Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের হতাশ তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি, সংক্ষেপে সিজেপি (Cockroach Janta Party)। ভাইরাল ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রামে প্রচার এবং সরকারবিরোধী বার্তার মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল যুব আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। তাদের নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, সংগঠনের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটি এবং এটি একটি তৃণমূলভিত্তিক গণআন্দোলনের প্রতিফলন।

    ককরোচ জনতা পার্টি, প্রশ্ন যেখানে (Cockroach Janta Party)

    তবে ৬ জুন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে (Jantar Mantar) আয়োজিত সংগঠনের প্রথম বড় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বড় ফারাকটাই তুলে ধরে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক ও অনিয়মের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অনলাইন ক্ষোভকে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সক্ষমতা প্রদর্শন করা। কিন্তু সমাবেশের ভিড় নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়—ককরোচ জনতা পার্টি কি সত্যিই একটি গণভিত্তিক আন্দোলন, নাকি এটি মূলত অ্যালগরিদম, ভাইরাল কনটেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল একটি ডিজিটাল ঘটনা?

    সমাবেশে লোকজন কই?

    সিজেপি (Cockroach Janta Party) কোনও প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন থেকে গড়ে ওঠেনি। বরং ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল পরিমাণ ফলোয়ার রয়েছে দাবি করে প্রথমবারের মতো বড় জনসমাবেশের আয়োজন করায় ৬ জুনের বিক্ষোভকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছিল, কোটি কোটি অনলাইন ফলোয়ার কি হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নামিয়ে আনতে পারবে? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে? ভাইরাল জনপ্রিয়তা কি দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ভিত্তি হতে পারবে? বিক্ষোভের জমায়েত দেখে অবশ্য এই সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিস্তৃত প্রচার ও একাধিক ইনফ্লুয়েন্সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও, যন্তর-মন্তরের সমাবেশে উপস্থিতি সংগঠনের দাবি করা বিশাল ফলোয়ারের সংখ্যার তুলনায় নিতান্তই নগন্য (Jantar Mantar)।

    সংগঠনের শক্তি

    বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, অভিভাবক ও সমর্থকদের দেখা গেলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনেকে অনুষ্ঠানের দৃশ্যপট মোবাইলবন্দি করে তৈরি করছিলেন অনলাইন কনটেন্ট (Cockroach Janta Party)। তাই অনেকের কাছে পুরো পরিবেশটি রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি একটি বড় ইনফ্লুয়েন্সার সমাবেশের আকারও নেয়। সিজেপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা। প্রচলিত ছাত্র আন্দোলনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের পরিবর্তে এই সংগঠনের শক্তি মূলত এসেছে অনলাইন প্রচার ও ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট থেকে (Jantar Mantar)।

    কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে সভা নয়

    সমাবেশে ককরোচ আঁকা মুখোশ, পোস্টার, শিল্পকর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক নানা প্রতীক ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে এটি সমমনা সমর্থক ও অনলাইন পরিচিতদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডিজিটাল আন্দোলনের একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনায়াস হলেও, সেই সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ফিল্ড লেভেলের সংগঠনে রূপ দেওয়া অনেক বেশি কঠিন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন (Cockroach Janta Party)। তাঁদের অনেকেই জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়। শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন (Jantar Mantar)।

    সরকারবিরোধী কণ্ঠ

    অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে আবার এমনও জানিয়েছে, বহু সমর্থক বাস্তবে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ার ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের মধ্যেই নিজেদের সমর্থন সীমাবদ্ধ রাখেন। সিজেপির উত্থানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় এই ইনফ্লুয়েন্সার অতীতে বিভিন্ন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগ এবং নিজেকে সরকারবিরোধী কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চার বিষয় হয়েছেন তিনি। বিদেশি ভাষ্যকার এবং পাকিস্তানের কিছু কর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি যদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করে, তাহলে নেতৃত্ব, আদর্শ, অর্থায়ন, নেটওয়ার্ক ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (Jantar Mantar)। যন্তর-মন্তরের কর্মসূচিতে প্রধান দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

    দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? 

