Blog

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026)-এর পুনর্পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা এই পুনর্পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিট পুনর্পরীক্ষাকে (NEET-UG Re-Exam) সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

    একাধিক কঠোর পদক্ষেপ

    দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবার যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহণের সময় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    ১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ

    দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

    প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

    এছাড়াও, দেশজুড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষার উপর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

    কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি

    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্রিয় সরকার

    বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

  • Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    Boiled Egg Benefits: ভ্যাপসা গরমেও সন্তানের পাতে ডিম রাখছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ৫ নিয়ম মানলেই চিন্তা নেই

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের জলখাবারের মেনুতে কিংবা রাতে ভাত-রুটির সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে যায় ডিম! পরিবারের বড়রা তো বটেই, ছোট্ট খুদে সদস্যের ও ডিম অত্যন্ত প্রিয়। তাই নিয়মিত ডিম খেতে একেবারেই আপত্তি নেই। কিন্তু তীব্র ভ্যাপসা গরমে রোজ ডিম খাওয়া কি উচিত? অনেক মায়ের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে! নিয়মিত ডিম খেলে হজমের সমস্যা কিংবা পেটের অসুবিধা হবে না তো? এমন প্রশ্ন ও অনেকের! চিকিৎসকেরা অবশ্য জানাচ্ছেন, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। শিশু হোক বা বয়স্ক, গরমে ডিম খাওয়া নিয়ে কয়েকটি দিক খেয়াল রাখলেই, বিপদ কিছুই হবে না।

    সন্তানের পাতে এই গরমেও কি ডিম দেওয়া যেতে পারে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের বয়স সাত মাস হোক বা সাত বছর, তাকে নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব ছোটো বয়স থেকেই নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। এতে শরীরে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। গরমে হজমের সমস্যার ভয়ে অনেকেই মনে করেন ডিম খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ডিম খেলে আলাদা ভাবে কোনো সমস্যা হবে না। বরং, কীভাবে ডিম খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে, শরীর পুষ্টি পাবে নাকি অন্য সমস্যা তৈরি হবে!

    প্রোটিন-ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে ডিম

    তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত জলখাবার হোক কিংবা দুপুরে ভাতের পাতে ডিম দেওয়া যেতে পারে। এই গরমে ডিম সিদ্ধ করে খেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং এই গরমেও শরীর সুস্থ রাখতে এবং শরীরের এনার্জির জোগান বজায় রাখতে নিয়মিত ডিম খাওয়া জরুরি। ডিম নিয়মিত খেলে শরীর ভালো থাকবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে। শিশুদের পেশির গঠন মজবুত হওয়া জরুরি। নিয়মিত ডিম খেলে পেশির গঠন ভালো হয়। তাছাড়া নিয়মিত ডিম খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় না। প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের জেরে অনেকেই সহজে ক্লান্তিবোধ করছেন।‌ ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার খেলে এই ক্লান্তি দূর হবে। সেই পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখা যেতেই পারে। আবার নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। তাই শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। যে কোনও রোগের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। গরমে নানান রোগের প্রকোপ বাড়ছে। রোগ থেকে বাঁচতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাই ডিম খাওয়া উচিত। নিয়মিত ডিম খেলে হাড় মজবুত হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটে। তাই গরমকালেও শিশুদের নিয়মিত ডিম দেওয়া যেতেই পারে। এতে বাড়তি কোনো অসুবিধা নেই।

    কোন দিকে নজর দিলে তবেই গরমে ডিম খেলে অসুবিধা হবে না?

