Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari Government) নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘জনকল্যাণ শিবির’ (Janakalyan Shibir)। নাগরিক পরিধি আরও সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজ্যবাসী এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট শিবিরের আওতাতেই সরকারের বিভিন্ন দফতরের মোট ৫৪টি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা ও সেবার জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।

    উদ্যোগের নেপথ্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (Suvendu Adhikari Government)

    প্রশাসনিক (Suvendu Adhikari Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে যাতে সরকারি প্রকল্পের সুফল পেতে বা যেকোনও শংসাপত্রের আবেদনের জন্য ব্লক কার্যালয় কিংবা জেলা সদরের বিভিন্ন দফতরে দফায় দফায় দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই ঝক্কি কমাতেই এই সমন্বিত শিবিরের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলকভাবে সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল অভিমুখ।

    যেসব প্রধান পরিষেবা মিলবে এই শিবিরে

    এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগে (Suvendu Adhikari Government) রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষি সংক্রান্ত ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাইকরণ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র হলো:

    • সামাজিক ভাতা ও নিরাপত্তা: বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য সুরক্ষামূলক আর্থিক সহায়তা।
    • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: কৃষকদের জন্য ক্রেডিট কার্ড, ফসল বিমা এবং বিভিন্ন সরকারি কৃষি অনুদান সংক্রান্ত পরিষেবা।
    • শিক্ষা ও যুব প্রগতি: ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি (স্কলারশিপ), স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোন সংক্রান্ত আবেদনের সুবিধা।
    • নাগরিক শংসাপত্র ও সংশোধন: জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) প্রদান এবং আধার বা ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের (Janakalyan Shibir) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও তদারকি

    ‘জনকল্যাণ শিবির’ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ সফল ও জনবান্ধব করে তুলতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে (Suvendu Adhikari Government) বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দফতরের জন্য পৃথক কাউন্টার এবং অনুসন্ধান কেন্দ্রের (Help Desk) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, আবেদনপত্র জমা পড়ার পর তা যেন লাল ফিতের ফাঁসে আটকে না থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা পান (Janakalyan Shibir), তা নিশ্চিত করতে রাজ্য স্তর থেকে একটি বিশেষ নজরদারি দল (Monitoring Cell) কাজ করছে। সোমবার প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই শিবিরগুলোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

    জনকল্যাণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ও রূপরেখা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে যাতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার জন্য ব্লক দফতর বা জেলা সদরের একাধিক কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই সমন্বিত শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) প্রদান নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    আবেদনযোগ্য প্রধান প্রকল্পসমূহ

    এই বিশেষ শিবিরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত ৫৪টি প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। শিবির থেকে মোট ৫৪টি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন দেখে নিন—

    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্টান্স প্রোগ্রাম
    • ● সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
    • ● বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও
    • ● পিএম কিসান সম্মান নিধি
    • ● কিসান ক্রেডিট কার্ড
    • ● মাটির স্বাস্থ্য কার্ড
    • ● কৃষি পরিকাঠামো তহবিল
    • ● ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড
    • ● আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিং
    • ● সিএএ আবেদন
    • ● জমির রেকর্ড মিউটেশন
    • ● জমির রেকর্ডে ছোট সংশোধন
    • ● পাট্টার আবেদন
    • ● পিএম সূর্যঘর যোজনা
    • ● পিএম স্বনীধি যোজনা
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● পিএম উজ্জ্বলা যোজনা,
    • ● পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রস্তুতি

    জনকল্যাণ শিবিরগুলোকে নির্বিঘ্ন ও সফল করতে জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দপ্তরের জন্য আলাদা কাউন্টার বা হেল্পডেস্কের ব্যবস্থা থাকছে, যাতে প্রবীণ নাগরিক ও গ্রামীণ মানুষ সহজে তাঁদের প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে পারেন। প্রতিটি আবেদনের অগ্রগতি যাতে কড়া নজরদারিতে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পান, তার জন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে। আজ প্রথম দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছ।।

