Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত সরকারি দফতরের শূন্যপদের তালিকা তলব নবান্নের, নয়া নিয়োগের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত সরকারি দফতরের শূন্যপদের তালিকা তলব নবান্নের, নয়া নিয়োগের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পদক্ষেপ করল নয়া রাজ্য সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকা বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ (Vacancies) পূরণের লক্ষ্যে ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত বিভাগের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপ তারই সূচনা বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    ১ মে পর্যন্ত সমস্ত শূন্যপদের তালিকা (Suvendu Adhikari)

    নবান্ন সূত্রে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর, ডিরেক্টরেট অফিস এবং আঞ্চলিক কার্যালয়—এই তিনটি স্তরের শূন্যপদের (Vacancies) তথ্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশদ বিবরণী প্রতিটি দফতরের নিজস্ব হেফাজতেই সংরক্ষিত থাকবে; নবান্নে শুধুমাত্র সংকলিত রিপোর্টটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাঠাতে হবে। এই রিপোর্টে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত তৈরি হওয়া সমস্ত শূন্যপদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তিন বিভাগীয় স্তরে দিতে হবে তথ্য

    রিপোর্ট পেশ করার প্রক্রিয়াটিকে সুশৃঙ্খল করতে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, শূন্যপদের (Vacancies) এই তথ্য শুধুমাত্র ‘এক্সেল স্প্রেডশিট’ (Excel Spreadsheet) আকারে সফ্‌ট কপি হিসেবে জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ তথ্যটিকে তিনটি পৃথক শিটে বিন্যস্ত করতে হবে— ‘এ’ বিভাগে মূল দফতর, ‘বি’ বিভাগে ডিরেক্টরেট এবং ‘সি’ বিভাগে আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য থাকবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত এই ফরম্যাটের কোনওরূপ পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।

    স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ

    গত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ ও পুরসভা নিয়োগে (Vacancies) ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মতো ঘটনায় রাজ্যের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লাগে কলঙ্কের কালি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সাফ কথা, নিয়োগ দুর্নীতির কালিমা ঘোচাতে হবে। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারির পর মনে করা হচ্ছে যে, নবান্ন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যে এক নতুন এবং আইনি জটিলতামুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচনা করতে চলেছে।

  • Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    Shamik Bhattacharya: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে নির্মলার দরবারে শমীক, তাঁত ও চা শিল্প নিয়ে বিশেষ আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থ-ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী বঙ্গ বিজেপি। কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্যের বকেয় টাকা পেতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলায় এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার। তার সুফল বঙ্গবাসীকে দিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) থেকে ডিএ (DA)-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে নির্মলার দরবারে শমীক। জানা গিয়েছে, রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

    শমীক-সীতারমন বৈঠকে কী কী আলোচনা

    দিল্লিতে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য। প্রায় তিনদিন ধরে রাজধানীতে রয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে দেখা করেন শমীক। সূত্রের খবর, বাংলার অর্থনীতি নিয়ে রাজ্যের কী কী পদক্ষেপ করা উচিত এই মুহূর্তে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে, বৈঠকের সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে অংশ, সেটা হল কেন্দ্রীয় বকেয়া। হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা যে বকেয়া রয়েছে, তা তৃণমূল জমানায় পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম পরিবর্তন থেকে তাতে দুর্নীতিরও অভিযোগ উঠেছিল। সূত্রের খবর, বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রকে শোধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই বিষয়গুলি অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

    শমীক ভট্টাচার্য কী বললেন?

    সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “৫০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন পরিযায়ীদের রাজ্য হয়ে গিয়েছে। পরিযায়ী হয়েই সবাই বাইরে চলে যাচ্ছে। মাথাপিছু আয় আজ সবথেকে নীচে এসে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে একই পংক্তিতে দাঁড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা তৈরির কথা দিয়েছেন। আমরা সোনার বাংলা তৈরি করব। আমাদের স্বপ্ন আছে এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে, পরিকল্পনা আছে। নির্মলাজি পশ্চিমবঙ্গকে এই অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে কী করে উত্তরণের পথ দেখাতে পারেন, সেই সম্পর্কে তিনি অভিহিত আছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। বাংলার শ্রীহীন অবস্থা থেকে রাজ্যকে বের করে আনা সম্ভব। তারজন্য যা করবার তিনি সেটা করবেন। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, গৃহমন্ত্রী সবাই মিলে আমরা এই অবস্থা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে নিঃসন্দেহে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে পারব।”

