Mental Disorder: কীভাবে বুঝবেন সন্তান অবসাদগ্রস্ত, কীভাবে রুখবেন আত্মহত্যার প্রবণতা?

Mental_Disorder

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

স্কুলের পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে মাত্র দুদিন! আর তার মধ্যেই আত্মহত্যা করেছে ন’জন পড়ুয়া। অন্ধ্রপ্রদেশের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৯ পড়ুয়ার আত্মহত্যার এই ঘটনায় চিন্তিত গোটা দেশ। তবে, অন্ধপ্রদেশের এই ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। শুধু স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেই নয়, আইআইটি এবং মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যেও বাড়ছে মানসিক অবসাদ (Mental Disorder) ও আত্মহত্যার প্রবণতা! 

কী বলছে তথ্য? 

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, এক বছরে গোটা দেশের সবকটি আইআইটি প্রতিষ্ঠানে ৩৩ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের তথ্যও চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, প্রতি বছর গড়ে ৩৫০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া আত্মহত্যা করছেন। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৩,০৮৯ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর এই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। আত্মহত্যার এই পরিসংখ্যানে ৪৩ শতাংশ ছাত্রী এবং ৫৬ শতাংশ ছাত্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ৮১ শতাংশ পড়ুয়া মানসিক অবসাদের (Mental Disorder) শিকার। তাদের বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা, বিষাদ এবং নানান অবসাদ গ্রাস করে। 

কী বলছে বিশেষজ্ঞ মহল? 

বিশেষজ্ঞ মহল জানাচ্ছে, আত্মহত্যা মানসিক অবসাদের (Mental Disorder) এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কিন্তু যাঁরা আত্মহত্যা করছেন না, তাঁরা যে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন, এমন ভাবা যায় না। মানসিক অবসাদ পড়ুয়াদের মধ্যে মারাত্মকভাবে বাড়ছে। তার ভয়ানক বহিঃপ্রকাশ হল আত্মহত্যা।

কীভাবে বুঝবেন সন্তান মানসিক অবসাদগ্রস্ত? 

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সন্তানের জীবনযাপনের ধরনের মারাত্মক পরিবর্তন লক্ষ্য করলেই সতর্ক হোন অভিভাবক। যেমন, ঘুমের অভ্যাসে যদি অতিরিক্ত পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে সন্তান মানসিকভাবে অস্থির আছে। যেমন দিনে অতিরিক্ত ঘুমানো কিংবা সারারাত জেগে থাকার মতো ঘটনা ঘটলে সজাগ হতে হবে।খাদ্যাভ্যাসের বদল হলে সতর্কতা জরুরি। অবসাদগ্রস্ত মানুষ অনেক সময়ই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খান। তাই খাবারের পরিমাণে যদি হঠাৎ মারাত্মক পরিবর্তন হয়, তাহলেও সতর্ক হওয়া জরুরি। যদি অতিরিক্ত রাগ বা দুঃখের বহিঃপ্রকাশ হয়, তাহলেও বুঝতে হবে কোনও সমস্যা (Mental Disorder) হচ্ছে। হঠাৎ আবেগতাড়িত হয়ে পড়া, কিংবা সামান্য বিষয়ে নিরাশ হয়ে পড়লে, অভিভাবকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। 

কীভাবে মোকাবিলা করবেন? 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত সন্তানের সঙ্গে কথা বলা জরুরি। কোনও ভাবেই তাদের একা থাকতে দেওয়া যাবে না। তাদের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে হবে। তারা কোনও সমস্যাতেই একা নয়, অভিভাবক তাদের পাশে আছে, এই আশ্বাস তাদের দিতে হবে। তবেই তাদের নিরাপত্তাহীনতা কাটবে। যা মানসিক অবসাদ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা জটিল মনে হলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। কোনও রকম দেরি হলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। মানসিক অবসাদগ্রস্ত (Mental Disorder) হলে তাকে আরও বেশি নানান কাজের মধ্যে যুক্ত রাখতে হবে। যাতে তার শরীর ও মন সক্রিয় থাকে। সে ইতিবাচক ভাবনার সঙ্গে যুক্ত থাকে। গান, ছবি আকার মতো সৃজনশীল কাজে সময় কাটাতে হবে। নিয়মিত যোগ্যাভাসে অভ্যস্ত করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগ শুধু শরীর নয়, মনকে সুস্থ রাখতেও বিশেষ সাহায্য করে।

DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। কপিতে উল্লেখিত দাবি, পদ্ধতি/ডায়েট পরামর্শস্বরূপ। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন ও সেই মতো পরামর্শ মেনে চলুন।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share