Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    TMC: কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০২টিতে এগিয়ে বিজেপি, হেরে লাট তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে শুরু হয়েছে পদ্ম-শাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে দিয়েছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ (TMC)। উন্নয়নের রথ এগোচ্ছে অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়ার মতো। চালকের আসনে বিজেপির তুর্কি নেতা, ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-শমীকের (শমীক ভট্টাচার্য, বিজেপির রাজ্য সভাপতি)টি২০ ধাঁচের খেলায় আক্ষরিক অর্থেই ছক্কা (Municipal Poll) হাঁকানোয় ভোট-ময়দানে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। এক সময় যে দল ৩৪ বছরের বাম-শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল, পদ্ম-ঝড়ে সেই ঘাসফুলই হেরে ভূত।

    বিজেপির পাখির চোখ (TMC)

    রাজ্যের কুর্সি দখলের পর এবার বিজেপির পাখির চোখ কলকাতা পুরসভার মসনদ। যে চেয়ারে বর্তমানে বসে রয়েছেন সদ্য-মন্ত্রিত্ব খোয়ানো ফিরহাদ হাকিম, সেই কুর্সিই যে টলোমলো, তা বিলক্ষ্মণ বুঝতে পারছেন তৃণমূলের এই সংখ্যালঘু ‘মুখ’। তবে তিনি না বুঝলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে রাজ্যবাসীর মতো কলকাতার বাসিন্দারাও চান, চেয়ার ছেড়ে এবার মানে মানে কেটে পড়ুন হাকিম মশাই। যে হাকিমকে একই সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী এবং কলকাতা পুরসভার চেয়ারে বসিয়ে বছরের পর বছর বিরোধীদের মাত দিয়ে যাচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল, সেখানে যে তলে তলে ঘোঘের বাসা হয়ে গিয়েছে, তা আদৌ টের পাননি হাকিম মশাই কিংবা তাঁর নেত্রী। যখন বুঝলেন, তখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে! ঘাসফুল উপড়ে ফেলে রাজ্যের বাগানে পদ্ম ফুটিয়ে ছেড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। এঁদেরই একটা অংশ বাস করেন কলকাতায়। রাজ্যের রাজধানীর সেই বাসিন্দারাই চাইছেন, ‘অনেক হয়েছে আর নয়…’।

    দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতা পুরসভার দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তার পরেই খাতা-পেন্সিল নিয়ে আঁক কষতে বসে গিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা। তাতেই রাজ্যের শাসক দল যেখানে ‘পৌষমাসে’র আগমনী-বার্তা শুনতে পাচ্ছেন, সেখানে বিরোধীরা দেখতে পাচ্ছেন ‘সর্বনাশে’র কালো ছায়া। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, কলকাতায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১০২টি আসনে, আর তৃণমূল মাত্র ৪২টিতে। যার নির্যাস, কলকাতার এই ছোট লালবাড়ির তখতে বিজেপির বসাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ১৪৪টি। এগুলি রয়েছে রাজ্যের ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। এই বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে ১০টিতে জিতেছে বিজেপি, ঘাসফুল আঁকা ঝুলিতে গিয়েছে ৭টি আসন।

    বেহাল দশা তৃণমূলের

    এবার যে রেজাল্ট বেরিয়েছে, তাতে (TMC) চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর-টালিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলা, বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা। উত্তর কলকাতার চৌরঙ্গী, মানিকতলা, বেলেঘাটা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, এন্টালি-এই সাতটি বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৪০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল মাত্রই ২০টিতে। দক্ষিণ কলকাতার চারটি আসন-রাসবিহারী,বালিগঞ্জ,কলকাতা বন্দর এবং ভবানীপুরেও লেজেগোবরে দশা ‘বুয়া-ভাতিজা’র দলের। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২০টি ওয়ার্ডে, তৃণমূল ১২টিতে। যাদবপুর-টলিগঞ্জ সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা- যাদবপুর, টালিগঞ্জ এবং কসবা এই তিন জায়গায় বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২২টি ওয়ার্ডে। করুণ দশা তৃণমূলের। তারা এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৩টি আসনে। বেহালা-ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র- বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম এবং মেটিয়াবুরুজের ২০টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, তৃণমূল মাত্র ৭টিতে।

    ভবানীপুরেও প্রত্যাখ্যাত মমতার দল!

