Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    T20 World Cup: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় চায় বিসিবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ক্রিকেটের ময়দানেও ভারত বিরোধিতার স্বর বাংলাদেশে। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল (IPL) থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বাংলাদেশের ম্যাচগুলিকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসিকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

    ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক (T20 World Cup)

    ২০২৬ সালে ২০টি দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এখানে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও গ্রুপ রয়েছে। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি কলকাতা এবং মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য খেলার স্থান পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে চিঠি লিখেছে। প্রতিক্রিয়ায় স্বরূপ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অর্থাৎ বিসিসিআইয়ের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বাংলাদেশের দাবিকে অত্যন্ত অবাস্তব বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “কারও ইচ্ছায় খেলা পরিবর্তন করা যায় না। এটা একটা লজিস্টিকাল দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলের ফ্লাইট এবং হোটেল ইতিমধ্যেই বুক করা আছে। প্রতিটি ম্যাচের দিনে তিনটি করে খেলার সময়সূচি নির্ধারিত থাকে, যার মধ্যে একটি শ্রীলঙ্কায়। সম্প্রচার কর্মী এবং অপারেশনাল দলগুলিও এতে জড়িত থাকে, তাই বলা সহজ কিন্তু করা সহজ নয়।”

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব

    শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স চলতি বছর আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। এরপর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ৩০ বছর বয়সী এই পেসারকে ৯.২০ কোটি টাকায় কিনে নেওয়া হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, বিসিবি একটি জরুরি সভা করে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রক কর্তৃক আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ২০২৬ ম্যাচের সময়সূচি-

    • বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৭ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইতালি – ৯ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম ইংল্যান্ড – ১৪ ফেব্রুয়ারি (কলকাতা)
    • বনাম নেপাল – ১৭ ফেব্রুয়ারি (মুম্বই)

    এখন পর্যন্ত, আইসিসি কর্তৃক কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ নিশ্চিত করা হয়নি এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি অপরিবর্তিতই রয়েছে।

  • Venezuela: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা! আপাতত এড়িয়ে চলার বার্তা, ভারত জারি করল হেল্পলাইন নম্বর

    Venezuela: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা! আপাতত এড়িয়ে চলার বার্তা, ভারত জারি করল হেল্পলাইন নম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন হানা! একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয়দের সে দেশে যেতে নিষেধ করল ভারত। বিদেশমন্ত্রক ইতিমধ্যে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। একইভাবে ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের চলাফেরায়ও  নিয়ন্ত্রণ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে কোনও প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের (Indias Ministry of External Affairs) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    দরকার ছাড়া যেতে না (Venezuela)

    ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে আমেরিকা। ওই দেশের সরকারের পতন হয়েছে। ফলে খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার ওই দেশে ভারতীয়দের যাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (Indias Ministry of External Affairs) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে লেখেন, “দরকার ছাড়া ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করুন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ওই দেশ এড়িয়ে যান। প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” তবে ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল বা অর্থনৈতিক জ্বালানির স্বার্থ থাকলেও সরাসরি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করে নাগরিক সুরক্ষাকেই প্রধান বিষয় হিসেবে ভাবা হয়েছে।

    খনিজ সম্পদ লুট করার জন্যই আগ্রাসী

    উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার (Venezuela) চাপানউতোর চলছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে তেলের ট্যাংকার চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভেনুজুয়েলার সীমান্তে কোনও তেল ট্যাংকার যাতায়াত করতে পারবে না। একইভাবে ওই দেশের সরকারকে জঙ্গি গোষ্ঠীর তকমাও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মাদুরোকে অবৈধ শাসক ঘোষণা করে তাঁর শাসনকে নস্যাৎ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা বার বার দাবি করেছে মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তেল বেআইনিভাবে বিক্রি করে সেই টাকা খরচ করা হচ্ছে জঙ্গিদের পেছনে। অবশ্য এই বিষয়ে ভেনেজুয়েলার দাবি, দেশের খনিজ সম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল লুট করছে মার্কিন শাসক। আমেরিকা খনিজ সম্পদ লুট করার জন্যই আগ্রাসী হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে শনিবার ট্রাম্প বন্দি মাদুরোর ছবি প্রকাশ্যে এনেছেন।

  • Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    Venezuela President Captured: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, দাম বাড়তে পারে অপরিশোধিত তেলের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে গেল ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাশাসন। বন্দি করা হয়েছে মাদুরোর স্ত্রীকেও। ভেনেজুয়েলা তেল (Crude Oil) সমৃদ্ধ দেশ। বিভিন্ন রকমের বিরল খনিজও রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশের মাটির নীচে। তাই প্রেসিডেন্ট অপহরণ (Venezuela President Captured) হওয়ার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাবেই সোমবার অপরিশোধিত তেলের দামে গ্যাপ-আপ ওপেনিং দেখা যেতে পারে।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম (Venezuela President Captured)

    বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বাড়তে পারে। মার্কিন সামরিক হামালার ফলে যদি ভেনেজুয়েলার তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬৫ ডলারের দিকে এগোতে পারে বলে অনুমান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক শক্তির বাজারে। ফলে বিনিয়োগকারী ও তেল আমদানিকারী দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন তেল ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকরা। ভারতের জটিল কাঠামোর তেল শোধনাগারগুলি বিশেষ করে গুজরাটের জামনগর রিফাইনারি ভেনেজুয়েলার ঘন ও ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এই ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের জন্য প্রয়োজন হয় উন্নত প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিকাঠামো, যা ভারতের হাতে গোণা কয়েকটি রিফাইনারিতেই রয়েছে।

    বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ কার্যকর হয়, তাহলে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হিমশিম খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে হবে ভারতকে, যেখানে তুলনামূলকভাবে হালকা অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি এবং শোধন করার খরচও বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে (Crude Oil)। ২০২৪ সালে ভারত ভেনেজুয়েলা থেকে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ আমেরিকার তেল সরবরাহের ওপর ভারতের নির্ভরতা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বজায় রয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের দামে স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটলে তার প্রতিফলন ভারতীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে দেখা যায় সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই। ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধই, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। ২০২৫ সালের শেষাশেষি নাগাদ ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা ডিসকাউন্টেড তেল থেকে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই মজবুত হয়েছে।

    আর্থিক সুরক্ষা বলয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভরতা ভারতের জন্য এক বড় আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। এর ফলে এক দশক আগের তুলনায় ভেনেজুয়েলার মতো তেল-উৎপাদক দেশের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ওপর এখন অনেক কম প্রভাব ফেলবে (Venezuela President Captured)। একসময় ভেনেজুয়েলা ছিল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশগুলির অন্যতম। কিন্তু সেখানকার উৎপাদন সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করতে হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ান তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ে পাওয়া শুরু হলে, ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগায়।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই বাড়ায়নি, বরং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতেও সাহায্য করেছে। ফলে আগামী দিনে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ভারত তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে।বিশ্ববাজারে বর্তমানে একটি বিশাল তেল উদ্বৃত্ত কার্যত সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করছে। বিভিন্ন জাহাজে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে, যাকে বাজারের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘অন ওয়াটার স্টোরেজ’। এই বিপুল মজুতের কারণে হঠাৎ করে তেলের দামে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা আপাতত কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি যদি ভেনেজুয়েলা থেকে রাতারাতি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

    বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    বিশ্লেষকদের মতে, এই মজুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যাহত হলে বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও ভারতীয় গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলি খুচরো পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নির্ধারণের আগে সাধারণত ১৫ দিনের গড় হিসেবে অপরিশোধিত তেলের দাম বিবেচনা করে।তাই আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেলেও দেশের সাধারণ যাত্রী বা দৈনন্দিন যাতায়াতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব অনুভব করবেন না। তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোতে হয় (Crude Oil)।

    আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ফলে হঠাৎ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুরক্ষা পান। তবে যদি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চড়া থাকে, সেক্ষেত্রে খুচরো দামে পরিবর্তন আসতে পারে। নয়া লগ্নি এলে ভেনেজুয়েলা সরকার ভবিষ্যতে দৈনিক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান। দেশটির তেল খাতে বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদে তেলের সরবরাহ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে  জ্বালানির দামে। অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বড় তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য স্বস্তির খবর।