    সমালোচকদের একাংশের মতে, কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেই শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তা নয়। এতে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আসে—প্রতীকী জবাবদিহি কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তব সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিগত প্রস্তাব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? বিক্ষোভে এই প্রশ্নগুলির সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ৬ জুনের এই কর্মসূচি হয়তো তাৎক্ষণিক দাবির চেয়ে বেশি আলোচিত হবে ডিজিটাল যুগের আন্দোলনের শক্তি ও সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে। সিজেপি অনলাইন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে, সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং তরুণদের মধ্যে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে সফল হয়েছে।

    ভাইরাল জনপ্রিয়তা বনাম বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি

    কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাবে না (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেও কোটি কোটি অনলাইন ব্যবহারকারীর দাবি এবং বাস্তব জনসমাগমের ব্যবধানই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে (Jantar Mantar)। ভবিষ্যতে সেই ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই জমায়েত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জনপ্রিয়তা এবং বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি সবসময় এক নয় (Cockroach Janta Party)।

     

  • Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল যুগের ক্ষমতা ব্যবহার করে তরুণদের নেতিবাচক দিকে প্ররোচিত করার চেষ্টা ভারতে সফল হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। রবিবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এল, যখন দিল্লির প্রধান প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে হাজার কিলোমিটার দূর থেকে একটি বড় ধরনের সমাবেশ চলছে। এই সমাবেশের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি বিদেশফেরত একজন রাজনৈতিক ব্যঙ্গশিল্পী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করতেন।

    ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে (Nitin Nabin)

    এই নব্য আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দিকে ইঙ্গিত করে নীতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “এই যুবসমাজের কঠোর পরিশ্রম ও শক্তির ওপর ভর করেই দেশ এগিয়ে চলেছে… তাই আমি তাঁদের সতর্ক করতে চাই যাঁরা এই দেশের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতির দিকে টেনে নিয়ে যেতে চান। ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে। আমরা অবশ্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে সব ধরনের প্রতিবাদ করব, কিন্তু গণতন্ত্রের মানদণ্ড ধ্বংস হতে দেব না।”

    বোস্টন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ (PR) বিভাগের গ্র্যাজুয়েট দিপকে আমেরিকায় থাকাকালীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) নামক ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল তৈরি করে নজর কাড়েন। তিনি এটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ বলে দাবি করেছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি দিল্লিতে নামেন এবং কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সেন্ট্রাল দিল্লি জেলার যন্তর মন্তরের দিকে রওনা দেন। সেখানে তিনি এমন কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য করেন, যেগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনেকেই পাতি এবং চর্বিতচর্বণ আখ্যা দিয়েছেন।

    যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল নয়

    ঝাড়খণ্ডে দলীয় বৈঠকে অংশ নিতে আসা নীতিন নবীন (Nitin Nabin) তীব্র সমালোচনা করেন সেইসব বিত্তশালী ও ক্ষমতালোভী অভিজাত টুকরে টুকরে গ্যাংকে, যাঁরা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ট্যাগ ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষ ভাবছেন যে তাঁরা ভারতের যুবসমাজকে দিকনির্দেশনা দেবেন। ভারতের যুবসমাজ কৃষকদের সঙ্গে গ্রামের চাতালে বসে, গ্রামের মেঠো পথে থাকে, আমাদের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং কলেজের ক্যাম্পাসে থাকে। ভারতের যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল হয়ে এগিয়ে যাবে না।” উল্লেখ্য, দিপকের ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লাখ লাখ ফলোয়ার পেয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির হ্যান্ডেলের ফলোয়ারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    কখনওই বরদাস্ত করা হবে না

    রাঁচির এই অনুষ্ঠানে নবীন (Nitin Nabin) আরও বলেন, “আজ দেশের মানুষের কাছে একটি বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যম দেশ ও যুবসমাজের উন্নয়নের কাজে লাগানো যায়। কিন্তু দেশের যুব সমাজকে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা কখনওই বরদাস্ত করা হবে না। তাই আমি বলব, আমার দেশের যুবসমাজ, একটি উন্নত ভারত গড়তে হলে আপনাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে…”

