Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা এক লাফে বেড়ে গেল ৫ বছর! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    Suvendu Adhikari: রাজ্য সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা এক লাফে বেড়ে গেল ৫ বছর! কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতির দিন শেষ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিরাট ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানিয়ে দিলেন, বাড়ানো হচ্ছে সরকারি চাকরির (Government Job Age Limit) জন্য আবেদনের বয়সসীমা। গত এক দশকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এবং পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যাঁদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার, নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের আরও ৫ মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের মন্ত্রিসভায় গৃহীত ৬ সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু।

    কেন বয়স সীমায় ছাড় দেওয়া হল

    প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০১৫ সালের পর বাংলায় কোনও নিয়োগ হয়নি। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হল।” ২০১৫ সালের পর থেকে রাজ্যে বড় মাপের কোনও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এর ওপর পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতির জেরে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দিনের পর দিন আইনি লড়াই এবং রাজপথে আন্দোলনের ফলে অনেক প্রার্থীরই সরকারি চাকরিতে বসার নির্ধারিত বয়স পেরিয়ে গিয়েছিল। এই ‘বয়স ফুরিয়ে যাওয়া’ প্রার্থীদের কথা চিন্তা করেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা ক্ষমতায় আসার আগেই বলে রেখেছিল বিজেপি।

    আমিত্ব নয়, আমরা নীতিতে চলবে সরকার

    বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, “চাকরি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এই বাংলায় যুবক যুবতীদের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। এতে ওদের কোনও দোষ নেই। বিজেপি সরকার হলে যুবক যুবতীদের আবেদনের বয়সের ৫ বছরের ছাড় দেওয়া হবে।” সেই কথামতোই কাজ করা হল। সরকারের এই পদক্ষেপে খুশির হাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মদ্যে। আন্দোলনকারীদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, এই ৫ বছরের ছাড় তা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারবে। এনিয়ে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের মুখ চিন্ময় মণ্ডল বলেন, “১০-১২ বছর ধরে যাঁরা চাকরির পরীক্ষাতেই বসতে পারেননি, তার মধ্যে তো দুর্নীতি ছিল, সঙ্গে সরকারের এতো টালবাহানা। তাঁদের কাছে নিঃসন্দেহে এটা বড় খবর।” এদিন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমিত্ব নয়, আমরা নীতিতে চলবে এই সরকার। সংবিধান, নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েই চলবে সরকার।”

  • NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    NIA: মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র বড় পদক্ষেপ, কালিয়াচকের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

    মাধ্যাম নিউজ ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি ও সুজাপুর এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক আক্রমণ এবং গোলমালের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিয়াচক-১ (Kaliachak Mothabari Case) নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সারিউল শেখ এবং সুজাপুর অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি ইউসুফ শেখ-কে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই জোড়া গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও জিজ্ঞাসাবাদ (NIA)

    এনআইএ (NIA) সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার ঠিক প্রাক্কালে সুজাপুর বিধানসভার প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রহমান এবং ব্লক সভাপতি সারিউল শেখসহ মোট ৯ জন নেতাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শুরুতে তাঁরা হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংস্থার তলবে সাড়া দিতে বাধ্য হন। এরপর হাজিরা দিতে গেলেই তথ্য়ে গোলমাল ঘটলে গ্রেফতার করা হয়। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের সময় সারিউল ও ইউসুফের (Kaliachak Mothabari Case)  মোবাইল ফোন দুটি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। এরপর শুক্রবার পুনরায় তাঁদের ডেকে পাঠিয়ে ম্যারাথন জেরা করা হয়। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনআইএ।

    অভিযোগের নেপথ্যে

    তদন্তকারীদের (NIA) দাবি, মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং সুজাপুর হাসপাতালের নিকটবর্তী জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ উস্কানি ও যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ্য, ধৃত ইউসুফ শেখ সুজাপুর হাসপাতালের সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনেই সেই দিন জনতাকে সংগঠিত করে বড়সড় আন্দোলনের রূপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে জাতীয় সড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে অবরোধের পিছনে আরও বড়সড় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই তদন্তে এই সমস্ত বিষয়গুলিকেও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

    ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ

    কালিয়াচকে (Kaliachak Mothabari Case) এনআইএ-র (NIA) এই অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর কাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শাসকদলের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতার নামও বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই এলাকায় আরও কিছু প্রভাবশালীর গ্রেফতারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। বর্তমানে এই দুই ধৃত নেতাকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং বাকি সদস্যদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে এনআইএ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

  • WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    WB Election Results 2026: পোস্টাল ব্যালটেও বাজিমাত বিজেপির, তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে গোল দিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস, বাম কিংবা তৃণমূল – কোনও জমানায়ই এতদিন তেমন গুরুত্ব পেত না পোস্টাল ব্যালট গণনার ফল (WB Election Results 2026)। বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, শাসক দল এতই ছাপ্পা ভোট দিত যে, পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballots) গণনার আগেই শুরু হয়ে যেত অকাল ‘হোলি খেলা’, আবির মাখামাখি। বাংলায় পালাবদলের এই ক্রান্তিকালে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের ভোটাররাও হাত উপুড় করে ভোট দিয়েছেন ঘাসফুল নয়, পদ্মফুল প্রতীকে। তার জেরে বিজেপির বঙ্গ-বিজয় হয়েছে নিছক কেক-ওয়াক।

    ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে (WB Election Results 2026)

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের শাসক দল। কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “কর্মচারীরা উজাড় করে পোস্টাল ব্যালটে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এর মধ্যে কোনও কিন্তু নেই।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গোহারা হেরে যান স্বয়ং তৃণমূলেশ্বরী। বঙ্গে ২০৭টি আসন পেয়ে নবান্নের কুর্সিতে প্রথমবারের মতো বসেছে পদ্মশিবির। মোট ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশই পেয়েছে গেরুয়া শিবির। সেখানে তৃণমূলকে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হয়েছে কমবেশি ৪১ শতাংশ ভোটের চৌকাঠ পার হতে গিয়ে।

    পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’

    নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বদলের বাংলায় পোস্টাল ব্যালটেও ‘রামধাক্কা’ খেয়েছে তৃণমূল। সেখানেও স্পষ্ট প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ছাপ। জানা গিয়েছে, পোস্টাল ব্যালটে মোট ভোটের ৮০ শতাংশই গিয়েছে তৃণমূলের বিপক্ষে। বেশিরভাগ আসনেই ধাক্কা খেয়েছে তারা। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়েছিলেন ৯টি পোস্টাল ভোটে। প্রাক্তন পেয়েছেন ৪৬৩টি ভোট। নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৪৫৪টি। পরিসংখ্যান বলছে, যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৯৭৫টি পোস্টাল ভোট। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৬৯৬টি এবং সিপিএম পেয়েছে ৬২৫টি পোস্টাল ভোট।
    রাসবিহারী কেন্দ্রে অবশ্য পোস্টাল ব্যালটের একটা বড় অংশই পড়েছে পদ্ম-ঝুলিতে। বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত পেয়েছেন ৭২৫টি ভোট। আর তৃণমূলের দেবাশিস কুমার পেয়েছেন ৫৯২টি ভোট। বিধাননগরে তৃণমূলের প্রার্থী সুজিত বসু পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ৫৬৭টি ভোট। বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৭৯২টি ভোট (Postal Ballots)। এই তিন কেন্দ্রেই তৃণমূলকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল দিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।