    ‘সারপ্লাস শিল্ড’

    বিশেষ করে ভারতের মতো দেশ, যারা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারা এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। কম দামে তেল আমদানি করতে পারলে জ্বালানি ব্যয় হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবহণ, শিল্প এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার উৎপাদন বৃদ্ধি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে (Venezuela President Captured)। ‘সারপ্লাস শিল্ড’ বা অতিরিক্ত মজুত সুরক্ষা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমনতর আশঙ্কা মাথায় রেখেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা

    সরকারি সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য ভারতের। মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল এবং গ্যাসের আমদানি ও পরিবহণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি মজুত ব্যবস্থাপনা, বিকল্প সরবরাহ উৎস এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা আরও জোরদার করছে, যাতে কোনও সংকটের প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে না পড়ে (Crude Oil)। প্রসঙ্গত, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় আমদানির মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে শুধু ভারত নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে (Venezuela President Captured)।

  • Chhattisgarh: নতুন বছরের শুরুতেই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য, ছত্তিশগড়ে খতম ১৪ মাওবাদী

    Chhattisgarh: নতুন বছরের শুরুতেই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য, ছত্তিশগড়ে খতম ১৪ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নতুন বছরে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য। ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) ২টি পৃথক মাওবাদী-বাহিনী সংঘর্ষে ১৪ জন মাওবাদী (Maoist Security) নিহত হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে রাজ্যের সুকমা ও বিজাপুর জেলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    লোকাল কমিটির সম্পাদক মাংডুও নিহত (Chhattisgarh)

    স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ সুকমা (Chhattisgarh) জেলায় এক সংঘর্ষে ১২ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। একই ভাবে পার্শ্ববর্তী বিজাপুরে পৃথক সংঘর্ষে আরও দুইজন মাওবাদী (Maoist Security) নেতা নিহত হয়েছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ভোর ৫টায় বিজাপুরে এই সংঘর্ষ হয়। এদিনের অভিযানে মৃত মাওবাদীদের মধ্যে সুকমার কোন্টা লোকাল কমিটির সম্পাদক মাংডুও ছিল। অন্যদিকে, পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি ব্যাটেলিয়ন ১-দলের শীর্ষ নেতা কমান্ডার বরসা সুক্কু সহ বেশ কয়েকজন মাওবাদীরা আজ তেলঙ্গানা পুলিশের ডিজি শিবধর রেড্ডির কাছে আত্মসমর্পণ করার কথা।

    এখনও পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মাওবাদী নিহত

    সুকুমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহান বলেন, “কোন্টা এরিয়া (Chhattisgarh) কমিটির অধীনে কর্মরত সমস্ত মাওবাদীকে (Maoist Security) নির্মূল করা হয়েছে। নকশাল, মাওবাদীদের মতো চরমপন্থী সংগঠনকে নির্মূল করতে কেন্দ্রের মাওবাদী অভিযানকে বাস্তবায়ন করার কাজ চলছে।” উল্লেখ্য ছত্তিশগড়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য এবং কেন্দ্রের যৌথ অভিযানে মাওবাদী ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গঠনের ডাক দিয়েছেন। যদিও ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে অনেক মাওবাদী পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজেরা আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে একাধিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছেন। মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় সেনা এবং পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

  • RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শুক্রবার ভূপালে জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বিদ্যা ভারতীর মতো সংগঠনগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে সংঘ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। বিজেপি বা ভিএইচপির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করবেন না; তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সংঘের নির্দেশে চলে না। যারা আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁরা একটি মৌলিক ভুল করছেন। সংঘকে বুঝতে গেলে সংঘের প্রত্যক্ষ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

    কাউকে সংঘ নিয়ন্ত্রণ করে না (RSS)

    সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “যদিও সংঘ স্বয়ংসেবকদের নির্মাণ করে, তবুও তাদের কখনই রিমোট কন্ট্রোল করে রাখে না। আরএসএস (RSS) স্বয়ংসেবকদের বিকাশ করে এবং ভারতের পরম বৈভব বা কল্যাণের জন্য কাজ করে থাকে। মানুষের মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা এবং লক্ষ্যগুলিকেও যথা সম্ভব এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংঘের স্বয়ংসেবকরা সংঘ দ্বারা দূরবর্তী ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত হন না। আমাদের স্বয়ংসেবকদের দ্বারা পরিচালিত বিজেপি, ভিএইচপি এবং বিদ্যা ভারতী একটি স্বাধীন পরিচয় নিয়ে এবং তাদের সংবিধান অনুসারে কাজ করে। তবে ভারত মাতার কল্যাণ এবং ভারতের গৌরব বৃদ্ধির জন্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গি সমান।”

    ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে

    ভোপালে বিশিষ্ট নাগরিকদের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এই সংগঠনগুলি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং বিভিন্ন পটভূমির সামাজের মানুষের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করে। ৪০ বছর আগে যখন আমরা লোকেদের এই কথাগুলি বলেছিলাম, তখন তারা আমাদের উপহাস করেছিল, বলেছিল যে আমরা কথার খেলায় লিপ্ত, কিন্তু এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে আমরা আসলে কী বলতে চাইছিলাম। আমরা আমাদের ভাবনার জায়গায় একেবারে স্থির। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভুল তথ্য এবং ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে। শুরু থেকে এবং এখন পর্যন্ত, আরএসএস (RSS) সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনার মুখোমুখি হতে হয়েছে, কেবল যারা এর বিরোধী তাদের কাছ থেকে নয়, যারা সমালোচনা করেন না তাদের কাছ থেকেও। সমগ্র বিশ্ব আরএসএস সম্পর্কে শুনেছে কিন্তু খুব কম লোকই এটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জানে। তাই সংঘকে আরও ভালো করে জানা বোঝা দরকার।

    আধাসামরিক সংগঠন নয়

    বিশ্বব্যাপী আরএসএসের (RSS) কোনও তুলনা নেই উল্লেখ করে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের সাথে আরএসএসের কোনও তুলনা করা যায় না। এর কার্যকারিতা অনন্য, তবে স্বীকার করতে হবে যে সংঘ তথাগত গৌতম বুদ্ধ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। আরএসএসকে অনেকে একটি আধাসামরিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষপাতী। কিন্তু এই ভাবনা সম্পূর্ণ ভাবে ভুল। যেহেতু আমরা পথ পরিচালনা করি এবং লাঠি দিয়ে কাজ করি, তাই আরএসএসকে কখনই আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। কেবল সামাজিক কাজই সংঘকে সংজ্ঞায়িত করে না। সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে এর ফলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে সংঘ কেবল একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন।”

    ইউকিপিডিয়ায় নয়, শাখায় গিয়ে জনাতে হবে সংঘকে

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আরএসএসকে (RSS) বোঝার জন্য আপনাকে উইকিপিডিয়ায় আরএসএস সম্পর্কে অনুসন্ধান করার পরিবর্তে শাখায় আসতে হবে। কাজকে মাঠে মায়দানে নেমে দেখতে হবে। আরএসএস সচেতনভাবে কোনও রকম চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরং এর লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা। আরএসএস পূর্বেও বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১০০ বছরের যাত্রায়, আরএসএসকে এমন বিরোধিতা এবং অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের মুখোমুখি হয়নি। আমরা কেবল আমাদের হিন্দু রাষ্ট্রের পরম গৌরবের একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করি। আরএসএসের বিরোধিতা ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হয়েছিল এবং স্বাধীনতার পরেও অব্যাহত ছিল। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারই আরএসএসের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পরেও, সংঘকে চরম বিরোধিতা, চাপ, আক্রমণ এবং এমনকি হত্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে আমাদের ওপর নানা ভাবে এখনও হয়রানি করার ঘটনা ঘটে থাকে। যদিও পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে।

    ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা

    ভাষা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে মন্তব্য করে, ভাগবত (Mohan Bhagwat) নাগরিকদের ভারতীয় ভাষাগুলিতে গর্ব করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঘরে থাকাকালীন, আপনার মাতৃভাষায় কথা বলুন। তবে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসকারী প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা জানার পাশাপাশি সেই রাজ্যের বিশেষ ভাষা জানা এবং বোঝা উচিত।  ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা। আমি যদি বাংলায় থাকি, আমার মাতৃভাষা যাই হোক না কেন, আমার বাংলাও জানা উচিত।” একই ভাবে তিনি সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের উপরও জোর দিয়ে বলেন, “আপনার বাড়িতে বাচ্চাদের সঙ্গে যখন আপনি নিজের ভজন পরিবেশন করবেন তখনই কেউ আপনার সন্তানের ঘাড়ে ক্রুশ চাপানোর চেষ্টা করবে না। তাই নিজের ধর্ম (RSS) সম্পর্কে সকলকে সচেতন হতে হবে।”

    আত্মনির্ভর হতে হবে

    স্বদেশী এবং আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য আপনার আত্মগৌরব থাকা প্রয়োজন। আপনার জমিতে উৎপাদিত জিনিসপত্রই কেবল কিনুন এবং ব্যবহার করুন। আপনার দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় এমন স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করুন। তবে স্বদেশী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবেন। কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- ওষুধ আমদানি করবেন যা ভারতে উৎপাদিত হয় না। আবার এটাও ঠিক যে বাণিজ্য কখনই কোনও চাপ বা শুল্কের ভয়ে করা উচিত নয়। এটি কেবল আমাদের নিজস্ব শর্তে হওয়া উচিত।”

    দেশজুড়ে আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ-সম্পর্কিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভাগবত দুই দিনের ভোপাল সফরে আছেন। শনিবার দুটি পৃথক অধিবেশনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ভাষণ দেবেন এবং তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

  • Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    Gandiva AI Tool: গোয়েন্দাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’! সন্ত্রাস দমনে নয়া হাতিয়ার কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি টুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত পার থেকে সন্ত্রাসী হামলা বা দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক তছরুপ কিংবা ভিন্‌রাজ্যে গিয়ে ডাকাতি-খুন, ধর্ষণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার! দেশ জুড়ে বেড়ে চলা যাবতীয় অপরাধের সূচককে নিম্নমুখী করতে এবার কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সাহায্য নিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই দেশের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের হাতে ‘গাণ্ডীব’ তুলে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লোকসভায় জানিয়েছে যে জাতীয় গোয়েন্দা গ্রিড বা ন্যাটগ্রিড (NATGRID)-এর আইটি প্ল্যাটফর্মে একটি অরগানাইজড ক্রাইম নেটওয়ার্ক ডেটাবেস (Organised Crime Network Database) তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং রাজ্যগুলির অ্যান্টি-টেরর স্কোয়াড (ATS)-এর মধ্যে নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমনে ন্যাটগ্রিড-এর উন্নত হাতিয়ারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গাণ্ডীব’। যা বহু উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ন্যাটগ্রিড কী

    এনআইএ এবং এটিএসের মতো সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তকারী এবং পুলিশি দলগুলির মধ্যে নিরাপদে তথ্য ভাগাভাগির কাজটি সহজতর করতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ বা ন্যাটগ্রিড নামের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একগুচ্ছ সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার রিয়েল টাইম তথ্য যখন-তখন হাতে পেতে পারবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ‘গাণ্ডীব’ নামের এআই টুলটি এর সঙ্গেই কাজ করবে বলে জানা গিয়েছে। ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ২০০৯ সালে ন্যাটগ্রিড-এর ধারণা প্রথম উঠে আসে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এটি গত বছর পুরোপুরি কার্যকর হয়। বর্তমানে শুধুমাত্র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (SP) পদমর্যাদার আধিকারিকরাই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ন্যাটগ্রিড-এর মাধ্যমে অভিবাসন ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন, টেলিকম ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মেটাডেটা, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। আগে এই ধরনের তথ্যের জন্য বিভিন্ন দফতরে আলাদা করে আবেদন করতে হতো।

    এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত ন্যাটগ্রিড

    সম্প্রতি এই ন্যাটগ্রিডকে ‘ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার’ বা এনপিআরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে কেন্দ্র। এতে দেশের ১১৯ কোটি বাসিন্দার পরিবারভিত্তিক তথ্য রয়েছে। একে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন) তৈরির প্রথম ধাপ হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে ন্যাটগ্রিডকে ব্যবহার করে অধিকাংশ ভারতবাসীর তথ্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও এটিএসের মতো সংস্থার অফিসারেরা হাতে পেয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২০১০ সালে ২০১১ সালের জনগণনার প্রথম পর্যায়ে এনপিআর-এর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছিল। এনপিআর একটি মৌলিক পরিচয় ও আবাসিক ডেটাবেস হিসেবে কাজ করে, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা ও গতি বাড়াতে সাহায্য করে। ন্যাটগ্রিড যেখানে বিভিন্ন সংস্থার ডেটা একত্র করে, সেখানে এনপিআর সেই তথ্যগুলির মধ্যে পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর গুরুত্ব কী?

