Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Bangladeshi Infiltrators Detained: মুর্শিদাবাদ-মালদায় অ্যাকশনে পুলিশ, অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে

    Bangladeshi Infiltrators Detained: মুর্শিদাবাদ-মালদায় অ্যাকশনে পুলিশ, অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাঁদের (Bangladeshi Infiltrators Detained) তৈরি করতে বলা হয়েছিল হোল্ডিং স্টেশন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সেই নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে শুরু হয়ে গেল অনুপ্রবেশকারীদের পাকড়াও করতে জোরদার তৎপরতা (Holding Centre)। মুর্শিদাবাদে ওপার বাংলা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়া ৩ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ধরে পাঠানো হয়েছে লালগোলায় তৈরি নয়া হোল্ডিং সেন্টারে। একইভাবে, মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে।

    মুর্শিদাবাদে আটক ৩ অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi Infiltrators Detained)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ওই তিন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথিপত্র নেই। ধৃতদের নাম মহম্মদ সেলিম, মহম্মদ রুবেল এবং শরিফুল ইসলাম। আগে সচরাচর অনুপ্রবেশকারীদের ধরে সটান পাঠিয়ে দেওয়া হত জেলে। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর এবার আর মান্ধাতা আমলের সেই চেনা পথে হাঁটছে না প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদলের সরকারের নয়া গাইডলাইন মেনে আইনি প্রক্রিয়া সেরে নেওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হয়েছে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে।

    ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখার ফরমান

    পালাবদলের সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে রাজ্যের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয় সম্প্রতি। তাতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ বা মায়ানমার থেকে যে সব নাগরিক বা রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলায় ঢুকে পড়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা চলছে, সাধারণ কয়েদিদের মতো তাদের জেলে রাখা যাবে না। এই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আদালতে তোলার পর সরাসরি সরকারি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখতে হবে। সেখান থেকেই দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নবান্নের এই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাপ্রশাসন। মুর্শিদাবাদের লালগোলার বিশেষ ক্যাম্পটিকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। রানিতলায় ধরা পড়া তিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হয়েছে সেখানেই। বিএসএফ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে এই অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়।

    ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজ শুরু

    রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে কোমর কষে নেমেছে। মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। এই হোল্ডিং সেন্টারগুলির মাধ্যমেই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে নিজেদের দেশে (Bangladeshi Infiltrators Detained)। এতে ভিটেয় ফিরতে অযথা সময় নষ্ট হবে না অনুপ্রবেশকারীদের, রেহাই পাবেন প্রশাসনিক কর্তারাও। এদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পর মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে। আগে এটি ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অফিস। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর তাকেই দ্রুত রূপ (Holding Centre) দেওয়া হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারের। সিসিটিভি এবং কড়া প্রহরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মালদার এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। তাদের পাকড়াও করা হয়েছে গাজোল এলাকা থেকে। এই ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩ মহিলা এবং ৬ নাবালক-নাবালিকা।

    কী বলছেন সাংসদ?

    মালদা উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘ভারতীয় নাগরিক নন, এমন যে সব ব্যক্তি (Bangladeshi Infiltrators Detained) আছেন, তাঁদের আমাদের দেশ থেকে ফিরতে হবে তাঁদের নিজেদের দেশে। এটা তো খুবই জরুরি। আমাদের রাজ্যকে সুরক্ষিত করব। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত করব। এতদিন ধরে তৃণমূল রাজ্যটাকে রোহিঙ্গাদের, সন্ত্রাসবাদীদের, জেহাদিদের করিডর হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছিল।” নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ এবং মালদা মিলিয়ে গ্রেফতার করা হল মোট ১২ জন অনুপ্রবেশকারীকে। তাদেরই রাখা হয়েছে দুই জেলার দুই হোল্ডিং সেন্টারে।

    রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রথমে বাম এবং পরে তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে বেনো জলের মতে ঘটেছে বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। দালাল মারফত এরাই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকে পড়ে তৎকালীন শাসক দলের ‘করিৎকর্মা’ নেতাদের ধরে জাল কাগজপত্র বানিয়ে দিব্যি বাস করছিলেন এপার বাংলায়। তাঁরাই ছিলেন বাম এবং তৃণমূল সরকারের ভোটব্যাঙ্ক। অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই ওই দুই জমানায় ভোট ‘করাত’। কখনও হুমকি, কখনও আবার ছাপ্পা দিয়ে শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনতে এদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে ছাব্বিশের ‘ফিল্টার্ড’ (এসআইআরের ছাঁকনিতে বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের নাম। এঁদের সিংহভাগই অনুপ্রবেশকারী বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।) বিধানসভা নির্বাচনে বেআব্রু হয়ে পড়ে রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের কঙ্কালসার চেহারাটা। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জয়ী হয়ে তারা গুণছে ধরাকে সরা জ্ঞান করার মাশুল (Bangladeshi Infiltrators Detained)। আর ২০৮টি আসন পেয়ে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত রাজ্যের সর্বত্রই পদ্ম ফুটিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। নবান্নে শুরু হয়েছে পদ্ম-রাজ। তার পরেই শুরু (Holding Centre) হয়েছে ‘অনুপ্রবেশকারী খেদাও’ অভিযান। যে অভিযানে ধরা পড়ল ১২ অনুপ্রবেশকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও, কী অভিযোগ ভবানীপুরের এই ভোটারের?

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও, কী অভিযোগ ভবানীপুরের এই ভোটারের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) ‘জনতার দরবারে’ (Janata Darbar) হাজির ৮১ বছরের এক বৃদ্ধও। ছিলেন চাকরি হারা চাকরিপ্রার্থীরাও। সল্টলেকে বিজেপির দফতরে ফি সোমবার বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার। প্রতিটি দরবারেই ব্যাপক ভিড় হয়। আজ, সোমবারও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড়েই ছিলেন চাকরিহারা থেকে চাকরিপ্রার্থীরাও। ছিলেন প্রবীরবাবুর মতো অসহায় মানুষও। রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নানা অভাব-অভিযোগ জানাতে এসেছেন তাঁরা।

    জনতার দরবারে হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও (Suvendu Adhikari)

    এঁদের মধ্যেই ছিলেন বছর একাশির প্রবীর মুখোপাধ্যায়ও। তিনি ভবানীপুরের টাউনসেন্ড রোডের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে তিনি জানান, তিনি  জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পুর প্রতারণার শিকার। তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, কামদার ও তার সাগরেদরা প্রোমোটিংয়ের নামে প্রবীরবাবুর বাড়িটি জরবদখল করে। কিন্তু তার পরে দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও, এ পর্যন্ত ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি প্রবীরবাবুকে। মাথা গোঁজার ঠাঁই খুইয়ে তাঁকে থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাড়িতে। মাস গেলে ভাড়া বাবদ গুনতে হচ্ছে মোটা টাকা। তাঁর দাবি, প্রতারিত হয়েছেন তিনি। বিচার পাওয়ার আশায় নিজের কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির তিনি। তাঁর কাছে সব শুনে সমাধানের আশ্বাস দেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সোম-দরবারে এদিন সব থেকে বেশি নজর কাড়েন চাকরিহারা এবং ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীরা। সব মিলিয়ে মোট ন’টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে, তাঁদের ক্ষোভ এবং দাবিদাওয়া জানাতে।

    দরবারে দাবি নিয়ে হাজির বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীরাও

    তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্যে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অথৈ জলে পড়েছে। সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে একে একে সকলের অভাব-অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই দেখা গেল ২০১৬ সালের প্যানেলের বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের। তাঁদের পক্ষে সুমন বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্যদের চাকরি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এই সরকারকে আমরা বিরক্ত করব না (Suvendu Adhikari)। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। অন্যান্য বিষয়ের মতো এই বিষয়েও নয়া সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই আমাদের আশা।” তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন (Janata Darbar)। আমাদের মতো যুবকদের অবজ্ঞা করার পরিণাম তিনি এখন দেখছেন।”

    কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা

    কেবল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নয়, রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশার কথাও কয়েকজন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে। কারিগরি শিক্ষার চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতির জেরে গত ১৫ বছর ধরে কোনও নিয়োগ হয়নি। অবিলম্বে এই শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার।” শুধু শিক্ষক বা চাকরিপ্রার্থীরাই নন, নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘দরবারে’ অভাব-অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বহু সাধারণ মানুষও। কোচবিহার থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও বহু মানুষ জনতার দরবারে এসেছিলেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা সমস্যার সুরাহার আশায়। সল্টলেকে গেরুয়া পার্টির এই ‘শুভেন্দু-দরবারে’ উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিজেপির হেভিওয়েট রাজ্য নেতৃত্বও (Suvendu Adhikari)।

    শূন্যপদ পূরণই সরকারের আশু লক্ষ্য

    সরকারে যে দলই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের নানান অভাব-অভিযোগ থাকেই। তবে ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মের বেড়াজালে আটকে গিয়ে সেই সব সমস্যা অনেক সময়ই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছয় না।  সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া-অভাব-অভিযোগ সম্বলিত সেই সব চিঠি নবান্নে বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠালেও, সব সময় সেগুলি উদ্দিষ্ট ব্যক্তির টেবিলে পৌঁছয় না বলেই অভিযোগ। সেই সব জটিলতা এড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেই এহেন দরবারের সিদ্ধান্ত রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর। ইতিমধ্যেই নয়া সরকার সব দফতরের কাছ থেকে শূন্য পদের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। তাই শূন্যপদ পূরণই যে রাজ্যের পদ্ম-সরকারের কাছে প্রাধান্য পাবে, তা বলাই বাহুল্য (Janata Darbar)। রাজ্যবাসী যাতে তাঁদের নিজেদের নানা সমস্যার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারেন, তা-ই ফি সোমবার ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও এই দরবার থেকেই দেন তিনি। আজ, সোমবার নিয়ে নয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই দরবারের বয়স হল দু’সপ্তাহ (Suvendu Adhikari)।

    মর্যাদা পুরুষোত্তমের পথে শুভেন্দু!

    প্রসঙ্গত, শুভেন্দু আগেই জানিয়েছিলেন, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেকের দলীয় অফিসে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী। চেষ্টা করবেন সমস্যার দ্রুত সমাধানের। কলকাতা থেকে শুরু হলেও, অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও ‘জনতার দরবার’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে শুভেন্দুর সরকারের। সেই সব দরবারেও গুরুত্ব দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের ছোটখাট সমস্যাকেও। চেষ্টা করা হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই সব সমস্যার সমাধানের। রামায়ণ থেকে জানা যায়, অযোধ্যার প্রজাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতে নিয়মিত রাম দরবার বসাতেন ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামচন্দ্র স্বয়ং। ক্রমে সনাতন ধর্মের এই অবতার হয়ে (Suvendu Adhikari) ওঠেন অযোধ্যাবাসীর চোখের মণি।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শুভেন্দুও এগোচ্ছেন রামের পথে। স্বাভাবিক। মর্যাদা পুরুষোত্তম রামই যে আরাধ্য বঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীরও (Janata Darbar)!

     

  • Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় একটি কথা আছে চিরদিন কাহার সমান না যায়, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে অহংকারী করে তোলে। তৃণমূলের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে।  দেড় দশক পর অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে বাংলায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর শাসনক্ষমতা হারানোর পরপরই আরও এক বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হল ঘাসফুল শিবির। এবার খোদ দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় তথা ‘তৃণমূল ভবন’ (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেলেন শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)। উল্লেখ্য এই ভবন থেকেই অভিষেক রাজ্যের শাসক দলকে নিজের হাতের মুঠোয় করে দল চালাতেন বলে অভিযোগ তৃণমূলেরই একাংশের।

    ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় ভাড়া নেওয়া যে বহুতল ভবনটি এতদিন ধরে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তার মালিক ইতিমধ্যেই জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ওই ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়, মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি হবে ভবন (Trinamool Bhavan)