    বিজেপির এই কর্তা দু’দিনের সফরে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছেন। আজ, রবিবার তাঁর বোকারো স্টিল সিটিতে যাওয়ার কথা। এরপর তিনি রাঁচিতে বিজেপির জেলা ইন-চার্জ, জেলা সভাপতি এবং দলের বিশেষ মিডিয়া ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET-UG) পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেছেন।

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিষেবা ও দ্রুত পুলিশি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই মডেল কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে সম্প্রতি লখনউ সফরে গেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের (West Bengal Police) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রাজ্যের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) সুকেশ জৈন। লখনউয়ে ‘ইউপি-১১২’ সদর দফতরে গিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী খতিয়ে দেখেন।

    কীভাবে কাজ করে ‘ইউপি-১১২’?

    উত্তরপ্রদেশের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) বর্তমানে দেশের অন্যতম সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। অপরাধ, দুর্ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি, নারী নিরাপত্তা কিংবা সাধারণ মানুষের বিপদের মুহূর্তে একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেয় এই পরিষেবা। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের জানানো হয়, ‘ইউপি-১১২’-এ কোনও জরুরি ফোনকল যাতে উপেক্ষিত না হয়, তার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কোনও কল অপারেটর ব্যস্ত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কল অন্য উপলব্ধ অপারেটরের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

    মুহূর্তে শনাক্ত হয় কলারের অবস্থান

    প্রতিনিধিদলকে দেখানো হয় কীভাবে সিস্টেমটি কলারের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে নিকটবর্তী পুলিশের কাছে তথ্য পাঠায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে পারে পুলিশ। এছাড়াও, প্রতিটি জরুরি কলের জন্য ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত থাকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ায়।

    গড় সাড়া দেওয়ার সময় মাত্র সাড়ে ৬ মিনিট

    ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিদলকে জানায়, উন্নত প্রযুক্তি ও সুসংহত ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের গড় প্রতিক্রিয়া সময় প্রায় ৬.৫ মিনিট। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির উত্তরপ্রদেশেও এই দ্রুত পরিষেবা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে।

    যোগী সরকারের পুলিশি সংস্কারের ফল

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)-এর আমলে উত্তরপ্রদেশে যে পুলিশি সংস্কার ও প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ হয়েছে, তারই অন্যতম সফল ফল ‘ইউপি-১১২’ (UP-112)। এক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি পরিষেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পুলিশ পরিকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে কি চালু হবে একই মডেল?

    সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিজেদের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সফল মডেল পর্যালোচনা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল চালুর বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে লখনউ সফর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যতে রাজ্যের জরুরি পরিষেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের (Lord Ram Idol) নির্মীয়মান একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন উগ্র ইসলামপন্থী এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমান গোষ্ঠীগুলির নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হিন্দু দেবতা রামকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

    উগ্র ইসলামি বক্তার হুমকি (Lord Ram Idol)

    ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উগ্র ইসলামি বক্তা হুমকি দিয়ে বলেন, “পলাশবাড়ী উপজেলায় হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ যদি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, এ দেশে কোনও সম্মানিত ইসলামি আলেম নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ারই যোগ্য।” তিনি এও বলেন, “পলাশবাড়ীতে রামের একটি মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও। সরকারকেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলতে হবে। সরকার যদি তা না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ (মুসলমানরা) সেটি ধ্বংস করবে। সরকারকে সাহায্য করা মুসলমানদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে এই মন্দির ভেঙে ফেলতেই হবে।”

    ভারত দখলের হুমকি

    এর আগে ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিলেন এই উগ্র ইসলামি বক্তা। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হবে। ভারত দখল করা হবে। মোদি ও তাঁর রাম রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানরা যদি একযোগে আক্রমণ করে, তাহলে ভারত এক ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

     

  • India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত (রিয়েল) জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবর্ষের ৭.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ পর্বে জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) প্রভিশনাল জিডিপি অনুমানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    ৩২৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল প্রকৃত জিডিপি

    মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষের নিরিখে দেশের প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমান মূল্যে (নমিনাল) ভারতের জিডিপি হয়েছে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৩১৮.০৭ লক্ষ কোটি টাকা।