    গরমেও নিয়মিত ডিম খেলে বাড়তি অসুবিধা হবে না। তবে কয়েকটি দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম প্রাণীজ প্রোটিন। তাই ডিম হজম হতে সময় লাগে। শিশুদের দিনে একাধিক ডিম দেওয়া উচিত নয়। অনেক সময়েই তাদের অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করতে অসুবিধা হয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে দিনে একটা ডিম দেওয়াই যথেষ্ট। গরমে হজমের সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। তাই শিশু ডিম বা অন্যান্য প্রাণীজ প্রোটিন খেলে অসুবিধা নেই। তবে হজমের গোলমাল এড়াতে শিশু পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, ডিমের মতো উপকারি প্রাণীজ প্রোটিন শিশুকে সকালে জলখাবারের সঙ্গে দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের প্রথম খাবার পুষ্টিসমৃদ্ধ হলে, তা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি হয়। তাছাড়া দিনভর শিশুর নানান শারীরিক কার্যকলাপ থাকে। ফলে হজম করতে সুবিধা হয়। আবার শরীরের প্রয়োজনীয় এনার্জিও জোগান দেয় ডিম। তাই তাঁদের পরামর্শ প্রাতঃরাশেই পাতে থাকুক ডিম।

    সিদ্ধ ডিমে সবচেয়ে বেশি উপকার

    তবে দুপুরে বা রাতের মেনুতেও ডিম রাখা যেতে পারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, দুপুর বা রাতের মেনুতে ডিম থাকলে, তার সঙ্গে পর্যাপ্ত সব্জি থাকা জরুরি। ডিম সিদ্ধের সঙ্গে গাজর, ব্রোকলি, বিনস কিংবা আলুর মতো সব্জি সিদ্ধ করে সামান্য পরিমাণ বাটারে নেড়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। এতে প্রাণীজ প্রোটিন সহজে হজম হবে। ভিটামিন ও প্রোটিনের ঠিকমতো ব্যালেন্স হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, শিশুদের ডিম সিদ্ধ দেওয়া সবচেয়ে ভালো। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন হজমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিন অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই মাছ ও মাংস খেলেও অনেকে হজমের সমস্যায় ভোগেন। ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেলে তার সম্পূর্ণ প্রোটিন শরীর পায়‌। আবার সিদ্ধ ডিমে অতিরিক্ত তেল-মশলার সমস্যাও একদম থাকে না। ফলে শরীর সম্পূর্ণ পুষ্টি পাচ্ছে। ডিমের অমলেট হোক বা পোচ, অনেক সময়েই সেটা শিশুর পক্ষে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই গরমে শিশুকে নিয়মিত একটা সিদ্ধ ডিম দিলে শরীর ভালো থাকবে। উপকার পাওয়া যাবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    NPCI: এবার সন্তানদেরও দেওয়া যাবে ডিজিটাল পকেটমানি! এসে গেল এনপিসিআই-এর নতুন ‘ইউপিআই সার্কেল’ ফিচার, জেনে নিন পদ্ধতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুদি দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন শপিং—ভারতের সর্বত্রই এখন ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেনের জয়জয়কার। এই ডিজিটাল বিপ্লবে এবার যুক্ত হতে চলেছে বাড়ির ছোট সদস্যরাও। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি অত্যন্ত অভিনব ফিচার নিয়ে এসেছে, যার মাধ্যমে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা পাঠাতে পারবেন।

    দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচার (NPCI)

    ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (NPCI) নতুন সংযোজন—’ইউপিআই সার্কেল’ (UPI Circle)। অনেক বাবা-মা সন্তানদের ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা দিতে চাইলেও, নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বা অত্যন্ত সংবেদনশীল ইউপিআই পিন (UPI PIN) শেয়ার করার বিষয়ে দ্বিধাবোধ করেন। অভিভাবকদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই এই বিশেষ ফিচারটি ডিজাইন করা হয়েছে, যা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে খরচের ওপর সম্পূর্ণ নজরদারি রাখার সুযোগ দেবে।

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ আসলে কী?

    ‘ইউপিআই সার্কেল’ হল এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একজন প্রাথমিক ইউপিআই অ্যাকাউন্টধারী (Primary User) অন্য কোনও বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সেকেন্ডারি ইউজারকে (Secondary User) তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন করার অনুমতি দিতে পারেন। এই সেকেন্ডারি ইউজার হতে পারেন আপনার সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মা। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা ইউপিআই পিন কারো সঙ্গে শেয়ার করতে হয় না। উল্টে, সন্তান বা পরিবারের সদস্য কত টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবে, তার একটি নির্দিষ্ট সীমা (Spending Limit) নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। ফলে খরচের ওপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ থাকে ষোলআনা।

    কীভাবে কাজ করে এই ফিচার?

