Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

  • Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar Yojana) নিয়ে অবসান যাবতীয় জল্পনার। ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফর্মপূরণের (Form) কাজ। চলবে তিন মাস। এই প্রকল্পে আর্থিক অনুদান পেতে হলে ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাদের। বুধবার নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ করে রাজ্যে এই প্রকল্প সূচনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। তৃণমূলের আমলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের সকলকেই এই ফর্মপূরণ করতে হবে। যতদিন না অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সুবিধা পাবেন। কেউ যে বঞ্চিত হবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ফর্মের খুঁটিনাটি (Annapurna Bhandar Yojana)

    জানা গিয়েছে, বিডিও অফিস এবং পুরসভায় ফর্ম মিলবে। আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব তথ্য যাচাই করা হবে। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন। যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। সাহায্য করবেন বিধায়করাও। এই প্রকল্পে সুবিধা পাবেন কেবলমাত্র উপযুক্ত প্রাপকরাই। যে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, সেখানে উপভোক্তার পরিবার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ওই পরিবারকে আরও একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দিতেই এই তথ্য চাওয়া হবে (Annapurna Bhandar Yojana)। ১৫, ১৬, ১৭ জুন ‘জনকল্যাণ শিবির’ হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে। বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পান ২ কোটি ২০ লাখ মহিলা। এসআইআরের পরে মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত এমন কমবেশি ৩০ লাখ উপভোক্তার নাম বাদ যাবে। আবার, নতুন আবেদনও জমা পড়বে।

    উপযুক্তদেরই টাকা দেওয়া হবে

    ধীরে ধীরে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’র উপভোক্তাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নথিভুক্ত করা হবে। তাই কাউকে তাড়াহুড়ো করে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যতদিন না কোনও উপভোক্তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন (Form)।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তালিকা ভেরিফায়েড। কিন্তু অনেক অভিযোগ এসেছে। ভুয়ো প্রাপক, অ-ভারতীয়দের বাদ দেওয়া হবেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপযুক্তদের টাকা দেওয়া হবে। এই স্কিম তাঁদেরই (Annapurna Bhandar Yojana)।”

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলারা পাবেন ৩ হাজার করে টাকা। আয়কর দিলে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। সিএএ (CAA)-তে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারি, আধা সরকারি চাকরি করলেও এই সুবিধা পাবেন না। ভারতীয় ছাড়া কাউকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা নয়।” তিনি বলেন, “এসআইআরে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আধারযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে টাকা ঢুকবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় পরিচ্ছন্ন তালিকা হবে। ফর্ম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ডিটেলসও নেওয়া হবে, যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে। যাঁরা প্রকৃতই পাওয়ার যোগ্য তাঁরা যেন পান, সেটা দেখতে হবে (Annapurna Bhandar Yojana)।”

     

  • TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতা খোয়াতেই টলোমলো হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীর আসন (TMC Inner Clash)। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রোজকার যে ভিড়টা দেখা যেত, সেই চেনা ছবিটাও তো দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যে বিপুল জনাদেশ নিয়ে (Calcutta Municipal Corporation) বিজেপি নবান্নের কুর্সিতে বসতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছে স্তাবকের দল। আক্ষরিক অর্থেই একা মমতা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন ‘নকল বুঁদি গড়’ রক্ষা করতে। তবে তিনি সেই ‘গড়’ কতদিন আগলে রাখতে পারবেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, ছাব্বিশের নির্বাচনে দল খাদে পড়ে যেতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন এক এক করে বহু প্রবীণ নেতাও।

    পদ ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি (TMC Inner Clash)

    এই যেমন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে গিয়েছেন কাকলি। ইদানিং তিনিই শুরু করেছেন বেসুরো গাইতে। দিন তিনেক আগে কাকলি ছেড়েছিলেন জেলা সভাপতির পদ। এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন কাকলি। কারণ, কাকলির ‘বিলম্বিত বোধদয়’! শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল জমানায় রাজ্যে হওয়া একের পর এক কেলেঙ্কারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম না করে কাকলি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলেরই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কল্যাণকে। তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলি লেখেন, “’৭৬ থেকে পরিচয়, ‘৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

    কাকলির বিলম্বিত বোধদয়!

    তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, ‘দুর্নীতি থেকে আরজিকরকাণ্ড তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ বুধবার তিনি লেখেন, “আমার বিবেক আজ গভীরভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ কাকলি জানান (TMC Inner Clash), ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি অনুভব করেছেন। তৃণমূলের সাংসদ লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।”

    কাকলির নিশানায় আইপ্যাক

    ওই চিঠিতেই কাকলি চাঁদমারি করেছেন আইপ্যাককে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই সংস্থাই ছিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা। তিনি জানান, আইপ্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সেগুলিও তাঁকে বিচলিত করেছে (Calcutta Municipal Corporation)। কাকলি লিখেছেন, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলেই আমি মনে করি।” তৃণমূলের এই প্রবীণ নেত্রী জানান, তিনি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি। দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন তিনি।

    পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপ

    এদিকে, মঙ্গলবারই কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে। তৃণমূল সুপ্রিম সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, গুরুত্বপূর্ণ পদে ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর – সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। বুধবার ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন সুশান্ত। আর মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদে ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী (TMC Inner Clash)। সুশান্ত এবং অরূপ যথাক্রমে ১০৮ এবং ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

    বিজেপিকে ধন্যবাদ সুশান্তর

    সুশান্ত বলেন, “মানুষ যাঁদের ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। দলের যেসব মন্ত্রী জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঁদের জন্যই মমতার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য আমাদের দলের অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।” তিনি বলেন, “২০২০ সালে আমার ওপর আক্রমণ হয়। ২০২৪ সালেও ফের আক্রমণ হয়। অবাক করা ব্যাপার হল, আমার সরকার ঠিক করে তদন্তটাও করেনি। অদ্ভুতভাবে মূল দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থা করে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, এই তদন্তটা দেখতে (Calcutta Municipal Corporation)।”

    কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়?, প্রশ্ন অরূপের

    অরূপ বলেন, “মমতাদি-অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়? যাঁদের কনভয়ের আগে চার-পাঁচটা করে গাড়ি থাকত? জনাদেশ আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এটা আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি সব জয় মিথ্যে হয়ে যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে মান্যতা দিতেই হবে।” তিনি বলেন, “কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন থাকে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে, নেই। এখন আমরা নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যেসব সেলিব্রিটি ছিলেন, তাঁরা কোথায় (TMC Inner Clash)?” এদিন দুপুরে পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন সুশান্ত-অরূপ। পরে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও।

    জনাদেশ মাথা পেতে নিয়ে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন (Calcutta Municipal Corporation)। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলনেত্রী স্বয়ং গোহারা হারতেই আর ‘রিস্ক’ নেননি তিনি (TMC Inner Clash)।

     

  • TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    TMC MLA Dilip Mandal: পুরী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, আদালতের নির্দেশে নজিরবিহীন পদক্ষেপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে (TMC MLA Dilip Mandal) ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হল। আদালতের কড়া নির্দেশের পরই রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল (STF) ওড়িশায় গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। আজ, বুধবারই তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে এনে আলিপুর আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মূল ঘটনা ও আইনি জটিলতা (TMC MLA Dilip Mandal)

    বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক বাসিন্দার দায়ের করা জমি সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। বিধায়কের এই আচরণকে আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করে বিচারপতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উল্লেখ্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল বিজয় মিছিল করার সময়ে মাইকে বলেছিলেন, “এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবো। যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বা বিজেপির হয়ে কাজ করেছে,তাঁদের বিষ্ণুপুর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না।” তারপর অভিযোগ দায়ের হয় থানায়।

    আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও জনপ্রতিনিধি আইনের ঊর্ধ্বে নন। এর পরেই ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে অবমাননার দায়ে বিধায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি করা হয় এবং রাজ্য পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পুরীর হোটেল থেকে গ্রেফতার

    দিলীপ মণ্ডলের ছেলেকে গ্রেফতার করে  জিজ্ঞাসাবাদ করতেই  একাধিক আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ফোন নম্বর হাতে পান তদন্তকারীরা । সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু হয় । তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে নিশ্চিত হন যে দিলীপ মণ্ডল রাজ্যের বাইরে কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন । প্রথম দিকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন ওড়িশায় রয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর পুলিশ বিধায়কের (TMC MLA Dilip Mandal) অবস্থান চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, তিনি সপরিবারে ওড়িশার পুরীর ব্লুলিলি নামক একটি হোটেলে আত্মগোপন ছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল পুরী পৌঁছায় এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    তৃণমূল বিধায়কের এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিনি ভোটে জিতে প্রকাশ্যে মাইক লাগিয়ে বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে যে, আইন সবার জন্য সমান—তা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।

  • Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    Municipal elections: রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি, নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে তৎপর শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে পুরভোটের (Municipal elections) প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমগুলির নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রশাসনকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং আসন সংরক্ষণের (রিজার্ভেশন) কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, আগামী নভেম্বর মাসেই কলকাতায় পুর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনের শূন্যতা ও বড় চ্যালেঞ্জ (Municipal elections)

    আগামী ৯ মাসের মধ্যে রাজ্যের মোট ১২৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। নতুন রাজ্য সরকারের পক্ষে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুচারুভাবে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রধান কারণ হল, রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে কার্যত নেতৃত্বহীন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পদত্যাগ করার পর থেকে এই পদটি এখনও শূন্য রয়েছে।

    তাছাড়া, সম্প্রতি এক নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শাণ্ডিল্যের মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল করা হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, নির্দেশ মোতাবেক তিনি পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে কমিশনে যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিকও কর্মরত নেই। এই প্রশাসনিক শূন্যতার মধ্যে কীভাবে দ্রুত সীমানা পুনর্গঠন ও ভোটপ্রক্রিয়া চালানো সম্ভব, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে চিন্তাভাবনা চলছে।

    দীর্ঘদিনের বকেয়া ভোট ও হাওড়া প্রসঙ্গ

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় (Municipal elections) কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমেই নাগরিক পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এলাকাটি হলো হাওড়া, যেখানে বিগত ১৩ বছর ধরে কোনও পুর নির্বাচন হয়নি। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “হাওড়ার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু হাওড়া নয়, রাজ্যের সব ক’টি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।”

    বহু পুরসভায় বকেয়া ভোট…

    উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই হাওড়ার নিউ কালেক্টরেট ভবনে আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রায় এক দশক ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় ভোট গ্রহণ করা হবে। হাওড়া ছাড়াও ২০১৭ সালের পর থেকে রাজ্যের যে সমস্ত পুরসভায় দীর্ঘদিন নির্বাচন (Municipal elections) বকেয়া রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে— দুর্গাপুর পুরনিগম, ডোমকল, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পূজালি, কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প, নলহাটি এবং ধূপগুড়ি পুরসভা।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও নবান্নের কড়া বার্তা

    অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা পুরবোর্ডগুলিতে (Municipal elections) ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তৃণমূলের ৮ জন কাউন্সিলর। এই ধরনের রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে যে সমস্ত পুরবোর্ড ভেঙে যাচ্ছে বা সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

  • Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি খোয়াতেই তৃণমূলের একের পর এক নেতার দিকে ধেয়ে আসছে বহুবিধ বাণ। দলের ছোট-বড় নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এবার টান পড়ল দলের মাথায়! আজ্ঞে হ্যাঁ। এফআইআর দায়ের হল (Controversial Remarks) তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। টানা ১৫ বছর নবান্নের ঠান্ডা ঘরে ছিলেন মমতা। অভিযোগ, এই পর্বে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক মঞ্চ হাজির হয়ে তিনি করেছেন একাধিক ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য। তার জেরেই দায়ের হল মামলা। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়েছে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন তৃণমূলেরই এক শীর্ষ নেতা। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জেরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের অন্দরে লুকোনো পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন।