  • Suvendu Adhikari: ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট শেষে নয়া বোর্ড কলকাতা পুরসভায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট শেষে নয়া বোর্ড কলকাতা পুরসভায়, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভা স্বচ্ছতা কর্মসূচির অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হয়ে যাবে এবং ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্বাচিত পুরবোর্ড গঠন করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণায় এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, ডিসেম্বরের শুরুতেই হয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায় জল্পনার অবসান (Suvendu Adhikari) 

    রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়ার পরেই তাদের দখলে থাকা কলকাতা পুরসভায়ও ভাঙন ধরে। মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর পদত্যাগের পরেই পুরবোর্ড বাতিল করে দেয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রশাসক হিসেবে। নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে পুরসভার যাবতীয় কাজকর্ম। যদিও পুরসভার নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোট করে নয়া বোর্ড গড়া হবে।

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর ডামাডোল

    কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে। করোনা অতিমারীর কারণে নির্বাচন হয়নি। ভোট হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টিতে জিতে বোর্ড গড়ে তৃণমূল। ওই নির্বাচনে বিরোধীরা ব্যাপক কারচুপি, ছাপ্পা ভোট ও রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে ক্ষমতা হারায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই শুরু হয়ে যায় পদত্যাগের হিড়িক, যার আঁচ লাগে কলকাতা পুরবোর্ডেও। ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগের পর পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর নতুন মেয়রের নাম জানতে চেয়ে নোটিশ জারি করলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও নাম জানানো হয়নি তৃণমূলের তরফে। এরপরেই রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেয় স্মিতার হাতে।

    শুভেন্দুর অনুষ্ঠানে হাজির কাজরী-ফিরহাদ

    এদিকে, এদিন পুরসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (Kajari Banerjee)। ছিলেন তৃণমূলেরই জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক কাউন্সিলর। উপস্থিত ছিলেন সদ্য-প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। জুঁই বলেন, “আমি ২০১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কর্পোরেশনের কাউন্সিলর। আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশনে আসেননি। এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন। এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় পদক্ষেপ। আশাকরি, সব কাউন্সিলরই সহযোগিতা করবেন।” কাজরী বলেন, “অন্য দল বলে উনি (মুখ্যমন্ত্রী) কোনও বিভেদ করেননি। বিরোধীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ডেকেছেন।”

     

  • JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার সফরের সময় বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার (JP Nadda) কনভয়ে হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে পুলিশ। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ফলতার তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। রাস্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। দুই হাতে কান ধরে ছিলেন এবং রাস্তায় উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপ্রক্রিয়া (JP Nadda)

    ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) ফলতার নির্দিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০২০ সালের সেই দিনটিতে (JP Nadda) ঠিক কী ঘটেছিল, কনভয় লক্ষ্য করে কীভাবে এবং কোথা থেকে আক্রমণ চালানো হয়েছিল— তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণচিত্র তৈরি করেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরা ও পুনর্নির্মাণের সময় একসময়ের এই দাপুটে নেতাকে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও বিপর্যস্ত দেখায়। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

    মামলা পুনরুজ্জীবন ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

    দীর্ঘদিন এই মামলার (JP Nadda) তদন্ত থমকে থাকার পর, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনও কারণে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে মূল অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারির পর এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জাহাঙ্গীর খানের (Jahangir Khan) রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়া এবং পরবর্তীকালে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁর গ্রেফতারের পর, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা এই পুরোনো ও স্পর্শকাতর মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং ঘটনার পেছনে থাকা সমস্ত কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজিও কমপ্লেক্সে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রক্ষাকবচ ছাড়াই ইডি দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বলে খবর। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    কেন ইডির তলব অভিষেককে?

    ২০১৭ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতেই একটা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে একাধিক বিস্ফোরক বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তারই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছিল? চার্জশিট সূত্রে খবর, সুজয় বৈঠকে কুন্তল, শান্তনুদের জানিয়েছিলেন, অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এমনকী, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্থ ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে গিয়েছিল। সিবিআই চার্জশিট সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল, তার জন্য ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক। টাকা না পেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকী, জয়েনিং আটকানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

     অভিষেকের আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে?

    ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) ১৫ মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে যে অভিষেকের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রেলযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন কেন্দ্র দিঘা রুটে চালু হতে পারে সেমি-হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ (Vande Bharat Express)। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, “নির্দিষ্ট একটি রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেই দিঘায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পথ সুগম হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে দিঘাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দিঘায় মুম্বই-চেন্নাইয়ের আদলে প্রশস্ত মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।

    প্রশস্ত হচ্ছে দিঘার মেরিন ড্রাইভ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর উপকূলবর্তী সড়কের আদলে দিঘার মেরিন ড্রাইভকেও চওড়া ও আধুনিক করা হবে।” পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মেরিন ড্রাইভের নামে অতীতে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পর্যটকদের সুবিধার্থে সেই রাস্তাকে ন্যূনতম দুই লেনে (২-লেন) উন্নীত করা হবে।”

    মুক্ত হচ্ছে পর্যটন কর, ১ জুলাই থেকে স্বস্তি

    দিঘায় আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের আর মাথাপিছু ১০ টাকা করে ‘চাঁদা’ বা কর দিতে হবে না। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে পর্যটকপিছু এই টাকা নেওয়া হতো, যা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নন্দকুমার-দিঘা জোড়া রেললাইন ও জমি অধিগ্রহণ

    জেলা শাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত রেললাইনকে দ্বিমুখী (Vande Bharat Express) করার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। ইতিপূর্বেও রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা শাসকের এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।”

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রায় সমস্ত প্রধান উপকূলবর্তী শহরই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু পূর্বতন প্রশাসনের নেতিবাচক মনোভাব ও জমি প্রদানে অনীহার কারণে দিঘা এই আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই জট কাটাতে তৎপর। নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭৪ একর জমি রেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি মাত্র ৬ একর জমির প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    রানাঘাট রুট নিয়েও আশার আলো

    দিঘার পাশাপাশি নদিয়া জেলার রানাঘাট স্টেশন হয়েও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রানাঘাটের উত্তর-পশ্চিমের বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর শাখার তৃতীয় লাইনের কাজ সম্পন্ন হলেই এই রুট দিয়েও ছুটতে পারে প্রিমিয়াম সেমি-হাইস্পিড ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই রেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনই সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

    দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগের সরকারকে তোপ

    একই ভাবে দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে কার্যকর হতে দেখতে পারবেন। ডিপার্টমেন্টগুলি খতিয়ে দেখে বোঝা গিয়েছে, অন্তত অত দুই বছর আগের সরকার এখানে কোনও কাজ করেনি।”

    হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যূনতম কোনও পরিষেবা নেই। একটাও আইসিইউ বেড নেই, একটাই অ্যাম্বুলেন্স। ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেই। ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক বা অর্থোপেডিক নেই। বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, গোটা সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। তাঁদের অর্থবৃদ্ধি করার কথা বলেছি।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর

    এদিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সম্মানে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামক এই কর্মসূচিটি ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। আজ, সোমবার দুপুর ৩টেয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় (ছোট লালবাড়ি) যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

    পুরসভার প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও যোগ দিবসের আহ্বান

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর বর্তমানে পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরের সময় পুর প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর কোনও বিশেষ বৈঠক হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

    আগামী ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় মূল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এই যোগ-যজ্ঞে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে শামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে আমূলের ৭০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প! রবিবার কারখানার শিলান্যাস, আসতে পারেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে রাজ্যে শিল্পায়নের খরা! বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরি হতেই হইহই করে শুরু হয়ে গেল শিল্পায়নের কাজ। পশ্চিমবঙ্গে দুগ্ধ শিল্পের হতশ্রী দশা ঘোচাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করল দেশের শীর্ষস্থানীয় দুগ্ধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)। রাজ্যের শিল্প ও কৃষি অর্থনীতিতে বড়সড় গতি আনতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৭৪.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ে (700-cr Dairy Plant) একটি অত্যাধুনিক ডেয়ারি প্ল্যান্ট তৈরি করতে চলেছে তারা। ১৪ জুন, রবিবার এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। তিনিই এই প্রকল্পের সূচনা করবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। প্রথমে বাম জমানা এবং পরে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের রাজত্বে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যে দেখা দেয় শিল্পের খরা। বঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার আসতেই কাটতে চলেছে হা-শিল্প দশা। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সূচনা বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    শিল্পের নয়া গন্তব্য হাওড়া (Amul)