    কলকাতার মধ্যে শ্যামপুকুর,বেহালা পশ্চিম, মানিকতলা এবং যাদবপুরের মতো বিধানসভাও রয়েছে (TMC)। এগুলির অধীনে থাকা কোনও ওয়ার্ডেই তৃণমূল এগিয়ে নেই। বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু-মমতা দ্বৈরথের ফল জানতে অধীর আগ্রহে বসেছিলেন তামাম ভারতবাসী। কারণ, এই কেন্দ্রে মূল লড়াইটা ছিল বিজেপি বনাম তৃণমূলের নয়, বরং ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো এবং তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শুধুমাত্র ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২ হাজার ভোটের লিড পেলেও, বাকি ৭টি ওয়ার্ড মমতাকে প্রত্যাখ্যান করে এগিয়ে দিয়েছে শুভেন্দুকে (Municipal Poll)। মমতা যে যে এলাকায় আবাসনে গিয়ে জনসংযোগ করেছেন, সেই সবক’টি ওয়ার্ডেই ৪-৫ হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমূল। খোদ হাকিম মশাইও বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিলেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার, এবং বেলগাছিয়ার মতো এলাকার সিংহভাগ ভোটার তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও বিকল্পের কথা ভাবেননি। তাই ওই ওয়ার্ডগুলিতে লিড পেয়েছে মমতার দল।

    তৃণমূলের কাঁদুনি!

    পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার যেসব ওয়ার্ডে হাজার হাজার ভোটে তৃণমূল লিড পেত, এবার সেই সব ওয়ার্ডেই ৩ থেকে ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন মেয়র পারিষদ এবং বরো চেয়ারম্যানরা। কলকাতা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, “মানুষ পরিষেবা নিয়েছেন, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় মাথায় রেখেছেন অন্য সমীকরণ। সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভির প্রচারের ঝড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে এলাকার উন্নয়ন।’ কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর তথা বরাহনগর কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির সজল ঘোষ বলেন, “পুর পরিষেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এরপর ভোট হলে মানুষ আমাদেরই সমর্থন করবেন (TMC)।”

    কী বলছেন হাকিম মশাই?

    পরিসংখ্যানের হিসেব-নিকেশ শুনে দৃশ্যতই হতাশ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যদিও পাঁচ বছরের কাজের ভিত্তিতে ফের পুরসভায় আসতে পারবেন কি না, প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এটা নিয়ে এখনও বিশ্লেষণ করিনি। পরে জানাব।” বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, “আগামী যে সময় আসছে গোটা বাংলা গেরুয়াময় হবে। ভারত আগেই হয়ে গিয়েছে। বাংলাও হবে (Municipal Poll)।”

    ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনেও বিপুল জনাদেশ পেয়ে বোর্ড গড়বে পদ্ম-শিবির। অন্তত এমনই আশা বিজেপির। দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, “এই ফল আসন্ন পুরসভা ভোটের আগে আমাদের অবশ্যই বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। উন্নয়নের লক্ষ্যে মানুষ আস্থা রেখেছেন পদ্ম প্রতীকে (TMC)।’

     

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    Suvendu Adhikari: পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের বিরাট রোড ম্যাপ, রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমানে শিল্পের (West Bardhaman Industrial Growth) বিরাট রোড ম্যাপ করতে চলেছে বিজেপি সরকার। রাজ্যে বিকল্প শিল্পাঞ্চল নির্মাণে নতুন কর্মসংস্থানের সাফ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজ্যের বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের এই দলগত অনুপস্থিতিকে ‘গণতান্ত্রিক সৌজন্যের অবমাননা’ এবং ‘উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা’ বলে জোরালো আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না (Suvendu Adhikari)

    এদিন শিল্পাঞ্চল নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “দুর্গাপুরের মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পরে যে কোনও সময় নির্বাচন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বা রাজ্য সরকার সাহায্য করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পঞ্চায়েত, পুরসভা বন্ধ থাকার জন্য সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিস অধিকার করে রাখার অধিকার কোনও ব্যক্তি বা কোনও দলের নেই। তাই আমরা বলে দিয়েছি পঞ্চায়েতের সচিব গোটা বিষয়টা দেখবে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে মিলে কীভাবে এখানে শিল্পে জোয়ার আনতে পারি, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারি, এটাও আছে। তবে, আমরা হাততালি কুড়ানোর জন্য দেউচা পাচামির মতো ফ্রড কথাবার্তা বলি না, বলবও না।”

    প্রশাসনিক বৈঠক বয়কট ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ (Suvendu Adhikari)

    শিল্পাঞ্চলের (West Bardhaman Industrial Growth) সামগ্রিক পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলার পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে দুর্গাপুরের এই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রোটোকল বা প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই এলাকার সমস্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু বৈঠক শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা সজ্ঞানে এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন।

    এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠক কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কর্মসূচি নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে জনগণের স্বার্থে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করার মঞ্চ। সেখানে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা বজায় রেখে বৈঠক বয়কট করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ সরকারের দরবারে তুলে ধরার জন্য; কিন্তু দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা করার মানসিকতা বর্তমান বিরোধী শিবিরের নেই।”

    জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “কোনও পক্ষের অসহযোগিতার কারণে রাজ্যের উন্নয়ন থমকে থাকবে না। জনপ্রতিনিধিরা না এলেও জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আইন অমান্যকারী বা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে, সেই বার্তাও এই বৈঠক থেকে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের এই প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জেলা স্তরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল।”

    তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি ও অভিযোগ

    অন্য দিকে, বৈঠক বয়কটের বিষয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ও বিধায়কদের তরফ থেকেও পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের যথোপযুক্ত সম্মান দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসনিক বৈঠকগুলিকে আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ধরণের প্রশাসনিক বৈঠকের নামে আসলে বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোণঠাসা করার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার একটি অলিখিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সেই কারণেই সদ্বিচ্ছার অভাব দেখে এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই তাঁরা এই বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এলাকার মানুষের পাশে তাঁরা সর্বদা আছেন, তবে সরকারি অনুষ্ঠানের মোড়কে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে তাঁরা মান্যতা দেবেন না।

    শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপুরের মতো (West Bardhaman Industrial Growth) একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে এই ধরনের রাজনৈতিক রেষারেষি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবে। এই বৈঠকে এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, কলকারখানার আধুনিকীকরণ, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের একাংশের অনুপস্থিতির কারণে স্থানভিত্তিক অনেক সমস্যা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সামনে উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

  • Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    Free Bus Service: আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’! রাজ্যজুড়ে মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা শুরু ১ জুন, কীভাবে মিলবে সুবিধা? প্রকাশ গাইডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে যাতায়াত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার (BJP Government)। এই পরিষেবাকে মসৃণ করতে এবং কলকাতার পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়াতে তৎপর হয়েছে পরিবহন দফতর। তবে বিগত সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানাবিধ কারণে বহু সরকারি বাস বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাস কীভাবে দ্রুত রাস্তায় নামানো যায়, তা নিয়ে পরিবহন দফতরের ময়দান তাঁবুতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) এবং দফতরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিখরচায় এই যাতায়াতের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রাথমিক শর্তাবলি ও নির্দেশিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে এই বৈঠকে।

    বিনামূল্যে সফরের প্রাথমিক শর্তাবলি (Free Bus Service)

    বৈঠক সূত্রে খবর, এই সুবিধার মূল শর্ত (Free Bus Service) হল— সংশ্লিষ্ট মহিলা যাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ভিড়ের মধ্যে কন্ডাক্টররা কীভাবে তা যাচাই করবেন, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে:

    • ● কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত (BJP Government) যে কোনও একটি বৈধ পরিচয়পত্র (মোট ১১টি বিকল্পের মধ্যে) যাত্রীদের সঙ্গে রাখতে হবে।
    • ● বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন।
    • ● যাচাইকরণের পর, কন্ডাক্টর তাঁর টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য একটি ‘শূন্য মূল্যের’ কুপন বা টিকিট ইস্যু করবেন।
    • ● প্রতি মাসে ইস্যু করা এই টিকিটের সমপরিমাণ অর্থ রাজ্য সরকার গড় হিসেব অনুযায়ী পরিবহন নিগমকে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে।

    ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড

    পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাসে যে জটিলতা বা জাল নথির সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা স্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা (BJP Government)। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পরিবহন দফতর আগামীদিনে রাজ্যবাসী মহিলাদের জন্য কিউআর (QR) কোড সমৃদ্ধ বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা স্মার্ট কার্ড চালু (Free Bus Service) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসডিও (SDO) বা বিডিও (BDO) অফিসের মাধ্যমে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। বাসে এই বিশেষ কার্ড দেখালেই সরাসরি কুপন মিলবে, অন্য কোনো নথি দেখানোর প্রয়োজন হবে না।

    স্মার্ট কার্ডের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি:

    আবেদনকারীকে সাম্প্রতিক রঙিন ছবির সঙ্গে নিচের যেকোনও একটি পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে:

    • ● ভোটার আইডি (EPIC)
    • ● আধার কার্ড
    • ● ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড
    • ● আয়ুষ্মান ভারত কার্ড
    • ● ড্রাইভিং লাইসেন্স
    • ● প্যান কার্ড
    • ● পাসপোর্ট
    • ● ছবিসহ পেনশনের নথি
    • ● স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত পরিচয়পত্র
    • ● রাজ্য সরকার অনুমোদিত অন্য যেকোনো বৈধ পরিচয়পত্র

    পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

    বিজেপি সরকারের পরিবহন দফতর (BJP Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, কোটি কোটি মহিলার জন্য স্মার্ট কার্ড (Free Bus Service) তৈরি ও তা বণ্টন করা সময়সাপেক্ষ। তাই কার্ড বিলি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক নিয়ম (পরিচয়পত্র দেখানো) অনুসারেই যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে থাকা অচল বাসগুলির দ্রুত সংস্কার ও মেরামত করে ধাপে ধাপে রাস্তায় নামানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে নতুন সরকারি বাস কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করছে পরিবহন দফতর।

  • High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    High Court on Slaughter: রাজ্যের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ নয়, পশু জবাই নিয়ে ছাড়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভার সরকারের ওপর ছাড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে ইদ-উল-আজহা বা বকরি ইদের আগে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলায় বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র , তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান-সহ একাধিক আবেদনকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “গরু কোরবানি ইসলাম ধর্মের আবশ্যিক ধর্মীয় প্রথা নয়।” সেই সঙ্গে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দিতেও অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি

    গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মোষ জবাই করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া “অযোগ্যতার শংসাপত্র” প্রয়োজন হবে এবং শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই জবাই করা যাবে। বলা হয়েছে, যে বা যিনি ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশুপত্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাবাস বা ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে, অথবা উভয় সাজাই দেওয়া হতে পারে।

    কারা কারা আদালতের দ্বারস্থ হন

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। ‘রামকৃষ্ণ পাল বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকার’ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও একাধিক আবেদন। আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রতিনিধিরা, গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং অন্যান্যরা। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, সরকারি বিধিনিষেধ সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী। তাঁদের বক্তব্য, ইদ-উল-আজহায় কোরবানির জন্য বড় পশু জবাই বহু মুসলিম পরিবারের কাছে অর্থনৈতিকভাবে জরুরি, কারণ উৎসবের আগে ছাগল ও ভেড়ার দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী শাদান ফারাসত আদালতে যুক্তি দেন, ইসলামে কোরবানির জন্য সুস্থ পশু বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে, অসুস্থ বা অক্ষম পশু নয়। তাই ইদ-উল-আজহার ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের আইনের ১২ নম্বর ধারার অধীনে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

    রিভিউ না চেয়ে কেন বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ?

    পাল্টা রাজ্যের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজ্য সরকার নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু করেনি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশ্ন, ‘কেউ হাইকোর্টের সেই মূল নির্দেশের রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা চায়নি, সবাই শুধু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি রাজ্যের একটি ‘পলিসি ডিসিশন’ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা জনস্বার্থ মামলায় এ ভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় না।’ কলকাতা পুরসভার (KMC) পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিজ্ঞপ্তি হুট করে দেওয়া হয়নি। প্রতি বছরই নিয়ম মেনে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণকে এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। তারা আরও জানিয়েছে, আইন ভাঙার দায়ে ইতিমধ্যেই ৬১০টি ঘটনায় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিকাঠামোর অভাবের কথাও মানতে চায়নি কলকাতা পুরসভা। তারা জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব চিহ্নিত কসাইখানা, পরিকাঠামো এবং কর্মী-চিকিৎসক রয়েছে।

    “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়

    আদালত জানায়, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে যে ইদ-উল-আজহায় গরু কোরবানি “অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন” নয়। সেই কারণে রাজ্যের বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করার কোনও ভিত্তি নেই। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৮ সালের একটি মামলায় হাইকোর্টের সমন্বয় বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, বর্তমান বিজ্ঞপ্তি মূলত তারই বাস্তবায়ন। হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার যেন বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুত দুটি নতুন শর্ত যোগ করে—
    ১) খোলা বা জনসমক্ষে কোনও পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
    ২) ইদ-উল-আজহার সঙ্গে গরু কোরবানি ধর্মীয়ভাবে আবশ্যিক নয়— এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

    পশু হত্যার অনুমতি মিলবে কী করে?

