মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে পুলিশের জালে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ (Prasanta Barman)। সল্টলেকের দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত ৷ সোমবার রাতে নিউটাউনের রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও বচসায় জড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে খুনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। তারপর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রশান্ত। এখানেই শেষ নয়, আরও কীর্তি রয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়ে কীভাবে তিনি বিডিও হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
খুনের দায়ে অভিযুক্ত
গতবছর অক্টোবর মাসে সল্টলেকের দত্তাবাদের বাসিন্দা তথা সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা নিখোঁজ হন এবং পরে নিউটাউনে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের নাম উঠে আসে। কলকাতা হাইকোর্ট এবং দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রশান্তকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছেন।
মদ্যপ অবস্থায় অন্য গাড়িকে ধাক্কা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নিউটাউনের সর্চি সিগন্যালের কাছে প্রশান্ত বর্মন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বাইকে ধাক্কা মারেন প্রশান্ত। দুর্ঘটনায় বাইক চালক রাস্তায় পড়ে যান। তারপরই রাস্তায় পথচলতি মানুষজন ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলে প্রশান্ত বর্মন গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে চূড়ান্ত অভব্যতা শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় থাকা প্রশান্ত বর্মন স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে গালিগালাজ করে এবং চড় মারার হুমকি দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্য়েই সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইকোপার্ক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক করে প্রশান্ত বর্মনকে থানায় নিয়ে যায় ৷ পরবর্তীতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

Leave a Reply