    জিভিএ-তেও শক্তিশালী বৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA)-তেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৭.৩ শতাংশ। প্রকৃত জিভিএর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯৪.৯১ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বছরে ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

    শেষ ত্রৈমাসিকে আরও গতি

    অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে অর্থনীতির গতি আরও বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এই সময়ে নমিনাল জিডিপি বেড়ে ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। একইসঙ্গে প্রকৃত জিভিএ ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, নির্মাণ, পরিষেবা, পরিবহণ এবং কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

    কৃষি ও পরিকাঠামো খাতের বড় অবদান

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গিয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৫.৩ শতাংশ। ধান, গম এবং অন্যান্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। পরিকাঠামো খাতে সিমেন্ট উৎপাদন বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ এবং সমাপ্ত ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ, যা নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে জোরালো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহন বিক্রি বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ এবং তিন চাকার গাড়ির বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৮ শতাংশ। গৃহস্থালি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ১৭.৪ শতাংশ, যাত্রী পরিবহণ যান ১৪.৭ শতাংশ এবং পণ্যবাহী যান ১৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    পরিষেবা ও রফতানি খাতের শক্তিশালী ভূমিকা

    ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতও বড় ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহণ বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৭ শতাংশ। রেলপথে যাত্রী পরিবহণও ৫.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা রফতানি বেড়েছে ৯.৩ শতাংশ, যদিও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.১ শতাংশ। বিশেষভাবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি ১৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    রাজস্ব আদায়েও উন্নতি

    কেন্দ্র সরকারের রাজস্ব সংগ্রহেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। শুল্ক (কাস্টমস) আদায় বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক বেড়েছে ১৩.৯ শতাংশ এবং সিজিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষকদের সহায়তায় সার ভর্তুকি ২১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানগুলি ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে তৈরি নতুন জিডিপি সিরিজের আওতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নতুন সিরিজ চালু করা হয়। চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রভিশনাল অনুমানগুলি দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমানের পরিবর্তে প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, জিএসটি সংগ্রহ, কর্পোরেট ফলাফল, কৃষি উৎপাদন, পরিবহণ, বাণিজ্য এবং সরকারি আর্থিক তথ্যের মতো একাধিক সূচকের ভিত্তিতে এই হিসেব তৈরি করা হয়েছে।

    বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম ভারত

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছানো এবং শেষ ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

  • K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনার অবসান। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ছাড়লেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই (K Annamalai)। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে দল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্র গ্রহণের মাধ্যমেই দক্ষিণের রাজনীতিতে এক বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ফ্যান’ কে আন্নামালাই ২০২০ সালে আইএএস পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য। তবে ৬ বছরেই সেই যাত্রার ইতি হল।

    আন্নামালাইয়ের ইস্তফা গ্রহণ

    শুক্রবার বিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা গ্রহণ করেছেন। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন আন্নামালাই। উভয় সম্মতিতেই তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান বলে জানান। এরপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গেও দেখা করেন। তখন দলের তরফে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, আন্নামালাইকে রাজ্যসভার সাংসদ পদও অফার করা হয়, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন। আজ শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন তিনি।

    নতুন দল গঠন আন্নামালাই-এর

    ইস্তফাপত্রে আন্নামালাই লিখেছেন, “জাতীয় দলগুলি কখনও এমন ভাষায় কথা বলে না যা তামিলনাড়ুর মানুষেরা বোঝেন। আমি এই ধারণা বদল করতে চেয়েছিলাম এবং ভিতরে-বাইরে নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেএ বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছিলাম।” বিগত ১৮ মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন আন্নামালাই। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, “আমি শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আর বোঝা চাপাতে চাই না তামিলনাডুর রাজনীতি নিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে তামিলনাড়ু নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলে না।” ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দল গঠনের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নতুন দলের ব্যানারেই লড়াই করার ইঙ্গিত দেন আন্নামালাই।

