Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা অমিত শাহর

    বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু রাজ্যে আমাদের সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

    সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে। অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই নীতিতেই কাজ করছে।”

    ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমিও হস্তান্তর

    সভা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ‘চিকেন’স নেক’ করিডর এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের দাবি, এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশ চলত এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট।
    অমিত শাহ বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    দ্রুত শুরু হবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে কেন্দ্রের দাবি। কেন্দ্র মনে করছে, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চৌকি নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

    জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশও জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

    দেশজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা

    সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “যাঁরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।” অমিত শাহের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অমিত শাহের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

  • CM Suvendu Adhikari: বাংলায় রেলের ৬১টি প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত কেন্দ্রের! জমি জট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: বাংলায় রেলের ৬১টি প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত কেন্দ্রের! জমি জট কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে থাকা রেলের ৬১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর জন্য রেলওয়েকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ প্রশাসন থাকায় দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটানো এখন অনেক সহজ হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে এবং সাধারণ মানুষ খুব শীঘ্রই তার সুফল পাবেন।

    দিনাজপুর থেকে মেদিনীপুর— ৬১টি রেল প্রকল্প

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে থাকা ৬১টি প্রকল্পের মধ্যে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রেল প্রকল্প এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগ প্রকল্পও রয়েছে। এতদিন জমি সমস্যার কারণে এই কাজগুলি কার্যত থমকে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের গতিকে দ্বিগুণ করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানো হবে।” পাশাপাশি তিনি আরও জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করলেই বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সেই পথেই ‘উন্নত ভারত’-এর স্বপ্ন সফল হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৯২ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন নির্মাণ, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন। রাজ্য সরকারের জমি হস্তান্তরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে এই বিপুল বিনিয়োগের প্রকল্পগুলি আরও দ্রুত এগোবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত?

    একই সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) গলাতেও। তিনি বলেন, “রাজ্যে ৬১টি প্রকল্প জমির অভাবে আটকে ছিল। এখন আর কোনও বাধা থাকবে না। ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই সহজ হবে।” শুভেন্দু অধিকারীকে তিনি “পশ্চিমবঙ্গের নতুন রূপকার” বলেও উল্লেখ করেন। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউষ্কর জানান, চন্দনপুর-শক্তিগড় ফোর্থ লাইন, কল্যাণী-রানাঘাট থার্ড লাইন এবং রানাঘাট-বনগাঁ ডবল লাইনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এছাড়াও বহু জায়গায় লেভেল ক্রসিং তুলে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজও থমকে ছিল। এখন রাজ্য ও রেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই কাজ দ্রুত এগোবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। রাজ্য সরকারের তরফে রেলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য বিশেষ অফিসারও নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানান পূর্ব রেলের জিএম।

    তালিকা নিয়ে তুমুল জল্পনা…

    তবে এখনও পর্যন্ত ঠিক কোন কোন প্রকল্প এই তালিকায় রয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সম্ভাব্য রেল প্রকল্পের তালিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বাংলার বিভিন্ন জেলায় নতুন রেললাইন, ডবল লাইন, স্টেশন উন্নয়ন ও ফ্লাইওভার নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও রেলমন্ত্রক বা রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত ৬১টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে একটি সম্ভাব্য তালিকা—

