Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ অনুপ্রবেশের বিশাল চক্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে  এই চক্র একেবারেই কাজ করতে পারছে না। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি এবং তার আর্থিক বিস্তার পুরোপুরিভাবে ব্যহত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত সোনাই ও ইছামতী নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ‘ঘাট’, যেগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো হতো মানুষকে। স্থানীয় ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ধুর পারাপার’। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কাজ এখন প্রায় বন্ধ।

    কীভাবে চলত অনুপ্রবেশের চক্র?

    সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের দিকের দালালরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি নজরে রেখে অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের কাছে জড়ো করত। অন্যদিকে ভারতের অংশে থাকা ‘লাইনম্যান’রা ধান ও পাটখেতের আড়ালে থেকে বিএসএফের টহল পর্যবেক্ষণ করত। নিরাপদ সংকেত মিললেই ‘ঘাট পার্টি’ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার করিয়ে আনত। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো সীমান্তের দুই দেশের সিম কার্ড। আর্থিক লেনদেন চলত মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অ্যাপ বিকাশ (bKash)-এর মাধ্যমে।

    বছরে ৮০০-৯০০ কোটি টাকার কারবার!

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভারতে প্রবেশের জন্য প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিতে হতো। এর মধ্যে ভারতীয় দালালদের ভাগে আসত প্রায় ৩ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। অনুপ্রবেশকারীদের পরে শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতো বড় পরিবহণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল গাইডদের ওপর। শুধু হাকিমপুর সীমান্ত এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জনের অবৈধ প্রবেশ ঘটত বলে দাবি করা হয়েছে। এক একটি ঘাট থেকে মাসে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আয় হতো। হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,০০০টি ঐতিহাসিক পারাপার-পয়েন্টকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ ব্যবসার মাসিক আয় ছিল ৭০-৮০ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।

    জাল নথি তৈরির অভিযোগ

    এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও ব্লকস্তরের কর্মীরা ভুয়ো জন্মসনদ, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরিতে সহায়তা করতেন। স্বরূপনগরের এক প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এমনই এক জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নকল জন্মসনদকে পুরনো দেখানোর জন্য বিশেষ কৌশলে কাগজে দাগ তৈরি করে এবং চালের বস্তার মধ্যে রেখে কৃত্রিমভাবে ‘পুরনো’ করে তুলেছিলেন। ফলে নথিটি প্রথমদিকে যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়েনি।

    কড়া নজরদারিতে ভেঙে পড়েছে চক্র?

    ভোটার তালিকা সংশোধন, নথি যাচাই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় এই সিন্ডিকেট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সীমান্তের একাধিক চেকপোস্টে আত্মসমর্পণের ঘটনাও বেড়েছে বলে। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” (শনাক্তকরণ, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতি গ্রহণ করে একটি কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এই উদ্যোগের ফলে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদার মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

    রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদলের পরে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    • সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর: আটক অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে (RPF) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • হোল্ডিং সেন্টার: অবৈধ বিদেশিদের যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার আগে রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” বা আটককেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
    • সীমান্ত কাঁটাতার: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ চক্র রুখতে রাজ্য সরকার বিএসএফের হাতে দ্রুত জমি হস্তান্তর করছে।  ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে, বলে জানিয়েছে শুভেন্দু সরকার। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তের সুরক্ষার্থে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর মুখে পূর্বের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অভিযোগ শোনা গিয়েছে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে।
    • সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা: সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসাম্প্রতিক অভিযানে হাজার হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোচবিহারের কুচলিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে বিএসএফের সতর্ক নজরদারির কারণে একাধিক বড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা-রক্ষা বাহিনীতে আরও বেশি করে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজ্যে এই প্রথম দু’টি বিশেষ মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন (SPRF Battalions) গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ব্যাটালিয়নের নাম রাখা হচ্ছে বাংলার দুই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানি শিরোমণির (Matangini Hazra Rani Shiromani) নামে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

    নয়া মহিলা ব্যাটালিয়নের কাজ (Matangini Hazra Rani Shiromani)

