Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) কার্যকর করার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বুধবার থেকেই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত চালু, ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং আয়ুষ দফতরকে পৃথক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে কী আলোচনা হল

    মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-কে আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামোয় রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

    ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন, সে দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা আগের নিয়মেই উপভোক্তারা পাবেন।

    অনলাইন-অফলাইন দুই ব্যবস্থাতেই ফর্ম জমা

    শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই সাধারণ মানুষ ফর্মের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জনগণের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়কেরা নিজ উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সহায়তা করবেন।

    নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ।

    মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত

    সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মা ক্যান্টিন’-এ নতুন খাদ্যতালিকার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন আগের মতোই ডিম-ভাত মিলবে একই মূল্যে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

    ‘দিদিকে বলো’-র নতুন নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’

    রাজ্যের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিষেবাটির নতুন নাম হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। তিনি জানান, পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও পরিবর্তন করা হবে এবং পরিষেবা চালুর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরিষেবার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি বাসে আপাতত সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা আগেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্য

    কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ ও বন দফতর প্রত্যেক বিধায়ককে গাছ বিতরণের জন্য চারাগাছ সরবরাহ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।

    বিশ্ব যোগ দিবস ও আয়ুষ দফতর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

    ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর। এদিন তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথক দফতর গঠনের মাধ্যমে আয়ুষ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্তরের সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    Ghatal Master Plan: ৫০:৫০ ফর্মুলা বরাদ্দে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে নয়া দিশা, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের পথে নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ (Ghatal Master Plan) রূপায়ণের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক ও নয়া দিশা দেখাতে চলেছে বিজেপি সরকার। পূর্ববর্তী সরকারের একরোখা নীতি থেকে সরে এসে, এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশীদারিত্বে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে নবান্ন। সোমবার সচিব পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই বিষয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান ও নতুন আর্থিক ফর্মুলার কথা ঘোষণা করেছেন।

    অর্থ বরাদ্দে ৫০:৫০ ফর্মুলা (Ghatal Master Plan)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুফলকে কাজে লাগিয়েই এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খুঁজছে বর্তমান প্রশাসন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) সেচ দফতরের পদস্থ আধিকারিকদের এই বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে অবিলম্বে বিশদ আলোচনা শুরু করার জন্য সেচ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    পূর্বতন নীতিতে আমূল বদল

    উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে এককভাবেই এই মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা মিলছে না। ফলত, মূল প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১২৭০ কোটি টাকা হলেও, রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে প্রথম দফার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরুর ঘোষণা করেছিল। তবে তাতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার কোনও রূপরেখা ছিল না। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পর সেই পুরনো পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বদলে ফেলা হচ্ছে।

    প্রেক্ষাপট ২০২৬

    ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘাটালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে। বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসংগত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পূর্বতন সরকারের ১২৭০ কোটি টাকার প্রস্তাবটির তুলনায় বর্তমান বাস্তবতায় প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে, যা খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য প্রতিবার ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট চাইতে এসে বারবার ঘাটাল মাস্টার প্লানের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনও বার সদর্থক ভূমিকা করতে দেখা যায়নি। তিন তিন বারের সাংসদ দেব রাজ্য জুড়ে ভোটের প্রচারেও নিজের কেন্দ্র কীভাবে বর্ষার সময় জনজীবন বিপন্নের মুখোমুখি হয়ে পড়েন তা দেখেও না দেখার ভান করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মন্তব্য করলেও কার্যকর নিয়ে কোনও রকম সদর্থক ভূমিকা নেননি। এই অবস্থায় ভরা ডুবির পর সাংসদ দেব বলছেন রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরে যাবেন।

    বিগত সরকারের সদিচ্ছার অভাব ছিল: শীতল কপাট

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই নয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অংশগ্রহণ ছাড়া ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের (Ghatal Master Plan) মতো একটি মেগা প্রকল্প সম্পন্ন করা অসম্ভব। তিনি দাবি করেন—

    • ● এই বিশাল প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা কোনওভাবেই পর্যাপ্ত নয়; এর জন্য ন্যূনতম ৪,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন।
    • ● বিগত সরকারের এই প্রকল্প রূপায়ণে প্রকৃত সদিচ্ছার অভাব ছিল। মাস্টারপ্ল্যানের অজুহাতে নদীগর্ভ থেকে বালি ও মাটি উত্তোলনের অনিয়মই ছিল মুখ্য।
    • ● বালি ও মাটি মাফিয়ার দাপটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এবার কেন্দ্রে ও রাজ্যে সমমনোভাপন্ন সরকার থাকায়, ‘ডাবল ইঞ্জিন’-এর গতিতে এই মাস্টারপ্ল্যান একশো শতাংশ সফল হবে।

    দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশা

    বছরের পর বছর ধরে বর্ষার মরশুমে ঘাটাল (Ghatal Master Plan), দাসপুরসহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হতে হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিধায়ক উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগকালীন সময়ে শুভেন্দু অধিকারী সর্বদা ঘাটালবাসীর পাশে থেকেছেন এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিগত পাঁচ বছর তাঁদের কাজ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই জনস্বার্থবাহী প্রকল্পে বিশেষ নজর দিয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় থাকলে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এখন দেখার, পূর্ববর্তী রূপরেখাকেই পরিমার্জন করা হয় নাকি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এই রূপায়ণের কাজ শুরু হয়।

  • Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের বিভিন্ন চেকপোস্টে (Bangladeshi)। ফের একবার সেই ছবিটাই দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেক পোস্টে (Hakimpur Checkpost)। বাংলাদেশে ফিরতে এই চেকপোস্টে জড়ো হয়েছেন ভারতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিরা। রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই এই ভিড় সীমান্তের চেকপোস্টে।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (Bangladeshi)

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে তথ্য যাচাই, নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, বা পুরানো তালিকা আপডেট করার জন্য নির্বাচন কমিশন এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে পরিবারের সকল সদস্যের নাম, বয়স, এবং ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই ফর্ম পূরণের শেষ দিন পেরিয়ে গিয়েছে বহু আগেই। তার পরেও অনেকেই থেকে গিয়েছিলেন পশ্চিমবাংলার আনাচে-কানাচে। দালালদের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে ঢুকেছে বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। বাম এবং তৃণমূলের শাসনে তারা জাল কাগজপত্র জোগাড় করে দিব্যিই বসবাস করছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এসআইআই-পর্ব শুরু হতেই ভারতের পাট চুকিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে এক দফা সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন তাঁরা। এবার ফের সীমান্তে ভিড় করছেন তাঁরা। সৌজন্যে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ দাওয়াই।

    শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশি হাকিমপুর চেকপোস্টে…

    এদিন হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা যায়, কাগজপত্র পরীক্ষা করে বাংলাদেশিদের দ্রুত ওপার বাংলায় ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিএসএফের কর্তব্যরত আধিকারিকরা। বিএসএফের ডাকের অপেক্ষায় লটবহর নিয়ে রাস্তার ধারে বসে রয়েছেন অনেক অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi)। এঁদের বেশিরভাগই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এপার বাংলায়। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে (Hakimpur Checkpost)।

    কী বললেন অনুপ্রবেশকারীরা?

    তাঁরা যে বৈধভাবে বাংলায় ঢোকেননি, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে সেকথা কবুলও করেছেন বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। লাইনে দাঁড়ানো এমনই এক বাংলাদেশি বলেন, “সরকার আর রাখবে না, কী করব বলুন! সরকার চাইছে আমরা দেশে ফিরে যাই।” লাইনে দাঁড়ানো অনুপ্রবেশকারীদের কেউ ভারতে ঢুকে দোকানে কাজ করতেন, কেউ আবার করতেন পরিচারিকার কাজ (Bangladeshi)। সীমান্ত পেরিয়ে যেসব বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা ভারতে ঢোকে তাদের প্রায় সবাই দালাল ধরে আসে। এজন্য দালালদের দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। সেই দালালরাই বাংলাদেশিদের ভিড়িয়ে দেয় এপার বাংলার বাসিন্দাদের ভিড়ে।

    ম্যাপিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি!

    জানা গিয়েছে, চেকপোস্টে অপেক্ষমান অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড থাকলেও, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই এসআইআর-পর্বে ম্যাপিংয়ে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুভেন্দু সরকারের হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াইয়ের পরেই চাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ‘কাঁকর’। তাঁদের এই দুর্দশার জন্য কোনও অনুপ্রবেশকারী দুষছেন স্থানীয় নেতৃত্বকে। কেউ আবার আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকে। তবে হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই বাঙালির ভিড় থেকে পিলপিল করে বের হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তাঁরাই ভিড় করছেন হাকিমপুর চেকপোস্টে। নথিপত্র যাচাই করে তাঁদের তুলে দেওয়া হচ্ছে ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে (Bangladeshi)।

