Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Cash Recovered from School: স্কুলে উদ্ধার ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ও কন্ডোমের প্যাকেট! রাতভর তল্লাশি, আটক ২

    Cash Recovered from School: স্কুলে উদ্ধার ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা ও কন্ডোমের প্যাকেট! রাতভর তল্লাশি, আটক ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার নগদ টাকার সন্ধান (Cash Recovered from School) মিলল স্কুল থেকে। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার একটি বেসরকারি স্কুল থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। বুধবার গভীর রাতে ইংরেজি মাধ্যমের ওই বেসরকারি স্কুলে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে পর্যন্ত চলে তল্লাশি। কিছু দিন আগে কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র সংসদের কার্যালয়ের আলমারি থেকে সুটকেস ভর্তি উই-ধরা টাকা উদ্ধার হয়েছিল। মিলেছিল অস্ত্র এবং গর্ভনিরোধকের প্যাকেটও। এ বার কাঁচরাপাড়ার (Kanchrapara) স্কুলেও মিলল নগদ টাকা এবং কন্ডোমের প্যাকেট।

    টাকা গোনার যন্ত্র এনে তল্লাশি

    বুধবার গভীর রাতে বীজপুর থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাঁচরাপাড়ার ফোরম্যান কলোনি এলাকার হারনেট বিদ্যালয়ে তল্লাশি অভিযান চালায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ এত বেশি ছিল যে তা গোনার জন্য তিনটি টাকা গোনার যন্ত্র নিয়ে আসতে হয়। ভোর পর্যন্ত চলে গণনার কাজ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে টাকা গণনা শেষে নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। তল্লাশির সময় বিদ্যালয়ের সিক রুমের একটি আলমারি থেকে গর্ভনিরোধকের প্যাকেটও উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

    কীভাবে মিলল টাকার হদিশ

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বীজপুরের নতুন বিধায়ক সুদীপ্ত দাস তাঁর বিধানসভা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। সেই কাজের সূত্র ধরেই এই স্কুলের বিষয়ে খবর পান বিধায়কের প্রতিনিধিরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতেই স্কুলে পৌঁছে যান বিধায়ক। খবর দেওয়া হয় থানাতেও। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। নগদ উদ্ধারের পর রাতেই টাকা গোনার যন্ত্র নিয়ে যাওয়া হয় স্কুলে। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং স্কুলে এত বিপুল পরিমাণ নগদ কী ভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, এই টাকা উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে কথাবার্তায় অসঙ্গতি মেলায় স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন ঘোষকে আটক করেছে বীজপুর থানা পুলিশ।

    কালো টাকা লুকনো হত স্কুলে

    টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর থেকে যেমন টাকা পাওয়া গিয়েছিল, সে রকম টাকা। এমন ক্যাশ টাকা স্কুলের মধ্যে আছে মানে… স্কুলে তো বেনিয়মের পর বেনিয়মের অভিযোগ। তার পরে আজকে এই ঘটনা ধরা পড়েছে।” বিধায়ক আরও বলেন, “এই টাকা স্কুলের টাকাও নয়। এটা কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী, পার্থ ভৌমিকের ব্ল্যাক মানি। এখন যা বোঝা যাচ্ছে, এত টাকা তারা ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে এই স্কুলে লুকোত। স্কুলে এত টাকা কোথা থেকে থাকবে!” বিধায়কের দাবি, এই স্কুলের পরিচালন সমিতির প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র পালের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থ ছাত্রভর্তির ফি বাবদ জমা পড়া টাকা। তাঁর বক্তব্য, কয়েক মাস ধরে সেই অর্থ জমা ছিল এবং তা ব্যাঙ্কে পাঠানোর কথা ছিল। তবে অসুস্থদের বিশ্রামকক্ষে গর্ভনিরোধকের প্যাকেট কীভাবে এল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন।

     

     

     

     

     

  • Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে চেতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কলকাতার এক বিজেপি কর্মী এই অভিযোগ দায়ের করে মেয়রের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের ভিত্তি (Firhad Hakim)

    অভিযোগকারী বিজেপি কর্মীর দাবি, একটি ধর্মীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় কলকাতার মেয়র এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারত এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে।

