Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Pulwama Attack: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী! ফের পাকভূমে ভারত-বিরোধী জঙ্গি নিধন

    Pulwama Attack: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী! ফের পাকভূমে ভারত-বিরোধী জঙ্গি নিধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী (Pulwama attack mastermind dead) হামজা বুরহান (Hamza Burhan)। বৃহস্পতিবার মুজাফ্ফরবাদে একদল অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায়। এরপরই মৃত্যু তার। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হামজা বুরহানের মৃত্যুতে দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গি নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

    পুলওয়ামা থেকে পাকিস্তান যাত্রা হামজার

    পুলওয়ামার রত্নীপোরা এলাকার খারবাতপোরায় জন্মগ্রহণ করে হামজা। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য সে পাকিস্তানে পাড়ি দেয়। সেখানেই সে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-বদরে যোগ দেয়। কয়েকদিনের মধ্যে সে কমান্ডার পদে উন্নীত হয়। এরপর সে পুলওয়ামায় ফিরে আসে। সেখানেই সে যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গি বানানোর কাজে নিয়োজিত হয়। জানা যায়, পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত হামজার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল। পুলওয়ামা হামলা ছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল হামজা। বিশেষভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরি যুবকদের বিপথে চালিত করার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। পুলওয়ামার বাসিন্দা হামজা ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাকে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করে। হামজার আসল নাম আরজুমান্দ গুলজার দার।

    পুলওয়ামায় হামলাকারীদের বিস্ফোরক জুগিয়েছিল হামজা 

    ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪০ জন সেনা জওয়ান। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। এই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হামজা বুরহানকে চিহ্নিত করেছিল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল, পুলওয়ামায় হামলাকারীদের গ্রেনেড, বিস্ফোরক জুগিয়েছিল হামজা। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর সিআরপিএফ জওয়ানের উপরে হামলার ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল তার। তার পরে দীর্ঘ তল্লাশি চলে। কিন্তু হামজা কোনও মতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।

    কীভাবে পাকিস্তানে নিরাপদে আশ্রয়

    ভারতে এত বড় নাশকতা চালানোর পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে পাকিস্তানে ‘শিক্ষক’ সেজে লুকিয়ে ছিল সে। এমনকী জানা গিয়েছে, সমাজের চোখে ধুলো দিতে সে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকও বনে গিয়েছিল। ওই স্কুলটিকে সে নিজের আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। অভিযোগ, ভারতের বিরুদ্ধে এত সব নাশকতামূলক কাজ করার জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে সব রকম সাহায্য করত। মুজফফরাবাদে তাকে একটি অফিসও দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন তার দায় স্বীকার করেনি। সেখানেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখনও কোনও জঙ্গি সংগঠন তার দায় স্বীকার করেনি। গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বেছে বেছে ‘ভারতশত্রু’দের খতম করা হচ্ছে। কিন্তু এর নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

  • PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত উপহারের মাধ্যমে (যার মধ্যে ‘মেলোডি-মেলোনি’ বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল) ভারতের কারুশিল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক পরম্পরার গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উপহারের মোড়কে ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতি (PM Modi)

    প্রতিটি উপহার ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। এর মধ্যে রয়েছে মণিপুরের হ্যান্ডলুম ঐতিহ্য থেকে শুরু করে মার্বেল ইনলে শিল্পের চিরন্তন সৌন্দর্য এবং মহারাষ্ট্রের মিলেট সংস্কৃতিও। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন একটি শিরুই লিলি সিল্ক স্টোল, যা মণিপুরের এক টুকরো সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে (PM Modi)। দুর্লভ শিরুই লিলি ফুলের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই স্টোলটি ছিল ঘণ্টাকৃতি এক বিশেষ ফুলের প্রতিরূপ, যা শুধুমাত্র মণিপুরের উখরুল জেলার শিরুই কাশং পাহাড়ে ফোটে। এই স্টোলটি উত্তর-পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যের সমৃদ্ধ বয়নশিল্পের প্রতীক। সূক্ষ্ম, মার্জিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বস্ত্র-ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই উপহারটি নীরবে তুলে ধরেছিল আদিবাসী ঐতিহ্য ও লোককথাকে।