    তাঁত শিল্পের উন্নতিতে কথা

    সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির আলোচনায় আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে তাঁত শিল্প এবং টেক্সটাইল হাব। এই বিশেষ সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একদা বাংলার তাঁত ছিল জনপ্রিয়। এখন সেই শিল্প ধুঁকছে। কিন্তু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেই ক্ষয়িষ্ণু শিল্পে গতি আনতে বদ্ধপরিকর। তাঁত শিল্পের বিকাশের জন্য আলাদা প্যাকেজ নিয়েও কথআ হয় এদিন।

    চা শিল্পের বিকাশ

    বাংলার চা শিল্পের বিকাশ এবং উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার৷ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নীতিতেই এ বার করা হবে রাজ্যের চা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন—একথাও জানান বঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য৷ শমীক বলেন, ‘বাংলার চা শিল্প একসময়ে গোটা দেশের গর্ব ছিল৷ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত আমাদের রাজ্যের চা৷ তৃণমূল সরকারের কার্যকালে রাজ্যের চা শিল্প ধুঁকতে শুরু করেছে৷ গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের বিকাশের জন্য বাস্তবে কোনও গঠনমূলক প্রকল্প প্রণয়ন করেনি তৃণমূল সরকার৷ ফলে একের পর চা বাগান দিনে দিনে আর্থিক কষ্টে জর্জরিত হয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে৷ তারপরেও হুঁশ ফেরেনি বিগত সরকারের৷’তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের রুটিরুজি যে শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাকে শেষ হতে দেবো না আমরা৷ কেন্দ্রীয় প্যাকেজকে কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির সার্বিক বিকাশ ত্বরান্বিত করবে রাজ্য সরকার৷’

    বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল বেরোলে দেখা যায়, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত শোচনীয় অবস্থায় হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার এখানকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা। শুধু তা-ই নয়, এই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে তুলে আনার জন্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার আহ্বান জানান তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শহরা বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলার বকেয়া-সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হবে সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্মলা সীতারমন।

     

     

     

     

     

  • NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    NJP Varanasi Bullet Train: মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে বারাণসী, এনজেপি থেকে বারাণসী বুলেট ট্রেন! উত্তরবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের মেগা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক বড় অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের বুলেট ট্রেন মানচিত্রে এবার জুড়তে চলেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ির নাম। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত একটি অত্যাধুনিক বুলেট ট্রেন করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় রেল। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী জুলাই মাস থেকেই এই মেগা প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু হতে পারে।

    ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসতেই রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রেল সূত্রের দাবি, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই প্রকল্পের ‘ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট’ (ডিপিআর) তৈরি হয়ে যাবে। এরপর তা রেল বোর্ডে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। বোর্ডের সবুজ সঙ্কেত মিললেই শুরু হবে করিডর নির্মাণের কাজ।

    জুলাই থেকেই শুরু হতে পারে সমীক্ষা

    সূত্রের খবর, ‘ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (NHSRCL)-এর তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ সমীক্ষক দল গঠন করা হয়েছে। এই দল আকাশপথ ও স্থলপথে সম্ভাব্য করিডর চিহ্নিত করার কাজ করবে।

    সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হবে—

    • ● চূড়ান্ত রুট নির্ধারণ
    • ● সম্ভাব্য স্টেশন চিহ্নিতকরণ
    • ● জমি ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমীক্ষা
    • ● প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন

    রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই বুলেট ট্রেন চালু হলে বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে এনজেপি পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। বর্তমানে একই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে ট্রেনে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এই করিডর পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যকে উচ্চগতির রেল যোগাযোগে যুক্ত করবে।

    জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তিতে তৈরি হবে পরিষেবা

    ভারতে প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সেই প্রকল্পের আদলেই শিলিগুড়ি-বারাণসী করিডর তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রেলের দাবি, এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে জাপানের অত্যাধুনিক ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তি। ট্রেনের নকশা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, নিরাপত্তা মানদণ্ড—সব ক্ষেত্রেই জাপানি প্রযুক্তির ছাপ থাকবে। মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের মতোই এই করিডরেও ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছুটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন

    প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই আশাবাদী উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও পর্যটন মহল। তাঁদের মতে, বুলেট ট্রেন চালু হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পর্যটন এবং বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বর্তমানে উত্তর ভারতের পর্যটকদের ডুয়ার্স, দার্জিলিং বা কালিম্পং পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগে। বুলেট ট্রেন পরিষেবা চালু হলে বারাণসী ও উত্তর ভারতের অন্যান্য শহর থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিলিগুড়ি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে।

    এর ফলে—

    • ● ডুয়ার্স ও পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে
    • ● হোটেল ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়তে পারে
    • ● পরিবহণ ও লজিস্টিক খাতে উন্নতি হতে পারে
    • ● স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে

    শিলিগুড়ির তিন দিকে তিন আন্তর্জাতিক সীমান্ত!

