Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শনিবার সকালে মদন মিত্রর (Madan Mitra) বাড়িতে পৌঁছল ইডি। এদিন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, ভবানীপুরের ঠিকানায় যায় ইডি আধিকারিকরা। সন্তোষপুরের একটি ক্লাব ও বেলেঘাটার একটি ফ্ল্যাটেও পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত খবর মোট ৮টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছ ইডি (ED Raid)। শুক্রবারই মদন মিত্রের বাড়িতে যায় সিআইডি-র একটি দল। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের জন্যই তাঁর বাড়িতে গোয়েন্দারা এসেছিলেন বলে জানান মদন।

    কেন মদন মিত্রর বাড়িতে ইডি

    সিআইডি-র পর রাত পোহাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে হানা দিল ইডি। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চলছে বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রচণ্ড সক্রিয় ইডি। তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে। আর সেই মামলাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে গেল ইডি। তারা সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও তার আশপাশের ৬ থেকে ৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। মদনের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাড়িতে সকাল থেকে তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর। মদন কোন বাড়িতে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান।

    সই-জাল কাণ্ডে মদনের বাড়িতে সিআইডি

    বাড়িতে সিআইডি প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে এসেছিল সিআইডি। সই জাল কাণ্ড নিয়ে আমাকে সহযোগিতা করতে বলে। আমাকে নোটিস নিতে বলেছে। আমাকে বলেছে আপনি এই নোটিসটা শুধু রিসিভ করে নিন। আমি রিসিভ করলাম। আমাকে একটা নোটিস দিয়ে চলে গেছে। দেড় মিনিট ছিল।’’ শুক্রবার বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে কুণাল ঘোষকেও তলব করে সিআইডি। রবিবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফের সিআইডি দফতরে যেতে বলা হয়েছে।

  • Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর ৩টার কিছু পরে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং শালবনি থানার একাধিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতেই পুলিশের একাধিক গাড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। শালবনি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। তবে কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, তা নিয়ে সকাল পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, পরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়িতে প্রবেশের আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজায় ডাকাডাকি করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রথমে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তালা ভাঙার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পরে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে অবস্থান করেন। এদিকে বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ আরও বাড়ে। সকাল ৭টার পর কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের ভিতরে প্রবেশ করেন। শেষ পর্যন্ত সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুলিশি তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ার পর তিনিও সেখান থেকে চলে যান। মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি।

    একের পর এক তদন্তের মুখে অভিষেক

    উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি তাঁকে বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জেরা। রাত সাড়ে ১১টার পরে তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। এই মামলায় গ্রেফতারি বা কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পরে হবে। ততদিন পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    শুক্রবারও গিয়েছিল সিআইডি

    শুক্রবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিআইডির একটি দল। তবে সেবারের তদন্ত ছিল অন্য একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সল্টলেক সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামনে আরও একাধিক হাজিরা

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার মধ্যে আগামী কয়েকদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা আরও বাড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ১৫ জুন তাঁকে তলব করেছে।

    কোন মামলায় অভিযান…

    শনিবারের অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শালবনি থানার পুলিশের উপস্থিতি। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার আধিকারিকরা কেন পৌঁছেছিলেন, কোন মামলার সূত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করতে এসেছিল শালবনী থানার পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। সেই সূত্রেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। শালবনির পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি এবং মামলার প্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর— সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে তদন্তকারী সংস্থাগুলি কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

  • Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আইনি বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, ওই সভা থেকে তিনি এমন কিছু ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।

    কী ঘটেছিল ধর্মতলার সভায়?

    এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা মঞ্চে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সভায় দেওয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার সম্ভাবনা ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ঠিক কী বলেছিলেন মমতা?

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য। মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায় না এবং তা সামাজিক বিভাজন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছিলেন, বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশকে প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা দায়ের?

    হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর তিনটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।

    • ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি করা অথবা সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনা দিয়ে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুতর প্রকৃতির এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি জটিলতা বাড়তে পারে।

    তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর হেয়ার স্ট্রিট থানা মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। তদন্তকারী আধিকারিক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং সভার বক্তব্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনের সভার ভিডিও রেকর্ডিং, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলির সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এফআইআর প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। একইসঙ্গে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ জুন রাজ্যে (Paschimbanga Diwas 20 June) আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে যোগদান করবেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগত গৌরবকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের জন্য নবান্নের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং শিক্ষা দফতরের যৌথ সমন্বয়ে প্রস্তুত এই নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ গঠনমূলক ইতিহাস চেতনা জাগ্রত করা এবং রাজ্যের নিজস্ব আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করা।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকার মূল রূপরেখা (Paschimbanga Diwas 20 June)

    নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিশেষ দিনে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, সরকার-পোষিত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষ কর্মসূচির (Paschimbanga Diwas 20 June) আয়োজন করতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, উদযাপনটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নিয়মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন হয়ে ওঠে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা। এই লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা সভা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে দিনটির সূচনা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার সমাজ গঠনে এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের যে অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়ে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ শে জুন বঙ্গবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

    শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পরিধি

    রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “২০ জুন (Paschimbanga Diwas 20 June) প্রধানমন্ত্রী আসছেন। যেহেতু তারকেশ্বরের সম্মেলন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাগ নিয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, তাই তারকেশ্বরকে বেছে নিয়ে সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। অত্যন্ত সুচারুভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য, কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হলো, হিন্দু-বাঙালির শেষ হোমল্যান্ড হিসেবে ১৯৪৭-এ কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিয়েশন হয়েছিল—তা নিয়ে আলোচনা হবে।”

    শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বৌদ্ধিক বিকাশকে (Paschimbanga Diwas 20 June) উৎসাহিত করতে এই দিনটিতে নানাবিধ প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করেছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজগুলিতে নিম্নলিখিত কর্মসূচিগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

    • আলোচনা সভা ও সেমিনার: বাংলার ইতিহাসবিদ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের গঠন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী বিবর্তনের ওপর বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন।
    • প্রবন্ধ ও কুইজ প্রতিযোগিতা: রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মনীষীদের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রবন্ধ লিখন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
    • সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী: বাংলার লোকসংস্কৃতি, যেমন— বাউল গান, ছৌ নাচ, এবং রবীন্দ্র-নজরুল- সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের মাটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

    মনীষীদের অবদান স্মরণ ও চেতনার বিকাশ

    নবান্নের আধিকারিকদের (Paschimbanga Diwas 20 June) মতে, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো যুগপুরুষদের জন্মভূমি এই বাংলা। বর্তমান যুগে বিশ্বায়নের আবহে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের এই সমৃদ্ধ শিকড়কে ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    পরিকাঠামো ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি

    এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক (DM) এবং স্কুল পরিদর্শকদের (DI) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো আর্থিক বা পরিকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই দিনটিতে ঠিক কী কী কর্মসূচি রূপায়িত হলো, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আলোকচিত্র পরবর্তী সময়ে শিক্ষা দফতরের নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলের সিংহভাগ। তাঁদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এই ধরণের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম ও রাজ্যপ্রেমের এক সুস্থ সমন্বয় ঘটায়, যা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। নবান্নের এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রগুলিতে এক ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনার (Paschimbanga Diwas 20 June) পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) কেন্দ্রীয় সরকারের গৌরবময় ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মোদিকে ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি রাজ্যের আসন্ন বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষকে এক বড়সড় সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে (PM Modi)

    কলকাতার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশেন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কেবল ভারতের নন, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের দরবারে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান। বিগত ১২ বছর ধরে তিনি দেশের আমূল পরিবর্তন ও প্রতিটি নাগরিকের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং প্রধান জনসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আজ ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তা সফল করবে।”

    রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে

    রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার সুফলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা পশ্চিমবঙ্গ এখন থেকে দেশের অন্য উন্নত রাজ্যগুলির মতোই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বাংলার সার্বিক রূপান্তর ও উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, জল জীবন মিশন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ইতিমধ্যেই রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্যের আসন্ন বাজেটে সর্বস্তরের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী কিছু বড় ঘোষণা আসতে চলেছে। কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের এই বাজেট বাংলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে দিতে এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

  • Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে কার্যভার গ্রহণ করার পরেই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের কোনও সরকারি বা সরকার-পোষিত সাধারণ গ্রন্থাগারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বই আর রাখা হবে না।

    পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয় (Gouri Shankar Ghosh)

    গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট করে মন্ত্রী (Gouri Shankar Ghosh) বলেন, “যে সমস্ত বই থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষণীয় বা গঠনমূলক কিছু লাভ করতে পারবে না, সেগুলি গ্রন্থাগারে রাখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।” উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) লেখা বিখ্যাত ছড়ার বই ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় লেখা শিক্ষার্থীদের কোনও উপকারে আসে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয়, এমন সমস্ত বই দ্রুত গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।”

    পরিবর্তে রাজ্য সরকার গ্রন্থাগারগুলিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দিতে চলেছে। নতুন রূপরেখায় স্থান পাবে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের জীবন ও কর্মভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ বই। এছাড়া বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ের যেসব বই পড়ুয়াদের বৌদ্ধিক বিকাশে সাহায্য করবে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে

    নতুন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর (Gouri Shankar Ghosh) কেবল বই পরিবর্তনের কথাই বলেননি, গ্রন্থাগারগুলির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলিতে তীব্র কর্মী সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ, ই-লাইব্রেরি বা ডিজিটাল পাঠাগার ব্যবস্থার প্রসার এবং স্কুলের পাঠাগারগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, স্কুল স্তরে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত বইয়ের জোগান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তারা বিদ্যালয়মুখী হবে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বই যে আগামী প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক তা মনে করিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী।

  • Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় হেঁটে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলতার (Falta) একজন কুখ্যাত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে এই অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীমহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

    পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ (Jahangir Khan)

    গত শনিবার রাতে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির খান (Falta) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাঙ্গির সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে ধৃতদের পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলেও, জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত হেঁটে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাধারণ হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি। ফলতার (Falta) নেতা গ্রেফতার হতেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

    আইন সবার জন্য সমান

    এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, এইরকম দাগি দুষ্কৃতীকে প্রকাশ্যে এনে ভয় দেখানোর পরিবেশ থেকে জনসাধারণকে মুক্ত করাই একমাত্র কাজ। অন্যদিকে, একজন ব্লক স্তরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত (Jahangir Khan) বা এর পেছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় (Falta) রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে (Abhishek Banerjee) টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদেও সন্তুষ্ট নন সিআইডি-র তদন্তকারীরা। সে কারণেই আগামী ১৪ তারিখ বেলা ১২টার সময় ফের তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে একাধিকবার নোটিস পেয়েও হাজিরা দেননি অভিষেক। হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডি (CID) দফতরে হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সূত্রের খবর, সই জাল-কাণ্ডে বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। একবার চায়ের বিরতি নিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। সিআইডি সূত্রে খবর, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাঝেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিষেক।

    টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

    প্রবেশ করেছিলেন সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ, প্রস্থান প্রায় রাত সাড়ে ১১টা! এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। এরপর সেখান থেকে সোজা সিআইডি সদর দফতর ভবানীভবনে পৌঁছন। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সিআইডি-র একাধিক তলবের পর অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন তিনি। সই জালিয়াতি কাণ্ডে এর আগে তিন তিনবার অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। হাজিরা দেননি অভিষেক। শেষে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ মিলতেই দিল্লি থেকে ফিরে সোজা বাড়ি ঘুরে ভবানীভবনে চলে যান অভিষেক। রাতে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন করলেও কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দিতে চাননি অভিষেক।

    কেন বারবার মেজাজ হারান অভিষেক?

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডি দফতরে প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারপর একসঙ্গে ১০ জন আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে হাজির হন তাঁর সামনে। ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেককে। বৈঠকে না থাকার পরও বিধায়কদের সই কীভাবে চিঠিতে রইল? কে বা কারা সই করেছেন? কেন করেছেন? রেজোলিউশন কপি কোথায়? এ ছাড়াও একাধিক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবেই নাকি অভিষেক বলেছেন, জানি না। সূত্রের খবর, তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে বলেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না তিনি। এ কথা শুনে নাকি মেজাজ হারান অভিষেক। স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে কোনও চিঠি দেওয়ার আগে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন ছিল, এ কথা শুনেও মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট নন সিআইডি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অভিষেক কিছুই জানেন না এটা মানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। আর যদি না-জানেন তাহলে বারবার এত মেজাজ হারান কেন অভিষেক? এই প্রশ্নও উঠছে।

    কী এই সই জাল কাণ্ড?

    বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর, গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।

    কেন ফের তলব অভিষেককে

    সূত্রের খবর, অভিষেকের দেওয়া জবাবে অসন্তুষ্ট সিআইডি-র তদন্তকারীরা। জবাবে অসঙ্গতি থাকাতেই ফের তাঁকে আরও একবার হাজিরা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। যে রেজোলিউশন নিয়ে এত শোরগোল সেই রেজোলিউশনের কপি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও তথ্য অভিষেক তদন্তকারীদের দিতে পারেননি। বারবার তাঁর কাছে এই নির্দিষ্ট বিষয়েই জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি ‘জানি না’, ‘তার পক্ষে বলা সম্ভব নয়’, ‘বলতে পারব না’, এই জাতীয় উত্তর দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই জিজ্ঞাসাবাদে খুশি নিন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই কারণেই রবিবার ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে। রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

    মধ্যরাতেও ছাতার তলায় মুখ ঢাকলেন

    রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ভাবনীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটের রাস্তা ধরেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতার উপস্থিতিতে হয় বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ। বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বের হন অভিষেক। তবে ছাতায় মুখ ঢেকে। তাঁকে দেখতে পাননি কেউ।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

LinkedIn
Share