    শাহি বচন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গিয়েছিলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করা হবে। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার (Hakimpur Checkpost)। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই তাঁকে সরাসরি ডিপোর্ট করার বা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করার নির্দেশও জেলাশাসকদের দিয়েছিলেন তিনি। সেই মোতাবেক রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চালু হয়ে গিয়েছে ওই সেন্টার। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই চালু করা হয়েছে সেগুলি (Bangladeshi)।

    জিরো টলারেন্স নীতি

    অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোবে, তাও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স এই নীতি নিয়েই এগোবে আমাদের সরকার। আমরা ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং নিজের দেশে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেই মতো জেলাশাসকদের নির্দেশ দেয় শুভেন্দুর সরকার। তার পরেই রাজ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে যায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ (Bangladeshi)।

    সেই সেন্টারগুলিতে ইতিমধ্যেই ১৪ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে মালদার ইংরেজবাজার হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। আর বাকি পাঁচ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে (Hakimpur Checkpost)। লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত লাগোয়া পদ্মা ভবনের ৩ তলায় তৈরি হয়েছে এই সেন্টার (Bangladeshi)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে শুভেন্দুর সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিয়ে কাকলি বললেন “প্রশাসন সবার”

    CM Suvendu Adhikari: ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে শুভেন্দুর সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিয়ে কাকলি বললেন “প্রশাসন সবার”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে বেনজির ছবি কল্যাণীতে। তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বৈঠকে যোগ দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। শুধু তিনিই নন, উত্তর ২৪ পরগনার তিন তৃণমূল বিধায়কও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। এপিজে আবদুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত হন কাকলি। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেগঙ্গার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান বিদেশ, স্বরূপনগরের বিনা মণ্ডল এবং হাড়োয়ার আবদুল মতিন।

    উন্নয়নের স্বার্থে বৈঠকে সকলকে ডাক

    রাজ্যে সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। বৈঠকে সকলেই আমন্ত্রণ পাবেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বয়কটের রাজনীতি’র উল্টো পথে হেঁটেই উন্নয়নের স্বার্থে এহেন সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু। সেই মতো এদিন কল্যাণীর বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ এবং বিধায়কদেরও ডাকা হয় বলে খবর। সেই আমন্ত্রণ পেয়েই এদিন বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক। এখানে রাজনীতি নেই, বলে মত বিজেপির। একই কথা বলছেন তৃণমূল বিধায়কেরাও। বিনার কথায়, ‘‘আমি আমার বিধানসভা এলারকার উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি।’’ হাড়োয়ার বিধায়ক বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার ডেকেছে। তাই এসেছি। আগে কী হয়েছে, বলতে পারব না। বিধায়ক হিসেবেই এসেছি।’’ দেগঙ্গার বিধায়ক আনিসুর বলেন, ‘‘আমার বিধানসভা এলাকার অধিকাংশই প্রান্তিক জায়গা। সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সহযোগিতা কাম্য।’’

    ‘‘প্রশাসন সবার’’

    তবে শুভেন্দুর বৈঠকে কাকলির উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু অভিমানী কাকলি সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’ ঘটনাক্রমে রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ফলে শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিকে ইঙ্গিতবহ বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দুর বৈঠকে যোগদান নিয়ে কাকলি একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন সবার।”

  • Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলেছে জমানা। বদলে গিয়েছে শাসকের চেহারাও! বদলানো হচ্ছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্য প্রাক্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নেওয়া একের পর এক তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তও (OBC Quota Row)। তৃণমূল সুপ্রিমোকে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই গোহারা হারিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন বিজেপির তুর্কি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে মমতার সরকারের ওবিসি-নীতি।

    ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য চালু থাকা ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। এবার ওবিসি তালিকায় জল মেশানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার ২৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলার বিধায়কদের ডাকা হয়েছিল ওই বৈঠকে। সেখানেই তৃণমূল আমলের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথও। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করতে হবে। আগের সরকার যেভাবে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করেছিল, এবার আর তা হবে না। যেসব সম্প্রদায় প্রকৃতই এই তালিকায় থাকার দাবিদার, তারাই যেন জায়গা পায়। এই কাজে বিধায়কদের দেওয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ

    প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো আগের সরকারের তৈরি ওবিসি তালিকা বাতিল করে দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাই ২০১০ সালে যে ৬৬টি সম্প্রদায় ওবিসি তালিকাভুক্ত ছিল, আপাতত তারাই ওই সুবিধা পাবে। পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari) নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করবে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে সমীক্ষার কাজ চলবে চার মাস ধরে। কাজ সরকারিভাবে হলেও, তদারকি করবেন বিধায়করা। এদিনের (OBC Quota Row) বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

    ওবিসি তালিকায় ‘জল’!

