Handloom Sarees: পুজোর মুখেও ওঁরা বিষণ্ণ, করুণ অবস্থা বেগমপুরের তাঁত শিল্পীদের

Handloom_Sarees

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই শারদোৎসব। কাশফুলের সমাহার ইতিউতি জানান দিচ্ছে, আর বেশি দিন নেই। কয়েক সপ্তাহ পরেই বাংলার মানুষ মেতে উঠবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে। খুশিতে ভরে উঠবে কচিকাঁচা থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা। নতুন নতুন জামাকাপড় পরে প্রতিমা দর্শনের অনাবিল আনন্দ। এটা গেল একটা দিক। এবার একটু অন্য দিকে খোঁজ নেওয়া যাক। নতুন নতুন পোশাক যাঁরা তৈরি করছেন, তাঁদের সবাই ভালো আছেন তো? বাংলার নারীর কাছে শাড়িই (Handloom Sarees) হচ্ছে একমাত্র পোশাক, যার প্রতি তাঁরা আজীবন দুর্বল। আর এই শাড়ির মধ্যে তাঁত একটি উজ্জ্বল নাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাজার বছরের পুরনো তাঁত শিল্প প্রায় উঠতে বসেছে। এই রাজ্যে নদিয়া ও  হুগলি জেলার তাঁত প্রায় জগৎবিখ্যাত ছিল এক সময়। বিশেষত হুগলির ধনিয়াখালি, আঁটপুর ও বেগমপুরের তাঁতের আলাদা কদর ছিল শাড়িপ্রেমীদের কাছে। কিন্তু এই আধুনিকতার যুগে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যশালী তাঁত শিল্প। কেমন আছেন সেই সব তাঁত শিল্পীরা? যাদের এক সময় ইংরেজরাও দমাতে পারেনি ম্যাঞ্চেস্টারকে তুলতে গিয়ে।

করুণ অবস্থা শিল্পীদের

হুগলি জেলার প্রাচীন জনপদ বেগমপুর। শ্রীরামপুর মহকুমার চণ্ডীতলা থানার অধীনে এই প্রাচীন জায়গা তাঁত শিল্পের জন্য এক সময় সুবিখ্যাত ছিল। বিশেষ করে হালকা এবং উজ্জ্বল বলে এই বেগমপুরি তাঁতের (Handloom Sarees) বরাবরই একটা কদর রয়েছে। কিন্তু আগামী দিনে আদৌ এই বেগমপুরি শাড়ি থাকবে কিনা, তা নিয়ে একটা প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বেগমপুরের তাঁতিপাড়ায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে যেতেই উঠে এল শিল্পীদের করুণ অবস্থা। সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু তাঁদের মুখে হাসি নেই। অধিকাংশ শিল্পী প্রবীণ। তাঁদের উত্তরসূরি কেউ আর তাঁত বোনে না। কারণ তাতে করে পেট ভরে না। তাই তাঁরা পার্শ্ববর্তী ডানকুনি শিল্পাঞ্চলে কলকারখানায় কাজ জোটাতে ব্যস্ত।

বাস্তব অভিজ্ঞতা বড়ই করুণ

আর করবেই বা কেন? বাস্তব অভিজ্ঞতা যে বড়ই করুণ। মহাজন কাঁচামাল দিয়ে যায়, বৃদ্ধ তাঁতি তাঁর সহধর্মিণীকে পাশে রেখে তাঁত বুনে যান। একটি ১২ হাত শাড়ি (Handloom Sarees) তৈরি করতে লাগে ২ দিন। মজুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। শেয়ার বাজারের মতো রেট ওঠানামা করে। দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে দৈনিক রোজগার ৮০ কি ৯০। এতে কি সংসার চলে? কিন্তু কে দেখবে? কে করবে এর সমাধান? শিল্পীদের একটাই দাবি, মজুরি বৃদ্ধি। কিন্তু সে তো অরণ্যে রোদন। এক সময় যে এলাকায় ৩৫ হাজার তাঁত চলত, রাস্তার দু’দিকের বাড়ি থেকে ভেসে আসা সুমধুর খটাখট আওয়াজে চারদিক গমগম করত, এখন মেরেকেটে ৫০০ তাঁত চলে কিনা সন্দেহ। তবুও ঘষে যাওয়া চশমা মুছে, তাঁরা বুনে চলেছেন, খটাখট খটাখট..।

কী বললেন প্রবীণ শিল্পী?

এখানকারই এক প্রবীণ শিল্পী বলছিলেন, শাড়ির বাজার খুবই খারাপ। সুতোর দাম বেড়ে গিয়ে কাপড়ের দাম বেড়েছে। কিন্তু লক ডাউনের আগে মজুরি যা পেয়েছি, এখন তা আরও কমে গেছে।  যে কাপড়টা ২৩০ টাকা মজুরি পেয়েছি, সেটা আজকে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা মজুরি। একটা কাপড় বুনতে ২ দিন করে সময় লাগে। সপ্তাহে ৪ টের বেশি বোনাই যায় না। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। যারা একটু বেশি বোনে, তারাও ৫ টার বেশি পারে না। তাঁর আক্ষেপ, এখন আর নতুন করে কেউ তাঁত বোনে না। সব কারখানায় কাজ করতে চলে যাচ্ছে। তাঁত চালাতে পারছে না বলেই দলে দলে ডানকুনি বা দুর্গাপুর রোডে কাজে চলে যাচ্ছে। তাঁত শিল্প কি উঠে যাবে? ওই প্রবীণের সাফ জবাব, উঠে যাবে মানে? উঠে তো গেছে। 

অকাল বিশ্বকর্মা

এখানে তাঁতিদের (Handloom Sarees) এতই কর্মব্যস্ততা ছিল যে কারিগরি দেবতা বিশ্বকর্মা পুজোও তাঁরা পিছিয়ে শীতকালে করতেন। কারণ দুর্গাপুজোর ঠিক এক মাস আগে বিশ্বকর্মা পুজো তাঁরা ঠিকমতো করতে পারতেন না। তাই দুর্গাপুজোর পর বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতেন। সেই থেকে এই বেগমপুর এলাকায় অকাল বিশ্বকর্মা পুজো হয়ে থাকে, যা এই বাংলায় কোথাও হয় না। সেই হুগলির ম্যাঞ্চেস্টারের সুদিন কি আবার কোনও দিন ফিরে আসবে কোনও সোনার কাঠির ছোঁয়ায়? সময় এর উত্তর দেবে।

 

দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ। 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share