Blog

  • Suvendu Adhikari on Dengue: ‘গেল গেল রব তুলবেন না’, ডেঙ্গি মোকাবিলায়  স্বচ্ছতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Dengue: ‘গেল গেল রব তুলবেন না’, ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্বচ্ছতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি। ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। তবে এবার রোগের দাপট গতবারের ৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Dengue)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। হ‌ই হ‌ই, গেল গেল রব তোলার কোন‌ও কারণ নেই’। ডেঙ্গি তো বটেই, মশাবাহিত রোগ আতঙ্ক না ছড়ানো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ২ হাজার, কলকাতা ৩৫০।

    কেন বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ডেঙ্গি নিয়ে কোনও তথ্য গোপন করা যাবে না। চিকিৎসকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অভয়বাণী, “ডেঙ্গি হলে লুকোবেন না।” অর্থাৎ, জ্বরের কারণ ডেঙ্গি হলে চিকিৎসকরা যেন নির্ভয়ে তা রিপোর্টে উল্লেখ করেন সেই বার্তা দিয়েছেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে এসেও রাজ্যে বৃষ্টির বিরাম নেই। আবহাওয়ার এই লাগাতার খামখেয়ালিপনার জেরেই ডেঙ্গি-সহ অন্য সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা এবং আশপাশের পুসসভাগুলিতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে না। বলেন, ‘যে পুরসভায় চেয়ারম্যানেরা রয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন না। কর্মরত ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের আমরা এগজিকিউটিভ অফিসার করব’। এদিন স্বাস্থ্য়ভবনে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারও। ডাকা হয়েছিল কলকাতা, হাওড়া পুরসভার পুর কমিশনার এবং ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের ডাকা হয়েছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, পরিবহণ, সেচ দফতরের সচিব, রেলের আধিকারিকেরাও।

    নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি

    চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির এই মরশুম সাধারণত দুর্গাপুজোর পর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নজরদারিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এ দিনের বৈঠকে জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজরদারি চলবে। স্বাস্থ্যভবনের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের নিরিখে কলকাতার চেয়ে বেশি চিন্তায় রাখছে জেলাগুলি। এখন পর্যন্ত কলকাতার মোট ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। তবে মহানগরের ৬১টি ওয়ার্ড এখনও পুরোপুরি ডেঙ্গি মুক্ত়। রাজ্যের অন্য জেলার মধ্যে মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা মাত্র ১৪৮ জন। প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বর হলে আর অযথা ফেলে রাখা উচিত নয়। সরকারি উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডেঙ্গির পরীক্ষা করা যাচ্ছে।

  • Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

    কী বলছে আইসিএমআর?

    দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

    কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

    এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

    বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

    টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ২১ অগাস্ট ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের একটি দল মন্দিরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে (Hindu Temple Demolished) দেয়। সেই সময় স্থানীয় রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের একাংশ ঘটনাটি বন্ধ করার পরিবর্তে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণে নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিকদের কয়েকজন। যদিও সেই দাবি পত্রপাট খারিজ করে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটির কাঠামো যথেষ্ট মজবুত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়ার নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও সেটি দাঁড়িয়ে ছিল। মন্দিরের চূড়াও অক্ষত অবস্থায় স্পষ্টভাবে দেখা যেত।

    জমি দখলের কারণেই ভাঙা হল মন্দির! (Pakistan)

    অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তার জমি দখল করা। প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জমির উপর অবস্থিত এই মন্দিরের জমি পাশের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি ছিল লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

    ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের সদস্যদের যোগ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, ২১ অগাস্ট একদল উগ্রপন্থী মন্দির চত্বরে পৌঁছে সেটি ভেঙে ফেলে। তাঁদের হাতে বিল্ডিং ভাঙার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উপকরণ ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ মন্দির ভাঙার সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, মন্দিরটির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশের নজরে না এনে বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি ধসে পড়েছে বলে দাবি করেন। অথচ ওই সময় ভারী বৃষ্টির কারণে আশপাশের অন্য কোনও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়া, নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা এমন কোনও পরিস্থিতিরও খবর নেই, যার ফলে মন্দিরের মতো একটি পুরনো অথচ শক্তপোক্ত কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে (Hindu Temple Demolished)।

    দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

    পাকিস্তান মসীহা মিল্লাত পার্টি এই ঘটনায় পাঞ্জাব সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, তিনি গত ২৮ অগাস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে মন্দির ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির রক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দির ভেঙে ফেলার পর তার চূড়ার পিতলের ধাতব অংশ, অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এবং ইটও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল মন্দিরটির অস্তিত্বের যতটা সম্ভব চিহ্ন মুছে ফেলা।

    তিনি আরও জানান, মন্দিরের লাগোয়া জমি অতীতে পাকিস্তানের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ইজারার অর্থ পরিশোধ না করা এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার না করার অভিযোগে পরে সেই ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর সম্পত্তিটির বিভিন্ন অংশে একাধিক ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে বসেন বলে অভিযোগ।

    কী বলছে রাজস্ব দফতরের প্রতিবেদন

    সাহোত্রা রাজস্ব দফতরের একটি প্রতিবেদনের কথাও (Pakistan) উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবেদনে মন্দিরের আবাসিক অংশ এবং সম্পত্তির অন্যান্য অংশে বেআইনি দখলদার হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি শিয়ালকোটের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের উপ-প্রশাসক একটি নির্দেশ জারি করে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইজারার অধিকার বাতিল করেন। একই সঙ্গে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সম্পত্তিটি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাহোত্রা।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লালও মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দির ও তার জমি রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি। বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই শেষ পর্যন্ত এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো ধর্মীয় কাঠামোটি ধ্বংসের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি (Hindu Temple Demolished)।

    রতন লাল বলেন, “জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দিরের স্থানটি রক্ষা করতে কিংবা সেখানে থাকা বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যর্থতার সুযোগেই মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।”

    পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের বক্তব্য

    অন্যদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের এক প্রবীণ আধিকারিক রানা ইফতিখারের দাবি, মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণেই ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, সরকারি নথিতে মন্দিরটির কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ নেই। যদিও তিনি কবুল করেছেন এটি অত্যন্ত পুরানো এবং আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরানো কাঠামো।

    ইফতিখার বলেন, “মন্দিরটির নাম আমাদের নথিতে নেই। তবে এটি খুবই পুরানো একটি স্থাপনা। এর বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। প্রবল বৃষ্টির কারণেই এটি ভেঙে পড়েছে।”

    তবে সরকারি আধিকারিকের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটি কোনও দুর্যোগে হঠাৎ ধসে পড়েনি, বরং পরিকল্পিতভাবে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মন্দিরের ইট এবং চূড়ার ধাতব অংশ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেও তাঁরা পরিকল্পিত ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন (Pakistan)।

    হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের গ্রামীণ অঞ্চলে বহু পুরনো মন্দির ইতিমধ্যেই অস্তিত্ব হারিয়েছে বলে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণের পরিবর্তে একের পর এক স্থাপনা অবহেলা, দখল কিংবা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর ফলে পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে (Pakistan)।

    সিরাজ গ্রামের এই মন্দিরটি প্রায় এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। মন্দিরটির চূড়া দূর থেকেও দেখা যেত। তাই হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে—এই সরকারি ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন যেখানে…

    প্রশ্ন হল, মন্দিরটি সত্যিই প্রাকৃতিক কারণে ভেঙে পড়েছিল, নাকি জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মন্দির ভাঙার সময় প্রশাসন ও পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ করল না এবং জানুয়ারিতে সম্পত্তি খালি ও সিল করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা কেন কার্যকর করা হয়নি, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত (Hindu Temple Demolished) কারণ খুঁজে বের করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং মন্দিরের জমি ও অবশিষ্ট কাঠামো পুনরুদ্ধার করতে হবে (Pakistan)।

     

  • PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ, বিশেষ করে অবকাশযাপন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার মতো ব্যয় কমানোর বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নানা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য কোনও একজনের নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফল।

    সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন

    ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।” বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর আসছে, বিশ্ব একাধিক সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোদি বলেন, “২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, চারদিকে সংকট। সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

    ভোকাল ফর লোকাল

    বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারে। তখন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ব্যয় কমিয়ে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    মেড ইন ইন্ডিয়া

    ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ভারতকে পুরোপুরি ‘আত্মনির্ভর’ হতে হবে এবং ‘স্বদেশী’ মন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ জানান, যেন তারা বিদেশে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বদলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্রকে জীবনে আপন করে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আমরা যত বেশি দেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হব, স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে দেশের যুবসমাজকে তত সুন্দর এক নতুন ভারত উপহার দিতে পারব।

    ভারত আবারও বিকশিত হল

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করেছে।” এরপরই ভারতীয় অর্থনীতির সমালোচকদের নিশানা করে মোদি লেখেন, “হতাশাবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণী মুখ থুবড়ে পড়ল, ভারত আবারও বিকশিত হল।” প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, যাঁরা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে হতাশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁদের সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    আরবিআই-এর পূর্বাভাস

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটাই হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP)-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য আরবিআই ৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

    তরুণ প্রজন্মকে বার্তা

    অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে। তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

  • Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। এমন অভিযোগ তুলে উপভোক্তা অধিকার রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’। হগ মার্কেট চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, মাছ-সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, মাপে কারচুপি কিংবা অন্য কোনও অসাধু কারবার— কোনও ক্ষেত্রেই আপস করা হবে না (Consumer Rights Week)।

    দীর্ঘদিন অবহেলায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আগের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ক্রেতা সুরক্ষা দফতর কার্যত অবহেলিত ছিল।

    শাক-সবজি, মাছ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সময় দাঁড়িপাল্লা থেকে আধুনিক বৈদ্যুতিন মাপযন্ত্রে কারচুপি, পণ্য কেনার পর রসিদ না দেওয়া— বিভিন্ন উপায়ে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফ্ল্যাটের নামে প্রতারণা, বাড়ছে অভিযোগ

    ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ গ্রহণকেন্দ্রে প্রতিদিন এ সংক্রান্ত বহু অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

    অভিযোগ, ভুয়ো বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নাম করে টাকা নেওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    অনলাইন প্রতারণা চক্রের হদিস, গ্রেফতার ১২০

    অনলাইন প্রতারণার একটি ঘটনার উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, মাত্র ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট নিউ টাউনের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন পরিচিত খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভুয়ো বুকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করছিল।

    অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    আনাজ-মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, নজরদারিতে প্রশাসন

    খাদ্যে ভেজাল ও কালোবাজারি রুখতে সম্প্রতি নবান্নে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, খাদ্য পরিদর্শক, এনফোর্সমেন্ট শাখা, দুর্নীতি দমন শাখা এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    আনাজ ও চিনির দাম আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের পদক্ষেপে বাজারদর কিছুটা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। চালের দাম অকারণে বাড়ানোর কোনও কারণ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    এছাড়াও নামী রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকানে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙের ব্যবহার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। মাছ ও সবজিকে সতেজ দেখাতে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।

    অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কিছু ব্যবসায়ী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা ও অসাধু আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশে এই ধরনের কারবার চলছিল। এই ধরনের অনিয়ম আর বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    বাউল গান থেকে পথনাটিকা, সচেতনতা প্রচারে নানা উদ্যোগ

    উপভোক্তা সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে রাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী প্রচার চালানো হচ্ছে। বাউল গান, পথনাটিকা, লিফলেট বিতরণ, প্রচার-সজ্জিত ট্যাবলো, বাজারে গিয়ে মাপযন্ত্র পরীক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক শিবির ও স্টলও করা হবে। ক্রেতারা যাতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করাই এই (Suvendu Adhikari) কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    দফতরকে আরও সক্রিয় করতে একাধিক পদক্ষেপ

    ক্রেতা সুরক্ষা দফতরকে আরও গতিশীল করতে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ, গুণমান ও পরিমাপ পরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট শাখা ও দুর্নীতি দমন শাখার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

    প্রশাসনের বার্তা, ক্রেতা প্রতারণা, ভেজাল, মাপে কারচুপি কিংবা অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারি চলবে (Consumer Rights Week)। সাধারণ মানুষের স্বার্থে উপভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করাই সরকারের লক্ষ্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার নাগরিকদের অভ্যাস বদলের উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। রাস্তায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় এবার আর শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গুনতে হবে জরিমানা। পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাবে অভ্যাস, বদলাবে কলকাতা’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে শহর ও নগরাঞ্চলে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোন কোন কাজে জরিমানা?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় একাধিক নাগরিক আচরণকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • প্রকাশ্যে থুতু ফেলা: রাস্তায় বা জনসমক্ষে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
    • প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ: যত্রতত্র প্রস্রাব বা মলত্যাগ করে পরিবেশ নোংরা করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে।
    • যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা: রাস্তায় বা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেললেও জরিমানার মুখে পড়তে হবে। আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
    • নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার: নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।

    এছাড়াও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো বা বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও জরিমানার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোথায় কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?

    ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যের পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া-গুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।শহরাঞ্চলের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, কোন কোন কাজ করলে জরিমানা হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে জানানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কোথায় নজরদারি বেশি?

    সরকারের নজরদারির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জনসমাগম বেশি হয় এমন এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি অফিসের আশপাশের রাস্তা ও নর্দমা। এই এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নগদে নয়, অনলাইনে জমা দিতে হবে জরিমানা

    নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জরিমানার টাকা নগদে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনলাইনে জরিমানা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুধু প্রশাসন নয়, দায়িত্ব নাগরিকদেরও

    পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে শুধু পুরসভা বা প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রচারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরিষ্কার শহর শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং প্রকাশ্যে থুতু বা মল-মূত্র ত্যাগ না করার মতো দৈনন্দিন অভ্যাস বদলের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, নিয়মের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়লে কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চল আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

    নাগরিক সমস্যায় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন

    এদিকে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকার কথা। পরবর্তী সময়ে পরিষেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই নম্বরে ফোন করে নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

    সব মিলিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে একদিকে যেমন শহর ও নগরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মকানুন আরও কড়া করা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাইরে বেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস বদলানোই এখন নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা।

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা পেনশন দ্বিগুণ করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন মাসে ২,৫০০ টাকা করে যে পেনশন দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে পেনশন কার্যকর হবে।

    মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা করা হয়। শুধু পেনশন বৃদ্ধিই নয়, সাংবাদিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দেশজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধাও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা

    নতুন ব্যবস্থায় সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-র আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে সর্বভারতীয় স্তরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আগের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ব্যবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় সেই পরিধি অনেকটাই বাড়ছে।

    রাজ্যের প্রায় ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩৮,০০০ হাসপাতালে এই চিকিৎসা সুবিধা মিলবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যের এআইআইএমএস, ভেলোরের সিএমসি, মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতাল, চণ্ডীগড়ের পিজিআই এবং হায়দরাবাদের ড. রেড্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

    আয়ুষ্মান ভারত না থাকলেও মিলবে সুবিধা

    নির্দিষ্ট শর্ত, বয়স বা অন্য কোনও কারণে কোনও সাংবাদিক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না এলে তাঁদের সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সুবিধা পেতে কোনও রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।

    ১৫০-১৫৪ জনের সীমা পেরিয়ে আরও সাংবাদিককে পেনশন

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগের সরকারের সময়ে মাত্র ১৫০-১৫৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা পেতেন। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকরাই নন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিউজ ডেস্কে কর্মরত, অসংগঠিত মাধ্যমে কাজ করা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডহীন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদেরও পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগের প্রস্তাবনার কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, যোগ্য সাংবাদিকদের সংখ্যা সীমিত না রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তিকে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা।

    রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করা যাবে না, বার্তা সরকারের

    পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য কোনও সাংবাদিক যাতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ্য সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর অনুদানেও আর কলকাতা-জেলা বৈষম্য নয়

    সাংবাদিকদের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোর সরকারি আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে। এতদিন কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা ১,০০০ টাকা করে পেতেন। এবার সেই বৈষম্য তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী সমস্ত যোগ্য সাংবাদিককে ৩,০০০ টাকা করে পুজোর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বার্তা

    অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের সমালোচনা মেনে নেওয়ার কথা জানালেও জাতীয় স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সংবিধানে বাকস্বাধীনতা থাকলেও নেশন ফার্স্ট নীতি আমাদের বজায় রাখতে হবে। দেশ দুর্বল হয় বা ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে, এমন শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত।” সব মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধি, পেনশন প্রকল্পের আওতা সম্প্রসারণ, দেশজুড়ে চিকিৎসা সুবিধা এবং পুজোর অনুদানে বৈষম্য দূর করার ঘোষণাকে সাংবাদিক মহলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

LinkedIn
Share