Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand FTA)। দুই দেশই চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এবং নিউজিল্যান্ডে ভারতের হাইকমিশনার মুআনপুই সাইয়াওই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পথে শেষ প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “দুই দেশের জন্যই বিজয়। ২০ অক্টোবর ২০২৬, বিজয়া দশমীর দিন থেকে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হচ্ছে (Vijay Dashami)।”

    চুক্তি সই হয়েছিল এপ্রিলে (India New Zealand FTA)

    গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে আমদানি করা ১০০ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক তুলে নেবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। বস্ত্র ও পোশাক, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রত্ন ও গয়না, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা, কফি এবং মশলার মতো একাধিক ভারতীয় পণ্য এর আওতায় আসবে।

    অন্যদিকে, ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে বর্তমান আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশের উপর শুল্ক তুলে নেবে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫৭ শতাংশ রফতানি ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ভেড়ার মাংস, উল, কয়লা এবং বনজ ও কাঠজাত পণ্য।

    ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আরও এক দফা শুল্ক হ্রাসের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের জন্য ভারতের বাজারে নির্বাচিত কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক কোটা ব্যবস্থাও থাকবে। আপেল, কিউই এবং অ্যালবুমিনের মতো পণ্য এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে ভারতের দুগ্ধশিল্পের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে।

    বাড়বে সুবিধার পরিসর

    শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, চুক্তিতে পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানুষের যাতায়াত সংক্রান্ত ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে রফতানিকারী, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ম ও বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিশ্চয়তা তৈরি হবে (India New Zealand FTA)।

    দুই দেশের সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা। নিউজিল্যান্ডের ব্যবসাগুলি এর মাধ্যমে ভারতের বিরাট বাজারে আরও বেশি সুযোগ পাবে। একইভাবে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে বিস্তৃত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন (Vijay Dashami)।

    সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ২০২৫ সালের মার্চে নতুন করে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ হয় এবং ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের সংসদ চুক্তিটি কার্যকর করার প্রয়োজনীয় আইন অনুমোদন করে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করে (India New Zealand FTA) দুই দেশ।

     

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে ভাড়া বাড়িতে প্রার্থনা সভায় ধর্মান্তকরণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে ভাড়া বাড়িতে প্রার্থনা সভায় ধর্মান্তকরণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সিধি জেলায় একটি ভাড়া বাড়িতে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রার্থনা সভাকে (Bajrang Dal) কেন্দ্র করে ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বাহরি থানার পুলিশ। বাড়িটি থেকে এক ডজনেরও বেশি প্রার্থনার বই, খাম এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বাহরি থানার অন্তর্গত বাইপাস এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ঘরে ওই প্রার্থনা সভা চলছিল বলে অভিযোগ। বজরং দলের কর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। তাঁদের অভিযোগ, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে, এমনকি কয়েকজন স্কুলপড়ুয়াকেও ওই সভায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। তাঁদের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।

    পুলিশের বক্তব্য (Madhya Pradesh)

    বাহরি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজেশ পাণ্ডে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ রাজেন্দ্র বাহাদুর সিং, রাজপতি সিং এবং গিবসন থমাসকে গ্রেফতার করে। তিনজনকেই আদালতে পেশ করা হলে পাঠানো হয় জেল হেফাজতে। পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রার্থনা সভাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র প্রার্থনার জন্য এসেছিলেন, নাকি তাঁদের ধর্মান্তরের জন্য কোনও ধরনের চাপ, প্রলোভন বা প্রভাব খাটানো হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Madhya Pradesh)।

    বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষকে আমন্ত্রণের অভিযোগ

    বজরং দলের কর্মীদের দাবি, আশপাশের একাধিক গ্রাম থেকে মানুষকে ওই প্রার্থনা সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আদিবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ছিলেন। কয়েকজন আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং পরে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, আর্থিক সাহায্য, রোগ নিরাময় এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ধর্ম পরিবর্তনে উৎসাহিত করা হচ্ছিল। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মান্তর সংক্রান্ত এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

    ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে নজর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিধি জেলার গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় পরিচালিত ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের ধর্মান্তরের জন্য জোর (Bajrang Dal) করা হয়েছিল কি না, কিংবা কোনও প্রলোভন দেখানো হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় (Madhya Pradesh)।

     

  • Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, পরিবর্তন শুরু হোক ঘর থেকেই”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক।” এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। তাঁর বক্তব্য, আইন বা শুধুমাত্র বক্তৃতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ব্যক্তিগত আচরণ ও পরিবার থেকেই (Harmony)।

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার ভোপালের রেড প্যারেড ময়দানে আয়োজিত হয় বিরাট স্বয়ংসেবক সমাবেশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও, একাধিক প্রতিবেদনে প্রায় ৩০ হাজার স্বয়ংসেবকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন হোসাবলে। সামাজিক সম্প্রীতি, সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পারিবারিক মূল্যবোধ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্য—সঙ্ঘের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ ভাবনার বিভিন্ন দিকও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

    আত্মসমীক্ষার বার্তা (Dattatreya Hosabale)

    হোসাবলে বলেন, জন্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হিন্দু সংস্কৃতির অংশ নয়। জাতি, সম্প্রদায়, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভাজন সমাজের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিভেদের নামে দুর্ব্যবহার এবং অস্পৃশ্যতার অবসান ঘটাতে হলে প্রত্যেককে নিজের আচরণের দিকে নজর দিতে হবে।তিনি বলেন, “জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা হিন্দু সমাজের কলঙ্ক। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে হবে।” হোসাবলের বক্তব্যে সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নটি শুধু বাইরের সমালোচনার জবাব দেওয়ার বিষয় হিসেবে নয়, সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার বিষয় হিসেবেও উঠে আসে। জন্মের কারণে কাউকে নিকৃষ্ট মনে করা, কোনও পেশা বা শ্রমকে ছোট করে দেখা কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দূর করার উপর জোর দেন তিনি। ভারতের সাধক-সন্তদের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত রবিদাস, কবীর, তুকারাম, নারায়ণ গুরুর মতো ব্যক্তিত্বদের ভাবনায় সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বারবার মানুষের মধ্যে সমতার চেতনা জাগানোর কথা উঠে এসেছে। সন্ত রবিদাসের ‘বেগমপুরা’ ধারণাকেও বৈষম্য, ভয় ও সামাজিক স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

    বিভাজনের বদলে ভ্রাতৃত্বের উপর জোর

    সামাজিক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে সঙ্ঘের বক্তব্যে বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সমস্ত হিন্দু পরস্পরের ভাই-বোন—এই ভাবনাকেও সামাজিক ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই দৃষ্টিভঙ্গিতে হিন্দুত্বকে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয় বা উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সভ্যতাগত সংযোগের ধারণা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। সঙ্ঘের বক্তব্য, সমাজের শক্তি শুধু মানুষের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না; পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সংহতিও তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    সমাজের মধ্যে কাজ করার আহ্বান

    হোসাবলের বক্তব্যে স্বয়ংসেবকের সামাজিক ভূমিকার উপরও জোর দেওয়া হয়। দেশপ্রেমকে শুধু স্লোগান বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজসেবা ও কর্তব্যবোধের মাধ্যমে তা প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়।

    সমাজে দারিদ্র্য থাকলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কোনও শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে তাকে সাহায্য করা, কোনও পরিবার সংকটে পড়লে সহযোগিতা করা কিংবা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে অংশ নেওয়ার মতো কাজকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    এই সূত্রেই ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র অধীনে সামাজিক (Dattatreya Hosabale) সম্প্রীতি, পরিবার সচেতনতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আত্মসচেতনতা ও নাগরিক কর্তব্যকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচিতে এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    শ্রমের মর্যাদাই সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম ভিত্তি

    সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে শ্রমের মর্যাদাকেও যুক্ত করা হয়েছে। ভোপালে সন্ত রবিদাস জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শ্রম সাধক সঙ্গমে’র প্রসঙ্গেও হোসাবলে শ্রমের মর্যাদা ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের কথা তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোনও ব্যক্তির পেশার কারণে তাঁকে নিকৃষ্ট মনে করার প্রবণতার বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কৃষক, কারিগর, শ্রমিক, সেনাকর্মী, শিক্ষক কিংবা বিজ্ঞানী—প্রত্যেকের শ্রমই সমাজ ও দেশ গঠনে পৃথক ভূমিকা (Harmony) পালন করে।

    সামাজিক সম্প্রীতি তাই কেবল একসঙ্গে বসা বা আনুষ্ঠানিক মিলন নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে একে অপরকে গ্রহণ করার মানসিকতাও তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    দেশপ্রেমের অর্থ