    আইনি পদক্ষেপের দাবি

    অভিযোগকারীর মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।

    বিজেপির অবস্থান

    রাজ্য বিজেপির একাংশের পক্ষ থেকে ববির দাওয়াতে ইসলাম মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বারংবার এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কলকাতার সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী।

    অভিযোগ নেয়নি এই থানা

    যে বিজেপি কর্মী ববির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি বলেন, “তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সন্দেশখালিতে তৃণমূলের একটি সভায় মহিলাদের মাল বলে সম্বোধন করেন। এবং প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন ও ব্যঙ্গাত্মক কথা বলেন। সেই ভিডিয়ো আমাদের কাছে রয়েছে। এই থানাতেই ওইদিন অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু, সেইসময় ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেয়নি এই থানাই। আজ তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলাম। আবার ২০২৪ সালের ৩ জুলাই একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলেছিলেন ফিরহাদ। তখন তিনি পুরমন্ত্রী। সেইসময় এই থানাতে আমরা এসেছিলেন। তখনও অভিযোগ নেয়নি। এদিন অভিযোগ নিয়েছে। ধর্মীয় বিভাজন ও উস্কানিমূলক কথাবার্তার জন্য আমি তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানাই।”

    নবান্ন ও তৃণমূল শিবিরের প্রতিক্রিয়া

    এই অভিযোগ এবং চেতলা থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়া প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মেয়রের (Firhad Hakim) বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টিকে রাজনৈতিক মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের তীব্র ও দমবন্ধ করা গরমের (Weather Update) পর অবশেষে স্বস্তির দেখা মিলল। বুধবার বিকেলে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আকাশ কালো করে ধেয়ে এল কালবৈশাখী ঝড় ও ঝেঁপে বৃষ্টি। বিকেলেই যেন রাতের অন্ধকার নেমে আসে শহর জুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির (Rain Forecast) দাপট বজায় থাকবে, যার ফলে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা কমতে পারে।

    জেলাভিত্তিক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস (Weather Update)

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Weather Update) বুধবারের সতর্কতা অনুসারে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড় উঠেছে। দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলায় আজ কালবৈশাখীর তীব্র সতর্কতা রয়েছে। জেলাগুলো হলো – কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি।

    বৃহস্পতিবারের সতর্কতা

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঝড়-বৃষ্টির (Weather Update) দাপট বাড়বে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। বিশেষ করে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হুগলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁকুড়া ও বর্ধমানের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও (Rain Forecast) হতে পারে।

    রবিবার পর্যন্ত পূর্বাভাস

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি (Rain Forecast)  এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়ার মূল বার্তা

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে বাঁকুড়া ও বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির (Rain Forecast) সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যে বর্ষা আনুষ্ঠানিক ভাবেই ঢুকে গিয়েছে। ফলে সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জলপাইগু়ড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ছাড়াও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে। অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বর্ষা প্রবেশ করে। এ বার কবে দক্ষিণে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢুকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিবিধির দিকে আবহাওয়া দফতর নজর রেখেছে।

  • Swapan Samaddar: ১, ২, ৩… ১০! এবার গ্রেফতার কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার, নাম জড়িয়েছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিজেপি কর্মী খুনের মামলায়

    Swapan Samaddar: ১, ২, ৩… ১০! এবার গ্রেফতার কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার, নাম জড়িয়েছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিজেপি কর্মী খুনের মামলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে (TMC Councillor) গ্রেফতার করল পুলিশ। ২০২১ সালের বহুল চর্চিত বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনা এবং এক মহিলার দায়ের করা সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারকে (Swapan Samaddar) গ্রেফতার করা হয়েছে। ফুলবাগান এলাকার নিজস্ব বাসভবন চত্বর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার ১০ জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হল।

    ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের ভিত্তি (Swapan Samaddar)

    পুলিশ সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ রাতে এক মহিলা নারকেলডাঙা থানায় স্বপন সমাদ্দারের (Swapan Samaddar) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার সকালে পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) রুজু করে দ্রুত অভিযানে নামে। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, হেনস্থা, শ্লীলতাহানি এবং হুমকি বা ভয় দেখানোর মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সিবিআই তদন্তের যোগসূত্র

    ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রাতে পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও গলার তার পেঁচিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

    সিবিআই চার্জশিট

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিবিআই’ (CBI)-এর হাতে যায়। সিবিআই আদালতে যে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তাতে বেলেঘাটার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের পাশাপাশি স্বপন সমাদ্দারের নামও (TMC Councillor) অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।

    কাঁকুড়গাছি এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা

    পূর্ববর্তী সেই আইনি টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন করে এক মহিলার দায়ের করা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে আজ নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে (Swapan Samaddar) নিজেদের হেফাজতে নেয়। কাউন্সিলর (TMC Councillor) গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলেঘাটা, ফুলবাগান এবং কাঁকুড়গাছি এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের ‘প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ’ হিসেবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ (Mangroves) অরণ্য ধ্বংস এবং নদীর চর বেআইনিভাবে ভরাট করে কোটি কোটি টাকার ভূমি কেলেঙ্কারির এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (Canning) থানা এলাকার মাতলা সেতুর সন্নিকটে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সন্ধান মিলেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ (Mangroves)

    স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের (Canning) মাতলা ব্রিজে যাওয়ার পথের ডান দিকে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ (Mangroves) জঙ্গল সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর নদীর চরটি বেআইনিভাবে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে সেখানে একটি বিশাল আবাসিক কলোনি বা জনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

    • নতুন জনবসতি: পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন কলোনিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেতাজি পল্লি’। বর্তমানে এখানে কয়েকশো পরিবার বসবাস করছেন।
    • দলিলের নামে জালিয়াতি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও বৈধ সরকারি নথি বা সরকারি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দলিল ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে ‘প্রান্তিক সঙ্ঘ’ নামের একটি স্থানীয় ক্লাবের লেটারহেড বা প্যাডকে ‘দলিল’ হিসেবে ক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জালিয়াতির শামিল।

    প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও কোটি টাকার লেনদেন

    স্থানীয় (Canning) বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য (Mangroves) ধ্বংস করে নদীর জমি বিক্রি করার নেপথ্যে এলাকার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জড়িত রয়েছেন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ফুসফুস বলে পরিচিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে এভাবে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মানবিকতার দোহাই দিয়ে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসনের আড়ালে মূলত একটি পরিকল্পিত ভূসম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট চক্র চালানো হচ্ছিল।

    বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তর

    ক্যানিং এবং সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে কীভাবে নদীখাত ও ম্যানগ্রোভের (Mangroves) জমি বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র নিয়ে পরিবেশবিদরা এখন ভীষণ ভাবে চিন্তিত। রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আর্থিক দুর্নীতি জনজীবন এখন বিপন্ন হওয়ার মুখে। এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতি এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শাসক দল বিগত সরকারের তৃণমূল নেতাদেরদিকেই আঙুল তুলেছে। তবে তৃণমূলের তরফে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য পরিবেশ দফতর এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

  • Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নেন। এরপর ১ জুন দ্বিতীয় দফায় শপথ গ্রহণ করেন রাজ্যের আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। এই ৩৫ জনের মধ্যে— ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এবার হয়ে গেল তাঁদের দফতর বণ্টন।

    উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিশেষ গুরুত্ব

    নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভায়। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল অঞ্চলকেও উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজ জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও চার জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৭ জন মহিলা মুখ।

    দিল্লিতে বৈঠকের পর চূড়ান্ত দফতর বণ্টন

    দফতর বণ্টনের আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। বুধবার নবান্ন থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রাখলেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের অধীনেই রেখেছেন। তাঁর হাতে থাকা দফতরগুলি হল—

    • ● স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক
    • ● তথ্য ও সংস্কৃতি
    • ● বিদ্যুৎ
    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার
    • ● উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন

    শুভেন্দুর সরকারের নতুন টিমে কোন মন্ত্রী কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন

    পূর্ণ মন্ত্রী

    • ● দীপক বর্মন – স্কুলশিক্ষা এবং আবাসন দফতর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর
    • ● তাপস রায়- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ
    • ● শঙ্কর ঘোষ- পর্যটন, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● মনোজ কুমার ওঁরাও- বন ও পরিবেশ
    • ● অর্জুন সিংহ- পরিবহণ এবং শ্রম
    • ● গৌরী শঙ্কর ঘোষ-গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থ
    • ● শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-স্বাস্থ্য
    • ● কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● অরূপ কুমার দাস- সেচ ও জলপথ
    • ● অজয় কুমার পোদ্দার-পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি
    • ● নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন
    • ● অশোক কীর্তনীয়া- খাদ্য সরবরাহ, সমবায়
    • ● ক্ষুদিরাম টুডু- অনগ্রসর, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● দিলীপ ঘোষ- পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন
    • ● অগ্নিমিত্রা পাল- পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    স্বাধীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

    • ● মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান এবং পরিসংখ্যান দফতর
    • ● রাজেশ মাহাতো- প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও মৎস্য দফতর
    • ● ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতর

    প্রতিমন্ত্রী

    • ● জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ
    • ● হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● আনন্দময় বর্মন- অর্থ
    • ● অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র
    • ● নাদিয়ার চাঁদ বাউরি- পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● বিশাল লামা- মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● শান্তনু প্রামাণিক- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, খাদ্য ও সরবরাহ
    • ● মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি
    • ● উমেশ রাই- নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● পূর্ণিমা চক্রবর্তী- পর্যটন
    • ● কৌশিক চৌধুরী- শিক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা
    • ● ভাস্কর ভট্টাচার্য- শ্রম এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দিবাকর ঘরামি- সমবায়, বন ও পরিবেশ
    • ● অমিয় কিস্কু- কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● কলিতা মাজি- আবাসন
    • ● গার্গী দাস ঘোষ- বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত এবং পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি
    • ● বিরাজ বিশ্বাস- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং আইন ও বিচার
    • ● দীপঙ্কর জানা- সুন্দরবন বিষয়ক
    • ● সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য
  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সইকাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দেয় সিআইডির (CID) একটি দল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়েই অভিযান চালানো হয়। যদিও প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি তদন্তকারীরা। উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগ্‌বিতণ্ডার পর বিকেল চারটের কিছু (TMC Central Office) পরে ভেতরে ঢোকে সিআইডি। তল্লাশি চালায় প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে।জানা গিয়েছে, সিআইডি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল। অভিযোগ, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তেই এই পদক্ষেপ।

    পার্টি অফিসে ঢুকতে বাধা (CID)

    কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী প্রথমে তদন্তকারীদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ে তল্লাশির অনুমতি দিতে পারেন না। সিআইডিকে আরও কয়েকদিন সময় দেওয়ার অনুরোধও জানান শুভাশিস। এদিকে, সিআইডির দাবি, আদালত এবং আইন মেনেই তারা তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে এসেছে। তাদের সঙ্গে যে সংশ্লিষ্ট নোটিশটি ছিল তাও জানায় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত তদন্তকারী দল কার্যালয়ে ঢোকে।

    একাধিকবার হাজিরার নোটিশ

    প্রসঙ্গত, সইকাণ্ডে অভিষেককে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পাঠিয়েছে সিআইডি। ১ জুন হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি অতিরিক্ত সময় চান। পরে ফের সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, উপস্থিত হননি তিনি। সোমবার তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে তৃতীয় নোটিশটি পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তার পরেও তৃণমূলের এই নেতা উপস্থিত না হওয়ায় এদিন (TMC Central Office) পার্টি অফিসে হানা দেয় সিআইডি। এদিন, অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও যায় সিআইডির একটি দল। সেখানেও চালানো হয় তল্লাশি। প্রসঙ্গত, যে বৈঠকে দলীয় বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করছে তৃণমূল, সেটি হয়েছিল কালীঘাটের এই পার্টি অফিসেই। তদন্তকারীরা সে দিনের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তার তথ্য জোগাড়ে জোর দিচ্ছেন।