    বাম জমানার শেষ পর্বে এবং তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্বে ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১২ এর মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসির তালিকাভুক্ত করা হয়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল ওবিসি তালিকায়। এই সম্প্রদায়গুলিকে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে মামলা দায়ের হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৩ সালে ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে তালিকাভুক্ত করা হয় (Suvendu Adhikari)। এর ফলে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা গিয়ে পৌঁছয় ১৭৯-তে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত (OBC Quota Row) করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই মামলা প্রত্যাহার করে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয় ৭৭টি সম্প্রদায়কে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Prashanta Barman: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিউটাউনে গ্রেফতার করল পুলিশ

    Prashanta Barman: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে অভিযুক্ত পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে নিউটাউনে গ্রেফতার করল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে পুলিশের জালে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman)। সল্টলেকের দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত ৷ সোমবার রাতে নিউটাউনের রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও বচসায় জড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। তারপর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রশান্ত। এখানেই শেষ নয়, আরও কীর্তি রয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়ে কীভাবে তিনি বিডিও হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    খুনের দায়ে অভিযুক্ত

    গতবছর অক্টোবর মাসে সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা তথা সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা নিখোঁজ হন এবং পরে নিউটাউনে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম উঠে আসে। কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রশান্তকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছেন।

    মদ্যপ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ধাক্কা

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিউটাউনের সর্চি সিগন্যালের কাছে প্রশান্ত বর্মন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত। দুর্ঘটনায় বাইক চালক রাস্তায় পড়ে যান। তারপরই রাস্তায় পথচলতি মানুষজন ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলে প্রশান্ত বর্মন গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত অভব্যতা শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় থাকা প্রশান্ত বর্মন স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে গালিগালাজ করে এবং চড় মারার হুমকি দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্য়েই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইকোপার্ক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক করে প্রশান্ত বর্মনকে থানায় নিয়ে যায় ৷ পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

  • 100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    100 Days Work Restart: ‘ডবল ইঞ্জিন’ বাংলায় বড় সিদ্ধান্ত! ১ জুন থেকেই বাংলায় ফের ১০০ দিনের কাজ, তবে বাদ পড়ছে এই ২ জেলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক গতি বাড়াতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন সরকার। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, আগামী ১ জুন থেকে বাংলায় ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প বা মনরেগা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। তবে আপাতত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে না বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদে

    নবান্ন সূত্রের খবর, এই দুই জেলাতেই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো জব কার্ড তৈরি, কাজ না করেই টাকা তোলা, কাজের খতিয়ানে কারচুপি এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলায় প্রকল্প চালু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ বাদে বাকি সমস্ত জেলাতেই দ্রুত গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু করতে হবে। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এলেই যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায় এবং প্রকল্পে গতি আনা সম্ভব হয়, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।

    বিতর্কের সূত্রপাত ২০২২ সালে

    উল্লেখ্য, বাংলায় ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। ভুয়ো জব কার্ড, বেআইনি নিয়োগ এবং কাজের হিসাবপত্রে অসংখ্য অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। এর পরেই কেন্দ্র ‘৭ নম্বর ধারা’ প্রয়োগ করে বাংলার জন্য মনরেগার সমস্ত তহবিল এবং বকেয়া অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়। তৎকালীন তৃণমূল সরকার অবশ্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি ছিল, বাংলার গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। বকেয়া টাকার দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনেও নামে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্বে রাজধানীতে ধরনা কর্মসূচিও হয়েছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, আগের খরচের পূর্ণ হিসাব এবং দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব নয়।

    উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এখন ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর তত্ত্ব সামনে এনে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার মনে করছে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় থাকলে গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের কাজ আরও দ্রুত এগোবে। সেই লক্ষ্যেই ১ জুন থেকে পুনরায় প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার ‘কর্মশ্রী’ নামে একটি বিকল্প প্রকল্প চালু করেছিল। সেখানে জব কার্ড হোল্ডারদের ৫০ থেকে ৭০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে নতুন সরকার ফের কেন্দ্রীয় মনরেগা প্রকল্প চালু করার উপরেই জোর দিচ্ছে।

    নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক…

    শুধু ১০০ দিনের কাজ নয়, প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতেও বড় পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতি মাসে সব দফতরের সচিবদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করা হবে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।

  • Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলে! রাজ্যে পালাবদলের আবহে এই পুরসভায়ও (Diamond Harbour Municipality) মুখ থুবড়ে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস (Corruption Allegations)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রবিবার ফল বের হয় ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের। গোটা রাজ্যের মতো এই বিধানসভা কেন্দ্রেও গোহারা হেরে যায় তৃণমূল। তার পর সোমবারই ইঙ্গিত মিলল দীর্ঘদিন ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নামে পরিচিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার মোট ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ জন কাউন্সিলর  একযোগে এদিন মহাকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে জমা দেন পদত্যাগপত্র। এঁরা তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হয়ে পুরসভায় এসেছিলেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারে।

    একযোগে পদত্যাগ কাউন্সিলরদের (Diamond Harbour Municipality)

    এদিন দুপুরে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্তের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন ওই কাউন্সিলররা। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, একসঙ্গে এতজন কাউন্সিলরের পদত্যাগ কেবল প্রশাসনিক নয়, ডায়মন্ড হারবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এদিন যাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এতদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নয়, বরং চলত পুলিশ-প্রশাসনের অঙ্গুলি হেলনে। সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার বলেন, “এতদিন ডায়মন্ড হারবার মডেলের নামে একটা বেলুন ফুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন সেই বেলুন ফুস! আমরা জনপ্রতিনিধি হলেও, কোনও স্বাধীনতা ছিল না। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত পুলিশ কর্তারা। তাঁদের নির্দেশেই আমাদের উঠতে-বসতে হত।”

    ফাটল তৃণমূল জমানার দুর্নীতির বেলুন

    তাঁর দাবি, “ওপরতলা থেকে পুলিশ- প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা হত। কাউন্সিলরদের ব্যবহার করা হত পুতুলের মতো। প্রতিবাদ করার পরিবেশ ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর সাহস পেয়েছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।” দুর্নীতির অভিযোগেও সোচ্চার হয়েছেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা। তাঁদের দাবি, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ, তোলাবাজি—সব ক্ষেত্রেই পুলিশের একাংশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অবৈধ বিল্ডিং তৈরির ক্ষেত্রে মালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হত। প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হত পুলিশি নির্যাতনের।

    পদত্যাগী কাউন্সিলরের বক্তব্য

    পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের অমিত সাহাও। তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভা ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত (Corruption Allegations)। এতদিন সব ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলেই ছিল। কিন্তু আমরা ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মেয়াদ প্রায় আট মাস বাকি রয়েছে। উন্নয়নের বার্তা নিয়েই আমরা এসেছিলাম। কিন্তু যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে ক্রমশই মানুষের সামনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠেছিল (Diamond Harbour Municipality)।” তিনি বলেন, “পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে পুরসভা থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।” পদত্যাগী এই কাউন্সিলর বলেন, “আমরাও দুর্নীতির তদন্ত চাই। যদি তদন্তে আমাদের কারওর নাম জড়ায়, তাহলে যা শাস্তি হবে, মাথা পেতে নেব। তবে যারা প্রকৃত দোষী, তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

    বিজেপিকে স্পেস পদত্যাগীদের

    পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা জানান, রাজ্যের নয়া সরকার যাতে নতুন করে বোর্ড গঠন করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারে, সেই রাস্তা পরিষ্কার করতেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তমাল বলেন, “বিজেপির দুর্দিনে যাঁরা মাটি কামড়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের প্রাপ্য আমরা কেড়ে নিতে চাই না। নতুন সরকার তাদের প্রতিনিধি দিয়েই পুরসভা চালাক। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমরা তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করব (Corruption Allegations)।” ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা দীপক কুমার হালদার বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে তার তদন্ত অবশ্যই হবে। যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না।”

    তৃণমূলের খাসতালুকেই ধস

    ২০১৪ সালের পর থেকে বস্তুত ডায়মন্ড হারবার হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের খাসতালুক (Diamond Harbour Municipality)। এই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই সাত লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় বার্তাই দিচ্ছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। পদত্যাগী কাউন্সিলরদের মুখে ‘পুলিশি নিয়ন্ত্রণ’, ‘দুর্নীতি’, ‘তোলাবাজি’র মতো গুরুতর অভিযোগ শোনা গিয়েছে। যার জেরে তৃণমূল বেশ চাপে পড়ে গেল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