    বঞ্চনার অভিযোগ

    মলয় বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেছেন আমরা নির্দিষ্ট নিয়মমতো ডিএ দেব, বেতন কমিশন গঠন করব ৪৫ দিনের মধ্যে। তৃণমূল সরকার একটা বেতন কমিশন পেয়েছিল যদিও ৪ বছর পরে আমাদের দিয়েছে ডিএ ছাড়াই। এতটা বঞ্চনা সিপিএম সরকারও করেনি (WB Election Results 2026)।” কমিশনের পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, শুধু সরকারি কর্মচারীরাই নন, পোস্টাল ব্যালটে রাজ্যে পালাবদল   চেয়েছেন প্রবীণ ভোটাররাও। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ১ হাজার ৩৩২টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। সেখানে তৃণমূলের পবিত্র কর পেয়েছেন মাত্রই ৮৯৯টি। কামারহাটিতে তৃণমূলের মদন মিত্র পেয়েছেন ৩২৪টি। বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে ৫১০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। ব্যারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ বাগচী পেয়েছেন ৯০৭টি পোস্টাল ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর ঝুলিতে গিয়েছে ৫৫১টি ভোট। পানিহাটিতে বিজেপির রত্না দেবনাথ পেয়েছেন ৬৯৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ পেয়েছেন ৩৬২টি (Postal Ballots)।

    চর্চায় যখন পোস্টাল ব্যালট 

    প্রসঙ্গত, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন সার্ভিস ভোটার, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত কর্মী প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার এবং অত্যাবশ্যক পরিষেবা-কর্মীরা। কিছু ক্ষেত্রে ‘হোম ভোটিং’ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। ভোট গণনার পর দেখা গিয়েছে, জেলার বহু বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটেও তৃণমূলকে মাত দিয়েছে বিজেপি। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৮৭২টি ভোট। আর গেরুয়া ঝুলিতে গিয়েছে ১ হাজার ৭৮টি ভোট। সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় পেয়েছেন ২ হাজার ২টি ভোট, সেখানে তৃণমূল পার্থী লাভলি মৈত্রকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে মাত্রই ৮৩৩টি ভোট পেয়ে (WB Election Results 2026)।
    কোচবিহারের দিনহাটা কেন্দ্রে তৃণমূলের উদয়ন গুহ পেয়েছেন ৯৭৭টি পোস্টাল ব্যালট ভোট, পদ্ম প্রার্থী অজয় রায় পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬০টি। আসানসোল দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন ৭৭৩টি, তৃণমূলের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে জুটেছে মাত্রই ৩৯৬টি ভোট। বহরমপুরে অধীর চৌধুরী পোস্টাল ব্যালটে পেয়েছেন ১ হাজার ১০২ ভোট। তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৪৭০টি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে (Postal Ballots) নবগঠিত এজেইউপি সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর পেয়েছেন ২৭০টি পোস্টাল ব্যালট ভোট (WB Election Results 2026)। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপির বাপন ঘোষ। বাপন পেয়েছেন ৫৬৮টি পোস্টাল ব্যালট ভোট।

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পোস্টাল ব্যালটে যাঁরা পরিবর্তন চেয়ে ভোট দিয়েছেন বিজেপিকে, তাঁরা চেয়েছেন বঙ্গকে তৃণমূলশাসন-মুক্ত করতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের গায়ে যেসব কলঙ্কের কালি লেগেছে, এবং নানা ক্ষেত্রে দুর্নীতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি যেভাবে ‘ও কিছু নয়’ জাতীয় মন্তব্য করে দায় এড়িয়ে (Postal Ballots) গিয়েছেন এবং সর্বোপরি তুষ্টিকরণ এবং খয়রাতির রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি যেভাবে একপেশে হয়ে গিয়েছিলেন, তার সপাট জবাব (WB Election Results 2026)।

     

  • WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    WBSSC 2016: বিজেপি জমানায় নতুন ‘সকাল’, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট প্রকাশ এসএসসি-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ঝুলি থেকে বেরল বেড়াল! তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নো হোয়্যার’ (মুখ্যমন্ত্রীর পদ খুইয়েছেন এবং বিধায়কও নির্বাচিত হননি) হতেই ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (WBSSC 2016) ওএমআর শিট প্রকাশ করল এসএসসি। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশেই ওএমআর শিট প্রকাশ করা (BJP) হচ্ছে। এসএসসির নিজস্ব ওয়েবসাইটেই প্রকাশ করা হয়েছে রেজাল্ট। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পরেই পদক্ষেপ করল এসএসসি।

    ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ‘খেলা’ শুরু (WBSSC 2016)

    শনিবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ব্রিগেডে শপথ নিয়েছে বঙ্গের নয়া সরকার। অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বিজেপির বঙ্গ বিজয় হওয়ায় প্রত্যাশিতভাবেই খুশি পদ্মশিবির। সেই কারণেই শনিবারের ব্রিগেডে আক্ষরিক অর্থেই বসেছিল চাঁদের হাট। সেই ‘হাটে’ই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তার পরেই বঙ্গের উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার। শপথগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই এসএসসি প্রকাশ করে সিবিআইয়ের উদ্ধার করা সেই সব ওএমআর শিট। এসএসসির ‘যোগ্য’ এক চাকরিহারা বলেন, “তৃণমূল চেপে রেখেছিল বলে প্রকাশিত হয়নি। বিজেপি আসতেই প্রকাশিত হল। রি-প্যানেলিং হোক। যোগ্যরা চাকরি পাক।” এহেন (BJP) আবহে একাধিক দাবিতে ১৩ মে এসএসসি ভবনে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যাঁরা অযোগ্য বলে চিহ্নিত নন, চাকরিহারাদের সেই অংশ।

    ওএমআর শিট প্রকাশ

    জানা গিয়েছে, নিয়োগ দু্নীতির তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে সিবিআই যে হার্ডডিস্কটি উদ্ধার করেছিল, সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ওএমআর শিট মেলে। এসএসসি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সিবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষার নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রার্থীদের ওএমআরের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতের রায় এবং নির্দেশ মেনেই ছবিগুলি আপলোড করা হয়েছে (WBSSC 2016)। ২০১৬-র পরীক্ষায় গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরি প্রার্থীদের স্ক্যান করা ওএমআর শিটও আপলোড করা হবে শীঘ্রই।

    শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত জানিয়ে দেয়, ‘চাল থেকে কাঁকর বাছতে না পারায়’ বাতিল করা হয় ২৬ হাজার চাকরি। চাকরি ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের লাঠি থেকে লাথি খেয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। যাঁরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন, তাঁদেরও নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হয়। যোগ্য-অযোগ্যদের আলাদা করতে (BJP), বারবার ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন চাকরিহারারা। তৃণমূল সরকারের আমলে তা প্রকাশ করা হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হতেই প্রকাশ করা হল সেই ইমেজ (WBSSC 2016)।

     

  • Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগে থেকে চলতে থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত-সহ সব কেন্দ্রীয় স্কিম, নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প থাকবে। তবে অভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানান তিনি।

    নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম দিন

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপর তাঁকে ভিআইপি করিডরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। ১০-১৫ মিনিটের গার্ড অফ অনার দেওয়ার অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা পুলিশের টিম, কলকাতা পুলিশের ব্যান্ড গার্ড অফ অনার দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর সোজা ১৪ তলায় পৌঁছন তিনি। নবান্নে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ১৪ তলার একটি কনফারেন্স রুমে গিয়ে ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সারেন। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া ৫ জন— অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বেশ কিছু দফতরের আধিকারিকরাও। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, জানান ৬ সিদ্ধান্তের কথা ।

    প্রথম মন্ত্রিসভায় ৬ সিদ্ধান্ত

    মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলি হল—

    ● বিজেপির নিহত কর্মীদের পাশে সরকার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব। আত্ম বলিদানকারী বিজেপি কর্মীর পরিবারগুলির দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের পরিবারের সামাজিক এবং অন্যান্য কল‍্যাণমূলক দায়িত্ব আমরা নিলাম।”

    ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

    সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ

    ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত ( Ayushman Bharat ) প্রকল্পে যুক্ত হল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana), প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Kisan Bima Yojana), পিএম বিশ্বকর্মা (PM Vishwakarma), বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao), পিএম উজ্জ্বলা (PM Ujjwala) যোজনা সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হল রাজ্য।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্তরে বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “রাজনৈতিক কারণে প্রচুর আবেদন ফেলে রেখেছিলেন জেলা শাসকরা।” তিনি জানান, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে সেই সমস্ত আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করেছিলেন। সেগুলি আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে পাঠাতে দেননি। আজ সেই আবেদন গুলি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আইএএস-আইপিএসদের প্রশিক্ষণ

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরাও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর অলিখিত নির্দেশে আইএএস, আইপিএস-রা প্রশিক্ষণ নিতে পারতেন না।” এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    বঙ্গে চালু হল বিএনএস

    আজ থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন সংবিধান অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত অবৈধ ভাবে আগের আইপিসি, সিআরপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।

    সরকারি চাকরিতে ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি

    সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”

    একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জনগণনার কাজ আজ থেকে শুরু করল রাজ্য। কেন্দ্রের নির্দেশ এখন থেকেই কার্যকর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। তিনি বলেন, “পরবর্তী সোমবার আমরা মন্ত্রিসভার আরও একটি বৈঠক করব। আরজি কর-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ), এরিয়ারের বিষয়ে আমরা ওই দিন আলোচনা করব।”

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন ঠিকানা আলিপুরের ‘সৌজন্য’, আপাতত এটাই তাঁর বাসভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কলকাতায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বদলাতে চলেছে। সূত্রের খবর আলিপুরের ভিভিআইপি গেস্ট হাউস ‘সৌজন্য’ হবে শুভেন্দুর থাকার জায়গা। একই ভাবে নবান্নতে (Nabanna Meeting) আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্পকে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

    ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার (Suvendu Adhikari)

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। মূলত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা ভিভিআইপিদের থাকার জন্য এটি তৈরি করা হলেও, এখন এটিই হতে চলেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সরকারি বাসভবন। ইতিমধ্যেই ‘সৌজন্য’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈঠকও সেরে ফেলা হয়েছে।

    পৈতৃক ভিটে ‘শান্তিকুঞ্জ’ ও পারিবারিক মুহূর্ত

    শপথ নেওয়ার পর প্রথম রবিবারটি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কাটিয়েছেন তাঁর কাঁথির পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ। ৯ মে শপথ গ্রহণের পর শনিবার রাতেই মেদিনীপুরের তিনি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। রবিবার দিনভর মা ও মাসির হাতের রান্না করা বাঙালি খাবারে আপ্যায়িত হন তিনি। মেনুতে ছিল— করলা সেদ্ধ, মোচার তরকারি থেকে শুরু করে সর্ষে ইলিশ ভাপা ও মুরগির মাংস। এরপর বিকেলেই তিনি প্রশাসনিক কাজের উদ্দেশ্যে কলকাতার পথে রওনা দেন।

    আজকের প্রশাসনিক কর্মসূচি

    নবান্নে (Nabanna Meeting) প্রথম দিন আজ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ব্যস্ত দিন। তাঁর সূচিতে রয়েছে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ইনিংসের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

  • West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    West Bengal Government: ‘‘এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে’’, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর বার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, “সরকার তার নিজস্ব নিয়মে চলবে। বিজেপির সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সঙ্গে দলের সমন্বয় থাকবে। তবে এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।” শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বেশ স্পষ্ট। বার্তাটা পরিষ্কার, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করবে।

