Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা বাংলার ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হল। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। শপথবাক্য পাঠের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও চওড়া হাসি। পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি।

    শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন কারা

    এদিন শুভেন্দুর পর মন্ত্রী হিসবে একে একে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আরও পাঁচ জন বিধায়ক এদিন শপথ নেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। যদিও এখনও কারও দফতর ঘোষণা হয়নি।

    শপথ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। ছিলেন নিতিন গড়কড়ি। তালিকায় রয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্দু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। এছাড়াও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেম চন্দ সিং ও উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা কলকাতা

    অনুষ্ঠান উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতাকে। প্রায় ৪০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০টি প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছে। তবে খুশির আবহাওয়ার মাঝেও উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের আপাতত বিজয় মিছিল থেকে বিরত থেকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

    শপথের সকালে শুভেন্দুর বার্তা

    এদিন শপথের সকালেই তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু লিখলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ভোর। আজ, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পূরণ করছি। আজকের দিনটি দশকের পর দশকের দুঃশাসনের অবসান এবং উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ যুগের সূচনা করল। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনার বাংলা’ যুগের সূচনা হল।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘এই ঐতিহাসিক রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রাখা অটল আস্থারই প্রমাণ। অঙ্গ-কলিঙ্গ-বঙ্গ অঞ্চল জুড়ে জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে নির্ণায়ক জনরায়ের মাধ্যমেই এখন বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মীরা তাঁদের রক্ত ​​ও ঘাম দিয়ে এই বিজয়কে সিক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এটিকে সম্ভব করেছে। ভয়ের পরিবর্তে অগ্রগতিকে বেছে নেওয়ায় আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করব।’’

  • Jal Jeevan Mission: কাজ শুরু হয়ে গেল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের! বিরাট বরাদ্দ মিলল জল জীবন মিশন প্রকল্পে

    Jal Jeevan Mission: কাজ শুরু হয়ে গেল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের! বিরাট বরাদ্দ মিলল জল জীবন মিশন প্রকল্পে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে বারংবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যবাসীকে বুঝিয়েছিলেন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ (BJP) সরকারের গুরুত্বের কথা। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে যে বিশেষ সুবিধা হয় (Jal Jeevan Mission), তাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো আজ, শনিবার বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির নয়া সরকার শপথ নেওয়ার আগেই মিলল চমক। জানা গিয়েছে, জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কয়েকদিন আগেই, রাজ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করে রেলও।

    রাজ্যের কোষাগারে ঢুকছে বিপুল টাকা (Jal Jeevan Mission)

    সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যের কোষাগারে ঢুকবে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, গত দুবছর ধরে জল জীবন মিশনের টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা টাকার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। কখনও ফেরত গিয়েছে কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা, কখনও আবার হিসেব দেওয়া হয়নি খরচের, আবার কখনও কেন্দ্রের বরাদ্দ এক খাতের টাকা খরচ করা হয়েছে খয়রাতি এবং তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে। তার জেরে তৃণমূলের জমানায় সেই অর্থে বাংলায় কোনও উন্নয়নই হয়নি বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগেই এবার ইতি পড়তে চলেছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    প্রস্তুতি-পর্বেই দরাজহস্ত এনডিএ সরকার

    যদিও নয়া সরকার গঠিত হওয়ার প্রস্তুতি-পর্বেই দরাজ হস্ত (Jal Jeevan Mission) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। কেন্দ্রীয় জল-শক্তিমন্ত্রকের সচিব ভিএল কান্থা রাওয়ের সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সচিবের বৈঠক হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর নয়া সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের জন্য বড় অঙ্কের বকেয়া বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের জন্য প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার বকেয়া বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কেন্দ্র (BJP)। সূত্রের খবর, বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠকও হয়েছে। নয়া সরকার গঠন ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর (Jal Jeevan Mission)।

    রাজ্যে ৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পকে গ্রিন সিগন্যাল রেলের

    এর আগে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা মেট্রো আপগ্রেড এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য মোট ৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় রেল। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের নগর পরিবহণ ও শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য একদিকে কলকাতা মেট্রোর যাত্রী পরিষেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী রুটকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা হবে।