    • ১. পাঁশকুড়া – ঘাটাল নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৩২.৮ কিমি)
    • ২. কাঁথি – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৬.২ কিমি)
    • ৩. দেশপ্রাণ – নন্দীগ্রাম নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ১৮.৫ কিমি)
    • ৪. নন্দীগ্রাম – কেন্দামারী (নয়াচর) নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৭ কিমি)
    • ৫. নন্দকুমার – বলাইপন্ডা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
    • ৬. দিঘা – এগরা নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ২৮ কিমি)
    • ৭. দিঘা – জলেশ্বর নতুন লাইন (দৈর্ঘ্য – ৪৯ কিমি)
    • ৮. ঘাটাল – ইরপালা নতুন লাইন
    • ৯. ইরপালা – আরামবাগ নতুন লাইন
    • ১০. আরামবাগ – বোয়াইচন্ডী নতুন লাইন
    • ১১. আরামবাগ – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ১২. বোয়াইচণ্ডী – খানা নতুন লাইন
    • ১৩. হাসনাবাদ – হিঙ্গলগঞ্জ নতুন লাইন
    • ১৪. তারকেশ্বর – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ১৫. তারকেশ্বর – ধানিয়াখালি নতুন লাইন
    • ১৬. তারকেশ্বর – মগরা নতুন লাইন
    • ১৭. তারকেশ্বর – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ১৮. নামখানা – চন্দ্রনগর নতুন লাইন
    • ১৯. চন্দ্রনগর – বকখালি নতুন লাইন
    • ২০. কাটোয়া (দাঁইহাট) – মন্তেশ্বর নতুন লাইন
    • ২১. মন্তেশ্বর – মেমারী নতুন লাইন
    • ২২. বজবজ – পূজালী নতুন লাইন
    • ২৩. পূজালী – উলুবেড়িয়া (বীর শিবপুর) নতুন লাইন
    • ২৪. পূজালী – বাকরাহাট নতুন লাইন
    • ২৫. মছলন্দপুর – স্বরূপনগর নতুন লাইন
    • ২৬. নেগুন – মঙ্গলকোট নতুন লাইন
    • ২৭. বনগাঁ – চন্দবাজার নতুন লাইন
    • ২৮. বারাবনি – চুরুলিয়া নতুন লাইন
    • ২৯. ভাঙ্গনখালী – বাসন্তী নতুন লাইন
    • ৩০. বাসন্তী – ঝাড়খালি নতুন লাইন
    • ৩১. জয়নগর – রায়দিঘী নতুন লাইন
    • ৩২. সংগ্রামপুর – কৃষ্ণচন্দপুর নতুন লাইন
    • ৩৩. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – বাখরাহাট নতুন লাইন
    • ৩৪. ডানকুনি – জঙ্গলপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৩৫. বড়গাছিয়া – চাঁপাডাঙ্গা নতুন লাইন
    • ৩৬. আমতা – বাগনান নতুন লাইন
    • ৩৭. জঙ্গিপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৩৮. বাঁকুড়া (ছাতনা) – মুকুটমণিপুর নতুন লাইন
    • ৩৯. মুকুটমণিপুর – উপারসোল নতুন লাইন
    • ৪০. বাঁকুড়া (কলাবতী) – পুরুলিয়া ভায়া হুড়া নতুন লাইন
    • ৪১. রায়গঞ্জ – ইটাহার নতুন লাইন
    • ৪২. কাজল – ইটাহার নতুন লাইন
    • ৪৩. কালিয়াগঞ্জ – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
    • ৪৪. প্রান্তিক – সিউড়ি নতুন লাইন
    • ৪৫. কাকদ্বীপ – বুধাখালি নতুন লাইন
    • ৪৬. ময়নাপুর – কামারপুকুর ভায়া বীরসা নতুন লাইন
    • ৪৭. কালিকাপুর – মিনাখান ভায়া ঘটকপুর নতুন লাইন
    • ৪৮. কৃষ্ণনগর সিটি (ধুবুলিয়া) – চারাতলা নতুন লাইন
    • ৪৯. কৃষ্ণনগর – চাপড়া নতুন লাইন
    • ৫০. বনগাঁ – পরমহেশতলা নতুন লাইন
    • ৫১. চন্দবাজার – বাগদা নতুন লাইন
    • ৫২. চৌরীগাছা – সাঁইথিয়া ভায়া কান্দি নতুন লাইন
    • ৫৩. জয়নগর – দুর্গাপুর নতুন লাইন
    • ৫৪. ডায়মন্ড হারবার (গুরুদাসনগর) – কুলপি নতুন লাইন
    • ৫৫. রানাঘাট (আঙড়ঘাটা) – দত্তফুলিয়া নতুন লাইন
    • ৫৬. বিরা – চাকলা নতুন লাইন
    • ৫৭. বারুইপাড়া – ফুরফুরা শরীফ নতুন লাইন
    • ৫৮. ভাদুতলা – ঝাড়গ্রাম ভায়া লালগড় নতুন লাইন
    • ৫৯. মুকুটমণিপুর – ঝিলিমিলি নতুন লাইন
    • ৬০. ইটাহার – বুনিয়াদপুর নতুন লাইন
    • ৬১. রাধানগর ফাইডিং লাইন – বরাচক লাইন
  • Bhadreswar Municipality: মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়েননি মমতা, ইস্তফা দিয়ে নজির গড়লেন তৃণমূলেরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান

    Bhadreswar Municipality: মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়েননি মমতা, ইস্তফা দিয়ে নজির গড়লেন তৃণমূলেরই ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোহারা হেরে গিয়েও, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে চাইছিলেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনাদেশ মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি প্রাক্তন মমতা। তবে দলনেত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন না হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার (Bhadreswar Municipality) চেয়ারম্যান-সহ আট কাউন্সিলর। জনতা-জনার্দনের রায় মাথা পেতে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন (Political Turmoil) তাঁরা। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী জানান, জনগণের মতামতকে মান্যতা দিয়েই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটে স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থীর হারের দায়ও নিজের ঘাড়েই তুলে নিয়েছেন তিনি। বিজেপির একাংশের কটাক্ষ, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়াতে পারে আঁচ করেই ইস্তফা দিয়েছেন ওই কাউন্সিলররা। প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে হুগলি জেলার কোনও পুরসভায় এই প্রথম এতজন কাউন্সিলর ইস্তফা দিলেন।

    ইস্তফা চেয়ারম্যানের (Bhadreswar Municipality)

    ২২ ওয়ার্ড বিশিষ্ট ভদ্রেশ্বর পুরসভা চন্দননগর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। গত পুরসভা নির্বাচনে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। একটিতে ফুটেছিল পদ্ম। আর নির্দল প্রার্থী জিতেছিলেন একটি আসনে। জনাদেশ অগ্রাহ্য করে পরে তাঁরাও ভিড়ে যান তৃণমূলে। বিরোধীশূন্য এই পুরসভার ১২টিরও বেশি ওয়ার্ডেই পদ্ম-প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে ছিল ঘাসফুলের প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী গায়ক থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া  ইন্দ্রনীল সেন পরাজিত হয়েছেন ১৩ হাজার ভোটে। দলীয় প্রার্থীর হারের নৈতিক দায় নিজের ঘাড়েই নিয়েছেন প্রলয়। এদিন ভদ্রেশ্বর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তৃণমূলের এই নেতার দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন আরও কয়েকজন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে পদত্যাগী চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছি। কয়েক দিন ধরে মনে হচ্ছিল, মানুষ যখন সমর্থন করেছিল, কাজ করেছি। এখন মানুষ যাদের সমর্থন করছে, তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত।’’ তিনি (Bhadreswar Municipality) এও জানান, তৃণমূলের তরফে তাঁকে এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

    কী বলছে বিজেপি

    চন্দননগরের বিধায়ক বিজেপির দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘‘এখানে কেউ ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেনি (Political Turmoil)। আগামিদিনেও করবে না।’’ পদ্ম-শিবিরের একাংশের দাবি, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোর আশঙ্কায় ইস্তফা দিয়েছেন প্রলয়। যদিও প্রলয় বলেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না।’’ তিনি বলেন, ‘‘কাগজেকলমে দেখা যাবে, আগের চেয়ারম্যানের সময় নিয়োগ হয়েছিল। আমি চেয়ারম্যান হই ২০১৮ সালে।’’ তাঁর সাফ কথা, ‘‘জনমতকে মান্যতা দিয়ে সরছি।’’ এক সঙ্গে আট কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় এই পুরসভায় বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে (Political Turmoil) না তৃণমূলের। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে চলবে বোর্ড (Bhadreswar Municipality)।

     

  • International Yoga Day 2026: পালাবদলের জন্য বাংলাকে বড় ‘উপহার’ কেন্দ্রের! এবছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায়, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

    International Yoga Day 2026: পালাবদলের জন্য বাংলাকে বড় ‘উপহার’ কেন্দ্রের! এবছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায়, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কেন্দ্রের তরফ থেকে সম্ভবত সবথেকে বড় উপহার পেল পশ্চিমবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গবাসী। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৬-এর মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায়। এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতাপরাও যাদব। সম্প্রতি নবান্নে যোগবিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    যোগ দিবসের কাউন্টডাউন শুরু

    মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর পশ্চিম মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘যোগ মহোৎসব ২০২৬’-এ এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি করেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (Ayush Ministry) প্রতাপরাও যাদব। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ২৫ দিনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির সূচনা করে তিনি জানান, ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের পীঠস্থান কলকাতাই এবার যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজক। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনস্থ মোরারজি দেশাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ যোগ (MDNIY)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার যোগপ্রেমী অংশ নেন এবং একযোগে ‘কমন যোগ প্রোটোকল’-এর প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। একইসঙ্গে প্রতাপরাও যাদব এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম হিসেবে ঘোষণা করেন — “Yoga for Healthy Ageing”। বয়স বাড়ার সঙ্গে সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক স্থিতি এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যে যোগব্যায়ামের গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই থিম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের শহর কলকাতায় যোগ দিবসের আসর