    পুরসভার চেয়ারম্যান অথবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন পশু চিকিৎসকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তাঁদের যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন। যদি তাঁরা উভয়েই নিশ্চিত হন ও লিখিতভাবে মত প্রকাশ করেন যে পশুটি ১৪ বছরের বেশি বয়স্ক ও কাজ বা প্রজননের পক্ষে অনুপযুক্ত তখন তাঁরা শংসাপত্র দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে যদি এই শংসাপত্র দিতে কেউ অস্বীকার করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি উক্ত শংসাপত্র না পাওয়ার ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।

    ছাড় দেওয়া যায় কিনা, বিবেচনা করুক সরকার

    বকরি ইদে ‘ধর্মীয় কারণে’ গো বলিতে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে বকরি ইদকে সামনে রেখে কসাইখানা চালানো ও গো বলি নিয়ে দায়ের ১১ মামলার শুনানি শেষে রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিই বজায় রেখেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খারিজ করেছে মামলাকারীদের বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, যেহেতু ১৯৫০ সালের এই সংক্রান্ত আইনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কারণে পশু বলিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই এই ক্ষেত্রে ধর্মাীয় কারণে ছাড় দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করুক সরকার। অর্থাৎ, এই বিষয়ে বল এখন রাজ্যের কোর্টেই। রাজ্যকে শংসাপত্র ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে মামলা চলবে, কিন্তু আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে, বিহার রাজ্য সরকার বনাম মহম্মদ হানিফ কুরেশির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা। শীর্ষ আদালত বলেছিল, গরু জবাই ইদ-উজ-জোহার অংশ নয়, ইসলামে তা ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তাও নয়।

  • CM Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক বা বিতাড়ন প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বুধবারই নবান্ন থেকে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তবে সেই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা বৃহস্পতিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দূর করলেন তিনি। এ দিন হাওড়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা বা আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই; দ্রুত পুশব্যাকের স্বার্থে সরাসরি তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হলে, তাঁকে আইনি হেফাজতে না রেখে সরাসরি সীমান্ত এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার ও জিআরপি (GRP) কর্তাদের ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    হাওড়া স্টেশনে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ (CM Suvendu Adhikari)

    দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল প্রান্তিক হাওড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ রুখতে স্টেশন চত্বরে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) আওতাভুক্ত নন এমন কোনও অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় মানবিকতা বজায় রেখে যথোপযুক্ত আহারের ব্যবস্থা করে তাঁকে সরাসরি বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত অথবা বসিরহাটের কোনও বিওপি (সীমান্ত চৌকি)-তে (BSF) পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।”

    সাপ্তাহিক রিপোর্টের কড়াকড়ি

    ধড়পাকড় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রতি সপ্তাহে কতজন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিজের দফতরে রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। এই উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহের এই সংক্রান্ত খতিয়ান রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG)-র মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আইনি প্রেক্ষাপট ও সিএএ (CAA)

    উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান— এই ছয়টি ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়কে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাঁদের কোনোভাবেই পুশব্যাক করবে না। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ‘অভিবাসন ও বিদেশি’ আইনের ৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।

    প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “যাঁরা সিএএ-র এই পরিধির মধ্যে পড়েন না, তাঁদের চিহ্নিত করে সরাসরি বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দিতে হবে। কেন্দ্রের পাঠানো এই পূর্ববর্তী নির্দেশিকাটি আগের সরকার কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বর্তমান সরকার এটি অবিলম্বে রাজ্যে কার্যকর করছে। নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সরকার এই কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল।”

  • Modi-Suvendu Meeting: ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি? দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর নজরে বাংলার উন্নয়ন

    Modi-Suvendu Meeting: ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি? দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর নজরে বাংলার উন্নয়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। রাজধানীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বাসভবনে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে বৈঠক হয়। শুক্রবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সারেন শুভেন্দু। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুরে উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা…

    বাংলায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন কবে হবে এবং কোন নেতার হাতে কোন দফতরের দায়িত্ব যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বাংলার মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    সিএএ প্রসঙ্গে কথা…

    শাহ-শুভেন্দু বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠন ছাড়াও সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ এবং সিএএ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক স্তর থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে খবর। শুধু প্রাক্তন বিধায়ক নন, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

    আলোচনা কাঁটাতার ও সীমান্ত নিয়েও…

    এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি সংক্রান্ত অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কী হবে, সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন অমিত শাহ।

    বিকেলের মোদি-শুভেন্দু বৈঠকে নজর

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রূপরেখা এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকার গত দুই সপ্তাহে কী কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি তোলা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প ও অন্যান্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

  • Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    Sona Pappu: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে তোলপাড় বাংলা! কলকাতা থেকে কান্দি— একযোগে ইডির হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোনা পাপ্পু মামলার তদন্তে আরও সক্রিয় হল ইডি। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবা, চক্রবেড়িয়া এবং রয়েড স্ট্রিট-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য হাতে এসেছে, তার ভিত্তিতেই এই তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। নিউটাউনের CRPF ক্যাম্প থেকেও অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি

    শুক্রবার সকাল থেকে পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ প্লেস এবং ভবানীপুর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায় ইডির একাধিক দল। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় আশু বিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। ইডি সূত্রে দাবি, অতুল কাঠারিয়ার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আর্থিক যোগাযোগ ছিল এবং মামলার কালো টাকা তাঁর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, কসবার বালিগঞ্জ প্লেসের একটি বিলাসবহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ইডির আরেকটি দল। সেখানে কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বাড়িতে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগসূত্র ছিল কি না। পাশাপাশি, মধ্য কলকাতার ৪ রয়েড স্ট্রিটে ‘The Corporate’ নামে একটি ক্যাফেটেরিয়া-কাম-হোটেলেও হানা দেয় ইডি। ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে তল্লাশি শুরু হয় এবং হোটেলের মালিককে তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    কেন এই অভিযান?

    সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত করছে ইডি। সংস্থার দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার তথ্য। পাশাপাশি, সেই টাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছেও পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অর্থ বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগও করা হয়েছিল। এই সমস্ত তথ্যের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে নতুন করে তল্লাশি অভিযান। উল্লেখ্য, গত ১৮ মে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং গুণ্ডাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁকে খুঁজছিল তদন্তকারীরা। একাধিকবার তলব করা হলেও দীর্ঘদিন অধরা ছিলেন তিনি। পরে নিজেই ইডি দফতরে হাজির হলে প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা

    কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও অভিযান চালাচ্ছে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেফতার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈত্রিক বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ওই বাড়িতে বর্তমানে থাকেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তবে বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে সমস্যার মুখে পড়েন তদন্তকারীরা। সদর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সঙ্গে সঙ্গে ঢোকা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তালা ভেঙে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন ইডি আধিকারিকরা। প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষার পর শুরু হয় তল্লাশি। বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সোনা পাপ্পু মামলার জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, কলকাতা ও কান্দিতে একযোগে চলা এই তল্লাশির পর তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

  • RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    RG kar Case: ৩ সদস্যের সিট গঠিত, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শুরু, আরজি কর মামলায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG kar Case) হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্যাতিতার পরিবারের তোলা অভিযোগ ও দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে সিবিআই-কে (CBI) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই লক্ষ্যে সিবিআই-এর একজন জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরুর নির্দেশ

    আদালত জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফের তদন্ত শুরু করবে সিট। ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে মৃতদেহ দাহ এবং প্রমান লোপাট সহ সব বিষয়ের তদন্ত হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের বীভৎসতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুন, বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিনই নবগঠিত বিশেষ দলটিকে আদালতে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিশদ রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

    পুনরায় পরিদর্শনে যাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা (RG kar Case)

    আদালতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—

    • ঘটনাস্থল পুনঃপরিদর্শন: সিবিআই-এর (CBI) বিশেষ তদন্তকারী দলকে পুনরায় আরজি কর হাসপাতালের দুর্ঘটনাস্থলে যেতে হবে।
    • পরিবারের সঙ্গে সংযোগ: নির্যাতিতার (RG kar Case) পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের অভিযোগ ও আশঙ্কার জায়গাগুলি বিশদভাবে শুনতে হবে।
    • তথ্য পুনর্মূল্যায়ন: মামলার যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী কেস ডায়েরি নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে।

    তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

    উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে (RG kar Case) ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং আলোকচিত্রসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি তলব করেছিল। গত মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নির্দেশ দেয় যে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে (IO) সমস্ত নথিসহ সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

    মঙ্গলবার শুনানির সময় ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সিবিআই-কে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে—তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বহিরাগতরা অকুস্থলে প্রবেশ করছে? এর পরেই সেমিনার রুমসহ আরজি কর হাসপাতালের সংবেদনশীল অংশগুলি অবিলম্বে সিল করার জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    মামলার প্রেক্ষাপট

    প্রায় দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট তারিখে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG kar Case) কর্তব্যরত এক মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। তবে মূল তদন্তের কিছু ফাঁকফোকর ও অন্যান্য রহস্য উদঘাটনের দাবি তুলে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার।

    আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের তিনটি পৃথক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি থেকে একে একে সরে দাঁড়ায়। গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির ওপর জোর দিয়ে এটি ছেড়ে দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত আবেদনের শুনানি একটি নতুন ডিভিশন বেঞ্চে হবে। সেই নির্দেশানুসারেই বর্তমানে মামলাটি বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন (CBI) রয়েছে।

  • Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    Kolkata Pak Spy Case: জুতোর ব্যবসায়ী থেকে আইএসআই-এর গুপ্তচর! এনআইএ-র জালে কলকাতার জাফর, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে পাক গুপ্তচরবৃত্তির পর্দাফাঁস। খাস কলকাতায় এনআইএ-র জালে গুপ্তচর। গ্রেফতার কলকাতার এন্টালির বাসিন্দা জাফর রিয়াজ ওরফে রিজভি। কলকাতায় পারিবারিক জুতোর ব্যবসা ছিল জাফরের। দুটো কারখানাও ছিল। সেই জাফরই ব্যবসাপত্র ছেড়ে হয়ে ওঠে পাক গুপ্তচর! কীভাবে? তদন্তে নেমে এনআইএ-এর নামে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কী জানাচ্ছে এনআইএ?

    এনআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের লাহোরের মডেল টাউনের বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় জাফরের। পারিবারিক পরিচয় সূত্রেই বিয়ে হয় দু’জনের। তার পরে ২০১২ সাল পর্যন্ত এন্টালিতে থাকত জাফর ও রাবিয়া। এর পরে একটি এক পথ দুর্ঘটনার পর জাফরের জুতো ব্যবসায় চরম ক্ষতি হয়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার পর শারীরিক কারণে ব্যবসা চালাতে সমস্যার মুখে পড়ে জাফর। আর্থিক সমস্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ওই সময়ে লাহোরের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাফরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানে চলে যাওয়ার জন্য। সেই মতো ওই বছরেই প্রথমে স্ত্রী রাবিয়া ও দুই সন্তানকে লাহোরে রাবিয়ার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় জাফর। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা বর্তমানে লাহোরের স্কুলেই পড়াশোনা করে। পরে কলকাতার সম্পত্তি বিক্রি করে পর্যটক ভিসা নিয়ে জাফর নিজেও পৌঁছে যায় লাহোরে।

    জাফরকে কাজে লাগায় আইএসআই

    সেই সময়ে জাফর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব নেওয়ারও চেষ্টা করছিল। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগায় পাক গুপ্তচর সংস্থা। আর্থিক টোপ দিয়ে তাকে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে লিপ্ত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, লাহোরেই বিদেশি নথিভুক্তিকরণ দফতরে আওয়াইশ নামে এক পাকিস্তানি আধিকারিকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল জাফরের। জানা যাচ্ছে, ওই পাক আধিকারিকের সূত্র ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। সেই থেকে পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশ মতোই চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ভারতে আসতে থাকে জাফর। এ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ছবি, তথ্য পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো শুরু করেন জাফর।

    নিয়মিত পাকিস্তান যাতায়াত শুরু…

    এরপর থেকেই পাকিস্তানে জাফরের নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয়। এমনকি কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে দিল্লিতে এবং পরবর্তীতে পঞ্জাবে আস্তানা ছাড়ে জাফর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০২২ সালে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপের হাতে চরবৃত্তির অভিযোগেই গ্রেফতার হয় জাফর এবং তার সঙ্গী বিহারের মধুবনীর মহম্মদ সামসাদ। অমৃতসর স্টেশনের পাশে লেবু জল বিক্রির দোকান ছিল সামসাদের। তাকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্জাবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য জাফর পাচার করছিল বলে অভিযোগ। পঞ্জাবে ঘাঁটি করেই এই কাজকর্ম চালাত জাফর। পরে ওই মামলায় জামিনও পেয়েছিল।

    পহেলগাঁওকাণ্ডেও জড়িত বলে সন্দেহ

    এমনকি, গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তানি চরচক্রের খোঁজ করতে গিয়ে আবার উঠে আসে জাফরের নাম। পহেলগাঁও হামলার তদন্ত নেমে সিআরপিএফ কর্মী মোতিরাম জাটের নাম উঠে আসে। জঙ্গিহানার পাঁচ দিন আগেও পহেলগাঁওয়ে কর্মরত ছিল মোতিরাম। সেই মোতিরামের সঙ্গে পাক গুপ্তচরচক্রের যোগ পাওয়া গিয়েছিল। ধৃত মোতিরামকে জেরা করতে গিয়েই ফের উঠে আসে জাফরের নাম। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অফিসারকে ভারতীয় মোবাইল নম্বরের ওটিপি দিয়েছিল, যাতে হোয়্যাটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করা যায়। সেই নম্বর ব্যবহার করে ওই পাকিস্তানি অফিসার মোতিরাম জাট বলে একজনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাত। মোতিরামও পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি করত। তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে বলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

