Cancer: খাদ্যাভ্যাসের বদল কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি? কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা? 

Cancer_(1)

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

বিশ্ব জুড়ে দুশ্চিন্তার কারণ ক্যান্সার। উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও অবহেলা, দেরিতে চিকিৎসা শুরু করা ইত্যাদির জেরে ক্যান্সার বিপদ বাড়ায়! তবে, আধুনিক জীবনযাপন ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাই ক্যান্সার রুখতে তাঁরা খাবারের উপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা? 

ক্যান্সার নিয়ে গবেষণাকারী এক আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্প্রতি এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হচ্ছে, ভারত সহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মোট মৃত্যুহারের বড় অংশের কারণ ক্যান্সার। গলা, মুখ, ফুসফুস, অন্ত্র সহ দেহের একাধিক জায়গায় ক্যান্সারের অন্যতম কারণ খাদ্যাভ্যাস। কারণ, কী খাবার খাওয়া হচ্ছে, কত পরিমাণে তা শরীরে যাচ্ছে, এসবের জন্য নানান শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।

কোন ধরনের খাবার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে? 

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যে কোনও ধরনের প্রিজারভেটিভ ফুড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন পিৎজা, বার্গার, হটডগ জাতীয় খাবার একেবারেই অস্বাস্থ্যকর বলে জানাচ্ছেন ক্যান্সার গবেষকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের প্রিজারভেটিভ খাবারে মাংস বা মাছের যে পুর দেওয়া হয়, সেখানে যে রাসায়নিক মেশানো হয়, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
এছাড়া অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, বিরিয়ানি, মোগলাই বা চাউমিন জাতীয় ফাস্ট ফুড নিয়মিত খেলে, সেটাও শরীরে নানা রোগের কারণ হয়। কারণ, এই ধরনের খাবারে শরীরে স্থূলতা বাড়ে। তাছাড়া, কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়ায়! তাই এই ধরনের খাবার ঝুঁকি বাড়ায়।

কোন দশ খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে? 

ওই আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, নিয়মিত কিছু খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ক্যান্সার হলে এই খাবার খেলেই সুস্থ হয়ে ওঠা যাবে, এ ধারণা ভুল। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে, যার পুষ্টিগুণ ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। 
নিয়মিত কিসমিস কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিসমিসে যে ধরনের মিনারেল থাকে, তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষত তাঁরা শিশুদের নিয়মিত অন্তত পাঁচটি কিসমিস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাতে শিশুদের হজম ক্ষমতা বাড়বে ও অন্ত্র সুস্থ থাকবে বলেই তাঁরা জানাচ্ছেন। 
সব্জি বিশেষত পালং শাক নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাকে থাকে পর্যাপ্ত ভিটামিন। তাই এই ভিটামিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখা আপেল ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ সাহায্য করে বলেও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। 
যে কোনও রান্নায় রসুন ও হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ওই গবেষণায় বলা হচ্ছে, এই দুই মশলা শরীরে একাধিক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষত, হলুদে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান। তাই হলুদ বিশেষ উপকারী। 
যে কোনো ধরনের লেবু যেমন পাতিলেবু, কমলালেবু নিয়মিত একটা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম যা ত্বক ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই নিয়মিত লেবু খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। 
রান্নায় নারকেল তেলের ব্যবহার ক্যান্সার রুখতে সাহায্য করে বলে জানাচ্ছে ওই গবেষণা। তবে, তেল খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, নারকেল তেলের বেশি ব্যবহার আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া অলিভ অয়েলের ব্যবহার শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে বলেও ওই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 
ভুট্টা (কর্ন) বা ওটস জাতীয় দানাশস্য ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে শরীরের ওজন বাড়ে না। আবার প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট শরীর পায়। তাই এই ধরনের দানাশস্য খুব উপকারী।

 

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share