Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের একটি তোলাবাজির মামলায় সোমবার মধ্যরাতে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও খুনের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে (TMC Ex MLA) থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন। পচা ডিম, টমেটো, গোবরে ‘স্বাগত’ জানায় উত্তেজিত জনতা।

    আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা (Sabyasachi Dutta)

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিধাননগর উত্তর থানার সামনে এবং আদালত চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেন। সব্যসাচী দত্তকে কড়া পুলিশি পাহারায় থানা থেকে বের করে আনা হলেও উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ আটকানো সম্ভব হয়নি। তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও টমেটো ছুড়ে মারেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। এমনকি পুলিশের গাড়ির দরজার ফাঁক দিয়েও তাঁর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। উপস্থিত জনতার একাংশকে “চোর” (TMC Ex MLA) স্লোগান দিতেও শোনা যায়। সেখানে উপস্থিত এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নেতা (Sabyasachi Dutta) ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়েছেন। আজ তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে।”

    অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

    যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সব্যসাচী দত্ত (TMC Ex MLA)। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “২০১৮ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ টাকাও নেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন, তবে আমি যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব। যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই ওই একই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।” ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিধাননগর এবং তৎসংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করল রাজ্য সরকার। নবগঠিত এই টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে। মুখ্যসচিব ছাড়া এই কমিটিতে আরও ১৯ জন উচ্চপদস্থ সদস্য রয়েছেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কলকাতা সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (State Government) রেলের সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করতেই নবান্নর এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।

    টাস্ক ফোর্সের মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি (Task Force)

    • নিয়মিত পর্যালোচনা: রাজ্যে প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পগুলির কাজ কতদূর এগোল, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
    • জটিলতা নিরসন: জমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা রাস্তা নির্মাণ সংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলি থমকে রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • সমন্বয় সাধন: রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক অনুমতি মেলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

    বৈঠকের সময়সূচি

    প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে অন্তত একবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্সের (Task Force) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে মাসে একাধিকবারও বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া, কাজের গতি বজায় রাখতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ প্রতি সপ্তাহে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যসচিব (State Government) জানিয়েছিলেন যে, প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে রাজ্যে রেলের প্রায় ৭০টি প্রকল্প থমকে ছিল। রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠনের ফলে সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’ (WBSBCL) বা ‘বেভকো’ গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য আবগারি দফতরে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির, যা ঘিরে রাজ্যে আবগারি দুর্নীতির (WB-Excise Scam) বিতর্ক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, গোটা এই দুর্নীতির মাথায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishke Banerjee)। এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি এখন ব্যপক তোলপাড়।

    কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়ম (WB-Excise Scam)

    ২০১৭ সাল থেকেই শুরু, সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস) সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বিশেষ বদল আনা হয়। নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাতায়।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি ও দেশি মদের পাইকারি বা থোক বিক্রির (Wholesale) ব্যবসা মূলত বেসরকারি ডিলার ও লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মদের কালোবাজারি ও জোগান নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন এই কর্পোরেশন বা ‘বেভকো’ (WBSBCL) গঠন করা হয়। এরপর থেকে রাজ্যের মদের পাইকারি ব্যবসা এককভাবে এই সরকারি সংস্থার (WB-Excise Scam) হাতে চলে যায়।

    আবগারি কমিশনকে চিঠি

    আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি  দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, অবিলম্বে এই রাজস্ব আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেহেতু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করবে।’ বিজেপির নেতা অমিত মালব্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির সংস্কৃতিরই প্রমাণ। এই দুর্নীতি একটি সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত করে যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যকে আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।” অপরে রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সুমনা সরকারও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন। তদন্ত করে দোষীদের কুকর্ম তুলে ধরার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

    কীভাবে চলত দুর্নীতি?