    গাণ্ডীব হল ন্যাটগ্রিড-এর একটি উন্নত অ্যানালিটিক্স টুল, যা তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সংযোগের পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে। এই টুলটি ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এনটিটি রেজোলিউশন-এর কাজে ব্যবহার করা যায়। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “যদি কোনও সন্দেহভাজনের ছবি পাওয়া যায়, সেটি গাণ্ডীব-এ আপলোড করা হলে টেলিকম কেওয়াইসি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব। এতে তদন্তকারীদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে।”

    পুরাণে ‘গাণ্ডীব’-এর উল্লেখ

    মহাভারত অনুসারে, গাণ্ডীব ছিল পাণ্ডব অর্জুনের ঐশ্বরিক ধনুক। এই কারণেই অর্জুনকে ‘গাণ্ডীবধারী’ নামেও ডাকা হয়। ব্রহ্মার দ্বারা নির্মিত এই ধনুকে ছিল ১০৮টি অলৌকিক তার, যা দেবশক্তিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা হয়। অগ্নিদেবকে খাণ্ডব বন দহন করতে সহায়তার সময় অর্জুন গাণ্ডীব লাভ করেন। এই ঘটনা অর্জুন ও গাণ্ডীবের সম্পর্কের সূচনা তো বটেই, পাশাপাশি দেবইচ্ছা পূরণে এই অস্ত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরে। এআই গাণ্ডীব টুল-ও গোয়েন্দাদের হাতে অর্জুনের ধনুকের মতো। গাণ্ডীব তথ্যগুলিকে নন-সেনসিটিভ, সেনসিটিভ এবং হাইলি সেনসিটিভ—এই তিন ভাগে ভাগ করবে। ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আর্থিক লেনদেন, কর সংক্রান্ত তথ্য এবং রফতানি-আমদানি সংক্রান্ত ডেটাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাণ্ডীব মূলত ন্যাটগ্রিড-কে একটি সাধারণ ডেটা-অ্যাক্সেস প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত এআই-চালিত গোয়েন্দা হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে, যেখানে একক অনুসন্ধান, দ্রুত সূত্র সন্ধান এবং বুদ্ধিমান বিশ্লেষণ সম্ভব হচ্ছে।

    ‘গাণ্ডীব’-এর ব্যবহারে সন্ত্রাস দমন সহজ

    কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে দুঁদে গোয়েন্দাকর্তাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ২৬/১১-র মুম্বই হামলা বা তার পরবর্তী সময়ের নাশকতার প্রতিটা ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে জঙ্গিরা। এ দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়ে দিব্যি বিদেশে পালিয়েও গিয়েছে তাঁদের কয়েক জন। এই ব্যর্থতার মূল কারণ হল তথ্যের অভাব। তদন্তকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এ দেশের কিছু ‘বিশ্বাসঘাতক’ নাগরিকের সাহায্য পেয়ে এসেছে। সরকারের কাছে তাঁদের ব্যাপারে যে কোনও তথ্য নেই, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা এতটাই ছড়ানো-ছেটানো যে, প্রয়োজনের সময় দ্রুত একসঙ্গে সেগুলি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নাশকতার সঙ্গে সঙ্গেই দেশ ছেড়ে চম্পট দিচ্ছিল অভিযুক্তেরা। ন্যাটগ্রিড ও গাণ্ডীবের সাহায্যে তা বন্ধ করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘গাণ্ডীব’