    ইউপিআই (NPCI) সার্কেল ব্যবহার করার জন্য প্রাথমিক ব্যবহারকারীকে প্রথমে তাঁর ইউপিআই অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে ‘সেকেন্ডারি ইউজার’ হিসেবে যুক্ত করতে হবে। এরপর ওই সেকেন্ডারি ইউজার সীমিত আকারে পেমেন্ট করার অধিকার পাবেন। এই ফিচারটি মূলত দুটি ভিন্ন মোড বা পদ্ধতিতে কাজ করে:

    ১. ম্যানুয়াল অ্যাপ্রুভাল মোড (অনুমোদন সাপেক্ষ পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে সেকেন্ডারি ইউজার (যেমন আপনার সন্তান) কোনও পেমেন্ট বা লেনদেন শুরু করলেই, তা সম্পন্ন হওয়ার আগে প্রাথমিক ব্যবহারকারীর (অভিভাবক) অনুমতির প্রয়োজন হবে। সন্তান লেনদেনের অনুরোধ পাঠালে তৎক্ষণাৎ অভিভাবকের ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসবে। অভিভাবক সেই পেমেন্ট অনুমোদন করলেই টাকা কাটবে, অন্যথায় নয়। যে সমস্ত অভিভাবকরা সন্তানের প্রতিটি খরচের নিখুঁত হিসাব রাখতে চান, তাঁদের জন্য এই মোডটি অত্যন্ত কার্যকরী।

    ২. অটোমেটিক অ্যাপ্রুভাল মোড (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি)

    এই পদ্ধতিতে অভিভাবকরা আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট খরচের সীমা বা লিমিট সেট করে দিতে পারেন। সেকেন্ডারি ইউজারের খরচের পরিমাণ যদি সেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তবে লেনদেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সফল হবে; প্রতিবার আলাদা করে অভিভাবকের অনুমতির (NPCI) প্রয়োজন পড়বে না।

    উদাহরণস্বরূপ

    অভিভাবক যদি সন্তানের জন্য মাসে সর্বাধিক ২,০০০ টাকা খরচের সীমা বা লিমিট নির্ধারণ করে দেন, তবে সন্তান সেই সীমার মধ্যে ছোটখাটো প্রয়োজনীয় পেমেন্ট নিজেই করে নিতে পারবে।

    সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘ইউপিআই সার্কেল’-এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল লেনদেনের স্বাধীনতা পাচ্ছে, তেমনই খরচের রাশ এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকছে অভিভাবকদের হাতেই।

  • Ramakrishna 665: “ভগবানেতে মন ঠিক রাখবি; যে বীরপুরুষ সে রমণীর সঙ্গে থাকে, না করে রমণ! পরিবারের সঙ্গে কেবল ঈশ্বরীয় কথা কবি”

    Ramakrishna 665: “ভগবানেতে মন ঠিক রাখবি; যে বীরপুরুষ সে রমণীর সঙ্গে থাকে, না করে রমণ! পরিবারের সঙ্গে কেবল ঈশ্বরীয় কথা কবি”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    শ্রীরামকৃষ্ণ কেন কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগ করেছেন?