    দেশপ্রেমকে শুধু পতাকা, গান বা স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করাকে দেশপ্রেমের বাস্তব প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে স্বয়ংসেবকের কাছে একটি আত্মসমীক্ষার প্রশ্নও উঠে আসে—দেশের জন্য তিনি কী বলেছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, দেশের জন্য তিনি কী করেছেন।

    তাঁর কাজের ফলে সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি কতটা বৃদ্ধি পেল, সেই প্রশ্নও বিবেচনার বিষয় বলে তুলে ধরা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করার বার্তা

    হোসাবলের বক্তব্যে জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণার বিরোধিতা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও জাতিকে নিকৃষ্ট বা হীন মনে করার মানসিকতাকেও সমানভাবে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মন্দির থেকে পাড়া, গ্রাম থেকে মহানগর এবং শ্রমজীবী থেকে বিদ্বান—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যেন সমানভাবে নিজেদের এই বৃহত্তর সামাজিক পরিসরের অংশ বলে মনে করেন (Dattatreya Hosabale), সেই প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    এই দৃষ্টিতে সামাজিক সম্প্রীতি শুধুমাত্র কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়; বৃহত্তর সামাজিক প্রয়োজন হিসেবেও বিষয়টি সামনে আসে।

    সমাজসেবা থেকে সংগঠন, সংগঠন থেকে জাতীয় শক্তি

    সঙ্ঘের শতবর্ষের কর্মসূচির প্রেক্ষিতে সমাজসেবা, সামাজিক সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমকে পরস্পর সম্পর্কিত মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। শৃঙ্খলা, সততা, দেশপ্রেম ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকদের সমাজের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও সংগঠনের বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    একটি সংগঠনের সামাজিক ভূমিকা শেষ পর্যন্ত সমাজে তার বাস্তব অবদানের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়—এই ধারণাকেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে (Harmony)।

    “প্রথমে নিজেদের সমাজকে শক্তিশালী করতে হবে”

    ভোপালের বক্তব্যকে বৃহত্তর অর্থে হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরে আত্মসমীক্ষার আহ্বান হিসেবেও দেখা যেতে পারে। জাতিগত অহংকার থেকে বেরিয়ে আসা, অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক কুপ্রথা দূর করা, শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পরিবারকে মূল্যবোধ ও সংস্কারের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক দায়িত্বকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই ধারার মূল বক্তব্য হল, সমাজের কোনও মানুষ যেন নিজের সমাজেই নিজেকে বহিরাগত বলে মনে না করেন।

    হিন্দুত্বকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের ধারণা হিসেবে দেখা (Dattatreya Hosabale) হলে, সেই ধারণার বাস্তব প্রকাশ কীভাবে ঘটবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় আসে। জাতিগত পরিচয়ের আগে মানুষের মানবিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া, সামাজিক দূরত্ব কমানো এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বাড়ানোকে তার একটি সম্ভাব্য প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    হোসাবলের ভোপাল-বার্তার সারকথা হল, জাতিভেদের ঊর্ধ্বে সম্প্রীতি, বিভাজনের ঊর্ধ্বে ভ্রাতৃত্ব, অধিকারবোধের ঊর্ধ্বে কর্তব্য এবং শুধু চিন্তার বদলে সমাজসেবায় সক্রিয় অংশগ্রহণ। তাঁর বক্তব্য, বৈচিত্র্যকে বিভাজনের কারণ না করে (Harmony) সম্মিলিত শক্তি ও সভ্যতাগত ঐক্যের ভিত্তিতে পরিণত করাই সামাজিক সংহতির অন্যতম লক্ষ্য (Dattatreya Hosabale)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, প্রকাশ্যে একাধিক ঘটনা

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, প্রকাশ্যে একাধিক ঘটনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মীয় (Hindus Under Attack) প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, হিংসা ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই সময়কালের ঘটনাগুলিকে ঘিরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Weekly Roundup) এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে থাকা অভিযোগগুলির সবক’টির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    বিনায়ক চতুর্থীর আয়োজন নিয়ে বিতর্ক (Hindus Under Attack)

    তামিলনাড়ুতে বিনায়ক চতুর্থী উপলক্ষে মূর্তি স্থাপন ও উৎসব আয়োজনের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এ বছরও বিভিন্ন জায়গায় অনুমতি এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। তবে সরকারি নির্দেশিকায় পরিবেশ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় মূর্তি বিসর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার মাটি দিয়ে তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব মূর্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশাসন নির্ধারিত জায়গায় বিসর্জনের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মূর্তি আটক করা হয়েছে।