    লিলি ফুলের গুরুত্ব

    এই লিলি ফুল ইতালির সংস্কৃতিতেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। সেখানে এটি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও শিল্পকলার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, বারবার ব্যবহৃত হয়েছে রেনেসাঁ শিল্পকলায়। এই অভিন্ন প্রতীকের মধ্যেই ভারত ও ইতালির মধ্যে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ গড়ে ওঠে — যা ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নির্মিত। শুধু স্টোল নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মেলেনিকে উপহার দেন মুগা সিল্কের একটি স্টোলও। এই সিল্ক অসমের ‘সোনালি রেশম’ নামে পরিচিত। এতে প্রাকৃতিক সোনালি আভা রয়েছে। এটি ভারতের অন্যতম মূল্যবান বস্ত্র। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এই রেশম তার টেকসই ক্ষমতা এবং অসাধারণ স্থায়িত্বের জন্য সুপরিচিত। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে।

    উপহারে মার্বেল ইনলে কাজের বাক্স

    ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাত্তারেল্লাকে প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে দেন মার্বেল ইনলে কাজের একটি বাক্স। সঙ্গে ভারতের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পন্ডিত ভীমসেন জোশী এবং এমএস শুভলক্ষ্মীর গাওয়া গানের সিডি। ভারতের দুই শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত কিংবদন্তির গানের সঙ্গে এই উপহারটি এক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের রূপ নেয়। তাজমহলের মতো স্থাপত্যে দেখা যায় যে মার্বেল ইনলে শিল্প, তা ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্যের প্রতীক। ‘পচ্চিকারি’ বা ‘পিয়েত্রা দুরা’ নামে পরিচিত এই শিল্পধারা মূলত ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। পরে অবশ্য রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এটি মহিমান্বিত রূপ পায় ভারতে (PM Modi)।

    উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বারও

    এদিকে, খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর কিউ ডংইউকে উপহার দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর মিলেট বার। এটি টেকসই ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর, আহমেদনগর ও মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে মিলেট দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপহারের মাধ্যমে ভারত বিশ্বব্যাপী মিলেটকে জলবায়ু সহনশীল ‘সুপারগ্রেন’ হিসেবে প্রচারের বার্তাও সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে — যা একদিকে ঐতিহ্যবাহী, অন্যদিকে ভবিষ্যতমুখী (PM Modi)।

    মোদির কূটনীতিতে বৈচিত্র্য

    এই উপহারগুলি স্রেফ আনুষ্ঠানিক বিনিময় ছিল না, বরং ভারতের ‘সফট পাওয়ার’-এর নীরব অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছিল। বস্ত্র, সঙ্গীত, কারুশিল্প ও খাদ্যের মাধ্যমে ভারত তার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গভীরতা তুলে ধরেছে, একইসঙ্গে আরও মজবুত করেছে আন্তর্জাতিক মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে। এক অর্থে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারগুলি প্রমাণ করে, আজকের কূটনীতি শুধুই নীতি ও রাজনীতির দ্বারা নয়, বরং দেশগুলি বিশ্বের সঙ্গে যে গল্প, ঐতিহ্য ও পরিচয় ভাগ করে নিতে চায়, তার মাধ্যমেও গঠিত হয় (PM Modi)।

     

  • India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Slams Pakistan: ‘কলঙ্কিত গণহত্যার ইতিহাস’ স্মরণ করিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত। বুধবার নয়াদিল্লির প্রতিনিধি সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাস প্রমাণ করে যে (India Slams Pakistan) তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশীয় ও সীমান্তের বাইরে হিংসার আশ্রয় নেয়। ‘সশস্ত্র সংঘাতে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক খোলা বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি (Harish Parvathaneni)। এই বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রতিনিধিও। জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরিশ বলেন, “এটা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক যে পাকিস্তান, যার দীর্ঘদিনের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে, তারা ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করছে।”