    একযোগে ইস্তফা উত্তর বারাকপুর পুরসভায়ও

    এদিকে, এদিনই একযোগে ইস্তফা দেন উত্তর বারাকপুর পুরসভায় ১৮ জন কাউন্সিলর। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের খারাপ ফলের দায় স্বীকার করে ইস্তফা দেন তাঁরা। পরিস্থিতির দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান নিজেও। বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশাসক বসাতে বলেছি। দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ করে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আগামী ছ’মাসের মধ্যেই ভোট হয়ে যাবে বলে আশা করি।”

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কা লেগেছে বিভিন্ন পুরসভায়ও। খোদ কলকাতা পুরনিগমও বেসামাল ছাব্বিশের পদ্ম-ঝড়ে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এহেন আবহে রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলিতেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা (Diamond Harbour Municipality)। একদিন যে অস্ত্রে শান দিয়ে তাঁরা দখল করেছিলেন বাম-শাসিত একাধিক পুরসভা, সেই হাতিয়ারই ফিরছে ব্যুমেরাং হয়ে।

    ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে বইকি (Corruption Allegations)!

     

  • Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারের পর সোমবারেও রাজ্য সরকারের (BJP Government) বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। কোন্নগরে সরকারি জমি দখল করে গজিয়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের কমপক্ষে ৬ জায়গায় বুলডোজার দিয়ে রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং জাভেদ খানের বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতলের ইমারত আগাম নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি, জবর দখল, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূল (Illegal Construction) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিও রয়েছে। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

    প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction)

    হুগলি জেলার কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে চালানো হয়েছে বুলডোজার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (Illegal Construction) খোকন পালের সেই বেআইনি নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত সরকারি জায়গা দখল করে তৎকালীন শাসক দলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার সরকার বদলে যেতেই চরম বিপাকে তৃণমূলের অবৈধ দখলদারিরা। অপরদিকে, রবিবার কলকাতার কসবা, তিলজলা এবং বেলেঘাটা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারের (BJP Government) এই অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণগুলি সগৌরবে টিকে ছিল? তৃণমূলের শাসনকালে কলকাতা পুরসভা কেন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি? রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল খোদ এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন। দিকে দিকে তৃণমূলের অবৈধ দখলকারী নেতা-নেত্রীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে।

    স্থানীয়দের চোখের সামনেই একটু একটু করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল বিশালাকার সব বহুতল। যার প্রতিটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নির্মিত। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণ করতে দেওয়া হয়েছে। এই খবর কি তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে ছিল না? ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলবল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁরা বড় বড় কথা বলতেন, তাঁরা কি কিছুই জানতেন না? আমরা মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় এসেই যদি সব জানতে পারি, তবে তাঁরা কেন জানতেন না? আসলে অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হবে।”

    পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশন

    রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই কলকাতা পুরসভা পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশনে নামে। তিলজলা এলাকার দুটি বহুতলে ইতিমধ্যেই বুলডোজার চালানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দুটি বহুতলই তৃণমূল বিধায়ক (Illegal Construction) জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এমনকি খোদ জাভেদ খানের কার্যালয়েও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ আবাসন ও নির্মাণ। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি কাজ কি সত্যিই প্রশাসনের অলক্ষ্যে ঘটছিল, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার যে এই অবৈধ নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট।

    কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট অবৈধ

    সোমবার তৃণমূল নেতা (Illegal Constructইওন) তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মাণ বেআইনি বহুতলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার চালানো হয়। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরসভার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন দুটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, পুর কর্তৃপক্ষ আবাসন দুটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে এবং সোমবারই ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক সহযোগীকে স্কুটার চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি আদতে একজন দালাল, যিনি রাজু নস্করের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এদিন এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

    বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ

    রাজুর বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP Government) অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং তা গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছিল। বুকিংয়ের সময় সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত তাঁদের কোনও ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা ‘অ্যাগগ্রিমেন্ট পেপার’ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পূর্ণ টাকা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটের মুখে ক্রেতারা বারবার রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (BJP Government), পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেছেন। কোথাও সরু গলির মধ্যে ৬-৭ তলা বিল্ডিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে ৩ ফুটও জায়গা নেই। বিল্ডিং ভাঙার জন্য সেখানে বুলডোজার পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হাতুড়ি দিয়ে ম্যানুয়ালি বিল্ডিং ভাঙার কাজ করছেন পুরসভার কর্মীরা। ২৩ তারিখ বেআইনি বিল্ডিং ভাঙতে নোটিস দিয়েছিল পুরসভা। এরপরেই রবিবার সকাল থেকে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share