Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

  • Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের (Jharkhand Protest) মূল দাবি, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে। সোমবার আন্দোলনকারীদের ‘বিধানসভা ঘেরাও’ অভিযানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রাঁচীর পথে ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদীরা এগোতে থাকেন বিধানসভার দিকে। পড়ুয়ারা পিছিয়ে যেতে অস্বীকার করলে পুলিশ একাধিক দফায় জলকামান ব্যবহার করে। এরপরও আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

    আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ

    ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকালে ট্রেন, বাস ও নিজস্ব গাড়িতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাঁচিতে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। প্রধান রাস্তা ও সীমানায় তল্লাশি চালানো হয়, বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগোলে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। অভিযানের জন্য পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরেই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাও চালায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই থেকে ধীরে ধীরে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন।

    বিজেপি নেতাদের আটক

    মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। বিধানসভা অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জমায়েত হন পড়ুয়ারা। মিছিল এগোতে শুরু করার পর পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাকের ঠিক আগের দিন, রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর তিন সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তদন্তের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি—সিবিআই তদন্ত। সেই দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। রবিবার রাঁচিতে আন্দোলনরত জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা হাতে ফ্ল্যাশলাইট মিছিল করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন।

    ইস্তফা ৩ জেপিএসসি সদস্যের

    রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। গত তিন দিন ধরে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার পর একাধিক দাবিতে সরকার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু। মন্ত্রী জানান, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, এই বিষয়ে দুটি দিক থেকে তদন্ত এগোনো হবে। অভিযোগের ফৌজদারি দিক খতিয়ে দেখবে সিআইডি। অন্যদিকে আর্থিক অনিয়ম বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইডি তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। সোনুর দাবি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তদন্তের উপর নজরদারি এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগের সমাধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    সিবিআই ছাড়া কোনও সমাধান নয়, বলছেন আন্দোলনকারীরা

    সরকারের ঘোষণায় একাধিক দাবি পূরণ হলেও সিবিআই তদন্তের দাবি না মানায় আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। এই দাবিতে আমরা কোনও আপস করব না।” জেপিএসসি-র তিন সদস্যের ইস্তফাকে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও শুধুমাত্র ইস্তফা দিয়ে দায়বদ্ধতা শেষ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারী অনিশ ফতিমার দাবি, কমিশনের ভিতরে অনিয়মের অভিযোগ যে গুরুতর, তিন সদস্যের পদত্যাগে তারই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর অভিযোগ, সিআইডি তদন্তে শুধু ছোট পর্যায়ের অভিযুক্তরা ধরা পড়তে পারেন, কিন্তু “বড় মাথাদের” সামনে আনতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন। আন্দোলনকারী অর্চনা কুমারীর কথায়, “শুধু পদত্যাগ করলেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। তাঁদের মেয়াদে যে ভুলের কারণে যোগ্য ও সৎ পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।”

    দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি

    ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যুবকদের তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তাঁদের ন্যায়বিচার দেওয়া হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে, আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (JLKM)-র বিধায়ক জয়ারাম মাহতো রাঁচিতে একদিনের অনশনে বসেন। তিনিও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মাহতো অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড শিক্ষামন্ত্রী নীরা যাদবও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের মূল সমস্যার সমাধান না করে সরকার তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি সিবিআই তদন্ত, ইডি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

  • Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ২০ জুলাই দিল্লিতে “সংসদ চলো” মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য (Parliament Address) রাখতে রাজি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তবে তাঁর বক্তব্য এবং পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন বিরোধীরা কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না—সরকারের পক্ষ থেকে এমনই শর্ত দেওয়া হয়েছে।

    সরকারের তরফে শর্ত (Parliament Address)

    সোমবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “সরকারের দেওয়া প্রস্তাব একেবারেই স্পষ্ট। আমি জানিয়েছি, ছাত্র আন্দোলন এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত।” সংসদের কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলে, তার ওপর জোর দিয়ে রিজিজু বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি বক্তব্য দেওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “বিরোধীদের কাছে আমার একটাই কথা, তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছি। আলোচনা এবং জবাব দেওয়ার সময় তাঁরা যেন কোনওধরনের বাধা সৃষ্টি না করেন, যাতে সংসদের কাজ ব্যাহত হয় বা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখতে না পারেন। আলোচনা শুরু হলে আমাদের বিষয়টি খুঁটিনাটি পর্যন্ত আলোচনা করতে হবে।”

    সংসদের কাজে বাধায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের শশীও!

    কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করার পরেই রিজিজুর এই মন্তব্য সামনে এল (Parliament Address)। ঘটনার তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে করার দাবি জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন যেসব ছাত্রছাত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ছররা বন্দুক, পেরেক বসানো লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের গোলা ব্যবহার করা হয়েছে। মহিলা ছাত্রছাত্রীদের পুলিশকর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, কয়েকজন নাবালকের হাড়ও ভেঙে গিয়েছে (Amit Shah)। ঘটনার পর থেকেই সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বিরোধীরা বারবার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্যকর্ম ব্যাহত করছেন। রবিবার কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদের কাজ চলতে দেওয়া উচিত। বিরোধী সাংসদদের সংসদের ভিতরে বিক্ষোভ না দেখিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি (Parliament Address)।

     

  • Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করল রায়পুর পুলিশ (Shivling Remarks)। ৭ অগস্ট রাতে বছর পঁচাত্তরের পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পুলিশের। অভিযোগ, হংসরাজ গোয়েল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ভগবান শিবকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন পান্নালাল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির মুখপাত্র অমিত চিনমানি সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও মন্তব্যের পর্দার ছবি এবং তার ঠিকানাও পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি। এর পর পান্নালাল এবং হংসরাজ গোয়েলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কাজ করা এবং শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে।

    বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পান্নালাল (Chhattisgarh)

    সিভিল লাইনস থানার পরিদর্শক যমন দেওয়াঙ্গন জানান, শুক্রবার রাতে পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার, ৮ অগাস্ট তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। দেওয়াঙ্গন বলেন, “শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।” পুলিশ কর্তা তারকেশ্বর পটেল জানান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজে সাইবার শাখা-সহ পুলিশের একাধিক দলকে কাজে লাগানো হয় (Chhattisgarh)। পটেল বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা একটি পোস্ট নিয়ে সিভিল লাইনস থানায় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয়। সাইবার শাখা এবং পুলিশের অন্যান্য দলের সহায়তায় তল্লাশি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Shivling Remarks)।”

    পুলিশি পদক্ষেপকে সমর্থন মুখ্যমন্ত্রীর

    পান্নালালের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব এবং শিবলিঙ্গকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সাই বলেন, “আমাদের সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Chhattisgarh)।” এদিকে মামলা দায়েরের পর রায়পুরে পান্নালালের বাড়ির বাইরে বজরং দলের একদল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

     

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তরফে অভিযুক্ত উমর খালিদকে (Umar Khalid) নিয়ে একটি বই আলোচনা সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ ১০ অগাস্ট বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে (ABVP) অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

    খালিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (ABVP)

    খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে নানা সময় তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। জেএনইউয়ের এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে খালিদের বইকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে একটি ইতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরেই সংগঠনটি এ ব্যাপারে সরব হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুষ্ঠানটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিও জানানো হয়।

    এবিভিপির প্রতিবাদ

    এবিভিপির পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপ তৈরির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। একইসঙ্গে, গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও নিন্দা করেছে তারা। এবিভিপি (ABVP) জেএনইউয়ের সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, “গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার মঞ্চ জেএনইউ চত্বর হতে পারে না। আমরা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবিভিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জয়।”

    দেশবিরোধী মানসিকতার প্রতিবাদ

    এবিভিপির জেএনইউয়ের সম্পাদক প্রবীণ পীযূষ বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার পক্ষে এবিভিপি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলার যে কোনও প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করব। এবিভিপি জেএনইউ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাতিল হয়েছে।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি (Umar Khalid) করা হয়, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে অনুমতি নেওয়া (ABVP) হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আদিবাসী দিবস’ পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

     

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট

    বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

    ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।

    ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে

    বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ১৬ অগাস্টের মধ্যে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই (LPG e-KYC) সম্পূর্ণ না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার (LPG Cylinder) কেনার সুযোগ হারাতে পারেন গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদেরও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে কলকাতায় বর্তমানে ৯৬৮ টাকায় পাওয়া ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হতে পারে অনেক বেশি টাকা।

    ১৬ অগাস্টের মধ্যেই পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করার জন্য সতর্ক করছে। জানানো হয়েছে, ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার অধিকার থাকবে না। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বন্ধ থাকতে পারে। বাড়িতে বসেই এই পরিচয় যাচাই করা যাবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে অথবা বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই করানো যাবে।

    কলকাতায় এখন ৯৬৮ টাকা ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার

    বর্তমানে কলকাতায় (Kolkata) ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৯৬৮ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে এই ঘরোয়া দাম আর প্রযোজ্য হবে না বলেই জানানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী সংগঠনের সহ-সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকরা নিশ্চিতভাবেই নির্ধারিত ঘরোয়া দামে সিলিন্ডার পাবেন না। ফলে তাঁদের বেশি দাম দিতে হতে পারে।

    ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা

    শুধু সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিচয় যাচাই না করলে রান্নার গ্যাসের (LPG Cylinder) ভর্তুকিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বর্তমানে ভর্তুকি পান, তাঁদের ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করা জরুরি। কলকাতায় বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতি ঘরোয়া সিলিন্ডারে ভর্তুকির পরিমাণ ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অন্যদিকে, উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে আর্থিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

    কত টাকা লাগতে পারে?

    কলকাতায় বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তেল সংস্থাগুলি যদি পরিচয় যাচাই না করা ঘরোয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক হারে দাম নেয়, তাহলে ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। যদিও পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের জন্য ঠিক কত দাম নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

    কতজনের পরিচয় যাচাই হয়েছে?

    তেল সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা-সহ মোট প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাহক আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করেছেন। অর্থাৎ, এখনও একটি বড় অংশের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই বাকি রয়েছে।

    কীভাবে করবেন পরিচয় যাচাই?

    গ্রাহকরা তিনভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন- বাড়িতে বসে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে। নিজের গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে। সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় বা সমস্যার আশঙ্কা এড়াতে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    শেষ তারিখের আগে কাজ না সারলেই বাড়তে পারে খরচ

    অর্থাৎ, রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য এখন সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৬ অগাস্টের পর আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই না করা থাকলে ৯৬৮ টাকার ঘরোয়া সিলিন্ডার আর সেই দামে নাও মিলতে পারে। ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভর্তুকিও। বাণিজ্যিক হারে দাম নেওয়া হলে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের খরচ ২ হাজার টাকার গণ্ডিও পেরিয়ে যেতে পারে। তাই শেষ দিনের অপেক্ষা না করে এখনই আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করুন, নইলে রান্নার গ্যাসের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে।

LinkedIn
Share