    প্রতাপরাও যাদব বলেন, “সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কলকাতা এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল আয়োজক শহর হতে চলেছে। যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বজায় রাখতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন, যোগ ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ও ঐতিহ্যের প্রতীক এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষম জীবনযাপন, মানসিক শান্তি এবং দৈনন্দিন শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনধারার মাধ্যমে যোগ মানুষের সামগ্রিক উন্নতিতে সাহায্য করে। খাজুরাহোকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সুস্থতা চর্চার এক অনন্য প্রতীক বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই শহরের বিশ্বব্যাপী যোগ ও ওয়েলনেস কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আয়ুষ মন্ত্রক দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম, স্কুল, অফিস এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগচর্চা পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান যাদব। তিনি বলেন, “যোগ এবং ‘আয়ুষ আহার’-এর মতো উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সুষম খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং সামগ্রিক সুস্থতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।”

    শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতির ঘোষণা ঘিরে শহরের যোগপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে যোগবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ক্রীড়াভারতীর প্রদেশ সম্পাদক বিভাস মজুমদার জানান, “অনেকদিন ধরেই আমরা কলকাতায় মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নানা রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবার সেই সুযোগ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।” অন্যদিকে, যোগ দিবস উদযাপন কমিটির সম্পাদক ডক্টর অভিজিৎ ঘোষের মতে, আগামী ২১ জুন কলকাতার ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিন হয়ে উঠবে।

    কেন্দ্রীয় স্তরে প্রস্তুতি শুরু

    ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্তরে এই নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। এই আবহে খুব শীঘ্রই নিরাপত্তা আধিকারিকদের একটি দল ব্রিগেড পরিদর্শনে যেতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। প্রতাপরাও যাদব ‘যোগ সঙ্গম পোর্টাল’-এর নতুন সংস্করণ চালু করেন। এই পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করা আরও সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘যোগ পার্ক পোর্টাল’, যার উদ্দেশ্য বিভিন্ন রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী যোগচর্চার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। অনুষ্ঠানে নতুন ডিজাইনের যোগ টি-শার্টও প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ‘যোগ ৩৬৫ অভিযান’-এর আওতায় ১০০ দিনের বিনামূল্যের যোগ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই দুই লক্ষের বেশি মানুষ অংশ নিয়ে ‘যোগ মিত্র’ শংসাপত্র অর্জন করেছেন।

  • Kolkata Eid Namaz: ৪৮ বছরে প্রথম, ব্রিগেডে পালিত হল ইদের নামাজ, উন্মুক্ত রেড রোড

    Kolkata Eid Namaz: ৪৮ বছরে প্রথম, ব্রিগেডে পালিত হল ইদের নামাজ, উন্মুক্ত রেড রোড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এক দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে এবার যানজটমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হল পবিত্র বকরি ইদ (Bakrid)। নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের কড়া নির্দেশিকা এবং আইনশৃঙ্খলার সঠিক বাস্তনায়নের ফলে রাজ্যের পথঘাট অবরুদ্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে বা প্রকাশ্যে রাস্তায় বসে নামাজ পড়ার বহু বছরের পুরোনো চেনা ছবি এবার আর দেখা যায়নি। ফলে উৎসবের দিনটিতেও কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলির প্রধান সড়কগুলিতে তীব্র যানজটের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ।

    সড়ক অবরুদ্ধ না করার কড়া প্রশাসনিক বার্তা

    পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ নির্দেশনায় এবারের ইদের আগে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ধর্মীয় বা সামাজিক কোনও অনুষ্ঠানের নামেই রাজ্যের জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক বা শহরের মূল রাস্তা কোনওভাবেই বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করা যাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতে কোনও বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদ কমিটি এবং স্থানীয় মুসলিম জননেতাদের সঙ্গে আগেই বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে আবেদন জানানো হয়, রাস্তায় নামাজ না পড়ে নামাজের আয়োজন যেন স্থানীয় ইদগাহ, মসজিদ প্রাঙ্গণ (Bakrid) বা নির্দিষ্ট ঘেরা মাঠের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সরকারি এই নির্দেশিকা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়, তার জন্য আজ সকাল থেকেই কলকাতার পার্ক সার্কাস, রেড রোড সংলগ্ন এলাকা, জাকারিয়া স্ট্রিট এবং হাওড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল।