  • Sheikh Hasina: শুভেন্দুকে বিশেষ অভিনন্দন হাসিনার, কী বললেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    Sheikh Hasina: শুভেন্দুকে বিশেষ অভিনন্দন হাসিনার, কী বললেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের ‘জুলাই বিপ্লবে’র জেরে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina)। প্রথমে তদারকি সরকার এবং পরে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশের। এই পুরো পর্বটায় হাসিনাকে বাংলাদেশের ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে গিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই শুভেন্দুই যখন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, সেই সময়ই যারপরনাই আনন্দ প্রকাশ করল দেশান্তরিত হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

    হাসিনার বার্তা (Sheikh Hasina)

    শুক্রবার বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক দলের তরফে নেত্রী হাসিনার বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে লেখা, ‘‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়ী দল বিজেপির বিজয়ীরাও রয়েছেন এর মধ্যে। তিনি (হাসিনা) শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।’’ ক্ষমতা হারিয়ে ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। বঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নানা সময় বলতে দেখা গিয়েছে, তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আবার বাংলাদেশে ফিরবেন হাসিনা।

    ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা

    যদিও হাসিনা-উত্তর কালে বাংলাদেশের রশি যায় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের হাতে। তার পরেই নিষিদ্ধ করা হয় আওয়ামি লিগের কার্যকলাপ। গণহত্যার অভিযোগে হাসিনাকে ফাঁসির সাজাও দিয়েছে সে দেশের আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি হাসিনা দল আওয়ামি লিগ। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইঙ্গিত দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, কিংবা আদৌ পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেই হাসিনাই শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন (Sheikh Hasina)।

    বিজেপিকে অভিনন্দন বিএনপির

    এদিকে, বিজেপির বিপুল জয়ে পদ্মশিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি-ও। শাসক দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর বারি হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)। এই জয়ের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাবে (Sheikh Hasina)।”

     

  • Indian Railways: বঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই বড় উপহার রেলের! রাজ্যে জোড়া প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত, বরাদ্দ ৮৯৫ কোটি

    Indian Railways: বঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই বড় উপহার রেলের! রাজ্যে জোড়া প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত, বরাদ্দ ৮৯৫ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই বড় ঘোষণা ভারতীয় রেলের। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা মেট্রো আপগ্রেড এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য মোট ₹৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিল ভারতীয় রেল। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের নগর পরিবহণ ও শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য একদিকে কলকাতা মেট্রোর যাত্রী পরিষেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী রুটকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা হবে।

    কলকাতা মেট্রোর নর্থ-সাউথ করিডরে ৬৭১ কোটি বিনিয়োগ

    কলকাতা মেট্রোর ব্যস্ততম নর্থ-সাউথ করিডর আপগ্রেড করতে বরাদ্দ হয়েছে ৬৭১.৭২ কোটি। ১৯৮০-র দশকে তৈরি এই মেট্রো ব্যবস্থা মূলত ৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপের কারণে পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়তে বাড়তে একাধিক সাবস্টেশন প্রায় স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছিল। পুরনো যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা এবং স্পেয়ার পার্টসের অভাবও পরিষেবায় চাপ তৈরি করছিল।

    আপগ্রেড প্রকল্পে কী কী থাকছে?

    • ৭টি নতুন ট্র্যাকশন সাবস্টেশন তৈরিতে খরচ হবে ২৯১.০৬ কোটি
    • এসপ্ল্যানেড থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত অক্সিলিয়ারি ও ট্র্যাকশন সাবস্টেশন শক্তিশালীকরণ
    • বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ১১ কেভি থেকে ৩৩ কেভি-তে আপগ্রেড, ব্যয় ৩৮০.৬৬ কোটি
    • নেতাজি থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত উড়াল অংশের অতিরিক্ত স্ট্রাকচারাল শক্তিবৃদ্ধি

    যাত্রীদের কী সুবিধা হবে?