    শিলিগুড়ি, যা ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের উপর অবস্থিত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত সড়ক ও রেলপথ এই সরু ভূখণ্ডের উপর দিয়েই গিয়েছে। তাই একে বলা হয়ে থাকে, ‘উত্তরপূর্বের দুয়ার’। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বিদেশসচিব ও বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা শিলিগুড়ি অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র সম্ভবত বিশ্বের একমাত্র সংসদীয় কেন্দ্র, যার সঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত যুক্ত রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে ভুটান এবং দক্ষিণে বাংলাদেশ রয়েছে। আর একটু উত্তরে গেলেই চিন সীমান্তও এসে যায়।”

    এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় উত্তরবঙ্গ

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হাই-স্পিড রেল করিডর ভবিষ্যতে অসমের রাজধানী গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের ‘অষ্টলক্ষ্মী’ রাজ্যগুলির সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বুলেট ট্রেনে মানুষ অতি কম সময়ে বারাণসী পৌঁছে যেতে পারবেন। উত্তরবঙ্গ এখন যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ শিলিগুড়িকে শুধুমাত্র একটি ট্রানজিট শহর হিসেবে নয়, বরং পূর্ব ভারতের একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।

    বাগডোগরা বিমানবন্দর ও এনজেপি স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ

    এলাকায় আরও একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং নিউ জলপাইগুড়ি রেলস্টেশনের ব্যাপক আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন সিভিল এনক্লেভ নির্মাণে প্রায় ১,৫৪৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সেখানে ৭০,৩৯০ বর্গমিটারের অত্যাধুনিক টার্মিনাল তৈরি হবে, যা একসঙ্গে ৩,০০০ জন পিক আওয়ার যাত্রী সামলাতে পারবে এবং বছরে প্রায় ১ কোটি যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এই প্রকল্পের আওতায় এ-৩২১ ধরনের বিমানের জন্য ১০টি পার্কিং বে-সহ নতুন অ্যাপ্রন, দুটি লিঙ্ক ট্যাক্সিওয়ে এবং মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং সুবিধাও তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ২০২৭ সালের মধ্যে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের প্রধান বিমানবন্দর হিসেবে বাগডোগরা একটি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Ramakrishna 653: “নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন, তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন”

    Ramakrishna 653: “নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন, তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল

    শ্রীরামকৃষ্ণ কাশীপুর উদ্যানে — গিরিশ ও মাস্টার

    কাশীপুর বাগানের (Ramakrishna) পূর্বধারে পুষ্করিণীর ঘাট। চাঁদ উঠিয়াছে। উদ্যানপথ ও উদ্যানের বৃক্ষগুলি চন্দ্রকিরণে স্নাত হইয়াছে। পুষ্করিণীর পাশ্চিমদিকে দ্বিতল গৃহ। উপরের ঘরে আলো জ্বলিতেছে, পুষ্করিণীর ঘাট হইতে সেই আলো খড়খড়ির মধ্য দিয়া আসিতেছে, তাহা দেখা যাইতেছে। কক্ষমধ্যে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শয্যার উপর বসিয়া আছেন। একটি-দুটি ভক্ত নিঃশব্দে কাছে বসিয়া আছেন বা এ-ঘর হইতে ও-ঘর যাইতেছেন। ঠাকুর অসুস্থ, চিকিৎসার্থে বাগানে আসিয়াছেন। ভক্তেরা সেবার্থ সঙ্গে আছেন। পুষ্করিণীর ঘাট হইতে নিচের তিনটি আলো দেখা যাইতেছে। একটি ঘরে ভক্তেরা থাকেন (Kathamrita), তাহার আলো দেখা যাইতেছে। মা ঠাকুরের সেবার্থ আসিয়াছেন। তৃতীয় আলোটি রান্নাঘরের। সেই ঘর গৃহের উত্তরদিকে। উদ্যান মধ্যস্থিত ওই দুতলা বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণ হইতে একটি পথ পুষ্করিণীর ঘাটের দিকে গিয়াছে। পূর্বাস্য হইয়া ওই পথ দিয়া ঘাটে যাইতে হয়। পথের দুই ধারে, বিশেষতঃ দক্ষিণ পার্শ্বে, অনেক ফল-ফুলের গাছ।