    ঠাকুর মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন। ‘কামিনী’ সম্বন্ধে আপনার অবস্থা বলিতেছেন!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — এরা কামিনী-কাঞ্চন না হলে চলে না, বলছে। আমার যে কি অবস্থা তা জানে না।

    “মেয়েদের গায়ে হাত লাগলে হাত আড়ষ্ট, ঝনঝন করে।

    “যদি আত্মীয়তা করে কাছে গিয়ে কথা কইতে যাই, মাঝে যেন কি একটা আড়াল থাকে, সে আড়ালের ওদিকে যাবার জো নাই।

    “ঘরে একলা বসে আছি, এমন সময় যদি কোন মেয়ে এসে পড়ে, তাহলে একেবারে বালকের অবস্থা হয়ে যাবে; আর সেই মেয়েকে মা বলে জ্ঞান হবে।”

    মাস্টার অবাক্‌ হইয়া ঠাকুরের বিছানার কাছে বসিয়া এই সকল কথা শুনিতছেন (Kathamrita)। বিছানা হইতে একটু দূরে ভবনাথের সহিত নরেন্দ্র কথা কহিতেছেন। ভবনাথ বিবাহ করিয়াছেন; — কর্ম কাজের চেষ্টা করিতেছেন। কাশীপুরের বাগানে ঠাকুরকে দেখিতে আসিতে বেশি পারেন না। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভবনাথের জন্য বড় চিন্তিত থাকেন, কেন না ভবনাথ সংসারে পড়িয়াছেন। ভবনাথের বয়স ২৩।২৪ হইবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রের প্রতি) — ওকে খুব সাহস দে।

    নরেন্দ্র ও ভবনাথ ঠাকুরের (Ramakrishna) দিকে তাকাইয়া একটু হাসিতে লাগিলেন। ঠাকুর ইশারা করিয়া আবার ভবনাথকে বলিতেছেন — “খুব বীরপুরুষ হবি। ঘোমটা দিয়ে কান্নাতে ভুলোসনে। শিকনি ফেলতে ফেলতে কান্না! (নরেন্দ্র ও মাস্টারের হাস্য)

    “ভগবানেতে মন ঠিক রাখবি; যে বীরপুরুষ সে রমণীর সঙ্গে থাকে, না করে রমণ! পরিবারের সঙ্গে কেবল ঈশ্বরীয় কথা কবি।”

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার ইশারা করিয়া ভবনাথকে বলিতেছেন, “আজ এখানে খাস।”

    ভবনাথ — জে আজ্ঞা। আমি বেশ আছি।

    সুরেন্দ্র আসিয়া বসিয়াছেন। বৈশাখ মাস। ভক্তেরা ঠাকুরকে সন্ধ্যার পর প্রত্যহ মালা আনিয়া দেন। সেই মালাগুলি ঠাকুর এক-একটি করিয়া গলায় ধারণ করেন। সুরেন্দ্র নিঃশব্দে বসিয়া আছেন। ঠাকুর প্রসন্ন হইয়া তাঁহাকে দুইগাছি মালা দিলেন। সুরেন্দ্রও ঠাকুরকে (Ramakrishna) প্রণাম করিয়া সেই মালা মস্তকে ধারণ করিয়া গলায় পরিলেন।

    সকলেই চুপ করিয়া বসিয়া আছেন ও ঠাকুরকে দেখিতেছেন (Kathamrita)। এইবার সুরেন্দ্র ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া দণ্ডায়মান হইলেন; তিনি বিদায় গ্রহণ করিবেন। যাইবার সময় ভবনাথকে ডাকিয়া বলিলেন, খসখসের পর্দা টাঙিয়ে দিও। বড় গ্রীষ্ম পড়িয়াছে। ঠাকুরের উপরের হলঘর দিনের বেলায় বড় গরম হয়। তাই সুরেন্দ্র খসখসের পর্দা করিয়া আনিয়াছেন।

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    CID: সইকাণ্ডের তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, তল্লাশি তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সইকাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দেয় সিআইডির (CID) একটি দল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি লাগোয়া ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়েই অভিযান চালানো হয়। যদিও প্রথমে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি তদন্তকারীরা। উপস্থিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক বাগ্‌বিতণ্ডার পর বিকেল চারটের কিছু (TMC Central Office) পরে ভেতরে ঢোকে সিআইডি। তল্লাশি চালায় প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে।জানা গিয়েছে, সিআইডি কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল। অভিযোগ, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তেই এই পদক্ষেপ।

    পার্টি অফিসে ঢুকতে বাধা (CID)

    কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী প্রথমে তদন্তকারীদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ে তল্লাশির অনুমতি দিতে পারেন না। সিআইডিকে আরও কয়েকদিন সময় দেওয়ার অনুরোধও জানান শুভাশিস। এদিকে, সিআইডির দাবি, আদালত এবং আইন মেনেই তারা তদন্তের স্বার্থে তল্লাশি চালাতে এসেছে। তাদের সঙ্গে যে সংশ্লিষ্ট নোটিশটি ছিল তাও জানায় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত তদন্তকারী দল কার্যালয়ে ঢোকে।

    একাধিকবার হাজিরার নোটিশ

    প্রসঙ্গত, সইকাণ্ডে অভিষেককে একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পাঠিয়েছে সিআইডি। ১ জুন হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তিনি অতিরিক্ত সময় চান। পরে ফের সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও, উপস্থিত হননি তিনি। সোমবার তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে তৃতীয় নোটিশটি পাঠিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তার পরেও তৃণমূলের এই নেতা উপস্থিত না হওয়ায় এদিন (TMC Central Office) পার্টি অফিসে হানা দেয় সিআইডি। এদিন, অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও যায় সিআইডির একটি দল। সেখানেও চালানো হয় তল্লাশি। প্রসঙ্গত, যে বৈঠকে দলীয় বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে দাবি করছে তৃণমূল, সেটি হয়েছিল কালীঘাটের এই পার্টি অফিসেই। তদন্তকারীরা সে দিনের বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা সই করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তার তথ্য জোগাড়ে জোর দিচ্ছেন।

    তৃণমূল নেতার দাবি

    তল্লাশি শেষে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে শুভাশিসের দাবি, সিআইডি কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর সাফ কথা, তিনি কোনওভাবেই তদন্তে বাধা দেননি (CID)। যাঁর নামে চিঠি এসেছে, তিনি ফিরে এলেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। শুভাশিস বলেন, “অভিষেক ব্যানার্জিকে চিঠি দিয়েছেন। সার্চ করতে এসেছেন। আমি ওঁর অনুপস্থিতিতে কাউকে ঢুকতে দিতে পারি না। যাঁর চিঠি নিয়ে এসেছেন, তিনি আসুন, ওঁরা ঘরে ঢুকুন, আমরা সাহায্য করব। আমি ভলান্টিয়ারি চার্জে আছি। অফিস দেখছি একজন সাধারণ হিসেবে। আমি কোনও তদন্তে বাধা দিইনি। আমি বাধা দেওয়ার কেউ না। আমি সিআইডির কাছে (TMC Central Office) আবেদন করলাম, দু’দিন পরে আসতে।”

    সইকাণ্ড

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে গিয়ে বিরোধী আসনে বসে তৃণমূল। বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা, মুখ্য সচেতক বা উপদলনেতা হবেন— তা ঠিক করতে তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসে বিধায়কদের নিয়ে (CID) বৈঠকে বসেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক। অভিযোগ, তিনি তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে কয়েক জন বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ তুলে প্রথমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। পরে তৃণমূল দু’জনকেই দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা

    সইকাণ্ডে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঋতব্রত এবং সন্দীপনের অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিধানসভার তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার পরেই এফআইআরে দায়ের করে তদন্ত শুরু পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছে সিআইডি। তৈরি (TMC Central Office) হয়েছে সিট-ও। তদন্তের সূত্রে একাধিকবার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে সিআইডি। পাঠানো হয় নোটিশও। তার পরেও তিনি হাজির না হওয়ায় এদিন চালানো হয় তল্লাশি (CID)।

     

  • Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    Digha Jagannath Temple: বদলাল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম, কী হল নতুন নাম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সনাতন সংস্কৃতিকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার। ধাম শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্দিরে (Digha Jagannath Temple) সনাতনী সংস্কৃতি মেনেই পুজো হবে।” মঙ্গলবার কথাগুলি বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার আঘাত করেছে ওড়িশাবাসী ও জগন্নাথদেবের ভক্তদের। এই মর্মে একটি চিঠি নিয়ে এ দিন ওড়িশার প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র। সেই চিঠি হাতে নিয়েই এমন মন্তব্য করেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, এবার থেকে দিঘার এই মন্দিরের নাম হবে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।  নিয়ম মেনে মন্দিরে প্রতিদিনের পুজো, আরতি ও ভজন-কীর্তন সব আগের মতোই চলবে বলেও জানান তিনি।