    প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে কলকাতা মেট্রোতে ট্রেন চলাচলের ব্যবধান কমে হবে আড়াই মিনিট। ফলে—

    • পিক আওয়ার বা ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষা কমবে
    • ভিড়ের চাপ অনেকটাই হালকা হবে
    • পরিষেবা হবে আরও নির্ভরযোগ্য ও মসৃণ

    দৈনিক অফিসযাত্রীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।

    আদ্রা ডিভিশনে ৫২০ নম্বর রেলসেতু পুনর্নির্মাণে ২২৩ কোটি

    মেট্রোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের মধুকুণ্ডা-দামোদর সেকশনে ৫২০ নম্বর রেলসেতুর আপ ও ডাউন লাইন পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে ২২৩.৫৮ কোটি।

    এই প্রকল্পের আওতায়:

    • পুরনো সেতুর সম্পূর্ণ পুনর্গঠন হবে
    • ইয়ার্ড রিমডেলিং হবে
    • ট্র্যাক আপগ্রেডেশন হবে

    বর্তমান সেতুর ডাউন লাইন তৈরি হয়েছিল ১৯০৩ সালে, আর আপ লাইন ১৯৬৫ সালে। দীর্ঘ ব্যবহারে সেতুতে কাঠামোগত ক্ষয়ের লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ায় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতার জন্য পুনর্নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছিল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রুট?

    মধুকুণ্ডা-দামোদর অংশটি আসানসোল-টাটানগর সংযোগকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ।

    এই রুটের বিশেষ গুরুত্ব:

    • এটি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের ফিডার রুট
    • প্রধান কয়লা পরিবহণ করিডর
    • বছরে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন টন (Gross Million Tonnes) ট্রাফিক বহনকারী উচ্চ-ঘনত্ব রুট
    • শিল্পাঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব

    সেতু পুনর্নির্মাণের ফলে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

    উপকৃত হতে পারে:

    • ইসকো (IISCO)-র মতো স্টিল প্ল্যান্ট
    • এসিসি (ACC)-র মতো সিমেন্ট ইউনিট
    • কয়লার উপর নির্ভরশীল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

    রেলের উন্নত পরিকাঠামো কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ নিশ্চিত করবে।

    রিয়েল এস্টেটেও বড় প্রভাবের সম্ভাবনা

    মেট্রো আপগ্রেডের ফলে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় সম্পত্তির দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সম্ভাব্য প্রভাব:

    • গড়িয়া, কবি সুভাষ ও নেতাজি নগর এলাকায় আগামী ২-৩ বছরে ১৫-২৫% পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি
    • এসপ্ল্যানেড ও রবীন্দ্র সদন ট্রানজিট হাবে অফিস ও রিটেল স্পেসের চাহিদা বৃদ্ধি
    • দোকান ও কো-ওয়ার্কিং স্পেসে ১০-১৫% পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা

    উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার ফলে সল্টলেক ও নিউটাউন-এর চাপ ছড়িয়ে পড়ে নতুন আবাসন ও প্লট ডেভেলপমেন্ট বাড়তে পারে।

    বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কোন বার্তা?

    ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ, পুরনো পরিকাঠামো এবং শিল্প পরিবহণের চাহিদা মাথায় রেখে এই ৮৯৫ কোটির বিনিয়োগকে সময়োপযোগী বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে কলকাতার নাগরিকদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক মেট্রো পরিষেবা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী করিডর আরও শক্তিশালী হবে। রেল মন্ত্রকের এই দ্বিমুখী বিনিয়োগ স্পষ্ট করছে—নগর পরিবহণ ও শিল্প বৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal CM) এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকাল ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন।

    সূচনা ও তৃণমূল পর্ব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনের আগে নিজের মন্ত্রীসভার পদ আর দায়িত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর  নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় কাজ করেন। অবশেষে দুই বার মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিজেপির এই বিধায়ক (West Bengal CM)।

    সাংসদ থেকে মন্ত্রী

    আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর রাজনৈতিক জীবন –

    ১৯৯৫: রাজনৈতিক সূচনা

    পারিবারিক ঐতিহ্যের হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষেক। কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় প্রথম পদার্পণ করেন।

    ১৯৯৯: তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে উত্থান

    কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। সে বছর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে দলের জয়ের নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু।