    কেন দলত্যাগ আন্নামালাইয়ের

    ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন এই আমলার দলত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিজেপি ছেড়ে এবার আন্নামালাই নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্য়েই তাঁকে রাজ্য় বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। এক বছর পরে বিজেপি তাঁকে রাজ্য সভাপতি করে। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই এত বড় পদ পান আন্নামালাই। এরপরে ২০২৩ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কো-ইনচার্জও করা হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাধা নিয়েই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আন্নামালাই যে আসনে লড়তে চেয়েছিলেন, সেই আসন না দেওয়াতেই আরও বিরোধ তৈরি হয়। এআইএডিএমকে-র ইকে পালানিস্বামীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের জেরেই এই ইস্তফা বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সময়ের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (Modi on World Environmental Day) উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বহু বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবন পরিবেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশের গর্ব। দেশের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করে চলেছে।’’ তিনি বিশেষভাবে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড, স্নো লেপার্ড, স্লথ বিয়ার এবং চিতাবাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ লক্ষ হেক্টর নতুন বনাঞ্চল যুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের গভীর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই বার্তা ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতিফলন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    কবে থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস

    প্রতিবছর ৫ ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশনস-এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল যাদের মূল উদ্দেশ্য়। অতিরিক্ত শিল্পায়ন, প্লাস্টিকের ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শাহি বার্তা

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। সৌরশক্তি, ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং লক্ষ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতের বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধির হার বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) প্রকৃতি রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। গত ৬ বছরে তারা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে এবং সেগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং সুস্থ ভারত গড়ে তুলতে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।

    পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

    আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বছরভর বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন সকালে সল্টলেকের নলবনে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ‘একটি গাছ মায়ের নামে ২০২৬’। নলবনে এ দিন বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজির ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা। বৃক্ষরোপণের পরে নলবন ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যেও “এক পেড় মা কে নাম”

    প্রধানমন্ত্রীর “এক পেড় মা কে নাম” প্রকল্পের আদলে রাজ্যেও শুরু হচ্ছে বড়সড় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, এবার সেই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে গাছ লাগানোর বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে মোট প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা ও কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপণ করা হবে। ব্লক স্তরে ১০০টি করে এবং পুরসভা এলাকায় ২০০টি করে চারাগাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এছাড়া প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ১ হাজারটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সমন্বয় টিমও গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

  • CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    CBSE OSM Portal: সিবিএসই ওএসএম পোর্টালের দুর্বলতা ধরিয়ে তাক লাগালো তিন তরুণ ‘ভালো’ হ্যাকার, একজন বাঙালি

    সুশান্ত দাস

    দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বোর্ড সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)-এর নতুন চালু হওয়া ওএসএম (OSM) ব্যবস্থা নিয়ে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে গরমিল, এমনকি একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাগুলির কেন্দ্রে রয়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া তিন কিশোর— নিসর্গ আধিকারী, সার্থক সিদ্ধান্ত এবং বেদান্ত শ্রীবাস্তব। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কুয়েট (CUET) পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সমস্যার পর এই নতুন বিতর্ক দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    কী এই অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা?

    সম্প্রতি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও ডিজিটাল করতে সিবিএসই চালু করে অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের কাছে উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি অনলাইনে পাঠানো হয় এবং তাঁরা নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ-ইন করে মূল্যায়ন করেন। বোর্ডের দাবি ছিল, এর ফলে মূল্যায়ন দ্রুত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। কিন্তু চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    শিলিগুড়ির নিসর্গ আধিকারীর হ্যাকিংয়ে সামনে এল একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি

    শিলিগুড়ির বাসিন্দা ১৯ বছরের ছাত্র এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক নিসর্গ আধিকারী, যিনি এ বছরই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছেন, ২২ মে একটি ব্লগ পোস্টে ওএসএম (OSM) পোর্টালের একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করেন। আধিকারীর দাবি, তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ পোর্টালটি পরীক্ষা করে বেশ কিছু উদ্বেগজনক দুর্বলতা খুঁজে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In)-কে বিষয়টি জানান। তাঁর ব্লগে উল্লেখ করা হয়েছে, পোর্টালের কোডে একটি ‘‘হার্ডকোডেড মাস্টার পাসওয়ার্ড’’ ছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর আইডি এবং স্কুল কোড জানা থাকলে যে কেউ সেই মাস্টার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারত।