    চাঁদ উঠিয়াছে। পুকুরঘাটে গিরিশ, মাস্টার, লাটু আরও দুই-একটি ভক্ত বসিয়া আছেন। ঠাকুরের কথা হইতেছে। আজ শুক্রবার, ১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৬, ৪ঠা বৈশাখ, ১২৯৩। চৈত্র শুক্লা ত্রয়োদশী।

    কিয়ৎক্ষণ পরে গিরিশ ও মাস্টার ওই পথে বেড়াইতেছেন ও মাঝে মাঝে কথাবার্তা কহিতেছেন।

    মাস্টার — কি সুন্দর চাঁদের আলো! কতকাল ধরে এই নিয়ম চলছে!

    গিরিশ — কি করে জানলে?

    মাস্টার — প্রকৃতির নিয়ম বদলায় না (Uniformity of Nature) আর বিলাতের লোকেরা নূতন নূতন নক্ষত্র টেলিস্‌কোপ দিয়ে দেখেছে। চাঁদে পাহাড় আছে, দেখেছে।

    গিরিশ — তা বলা শক্ত, বিশ্বাস হয় না।

    মাস্টার — কেন, টেলিস্‌কোপ দিয়ে ঠিক দেখা যায়।

    গিরিশ — কেমন করে বলব (Kathamrita), ঠিক দেখেছে। পৃথিবী আর চাঁদের মাঝখানে যদি আর কোন জিনিস থাকে, তার মধ্যে দিয়ে আলো আসতে আসতে হয়তো অমন দেখায়।

    বাগানে ছোকরা ভক্তেরা ঠাকুরের (Ramakrishna) সেবার জন্য সর্বদা থাকেন। নরেন্দ্র, রাখাল, নিরঞ্জন, শরৎ, শশী, বাবুরাম, কালী, যোগীন, লাটু ইত্যাদি; তাঁহারা থাকেন। যে ভক্তেরা সংসার করিয়াছেন, কেহ কেহ প্রত্যহ আসেন ও মাঝে মাঝে রাত্রেও থাকেন। কেহ বা মধ্যে মধ্যে আসেন। আজ নরেন্দ্র, কালী ও তারক দক্ষিণেশ্বর-কালীবাড়ির বাগানে গিয়াছেন। নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন। তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন।

  • PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে (PM Modi) ঝালমুড়ি বিক্রি করে বিপাকে দোকানদার বিক্রম সাও। তাঁর দাবি, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে তিনি (Jhalmuri vendor) প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন বিক্রম। তার পরেই শুরু হয়েছে ফোনে নিয়মিত হুমকি দেওয়া। বিক্রমের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অজ্ঞাত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকিমূলক ফোন এবং ভিডিও কল পাচ্ছেন।

    হুমকি ফোন বিক্রমকে (PM Modi)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বারবার ভিডিও কল এবং ফোন কলের মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছি। তারা আমায় বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। যারা ভিডিও কল করছে তারা ভয় দেখানোর জন্য ভীতিকর অঙ্গভঙ্গি করছে এবং অস্ত্রও দেখাচ্ছে। তারা আমায় সতর্ক করেছে যে আমায় ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” বিক্রম জানান, যারা ফোন করে, তারা প্রথমে ধর্মীয় শুভেচ্ছা জানায়, পরে দেয় খুনের হুমকি। তিনি বলেন, “তারা আমায় জিজ্ঞেস করে, তুমি বেঁচে আছ নাকি মারা গেছ। আমি হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ পেয়েছি। তাতে লেখা, বোমা বিস্ফোরণে তোমায় মেরে ফেলা হবে।”