    তৃণমূল নেতার দাবি

    তল্লাশি শেষে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে শুভাশিসের দাবি, সিআইডি কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর সাফ কথা, তিনি কোনওভাবেই তদন্তে বাধা দেননি (CID)। যাঁর নামে চিঠি এসেছে, তিনি ফিরে এলেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। শুভাশিস বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়েছেন। সার্চ করতে এসেছেন। আমি ওঁর অনুপস্থিতিতে কাউকে ঢুকতে দিতে পারি না। যাঁর চিঠি নিয়ে এসেছেন, তিনি আসুন, ওঁরা ঘরে ঢুকুন, আমরা সাহায্য করব। আমি ভলান্টিয়ারি চার্জে আছি। অফিস দেখছি একজন সাধারণ হিসেবে। আমি কোনও তদন্তে বাধা দিইনি। আমি বাধা দেওয়ার কেউ না। আমি সিআইডির কাছে (TMC Central Office) আবেদন করলাম, দু’দিন পরে আসতে।”

    সইকাণ্ড

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে গিয়ে বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল। বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতক বা উপদলনেতা হবেন— তা ঠিক করতে তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসে বিধায়কদের নিয়ে (CID) বৈঠকে বসেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক। অভিযোগ, তিনি তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ তুলে প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। পরে তৃণমূল দু’জনকেই দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা

    সইকাণ্ডে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঋতব্রত এবং সন্দীপনের অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরেই এফআইআরে দায়ের করে তদন্ত শুরু পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে সিআইডি। তৈরি (TMC Central Office) হয়েছে সিট-ও। তদন্তের সূত্রে একাধিকবার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে সিআইডি। পাঠানো হয় নোটিশও। তার পরেও তিনি হাজির না হওয়ায় এদিন চালানো হয় তল্লাশি (CID)।

     

  • Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার। ধাম শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) সনাতনী সংস্কৃতি মেনেই পুজো হবে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার আঘাত করেছে ওড়িশাবাসী ও জগন্নাথদেবের ভক্তদের। এই মর্মে একটি চিঠি নিয়ে এ দিন ওড়িশার প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। সেই চিঠি হাতে নিয়েই এমন মন্তব্য করেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, এবার থেকে দিঘার এই মন্দিরের নাম হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।  নিয়ম মেনে মন্দিরে প্রতিদিনের পুজো, আরতি ও ভজন-কীর্তন সব আগের মতোই চলবে বলেও জানান তিনি।

    ওড়িশার আপত্তি (Digha Jagannath Temple)

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ২০২৫ সালে ঘটা করে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাট করেছিলেন তৎকালীন রাজ্য সরকারের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দির না বলে সেটিকে উল্লেখ করা হয় ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে। এরপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। নাম নিয়ে আপত্তি তোলে ওড়িশার রাজনৈতিক মহল এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতরা। তাঁদের দাবি ছিল, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী ‘জগন্নাথ ধাম’ অভিধাটি একমাত্র প্রযোজ্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রেই। এই ইস্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত অনুরোধপত্রটি এদিন শুভেন্দুর (Digha Jagannath Temple) হাতে তুলে দেন পুরীর সাংসদ।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এরপর মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্য সরকার দিঘার মন্দিরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো ঘোষণাও করা হয়। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সম্বিত এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সরকার অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাম বদল হলেও মন্দিরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মিত পুজোয় কোনও বদল হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধাম শব্দটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাই সরানো হয়েছে। দিঘার মন্দির শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটাই হিডকোর টেন্ডারে রয়েছে। স্থাপত্যটি মন্দির নামেই পরিচিত হবে। সনাতন সংস্কৃতির রীতি নীতি মেনেই দিঘার মন্দিরে পুজোও হবে (Suvendu Adhikari)।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওড়িশা সরকারের দীর্ঘদিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Digha Jagannath Temple)।

     

  • Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) আমরাই বাস্তবায়ন করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ফের সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আমরা সামগ্রিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন রাজ্যের থানাগুলি কার্যত পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল, আর পঞ্চায়েত অফিসগুলি হয়ে উঠেছিল কাটমানি সংগ্রহের কেন্দ্র। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন চলবে, শাসকের আইন নয়।” তিনি জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে ৩৩ জন বিজেপি বিধায়ক, ২ জন বিরোধী দলের বিধায়ক এবং মেদিনীপুর জেলার চার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক কথা বলেছেন ঘাটালের সাংসদ দেব। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবার আমরাই রূপায়ণ করব।” মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, ‘‘একজন বিরোধী সাংসদ তো আজ বলেই ফেললেন যে, ‘আপনি আমাদের মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।’ বিরোধীদের যাঁরাই আজকে ছিলেন, তাঁরা সবাই স্রেফ উন্নয়নের কথাই বলেছেন।’’