    শমীকের বাড়িতে শুভেন্দু

    সোমবার সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় প্রথমে পৌঁছয় সল্টলেকের বিএইচ ব্লকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়িতে। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন দু’জন। কিছু সময় ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পর শমীকের সঙ্গে একই গাড়িতে বিজেপির সেক্টর ফাইভের রাজ্য কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর আগমন ঘিরে সকাল থেকেই শমীকের বাড়ির সামনে ভিড় জমায় বহু সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে পদ্মফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির ভিতরে শমীক ভট্টাচার্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেন্দুর পরিচয়পর্ব ও সৌজন্য বিনিময় হয়। মিষ্টিমুখ এবং এক কাপ চায়ের পর দু’জনে একসঙ্গে দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে যান।

    ফুলে-মালায় বরণ শুভেন্দুকে

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেক্টর ফাইভের দলীয় দফতরে শমীক-শুভেন্দুর বৈঠক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগে রাজ্য সভাপতির বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ছিল সৌজন্যমূলক। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজ শুরুর আগে শুভেচ্ছা জানাতেই তিনি শমীকের বাড়িতে যান বলে দলীয় সূত্রের দাবি। এদিকে, বিজেপির সল্টলেক কার্যালয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। শঙ্খধ্বনি, উত্তরীয় এবং ২০৭টি পদ্মফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করা হয়। মহিলা বিজেপি কর্মীরা বরণডালা নিয়ে শুভেন্দুকে স্বাগত জানান এবং তাঁকে মা দুর্গার একটি মূর্তি উপহার দেন।

    ‘‘বিজেপি সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার’’

    এরপর বিজেপির রাজ্য দফতরে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে শমীক আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরকার দলীয় সীমারেখা ছাড়িয়ে রাজ্যের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এই সরকার বিজেপির সরকার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকার হবে।”  এই বার্তার মাধ্যমে মূলত নতুন সরকারকে শুধুমাত্র দলীয় সরকারের ছাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন। শমীক বলেছেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে, দলের সঙ্কল্পপত্র বাস্তবায়নে যোগাযোগ থাকবে।” অর্থাৎ দল নীতিগত দিশা দেবে, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। এতে বোঝানো হচ্ছে যে সরকার শুধুমাত্র পার্টি অফিস থেকে পরিচালিত হবে না।

    নবান্নয় শুভেন্দুর কর্মসূচি

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সোমবার প্রথম নবান্নে শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা। আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। বিকেল তিনটে নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হবে। পাশাপাশি তিনটি প্রশাসনিক বৈঠকও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। প্রথম বৈঠকটি দুপুরে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে প্রথমে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। এর পর বিকেল ৪টে নাগাদ সব জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক। বিকেল ৫টা নাগাদ ডিজি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা, সিপি ও এসপিদের নিয়ে বৈঠক করবেন শুভেন্দু।

  • Chandranath Rath Murder: আজ বারাসত আদলতে পেশ! চন্দ্রনাথের খুনে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে গ্রেফতার ৩ শার্প শুটার

    Chandranath Rath Murder: আজ বারাসত আদলতে পেশ! চন্দ্রনাথের খুনে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে গ্রেফতার ৩ শার্প শুটার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চন্দ্রনাথ রথ খুনের (Chandranath Rath Murder) মামলা বড় সাফল্য পেল পুলিশ। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে গ্রেফতার করা হল তিনজন শার্প শুটারকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রবিবার রাতে এই আততায়ীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গেও নিয়ে আসা হয়েছে। ভবানী ভবনে সিআইডির তদন্তকারীরা জেরা করছে তাদের। সোমবার বারাসত আদালতে পেশ করা হতে পারে এই শার্প শুটারদের।