    ভারতের সিমকার্ড, ওটিপি পাঠিয়ে দিত আইএসআইকে

    তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জাফর ভারতের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর দফতর, সেনা ছাউনি এবং জওয়ানদের গতিবিধির ছবি ও ভিডিও তুলে সরাসরি আইএসআই-এর কাছে পাঠাত। এখানেই শেষ নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেনামে ভারতীয় সিম কার্ড তুলে তার ওটিপি (OTP) পাঠাত পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে। পাক গুপ্তচররা সেই ভারতীয় নম্বরগুলি ব্যবহার করে সুন্দরী মেয়েদের নাম ও ছবি দিয়ে ফেক হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। এরপর সেই প্রোফাইল থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের টার্গেট করে চলত ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলার খেলা, যার মূল পান্ডা ছিল এই জাফর।

    জারি হয়েছিল লুক-আউট নোটিস

    সূত্রের খবর, তার পর থেকেই জাফরের খোঁজ চালাচ্ছিলেন গোয়েন্দারা। তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছিল লুক-আউট নোটিস। এমনকী ‘ঘোষিত অপরাধী’-র তকমাও দেওয়া হয়েছিল জাফরের নামে। প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর পর কলকাতার উপকণ্ঠেই হদিস মেলে জাফরের। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই তাঁকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছেন। চরবৃত্তির অভিযোগও ওই ধৃত কলকাতাতেও কোনও নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। রিয়াজের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক চক্রের খোঁজ…

    এই চক্রের জাল যে শুধু কলকাতা বা রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, তা নিয়ে প্রায় নিশ্চিত এনআইএ। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তির আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটের পেছনে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, দেশের কোন কোন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এদের স্লিপার সেল— সেই সমস্ত রাঘব-বোয়ালদের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জোর কদমে তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। এই আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে থাকা বৃহত্তর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

  • Belur Math: বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নিলেন আশীর্বাদ

    Belur Math: বেলুড় মঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, নিলেন আশীর্বাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষপদে বসার পর এই প্রথম শ্রীরামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের পুণ্যতীর্থ বেলুড় মঠে (Belur Math) উপস্থিত হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি বেলুড় মঠে পৌঁছান। সেখানে মঠ ও মিশনের শীর্ষস্থানীয় সন্ন্যাসী ও মহারাজদের সঙ্গে এক অত্যন্ত আন্তরিক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর বেলুড় মঠের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে তাঁর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ভাবগম্ভীর পরিবেশে পুজো ও শ্রদ্ধা নিবেদন (Belur Math)

    মঠে (Belur Math) প্রবেশ করার পর মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari) স্বাগত জানান মিশনের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা। এরপর তিনি মূল মন্দিরে গিয়ে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, শ্রীশ্রীমা সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশ্বশান্তি ও রাজ্যের আপামর জনসাধারণের কল্যাণ কামনায় তিনি সেখানে কিছুক্ষণ ধ্যানে মগ্ন থাকেন বলেও মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে শ্রীশ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, জগজ্জননী মা সারদা ও বীর সন্ন্যাসী স্বামীজির চরণে প্রণাম নিবেদন করলাম। বেলুড় মঠ-এর সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী সুবীরানন্দজি মহারাজ, ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রনন্দজি মহারাজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ওনাদের আশীর্বাদ লাভ করার সৌভাগ্য প্রাপ্ত হল। তাঁদের আশীর্বাদ ও সান্নিধ্য লাভ করে আমি ধন্য।’’

    মহারাজদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক ও আশীর্বাদ গ্রহণ

    পুজো অর্চনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের (Belur Math) বর্তমান অধ্যক্ষ (প্রেসিডেন্ট) এবং অন্যান্য প্রবীণ মহারাজদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মহারাজরা উত্তরীয় পরিয়ে এবং মঠের পবিত্র প্রসাদ ও স্মারক গ্রন্থ তুলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ডে রামকৃষ্ণ মিশনের অবদান এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মহারাজদের কাছ থেকে আশিস প্রার্থনা করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    ‘শান্তি ও প্রেরণার ক্ষেত্র’

    সফর শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “বেলুড় মঠ (Belur Math) সর্বদা আত্মিক শান্তি এবং মানবসেবার এক মহান প্রেরণাভূমি। এখানে এসে মহারাজদের সান্নিধ্য ও আশীর্বাদ লাভ করে আমি ধন্য। স্বামীজির আদর্শকে পাথেয় করেই আমরা রাজ্যের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে চাই।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে এদিন বেলুড় মঠ চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছিল। সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রেখেছিল হাওড়া সিটি পুলিশ।

LinkedIn
Share