    বিদ্রোহ চারিদিকে…

    এদিনের বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। উপস্থিত হয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের তৃণমূল সাংসদ -অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও কেশপুরের বিধায়িকা শিউলি সাহা। তবে, রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজনীতির কারবারিদের। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। পদ্মময় বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি, যে সরকারের চালকের আসনে রয়েছেন গৈরিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাসফুল পার্টি মুখ থুবড়ে পড়তেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলে। এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছেন ঘাসফুল প্রতীকে। উল্লেখ্য, বাম পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলের। দ্রুত হয়ে ওঠেন মমতার স্নেহভাজন। দলের পাশাপাশি স্বয়ং দলনেত্রী গাড্ডায় পড়তেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ার মূল কারিগর মমতার দলের বিধায়করা। বিধায়কদের সিংহভাগই ঋতব্রতর শিবিরে। রাজ্যের পাশাপাশি তৃণমূলের এই বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে দিল্লিতেও। সেখানেও জোট বাঁধার সলতে পাকাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রীর হাতে গড়া দলের টিকিটে জয়ী হওয়া সাংসদদের সিংহভাগ। জল্পনা, এই শিবিরেই রয়েছেন দেব। তাঁর গায়ে সেঁটে গিয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তকমা। এহেন ‘বিদ্রোহী’ই এদিন হাজির ছিলেন কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আবহে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

    কী বললেন দেব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং (Ghatal MP) মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মিলছে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত (Suvendu Adhikari)। এদিকে, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘাটালের সাংসদ তৃণমূলের দেব জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে কাজ শেষ হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই মর্মে তাঁকে কথাও দিয়েছেন। দেব বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মাটি কাটা শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কাজটা শুরু হয়েছিল। আমার কোথাও যেন বিশ্বাস, সেই কাজটা শেষ হবে আমাদের এখনকার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর হাত ধরে। উনি আমায় কথা দিয়েছেন। সাংসদের থেকে বড় কথা, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্ট বন্যা। সেই বন্যার সবচেয়ে বড় সমাধান ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ সালে আমি যখন দাঁড়াব না, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল (Suvendu Adhikari)।” তিনি বলেন, “এবারে ম্যানডেটটা একদম অন্য রকম এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন (Ghatal MP)। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। আজ প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি এবং উনি সকলের সামনে বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এই সরকার শেষ করবে, যা শুরু হয়েছিল আগের সরকারের হাত ধরে।”

    ‘সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি’

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তৃণমূলের এই সাংসদ বলেন, ‘‘আমায় তোমরা সাংসদ হিসেবে দেখছ ২০১৪ সাল থেকে। আমি সারা জীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আজ তো নতুন নয়! আজ লোকে যদি বলে দেব পাল্টে গিয়েছে! দেব পাল্টায়নি। দেব সব সময় একটাই রাজনীতি করেছে, মানুষকে এক রাখার রাজনীতি, মানুষকে ভালোবাসা দেওয়ার রাজনীতি করেছে এবং যিনিই হোন না কেন, যে দলেরই হোন না কেন, আমি সব সময় সম্মান দিয়েছি। আজ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে কাউকে আক্রমণ, অপমান করিনি। আমি ভালোবাসার রাজনীতি করে এসেছি। সেই রাজনীতিই আজও করছি। নতুন কিছু নয়। আমায় যখন একজন জয় শ্রীরাম বলেছিল, আমি তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলাম। এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে দলের নাম খারাপ হয়। আমায় ভোট দিয়ে কারও মনে হয়েছে, ভুল লোককে ভোট দিয়েছি, এমন কাজ করিনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমায় (Ghatal MP) যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের হকের জন্য লড়াই করছি। আজ একটাই প্রতিশ্রুতি নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। শুভেন্দুদা (মুখ্যমন্ত্রী) বলেওছেন, এবারের বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হবে (Suvendu Adhikari)।’’

     

LinkedIn
Share