হাইকোর্টে উল্টো রায়

    ২০২১ সালে গোয়ার সেশনস কোর্ট তেজপালকে বেকসুর খালাস দেয়। আদালতের মতে, অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রসিকিউশন তুলে ধরতে পারেনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব এবং অভিযোগকারিণী ও তেজপালের (Tarun Tejpal) মধ্যে হওয়া বার্তা আদান-প্রদানও সেই রায়ে গুরুত্ব পায়। এরপর ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টে যায় গোয়া সরকার। রাজ্যের দাবি ছিল, নিম্ন আদালত প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। সেই যুক্তি মেনে হাই কোর্ট খালাসের রায় বাতিল করে তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে। বৃহস্পতিবার আদালত তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে।

    কী বললেন তারুণ তেজপাল?

    রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal) বলেন, “আমরা অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যাব। তেহেলকা-র সাংবাদিকতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।” তবে এই দাবি আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    তদন্তকারী অফিসারের প্রতিক্রিয়া

    মামলার প্রাক্তন তদন্তকারী অফিসার সুনীতা সাওয়ান্ত বলেন, “সেশনস কোর্টের রায়ে গুরুতর ত্রুটি ছিল বলেই রাজ্য সরকার আপিল করেছিল।” হাই কোর্ট সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখে সেই রায়ে থাকা অসঙ্গতিগুলি চিহ্নিত করেছে বলেও তাঁর দাবি।

    নতুন অধ্যায়, শেষ নয় আইনি লড়াই

    দেশের অন্যতম আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টের এই রায় নিঃসন্দেহে বড় আইনি মোড়। তবে মামলার পর্দা এখনও নামেনি। সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)। ফলে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে নজর থাকবে।

  • Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS in Assam) ও সংঘ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১,৯১২ জন স্বয়ংসেবক ৩৭৮টি গ্রামের মোট ৪০,১৬৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও এবং জোরহাট জেলা। বন্যার জেরে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিভিন্ন জেলায় সহায়তা শিবির

    আরএসএসের (RSS in Assam) বিবৃতি অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বয়ংসেবকেরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শিবসাগর জেলার বেতবাড়ি এলাকার কাকতি গাঁও, ২ নম্বর কনওয়ার গাঁও, নেপালি খুঁটি, বিহুবার এবং চেতিয়া কৈবর্ত গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুন্দর পুখুরি, বামুন পুখুরি, গেলেকি এবং রাজাবাড়ি এলাকার দুর্গতদের রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জোরহাট জেলার এলেংমোরা, কাটিরাম চুক, কুলাই চুক, নালিয়া চুক, শেনচোয়া চুক এবং চারিঘোরিয়া চুক এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাল, চিনি, পোরিজ, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, বিস্কুট, লবণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আলু, পোশাক, বিছানাপত্র, মোমবাতি, সাবান, ফিটকিরি, ওষুধ এবং মশা প্রতিরোধক কয়েল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ৫০টিরও বেশি স্বাস্থ্য শিবির

    আরএসএস এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন (এনএমও)-এর সহযোগিতায় বন্যাকবলিত (Assam Floods) এলাকায় ৫০টিরও বেশি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দুর্গতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছেন। সংগঠনের দাবি, প্রথমদিকে ছোট নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। পরে প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তর অসম প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা দুর্গত পরিবারগুলিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি গবাদি পশুর জন্য খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং কৃষকদের ধান রোপণে সহায়তার কাজও চলছে। আরএসএস ও সেবা ভারতীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য।

LinkedIn
Share