    উৎসবের আনন্দ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ

    সরকারি এই কড়াকড়ির মধ্যেও উৎসবের আমেজে কোনও খামতি দেখা যায়নি। রাজ্যের মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়েই বকরি ইদের নামাজ আদায় করেন। তবে সবটাই সম্পন্ন হয় নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থান ও ইদগাহের (Bakrid) ভেতরে। রাস্তাঘাট ফাঁকা (Kolkata Eid Namaz) থাকায় অন্যান্য ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।

    কলকাতার এক বাসিন্দা জানান, “বিগত কয়েক দশক ধরে ইদের দিন সকালের দিকে কলকাতার বুক চিরে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। বাস, ট্যাক্সি বা অ্যাম্বুলেন্সকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজও সম্পন্ন হয়েছে, আবার সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।”

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান

    রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে উৎসবের দিনগুলিতে বড় রাস্তা বন্ধ (Kolkata Eid Namaz) করে নামাজ পড়ার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং সেই সমস্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন (Bakrid)।

    তবে সাম্প্রতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় আচরণের কারণে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার বা জনজীবন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। আজ ইদের দিনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে গিয়ে গো-মাতার পুজো এবং আরতিতে অংশ নেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সর্বস্তরের সহযোগিতা ও শান্তি বজায়

    পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশিকা কার্যকরের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষ এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মিলেছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি। রাস্তাঘাটে (Kolkata Eid Namaz) সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে ডাইভারশন রোডগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কড়া প্রশাসনিক নজরদারি এবং আমজনতার সহযোগিতায় এবারের বকরি ইদ পশ্চিমবঙ্গে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

  • TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    TMC Inner Clash: কল্যাণের মুখে ‘কু-কথা’র ফুলঝুরি! লোকসভার স্পিকারকে চিঠি কাকলির, দুই তৃণমূলী সাংসদের লড়াই প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দল এবং দলনেত্রী গোহারা হেরে গিয়ে গর্তে সেঁধিয়েছেন! ভয়াল ঘূর্ণিঝড় যেমন শক্তি খুইয়ে ডাঙায় আছড়ে পড়ে, ঠিক তেমনি মিউ মিউ করতে করতে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন ‘ভাতিজা’ও! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁর যে ‘বিক্রম’ দেখা গিয়েছিল প্রচার (Kalyan Banerjee) মঞ্চে, নায়কোচিত ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে তাঁর সেই সব ‘উসকানিমূলক’ (অভিযোগ) ভাষণ এবং প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মন্তব্য (যা নিয়ে এফআইআর দায়ের হয়েছে) যা শুনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে ফেটে পড়েছিল সভামঞ্চ, যেসব ‘বক্তিমে’ দিয়ে তৃণমূলে তিনি নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই ‘লার্জার দ্যান পার্টি’ ইমেজ তুলে (Kakoli Ghosh Dastidar) ধরেছিলেন, নির্বাচনে দলের পাশাপাশি ‘পিসিমণি’ও হেরে যেতে, সেই তিনিই মিইয়ে গিয়েছেন, সস্তা দরে কেনা মুড়ির মতো! ‘বুয়া-ভাতিজা’র প্রবল প্রতাপের জেরে দলের অন্দরে যাঁরা এতদিন ট্যাঁ-ফোঁ করতে পারতেন না, নির্বাচন-উত্তর কালে তাঁরাই ‘খেলছেন’ চালিয়ে।

    স্পিকারকে চিঠি কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar)

    ফেরা যাক খবরে। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজকর্ম নিয়ে যখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তখন আরও একটি খবর নজর কেড়েছে রাজ্যবাসীর। সেটি হল তৃণমূলের অন্দরে শুরু হওয়া মুষলপর্ব। দলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমন একদিকে তোপ দাগতে শুরু করেছেন নেত্রী এবং তাঁর স্তাবকদের তাক করে, তেমনি কল্যাণ-কাকলির দ্বন্দ্বও (Kalyan vs Kakoli) হেডলাইন হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমের। তবে এবার শ্রীরামপুরের সাংসদ তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন দলেরই সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। কল্যাণের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চেয়ে বুধবার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী সাংসদ কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ

    বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, কল্যাণ লোকসভার ভেতরে তাঁকে বার বার মৌখিকভাবে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণের বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাবও স্পষ্ট। তাই কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন কাকলি। কাকলি লিখেছেন, “আপনার কাছ থেকে লোকসভার সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম্যাল অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি চাইছি। লোকসভার ভেতরে আমায় বারবার মৌখিকভাবে অপমান করেছেন কল্যাণ। এই ধরনের নারীবিদ্বেষী আচরণ শুধু আমার বিরুদ্ধেই নয়, বহু মহিলা সাংসদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। এর (Kalyan Banerjee) উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”

    কাকলির চাঁদমারি

    রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী পদে ইস্তফা দেন কাকলি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।’’ নাম না-করলেও, তৃণমূলেরই নেতাদের একটা বড় অংশই মনে করেন কাকলির চাঁদমারি কল্যাণই।

    কী বললেন কল্যাণ

    শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “আমি কোনও চিঠি পাইনি। স্পিকার যদি এই বিষয়ে কোনও ব্যাখা চান, তাহলে উত্তর দিয়ে দেব। এটা স্রেফ নিজের বাজারদর বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।” তাঁর প্রশ্ন, “চিঠিতে আজকের তারিখ অর্থাৎ ২৮ মে-র উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু, আজ তো ছুটি! তাহলে কীভাবে তিনি (কাকলি) অভিযোগ করলেন?” কল্যাণ বলেন, “অভিযোগ থাকলে আগে কেন জানানো হয়নি। এতদিন পর কেন জানানো হচ্ছে? আসলে এই অভিযোগ মিথ্যে। তাছাড়া, এটা আফটারশক (Kakoli Ghosh Dastidar)।” কাকলির অভিযোগ প্রসঙ্গে বুধবারই কল্যাণ বলেছিলেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কীসের এত কথা? নারদকাণ্ডে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলেই জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’ কল্যাণের বিরুদ্ধে গালিগালাজ করারও অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ। যদিও কল্যাণের পাল্টা অভিযোগ, কাকলির মুখেই ছোটে কু-কথার ফুলঝুরি। এই একই অভিযোগ তুলে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি (Kakoli Ghosh Dastidar)।

    প্রশ্ন যেখানে

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রীতি অনুযায়ী, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা প্রথমে জানাতে হয় দলীয় নেতৃত্বের কাছে। সেই অর্থে, কাকলির উচিত ছিল খাতায়-কলমে সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো। সেটা না করে কেন তিনি সটান স্পিকারকে চিঠি লিখে বসলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (Kalyan Banerjee)।

    আকচাআকচির ‘কহানি’

    যাঁরা দিল্লির রাজনীতির হাঁড়ির খবরাখবর রাখেন, তাঁদেরই কয়েকজন জানান, দল আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। এই পরিস্থিতিতে কাকলির চিঠির প্রেক্ষিতে কল্যাণের বিরুদ্ধে স্পিকার কী স্টেপ নেন, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি-কল্যাণের এই দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখনই প্রকাশ্যে চলে এসেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতানেত্রীর আকচাআকচির ‘কহানি’। নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে এবং বিরোধীরা এই লড়াইকে হাতিয়ার করতে পারে ভেবে তৃণমূল নেত্রী এতদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। দল মুখ থুবড়ে পড়তেই, বল্গাহীন ঘাসফুলের সৈনিকরা। এখন দেখার, এমন আগুনে-পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন তৃণমূল নেত্রী (Kakoli Ghosh Dastidar)।

     

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মায়াপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, ইদের দিনেই করলেন গো-মাতার পুজো, যজ্ঞ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে (Mayapur Iskcon Temple) এলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক ও দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মূলত গো-সেবা এবং বিশেষ পুজোর উদ্দেশ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর এই সফর। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ইদের দিনে রেড ময়দানের নামাজে তোষণের রাজনীতি করতে যাননি, ইস্কন মন্দিরে গো-মাতার পুজো করে হিন্দুত্বের বার্তাই আরও একবার দিয়েছেন।

    রাজকীয় অভ্যর্থনা ও গো-সেবা (Suvendu Adhikari)

    বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক এগারোটা নাগাদ মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে মন্দিরের সন্ন্যাসীরা তাঁকে পুষ্পস্তবক ও মাল্যদানে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সরাসরি চলে যান মন্দিরের গোশালায় (Mayapur Iskcon Temple)। সেখানে গো-মাতার উদ্দেশে আয়োজিত একটি বিশেষ যজ্ঞ ও পুজোপাঠে অংশ নেন। যজ্ঞের পূর্ণাহুতির পর বিগ্রহকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানান শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নিজ হাতে গো-মাতাকে আম ও মিষ্টি খাইয়ে সেবা করেন এবং মাল্যদান করেন।