    চর্চায় ঝালমুড়ি

    হাইভোল্টেজ নির্বাচনী প্রচারের সময় ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খান। এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী দোকানদারকে ঝালমুড়ি মাখাতে বলছেন। তিনি (PM Modi) দাম দিতে চাইলে বিক্রম প্রথমে নিতে অস্বীকার করেন, পরে প্রধানমন্ত্রীর জোরাজুরিতে টাকা নেন। ঝালমুড়ি হল মুড়ি, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ এবং সর্ষের তেল দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় খাবার।প্রধানমন্ত্রীর সেই সংক্ষিপ্ত সফরের পর থেকেই চর্চায় চলে আসেন বিক্রম। তিনি জানান, যারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফরের পর থেকেই এই ফোন আসা শুরু হয়েছে। বিক্রম (Jhalmuri vendor) ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও।

     

  • CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টে বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ শনিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ (CM Suvendu Adhikari)

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন (Ayushman Bharat)। পরে নবান্নে করেন সাংবাদিক বৈঠক। সেখানেই ঘোষণা করা হয় স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরির কথা। রাজ্যের ৬ কোটি মানুষ তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তাঁদের এবার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন করেও আবেদন করা যাবে।  নবান্নের এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তাঁদের পাশে বসিয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই আক্রমণ শানান পূর্বতন রাজ্য সরকারকে। তিনি জানান, যে সুবিধা (আয়ুষ্মান ভারত) অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ পায়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার ভারত সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্প রিভিউ করেছে। সেই মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের হেল্থ‌‌ সেক্টরে আমরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছি।”

    কবে মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড?

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চান এবং স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে এত দিন যুক্ত হননি, এমন নাগরিকও চাইলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের চুক্তি সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটা করব। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি মানুষ, যাঁরা ভিন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এই সুবিধা পাবেন।’’ সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রোধে ভ্যাকসিন দেওয়াও শুরু হবে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী এই সুবিধা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে সাত লাখেরও বেশি ডোজ় দিতে চায় ভারত সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘‘১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালিকাদের এই ডোজ় দিতে পারি আমরা। ৩০ মে থেকে দেওয়া হবে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে সেদিন আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্প শুরু করব। ওই দিন থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে টিবি-মুক্ত ভারতের ওয়ার্কশপও (CM Suvendu Adhikari)।’’

    শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ঠিকঠাক মনিটরিং করেনি। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এরাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদা জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’’ এমন আরও কয়েকটি রিপোর্টও দেন শুভেন্দু। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ (Ayushman Bharat) খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজ তার এক চতুর্থাংশ ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে আরও প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণাও করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে চারশোরও বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের অনেকটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৮০ শতাংশ ছাড় মিলবে। এমন ৪৬৯টি কেন্দ্র তৈরি হলে ১০ গুণ সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। প্রত্যেক জেলায় যাতে মেডিকেল কলেজ থাকে, সেই জন্যও পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে চারটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এর সুফল কিছু দিনের মধ্যেই পেতে শুরু করবেন রাজ্যবাসী। চারটি প্রশাসনিক জেলা— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিকেল কলেজ হয়নি। সেজন্য প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদির প্রস্তাবও পাঠানো হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্যও পদক্ষেপ করা হবে (CM Suvendu Adhikari)।’’

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কবে থেকে চালু হবে, কারাই বা এর সুবিধা পাবেন, কিংবা আদৌ চালু হবে কিনা, তা নিয়ে একটা দোলাচল ছিল বঙ্গবাসীর মনে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপভোক্তারা আদৌ কেন্দ্রের এই প্রকল্পটির সুবিধা পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় ছিল। এদিন সেই সংশয়ের অবসান ঘটল তখন, যখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। জুলাই থেকেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড মিলবে। পরে এই প্রকল্প আরও বড় আকারে চালু করা হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯৭৬ কোটি টাকা (CM Suvendu Adhikari)।

    স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে মমতার শাসনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কেন্দ্রের ওই প্রকল্প থেকে রাজ্যের বাসিন্দাদের বঞ্চিত করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে রাজ্যের সব পরিবারের মহিলাদের নামে এই কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডটি ব্যবহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পান উপভোক্তারা। যদিও সেই কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রাজ্যবাসীর (Ayushman Bharat)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল না। স্বাস্থ্যের মতো যৌথ ক্ষেত্রেও আমলা বা আধিকারিকদের মধ্যে কথাবার্তা, চিঠিপত্র চালাচালিও হয়নি। এবার সেসব অতীত (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ?  প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    Kolkata Airport: রাজ্যে পালাবদল হতেই সরতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা মসজিদ? প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের জোরদার হল কলকাতা বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ের পাশে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো গৌরিপুর জামে মসজিদ বা ‘বাঁকড়া মসজিদ’ সরানোর উদ্যোগ। প্রায় তিন দশক ধরে বিতর্কে থাকা এই মসজিদকে ঘিরে এবার প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা মসজিদ পরিদর্শন করেন। পরদিন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে বৈঠকে বসেন প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা।