    ওড়িশার আপত্তি (Digha Jagannath Temple)

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ২০২৫ সালে ঘটা করে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাট করেছিলেন তৎকালীন রাজ্য সরকারের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্দির না বলে সেটিকে উল্লেখ করা হয় ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে। এরপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। নাম নিয়ে আপত্তি তোলে ওড়িশার রাজনৈতিক মহল এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েতরা। তাঁদের দাবি ছিল, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী ‘জগন্নাথ ধাম’ অভিধাটি একমাত্র প্রযোজ্য পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ক্ষেত্রেই। এই ইস্যুতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত অনুরোধপত্রটি এদিন শুভেন্দুর (Digha Jagannath Temple) হাতে তুলে দেন পুরীর সাংসদ।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এরপর মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্য সরকার দিঘার মন্দিরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মতো ঘোষণাও করা হয়। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সম্বিত এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সরকার অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, নাম বদল হলেও মন্দিরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মিত পুজোয় কোনও বদল হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ধাম শব্দটি নিয়ে বিতর্ক ছিল। তাই সরানো হয়েছে। দিঘার মন্দির শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটাই হিডকোর টেন্ডারে রয়েছে। স্থাপত্যটি মন্দির নামেই পরিচিত হবে। সনাতন সংস্কৃতির রীতি নীতি মেনেই দিঘার মন্দিরে পুজোও হবে (Suvendu Adhikari)।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওড়িশা সরকারের দীর্ঘদিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Digha Jagannath Temple)।

     

  • Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) আমরাই বাস্তবায়ন করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ফের সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আমরা সামগ্রিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন রাজ্যের থানাগুলি কার্যত পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল, আর পঞ্চায়েত অফিসগুলি হয়ে উঠেছিল কাটমানি সংগ্রহের কেন্দ্র। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন চলবে, শাসকের আইন নয়।” তিনি জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে ৩৩ জন বিজেপি বিধায়ক, ২ জন বিরোধী দলের বিধায়ক এবং মেদিনীপুর জেলার চার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক কথা বলেছেন ঘাটালের সাংসদ দেব। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবার আমরাই রূপায়ণ করব।” মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, ‘‘একজন বিরোধী সাংসদ তো আজ বলেই ফেললেন যে, ‘আপনি আমাদের মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।’ বিরোধীদের যাঁরাই আজকে ছিলেন, তাঁরা সবাই স্রেফ উন্নয়নের কথাই বলেছেন।’’

    বিদ্রোহ চারিদিকে…

    এদিনের বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। উপস্থিত হয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের তৃণমূল সাংসদ -অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও কেশপুরের বিধায়িকা শিউলি সাহা। তবে, রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজনীতির কারবারিদের। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। পদ্মময় বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি, যে সরকারের চালকের আসনে রয়েছেন গৈরিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাসফুল পার্টি মুখ থুবড়ে পড়তেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলে। এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছেন ঘাসফুল প্রতীকে। উল্লেখ্য, বাম পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলের। দ্রুত হয়ে ওঠেন মমতার স্নেহভাজন। দলের পাশাপাশি স্বয়ং দলনেত্রী গাড্ডায় পড়তেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ার মূল কারিগর মমতার দলের বিধায়করা। বিধায়কদের সিংহভাগই ঋতব্রতর শিবিরে। রাজ্যের পাশাপাশি তৃণমূলের এই বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে দিল্লিতেও। সেখানেও জোট বাঁধার সলতে পাকাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রীর হাতে গড়া দলের টিকিটে জয়ী হওয়া সাংসদদের সিংহভাগ। জল্পনা, এই শিবিরেই রয়েছেন দেব। তাঁর গায়ে সেঁটে গিয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তকমা। এহেন ‘বিদ্রোহী’ই এদিন হাজির ছিলেন কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আবহে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