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, একসঙ্গে ২১ উৎসের তথ্য একত্রিত করে নিমেষে তদন্তকারীর প্রশ্নের জবাব দিতে পারে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির ‘গাণ্ডীব’। একটি উদাহরণের সাহায্যে এর কর্মপদ্ধতি বুঝে নেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, কোনও সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচ তৈরি করল জন্মু-কাশ্মীর পুলিশের এটিএস। এর পর তা ‘গাণ্ডীব’ প্ল্যাটফর্মে তুলে দিলেই ওই ছবির মতো দেখতে কোনও লোক এ দেশে আছেন কি না, তা বলে দেবে সংশ্লিষ্ট এআই টুল। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে তদন্তকারীদের আরও কিছু সাহায্য করবে ‘গাণ্ডীব’। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক বা টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থায় জমা করা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ বা কেওয়াইসি ফর্মে সাঁটা ছবির সঙ্গে কোনও মিল আছে কি না তা-ও দ্রুত বলে দেবে ওই কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। ফলে দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নামতে পারবেন এটিএস এবং এনআইএ-র আধিকারিকেরা। এ-হেন ‘গাণ্ডীব’কে ন্যাটগ্রিডের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ন্যাটগ্রিড আবার যুক্ত আছে এনপিআরের সঙ্গে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাভিত্তিক প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে ১১৯ কোটি বাসিন্দার মধ্যে থেকে অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারবেন তদন্তকারীরা।

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Nyaya Setu: নিখরচায় যে কোনও আইনি পরামর্শ মিলবে হোয়াটসঅ্যাপে! কেন্দ্র চালু করল ‘ন্যায় সেতু’

    Nyaya Setu: নিখরচায় যে কোনও আইনি পরামর্শ মিলবে হোয়াটসঅ্যাপে! কেন্দ্র চালু করল ‘ন্যায় সেতু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপে (Whatsapp) ‘ন্যায় সেতু’ (Nyaya Setu) চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে যে কোনও রকম আইনি সলা-পরামর্শের জন্য এই নতুন ব্যবস্থা বিশেষ ভাবে কার্যকারী হবে। ব্যবহারকারীরা নিজের মোবাইল থাকে মেসেজ করে প্রয়োজনীয় সবরকম আইনি সাহায্য, পরামর্শ, উপদেশ পেতে পারবেন, তাও একেবারে নিখরচায়। অর্থাৎ, এর জন্য কোনও রকম অর্থ খরচ করতে হবে না উপভোক্তাদের। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনও ব্যক্তি অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারবেন।

    ভারত সরকার হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্মে ‘ন্যায় সেতু’ পরিষেবাটি চালু করেছে। এর ফলে আইনি সহায়তা এখন থেকে নাগরিকদের জন্য মাত্র একটি মেসেজ করতে যত সময় লাগে এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ‘ন্যায় সেতু’ কী এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তার বিস্তারিত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হল-

    ‘ন্যায় সেতু’ কী (Nyaya Setu)?

    ‘ন্যায় সেতু’ হল ভারত সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রকের একটি ডিজিটাল উদ্যোগ। উল্লেখ্য এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের অগাস্টে। আসুন জেনে নিই কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সুবিধার তথ্য।

    উদ্দেশ্য: নাগরিকদের জন্য আইনি সহায়তা লাভের সুযোগকে উন্নত করা এবং সহজলভ্য করা।

    সুবিধা: কোনও জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জনসাধারণ দ্রুত আইনি পরামর্শ পেতে সক্ষম হবেন।

    হোয়াটসঅ্যাপে পরিষেবা লাভের সুবিধা

    ‘ন্যায় সেতু’ এখন সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের (Whatsapp) মাধ্যমে উপলব্ধ। এই সংযোজনের ফলে উপভক্তারা যে যে সুবিধাগুলি পাবেন তা হল–

    পেশাদার আইনি সাহায্য নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত সহজলভ্য। আপনি একটি মেসেজ করেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন।

    আইন ও বিচার মন্ত্রকের মতে, এই আপডেটের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পেশাদার আইনি সহায়তা সর্বদা দ্রুত এবং পরিষেবার যোগ্য হবে।

    প্ল্যাটফর্মটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে আইনি সংস্থান এবং নাগরিকদের মধ্যেকার ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে ‘ন্যায় সেতু’ কীভাবে ব্যবহার করবেন?

    হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আইনি তথ্য বা পরামর্শ পেতে নিচের ধাপটি অনুসরণ করুন:

    ১>আপনার হোয়াটসঅ্যাপে নিচের নম্বরটিতে একটি বার্তা পাঠান

    যোগাযোগের নম্বর: ৭২১৭৭১১৮১৪

    ২> এই নম্বরটি আপনার হোয়াটসঅ্যাপে “Tele-Law” নামে প্রদর্শিত হবে।

    পরিষেবা এবং কার্যকারিতা

    সেবা: ‘ন্যায় সেতু’ (Nyaya Setu) চ্যাটবটটি আপনাকে আইনি পরামর্শ, আইনি তথ্য এবং আইনি সহায়তার জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রদান করবে।

    ব্যবহার প্রক্রিয়া: এটি ব্যবহারের জন্য প্রাথমিকভাবে আপনার মোবাইল নম্বর যাচাই করতে চাওয়া হবে। (তবে আপাতত যাচাইকরণ ছাড়াই কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে)।

    প্ল্যাটফর্ম: এই চ্যাটবটটি ভারতের সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ—তা সেটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, বা ওয়েব যেকোনো প্ল্যাটফর্মেই হোক।

  • S Jaishankar: “সন্ত্রাসে মদতদাতা প্রতিবেশীর হাত থেকে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে”, পাকিস্তানকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: “সন্ত্রাসে মদতদাতা প্রতিবেশীর হাত থেকে আত্মরক্ষার অধিকার ভারতের রয়েছে”, পাকিস্তানকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আত্মরক্ষার প্রশ্নে ভারত যা করবে, তার জন্য কারও কাছে জবাবদিহি করবে না। সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ফের একবার পাকিস্তানকে (India-Pakistan) কাঠগড়ায় তুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ করেছিল ভারত। সেই উদাহরণ টেনে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানিয়েছেন, নিজের লোকদের রক্ষা করার অধিকার রয়েছে ভারতের। পাকিস্তানকে ‘খারাপ পড়শি’ বলেও তোপ দেগেছেন তিনি। তবে সরাসরি পাকিস্তানের নাম করেননি তিনি। জয়শঙ্কর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশকেও। এ ক্ষেত্রেও সে দেশের নাম করেননি বিদেশমন্ত্রী।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশকে বার্তা

    শুক্রবার আইআইটি মাদ্রাজের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি জানান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে ভারতের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়ে বাইরের কারও পরামর্শ নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। জয়শঙ্কর (S Jaishankar) বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়া বদ প্রতিবেশী যখন থাকে, তখন ভারতকে তার জনগণকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হয়। আমরা কী ভাবে সেই পদক্ষেপ করব, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। আমাদের সুরক্ষার জন্যই আমরা যা করার করব।” একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাম না-করেই ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশটিকে বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনাকে কেউ ভুল বুঝলে, কী ভাবে তা আটকাবেন?” নিজেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি সততা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন, তা হলে অন্য দেশ এবং সে দেশের মানুষেরাও সম্মান করবে।” এ ক্ষেত্রে কোনও দেশের উদাহরণ না-দিলেও মনে করা হচ্ছে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের কথাই বলতে চেয়েছেন।

    সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে তোপ

    বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের (India-Pakistan) তরফে হুঁশিয়ারির সুরে বলা হয়েছিল, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না। শুক্রবার তারও জবাব দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আপনি আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ ছড়াবেন, আবার জলবণ্টন করার আর্জিও জানাবেন— এটা হতে পারে না।” প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি স্থগিত রেখেছে ভারত। জয়শঙ্কর আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিকে জল-বণ্টন চুক্তি-সহ বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও যুক্ত করেন। ভারত কয়েক দশক আগে জল-বণ্টন চুক্তি করেছিল বলে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা সুসম্পর্কের পূর্বশর্ত। তিনি বলেন, “অনেক বছর আগে আমরা একটি জল-বণ্টন চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলাম, কিন্তু যদি কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ চলে, তবে কোনও সুসম্পর্ক থাকে না। যদি সুসম্পর্ক না থাকে, তবে সেই সুসম্পর্কের সুবিধাগুলোও পাওয়া যায় না।”

LinkedIn
Share