    মূল মন্দির দর্শন ও সৌজন্য সাক্ষাৎ

    গোশালায় আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসকনের মূল মন্দির অর্থাৎ চন্দ্রোদয় মন্দিরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি পরম শ্রদ্ধায় শ্রীশ্রী রাধামাধব বিগ্রহ দর্শন ও আরতিতে অংশ নেন। মন্দির চত্বরে মহাপ্রসাদ গ্রহণের পর তিনি ইসকনের (Mayapur Iskcon Temple) বরিষ্ঠ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে মিলিত হন। এই সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা রাজনৈতিক বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংক্ষেপে জানান, “এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কর্মসূচি নিয়ে আমি আসিনি। সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবাবেগে শুধুমাত্র পুজোদানের উদ্দেশ্যে এই আগমন, তাই আজ কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না।”

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও ব্যস্ত সূচি

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই মায়াপুর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর গত মঙ্গলবারই নদিয়ার কল্যাণীতে তিনি প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন। তার ঠিক একদিন পরেই ফের নদিয়া জেলায় এলেন তিনি। মায়াপুরের (Mayapur Iskcon Temple) কর্মসূচি শেষে বিকেলে তাঁর হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, পরিবর্তনের ধারা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)  এই সফরের দিনক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আজ দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র বকরি ইদ। বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশেষ দিনে ইদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শামিল হতেন এবং তাঁকে নামাজেও অংশ নিতে দেখা যেত। তবে এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর, ইদের দিনটিতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মায়াপুরে (Mayapur Iskcon Temple) এসে গোমাতার পুজোও সনাতনী আচারকে বেছে নিলেন। মুখে রাজনৈতিক বার্তা না দিলেও, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি রাজ্যে এক নতুন ধারার সূচনা করলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • TMC Chairman: পাট ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাঁচ বস্তায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধার, বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের কীর্তিতে শোরগোল

    TMC Chairman: পাট ক্ষেতের মাটি খুঁড়ে পাঁচ বস্তায় কোটি কোটি টাকা উদ্ধার, বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের কীর্তিতে শোরগোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের (TMC Chairman) পাটের ক্ষেত থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করল পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাতভর ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলে টাকা গণনার কাজ। চার বার পুঙ্খানুপুঙ্খ গণনার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অর্থ উদ্ধার (TMC Chairman)

    গত সোমবার বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধানকে (TMC Chairman) একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার ধৃত দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল কার্যালয় সংলগ্ন একটি জমিতে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানেই পাটের খেতে মাটি খুঁড়ে ৪টি ট্রলি ব্যাগ এবং ১টি বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ব্যাগগুলির ভেতরে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল ঠাসা ছিল। প্রাথমিক অনুমানে ৮০ লক্ষ টাকার কথা ভাবা হলেও, পরবর্তীতে টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে গণনার জন্য আধুনিক যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।

    ত্রিপল ও পূর্ববর্তী অর্থ উদ্ধার

    উল্লেখ্য, সোমবার রাতে পুরপ্রধানকে (TMC Chairman) গ্রেফতারের পর বাদুড়িয়া পুরসভা পরিচালিত একটি পরিত্যক্ত কম্পিউটার সেন্টারেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৪,০০০ সরকারি ত্রিপল এবং আরও ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

    তদন্তের মূল অভিমুখ

    বাদুরিয়ায় (Baduria Municipality) এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় মহলের একাংশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। আবার অন্য অংশের দাবি, এই বিপুল অর্থ তোলাবাজির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে সবকটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বাদুড়িয়ার (Baduria Municipality) পুরপ্রধানকে (TMC Chairman)  তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “সবাই তো আর পার্থ চট্টোপাধ্যায় নন যে, বান্ধবীর ফ্ল্যাটে টাকা লুকিয়ে রাখবেন। ওই দলের অর্থাৎ তৃণমূল বহু নেতাকর্মী এত বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন যে, তা রাখার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই এখন মাটির নিচে টাকা লুকাতে হচ্ছে।”

  • CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত চৌকি (আউটপোস্ট) তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের ফলে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর।”

    কোন জেলায় কত জমি দেওয়া হয়েছে

    মুখ্যমন্ত্রী জেলা-ভিত্তিক জমির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী—