    খাবারের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতে একটি বিরিয়ানি দোকানের বিজ্ঞাপনী ব্যানারে ভগবান গণেশকে বিরিয়ানি খেতে দেখা যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দোকানের মালিককে গ্রেফতার করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা সামনে আসে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেরলে বিষু উৎসবের সময় কয়েকটি রেস্তরাঁর বিজ্ঞাপনে শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে মুরগির মাংস, বিরিয়ানি-সহ আমিষ খাবারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি

    চেন্নাইয়ের নুঙ্গামবাক্কমে অবস্থিত অখিলাণ্ডেশ্বরী সমেত অঘতীশ্বরের মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি তুলেছেন কয়েকজন ভক্ত এবং জাতীয় হিন্দু মন্দির ফেডারেশন (Hindus Under Attack)। ভক্তদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে মন্দিরের বিপুল পরিমাণ জমি ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়েছে।

    ফেডারেশনের দাবি, প্রায় ৪১৫ গ্রাউন্ড জমি উদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে এবং মোট ৪৫০-এর বেশি গ্রাউন্ড জমি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক গ্রাউন্ড জমি ২,৪০০ বর্গফুটের সমান। প্রতিবেদনে প্রাক্তন ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা থাকার অভিযোগও করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    গুলিতে জখম ১

    মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জ কৃষি বাজারের কাছে শ্রমিকদের কাজের তদারকির দায়িত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, আমির মাভিয়া নামে এক ব্যক্তি বিক্রম আহিরওয়ার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেন। আহত বিক্রমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদিশায় পাঠানো হয়।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জনেশ্বর মিশ্র পার্কের কাছে এক মহিলাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে শাহনওয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহিলা গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এরপর গাড়িটি চলতে শুরু করলে তিনি গাড়ির বনেটে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল ও অন্যান্য হিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। তাদের হিসাবে, এর মধ্যে ৪৪টি মৃত্যুর ঘটনা, উপাসনালয়ে ৬২টি হামলা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৪৭টি হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে যুবক আটক

    নীলফামারীর বছর বাইশের হিন্দু যুবক দেবাশিস রায়কে আটক করেছে রংপুরের পুলিশ। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করায় আটক করা হয়েছে তাঁকে। শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর জুম্মার নমাজের পর স্থানীয় মুসলিম তৌহিদ জনতার ব্যানারে একটি মিছিল ও সমাবেশ হয় এবং দেবাশিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তার পরেই আটক করা হয় (Weekly Roundup) তাঁকে। হিন্দুদের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদপ্রতিবেদনে তাঁর একটি পূর্বাভাস উদ্ধৃত করা হয়েছে যে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা অত্যন্ত কমে যেতে পারে, এমনকি শূন্যের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারে (Hindus Under Attack)।

    ধর্মীয় বৈষম্য ও উৎসব নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষের পাশাপাশি আইন, প্রশাসন ও সামাজিক পরিসরে সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুদের জন্য সমস্যার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দীপাবলিতে বাজি ব্যবহারে বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে বাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ক্ষেত্রে পরিবেশদূষণ, বায়ুর গুণমান এবং জনস্বাস্থ্যের মতো কারণও সরকারি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোনও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নির্দেশিকা এবং তার প্রয়োগের ধরন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের বিনায়ক চতুর্থী নির্দেশিকাতেও (Weekly Roundup) পরিবেশ সুরক্ষাকে বিধিনিষেধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কান্নুর জেলার উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত এঝিমালা ভারতীয় নৌ অ্যাকাডেমির ভিতর থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে নতুন করে নজর পড়েছে (Kerala Police)। ৩২ বছরের বিপ্লব সোরেন নামে ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে নৌ অ্যাকাডেমির ধোপাখানায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে (Bangladeshi National) কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন করতে তিনি আধার কার্ড এবং পুলিশের ছাড়পত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    এঝিমালার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ঠিক এক দিন আগে কান্নুর পুলিশ জেলায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই থাকা ও কাজ করার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কান্নুর রেলস্টেশনের কাছে একটি স্পা থেকে সালিনা আক্তারকে আটক করার মধ্যে দিয়ে ওই অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও চার মহিলার সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁরা হলেন নাজমা আখতার, কে তসলিমা, কে মইনা এবং নাসরিন বিবি। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতেন।