    বর্বর বিমান হামলা (India Slams Pakistan)

    চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্ব ভুলে যায়নি যে চলতি বছরের মার্চ মাসে, পবিত্র রমজান মাসে—যা শান্তি, আত্মবিশ্লেষণ ও করুণার সময়—পাকিস্তান কাবুলের ওমিড অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হসপিটালে (Omid Addiction Treatment Hospital) বর্বর বিমান হামলা চালায়।” রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (UNAMA) তথ্য উদ্ধৃত করে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “এই কাপুরুষোচিত ও নৃশংস হামলায় ২৬৯ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। জখম হন ১২২ জন। হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনওভাবেই সামরিক টার্গেট বলা যায় না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক (India Slams Pakistan) আইনের উচ্চ নীতির কথা বলা ভন্ডামি। কারণ তারা অন্ধকারে নিরীহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে।”

    রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন

    প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমান হামলা তারাবির নামজের পরপরই হয়েছিল, যখন বহু রোগীও মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হরিশ বলেন, “রাষ্ট্রসসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী সীমান্তপারের সশস্ত্র হিংসার কারণে ৯৪,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পাকিস্তানের এই ধরনের আগ্রাসন আশ্চর্যের কিছু নয়, কারণ এটি এমন একটি দেশ যারা নিজেদের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে, চালায় পরিকল্পিত গণহত্যাও।” তাঁর অভিযোগ, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight) চালানোর সময় পাক সেনাবাহিনী ৪ লাখ মহিলার ওপর পরিকল্পিত গণধর্ষণ চালায়। এর পরেই ভারত সাফ (UNSC) জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলাটা ভারতের অভ্যন্তরীণ (India Slams Pakistan) বিষয়ে হস্তক্ষেপের নামান্তর। তাই এই গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    India Italy Relation: ‘মেলোডি’-র হাত ধরে ভারত-ইটালির কূটনীতিতে নয়া মোড়! কী হল মোদি-মেলোনি বৈঠকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতিতে চকোলেটের মতো মিষ্টি-মধুর সম্পর্ক তৈরি হল ভারত-ইটালির (India Italy Relation)। ‘মেলোডি’ শুধু দুই ব্যক্তির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়নেই থেমে থাকল না। বুধবার ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে পাশে (Modi-Meloni Meet) নিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ পরিণত করার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জানিয়ে দিলেন বাণিজ্য থেকে প্রতিরক্ষায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দুই দেশ। মোদি-মোলোনির বন্ধুত্বের ছাপ পড়ল দুই দেশের সম্পর্কেও। যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর কথা জানিয়ে জর্জিয়া বলেন, ‘বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটিকে আমরা ২২ বিলিয়ন ইউরোতে নিয়ে যেতে চাই।’

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চান ‘মেলোডি’। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সময়ে ইটালির সমর্থনের জন্য মেলোনিকে ধন্যবাদ জানান মোদি। সোজাসুজি বলে দেন, ‘দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান, তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’ ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০০০ কোটি ইউরোতে (সাড়ে ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) পৌঁছোনোর যৌথ লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ভারতে ৮০০-র বেশি ইটালির সংস্থা কাজ করছে।

    ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার

    প্রযুক্তির উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও অসামরিক পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত-ইতালির কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’ দুই দেশের স্টার্টআপ, গবেষণা কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রকে যুক্ত করতে একটি ‘ইন্ডিয়া-ইটালি ইনোভেশন সেন্টার’ গড়ে তোলার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা এবং ক্লিন এনার্জি খাতেও একসঙ্গে কাজ হবে বলে ঘোষণা করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং জ্বালানি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক নিবিড় করার কথা জানানো হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে।

    লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি

    ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গও এসেছে যৌথ বিবৃতিতে। বৈঠকের পরে মোদি বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের অংশীদারির চালিকাশক্তি। এআই, কোয়ান্টাম, মহাকাশ এবং অসামরিক পারমাণু শক্তির মতো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।” জাহাজ চলাচল, বন্দর আধুনিকীকরণ, লজিস্টিকস এবং ব্লু ইকোনমি আগামী দিনে নয়াদিল্লি-রোম সম্পর্কের অন্যতম ভরকেন্দ্র হবে বলেও জানান মোদি। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা— ‘‘হেলিকপ্টার, নৌ-প্ল্যাটফর্ম-সহ সমুদ্র-যুদ্ধের উপযোগী অস্ত্র এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা—সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।’’

    প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির

    ২০ মে রোমের কুইরিনালে প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট মাত্তারেল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-ইটালি সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও এআই। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার উপর জোর দেন দুই নেতা। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথে স্বাধীন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর

    দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি)-এ সহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। মেলোনি জানিয়েছেন, বিশেষত ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও দক্ষ কর্মীদের যাতায়াত বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে গাজায় যাওয়া জাহাজ আটক করা নিয়ে ইজরায়েলের সমালোচনা করেন মেলোনি।

    ভারত-ইটালি নিয়মিত আলোচনা

    মোদি-মেলোনি বৈঠকে স্থির হয়, দুই দেশ প্রতি বছর শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক করবে এবং নিয়মিত মন্ত্রীস্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুজরাটের লোথালে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা এবং ভারতীয় নার্স নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারত ও ইতালি ২০২৭ সালকে সংস্কৃতি এবং পর্যটনের বছর “Year of Culture and Tourism” হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    একে অপরের পরিপূরক

    যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ইটালির ডিজাইন ও জিনিস তৈরির দক্ষতা এবং ভারতের উদ্ভাবনী চিন্তা একে অপরের পরিপূরক। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে জানান, ভারত-ইতালি সম্পর্ক এখন এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বৈঠকের বাইরেও নজর কাড়ে মোদি-মেলোনি দুই নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্ত। কূটনীতির টেবিলে চুক্তির কালি শুকোতে সময় লাগে। তবে ‘মেলোডি’র মিষ্টি স্বাদ বুঝিয়ে দিয়েছে— ভারত ও ইটালির সম্পর্ক এখন শুধু কাগজে-কলমে নয়, তাতে অন্য রসায়নও দানা বাঁধছে।

     

     

     

  • PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    PM Modi: মোদির মুকুটে নয়া তাজ, পেলেন রাষ্ট্রসংঘের ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’, উৎসর্গ করলেন ভারতের কৃষকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রাষ্ট্রসংঘের অধীনস্থ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সংক্ষেপে ‘ফাও’ (FAO)-এর সর্বোচ্চ সম্মান ‘অ্যাগ্রিকোলা মেডেল’ দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi)। ‘ফাও’ প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর। এটি ভারতের কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সম্মান (Indian Farmers)। আমি এই পদক ভারতের কৃষকদের উৎসর্গ করছি।” তিনি বলেন, “ভারতে কৃষিই মূলধারা। আমরা আমাদের ভূমিকে পুজো করি।”

    মানুষের কল্যাণে মোদির অবদান (PM Modi)

    রোমে ‘ফাও’-র সদর দফতরের ঐতিহাসিক প্লেনারি হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থার মহাসচিব কিউ দংয়ু (Qu Dongyu) এই পদক তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হাতে। তিনি বলেন, “মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান ও অঙ্গীকার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃষকদের কল্যাণে যুগান্তকারী প্রকল্প চালুর জন্য এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, সর্বজনীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রসংঘের কৌশলগত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) পূরণ এবং ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের সময় আন্তর্জাতিক স্তরে কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা

    তিনি ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেন। কৃষক-কেন্দ্রিক, উদ্ভাবনী ও যুগান্তকারী উদ্যোগগুলিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। ‘ফাও’-র মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের খাদ্য ও কৃষি সংক্রান্ত উদ্যোগগুলির ব্যাপকতা ও প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ভারতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি, করোনা অতিমারির পর থেকে ৮০ কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, ১১ কোটিরও বেশি কৃষককে সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া, প্রাকৃতিক ও পুনর্জাগরণমূলক কৃষির উন্নয়নে জাতীয় উদ্যোগ এবং ফাও-র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ উদযাপনের প্রশংসা করেন (PM Modi)।

    মোদির ক্রেডিট

    তিনি এও বলেন, “ভারতের জি২০ সম্মেলনে সভাপতিত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামোকে বিশ্বজনীন সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকর পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে (Indian Farmers)।” তাঁর মতে, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে ভারতে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে (PM Modi)।

  • PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    PM Modi: আগামী মাসেই ফ্রান্সে মুখোমুখি মোদি-ট্রাম্প! কী নিয়ে হতে পারে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তারপর থেকে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (G7 Summit) মুখোমুখি হওয়া হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার। এবার হবে। জুন মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই ফের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই ‘মহান বন্ধু’। ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্টাইলের কারণে একটি ছোট্ট দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এতে কি আর ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক টানাপোড়েন কমবে? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে জুন পর্যন্ত।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলন (PM Modi)

    ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে নিয়মিত যোগ দেয় এই সম্মেলনে। এ বছর ওই সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ স্বয়ং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (Evian-les-Bains) ১৫-১৭ জুন হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে বসার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হয়েছিলেন মোদি ও ট্রাম্প। শুল্ক উত্তেজনার পটভূমিতে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প মোদিকে ‘মহান বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর অঙ্গীকারও করেছিলেন এই দুই রাষ্ট্রনেতা।

    নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্পের দাবি

    যদিও গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাশী ট্রাম্প হঠাৎই দাবি করতে থাকেন, ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি হয়েছে তাঁরই মধ্যস্থতায়। এর পর থেকে ট্রাম্প যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বলে বেড়িয়েছেন, তাঁরই বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পুরোপুরি যুদ্ধে জড়ায়নি। ট্রাম্পের এহেন ঘোষণায় খুব খুশি হয়েছিল শাহবাজ শরিফের দেশ। তবে পাকিস্তান ট্রাম্পের প্রশংসা করলেও, ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধবিরতি হয়েছে সরাসরি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা করেই, কারও মধ্যস্থতায় নয়। বস্তুত, এর পর থেকেই তলানিতে ঠেকে দুই ‘হুজুরে’র সম্পর্ক (G7 Summit)।

    ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান

    গত বছর জুনে কানাডায় হয়েছিল জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে পার্শ্ব বৈঠকে ফের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল এই দুই নেতার। যদিও ট্রাম্প হঠাৎ করেই সম্মেলন ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাতিল হয়ে যায় প্রস্তাবিত বৈঠক। পরে অবশ্য ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা থেকে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থামার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু মোদির পূর্বনির্ধারিত ক্রোয়েশিয়া সফর থাকায়, সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সরকারি কর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভারতের আশঙ্কা ছিল যে ট্রাম্প হয়ত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে মোদিকে নিয়ে একটি ছবি তোলার জন্য চাপ দিতে পারেন। সেই সময় একইসঙ্গে (PM Modi) হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মুনিরকেও।

    ভারতকে শায়েস্তা করার চেষ্টা

    তার পর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই অবনতি হয়েছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের। ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় ভারতকে শায়েস্তা করতে চেষ্টার কম কসুর করেননি ট্রাম্প। তাঁর সরকার প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। রাশিয়ার তেল কেনায় বসানো হয় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও। ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) এবং পিটার নাভারো (Peter Navarro) বারবার অভিযোগ করেন, রাশিয়ার তেল কিনে ঘুরপথে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে ভারত। এই শুল্ক-চাপ মূলত ভারতকে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে থাকা একটি বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি করানোর মরিয়া চেষ্টা ছিল বলেই খবর (G7 Summit)।

    সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত

    এই পুরো পর্বটায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মাথা নত করেননি ট্রাম্পের চাপের কাছে। শুধু তা-ই নয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শার্ম এল-শেখ এবং কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান (ASEAN) সম্মেলনের মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানও এড়িয়ে যান। কারণ সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারত ট্রাম্পের। গত সেপ্টেম্বরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মেলে। ট্রাম্প জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। ফের গতি পায় বাণিজ্য আলোচনা। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক কমিয়ে করা হয় ১৮ শতাংশ। বিভিন্ন সময় ট্রাম্পের করা মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আবারও শোনা কিংবা দেখা যায় পরিচিত বাক্য — “ইন্ডিয়া থেকে আমার বন্ধু” (PM Modi)।

    ট্রাম্পের মুখে মোদি-স্তুতি

    তবে ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিলের রায়ের কারণে আটকে যায় আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি সই। ১৭ এপ্রিল টানা ৪০ মিনিট ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। চলতি বছরে এটি ছিল তাঁদের তৃতীয় ফোনালাপ। যদিও সেই কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে শোনা যায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদি-ট্রাম্প। ফোনালাপের পর (G7 Summit) সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ওঁর (মোদির) সঙ্গে আমার খুব ভালো কথা হয়েছে। উনি ভারত থেকে আমার বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন।” এই প্রেক্ষিতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ফের মুখোমুখি হতে পারেন মোদি ও ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্র প্রধানের এই সাক্ষাৎই কেড়ে নিতে পারে তামাম দুনিয়ার নজর (PM Modi)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হাসি, করমর্দন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের বাইরেও হবে আসল পরীক্ষা — দুই দেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে উঠতে পারে কি না। খুব সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত আলাপও দিকনির্দেশ করে দিতে পারে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের।

     

  • Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    Modi-Meloni Meet: রোমে ‘মেলোডি’ সন্ধ্যা! কলোসিয়ামে সেলফি, গাড়িতে সফর, নৈশভোজে মোদি-মেলোনির ছবি ভাইরাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রোমে পা দিতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) স্বাগত জানালেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)। সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘রোমে স্বাগত বন্ধু’। মঙ্গলবার রোমে পৌঁছেই ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ, গাড়িতে সফর এবং ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে সেলফিতে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বুধবারের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই দুই নেতার এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তগুলি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে মোদি

    পাঁচ দেশীয় সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চার দেশে সফর শেষে ইটালিতে এসে পৌঁছেছেন তিনি। ইটালিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশই যৌথ কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে। ২০২৫-’২৯ এই সময়কালকে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে যৌথ নিবন্ধও লিখেছেন মোদি ও মেলোনি। ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে মোদির কেমিস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। মোদির সঙ্গে মেলোনির এটি সপ্তম সাক্ষাৎ। আর সেই সাক্ষাতের একের পর এক ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এদিন নীল কুর্তা পাজামা ও বন্ধগলা কোটে অন্যরকম লুকে ধরা দেন নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, কালার কনট্রাস্টে বেবি পিঙ্ক টপ ও সাদা ট্রাইজার পরেছিলেন জর্জিয়া মেলোনি। এর আগেও মোদি-মেলোনির একাধিক সেলফি চর্চার বিষয়বস্তু হয়েছিল।