    ২০০১ – ২০০৪: প্রাথমিক চড়াই-উতরাই

    ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়া এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বামফ্রন্ট প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    ২০০৬: প্রথম বিধানসভা জয়

    দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০০৭ – ২০০৮: নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও সাংগঠনিক ম্যাজিক

    ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এর সুফল মেলে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বামমুক্ত হয়। ওই বছরই তিনি যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান।

    ২০০৯: লোকসভায় জয় ও দিল্লি যাত্রা

    তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বাম দুর্গ ধসিয়ে দিয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

    ২০১১ – ২০১৪: ক্ষমতার কেন্দ্রে পদার্পণ

    রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে এই সময়েই দলের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁর কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ২০১৬: মন্ত্রী হিসেবে অভিষেক

    নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার সফলভাবে সামলান।

    ২০১৯ – ২০২০: দূরত্ব ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

    দলের অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন।

    ২০২১: নন্দীগ্রামের যুদ্ধ ও বিরোধী দলনেতা

    বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় হাসিল করেন। ফলস্বরূপ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়।

    ২০২৬: বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।

    ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে (West Bengal CM) লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে তিনি হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।

    বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লক্ষ্য

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের মূল মন্ত্র হবে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাংলাকে পুনরায় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করাই  প্রশাসনের অগ্রাধিকার হবে। বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।”

    তৃণমূল নেত্রীর একসময়ের প্রধান সহযোগী থেকে আজ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মসনদে আসীন হওয়া— শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক বিবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

  • Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal Election 2026) রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের (Newtown BJP Worker) এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে মালাদায় বিজেপি কর্মী খুনে এবার ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বিজেপি কর্মীদের।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Newtown BJP Worker)

    ৫ মে নিউটাউন থানা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়।  অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল এবং তার অনুগামীরা ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের (West Bengal Election 2026) ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কমল মণ্ডল। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাদের উপর মারধরও করা হয়। তবে ব্যাপক মারধরের কারণেই মধু মণ্ডলের মতো বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা

    নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। বিজেপির (Newtown BJP Worker) অভিযোগ, জয়লাভের পর তৃণমূল কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    এলাকা শান্ত রাখতে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ (West Bengal Election 2026) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নিউটাউন (Newtown BJP Worker) থানার পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা

    অন্যদিকে, মালদা জেলায় এক বিজেপি সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়

    বুধবার গভীর রাতে ইংরেজ বাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন যুবক প্রথমে কিশানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে মহেশপুরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে, কিশানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশ থেকে একটি বড় ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

  • CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যের আসন্ন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান (Cm Oath Ceremony) হবে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই অনুষ্ঠানকে এক অনন্য রূপ দিতে এবং জাতীয় স্তরে বার্তা পাঠাতে বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি (Bengal BJP) শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনডিএ জোটের একাধিক নেতাদের উপস্থিতি থাকবে। সভাস্থলে তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড থাকছে এলাহি আয়োজন। ২৫ শে বৈশাখ, শনিবার হবে শপথ গ্রহণ।

    রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা (Cm Oath Ceremony)

    সচরাচর রাজভবনের লন বা প্রেক্ষাগৃহে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও, এবার তা জনসমক্ষে বিশাল আয়োজনে করার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে এই বিশেষ মুহূর্তের (Cm Oath Ceremony) সাক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। বিজেপি স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার গড়বে বঙ্গে। ফলে নেতা কর্মী সমর্থক এবং রাজ্যবাসীর জন্য বিশেষ চমক রেখেছে বিজেপি (Bengal BJP)। শনিবার সকাল ১০.৩০টায় কলকাতায় নামবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকার কথা বিজেপি শাসিত বা এনডিএ জোটের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

    তারকা সমাবেশ ও ভিভিআইপি উপস্থিতি

    এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদেরও (Cm Oath Ceremony) আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং নেতারাও বঙ্গ বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণে থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যের মন্ত্রীসাভায় জায়গা পেতে পারেন বেশ কিছু বিজেপি নেতা। তাঁদের মধ্যে রিয়েছেন, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, অজিত কুমার জানা, নিশীথ প্রামাণিক, সৌরভ শিকদার, দিলীপ ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, জুয়েল মুর্মু, বঙ্কিম ঘোষ, নমন রাই, সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর।