    তদন্তকারীদের হাতে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র, যার মধ্যে আধার কার্ডও রয়েছে, উদ্ধার হয়েছে। পরিচয়পত্র তৈরি, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, গুয়াহাটি, মুম্বই, কর্নাটক এবং কেরলের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জাল পরিচয়পত্রের জন্য একটি আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জুন থেকেই শুরু ধরপাকড় (Kerala Police)

    কেরলে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছিল জুন মাসে। ৮ জুন কোল্লাম জেলার কুলশেখরপুরম থেকে মুমতাজ বেগম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করে দেওয়ার একটি চক্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে (Kerala Police)।

    তদন্তে তাঁর নামে কেরলের ঠিকানা-সহ রেশন কার্ডের সন্ধান পাওয়া যায় বলে সেই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। কয়েকটি অক্ষয় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা নজর দিয়েছিলেন। ওই সময়ের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখা মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল এবং কীভাবে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের কেরলে এনে বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল ও ভারতীয় নথি দেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

    এরপর ২৪ জুন কোল্লামের একটি ইসলামি মাদ্রাসা থেকে ১৯ বছরের মোশিউর খান ওরফে আমান খানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রবেশের নথি ছাড়াই তিনি করুণাগাপল্লির পুথেনথেরুভু মুসলিম জামাত মসজিদের অধীন শরিয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসায় থাকছিলেন ও পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং স্থানীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে।

    ২৫ জুন কেরল পুলিশ, বিশেষ শাখা, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে কোচির কাছে ত্রিপুনিথুরার এরুর এলাকায় দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম মেইদি হাসান, মহম্মদ আসিম, তারেক, সোখির, মহম্মদ সোহেল এবং মহম্মদ মিজান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁরা পুরনো লোহালক্কড় ও বাতিল সামগ্রী সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁদের কাছে ভারতে থাকার প্রয়োজনীয় নথি বা বৈধ অনুমতি ছিল না বলে অভিযোগ।

    জুলাইতেও অব্যাহত অভিযান

    ১ জুলাই কোঝিকোড় থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—মহম্মদ উলা, মহম্মদ মাফদি হাসান এবং মহম্মদ হাসান আলি—গ্রেফতার হন বলে রিপোর্টে জানানো হয়। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তাঁরা ভারতে ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জাল পরিচয়পত্র, মুঠোফোনের সিম কার্ড এবং স্থানীয় যোগাযোগের সূত্র নিয়ে তদন্ত করা হয় বলে জানা যায়।

    এরপর ২৯ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোঝিকোড়ের মাভুরের কায়ালম বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক, মহম্মদ হাসানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযানে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে যায় বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

    এই গ্রেফতারিগুলিকে রাজ্যজুড়ে চলা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখার সাম্প্রতিক অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    একই ধরনের নথি ও যোগাযোগের সূত্র

    এখন পর্যন্ত সামনে আসা ঘটনাগুলিতে কয়েকটি মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জাল আধার ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র, ভাড়া বাড়িতে থাকা, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া, স্থানীয় যোগাযোগ এবং নথি জোগাড় করে দেওয়ার কথিত চক্র—এই বৈশিষ্ট্যগুলি একাধিক মামলায় উঠে এসেছে।

    ফলে বিভিন্ন জেলা ও পেশায় নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত ও বসবাসে সহায়তা করার জন্য কোনও সংগঠিত ব্যবস্থা বা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের পরিধি ও প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।

    কোচিন শিপইয়ার্ডের ঘটনাতেও নিরাপত্তা প্রশ্ন

    এর মধ্যে কেরলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও একটি পৃথক ঘটনা সামনে আসে। ১২ জুন কোচিন শিপইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকা একটি জাহাজের ভিতরের দেওয়ালে ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে “আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি” লেখা পাওয়া যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর কোচি সিটি পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

    যে অংশে জাহাজটি রাখা হয়েছিল, সেখানে নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। জাহাজে কারা প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের নথি এবং কর্মীদের উপস্থিতির রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়। তবে তদন্তকারীরা ওই ঘটনাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত করেননি।

    নজরে এবার কান্নুর

    কোল্লাম, কোচি, কোঝিকোড় এবং কান্নুর—একাধিক জেলায় চলা অভিযানের পর বিষয়টি কোনও একটি এলাকা বা নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরনো লোহালক্কড় সংগ্রহের কর্মী, ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা, মাদ্রাসার ছাত্র, স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের কর্মী এবং সর্বশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীও রয়েছেন।

    এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমির ঘটনায় এখন তদন্তের মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে—বিপ্লব সোরেন কীভাবে জাল নথি সংগ্রহ করলেন, কে তাঁকে চাকরি পেতে সহায়তা করেছিল এবং কীভাবে প্রায় এক বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাঁর কর্মরত থাকা শনাক্ত হয়নি। তাঁর ভারতে অবস্থানের সময়কাল এবং এই ঘটনায় বৃহত্তর কোনও নিরাপত্তাজনিত যোগসূত্র রয়েছে (Bangladeshi National) কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কান্নুরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারের পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আরও কোনও নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ নজরদারি (Kerala Police) ও নথি পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে বলেও খবর।

     

  • Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ অশোক ভিখে পাটিলের মেয়ে নীলা ভিখে পাটিল (Nila Vikhe Patil) সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে স্টকহোম সিটি কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (Sweden Parliament)। ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বছর একচল্লিশের নীলা ৩৪৯ সদস্যের সুইডিশ সংসদে প্রবেশ করেছেন। সুইডেনের সংসদের সরকারি তথ্যেও তাঁকে স্টকহোম সিটি কেন্দ্রের গ্রিন পার্টির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নির্বাচনে জয়ের পর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে নীলা বলেন, “৩৪৯ সদস্যের সংসদের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। শহর ও দেশের জন্য অবদান রাখার অপেক্ষায় আছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভোট দিতে পারেন না, তাঁদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের এমন একটি বাসযোগ্য গ্রহ দরকার, যেখানে থাকবে বিশুদ্ধ জল, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের কারণে যতটা সম্ভব কম প্রাকৃতিক বিপর্যয়।”

    নীলা এশিয়ার প্রথম সমবায় চিনি কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ভিতলরাও ভিখে পাটিলের প্রপৌত্রী এবং প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালাসাহেব ভিখে পাটিলের নাতনি। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিখে পাটিল তাঁর কাকা।

    দাদার কথা স্মরণ করে নীলা বলেন, “আমি আশা করি, আমার দাদা আমাকে নিয়ে গর্বিত হবেন। আমি যখন ১৫ বছরের, তখন তিনি আমাকে রাজ্যের বাজেট পড়তে দিয়েছিলেন।”

    মহারাষ্ট্রে কেটেছে শৈশব (Nila Vikhe Patil)

    নীলার জন্ম সুইডেনে। তবে শৈশবের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে কাটিয়েছেন। পরে সুইডেনেই তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন গড়ে ওঠে।

    শিক্ষাজীবনে তিনি গোথেনবার্গ স্কুল অব বিজনেস থেকে অর্থনীতি ও আইন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাদ্রিদের কমপ্লুতেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও কাজ করেছেন

    সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন নীলা। সেখানে অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও আবাসন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দায়িত্ব ছিল।

    এর আগে তিনি স্টকহোমের নগর পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিন পার্টির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। বর্তমানে তিনি (Nila Vikhe Patil) স্টকহোম গ্রিন পার্টির নির্বাচন কমিটির সদস্য।

    মহারাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বড় পরিসরের শৃঙ্খল পরিচালনাকারী ভিখে পাটিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অশোক ভিখে পাটিল মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে নীলা বলেন, “আমি ভারতকে খুব ভালোবাসি এবং ভারতের সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত মনে করি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ভারতীয় বন্ধু রয়েছেন।”

    দাদার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নীলা বলেন, “আমি আমার দাদাকে খুব মিস করি। তাঁর জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমাকে ফোন করতেন।”

    সুইডেনের নির্বাচনে বিরোধীদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা

    ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সুইডেনের চারটি বিরোধী দল মিলিয়ে ৩৪৯ আসনের সংসদে ১৭৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিদায়ী রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে গঠন বা সমর্থন করা চারটি দল পেয়েছে ১৭৩টি আসন।

    এই বিরোধী জোটের অন্যতম দল গ্রিন পার্টি পরিবেশ সংরক্ষণ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। নীলা প্রায় ২৫ বছর ধরে গ্রিন পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

    ২০১৬ সালেও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নীলার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় তাঁর দায়িত্বের মধ্যে করব্যবস্থা, লিঙ্গনীতি ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল।