    প্রশ্ন হল, কী কী দায়িত্ব পালন করবে নতুন মহিলা ব্যাটালিয়ন? সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়নগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে— নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা-বিরোধী অভিযান চালানো, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম মহিলা পুলিশ সদস্যদের দাঙ্গা দমন অভিযানে মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা আরও ডানা মেলতে চলেছে। জানা গিয়েছে, মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের জন্য উপযুক্ত জমি ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে জায়গা বেছে নেওয়া হবে।

    মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ

    এদিকে, রানি শিরোমণি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হবে ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকার এসএপি (SAP) ৮ম ব্যাটালিয়নের যে ক্যাম্পাস রয়েছে, সেখানে। সেখানে আগে থেকেই যে পরিকাঠামো রয়েছে, সেটি ব্যবহার করে দ্রুত এই ইউনিটকে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য পৃথক পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন রাজ্যে মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ তৈরি করবে। এর (SPRF Battalions) পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলা, সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নারী (Matangini Hazra Rani Shiromani) ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কার্যক্ষমতা এবং জনসুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    PM Modi Bengal Visit: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রাজ্যবাসীকে বাংলায় বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, তারকেশ্বরেই কেন আয়োজন? জেনে নিন ঐতিহাসিক কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ সফরে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন— একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকেই এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বাংলার মানুষকে বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জাতীয় অবদানের প্রশংসা শোনা যায়। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবেই থাকবে। এর পেছনে ছিল ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান। ২০২৬ সালে, আমরা ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীও পালন করছি। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আমি পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি এবং পশ্চিমবঙ্গবাসীর সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি।’’

    ওড়িশা থেকে কলাইকুণ্ডা, তারপর তারকেশ্বর

    প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার, ওড়িশার কর্মসূচি শেষ করে দুপুর প্রায় ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটিতে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় ৫টা পর্যন্ত তারকেশ্বরে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জনসভায় বক্তব্যও রাখতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। অনুষ্ঠান শেষে তারকেশ্বর হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতার রেসকোর্সে পৌঁছবেন মোদি। সেখান থেকে সড়কপথে যাবেন লোকভবনে। শনিবার রাতের জন্য কলকাতাতেই অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারকেশ্বরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য

    মাসের শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে নতুনভাবে সাজানো হবে তারকেশ্বর শহরকে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও। ইতিহাসবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে বজায় রাখার দাবিতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত ছিল তারকেশ্বরের সঙ্গে। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই এ বছরের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তারকেশ্বরকে।

    রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী

    আগামিকাল, রবিবার, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে লোকভবন থেকে রেড রোডে পৌঁছবেন তিনি। সরকারি সূচি অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রেড রোডের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজার হাজার যোগাভ্যাসকারীর সঙ্গে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    গার্ডেনরিচে দেশীয় যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধন

    যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের লোকভবনে ফিরে যাবেন। এরপর তিনি গার্ডেনরিচে যাবেন, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে এই উদ্বোধনকে দেখা হচ্ছে। দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও এই অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গার্ডেনরিচের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর রেসকোর্স থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

  • Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    Jahangir Khan Wife Arrested: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির পরেই বড় পদক্ষেপ, ফলতা-কাণ্ডে পাকড়াও জাহাঙ্গিরের স্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থানায় হামলা ও ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি করল পুলিশ। শনিবার সকালে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনা বিবি ওরফে রেজিনা বিবিকে গ্রেফতার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, থানায় হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে রেজিনা এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পালানোর জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থাও করেছিলেন। সেই খবরের ভিত্তিতেই শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    জাহাঙ্গিরকে ছাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত?

    তদন্তকারীদের দাবি, গত মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া জাহাঙ্গির খানকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে গিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরে তৃণমূল নেতার মুক্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভে সামিল হন। পুলিশের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বরং জাহাঙ্গিরকে থানার হেফাজত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি বৈঠক করেন রেজিনা বিবি। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জাহাঙ্গিরের সমর্থকরা থানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হবেন এবং সুযোগ বুঝে একযোগে থানার উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন।

    বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ: নেতৃত্বে রেজিনা বিবি

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফলতার শতল কলসা এলাকায় বেআইনি জমায়েতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের সময় এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বহু বিক্ষোভকারী পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ রক্ষা পেতে নিকটবর্তী পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও জানা যায়। ঘটনার দিনই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে অন্তত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন রেজিনা বিবি। তিনি এলাকার বাসিন্দা এবং বহিরাগতদের উস্কানি দিয়ে বেআইনিভাবে জমায়েত সংগঠিত করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর জোরদার অভিযান

    এই ঘটনার পর বুধবার ফলতায় এক জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। গুন্ডামি, সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মতো কার্যকলাপ সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন, থানায় হামলার ঘটনায় যাঁদের ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত করা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তাঁর এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনের আওতায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়।

    দেশদ্রোহ-সহ একাধিক ধারায় মামলা

    ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির খান-সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে দেশদ্রোহ-সংক্রান্ত ধারাও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রেজিনা বিবির গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলে মনে করছে প্রশাসন। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, থানায় হামলার ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না। ফলতা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টিও এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    PM Modi in Bengal: রেড রোডে যোগ, বন্দরে ৩ যুদ্ধজাহাজ, উন্নয়নের ঝাঁপি নিয়ে বাংলায় আসছেন মোদি! নজরে ২০-২১ জুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ২০ ও ২১ জুন দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। হুগলির তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (Paschimbanga Divas) উদযাপন থেকে শুরু করে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের (International Yoga Day) নেতৃত্ব এবং গার্ডেনরিচে (GRSE) নির্মিত তিনটি যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং— এই সফরে উন্নয়ন, কৃষি, অবকাঠামো, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক বার্তা— সবকিছুকেই একসঙ্গে সামনে আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর শুধু সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ‘বিকশিত বাংলা, বিকশিত ভারত’-এর (Viksit Bengal Viksit Bharat) রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা তুলে ধরার একটি বড় মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।

    তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’: উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মেলবন্ধন

    ২০ জুন হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যস্তরের ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপন। এ বছরের থিম— ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল: হেরিটেজ, হারমোনি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন তারকেশ্বরকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন পর্যবেক্ষকরা, কারণ এই অঞ্চল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Syama Prasad Mookerjee) স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী এখানে রেল, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। কেন্দ্রের দাবি, এসব প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে।

    ২৩তম কিস্তির পিএম কিসান নিধি: বাংলার ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা

    সফরের অন্যতম বড় আকর্ষণ হল প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-র ২৩তম কিস্তি প্রকাশ। এই কিস্তিতে দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৮,৮৮০ কোটি টাকারও বেশি স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫ লক্ষের বেশি কৃষক পাবেন ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা। ২০১৯ সালে প্রকল্প চালুর পর পশ্চিমবঙ্গে কিষাণ সম্মান নিধির আওতায় মোট বিতরণের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক-ভিত্তিক এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাংলার গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

    বাংলায় প্রথমবার পূর্ণমাত্রায় ফসল বিমা প্রকল্প

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY)-র সূচনা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক এবং ১৪ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমি এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। বিমাকৃত ফসলের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৮,১৪০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কৃষকদের একটি বড় অংশ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। ফলে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে কৃষি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ডিজিটাল কৃষির যুগে বাংলায় এগ্রিস্ট্যাক

    প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে এগ্রিস্ট্যাক (AgriStack) চালু করবেন, যা ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশনের অংশ। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকরা সার বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরাসরি আর্থিক সহায়তা (DBT), ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল ক্রয়সহ বিভিন্ন পরিষেবা একক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পেতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি তথ্যভান্ডার ডিজিটাল হওয়ায় সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছনো সহজ হবে।

    প্রাকৃতিক কৃষি ও ধান-ধান্য কৃষি যোজনায় জোর

    পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং। ২০২৬-২৭ সালে ১৭,৩০০ হেক্টর জমি জুড়ে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কৃষি যোজনা (PMDDKY)-র আওতায় পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও ঝাড়গ্রাম জেলায় কৃষি উৎপাদন, সেচ, ফসল বৈচিত্র্য এবং কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এই চারটি জেলার নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এগুলি ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে রাজ্যের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলির মধ্যে পড়ে।