    বিমানবন্দর সূত্রে খবর, বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা, উড়ান পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্বার্থেই মসজিদ স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। তবে মসজিদ কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এবং জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের মতো সংগঠনের মতামতের উপর নির্ভর করতে চায়। কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং বলেন, “বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি করছে। উড়ান পরিচালনায় একাধিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বুধবারও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।”

    রানওয়ের একেবারে কাছে মসজিদ

    ১৩৬ বছরের পুরনো এই মসজিদটি এখন বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার গভীরে অবস্থিত। সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১৬৫ মিটার। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, রানওয়ের কাছাকাছি স্থায়ী নির্মাণের ন্যূনতম দূরত্ব হওয়া উচিত ২৪০ মিটার। মসজিদটি বিমানবন্দরের বাউন্ডারি ওয়ালেরও প্রায় ১৫০ মিটার ভিতরে অবস্থিত।

    বিমানবন্দর আধিকারিকদের দাবি, মসজিদের কারণে সেকেন্ডারি রানওয়ের টাচডাউন পয়েন্ট ৮৮ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে দিতে হয়েছে। এর ফলে রানওয়ের কার্যকর দৈর্ঘ্য কমে গিয়ে বর্তমানে তা মূলত এয়ারবাস এ৩২০ বা বোয়িং ৭৩৭-এর মতো ন্যারো-বডি বিমান পরিচালনার উপযোগী থাকলেও বোয়িং ৭৮৭ বা এয়ারবাস এ৩৩০-এর মতো ওয়াইড-বডি বিমান ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, “জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রেও এটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।”

    শীতকালে বাড়ছে সমস্যা

    বিমানবন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, কলকাতার ৩,৬৩৩ মিটার দীর্ঘ প্রধান রানওয়েতে অত্যাধুনিক ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) রয়েছে, যার ফলে ঘন কুয়াশাতেও বিমান ওঠানামা সম্ভব হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি রানওয়েতে সেই ব্যবস্থা বসানো যাচ্ছে না মূলত মসজিদের অবস্থানের কারণে। ফলে শীতকালে যখন মূল রানওয়ে ব্যবহারযোগ্য থাকে না, তখন বিমান পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।

    আগে কেন হয়নি সমাধান?

    এই মসজিদ সরানোর চেষ্টা নতুন নয়। অতীতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও রাজ্যের তৎকালীন সরকারগুলি— জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)— বিষয়টি এগোতে দেয়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রের দাবি। এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় প্রশাসনের একাংশ আশাবাদী যে এবার সমাধানের রাস্তা খুলতে পারে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি বিমানবন্দরের অপারেশনাল এলাকার ভিতরে মসজিদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং স্থানান্তরের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

    কী বলছে মসজিদ কমিটি?

    মসজিদ কমিটির সদস্য আবুল কালাম জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র বাঁকড়ার স্থানীয় মানুষজন এখানে নামাজ পড়তে আসেন। বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমরা সবসময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি। তল্লাশি, পরিচয়পত্র দেখানো— সব নিয়ম মেনেই চলি। কিন্তু মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়।” বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ১০ থেকে ২৫ জন পর্যন্ত ভক্ত আসেন। শুক্রবার জুমার নামাজে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০ হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাহিনী সিআইএসএফ যশোর রোডের গেট থেকে তাঁদের তল্লাশি করে বাসে করে মসজিদে নিয়ে যায় এবং পরে ফেরত পাঠায়।

    ধর্মীয় আবেগ বনাম বিমান নিরাপত্তা

    এই বিতর্কে একদিকে যেমন রয়েছে বহু পুরনো ধর্মীয় স্থাপনার আবেগ, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের প্রশ্ন। প্রশাসন এখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজতে চাইছে। তবে মুসলিম সংগঠনগুলির অবস্থান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • CM Suvendu Adhikari: “নিয়োগ দুর্নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়েছে”, তৃণমূল সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: “নিয়োগ দুর্নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়েছে”, তৃণমূল সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নিয়োগ দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বদনাম হয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ রাজ্যের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। তাই আগামী দিনে এই ভাবমূর্তি থেকে রাজ্যকে বের করে আনতে হবে।” শনিবার শিয়ালদায় রোজগার মেলার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে তা এক এক করে পূরণ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পদ্ম-সরকার। এবার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়েও যে রাজ্যের বিজেপি-সরকার বড় ধরনের চিন্তাভাবনা শুরু (Rojgar Mela) করেছে, শনিবারের রোজগার মেলার মঞ্চে তাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারের সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) 