    সূত্রের খবর, এই বিলাসবহুল বহুতলটির মালিক রাজ্যের অন্যতম খ্যাতনামা ডেকরেটার্স সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’-এর কর্ণধার মন্টু সাহা। তিনি নিজেই তৃণমূল নেতৃত্বকে মৌখিকভাবে ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তা খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। মন্টুবাবু নিজে এই নোটিস দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, তৃণমূল নেতৃত্বের (Mamata Banerje) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে।

    কোনও রাজনীতি নেই

    রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলকে কেন এমন নোটিশ দেওয়া হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্টু সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চাপ বা অন্য কোনও সমীকরণ নেই। তিনি বলেন, ‘‘গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ভবনের (Trinamool Bhavan) বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হলে তো লোকসান আমারই। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনীতি নেই।”

    কোনও ক্ষোভ নেই

    মূলত নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি তৃণমূলকে এই ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছাড়তে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া বাবদ যাবতীয় বকেয়া তৃণমূল নেতৃত্ব সর্বদা নিয়ম মেনে মিটিয়ে দিয়েছে এবং দলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

    দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তপসিয়ায় অবস্থিত দলের পুরনো ও মূল কার্যালয়টি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরনো ভবনটি (Trinamool Bhavan) ভেঙে সেখানে কর্পোরেট ধাঁচের একটি আধুনিক বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কারণেই বিকল্প কার্যালয় হিসেবে ২০২২ সালে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকার এই ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মাত্র দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া হলেও, তপসিয়ার মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়।

    সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু

    ফলে বিগত চার বছর ধরে এই মেট্রোপলিটন ভবনটিই ছিল তৃণমূলের সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনেই (Trinamool Bhavan) দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পৃথক সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক, নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ এবং সাংবাদিক সম্মেলন—সবই পরিচালিত হতো এখান থেকে। প্রতিদিন দলের প্রথম সারির নেতা, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এখানে সমবেত হতেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের মূল দায়িত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এখন চরম সঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)।

    চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। শাসনক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে শাসকদল। তার ওপর দলের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ তথা এই অস্থায়ী ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দিতে হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব। যেহেতু তপসিয়ার মূল ভবনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় ছাড়তে হওয়ায় আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম কোথা থেকে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে নতুন কোনও উপযুক্ত অস্থায়ী আস্তানা খুঁজে না পেলে ঘাসফুল শিবিরের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    Suvendu Adhikari Government: স্কুল-মান্ডিতেই হবে হোল্ডিং সেন্টার! কীভাবে ধরা হবে অনুপ্রবেশকারীদের, জানাল সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই “ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট” নীতির কথা তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ক্ষমতায় আসার পর সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব স্তরেও শুরু হতে চলেছে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” তৈরির নির্দেশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।

    জেলায় জেলায় তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    রাজ্য প্রশাসনের তরফে সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের সীমান্ত পার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বিএসএফ। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার বা জেল থেকে মুক্তি পাওয়া যেসব বিদেশি অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন, তাঁদেরও সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করল নতুন সরকার

    ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ, আটক এবং প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি তৎকালীন তৃণমূল সরকার। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিতে যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে, তা মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতেই তৈরি।

    কারা সিএএ-র আওতায়, কারা ডিপোর্টের মুখে

    সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়েন, তাঁদের বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, যাঁরা ওই আইনের আওতায় পড়েন না—বিশেষত বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা—তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করে ডিপোর্ট করা হবে বলে সরকার স্পষ্ট করেছে।

    কেমন হবে এই হোল্ডিং সেন্টার

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলার কৃষক মান্ডি, সরকারি স্কুল বা সরকারি পরিকাঠামোকেই আপাতত হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। আলাদা করে বড়সড় ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে ওই সেন্টারগুলিতে রাখা ব্যক্তিরা বাইরে অবাধে চলাফেরা করতে পারবেন না। নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    কীভাবে শনাক্ত করা হবে অনুপ্রবেশকারীদের

    কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ধরা পড়া বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি এবং অন্যান্য পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য। এই সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (FIP)। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় অবৈধ বিদেশি শনাক্ত ও প্রত্যর্পণের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

    কেউ নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে কী হবে

    যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁর তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা বা রাজ্যের কাছে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে সেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারেই রাখা হবে।

    অবৈধ প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা

    যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে যাতে ভবিষ্যতে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করতে না পারেন।
    এছাড়া তাঁদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে এবং ইউআইডিএআই (আধার কর্তৃপক্ষ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আধার, ভোটার কার্ড বা অন্য সরকারি পরিচয়পত্র ও সুবিধা বাতিল করার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

    খরচ বহন করবে কে

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য প্রাথমিক পরিবহণ ব্যয় রাজ্য সরকার বহন করবে। পরে সেই অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া যাবে। অন্যদিকে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

    রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করেছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে বিজেপি প্রশাসনিক কঠোরতা হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার ও ডিপোর্টেশন নীতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    Chingrighata Viaduct: তৃণমূল জমানায় থমকে ছিল ১৮ মাস, বিজেপি আসতেই চিংড়িঘাটায় মাত্র ১২০ ঘণ্টায় শেষ হল ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, আদালত পর্যন্ত গড়ানো টানাপোড়েন এবং দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে বড় সাফল্য পেল কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন প্রকল্প। ইএম বাইপাসের ব্যস্ত চিংড়িঘাটা মোড়ে মাত্র ১২০ ঘণ্টার মধ্যে দু’দফায় গুরুত্বপূর্ণ ভায়াডাক্ট বসিয়ে ‘মিসিং লিংক’-এর বড় অংশ সম্পূর্ণ করল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। এই কাজ শেষ হওয়ায় নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডরের অরেঞ্জ লাইনের সেক্টর ফাইভ সংযোগের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেল।

    দু’দফায় ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট বসানোর নজির

    প্রথম ধাপের কাজ শুরু হয়েছিল ১৫ মে রাত ৮টা থেকে। টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের মধ্যে ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে ২৮ মিটার দীর্ঘ কংক্রিট ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই ভায়াডাক্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল মোট ১০টি কংক্রিট সেগমেন্ট। এর মধ্যে আটটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন এবং দু’টির ওজন প্রায় ৪০ টন। প্রথম পর্যায়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগেই শেষ হয়। ফলে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যেই উল্টোডাঙামুখী রাস্তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

    এরপর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয় ২২ মে রাত ৮টা থেকে। ২৫ মে সকাল পর্যন্ত চলা আরও একটি ৬০ ঘণ্টার ব্লকে ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যে ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্ট বসানো হয়। এই অংশে ১২টি কংক্রিট সেগমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। দু’দফার কাজ মিলিয়ে মোট ৬২ মিটার ভায়াডাক্ট সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ৩১৭ থেকে ৩১৯ নম্বর পিলারের সংযোগ সম্পূর্ণ হয়েছে, যা এতদিন অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ চিংড়িঘাটা অংশ?

    চিংড়িঘাটা মোড়ের ৩৬৬ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ ছিল। এই ‘মিসিং লিংক’-এর কারণেই নিউ গড়িয়া থেকে চলা অরেঞ্জ লাইন এখনও সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। বর্তমানে এই লাইন নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা মেট্রোপলিটন স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার চালু রয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, চিংড়িঘাটার এই ভায়াডাক্ট সম্পূর্ণ হলে অরেঞ্জ লাইন সরাসরি সেক্টর ফাইভের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর গ্রিন লাইনের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করবে। এতে নিউ টাউন, সেক্টর ফাইভ, রুবি, গড়িয়া এবং বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতে বড় সুবিধা হবে।

    দেড় বছর কেন আটকে ছিল কাজ?

    আরভিএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এই অংশে কাজ কার্যত থমকে ছিল। মূল সমস্যা ছিল ট্র্যাফিক ব্লকের অনুমতি। চিংড়িঘাটা মোড় কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ট্র্যাফিক করিডর হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আরভিএনএল আইআইটি-গৌহাটির একটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাঝপথে কাজ থামালে নির্মাণের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অনুমতি মেলায় টানা ৬০ ঘণ্টার ট্র্যাফিক ব্লকের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

    ৫০০ টনের লঞ্চার মেশিন এখন এগোবে নিক্কো পার্কের দিকে

    চিংড়িঘাটার গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ শেষ হওয়ার পর এবার ৫০০ মেট্রিক টনের বিশাল লঞ্চার মেশিন ধাপে ধাপে ৩২৯ নম্বর পিলারের দিকে এগোবে। সেখানেই নিক্কো পার্ক সংলগ্ন গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে ভায়াডাক্টের সংযোগ ঘটানো হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই সংযোগ সম্পূর্ণ হলে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ট্রায়াল এবং পরবর্তী পরিষেবা চালুর কাজ দ্রুত এগোবে।

    তৈরি হচ্ছে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা

    ভবিষ্যতের কাজ সহজ করতে চিংড়িঘাটা সংলগ্ন সল্টলেক বাইপাসের ধারের খালের পাশে নতুন ৬০ মিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং আরভিএনএল যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছে। এই রাস্তা তৈরি হলে ভবিষ্যতের ট্র্যাফিক ডাইভারশন এবং মেট্রো নির্মাণের কাজ আরও সহজ হবে।

    কবে চালু হতে পারে পরিষেবা?

    মেট্রো সূত্রের দাবি, সব কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষের দিকেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনের পরিষেবা চালু হতে পারে। যদিও পুরো নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডর চালু হতে ২০২৭ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অরেঞ্জ লাইন সম্পূর্ণ চালু হলে কলকাতার পূর্বাংশে যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ইএম বাইপাস এবং ভিআইপি রোডের উপর চাপ কমবে, পাশাপাশি সেক্টর ফাইভ ও বিমানবন্দরমুখী যাত্রীদের জন্য এটি হবে অন্যতম দ্রুততম গণপরিবহণ ব্যবস্থা।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের ‘হার-বার মডেল’, ফলতার ফল বেরনোর আগেই কটাক্ষবাণ মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের ‘হার-বার মডেল’, ফলতার ফল বেরনোর আগেই কটাক্ষবাণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের (TMC) ‘হার-বার মডেল’। ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিভিন্ন সময় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডায়মন্ড হারবার মডেলের কথা বুক ফুলিয়ে বলতেন স্থানীয় সাংসদ তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই সাত লাখ ভোটে জিতে সংসদে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাতিজা’। (নিন্দুকরা অবশ্য বলেন, ডায়মন্ড হারবারে ভোট হয়নি, ভোট লুট হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে ‘ভাইপো’র।)

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)

    রবিবার অভিষেকের নাম না করেই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামিদিনে তৃণমূলের লড়াই হবে নোটা-র বিরুদ্ধে।” ফলতা পুনর্নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হচ্ছেন তিনি। তাই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শুভেন্দু। ধন্যবাদ দিয়েছেন ফলতার ভোটারদেরও। পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লাখ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লাখ আট হাজার পেরিয়েছে।’’ এর পরেই শুভেন্দু ভোটের আগে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেন। লেখেন, ‘‘উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।’’

    তৃণমূলকে তোপ

    তৃণমূলকে (TMC) তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুট, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিলেন।’’ নাম (CM Suvendu Adhikari) না করে অভিষেককে কটাক্ষবাণও হেনেছেন শুভেন্দু। লিখেছেন, ‘‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই, যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে (লোকসভা ভোট) পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা (ফলতা) ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল।’’