    কী বললেন দেব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং (Ghatal MP) মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মিলছে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত (Suvendu Adhikari)। এদিকে, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘাটালের সাংসদ তৃণমূলের দেব জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে কাজ শেষ হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই মর্মে তাঁকে কথাও দিয়েছেন। দেব বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মাটি কাটা শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কাজটা শুরু হয়েছিল। আমার কোথাও যেন বিশ্বাস, সেই কাজটা শেষ হবে আমাদের এখনকার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর হাত ধরে। উনি আমায় কথা দিয়েছেন। সাংসদের থেকে বড় কথা, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্ট বন্যা। সেই বন্যার সবচেয়ে বড় সমাধান ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ সালে আমি যখন দাঁড়াব না, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল (Suvendu Adhikari)।” তিনি বলেন, “এবারে ম্যানডেটটা একদম অন্য রকম এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন (Ghatal MP)। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। আজ প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি এবং উনি সকলের সামনে বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এই সরকার শেষ করবে, যা শুরু হয়েছিল আগের সরকারের হাত ধরে।”

    ‘সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি’

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তৃণমূলের এই সাংসদ বলেন, ‘‘আমায় তোমরা সাংসদ হিসেবে দেখছ ২০১৪ সাল থেকে। আমি সারা জীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আজ তো নতুন নয়! আজ লোকে যদি বলে দেব পাল্টে গিয়েছে! দেব পাল্টায়নি। দেব সব সময় একটাই রাজনীতি করেছে, মানুষকে এক রাখার রাজনীতি, মানুষকে ভালোবাসা দেওয়ার রাজনীতি করেছে এবং যিনিই হোন না কেন, যে দলেরই হোন না কেন, আমি সব সময় সম্মান দিয়েছি। আজ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে কাউকে আক্রমণ, অপমান করিনি। আমি ভালোবাসার রাজনীতি করে এসেছি। সেই রাজনীতিই আজও করছি। নতুন কিছু নয়। আমায় যখন একজন জয় শ্রীরাম বলেছিল, আমি তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলাম। এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে দলের নাম খারাপ হয়। আমায় ভোট দিয়ে কারও মনে হয়েছে, ভুল লোককে ভোট দিয়েছি, এমন কাজ করিনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমায় (Ghatal MP) যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের হকের জন্য লড়াই করছি। আজ একটাই প্রতিশ্রুতি নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। শুভেন্দুদা (মুখ্যমন্ত্রী) বলেওছেন, এবারের বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হবে (Suvendu Adhikari)।’’

     

  • Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের একটি তোলাবাজির মামলায় সোমবার মধ্যরাতে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও খুনের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে (TMC Ex MLA) থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন। পচা ডিম, টমেটো, গোবরে ‘স্বাগত’ জানায় উত্তেজিত জনতা।

    আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা (Sabyasachi Dutta)

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিধাননগর উত্তর থানার সামনে এবং আদালত চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেন। সব্যসাচী দত্তকে কড়া পুলিশি পাহারায় থানা থেকে বের করে আনা হলেও উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ আটকানো সম্ভব হয়নি। তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও টমেটো ছুড়ে মারেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। এমনকি পুলিশের গাড়ির দরজার ফাঁক দিয়েও তাঁর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। উপস্থিত জনতার একাংশকে “চোর” (TMC Ex MLA) স্লোগান দিতেও শোনা যায়। সেখানে উপস্থিত এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নেতা (Sabyasachi Dutta) ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়েছেন। আজ তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে।”

    অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

    যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সব্যসাচী দত্ত (TMC Ex MLA)। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “২০১৮ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ টাকাও নেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন, তবে আমি যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব। যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই ওই একই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।” ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিধাননগর এবং তৎসংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

LinkedIn
Share