    দুর্নীতি নিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে অনেক বদনাম হয়েছে। শিক্ষা থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।” এরপরেই নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর জোর দিতে সংস্কারের কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রেল, আধাসামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগে কেন্দ্রীয় সরকার যে উদ্যোগী হয়েছে, কেন্দ্রের দেখানো সেই পথেই পশ্চিমবঙ্গে হাঁটবে ডবল ইঞ্জিন সরকার। রাজ্যে যে লিখিত পরীক্ষা হয়, সেই পরীক্ষার ওএমআরের কার্বন কপি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে দেওয়া উচিত বলেই মনে করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

    কমছে ভাইবা পরীক্ষার নম্বর!

    তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য থাকবে ওএমআরের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়া।’’ শুভেন্দু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে অনেক আশা ছিল। সেটা গত কয়েক বছরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের অনেক বদনাম হয়ে গিয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে পরীক্ষা ও নিয়োগ হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে (CM Suvendu Adhikari)।” ভাইবা পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, “ওরাল পরীক্ষায় দুর্নীতির সম্ভাবনা বেশি থাকে বলেই মনে করা হয়। তাই সেক্ষেত্রে নম্বর কমিয়ে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আর নিয়োগ হবে না (Rojgar Mela)।’ তাঁর অভিযোগ, এতদিন কেন্দ্রের পরীক্ষাও রাজ্যে করতে দেওয়া হত না। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকারের আদলেই রাজ্য সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে বলেও জানান রাজ্যের পালাবদলের সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

  • Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    Marco Rubio India Visit: কলকাতা থেকেই শুরু মার্কো রুবিওর ভারত সফর, মোদি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) শনিবার কলকাতায় পৌঁছলেন। ভারত সফরের প্রথম দিনেই তাঁর কলকাতায় আগমনকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগামী চারদিনের এই সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চলা এই সফরকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোয়াড (Quad) জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর।

    ১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশ সচিব

    কলকাতায় কোনও মার্কিন বিদেশ সচিবের সফর শেষবার হয়েছিল ২০১২ সালে, যখন তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন শহরে এসেছিলেন। প্রায় ১৪ বছর পর ফের কলকাতায় সেই পর্যায়ের সফর হওয়ায় প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক মহলে তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor) সামাজিক মাধ্যমে জানান, কলকাতা সফরের পরই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রুবিও। তিনি লেখেন, “বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগামী কয়েকদিনে আলোচনা ও অগ্রগতি হবে।”

    মাদার হাউস সফরের সম্ভাবনা

    কলকাতা দিয়ে চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন রুবিয়ো। তবে, শহরে তিনি কয়েক ঘণ্টাই কাটাবেন। মার্কিন বিদেশ দফতর রুবিওর ভারত সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সোজা গিয়েছেন তালতলার মাদার হাউসে। এটি হল মাদার টেরেসা (Mother Teresa) প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর। মাদার হাউস পরিদর্শনের পর তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি পরিচালিত কলকাতার একটি চিলড্রেনস হোমে যাবেন। সেখান থেকে দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিয়ো। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর ভারত সফর চলবে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির পাশাপাশি আগরা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    দিল্লিতে মোদি-রুবিও বৈঠক

    দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেই জোর দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়, সাপ্লাই চেইন নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আগ্রাসী ভূমিকাকে মাথায় রেখে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে দুই দেশই।

    জ্বালানি সহযোগিতায় বড় বার্তা

    ভারত সফরে রওনা হওয়ার আগে মায়ামিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও বলেন, “ভারত যতটা জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই।” তিনি জানান, বর্তমানে আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদন ও রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে এবং ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি অংশীদার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। স্ট্রেট অফ হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুবিও ভারতকে “দারুণ অংশীদার” বলে উল্লেখ করেন।

    কোয়াড বৈঠকে নজর

    ২৬ মে নির্ধারিত কোয়াড বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির। এই বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রুবিওর ভারত সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত সমীকরণের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

LinkedIn
Share