    ফলতায় ধরাশায়ী তৃণমূলের জাহাঙ্গির

    প্রসঙ্গত, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত। এই বিধানসভা থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের লিড পেয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর সেই জয়ের অন্যতম ‘কারিগর’ বলে পরিচিত, জাহাঙ্গির খানকে ফলতায় প্রার্থী করে তৃণমূল। যদিও হার নিশ্চিত আঁচ করে ভোটের দু’দিন আগে সরে দাঁড়ান তিনি। যদিও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কোনও সুযোগ তখন তাঁর ছিল না। অভিষেক ‘ঘনিষ্ট’ এই তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রুজু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ফলতা নির্বাচনে কারচুপি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)। তার জেরে শুক্রবার হয় পুনর্নির্বাচন। ফল প্রকাশ হয় আজ, রবিবার। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন বাস্তব প্রকাশিত হল।এ তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রা এবার অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে নোটার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।’’ ত্রিপুরা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু লেখেন, ‘‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা (TMC) নির্বাচনে নোটার কাছে পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী (CM Suvendu Adhikari)।’’

     

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    দিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে আটক বিদেশি নাগরিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের, যারা দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে (West Bengal), তাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করতে হবে (Bangladeshi Rohingya Deportees)। এই মর্মে রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DM) নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের নয়া সরকারের এই নির্দেশ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুভেন্দু সরকারের নীতি (West Bengal)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার নীতি নেবে। তবে সিএএ (CAA) আইনে হিন্দু শরণার্থী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে না। ২৩ মে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আটক বিদেশি নাগরিক এবং দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের (West Bengal) উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুযায়ী হবে।”

    সরকারি নির্দেশিকা

    স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিদেশি শাখা (SAARC VISA Section) থেকে ২৩ মে জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের সচিব জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন। সেখানে (Bangladeshi Rohingya Deportees) অবৈধভাবে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির (West Bengal) কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা

    প্রসঙ্গত, বঙ্গের চালকের আসনে (West Bengal) বসার পরেই পদ্ম-নেতা শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের স্থানীয় থানায় বা প্রশাসনের কাছে না রেখে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের জেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র। দেশকে সুরক্ষিত করার কাজ সরকার করবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে আগের সরকারের আমলে বিঘ্নিত হয়েছে (Bangladeshi Rohingya Deportees) দেশের নিরাপত্তা।

     

  • WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বইছে পরিবর্তনের সুপবন! তৃণমূল সরকারের পতন ঘটতেই পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা (WB Municipal Crisis)। বহু পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরভোটের আগেই ভেঙে যেতে পারে রাজ্যের আরও বহু পুরবোর্ড। তৃণমূলের (TMC) একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা সদ্য মন্ত্রিত্ব খোয়ানো তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করবেন না। তারপরেও বদলায়নি রাজ্যের পুর-পরিস্থিতির ছবি। শুধু তা-ই নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।

    কাউন্সিলরদের ইস্তফার হিড়িক (WB Municipal Crisis)

    দিন দুই আগেই হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলর একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। কাঁচরাপাড়ায়ও গণইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলররা। হালিশহরে তো খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। গণইস্তফা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়া পুরসভায়ও। সেখানে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ওই পুরসভায় কাউন্সিলর ছিলেন ৩৫ জন। তাঁর মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন ৩০ জনই। চেয়ারপার্সন রেবা সাহা স্বয়ং ইস্তফা দিয়েছেন। তাই ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায়ও পরিষেবা দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাটপাড়ার বিধায়ক বিজেপির অর্জুন সিংয়ের দাবি, সরকারি আধিকারিকরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকবেন।

    যোগাযোগ রাখেননি তৃণমূল নেতারা!

    ভাটপাড়া পুরসভার পদত্যাগী উপ-পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “আমার কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না। আমি যখন শুনলাম, আমাদের কয়েকজন কাউন্সিলর রিজাইন দিয়ে দিচ্ছেন, চেয়ারম্যানও রিজাইন দিয়ে দিয়েছেন, তাই আমার কাছে আর কোনও অলটারনেটিভ ছিল না। তাছাড়া, আমি দেখছি, শহরবাসী কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। কর্মচারীরা মাইনে পাচ্ছেন না (WB Municipal Crisis)। দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। দল কোনও সাজেশনও দেয়নি। দুর্ভাগ্য এরকম একটা পরিস্থিতিতে দলের কোনও সাহায্য পাইনি। কেউই আমাদের কোনও সাজেশন দেয়নি। কেউ গাইড করেনি। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমায় কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একদম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত (TMC)।”

    তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

    এদিকে, দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সঞ্জয় আবার তৃণমূলের দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মেলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার উত্তর দমদম পুরসভায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। চেয়ারম্যানকে আসতে হবে বলেও দাবি জানান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে যায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এক এক সময় এক এক রকমভাবে বেতন দেওয়া হচ্ছে (WB Municipal Crisis)।

    অচলাবস্থার সৃষ্টি কলকাতা পুরসভায়ও

    অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়ও (TMC)। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, মেয়র পদে ইস্তফা দিতে চাইছেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার এখানে হাউসের বাইরে হাউস বসাতে হয় মেয়র-সহ সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, অভিযোগ তৃণমূলের। ফিরহাদ বলেন, “আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল, আমি হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমনি, আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখের। তাই আমার যাঁরা কলিগ, যাঁরা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা শামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।” মেয়রের বার্তা, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    হাওড়াবাসীকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    দুয়ারে বর্ষা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যেই গোটা বাংলায় বর্ষা ঢুকে যাবে (WB Municipal Crisis)। তার আগে পুরসভাগুলির অচলাবস্থায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানু‌ষ পেতে পারে না। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে হাওড়া পুরনিগম এবং বালি তুলে দিতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।’

    কী বলছেন রাজ্যের নয়া মন্ত্রী?

    পুরসভাগুলির এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক, পুর কমিশনার, রাজ্যের অন্য পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মন্ত্রী বলেন, “হাতে আমাদের ১৮ দিন আছে (বর্ষা আসতে)। এবার যাতে বাংলার মানুষের অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা হবে। আগের বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। সে রকম যদি এবার হয়, তাহলে কীভাবে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ভাটপাড়ার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনারই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের বহু পুরসভায় যাঁরা জনপ্রতিনিধি ছিলেন (TMC), তাঁরাও স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হবে। অভিযোগ করবেন ইও, এফওরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবেন যাতে এই পুরসভাগুলিতে পাঁচজনের একটি কমিটি করা হয় এবং বসানো হয় একজন প্রশাসক (WB Municipal Crisis)।

     

  • Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই এল বড় সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। নবগঠিত বিজেপি সরকারের আশা, এতদিন ধরে বকেয়া থাকা বাকি অর্থও দ্রুত পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

    ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে (Suvendu Adhikari)

    শনিবার নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই সুখবরটি দেন। তিনি বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ (NHM)-এর আওতায় ভারত সরকার চলতি অর্থবর্ষের জন্য আমাদের ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি বাবদ এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তহবিলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের সময় ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বরাদ্দ অর্থ রাজ্য নেয়নি। আমি সেই বকেয়া অর্থ ছাড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছি। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (খরচের শংসাপত্র) তাঁরা পাননি। আগামী ৩০ মে-র মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ও অর্থসচিব তা পাঠিয়ে দিলে, গত দুই অর্থবর্ষের বকেয়া টাকাও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

    যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার

    পাশাপাশি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পেও কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। ফলত, সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে হস্তান্তরিত হয়েছে। এছাড়া, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের (15th Finance Commission) তহবিলও শীঘ্রই আসতে চলেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ আদায় নিয়ে বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, রাজ্যের বিজেপি নেতাদের পরামর্শেই কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন।”

    উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার প্রস্তাব

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই চার প্রশাসনিক জেলায় কোনও মেডিকেল কলেজ নেই। এই জেলাগুলিতে মেডিকেল কলেজ গড়ার জন্য জমি চিহ্নিত করে কেন্দ্রের কাছে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাবে নতুন সরকার। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে একটি এইমস (AIIMS) গড়ে তোলার জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের (In-house Training) জন্য কেন্দ্রের তিনটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসবে। শুভেন্দু জানান, বাংলার নবনির্মাণে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নে অর্থ কোনও বাধা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন।

LinkedIn
Share