    বিতর্কিত মন্তব্য মমতার (Mamata Banerjee)

    জানা গিয়েছে, রেড রোড এবং কলকাতার ধর্না মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেই অভিযোগ তুলেই শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পদ্ম-কর্মী তথা পেশায় আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি দুটি ঘটনা নিয়ে এফআইআর করেছি। একটি হল রেড রোড থেকে উনি বলেছেন, আমি এই গন্দা ধর্ম মানি না। কোন গন্দা ধর্ম উনি মানেন না? যে ধর্মকে গোটা বিশ্ব আইডিয়োলজি হিসাবে দেখে? যে ধর্মকে নিয়ে হাজারো মুনি-ঋষি চর্চা করেছেন যুগ-যুগান্তর ধরে? উনি সেই ধর্ম মানেন না?” রিঙ্কি বলেন, “আমার দ্বিতীয় অভিযোগ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে উনি বলেছিলেন আমি আছি বলেই একটা বিশেষ সম্প্রদায় তোমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে না। কোন কমিউনিটি ঘিরে ধরছে না? কাদের ঘিরে ধরছে না? উনি তো মুসলমান-হিন্দু উভয় সম্প্রদায়েরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন? তাহলে একটা সম্প্রদায়কে খুশি করতে গিয়ে কেন আর একটি সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়েছিলেন? একজন হিন্দু ভোটার হয়ে আমি ভয় পেয়েছি। আমি ওঁর এই মন্তব্য সমর্থন করি না। তাই অভিযোগ দায়ের করেছি।”

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণীর বক্তব্য

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণী বলেন, “২০২৫ সালে ঈদের ওই ঘটনার পর আমি শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকরা আমার অভিযোগ নিতে (Mamata Banerjee) অস্বীকার করেন। তাঁরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কটু কথা বলে থানা থেকে (Controversial Remarks) বের করে দেওয়া হয় আমায়।” রাজ্যে পালাবদলের পর শেষমেশ শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পেরেছেন তিনি। রিঙ্কি জানান, আইনত যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তার অপেক্ষায়ই রয়েছেন তিনি।

    কোন কোন ধারায় মামলা

    জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধারাগুলি হল, ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অপমান বা প্ররোচিত করা), ৩৫৩ (জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, ঘৃণা বা গুজব ছড়ানো), ৩৫৪ (কোনও ব্যক্তিকে ঈশ্বর বা ঐশ্বরিক শক্তির শাস্তির ভয় দেখিয়ে বা অপছন্দের পাত্র বানানোর হুমকি দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ করতে বাধ্য করা), ৩৫৬ (ফৌজদারি মানহানি), এবং ২৯৯ (যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে এমন কোনও কাজ, কথা, লেখা, চিহ্ন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমের ব্যবহার করে—যার লক্ষ্য কোনও একটি (Mamata Banerjee) বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করা এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া)।

    তৃণমূলে শুরু কাদা ছোড়াছুড়ি

    এদিকে, হাতি (পড়ুন, তৃণমূল) গাড্ডায় পড়তেই, শুরু (Controversial Remarks) হয়ে গিয়েছে লাথালাথি। বিধানসভা নির্বাচনে ‘বুয়া’র সাধের দল মুখ থুবড়ে পড়তেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা পেশায় আইনজীবী অত্রি শর্মা দলের মুখপাত্র। তিনি সরাসরি মমতার বিরোধিতা না করলেও, পরোক্ষভাবে তাঁর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। অত্রি বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য করা একেবারেই উচিত হয়নি। আমরা যাঁরা সেই সময় থেকে আজও দলে নিষ্ঠার সঙ্গে রয়েছি, তাঁরাও কিন্তু মন থেকে এই বিষয়টি সমর্থন করতে পারিনি। তবে ভারতীয় সংবিধানে সবারই আইনি পথে অভিযোগ জানানোর পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে জেলাস্তরের এক শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্য থেকে এটা (Mamata Banerjee) স্পষ্ট যে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল অসন্তোষের আগুন। তৃণমূলের পদস্খলন হওয়ার পর সেই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিই উগরোতে শুরু করেছে আগুনে লাভা।