    মৎস্য ও পশুপালন খাতে বড় বিনিয়োগ

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জে আধুনিকীকৃত মাছ ধরার বন্দর এবং বীরভূমের সাঁইথিয়ায় আধুনিক মাছ বাজারের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া নদিয়ার হরিণঘাটায় পূর্ব ভারতের প্রথম আঞ্চলিক ছাগল বীর্য উৎপাদন গবেষণাগার ও সিমেন ব্যাঙ্কও উদ্বোধন করা হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও পশুপালন খাতকে শক্তিশালী করা গ্রামীণ আয় বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫৯০ কোটি টাকার রেল প্রকল্প: হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে জোর

    রেল ক্ষেত্রে প্রায় ৫৯০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● হাওড়ার সাঁকরাইল-সাঁতরাগাছি লিংক লাইন প্রকল্পের উদ্বোধন
    • ● হাওড়ায় ৩০০ শয্যার নতুন ডিভিশনাল রেলওয়ে হাসপাতালের শিলান্যাস
    • ● পূর্ব মেদিনীপুরের হাউর ও রাধামোহনপুরের মধ্যে রোড ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
    • ● প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ৩১৫ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের ৪৯টি রাস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস: বিশ্বমঞ্চে ভারতের সফট পাওয়ার

    ২১ জুন সকালে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হবে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান। এবারের থিম ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)। ২০১৫ সালে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ভারতীয় কূটনীতির অন্যতম সফল সফট-পাওয়ার উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক, শ্রীনগর, মাইসুরু, লখনউসহ বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠান পরিচালনার পর এবার কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২,৫০০ স্থানে এবং ২১০টিরও বেশি ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনে এদিন যোগ দিবস পালিত হবে।

    তিন যুদ্ধজাহাজ কমিশনিং: আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির প্রদর্শন

    সফরের সবচেয়ে কৌশলগত অংশ নিঃসন্দেহে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত নৌযানের কমিশনিং কর্মসূচি।

    প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেবেন—

    • ● উন্নত স্টেলথ ফ্রিগেট — আইএনএস দুনাগিরি (INS Dunagiri)
    • ● বৃহৎ সমীক্ষা জাহাজ — আইএনএস সংশোধক (INS Sanshodhak)
    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ — আইএনএস অগ্রয় (INS Agray)

    তিনটিই নকশা করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং নির্মাণ করেছে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers) বা সংক্ষেপে জিআরএসই (GRSE)। ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই জাহাজগুলিতে এবং ২০০-র বেশি এমএসএমই (MSME) তাদের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও সামুদ্রিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই তিন জাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি, সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধক্ষমতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা— দুই-ই স্পষ্ট

    মোদির এই বঙ্গ সফরে একদিকে যেমন কৃষক, মৎস্যজীবী, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও অবকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মাধ্যমে জাতীয় এবং বৈশ্বিক বার্তাও তুলে ধরা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০-২১ জুনের এই সফর পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক সমন্বিত প্রদর্শনী হিসেবে গুরুত্ব পেতে চলেছে।

  • Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বালু। সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগ। চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অন্য দিকে, শুক্রবারই শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    বিপদে দলনেত্রীর হাত ছাড়লেন কেন

    সূত্রের খবর, চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক লিখেছেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে দলের কর্মসমিতির সদস্য করেছিল তৃণমূল। এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ ছে়ড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রথম দিকের ‘সৈনিক’ জ্যোতিপ্রিয়। তবে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। তৃণমূলের শুরু থেকে, মমতার লড়াইয়ের দিনগুলিতে দলের অন্যতম সৈনিক হিসেবে মমতার পাশে ছিলেন তিনি। বালুর দুর্দিনে তাঁর হাত ছাড়েননি মমতাও। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র জেলযাত্রার পরেও তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জ্যোতিপ্রিয়কে ফাঁসানো হয়েছে বলেও জোর গলায় দাবিও করেছিলেন। কিন্তু, দলের দুর্দিনে, মমতার দুর্দিনে সেই বালুও সঙ্গে থাকলেন না।

    মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম

    জ্যোতিপ্রিয়ের পদত্যাগ তৃণমূলের অনেককে বিস্মিত করলেও গৌতম যে মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন পুরসভা এবং পুরনিগমের চেয়ারম্যান এবং মেয়রেরা পদত্যাগ করছেন। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। এ বার রাজ্যের আর এক পুরনিগম শিলিগুড়ির মেয়রও পদত্যাগ করলেন। অর্থাৎ, শিলিগুড়ির পুরবোর্ডও ভেঙে গেল। বৃহস্পতিবারই পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন গৌতম। ওই বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলে মেয়র পারিষদদের একাংশ তাঁকে বাধা দেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের আরও এক বছর কাজের মেয়াদ ছিল। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাননি। তবে গৌতম সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, তৃণমূলনেত্রী চাইছেন গৌতম দলীয় সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন।

  • Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি। প্রবল গরমের পর শুক্রবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে বৃষ্টি (Kolkata Rain Update) শুরু হয়েছে। কোথাও হালকা, কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের (West bengal Weather Update) একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বেশ কয়েক জায়গায় জলও জমে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও দক্ষিণের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির (Rain Forecast) জেরে এক রাতেই তাপমাত্রা প্রায় ৫ডিগ্রি কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। দক্ষিণে স্বস্তির হলেও উত্তরবঙ্গে ভয়াল রূপ নিয়েছে বর্ষা (Rain in Bengal)। রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়। কোথাও ভেসে গেল সেতু। কোথাও জাতীয় সড়কে নামল ধস। এর ফলে শিলিগুড়ির-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে পাহাড়-সহ সমতলে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে উত্তরের জেলাগুলিতে। গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। আজ, সারাদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পাঁচ জেলাতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর দিনাজপুরে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ভুটান এবং সিকিম পাহাড়ে এখনও ঘন কালো মেঘ থাকায় ফের ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে

    ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে। বালাসন নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার বিকল্প সেতুটিও। বৃহস্পতিবার থেকেই ফুঁসছিল বালাসন নদী। রাতের দিকে মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। তার পরেই বালাসন নদীতে জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকে। রাত থেকে দুধিয়ার বালাসন তীরবর্তী মানুষেরা আতঙ্কে ছিলেন। মধ্যরাতে জলের তোড় বাড়ায় হিম পাইপের তৈরি অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভাবে জলে তলিয়ে যায়। আপাতত মিরিকের সঙ্গে দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।

    জাতীয় সড়কে ধস, সমস্যায় পর্যটকরা

    ভারী বর্ষণ এবং মহানন্দা নদীতে জলস্তর বাড়ার কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গা ধসে গিয়েছে। আপাতত দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কিংবা কালিম্পং এবং সিকিমগামী রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। প্রধান সড়কের উপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে এবং রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বহু মানুষ এই সময়ে দার্জিলিং, মিরিক ও সংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছেন। দুধিয়া রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেককেই সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে লাগাতার বৃষ্টি চললে সেই পথও কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    বন্ধ শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং টয়ট্রেন

    ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই টয়ট্রেন চলে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি এবং শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত। তা আপাতত টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে রাখা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “আজকে (শুক্রবার) সমস্ত পরিষেবাই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ধস সরাতে সময় লাগবে। তবে আগামী কাল (শনিবার) থেকে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াঙের মধ্যে যে টয়ট্রেন পরিষেবা রয়েছে, তা চালু থাকবে।” উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ সাংসদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। পর্যটকদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যে যেখানেই রয়েছেন, সুরক্ষিত ভাবে সেখানেই থাকুন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আজ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওযা দফতর জানিয়েছে, মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে। দক্ষিণের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে। এছাড়া বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায়। তবে, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

    জলমগ্ন শহরের একাধিক জায়গা

    বৃষ্টি হলেও আগামী ২৪ ঘন্টায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। তবে, শনি ও রবিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রবিবারও একই পূর্বাভাস থাকবে।  তবে, বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গিরীশ পার্ক, মানিকতলা, ঠনঠনিয়া-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই জল জমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় জমছে জল। জল জমেছে সল্ট লেক সেক্টর ফাইভের বেশকিছু জায়গায়। বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর কলকাতা পুরসভা। পুরসভায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দ্রুত জল নামানোর কাজে তৎপর কেএমসি।

  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

LinkedIn
Share