    মোদি-মেলোনি একই ফ্রেমে

    জর্জিয়া মেলোনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফি তুলে পোস্ট করেছেন। সেই পোস্টেই মোদিকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি। যা লক্ষ লক্ষ লাইক ও শেয়ার হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদিও রোম সফরের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেলোনির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছেন তিনি, পাশাপাশি নৈশভোজ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন দুই নেতা। মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজ ও ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বুধবারের বৈঠকে ভারত-ইতালি বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।” রোমের রাতের আলোয় আলোকিত কলোসিয়ামের সামনে মোদি-মেলোনির ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লক্ষাধিক মানুষ সেই ছবি দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন। নেটিজেনদের মধ্যে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় “মেলোডি” শব্দবন্ধ— যা ‘মেলোনি’ ও ‘মোদি’-র নাম মিলিয়ে তৈরি। জর্জিয়া মেলোনি নিজেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। “মেলোডি”-র উষ্ণ রসায়ন ফের নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

    দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক

    গত কয়েক বছরে দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়েছে। ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক করিডরের বিষয়টিও মোদি মেলোনির মধ্যে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল। এই করিডোর ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও সংযোগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী রোমে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতরেও যাবেন। সেখানে তিনি খাদ্য সুরক্ষা, কৃষি সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন। ২০২৪ সালের জুনে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এটাই মোদির ইটালিতে প্রথম সফর। রোমে অবতরণ করার পর পরই এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, ‘এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইটালি সহযোগিতা কী ভাবে বৃদ্ধি করা যায়। বিশেষ করে ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের উপর আলোকপাত করা হবে।’

    আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য

    পাঁচ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন মোদি। নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি ঘুরে শেষ পর্যায়ে এখন রোমে রয়েছেন তিনি। ইটালি থেকেই ভারতে ফিরবেন মোদি। তাঁর এই রোম সফর দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে মত কূটনৈতিক মহলের। ইটালির এক প্রশাসনিক কর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দু’দেশই নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নতি করতে চাইবে। চলতি বছরের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ভারত। এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, আমেরিকার উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এটাই ছিল মোদির প্রথম ইউরোপ সফর।

    মোদি-মেলোনি কী কী নিয়ে আলোচনা

    বুধবার ভিলা ডোরিয়া পামফিলিতে ইটালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা দু’দেশের অংশীদারি জোরদার করার জন্য একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ২০২৩ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১,৪০০ কোটি ইউরো। ২০২৯ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ দু’হাজার কোটিতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নয়, তার পরে মোদি ও মেলোনি দু’দেশের শিল্পপতিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সূত্রের খবর, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার বিষেয়ে আলোচনা হতে পারে। আবার একাংশের মতে, সামুদ্রিক পরিবহণ, কৃষি, উচ্চশিক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, আর্থিক অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাডা়ও, পশ্চিম এশিয়া, ইউক্রেন এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে মোদি-মেলোনির মধ্যে। মেলোনি ছাড়াও ইটালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লার (Sergio Mattarella) সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা মোদির। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দফতর পরিদর্শন করার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে (India Nordic Partnership) যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক সম্পর্কে জানান, “অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, যা নর্ডিক অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গভীরতা ও গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।” এই সম্মেলনে ভারত এবং নর্ডিক দেশগুলি—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের নেতারা—ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করতে একত্রিত হন। আলোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।বহুপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয়গুলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আলোচনা টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।”

    ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক উত্তর ইউরোপে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মূল নীতিগুলি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও নর্ডিক দেশগুলি যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমে একত্রিত।” মূল সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত সংযুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় (PM Modi)। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলিতে উত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয় (India Nordic Partnership)।

    আইসল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি

    প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিয়ার (Kristrun Frostadottir)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সম্পদ উন্নয়নে নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর বৈঠক হয়েছে। ভারত আইসল্যান্ডের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্য দেয়।” দুই নেতা নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই মৎস্য শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন (PM Modi)। আইসল্যান্ডের বিশেষ অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্লু- ইকোনমি সম্পর্কিত ক্ষেত্রে আইসল্যান্ডের দক্ষতা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া-ইএফটিএ (India-EFTA TEPA) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও গতি দেবে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আলোচনায় উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, আর্কটিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ও ছিল (India Nordic Partnership)। তিনি বলেন, “দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেছেন।” এরপর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরি অর্পোর (Petteri Orpo) সঙ্গে। দুই রাষ্ট্রনেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি এবং ৬জি নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দুই নেতা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন (PM Modi)।