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF), যারা ‘আমূল’ (Amul) ব্র্যান্ডের পরিচালক, তারা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় এই বিশাল প্ল্যান্টটি গড়ে তোলা হবে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হাওড়াকেই এই বিনিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি কারখানা নয়, বরং এটি পূর্ব ভারতের দুগ্ধ বিপণন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র (Hub) হিসেবে কাজ করবে।

    উৎপাদন ক্ষমতায় বড় চমক

    আমূল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন প্ল্যান্টটি যখন পূর্ণ মাত্রায় কাজ শুরু করবে, তখন এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে ঈর্ষণীয়। ‘আমূল’ (Amul) জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণ করার ক্ষমতা থাকবে এই কেন্দ্রে। তবে শুধু তরল দুধ নয়, বাঙালির খাদ্যতালিকায় দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখানে প্রতিদিন ১০ লাখ কেজি দই, মিষ্টি দই, ইয়োগার্ট, লস্যি এবং ঘোল বাটারমিল্ক (700-cr Dairy Plant) উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণের এই বিশাল পরিকাঠামো রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে টাটকা ও উন্নতমানের দুগ্ধজাত পণ্য পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

    কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব

    এই ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ (700-cr Dairy Plant) পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন রাজ্যের হাজার হাজার দুগ্ধ খামারি ও পশুপালক। ‘আমূল’ (Amul)-এর সমবায় মডেল অনুযায়ী, স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করা হবে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়বে এবং পশুপালকরা তাঁদের পণ্যের ন্যায্য ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতভাবে পাবেন।

    প্রযুক্তির মেলবন্ধন ও ‘সরলাবেন’

    ‘আমূল’ (Amul) কেবল ইঁট-পাথরের কারখানা তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দুগ্ধ চাষের আধুনিকীকরণে তারা নিয়ে আসছে এআই (AI) প্রযুক্তি। দুগ্ধ খামারিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে তারা ‘সরলাবেন’ (Sarlaben) নামক একটি এআই-চালিত ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবা চালু করতে চলেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশুপালকরা পশুর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং দুধের গুণমান (700-cr Dairy Plant) বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যার সমাধান নিমেষের মধ্যে ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন।

    পূর্ব ভারতে আমূলের মাস্টারপ্ল্যান

    গত কয়েক বছর ধরেই ‘আমূল’ (Amul) উত্তর ও পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। পশ্চিমবঙ্গের এই ৭০০ কোটি টাকার (700-cr Dairy Plant) প্রকল্প সেই পরিকল্পনারই অংশ। এর মাধ্যমে তারা বিহার, ওডিশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে তাদের সাপ্লাই চেন আরও মজবুত করতে পারবে।

    শিল্পায়নের পথে বড় মাইলফলক

    সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের পথে এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে। একদিকে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যদিকে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই দুইয়ের মিশেলে আমূল রাজ্যে এক নতুন দুগ্ধ বিপ্লবের ডাক দিয়েছে। রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জন হতেই একের পর এক বিনিয়োগ আসছে বলে মনে করছে বিজেপির একটা বড় অংশ। সিঙ্গুর থেকে টাটা বিতাড়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে শিল্পায়নের কফিনে পোঁতা হয়ে গিয়েছিল শেষ পেরেকটি। তৃণমূলের আমলে বছর বছর ঘটা করে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মলেন হলেও, তার ছাপ বিশেষ পড়েনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বঙ্গে শিল্প এবং কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যাপক আলো দেখিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। টাটাকে বাংলায় এনে ফের কারখানা গড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে পদ্ম সরকার।

  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

LinkedIn
Share