    ‘ভাতিজা’র আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা

    ‘বুয়া’র পাশাপাশি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড তথা ‘ভাতিজা’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় উসকানিমূলক এবং উগ্রপন্থীদের মতো মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই মন্তব্যের জন্য আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে ‘ভাইপো’কে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা হয়ে তিনি কীভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন হুমকি দিতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। সব (Controversial Remarks) মিলিয়ে নির্বাচনে হারের ঘা পুরোপুরি শুকোবার আগেই, তৃণমূলের (Mamata Banerjee) যে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বহুল্য।

     

  • Suvendu Adhikari: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকান নিষিদ্ধ, সাফ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরের ১ কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকান নিষিদ্ধ, সাফ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত ধর্মীয় উপাসনালয়, যথা মঠ-মন্দির এবং স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটার পরিধির মধ্যে কোনও মদের দোকান রাখা যাবে না। মঙ্গলবার কল্যাণীতে একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে নতুন কোনও মদের দোকানের লাইসেন্সও (Liquor Policy) দেওয়া হবে না। ফলে নতুন করে মদের লাইসেন্স দিতে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলছে।

    রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই কাজ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা; কোনও শাসকের খেয়ালখুশির আইন এখানে চলবে না।” তিনি আরও জানান, “প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে জেলাভিত্তিক এই প্রশাসনিক বৈঠকগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হচ্ছে। আগামী দিনে কোলাঘাট, বারাসত, মালদাসহ বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের বৈঠক করা হবে।”

    কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না

    সূত্রের খবর, এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) পুলিশ প্রশাসনকে অনলাইন লটারি এবং অবৈধ চোলাই মদের কারবারের বিরুদ্ধে  কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জনকল্যাণের কাজে প্রশাসনের কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। উল্লেখ্য তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে আয়ের প্রধান উৎস ছিল আবগারি দফতর (Liquor Policy) এবং মদ বিক্রি । টাকার বিনিময়ে প্রচুর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে রাজ্যে। ব্যাপক পরিমাণে মদ বিক্রির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজকে মদে মজিয়ে রখেছে বলে অভিযোগও তুলেছে বিজেপির একাংশ। দুর্গাপুজো, কালীপুজোতে মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে রেকর্ড পরিমাণে মদ বিক্রির পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছিল। তাই তৃণমূলের দেখানো পথে বিজেপি আর হাটবে না। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিতে এটাই স্পষ্ট যে  গত সরকারের চেয়ে আলাদা নীতি নিয়ে চলবে নতুন সরকার।

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • Amit Shah: অনুপ্রবেশ রুখতে অনড় কেন্দ্র, সীমান্ত সুরক্ষা ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে জুনেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ

    Amit Shah: অনুপ্রবেশ রুখতে অনড় কেন্দ্র, সীমান্ত সুরক্ষা ও ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প খতিয়ে দেখতে জুনেই রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার-এই নীতিতে অবিচল। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবার দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সীমান্ত (Visit Bengal Borde) এলাকাগুলির সুরক্ষাকবচ নিশ্ছিদ্র করতে সম্প্রতি কেন্দ্র যে ‘স্মার্ট বর্ডার’ (Smart Border) প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল, তার বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে দেশব্যাপী সফর শুরু করছেন তিনি। এই সফরসূচিতে পশ্চিমবঙ্গও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২৬ মে রাজাস্থান যাবেন, ৯ মে গুজরাটের ভুজ সফরে যাবেন এবং ৫ জুন ত্রিপুরা সীমান্ত সফরের যাবেন অমিত শাহ। আর ১৫ জুন বঙ্গ সফরে আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা (Amit Shah)