    • ● কোচবিহার – ২২.৯৫ একর
    • ● জলপাইগুড়ি – ৩৫.১৬৫ একর
    • ● দার্জিলিং – ৮.৮১৫ একর
    • ● উত্তর দিনাজপুর – ২.৮৪ একর
    • ● দক্ষিণ দিনাজপুর – ২০.১৭০১ একর
    • ● মালদা – ১০.৯০ একর
    • ● মুর্শিদাবাদ – ৩৮.৮০৫ একর
    • ● নদিয়া – ০.৫৫ একর
    • ● উত্তর ২৪ পরগনা – ২.৬ একর

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে মোট ৫০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর হওয়াকে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে “গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন” বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলির একটি

    গত ১১ মে নতুন সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি আটকে রেখেছিল, যার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার দ্রুত প্রশাসনিক জট কাটিয়ে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে। সরকারের মতে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থান

    এর আগে, এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূল পরিচালিত বিগত রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের টাকা দিলেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়নি। আদালত (তৎকালীন) রাজ্য সরকারের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম অধিকর্তার উপর ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

    ফাঁসিদেওয়ায় শুরু বেড়া নির্মাণের কাজ

    এরই মধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, বহু বছর ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই কাজ আটকে ছিল। নতুন সরকারের হস্তক্ষেপের পর সেই জট কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

    রাজ্যের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি

    এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ওই আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বর্তমান সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশিদের দাবি, আইনি জটিলতা ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বাড়ির মালিকরা এখন সতর্ক। যে সমস্ত বাড়ি বা বস্তি এলাকায় এই বাংলাদেশিরা এতদিন ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন, ভারতীয় বাড়ির মালিকরা আইনি ঝামেলার ভয়ে তাঁদের আর আশ্রয় দিতে চাইছেন না।

    ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন পেতাম’’ বলছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা!

    হাওড়ায় মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং স্থানীয়ভাবে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই তিনি দেশে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এখানে এখন অনেক সমস্যা চলছে। কাজ পাচ্ছি না, কেউ থাকতে দিচ্ছে না। দুই-তিন বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলাম। আধার বা রেশন কার্ড কিছুই ছিল না।” তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে মোট দশজন এসেছিলেন, তবে বর্তমানে তিনিই একমাত্র ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা মণিরুল শেখ বলেন, ‘‘চব্বিশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু ছাব্বিশে সালে ভোট হল না। বাতিল হয়ে গেল। কিন্তু, আমার স্ত্রীর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড হয়েছে৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন সমস্ত কিছুই পেতাম। এবার সরকার পরিবর্তন হল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের তারা থাকতে দেবে না। কারণ আমরা অনুপ্রবেশকারী। আমাদের এখন ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠালেই খুশি।’’

    জেলাগুলিতে তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সমস্ত জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনও দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি— এমন বিদেশিদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়।
    ২৩ মে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) নির্দেশিকা মেনে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা সহ অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের শনাক্তকরণ, আটক, পুনর্বাসন এবং প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সূত্রে দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের উপর এর প্রভাব পড়ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’কেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু! তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হয়েছিল এফআইআর, এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই ভাইপো তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল একদা তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুরে। ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। বুধবারই মমতার নামে শিলিগুড়িতে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধেও। তবে উসকানিমূলক মন্তব্য করায় এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই পাড়ায়, ভবানীপুর থানায়।

    ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য (Abhishek Banerjee)

    অর্ণবও ভবানীপুরেরই বাসিন্দা। তিনি জানান, ২ মে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভবানীপুর থানায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নানা সময় বুয়া-ভাতিজা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর আগে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজসেবী রাজীব সরকার।

    অভিযোগকারীর বক্তব্য

    অর্ণবের দাবি, অভিষেক ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর (Abhishek Banerjee)। এফআইআরে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেওয়ার পরেও, অভিষেক সমগ্র গুজরাটি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরেও আঘাত হানে। গুজরাটি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ (TMC)।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য নয়

    অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের (ডায়মন্ড হারবার) সাংসদের এমন মন্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

    অর্ণবের আশঙ্কা, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যদি উল্টোটা হত এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত (Abhishek Banerjee)। তাই এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত (TMC) ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাই পুলিশের কাছে তৃণমূল সম্পাদকের ওই পোস্টের যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অর্ণব (Abhishek Banerjee)।

     

LinkedIn
Share