    ২০২০ সাল থেকে নীলা আন্তর্জাতিক পেশাদারি পরিষেবা সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সে কাজ করছেন। সেখানে কৌশল, ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও ঝুঁকি-সংক্রান্ত পরামর্শ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (Sweden Parliament) তিনি। সুইডিশ সংসদের সরকারি প্রোফাইলেও গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে (Nila Vikhe Patil)।

     

  • PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে ভিডিও সম্মেলনে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল (Rozgar Mela)।

    মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, নিয়োগপত্র পাওয়া তরুণদের জন্য এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁদের সাফল্যের পিছনে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ত্যাগও রয়েছে।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সহকর্মী যুবসমাজ এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় তরুণদের প্রতিভা ও দক্ষতার উপর বিশ্বের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক সুযোগের উপর জোর (PM Modi)

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র সরকার-থেকে-সরকারের সম্পর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। এর পরিবর্তে উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও আন্তর্জাতিক অংশীদারির সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে ব্রিকস সংযোগ এবং ব্রিকস ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ সহযোগিতা পোর্টালের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পেতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন বাজার ও অংশীদারির দরজা খুলছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে (Rozgar Mela)।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে জোর

    পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি, দক্ষতা ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি।

    সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন মোদি। এই প্রকল্পে ১,০০০টি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তিত অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য (PM Modi)।

    বড় শহরের বাইরে ছড়াচ্ছে নতুন উদ্যোগ

    ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নতুন উদ্যোগ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগের বিস্তার আর শুধু বড় মহানগরগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্বীকৃত নতুন উদ্যোগগুলির প্রায় অর্ধেকই এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে রয়েছে।

    গ্রাম, ছোট শহর ও মফস্‌সলের তরুণরা নিজেদের নতুন ভাবনা নিয়ে সংস্থা তৈরি করছেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

    বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান যোজনার কথা উল্লেখ করেন। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা।

    প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগদাতাদেরও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোদি বলেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নকারী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা

    নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসনিক সংস্কারকে ধারাবাহিক রাখার আহ্বান জানান মোদি। কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সরল করা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার এবং নতুন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে সহজতর করা। তাঁর কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন কর্মীদের, তাঁদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের যুবকদের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় (Rozgar Mela)।

    শিক্ষার উপর গুরুত্ব

    পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মযোগী কাঠামোর মাধ্যমে আজীবন শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কর্মযোগী প্রারম্ভ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মোদি। পাশাপাশি, ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই আইগট কর্মযোগী মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি (PM Modi)।

    নাগরিকের পরিষেবাই জাতীয় পরিষেবা

    প্রশাসনে জনআস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের পেনশন, পড়ুয়াদের বৃত্তি কিংবা কৃষকদের ভর্তুকির মতো সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।

    সরকারি কর্মীদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতার উপর নাগরিকের সরকারের প্রতি অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ভাষণের শেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের “নাগরিক দেবো ভব” নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকের সেবাকে জাতীয় সেবার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কাজ যখন কোনও নাগরিকের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে, তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে (Rozgar Mela)।”

    ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় মোট প্রায় ১২.৭৫ লাখ যুবক-যুবতী নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে (PM Modi)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের হামলার (Houthi Attacks) তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লি (India) জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাও এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে।

    ১৮ সেপ্টেম্বর বিদেশমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনায় ভারতের নিন্দার কথাও জানান তিনি।

    উদ্বেগ প্রকাশ জয়সওয়ালের (India)

    জয়সওয়াল বলেন, “লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো-সহ সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলার আমরা নিন্দা জানিয়েছি। পবিত্র শহর মক্কায় হামলার চেষ্টার পরে আমরা যে বিবৃতি দিয়েছিলাম, সেটিও আপনারা দেখেছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে বা দুর্বল করে এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি তৈরি করে। বিভিন্ন কারণেই বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

    মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায় উদ্বেগ

    লাল সাগর অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানান, ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে “শত্রুতামূলক ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেন এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাকে “লাল রেখা” বলে উল্লেখ করেন।

    ১৬ সেপ্টেম্বর ভারত ওই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোকে বিপন্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে ভারত। মক্কার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    সৌদি আরবের দাবি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগকে “মনগড়া কথা ও মিথ্যা” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হুথিদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলি পবিত্র স্থানগুলি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।

    পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সংঘাত

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলির মধ্যে লড়াই বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা রেড সি উপকূলের কৌশলগতভাবে (India) গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সৌদি আরবের তেল রফতানি নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বাব আল-মান্দাব। রেড সি ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে।

    সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল আমেরিকা

    এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আমেরিকাও সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার বিদেশ দফতর সৌদি আরবের জন্য তৃতীয় স্তরের “ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন” সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ চতুর্থ স্তরের “ভ্রমণ করবেন না” সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে (India)।

    আমেরিকার সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত স্থানীয় আইনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে (Houthi Attacks)।

    সব মিলিয়ে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের গুরুত্বের কথা (India)।

     

  • DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও জয় পেয়েছে এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। সংগঠনের দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়, শ্রী অরবিন্দ (ABVP) কলেজের প্রাতঃকালীন শাখা, ভারতী কলেজ, শিবাজি কলেজ-সহ একাধিক (DUSU Election 2026) কলেজে তাদের প্রার্থীরা সবক’টি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন।

    এবিভিপির দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়ে সবক’টি পদেই জয় পেয়েছে তাদের প্যানেল। শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রাতঃকালীন শাখায় ৬টি পদেই জয় পেয়ে ৬-০ ফল করেছে তারা। ভারতী কলেজে ৮টি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। শিবাজি কলেজেও ৬-০ ব্যবধানে সবক’টি পদ দখল করেছে এবিভিপি।

    ড. ভীমরাও আম্বেদকর কলেজে চারটি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কেশব মহাবিদ্যালয়ে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সম্পাদক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় এসেছে বলে সংগঠনের দাবি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কলেজে সভাপতি ও সম্পাদক পদে জয় পাওয়ার পাশাপাশি দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদেও এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

    শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সেও সভাপতি, সম্পাদক এবং দুই কাউন্সিলর-সহ সবক’টি পদে এবিভিপি প্রার্থীদের জয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগেও সভাপতি, মন্ত্রী এবং দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদে এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।

    ডুসুতে চার পদেই জয়ের প্রত্যাশা (DUSU Elections 2026)

    কলেজগুলির নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের ভিত্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় প্যানেলেও পড়ুয়াদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবিভিপি। সভাপতি পদে যশ ডাবাস, সহ-সভাপতি পদে ইশু মৌর্য, সম্পাদক পদে রিয়া ছাবড়ি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে লক্ষ্যরাজ সিংকে প্রার্থী করেছে সংগঠনটি।

    এবিভিপির বক্তব্য, কলেজগুলির নির্বাচনে যেমন তাদের প্রার্থীরা সমর্থন পেয়েছেন, তেমনই ডুসুর চারটি পদেও পড়ুয়ারা তাদের প্যানেলের উপর আস্থা রাখবেন। সংগঠনটি চারটি পদেই জয়কে ৪-০ ব্যবধানে ‘ক্লিন সুইপ’ হিসেবে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।

    তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক গণনায় বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। ভোটের দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল (DUSU Election 2026)।

    ভুয়ো পরিচয়পত্র ও বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র নিয়ে অভিযোগ

    নির্বাচন চলাকালীন এনএসইউআই-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, দয়াল সিং কলেজে এবিভিপির নাম ও প্যানেল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া প্রচারপত্র বিলি করার অভিযোগে দু’জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও এক ব্যক্তিকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।

    এলসি-২-এর প্রাতঃকালীন শাখায় ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসা এক ছাত্রীকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন বলেও দাবি এবিভিপির। আরও দুই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রার্থীদের ও কর্মীদের দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সব নিয়ম সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশের মধ্যে বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদকের প্রতিক্রিয়া

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেন, “ডুসু নির্বাচন রাহুল গান্ধীর সভাপতির আসনের নির্বাচন নয়; এটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং এখানকার পড়ুয়ারাই এর ফল নির্ধারণ করবেন। কংগ্রেসের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো, যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।”

    তিনি আরও বলেন, “কলেজগুলির নির্বাচনে এবিভিপি পড়ুয়াদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং ডুসু নির্বাচনেও আমরা পড়ুয়াদের সমর্থন পাব। এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা (ABVP) নেওয়া উচিত।”

    দিল্লি হাইকোর্টের নির্বাচনী নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে সার্থক বলেন, বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ-সহ আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলতে সংগঠনের কর্মীদের বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডুসুতে (DUSU Election 2026) এবিভিপির চার প্রার্থীই জয়ী হয়ে ৪-০ ফল করবেন।

     

LinkedIn
Share