    নিসর্গ আধিকারীর দাবি অনুযায়ী—

    • ● ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা দুর্বল ছিল।
    • ● ওটিপি (One-Time Password) যাচাইকরণ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
    • ● পরীক্ষকের পরিচয়ে লগ-ইন করা সম্ভব ছিল।
    • ● পোর্টালে প্রবেশের পর মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি হতে পারত।

    তিনি জানান, এই তথ্য সার্ট-ইন-কে পাঠানোর পর একটি প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া পেলেও পরবর্তী একাধিক অনুস্মারকের কোনও উত্তর পাননি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিবিএসই প্রথমে অভিযোগগুলি অস্বীকার করলেও পরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানায় এবং অভিযোগ উত্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায়।

    উত্তরপত্রে ভয়াবহ গরমিল, অন্য ছাত্রের খাতা পেলেন পরীক্ষার্থী

    ওএসএম ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয় ১৭ বছরের ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনার পর। ২৩ মে ২০২৬-এ বেদান্ত সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, তিনি নিজের উত্তরপত্রের ফটোকপি চাওয়ার পর দেখতে পান যে পদার্থবিদ্যার যে উত্তরপত্র সিবিএসই তাঁকে দিয়েছে, সেটি তাঁর নয়। পরিবারের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। এমনকি তাঁদের ‘‘দেশবিরোধী’’ ও ‘‘পাকিস্তানি’’ বলেও আক্রমণ করা হয়। বেদান্তের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন নয়, তা-ও সামনে এসেছে। একাধিক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি ও মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

    টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন সার্থক সিদ্ধান্ত

    বিতর্কের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয় ৩০ মে, যখন ১৮ বছরের ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত একটি বিশদ ব্লগ পোস্টে অভিযোগ করেন যে সিবিএসই ইচ্ছাকৃতভাবে টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তন করে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দিয়েছে। ওএসএম (OSM) অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘কোএমপ্ট্ এডুটেক’ (Coempt Edu Teck)। সার্থকের দাবি, সরকারি সংস্থা হিসেবে সিবিএসঅর কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP)-এর মাধ্যমে সংস্থা নির্বাচন করতে হয়। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছিল—

    ১. কোম্পানির অতীত ব্যর্থতার মূল্যায়ন সংক্রান্ত ধারা বাদ

    যেসব ধারা কোনও সংস্থার অতীত চুক্তিভঙ্গ, আর্থিক ব্যর্থতা বা প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ দিত, সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ২. সফটওয়্যার মান নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড শিথিল

    সফটওয়্যার উন্নয়নের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কেপাবিলিটি ম্যাচুরিটি মডেল ইন্টিগ্রেশন (CMMI)-এর প্রয়োজনীয়তা লেভেল ৫ থেকে কমিয়ে লেভেল ৩ করা হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, CMMI লেভেল ৫ সর্বোচ্চ মানের সফটওয়্যার প্রক্রিয়া নির্দেশ করে। লেভেল ৩-এ নামিয়ে আনা হলে নিরাপত্তা ও গুণগত মানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩. স্ক্যানিং অবকাঠামোর মান কমানো

    সার্থকের দাবি, উত্তরপত্র স্ক্যান করার যন্ত্রপাতির মান সংক্রান্ত শর্তও শিথিল করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে যোগ্য করে তুলতেই নিয়মগুলি সংশোধন করা হয়েছিল।

    অতীতেও বিতর্কে জড়িয়েছিল সংস্থাটি

    সার্থক তাঁর প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, কোএমপ্ট্ এডুটেক অতীতে তেলঙ্গানা রাজ্যের পরীক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত ২০১৯ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল, যেখানে উত্তরপত্র স্ক্যানিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সরকারি তদন্তের ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    সিবিএসই-র প্রতিক্রিয়া

    ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মুখে সিবিএসই জানিয়েছে, তারা ওএসএম (OSM) পোর্টালের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়োগ করেছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনও নাগরিক বা পরীক্ষার্থী যদি কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় লক্ষ্য করেন, তবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    বড় প্রশ্নের মুখে দেশের ডিজিটাল পরীক্ষাব্যবস্থা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি পোর্টালের প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয় নয়। এটি দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, কুয়েট-এর প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং এখন সিবিএসই ওএসএম বিতর্ক— এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করা ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাগুলির ওপর আরও কঠোর প্রযুক্তিগত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে ছাত্র, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর সিবিএসই-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য সংস্কারই নির্ধারণ করবে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বোর্ড তার ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার উপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে।

    নিসর্গ-সার্থকদের কাজকে সাধুবাদ সংসদের স্থায়ী কমিটির

    নিসর্গ, বেদান্ত ও সার্থকের মতো তরুণ এথিক্যাল হ্যাকারদের এই দলটি ছোট হলেও ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এরা নীরবে দেশের শিক্ষা-পরিকাঠামোর নানা ত্রুটি ও নিরাপত্তা দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং কর্তৃপক্ষকে বহু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। সার্থককে সংসদের স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হতে সমন পাঠানো হয়েছিল। তিনিই এই কমিটির সামনে সাক্ষ্যদানকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। সেখানে তিনি যাবতীয় তথ্য পেশ করে, আমলা-কর্তাদের চোখ খুলে দেন। এর জন্য যথেষ্ট বাহবাও পেয়েছেন সার্থক। এথিক্যাল হ্যাকার নিসর্গ-সার্থকদের কাজ সংসদীয় কমিটি, সরকার এবং আমলাদের বাধ্য করেছে বিভিন্ন সরকারি পোর্টালের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে ও পদক্ষেপ নিতে। তাঁরা দেশের সামনে এক নির্মম আয়না তুলে ধরেছেন— আর সেই আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না পদাধিকারীদের।

  • DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    DMK: কংগ্রেসের সঙ্গে গোঁসা! ‘ইন্ডি’ জোটের অস্বস্তি বাড়িয়ে ৮ জুনের বিরোধী বৈঠকে গরহাজির ডিএমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ‘ইন্ডি’ (India Bloc) জোটের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। আগামী ৮ জুন আয়োজিত হতে চলা বিরোধী দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ুর ডিএমকে (DMK)। ডিএমকে-র এই আকস্মিক অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্য সুসংহত করার প্রচেষ্টায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবার তামিলনাড়ুর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ছাপ ফেলল সর্বভারতীয় স্তরের রাজনীতিতে। চিত্রতারকা-রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে)-এর সঙ্গে ভোট পরবর্তী জোট গড়ার কারণে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে আগেই কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। এবার তারা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকও বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল।

    অনুপস্থিতির কারণ ও ডিএমকে-র যুক্তি (DMK)

    ডিএমকে (DMK) সূত্রের খবর, ৮ জুনের এই বৈঠকটিতে দলের সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন (India Bloc) স্বয়ং উপস্থিত থাকতে পারছেন না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং রাজ্যে চলমান কিছু জরুরি প্রকল্পের পর্যালোচনার কারণে তিনি চেন্নাই ছাড়তে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই অনুপস্থিতির পেছনে কেবল প্রশাসনিক ব্যস্ততা নয়, বরং আসন সমঝোতা এবং জোটের নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনও কাজ করে থাকতে পারে।

    বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা

    আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্টকে শক্তিশালী করতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বাম দলগুলির মতো শীর্ষস্থানীয় দলগুলির এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে ডিএমকে-র (India Bloc) মতো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক দলের দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রূপায়ণে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের (India Bloc) প্রথম সারির শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি যদি এখনই দূর করা না যায়, তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া বিরোধী শিবিরের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী সোমাবার (৮ জুন) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের বৈঠক। কংগ্রেস, তৃণমূল, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা, শরদ পওয়ারের এনসিপি (এস), ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং বাম দলগুলি তাতে যোগ দিতে পারে। স্ট্যালিনের দল ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। তারা যদি বৈঠকে গরহাজির থাকে , তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটে ফাটল স্পষ্ট হবে।

LinkedIn
Share