মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, দুই দেশের (India-US Trade Deal) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেননি। আর এই ফোন করার তথ্য ভিত্তিহীন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আলোচনার বিষয়ে লুটনিকের বর্ণনাকে সঠিক নয় বলে বর্ণনা করেছেন। তবে জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও আমেরিকা একাধিক দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং বেশ কয়েকবার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছে। সবটাই একটা আলোচনার স্তরে রয়েছে। ভারত পারস্পরিক দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।
আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল ভারত (India-US Trade Deal)
সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে, বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেন, “গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার (India-US Trade Deal) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। তখন থেকেই উভয় পক্ষ দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিক দফা আলোচনাও হয়েছে। বেশ কয়েকবার, আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছি। তবে আমেরিকার এক পক্ষের দাবি ঠিক নয়।”
বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে
জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ট্রাম্প (India-US Trade Deal) ২০২৫ সালেই আটবার ফোনে কথা বলেছেন। দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, “দুই নেতা কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রসঙ্গক্রমে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ২০২৫ ফোনে কথা বলার সময় আমাদের বিস্তৃত কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ভারত তার নিজের বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মত স্পষ্ট জানিয়েছে।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “আমরা দুটি পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে পারস্পরিকভাবে উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। তাই এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
গত ৮ জানুয়ারী অল-ইন পডকাস্টে উপস্থিত থাকার সময় লুটনিকের (India-US Trade Deal) মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যেখানে তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমেরিকা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তা করা হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, মোদি ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করে চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য নিজে থেকেই অনুরোধ করেছিলেন। তবে ভারত এই অনুরোধের এই কলটি অস্বস্তিকর ছিল।
ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়
লুটনিকের মতে, আমেরিকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তবে এই আলোচনা হল বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আব সিঁড়ি। পদ্ধতিগত ভাবে দেশের প্রগতির জন্য এই কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেছিলেন ভারত যাতে আরও ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তাই চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অর্থনীতিকে ভেঙে পড়েতে দেওয়া উচিত নয়।
তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মতামত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আমেরিকা (India-US Trade Deal) সারা বিশ্বে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করতে পরোক্ষ চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতকে নানা ভাবে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাপ দেওয়ার কৌশল করছে। তবে ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়। নিজেদের সার্বভৌমকে রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও শক্তির সামনে যে মাথানত করবে না তাও সকলের কাছে স্পষ্ট।
আমেরিকার হুমকি
কিছুদিন আগে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ।

Leave a Reply