    বেভকো’ গঠনের পর থেকে চালু বহুমুখী ব্যবস্থা ভেঙে একটি একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় কিছু ডিস্ট্রিবিউটরকে যুক্ত করা হয়, যারা মদ প্রস্তুতকারী এবং বোতলজাতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ। প্রতি ক্রেটে ৪ টাকা গুদাম ভাড়া এবং ৩ টাকা পরিবহণ খরচ বাবদ নেওয়া হত। অর্থাৎ, প্রতি ক্রেটে ৭ টাকা দিতে হত সংস্থাগুলিকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ‘অন্যত্র’ পৌঁছত।

    বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা চালুর নেপথ্যে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর সদিচ্ছার চেয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়মের উদ্দেশ্যই কাজ করেছিল। একই ভাবে আরও বলা হয়, মদের বরাত বণ্টন (Allocation), ব্র্যান্ডের নথিভুক্তি (Brand Registration) এবং বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটরদের একচেটিয়া সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য অভিযোগ কয়লা, গরু, বালি, পাথার পাচারের মতো এবার এই আবগারি দুর্নীতির টাকা সরাসরি চলে যেতো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বড়সড় কেলেঙ্কারির তদন্ত

    রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে রেশন দুর্নীতি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড়সড় কেলেঙ্কারির (WB-Excise Scam) তদন্ত যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে গতি পেয়েছে, ঠিক সেই আবহেই আবগারি দফতরের এই পুরনো সিদ্ধান্ত ও বেভকো-র কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক সব তথ্য ও অভিযোগ সামনে আসছে।

    নতুন নীতির ফলে রাজস্ব আদায়ের পুরনো এককালীন পদ্ধতি বাতিল করে দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর ফলে আবগারি রাজস্ব আদায়ে বিলম্ব এবং বিতরণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগে উৎপাদন বা বোতলজাতকরণের উৎসস্থলেই সম্পূর্ণ শুল্ক আদায় করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দুই ধাপে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

    তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মদের চোরাচালান রুখতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রাজ্য কোষাগারে স্বচ্ছ উপায়ে শতভাগ রাজস্ব নিশ্চিত করতেই বেভকো (WBSBCL) গঠন করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে, ২০১৭ সালের এই সরকারি পদক্ষেপকে ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতির উত্তাপ (WB-Excise Scam) এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • Kolkata Municipal Corporation: কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড বিলুপ্ত, প্রশাসক পদে নিযুক্ত হলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

    Kolkata Municipal Corporation: কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড বিলুপ্ত, প্রশাসক পদে নিযুক্ত হলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চন্দননগর ও বিধাননগরের পর এবার কলকাতা পুরনিগমেও (Kolkata Municipal Corporation) প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার। পুর বিষয়ক দফতরের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্তমান পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) কলকাতার নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এই পদে বহাল থাকবেন।

    পদত্যাগ করেন ফিরহাদ হাকিম

    সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বিভিন্ন পুরনিগম (Kolkata Municipal Corporation) ও পুরসভার কাউন্সিলররা পদত্যাগ করতে শুরু করেন, যার ফলে একের পর এক নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যায়। সেই রাজনৈতিক ডামাডোলের আঁচ এসে পড়ে কলকাতা পুরনিগমেও। গত ৫ জুন কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের ইস্তফার পর বর্তমান বোর্ডের অস্তিত্ব ও বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দেয়।

    মেয়রের পদত্যাগের দিনই পুর দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের (Smita Pandey) কাছে জানতে চাওয়া হয়— কেন বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না? এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য কোনও আবেদন জমা না পড়লে বোর্ড বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

    ১৯৮০-র ১১৭ ধারার উপধারা (১) প্রয়োগ

    সোমবার পুর কমিশনারের (Kolkata Municipal Commissioner) কাছে জানতে চাওয়া হয়, মেয়র নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও চিঠি বা প্রস্তাব তাঁর কাছে এসেছে কি না। জবাবে স্মিতা পাণ্ডে জানান, কোনও পক্ষ থেকেই এমন কোনও আবেদন তিনি পাননি। পাশাপাশি, সরকারের নির্দেশ অনুসারে তিনি যথাসময়ে তাঁর উত্তর জমা দিয়েছেন। এর পরেই সোমবার সন্ধ্যায় পুর বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড বিলুপ্তির চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়।

    সরকারি চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরনিগম আইন, ১৯৮০-র ১১৭ ধারার উপধারা (১) প্রয়োগ করে এই নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলো। এর ফলে মেয়রের পাশাপাশি ‘মেয়র-ইন-কাউন্সিল’ এবং উক্ত আইনের অধীনে গঠিত পুরনিগমের সমস্ত কমিটি ও চেয়ারম্যান পদের অবলুপ্তি ঘটল। এখন থেকে পুর আইনের ১১৮ ধারার উপধারা (১)-এর দফা (খ) অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেই পরিচালিত হবে পুরনিগমের সমস্ত কাজ।

    এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররাই তদারকি করবেন

    রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে এমআইসি (MIC)-রা পুরনিগমে আসছেন না। তবে এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, উচ্চপদস্থ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররাই মূলত সমস্ত প্রশাসনিক কাজ তদারকি করেন এবং আগামীদিনেও তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন। এটি একটি সরকারি দফতরের নিয়ম মেনেই এখানে কাজ সচল রয়েছে।

    সামনে বর্ষাকাল হওয়ায় কলকাতা পুর-এলাকায় (Kolkata Municipal Corporation) জল জমার (ওয়াটার লগিং) দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১০ জুন উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রশাসক। তিনি জানান, শহরের নিকাশি নালাগুলি পরিষ্কারের ওপর এখন থেকেই বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এবং যেখানেই সমস্যার খবর মিলছে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে লেপচা, ভুটিয়া-সহ বিভিন্ন জনজাতির জন্য গঠিত ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে পাহাড়ের স্বশাসিত প্রশাসনিক সংস্থা জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কেও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার দার্জিলিং, মিরিক ও দুধিয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগের সরকার পাহাড়ে বারবার এলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ১৬টি বোর্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। জিটিএ-ও কোনও ছাড় পাবে না।”

    পাহাড় চষে বেড়ালেন মন্ত্রী

    সোমবার সকালেই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এরপর পাহাড়ের একাধিক এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তিনি প্রথমে যান শহরের প্রধান পানীয় জলের উৎস সিনচেল এলাকায়। সেখানে চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    মিরিককে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা

    পরিদর্শনের পর মন্ত্রী মিরিক লেকে যান এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, মিরিককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, মিরিক লেক সংলগ্ন পার্ক ও পর্যটন অবকাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান মন্ত্রী।

    দুধিয়া সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের মধ্যে

    দিনের শেষ কর্মসূচি ছিল দুধিয়া এলাকায়। সেখানে গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। সেতুটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, “দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে, শুধুমাত্র সফর করতে নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বর্ষায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগের সরকার প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দেয়নি। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গঠনের ঘোষণা

    এর আগে রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহরকে একত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক জনশৌচাগার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

    সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
    প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং মানবপাচার রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক বিরোধী কঠোর অভিযান

    শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র থুতু ফেলা, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হবে। নির্মল বন্ধু কর্মীদের উপস্থিতিও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

    মাদকচক্র ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

    উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি বেআইনি মাদ্রাসাগুলির উপর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মন্দিরে সারা বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়, সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মন্দিরকেন্দ্রিক ধূপকাঠি শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজনৈতিক জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরকন্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। যদিও তিনি সেদিন শিলিগুড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের। সেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

  • Sabyasachi Dutta: তোলাবাজি থেকে খুনের হুমকির অভিযোগ, এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত

    Sabyasachi Dutta: তোলাবাজি থেকে খুনের হুমকির অভিযোগ, এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তোলবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে বারাসত থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন সব্যসাচী। এর আগে তিনি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। বিধাননগর পুরসভার মেয়রও ছিলেন সব্যসাচী।

    সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    পুলিশ সূত্রে খবর, বিপুল টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে সব্যসাচী দত্তর (Sabyasachi Dutta Arrested) বিরুদ্ধে। সল্টলেকের এক বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী, মধুসূদন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন যে, এই তৃণমূল নেতা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন। তোলাবাজি ছাড়াও মানসিকভাবে নির্যাতন, খুনের হুমকির অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। এর ভিত্তিতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাটে প্রথমে যান বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে প্রথমে এক পর্ব তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। দ্বিতীয়বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিধাননগর উত্তর থানায়। রাত ১০টা নাগাদ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে। রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ-পর্ব চলে। তারপর সোমবার গভীর রাতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সব্যসাচীর বিরুদ্ধে রয়েছে প্রমাণ

    পুলিশের তরফে জানানো হয়, সল্টলেকের যে ব্যবসায়ী সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ আধিকারিকদের কাছে একটি সি সি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দিয়েছেন। সেই ফুটেজ এবং অন্যান্য যে তথ্যপ্রমাণ তা সামনে রেখেই পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যখন তাঁর বিরুদ্ধে যায়, তখনই পুলিশের তরফে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। যদিও এই বিষয়ে বিধাননগর উত্তর থানা পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। জানা গিয়েছে, মধুসূদন চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু, পালাবদল হতেই সেই পুলিশই এবার সক্রিয়। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

  • WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিশ প্রশাসনে বিরাট রদবদল। একসঙ্গে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশে ১৭৯ জন আইপিএস-ডব্লিউবিপিএস-কে বদলি করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বদলি করা হল কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) রূপেশ কুমারকে। বিধানসভা ভোটের আগে এই রূপেশকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যাক’ বলেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে সরানো হয়েছে এসটিএফে। রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্তাদের রদবদলের নোটিশ জারি করেছে হোম অ্যাফেয়ার্স দফতর। রাজ্য হোম অ্যাফেয়ার্স দফতেরের নোটিশ অনুযায়ী, ১৭৯ আইপিএস বদলির পাশাপাশি, একাধিক পুলিশ সুপারের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২টি পুলিশ জেলার এসপি বদল করা হচ্ছে।

    কাকে কাকে বদলি

    অন্য দিকে এত দিন ফাঁকা ছিল কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম)। সেই পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানকার যুগ্ম কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি হয়েছেন আইপিএস মুরলীধর শর্মা। মুরলীধরকে আইজি (আইবি) পদে বসানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে গত এপ্রিলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছিল মুরলীধরকে। তার আগে মুরলীধরকে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর কথা বলেছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় তারা। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেই থেকে যান মুরলী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে। আইপিএস কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে এত দিন ছিলেন যুগ্ম কমিশনার পদের এক আধিকারিক। ওই পদে ছিলেন সোমা দাস মিত্র। তাঁকে বদলি করা হয়েছে আইজি (পলিসি) পদে। রূপেশকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) থেকে ডিআইজি (এসটিএফ) করা হয়েছে।

    রুটিন মাফিক বদলি

    নির্বাচনের আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে বিরাট রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোট মেটার পরে নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথম এত বড় মাপের রদবদল করা হলো। রুটিনমাফিক এই বদলির সিদ্ধান্ত বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাঁকুড়া, মালদা রেঞ্জ-সহ একাধিক বিভাগের আইজিপি (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পদে রদবদল হয়। পাশাপাশি একাধিক জেলার পুলিশ সুপার পদেও বদলি করা হয়েছে।

    কোথায় কোথায় বদলি

    • রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজিপি থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি।
    • গৌরব শর্মাকে ট্রাফিক আইজিপি পদ থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি করা হয়েছে।
    • সুকেশ কুমার জৈনকে আইবি থেকে সিসিডব্লু-এর আইজিপি করা হল।
    • শীশ রাম ঝাঝারিয়া সংগঠন শাখা থেকে এসভিএসপিএ-র ডিরেক্টর হলেন।
    • মুরলীধর শর্মাকে আইবি-র আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত করা হল।
    • শুভঙ্কর সিনহাকে সরকার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে আইজিপি করা হয়েছে (প্রভিশনিং)।
    • কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) পদে রাখা হয়েছে।
    • ভি. সলোমন নেসাকুমারকে আইজিপি (পার্সোনেল) পদ দেওয়া হয়েছে।
    • শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তীকে আইজি হোম গার্ড পদ দেওয়া হয়েছে।
    • উৎপল কুমার নস্করকে আইজিপি কারেকশনাল সার্ভিসেস-এ নিযুক্ত করা হয়েছে।
    • ফারহাত আব্বাস হলেন আইজিপি ট্রেনিং।
    • অঞ্জন চক্রবর্তীকে করা হল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর।
    • রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় হলে আইবি-র আইজি।
    • স্বপন সরকারকে করা হল আইজিপি, অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)।
    • সঙমিত লেপচার পদোন্নতি করে আইজিপি, আর্মড পুলিশ (উত্তরবঙ্গ) করা হয়েছে।
    • মেহমুদ আখতার পদোন্নতি পেয়ে আইজি ট্রাফিক।
    • অজয় কুমার ঠাকুরের পদোন্নতি হয়ে আইজিপি, সিআইডি করা হয়েছে।
    • সোমা দাস মিত্র পদোন্নতি পেয়ে হলেন আইজিপি (পলিসি)।
    • কৃষ্ণকলি লাহিড়ীর পদোন্নতি পেয়ে আইজি, সিসিডব্লু করা হয়েছে।
    • শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি র‍্যাঙ্কে বহাল হলেন।
    • সূর্যপ্রতাপ যাদব বীরভূমের এসপি থেকে হলেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক)।
    • বারাসত পুলিশ জেলার এসপি পুষ্পা হলেন পূর্ব বর্ধমানের এসপি।
    • ওয়াই রঘুবংশী কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি পদ থেকে হলেন STF উত্তরবঙ্গের এসপি।
    • ঈশানী পাল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ ওয়েস্ট) হলেন।
    • অতুল ভি. হলেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি।
    • সায়ক দাসকে পূর্ব বর্ধমানের এসপি থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) করা হল।
    • সুজাতা কুমারী বীণাপাণিকে জলপাইগুড়ির এসপি পদে বহাল করা হয়েছে।
    • জে. মার্সিকে বারাসত পুলিশ জেলার এসপি করা হল।
    • চন্দ্রশেখর বর্ধন হলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি।
    • অভিষেক গুপ্ত হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি।
    • প্রিয়ব্রত রায় হলেন পশ্চিমবঙ্গ ট্রাফিক পুলিশের এসপি।
    • শুভেন্দ্র কুমার বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি হলেন।
    • সুবিমল পাল হলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইস্ট সাবার্বান ডিভিশন)।
    • বিদিত রাজ ভুন্ডেশকে বীরভূমের এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • ভি. সি. সতীশ পাসুমার্তি বাঁকুড়ার এসপি পদ পেলেন।
    • সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে এসটিএফ মালদার এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • চিন্ময় মিত্রকে করা হল কলকাতা পুলিশের ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স)।
    • অমিত ভার্মা হলেন হাওড়া (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • সানি রাজ হলেন পুরুলিয়ার এসপি।
    • কুনওয়ার ভূষণ সিং হুগলি (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • চারু শর্মা শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
    • ইন্দ্র বদন ঝা SRP, শিলিগুড়ি। কল্যাণ সিনহা রায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ।
    • মণীশ জোশী কলকাতা পুলিশের ডিসি (ওয়্যারলেস)।
    • জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় SRP, খড়গপুর।
    • অম্লান ঘোষ হোম গার্ড সংগঠনের সিনিয়র স্টাফ অফিসার।
    • দেবরাজ দাস বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ডিসি।
    • পল্লবতী শারন্যা ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
  • Jahangir Arrested: দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা! নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান

    Jahangir Arrested: দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা! নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝুঁকেছিলেন পুষ্পা, এবার ধরা পড়লেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর জালে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। সূত্রের খবর, দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গির (Jahangir Arrested)। অবশেষে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

    নেপালে পালানোর চেষ্টা

    এসটিএফ সূত্রে খবর, নেপাল সীমান্ত ধরে পালানোর চেষ্টা করছিলেন জাহাঙ্গির। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান এসটিএফ-এর আধিকারিকেরা। ভারত-নেপাল সীমান্তে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল জাহাঙ্গির।পরিবার নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকাই ছিল জাহাঙ্গিরের লক্ষ্য। নেপালে পালিয়ে গিয়ে পাকাপাকি থাকার চেষ্টা করছিলেন। আগেভাগে নেপালের স্কুলে ভর্তি করেছিলেন সন্তানদের। মিলেছে জাহাঙ্গিরের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির তথ্যও। পুলিশ বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, পালিয়ে যাওয়ার পর নিজের অবস্থান গোপন রাখতে একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছিলেন তৃণমূল নেতা। তিনি মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখেন। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও লগআউট করে যান, যাতে তাঁর অবস্থান বা যোগাযোগের সূত্র খুঁজে পাওয়া না যায়। ফলে গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে।

    কী করে জাহাঙ্গিরের খোঁজ পেল পুলিশ ?

    জাহাঙ্গিরের বিভিন্ন সঙ্গীদের গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নেপালে যাতায়াত করতেন। সেই সূত্রেই জাহাঙ্গিরের এক কাছের লোক যে নেপালে থাকত তাকে ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। তাকে ট্র্যাক করে জানা যায়, ঘরভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। নেপালে জাহাঙ্গিরের সন্তানকে ভর্তি করার কাজও এগোয়। পুলিশ জানতে পারে, জাহাঙ্গির বাংলা-নেপাল বর্ডারের কাছে রয়েছেন। সেইমতো টিম গঠন করা হয়। টিম গঠন করে সাদা পোশাকের ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফের টিম সেখানকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশ আসছে খবর পেয়ে পালাতে শুরু করেন জাহাঙ্গির। তাঁকে ধরপাকড়ের জন্য দৌড়াদৌড়িও শুরু হয়ে যায়। শেষমেশ তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ।

    ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ ও এসটিএফ-এর অভিযান

    ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি চাই ফলতায় শান্তি থাকুক। অনেক উন্নয়ন হোক। সোনার ফলতা হোক, এটা আমার স্বপ্ন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। আগামী ২১ মে পুননির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তাই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি’। ইভিএমে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে জাহাঙ্গিরের নাম পর্যন্ত পাল্টাতে পারেনি তৃণমূল। ২৪ মে ভোটের ফল বেরোলে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে ৭৭৮৩ টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন জাহাঙ্গির। এরপর কার্যত অন্তর্ধানে চলে যান। কোনও খোঁজ ছিল না তাঁর। বিভিন্ন মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফ যৌথভাবে একাধিক জায়গায় অভিযান চালায়।

    জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার

    ২০১৯ সালে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতার ওই তৃণমূল নেতা। এর পাশাপাশি, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট থেকে আর একটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। রাজ্যে পালাবদলের পর তদন্তের স্বার্থে জাহাঙ্গির খানের অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষার নির্দেশ প্রত্যাহার করার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল খোদ রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, একাধিক মামলার তদন্তের খাতিরে এই প্রভাবশালী নেতাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কিন্তু আদালতের আইনি রক্ষাকবচ থাকার কারণে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারছিল না। ২৬ মে কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খান জাহাঙ্গির। তাঁর আইনি সুরক্ষার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করে উচ্চ আদালত। গত ২৬ মে জাহাঙ্গিরকে দেওয়া সমস্ত রক্ষাকবচই প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে, তখন তদন্ত হবেই। এরপর জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না পুলিশের। জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন ফলতাবাসীও।

    জাহাঙ্গিরের নাম মোট ৭টি এফআইআর

    আইনি বাধা সরে যেতেই জাহাঙ্গিরকে পাকড়াও করার জল্পনা শুরু হয়। দীর্ঘ নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এসটিএফ। নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এলাকায় তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার কারণে তাঁকে অনেকেই ‘স্বঘোষিত ডন’ বলেও উল্লেখ করেন। সাধারণ মানুষকে রীতিমতো ভয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রের খবর, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগে মোট ৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। অবশেষে জাহাঙ্গির গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তিতে ফলতাবাসী।

     

     

     

     

  • Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উপচে পড়েছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার। এই যোজনায় (Annapurna Yojana) মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যের সব যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন বলেও জানান তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম পূরণ আগামী ৩ মাস চলবে। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু এদিন বলেন, এত দুর্নীতি হয়েছে যে ব্রিগেড ময়দানকে জেল বানাতে হবে।

    সরকারের টাকা জলে ফেলা যায় না

    এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই যোজনায় ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য। ফর্মে প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল ২-৩ দিন। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারের টাকা এভাবে জলে ফেলা যায় না।”

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা

    এরপরই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিত। তার মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় নেই। কেবল মাত্র সিএএ-তে অ্যাপ্লাই করেছেন, ১ লক্ষ ২১ হাজার এখনও অবধি। ১৯ হাজার সার্টিফিকেট পেয়েছেন। ১ লক্ষ ২ হাজার ,সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। আমরা তাঁদেরও আমাদের দিক থেকে, কেন্দ্রীয় সরকারকে সাথে নিয়ে ক্লিয়ার করব।”

    পুরুষরাও লক্ষ্মী!

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুনলে অবাক হবেন, ৩ লক্ষ পুরুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ পাওয়া গিয়েছে। কৃষ্ণনগর ২-র একটা অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে ২৭৩ জন। ভাবলে অবাক হবেন, বিধবা ভাতাও পুরুষ পেয়েছে। আপনি যেখানেই হাত দেবেন, সেখান থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। এ তো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানাতে হবে।”

    স্বচ্ছতার সঙ্গে ডেটা ব্যাঙ্ক

    শুভেন্দুর কথায়, “কী ভয়ঙ্কর দুর্নীতি। হিসেব করে দেখুন, ৩০ লক্ষের টাকা বছরে কত হাজার কোটি টাকা হয়। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে যা করছি, এর সুফল আগামী ৫০ বছর এই রাজ্যের সরকার পাবে। আমরা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করে নিয়েছি।” তৃণমূলের শাসনকালে একের পর এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, “আমাদের ৩১৫ জন কর্মী আত্মবলিদান দিয়েছেন। ওই বিজেপি কর্মীদের পরিবারের একজন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। এমাসেই চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”

    লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা

    অন্নপূর্ণা যোজনা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন। বুধবার সেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু যাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢোকেনি, তারা আগামী ৭ দিনে এই টাকা পাবেন, বলে খবর।

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কত টাকা ঢুকবে তা জানতে স্ট্যাটাস চেক করতে https://www.govtschemes.in/west-bengal-annapurna-bhandar-scheme এই লিঙ্কে ক্লিক করে নিজের রাজ্য (State) বেছে নিন। স্ক্রল করে Annapurna Bhandar Scheme Official Portal Link অপশনে ক্লিক করুন। https://socialsecurity.wb.gov.in/login পেজটি আসবে। এবার Track Application Status-এ ক্লিক করুন। নিজের নাম নথিভুক্ত আছে কিনা এবং জুন মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিনা উভয়ই এখান থেকে চেক করা যাবে। Track Application Status-এ ক্লিক করলে Search Using অপশন পাবেন। এখানে Select-এ নিজেদের ফোন নম্বর বা আধার নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের যে কোনও একটি অপশনে ক্লিক করবেন। এরপর Enter Value-তে সেই নম্বরটি দেবেন। এরপর ক্যাপচা সঠিকভাবে দিয়ে Search করুন। এতেই বুঝতে পারবেন নিজের অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস, এমনকি কত টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সেটাও।

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক করতে পারবেন এই যোজনার স্ট্যাটাস। এক্ষেত্রে আপনাকে বা পরিবারের কাউকে স্থানীয় ব্লক অফিস বা পুরসভা অফিসে গিয়ে আবেদন গ্রহণের রসিদ দেখিয়ে তথ্য জেনে নিতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হতে আবেদনকারীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী অবশ্যই মহিলা হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স অবশ্যই ২৫-৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আয়করদাতা হওয়া যাবে না। স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অথবা রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার, পঞ্চায়েত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, পৌরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন গ্রহণকারী হওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের কোনও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা অশিক্ষক পদে নিযুক্ত থাকা যাবে না। অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট/পাসবুক, পাসপোর্ট আকারের ছবি। নির্বিঘ্নে পেমেন্ট পাওয়ার জন্য আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় এবং আপডেট রাখাও জরুরি।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া রাজ্য সরকার। নতুন সরকার তৈরির পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে (Illegal Immigrants) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে সদ্য তৈরি হোল্ডিং সেন্টার থেকে এখন আরও ৮৩৬ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর তোরজোড় চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মতে রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে সরকার চিন্তিত। যেভাবেই হোক এই সমস্যা দূর করতে বদ্ধ পরিকর তাঁরা। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যেই সব মানুষ সিএএ-এর আওতায় আসেন না, তাঁদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ পাঠানো হবে।

    সামান্তে কাঁটাতার

    সরকার গঠনের পরই ইতিমধ্যে সীমান্তের ১০০ কিমিতে কাঁটাতার বসানোর জমি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ৫৫৬ কিমির মধ্যে ১০০ কিমি জমি দেওয়া হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সবটাই দেওয়া হবে। শুভেন্দুর মতে, সারা দেশে আইন মানা হয়। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার রাজ্যে আইন মেনে চলত না। তাই তাঁর সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়,‘‘৪৮০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্তের জেলাগুলির হোল্ডিং ক্যাম্প থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নিয়ম মেনে ঢাকায় পাঠানো হবে।’’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের সবথেকে লম্বা বর্ডার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২,২১৭ কিমি বাংলাদেশ বর্ডার। আর এই বিরাট সীমান্তের মধ্যে অনেক জায়গাতেই কাঁটাতার নেই। সেখান থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি

    শুভেন্দু জানান, বিএসএফ-কে জমি দেওয়া খুবই জরুরি। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জমি দিতে হবে। এটাই তাঁর নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বলে দাবি করেছেন তিনি। বিজেপির স্পেশাল ট্রেনিং ক্যাম্পে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৫৫৬ কিমি জমি প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে ১০০ কিমি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি।’’ মাথায় রাখতে হবে, চিকেন নেক করিডর বা শিলিগুড়ি করিডর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি মোটামুটি ২০ থেকে ২২ কিমি চওড়া এবং ৬০ কিমি লম্বা একটা জায়গা। এই জায়গাটি গোটা দেশকে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে জুড়ে রাখে। তাই এই জায়গাটা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই জায়গার নিরাপত্তায় কোনও প্রকারের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নতুন শুভেন্দু সরকার।

LinkedIn
Share