    উল্লেখ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটা বড় অংশে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বিএসএফকে জমি (Visit Bengal Borde) না দেওয়ার কারণে চোরাচালান, অবৈধ পাচার এবং অনুপ্রবেশের একটা বড় অভিযোগ উঠছিল। তৃণমূল সরকার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার চাওয়া সত্ত্বেও জমি ও কাটা তারের বেড়া দিতে দেয়নি বলে বিজেপি অভিযোগ করেছে। এবার রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়তেই সীমান্ত সুরক্ষাকে প্রাথমিকতা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কোচবিহার, মালাদা এবং মুর্শিদবাদে বিএসএফকে জমি দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। এরপরই শাহের (Amit Shah) সফর ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    রাজস্থান দিয়ে সফর শুরু

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই কর্মসূচির অধীনে মোট চারটি সীমান্ত রাজ্যে সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই সফর। প্রথম দফায় তিনি রাজস্থানের বিকানের অঞ্চলের সীমান্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন। সফরকালীন সুরক্ষার রূপরেখা নির্ধারণে রাজস্থানের সীমান্ত (Visit Bengal Borde) সংলগ্ন পাঁচ জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি।

    ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফর তাৎপর্যপূর্ণ সীমান্ত বৈঠক

    আগামী ১৫ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah) সম্ভাব্য কর্মসূচিসমূহ হল–

    সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন

    ভারত-বাংলাদেশ (Visit Bengal Borde) সীমান্তের কোনও একটি অগ্রবর্তী বিএসএফ পোস্ট (Border Outpost) পরিদর্শন করবেন এবং বাহিনীর সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন।

    উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক

    রাজস্থানের মতোই এ রাজ্যেও সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিএসএফ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করবেন।

    সমন্বয়ের বার্তা

    দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের (Visit Bengal Borde) জনবিন্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য সফল করতে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও বিএসএফ-কে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সূত্রের খবর, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, গবাদি ও মাদক পাচার, জাল নোট চক্র এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি- এসব কিছু নিয়েই বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। সীমান্ত বাহিনীর বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলির জেলা প্রশাসন ও পুলিশকর্তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামী দিনের বৈঠক

    চারটি সীমান্ত (Visit Bengal Borde) রাজ্য পরিদর্শনের পর, ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের সফল রূপায়ণ ও সীমান্ত সুরক্ষার আধুনিকীকরণ নিয়ে পরবর্তী ধাপে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) একটি পৃথক ও বিশদ বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।

    ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

    উল্লেখ্য বাংলাদেশে হাসিনাকে বিতারিত করার পর থেকেই জামায়েত- ই-ইসলাম বাংলাদেশে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মহম্মদ ইউনুসের আমল থেকে ভারত বিরোধিতার গতিবিধি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরবর্তীতে সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলেও জমায়েত এখন বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল। তাঁদের নেতারা সব সময় ভারত বিরোধিতা করতেই মত্ত। সভেন সিস্টার এবং চিকেন নেক নিয়ে প্রায় প্রায় আক্রমণের উত্তেজক ভাষণ শোনা যায়। সম্প্রতি আইএসআইয়ের সঙ্গে  জামাতের গোপন চুক্তি সামনে এসেছে। একই ভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারত সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জামত এক চেটিয়া আসন লাভ করেছে। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, রংপুর-সহ আরও এলাকায় জামাত একাধিপত্য লাভ করেছে। তাই এই অবস্থায় পাকিস্তানের ভারত বিরোধী কর্মকাণ্ডের যাতে অন্যতম হাব বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে না হয় সেই দিকেই নজর রেখে ভারত সরকার স্মার্ট বর্ডার নির্মাণের রূপরেখে ঠিক করেছে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

LinkedIn
Share