    ব্রিগেডে প্রস্তুতি সম্পর্কে দেবজিৎ সরকার বলেন, “ব্যবস্থা আশা করি ভালোই হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বাঙালির সরকার, জনতার সরকার, পশ্চিমবঙ্গবাসীর সরকার। বিজেপি বিধায়করা সরকার নিশ্চয়ই চালালেও, এটা মানুষের সরকার। টাইট সিকিওরিটি। কারণ সেদিনের জন্য সারা ভারতের পাওয়ার সেন্টার এখানে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    কলকাতায় ব্রিগেডের ময়দান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে শপথ গ্রহণ (Cm Oath Ceremony) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তা যেমন শাসক শিবিরের শক্তি প্রদর্শন হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ প্রয়াস হিসেবেও গণ্য হবে। উল্লেখ্য এই ২৫ বৈশাখ এবং শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখছে বিজেপি (Bengal BJP)। রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিনের দিনে বাঙালির আবেগকে কাজে লাগাবে বঙ্গের নতুন সরকার।

    নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল জনসমাগমের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির (Cm Oath Ceremony) রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্তসহায়ক এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) হত্যার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তে এবার একটি লাল রঙের গাড়ি এবং আরও একটি মোটরসাইকেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি (Suvendu Adhikari PA)

    চন্দ্রনাথ হত্যার (Chandranath Rath) তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় একটি লাল রঙের গাড়িকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি, পুলিশ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি নিছক কোনও হত্যা নয়। এর পেছনে বড় কারণ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের (Suvendu Adhikari PA) হত্যা কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তাই এখন সন্ধান করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

    খুনের মামলা রুজু

    বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তাঁকে পর পর গুলি করে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু (Suvendu Adhikari PA) করে তদন্ত শুরু করে। সেদিন রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি গাড়ির চালক।

    তদন্তে যা পাওয়া গেছে

    • সন্দেহভাজন লাল গাড়ি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি লাল রঙের গাড়িকে দ্রুতবেগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই লাল গাড়ির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
    • বাইক উদ্ধার: প্রথম থেকেই একটি মোটরসাইকেলের কথা জানা থাকলেও, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বাইকটি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ওই বাইকটি কার এবং কেন সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    • নিসান গাড়ি কারা কিনতে চেয়েছিল: ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাইক্রা গাড়িটিকে বেচতে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। কারা যোগাযোগ করেছিল গাড়ির মালিকের সঙ্গে, তাঁদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল খুনিদের?

    তদন্তে ভিনরাজ্যে পাড়ি পুলিশের একটি দলের

    বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করা হয়। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। সেই সঙ্গে রয়েছেন বারাসত পুলিশের সদস্যেরা। তদন্তকারী টিমে রয়েছেন এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার আগের আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় ইনপুট নিচ্ছেন তদন্তকারীরা, খবর পুলিশ সূত্রে। আততায়ীদের খোঁজে একটি দল ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

    কল রেকর্ড ও সিসিটিভি

    চন্দ্রনাথবাবুর (Chandranath Rath) মোবাইল ফোনের শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের (Suvendu Adhikari PA) পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মূল অপরাধীদের ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

    একমাস আগেই কি খুনের পরিকল্পনা?

    সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে খুন। আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আর তাই মাসখানেক আগে থেকেই কার কার সঙ্গে চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) বচসা হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনা কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হতে পারে, এই দিকগুলিও সন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভবানীপুরে হারের বদলার জেরে খুন চন্দ্রকান্ত?

    চন্দ্রনাথকে (Chandranath Rath) খুনের পর বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। গাড়ির মালিক শিলিগুড়িতে থাকেন। বিক্রি করার জন্য গাড়ির নম্বর দিয়েছিলেন অনলাইনে। গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আততায়ীরা গ্লাভস পরে ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হত্যাকারীরা বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। এখন বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ভবানীপুর হারের বদলা বলে মনে করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খুনের পিছনে রয়েছে বলে রাজনীতির একাংশের মানুষের দাবি।

LinkedIn
Share