    বৈঠক ডেনমার্কের সঙ্গেও

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টি ফ্রেডেরিকসেনের (Mette Frederiksen) সঙ্গেও। দুই দেশের মধ্যে সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত এবং টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা বাড়াতেই হয় এই বৈঠক। পাঁচটি নর্ডিক দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং তারা সবুজ রূপান্তর মডেলের ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী। প্রসঙ্গত, সোমবার সুইডেন থেকে নরওয়েতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল তাঁর ১৫-২০ মে পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি সফর নিয়ে গঠিত পাঁচ দেশের বিস্তৃত সফরের অংশ। নরওয়ের রাজধানীতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি (India Nordic Partnership) সফরের শেষ পর্যায়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন (PM Modi)।

     

  • Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের রাজধানী অসলোয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং বৈচিত্র্যের পক্ষে সওয়াল করল (Sibi George) বিদেশমন্ত্রক (MEA)।   সোমবার এই আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময়। এই সময় সে দেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় ভারতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে (Norway Journalist Row)। অসলোয় বিদেশমন্ত্রকের সেক্রেটারি (ওয়েস্ট) সিবি জর্জ নরওয়ের সাংবাদিকের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নরওয়ের এক সাংবাদিক বারবার ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, “আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করব?”

    কী বললেন জর্জ (Sibi George)?

    এর জবাবে জর্জ বলেন, “আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা জনগণের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। আমাদের দেশে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালেই আমরা নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এবং তাঁরাও সেই স্বাধীনতা পেয়েছেন।” তিনি এও বলেন, “অনেক দেশে নারীদের ভোটাধিকার ভারতের বহু দশক পরে এসেছে। কারণ আমরা সমতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কী? সরকার পরিবর্তনের অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার। আর সেটাই ভারতে হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত।” প্রশ্নোত্তর-পর্বে ওই সাংবাদিক বারবার বাধা দিলে জর্জ দৃঢ়ভাবে বলেন,
    “দয়া করে আমায় উত্তর দিতে দিন, বাধা দেবেন না। আপনি প্রশ্ন করেছেন—এটি আমার প্রেস কনফারেন্স। আপনি জানতে চেয়েছেন কেন একটি দেশ ভারতের ওপর ভরসা করবে, আমায় সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিন।”

    ভারতে রয়েছে আইনের শাসন

    ভারতের বহু ভাষাভিত্তিক এবং প্রাণবন্ত সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে জর্জ (Sibi George) বলেন, “আপনারা জানেন প্রতিদিন কত খবর প্রকাশিত হয়? শুধুমাত্র দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে—ইংরেজি, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায়। মানুষ ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে বোঝেন না।” তিনি বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ, যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সবসময় নিয়ম মেনে চলেছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করি। এটাই ভারতের সুনাম।”

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্য

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কার্যকলাপ এবং গণিত, সংস্কৃতি ও বিশ্ব ঐতিহ্যে ভারতের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন জর্জ। তিনি (Sibi George) বলেন, “চারদিকে তাকালেই আপনি ভারতের সংযোগ দেখতে পাবেন। আপনার ফোনে যে সংখ্যা ব্যবহার করেন, তার উৎপত্তিও ভারতে। ‘শূন্যে’র উৎপত্তিও ভারতে। দাবার উৎপত্তি ভারতে। এই সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্বিত (Norway Journalist Row)। আজ বিশ্ব যে যোগব্যায়ামকে সম্মান করে, তারও জন্ম ভারতে। ভারতের মহাকাব্য ও প্রাচীন গ্রন্থ রয়েছে।”

     

LinkedIn
Share