    কীভাবে গ্রেফতার

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই হামলা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের উপরে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার আগেই, ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় গুলি করে খুন করা হয় তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। খুব কাছ থেকে পরপর চারটি গুলি করা হয়। বুকে, হাতে গুলি লাগে চন্দ্রনাথের। এরপরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে নেমেছে সিআইডি ও এসটিএফ। রবিবারই তদন্তকারীদের হাতে বড় ক্লু এসেছিল। জানা গিয়েছিল, আততায়ীরা ইউপিআই পেমেন্টের মাধ্যমে বালি টোল প্লাজায় টাকা দিয়েছিল। টোল প্লাজার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে গাড়িটি চিহ্নিত করা হয়। ওই ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র ধরেই তল্লাশি শুরু করে তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই উত্তর প্রদেশে পৌঁছন তদন্তকারীরা।

    কোথায় লুকিয়েছিল আততায়ীরা

    ২ জনকে উত্তরপ্রদেশ এবং এক জনকে বক্সার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চন্দ্রনাথকে খুন করতে সুপারি দেওয়া হয়েছিল শার্প শ্যুটারদের, এই তথ্য আগেই সামনে এসেছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কে কে আছে, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা আধিকারিকরা। দুজন শার্প শুটার ভিকি সিং ও রাজদেও সিং। মায়াং শর্মা টোলপ্লাজায় অনলাইন পেমেন্ট করেন। তার ইউপিআই লিঙ্কের সূত্র ধরেই এদের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া গাড়ি চালককে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত রাজ সিং-সহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা হলেও বিহারের বক্সারে থাকতেন। খুনের পর গ্রেফতারি এড়াতে অযোধ্যায় লুকিয়ে ছিল সে। প্রসঙ্গত, আগেই মনে করা হয়েছিল, চন্দ্রনাথের খুনের পিছনে বাইরের রাজ্যের যোগ থাকতে পারে। অত্যন্ত সুচারু পরিকল্পনার সঙ্গে চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছিল। এখন তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন যে এই শার্প শুটারদের কে বা কারা ভাড়া করেছিল? কেনই বা টার্গেট করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে।

  • West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    West Bengal Election 2021: ২০২১-এর স্মৃতিতে ফিরল রক্তক্ষয়ী বাংলা, বিজেপি প্রার্থীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব কন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সেই রক্তাক্ত স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল জনমানসে। ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে প্রাণ হারানো এক বিজেপি (BJP Bengal) প্রার্থীর পরিবার দীর্ঘ কয়েক বছরের নীরবতা ভেঙে এবার ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী ছিলেন ধূর্জটি সাহা ওরফে মানস সাহা। তাঁকে ২ মে ২০২১ সালের ভোটের ফল ঘোষণার পর পিটিয়ে হত্যা করেছিল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বিজেপির সরকার গড়ার প্রেক্ষাপটে নিহতের কন্যা এবার প্রশাসনের কাছে খুনিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (West Bengal Election 2021)

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2021) সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমে সেই সময় নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রার্থী মানসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ (BJP Bengal) ছিল, তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। সেই সময় দেশজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলেও, ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গিয়েছিল।

    ভয় ও নীরবতা ভেঙে প্রতিবাদ

    নিহত প্রার্থীর কন্যা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বিগত বছরগুলিতে (West Bengal Election 2021) প্রাণের ভয়ে এবং পরিস্থিতির চাপে আমরা মুখ খুলতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক সমীকরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর তাই আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা শুধু বিচার চাই। আমার বাবার খুনিরা আজও খোলা আকাশে নীচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

    ন্যায্য তদন্তের দাবি

    বিজেপি প্রার্থীর (BJP Bengal) পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পুনরায় তদন্ত শুরু করা হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোরতম সাজা দেওয়াই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

    রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

    রাজ্যের ক্ষমতার অলিন্দে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই পরিবারের (BJP Bengal)  পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি পুনরায় সামনে আসায় তৎকালীন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি আবারও আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভোটের রাজনীতিতে (West Bengal Election 2021) মানুষের জীবনের মূল্য ঠিক কতটুকু, সেই প্রশ্নই আবার তুলে দিল এই ঘটনা। ন্যায়বিচারের আশায় থাকা এই পরিবারটির লড়াই এখন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।

LinkedIn
Share